মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬

শিক্ষকের শিক্ষা মরে না

 শিক্ষকের শিক্ষা মরে না

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

আজ বাংলার আকাশও যেন কাঁদছে,
প্রতিটি বাতাসে ভেসে আসে বেদনার সুর।
জনাব শাহাবুদ্দিন স্যার চলে গেলেন,
কিন্তু তার আলোকিত পদচিহ্ন চিরন্তন, হৃদয়ে অমলিন।

হে মহান শিক্ষক, বিদায়ের ক্ষণে,
মাটি কেঁপে ওঠে, নদী থমকে যায়, আকাশ কাঁদে অশ্রুবিন্দু।
আমরা প্রার্থনা করি—রাব্বুল আলামিনের দরবারে,
জান্নাতুল ফেরদৌসে হোক তার জন্য স্থায়ী আসন।

শিক্ষকের শিক্ষা কখনো মরে না,
সে বেঁচে থাকে হৃদয়ে, আলোর দীপস্বরূপ।
তার প্রতিটি বাক্য, তার দীক্ষার আলো,
পথ দেখায় অন্ধকারে, হৃদয়কে উজ্জ্বল করে।

হে আল্লাহ, করো তার রুহ শান্ত,
মাফ করো তার ভুল, করো কবর প্রশস্ত।
বানাও জান্নাতুল ফেরদৌস তার স্থায়ী ঠিকানা,
আমাদের অন্তর দাও দৃঢ়তা ও সহমর্মিতা।

শ্রদ্ধার অশ্রু আজ চোখে ভাসছে,
বাংলার প্রতিটি ফুল, প্রতিটি পাখি কাঁদছে তার জন্য।
হে স্যার, নাম তোমার লিপ্ত হোক আমাদের দোয়ায়,
তুমি চিরকাল আমাদের সাথে বেঁচে থাকো।

আমরা চাই—তোমার আদর্শের আলোয় গড়ে উঠুক প্রজন্ম,
সত্য, ন্যায়, শান্তির দীপ জ্বলে চিরন্তন।
তোমার ছায়ায় আমরা চলছি,
আল্লাহর ভরসা ও ধৈর্য আমাদের পথ প্রদর্শক।

শিক্ষকের নাম হয়ে ওঠে দোয়ার সুর,
তার প্রতিটি শিক্ষা জ্বালায় নূরের দীপ।
হৃদয়ে জ্বলে আলো, দূর করে অন্ধকার,
আমাদের অন্তরে রঙিন করে ভালোবাসা।

হে মহান শিক্ষক, তুমি চিরকাল বেঁচে থাকো,
প্রজন্মের অন্তরে জ্বলে থাকো আলোর দীপে।
শিক্ষক কখনো মরে না,
সে হয়ে ওঠে অনন্ত নূরের দীপ, আমাদের অন্তরের প্রেরণা।
-----------------------------------------------------------


২৭-০১-২০২৬

আলো থেকে আঁধারে

 আলো থেকে আঁধারে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

অধিক মুক্তির প্রত্যাশায় ডেকেছিল জাতি যারে,
শান্তির দূত নাম ছিল তার—আশা ছিল ভোরের তারে।
দূত এল ঠিকই, এল পতাকা-ভরা প্রতিশ্রুতি হাতে,
কিন্তু শান্তি এল না, মুক্তি হারাল রক্তাক্ত প্রাতে।

পদে পদে ভয় বাড়ে, শ্বাস নেয় আতঙ্কের ছায়া,
ভাঙে জাতির ঐক্য-দেয়াল, ছড়িয়ে পড়ে বিভাজন-মায়া।
স্বাধীনতা মূর্ছিত হয়, ইতিহাস হয় বিকৃত,
মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা হয় অবহেলিত, ক্ষত-বিক্ষত।

দেশবিরোধী মাথা তোলে, উগ্রতার অগ্নিশিখা,
নাগরিক অধিকার লুণ্ঠিত, ন্যায় আজ বন্দি-লিখা।
মানবতা জল্লাদ হয়ে দাঁড়ায় ক্ষমতার পাশে,
ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া নামে রাষ্ট্রের আকাশে।

