বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬

চৌদিকে তাকালেই দেখি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

----------------------------------------------

চৌদিকে হেরি শুধু বর্বরতার উল্লাস!
মানবতা আজ বন্দী খোয়াড়ে,
রুদ্ধ আজিকে শ্বাস!
মানুষের মনে হানা দিয়েছে যে ঘোর মরণ-আকাল,
স্নেহ-প্রেম-প্রীতি চূর্ণ করিয়া
জাগিছে কাল করাল!
অলি-গলি পাড়া-মহল্লায়
অপমান আর অপদস্তের মহড়া চলেছে নিত্য দিন,
ভুলে গিয়ে সব ঋণ—
ছোটরা করে না বড়দের সম্মান,
বড়রাও আজ স্নেহের জায়গায় করিছে বিষম ভান!
ধিক্! ওরে ধিক্!
পুত্র মারিছে জন্মদাতারে, কন্যা হানিয়ে দিক্!
আইন আজিকে অন্ধ-বধির,
জনতা নিয়েছে বিচার নিজের হাতে;
ন্যায়-নীতি সব পলায়নপর,
কাঁদিছে শোষিত বিষণ্ণ এই রাতে।
কচি শিশুদের কান্না-আর্তনাদে—
আকাশ বাতাসে বজ্র হানিছে বাণ,
ধর্ষিতা বোন লাঞ্ছিত ভাই,
কোথায় পরিত্রাণ?
আজ গুরু-শিষ্যের পবিত্র সেই তপোবন গেছে ভেসে,
স্বার্থের নীল বিষে—
ছাত্র-শিক্ষক মত্ত হয়েছে ক্ষমতার মহাবেশে!
রাজনীতি আজ শকুনের খেলা,
সিংহাসনের লোভ!
গণতন্ত্রের লাশ নিয়ে কাঁদে—
জনতার বুকে পুঞ্জীভূত এই ক্ষোভ!
বাক-স্বাধীনতা শৃঙ্খলে বাঁধা,
বুকের ওপরে চলিছে স্বৈরিচারী স্টীম-রোলার!
তবু ভয় নাই ওরে ও মজলুম,
তোল্ এবার তোর ধারালো ছোরার ধার!
ভেঙে ফেল্ এই জীর্ণ কেল্লা,
ছিঁড়ে ফেল্ এই জাল!
নতুনের কেতু উড়িয়ে আসুক—
রুদ্র-রূপী সেই প্রলয়-ভীষণ কাল!
তুই ধূমকেতু, তুই মহাকাল, তুই কুরুক্ষেত্র রণ,
আজ অন্যায় সব পুড়িয়ে কবি রে
বর্বরতার এই ভীষণ বিসর্জন!
---------------------------------------------

তবুও তুমি দিয়েছিলে গোলাপ

 কখন যে তুমি এ হৃদয়ে

নিঃশব্দে বসন্ত হয়ে এসেছিলে,

আমি টেরই পাইনি।

একই আকাশের নিচে হেঁটেছি,
একই মাঠে খেলেছি,
একই স্বপ্নের পথে চলেছি—
তবু বুঝিনি,
তোমাকেই হৃদয়ের গভীরে এঁকে ফেলেছি।

হঠাৎ একদিন
তুমি চলে গেলে দূরে।

তারপর থেকেই
চারপাশে সবকিছু ঠিক থাকলেও
মনের ভেতর কেমন এক শূন্যতা বাসা বাঁধল।

প্রথমে ভেবেছিলাম—
এ কেবল অভ্যাসের টান।
কিন্তু দিন যত গেল,
তুমি ততই গভীর হলে হৃদয়ে।

তখনও বুঝিনি ভালোবাসা কাকে বলে,
শুধু বুঝেছিলাম—
তুমি ছাড়া এ হৃদয়
আকাশহারা চাঁদের মতো অপূর্ণ।

কথা কখনো বলা হয়নি,
"ভালোবাসি" শব্দটিও নয়।

তবু একদিন
তুমি দিয়েছিলে একটি গোলাপ।

সেই গোলাপের পাপড়িতে
লুকিয়ে ছিল হাজার অব্যক্ত কথা।

তুমিও হেসেছিলে,
আমিও বুঝেছিলাম।

দু'জনেই নীরব ছিলাম,
তবু দু'জনেই জানতাম—

যেমন ফুল জানে ভ্রমরের ভাষা,
তেমনই তুমি আর আমি জানতাম
আমরা দু'জন দু'জনকে ভালোবাসি।

আজ সেই গোলাপ শুকিয়ে গেছে,
কিন্তু তার সুবাস রয়ে গেছে হৃদয়ে—

কারণ,

তুমি কখনো "ভালোবাসি" বলোনি,
তবুও তুমি দিয়েছিলে গোলাপ। 🌹

-----------------------------------------------------------------

 

মা, আমি কোথায় যাব?

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

---------------------------------------------

বাবা কত অনুনয় করল—
"
মা, আমি কোথায় যাব?
এই বৃদ্ধ বয়সে,
এই অসুস্থ শরীরে,
আমাকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিস না!"