জাতি হারায় জাতিসত্তা, চেনা মুখ হয় অচেনা,
আলো ছেড়ে আঁধার বেছে নেয়—এ কোন সর্বনাশী চেনা?
শান্তির দূত অশান্তির কারণ—কলঙ্কে ভরে কাল,
বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ হয়, থামে প্রশ্নের ঝাল।

কবির কলম কাঁপে থেমে, প্রতিবাদী নিশ্চুপ,
জেল-জুলুম, হুলিয়া ধেয়ে আসে—নীরবতা হয় রূপ।
গণতন্ত্র পড়ে পদধূলিতে, ভোট হয় অবমান,
পৃথিবী দেখে অপদস্ত রাষ্ট্র—লজ্জায় নত মাথানত প্রাণ।

কে তাকে শান্তির দূত বলে? জিজ্ঞাসে নাগরিক আজ,
ফ্যাসিস্ট তাড়াতে গিয়ে নিজেরাই হল ফ্যাসিস্ট—এ কোন ব্যাজ?
উত্তর চাই ইতিহাসে, রক্তে-লেখা সত্যে,
আলো ফিরুক আঁধার ভেঙে—মানুষ জাগুক ন্যায়ে, মুক্তিতে।


২৭-০১-২০২৬

চলে গিয়েও তুমি থেকে গেছো

 চলে গিয়েও তুমি থেকে গেছো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
উৎসর্গঃ প্রিয় স্যার অধ্যাঃ আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া।
******************************************

চলে গিয়েও তুমি থেকে গেছো—আজ এই সত্য বুকে বাজে,
নীরব প্রস্থানের ক্ষত জেগে ওঠে প্রতিটি শ্বাসে।
হে বাংলা বর্ণের উজ্জ্বল শিখা, অমৃত সুরের প্রাণ,
তোমার বিদায়ে থমকে গেল সোনার বাংলার গান।

শ্রদ্ধেয় প্রিয় স্যার, অধ্যাপক আনোয়ার হোসের ভূঁইয়া,
এই নাম উচ্চারণেই ভিজে যায় স্মৃতির নীরব গলিপথিয়া।
বিধাতার ডাকে অনন্ত পথে পা বাড়ালে নিঃশব্দে,
পেছনে রেখে গেলে আলো, সামনে নিলে অনন্ত নীরবতা বুকে।

আজ তুমি নেই—এই বাক্যটি মানতে বড় কষ্ট হয়,
শ্রেণিকক্ষ আজ শূন্য দাঁড়ায়, বোর্ডও যেন নীরব রয়।
চক-ধুলো মাখা সেই হাত আজ থেমে গেছে চলা,
কিন্তু সে হাতে গড়া স্বপ্নগুলো জানে না থামা।

দৃশ্যত তুমি নেই স্যার, তবু তুমি আছো আজও,
এই পৃথিবীর ভাঁজে ভাঁজে, আলো-ছায়ার মাঝেও।
কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজের সবুজ শ্যামল মাঠ,
আজো তোমার পায়ের শব্দ খোঁজে নিঃশব্দ পথঘাট।

প্রতিটি ইট-পাথরের স্তরে লেখা তোমার ত্যাগের কথা,
প্রতিটি বেঞ্চে জমে আছে অসংখ্য স্বপ্নের ব্যথা।
সহকর্মীর দীর্ঘশ্বাসে, ছাত্র-ছাত্রীর চোখের জলে,
তোমার মমতা আজও নীরবে কথা বলে।

মনে পড়ে সেই দিনগুলো—বাংলা বর্ণের উৎসব,
কবিতা, গল্প, উপন্যাসে খুলে দিতে নতুন সব পথ।
অক্ষরে অক্ষরে তুমি গড়েছো মানুষের ভিত,
অজ্ঞতার অন্ধকার ভেঙে জ্বালিয়েছো জ্ঞানের দীপ।

তোমার কণ্ঠে শব্দ মানে ছিল আশ্রয় ও আলো,
ভাষা ছিল প্রতিবাদ, ভাষা ছিল ভালোবাসা ভালো।
এক কিংবদন্তী সাহিত্য বিষারদ তুমি ছিলে স্যার,
বাংলা ভাষার মন্দিরে তুমি চিরদিনের প্রহরী অমর।

আজ শ্রেণিকক্ষের নীরবতায় কান পাতে সময়,
মনে হয় তুমি দাঁড়িয়ে আছো—ডাকছো, “শোনো সবাই।”
সে ডাকে জেগে উঠতো প্রাণ, বদলে যেত দৃষ্টি,
আজ সেই ডাকের অপেক্ষায় ভিজে ওঠে চোখের পলক-বৃষ্টি।

চলে যাওয়া মানে কি হারিয়ে যাওয়া চিরতরে?
না স্যার—তুমি আলোকবর্তিকা হৃদয়-কুটিরের ভিতরে।
নশ্বর দেহ থেমে গেলেও থামে না যে আদর্শ,
তোমার শিক্ষা, তোমার মানবতা—চির অমলিন স্পর্শ।

তুমি আছো প্রতিটি শিষ্যের স্বপ্নের গভীর শিকড়ে,
তুমি আছো বাংলা ভাষার প্রতিটি বেঁচে থাকা অক্ষরে।
তুমি আছো কাপাসিয়ার বাতাসে, মাটির ঘ্রাণে,
তুমি আছো সেইসব চোখে—যারা মানুষ হতে জানে।

হে প্রিয় গুরুজন, অনন্তে ভালো থেকো তুমি,
রবের দয়ার ছায়ায় ভরে উঠুক তোমার অনন্ত ভূমি।
মহান আল্লাহ তোমার এই প্রস্থান করুক কবুল,
জান্নাতের সুউচ্চ মাকামে দান করুন চিরনূর—আমীন।
----------------------------------------------------------


২৭-০১-২০২৬

সোমবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২৬

আবেগের রাজনীতি

 আবেগের রাজনীতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************

যে আবেগ মুক্তিযুদ্ধকে ভুলে যায়,
আমি তাকে প্রত্যাখ্যান করি বারবার।
যে আবেগ স্বাধীনতার চেতনাকে আড়াল করে,
আমি তাকে বাঙালি/ বাংলাদেশী বলি না একবারও।

যে আবেগ দাঙ্গার আগুন জ্বালায়, মানুষকে বিভক্ত করে,
আমি বলি না, বলি না, বলি না।
যে আবেগ রাজনৈতিক সংঘাতের বীজ বপন করে,
আমি রাজনীতি বলি না, রাজনীতি বলি না।

যে আবেগ মববাদ, স্বৈরবাদ, ভয় সৃষ্টি করে,
আমি ঘৃণা করি, ঘৃণা করি, ঘৃণা করি।
যে আবেগ ধর্মান্ধের বুলি ছড়ায়,
আমি তাকে ধর্মভীরু বলি না।

যে আবেগ মানবতা ভুলিয়ে দেয়, মনুষ্যত্ব শূন্য করে,
আমি মানুষ বলি না, মানুষ বলি না।
যে আবেগ দেশকে অস্বীকার করে, জাতিকে হেনস্তা করে,
আমি দেশপ্রেমিক বলি না।

আহা! যে রাজনীতি অমানবিক, জুলুমের ছায়া ফেলে,
সত্য-মিথ্যার পার্থক্য চেনে না, যোগ্যকে অচেনা করে,
আমি ঘৃণা করি, আমি প্রত্যাখ্যান করি, আমি মুখে বলি না!

যে রাজনীতি অন্ধ, পরাজয় ডেকে আনে জাতির কপালে,
আমি দাঁড়িয়ে বলি—না! না! না!


২৬-০১-২০২৬

কী এক অমানবিক দৃশ্য!

 কী এক অমানবিক দৃশ্য!

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
শোন হে মানবতা—শোন!
আজ স্বাধীন বাংলার বুকে
কফিনের ঢোল বাজে,
আইনের মসনদে বসে
নীরব ঘাতক নিয়ম!