কিন্তু করুণা জাগল না কারো হৃদয়ে।
চোখের জলে ভিজে গেল
পুরোনো সেই পাঞ্জাবিখানা,
কাঁপা হাতে চোখ মুছতে মুছতে
বেরিয়ে গেলেন তিনি
অজানা এক পথের উদ্দেশে।

যে হাত ধরে
হাঁটি হাঁটি পা পা করে
একদিন পৃথিবী চিনেছিল ছোট্ট মেয়েটি,
আজ সেই হাতই কাঁপে
লাঠির আঘাতে।

যে বাবা
পায়ের রক্ত মাথায় তুলে,
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে,
ক্ষুধা লুকিয়ে,
স্বপ্ন বুনেছিলেন মেয়ের চোখে,
মানুষ করেছিলেন,
শিক্ষিত করেছিলেন,
প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন—
আজ সেই বাবাই
নিজের ঘরে পরবাসী!

স্ট্রোকে জর্জরিত,
শরীরের ভারসাম্য হারানো
এই বৃদ্ধ মানুষটিকে
নিজের মেয়েই নাকি
লাঠি হাতে তাড়িয়ে দিল ঘরছাড়া করে!

কোথায় যাবে তিনি?
রোদে পোড়া কোনো পথের ধারে?
বৃষ্টিভেজা কোনো গাছতলায়?
নাকি রাতের অন্ধকারে
এক টুকরো আশ্রয়ের খোঁজে
ঘুরে বেড়াবে নিঃসঙ্গ পাখির মতো?

আর যে স্ত্রী,
পঞ্চাশ বছরের সংসারের সাথি,
সুখ-দুঃখের সহযাত্রী,
সেই তিনিও আজ
মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে
রাস্তার দিকেই দেখিয়ে দিলেন পথ!

কত নির্মম এই পৃথিবী!
কত নিষ্ঠুর এই সময়!

শিক্ষার ডিগ্রি আছে,
কিন্তু হৃদয়ের শিক্ষা কোথায়?
জ্ঞান আছে,
কিন্তু মানবতা কোথায়?

আজ বৃদ্ধ পিতার চোখের জলে
ডুবে যায় সভ্যতার অহংকার,
আর প্রশ্ন জাগে বারবার—

সন্তান মানুষ করার
পুরস্কার কি তবে এ-ই?
স্নেহ, মায়া, মমতা,
ত্যাগ আর ভালোবাসার
শেষ পরিণতি কি
এক মুঠো অপমান?

হে মানুষ,
বৃদ্ধ বাবার কাঁপা চোখের দিকে তাকাও—
সেখানে আজও সন্তানের জন্য
অভিশাপ নেই,
আছে শুধু নিঃশব্দ কান্না,
আর এক অসহায় পিতার
শেষ আর্তনাদ—

"মা, আমি কোথায় যাব?"।

-------------------------------------------------------

 

বুধবার, জুন ১০, ২০২৬

সেইদিন আমি বুঝিনি

সেইদিন আমি বুঝিনি—
তোমার নীরব বুকেও বাজে বজ্রের মতো প্রেম,
শব্দহীন হলেও তার আঘাত
ভেঙে দেয় সমস্ত অহংকারের প্রাচীর।

সেইদিন আমি বুঝিনি—
তুমি ছিলে আমার অন্তরের অগ্নিগিরি,
যার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিল
ভালোবাসার অগ্নিস্রোত, অনিবার্য বিস্ফোরণ।

তোমার চোখ ছিল—
বিদ্রোহী রাতের গভীর তারা,
যেখানে তাকালেই আমি হারিয়ে যেতাম
নিজের পরিচয়ের বিরুদ্ধে।

তোমার হাসি ছিল—
নতুন ভোরের শপথ,
যা পুরোনো সমস্ত অন্ধকারকে
এক ঝটকায় ভেঙে চূর্ণ করে দিত।

আজ বুঝি—
ভালোবাসা মানে শুধু কোমলতা নয়,
এ এক অগ্নিযুদ্ধ,
যেখানে হৃদয় নিজেই নিজের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়।

তুমি ছিলে আমার ভাঙা সময়ের বিপ্লব,
আমার নিঃশব্দ বুকে গর্জে ওঠা তুফান,
যার শব্দে কেঁপে ওঠে
অতীত, বর্তমান, আর সমস্ত অসম্ভব ভবিষ্যৎ।

তুমি না থেকেও আছো—
আমার প্রতিটি শিরায় রক্ত হয়ে,
আমার প্রতিটি শব্দে বিদ্রোহ হয়ে।

আর তাই আজও বলি—
সেইদিন আমি বুঝিনি,
আমি শুধু একজন মানুষকে নয়,
একটি আগুনকে ভালোবেসেছিলাম
যা আজও নিভে যায়নি,
শুধু রূপ বদলেছে আমার কবিতায়।
----------------------------------------------------


১০-০৬-২০২৬

Student

  কবি মোহাম্মদ আমিনুল এহছান মোল্লা। রাওনাট , কাপাসিয়া , গাজীপুর। ************************************** জাগো রে ছাত্র ! জাগো রে...