রক্তহীন ফরমানের তলে
কাঁপে পিতৃত্ব,
কারাগারের লোহার দাঁতে
ছিঁড়ে যায় বুকের দুধ-ভেজা স্বপ্ন।
হে বিধাতা, এ কোন শাসন?
এ কোন সভ্যতার অভিশাপ?

নির্জন পথে ছুটে চলে
মৃত্যুর ঘোড়া—অ্যাম্বুলেন্স,
কফিনে শুয়ে মা,
তার বুকে নিথর
একটুখানি সূর্য—শিশু!
তবু তারা যাচ্ছে—
জীবিত পিতার কাছে!
হায়! জীবিতের কাছে যেতে
মৃত্যুই আজ একমাত্র অনুমতি!

পিতা চেয়েছিল
একবার—শুধু একবার—
জীবনের উষ্ণতা ছুঁতে,
কোলের মধ্যে ধরে
শোনাতে হৃদয়ের আজান।
কিন্তু রাজনীতির কালো দাঁত
চিবিয়ে খেল সেই আকাঙ্ক্ষা,
আইনের শীতল মুখে
মানবিকতা আজ নিষিদ্ধ ভাষা!

বিশ্ব তাকিয়ে রইল—
চোখে বিস্ময়ের আগুন,
জনতার চোখে ঝরল অশ্রু,
রাস্তায় নামল দীর্ঘশ্বাসের মিছিল।
হে রাষ্ট্র!
তোমার প্রাসাদের দেয়ালে
শোন কি না এই কান্নার বজ্র?

গেটের সামনে এলো পিতা—
চোখে অন্ধকার, বুকে শূন্যতার ঝড়,
দেখল—
স্ত্রী আর সন্তান,
নিথর, নিশ্চুপ, নিঃশব্দ।
সে চিৎকার করল না—
কারণ তার কণ্ঠ
আগেই খুন হয়েছে আইনের হাতে!

আকাশ ভেঙে পড়ল তার চোখে,
মাটি ফেটে বেরোল দীর্ঘ আর্তনাদ,
পাথর কাঁদল,
লোহা কাঁদল,
কাঁদল ইতিহাস—
শুধু কাঁদল না
শাসনের হৃদয়!

আমি কবি—
আমি প্রশ্ন ছুঁড়ি বজ্রের মতো,
যে আইন মানুষ চিনে না,
সে আইন আমি মানি না!
যে সভ্যতা পিতার কোলে
মৃত্যু তুলে দেয়,
সে সভ্যতার মুখে
আমি থুথু ছুঁড়ে দিই—বিদ্রোহের!

এই দৃশ্য শেষ নয়—
যদি মানুষ জাগে না,
যদি বিবেক না জ্বলে,
তবে কাল আবার
আরেক পিতার বুকে
নামবে শোকের নীল আগুন!

ওগো মানুষ—জাগো!
আইন হোক মানবিক,
শাসন হোক করুণার,
নইলে এই কবিতা
শুধু শোক নয়—
হয়ে উঠবে আগামীর
বিদ্রোহী মহাকাব্য!
---------------------------------------------


২৬-০১-২০২৬

হায় রে রাজনীতি

 হায় রে রাজনীতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

হায় রে রাজনীতি!
কে তুই?
রক্তের উপর দাঁড়িয়ে শাসনের দাবিদার?
স্বাধীনতার মুখোশ পরে পরাধীনতার কারিগর?
বল্—
কে দিল তোকে মানুষের ঘাড়ে পা রাখার অধিকার?

আমি দেখি—
ন্যায়ের বুকে তোর খঞ্জর,
নীতির চোখে তোর অন্ধকার!
নেতৃত্ব কেন আজ জল্লাদ?
রাষ্ট্র কেন দুর্নীতির কসাইখানা?
উত্তর দে রাজনীতি!

কে ভাইয়ে ভাইয়ে ঢালে বিষ?
কে পাড়া-মহল্লা ভাগ করে দেয় আগুনে?
কে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় লেখে ক্ষমতার ইতিহাস?
তুই না—
তুই-ই তো!

আমি দেখি স্বৈরতন্ত্র,
আমি শুনি মবতন্ত্রের হুংকার,
আমি গুনি দুর্নীতিন্ত্রের দাঁত,
আমি চিনি ফ্যাসিবাদের মুখ!
এ কোন শাসন?
এ কোন সভ্যতা?

বল্—
কেন বন্ধু আজ শত্রু?
কেন বিচারক আজ জুলুমবাজ?
কেন মজলুম আজ আসামি,
আর জালেম আজ মসনদের মালিক?

ধর্ম কেন তোর ব্যবসা?
ঈমান কেন তোর পণ্যের নাম?
মসজিদ-মন্দির কেন তোর ক্ষমতার বিজ্ঞাপন?
মিথ্যার মঞ্চে বসে কেন গাইস উন্নয়নের গান?

গুম কে করে?
হত্যা কে করে?
রাহাজানি, লুণ্ঠন, অরাজকতার অবাধ চাষ—
কার শাসনে হয়?
চুপ কেন রাজনীতি?
জবাব দে!

আমি শুনি—
স্বাধীনতা আজ শিকলবন্দি,
স্বাধীনচেতা কণ্ঠ আজ কারাগারে!
আমি দেখি—
দিকে দিকে রক্তের বন্যা,
ভয়ের রাষ্ট্র, মিথ্যার সাম্রাজ্য!

তাহলে শোন—
আমি বিদ্রোহ!
আমি সেই কণ্ঠ
যাকে টিপে ধরলে বিস্ফোরিত হয় ইতিহাস!
আমি প্রশ্ন—
আমি আগুন—
আমি বজ্র!

আমি বলি—
যে রাজনীতি মানুষ খায়,
সে রাজনীতি বাঁচার অধিকার হারায়!
যে শাসন ন্যায় হত্যা করে,
সে শাসন একদিন নিজেই রায়ের কাঠগড়ায় দাঁড়ায়!

যেদিন জনতা জাগবে—
ভয় ভাঙবে, গুজব মরবে,
বিবেক হাতে রাস্তায় নামবে—
সেদিন তোর সব মুখোশ
ধুলোয় মিশে যাবে!

সেদিন মানুষ আবার মানুষ হবে,
আর রাজনীতি—
হয় ন্যায়ের পথে ফিরবে,
নয়তো ইতিহাসের আগুনে পুড়ে ছাই হবে!
-----------------------------------------------------


২৬-০১-২০২৬

রবিবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২৬

বাংলার বুক আজ অশ্রু ভেজা

 বাংলার বুক আজ অশ্রু ভেজা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************

হে বিশ্ব, থামো, শোনো ইতিহাসের আর্তনাদ,
বাংলার বুক আজ অশ্রু ভেজা, বুকের ধমক ব্যথার বার্তা।
শান্তির মুখোশে ঢেকে আছে
অমানবিক সভ্যতার বিষধর ছায়া।

রায় হয়নি, বিচার নেই,
তবু সাজা নেমে পড়ল অচিন্ত্য, অমনি।
আইনের চোখে অন্ধকার,
মানবতা নিঃশব্দ, শাসকের হাসি পাথরের মতো কঠোর।

কে অপরাধী, কে নিরপরাধ—
জানেনি কেউ, কেনআদালত নিস্তব্ধ!
লাশের সারি দেখে বিশ্ব থেমে যায়,
জাতি কেঁদে, হৃদয় ফেটে, শোকের জলে ভেসে যায়।

মায়ের চোখে জল, পিতার চোখে অশ্রু,
নবজাত শিশুর মুখে জীবন দমে।
এখানে শত্রুও কাঁদে,
তবু শাসকের হৃদয় গলে না, আইন অচল।

কি এক নিষ্ঠুর খেলা চলছে!
বাংলার শাসক, পাষাণহৃদয়, অমানবিক,
পিতা চেয়েছিল নবজাত পুত্রকে
দেখার একটুখানি, শেষবার কোলে টানার আকুলি।

পরিবার চেয়েছিল প্যারোল,
স্ত্রী চেয়েছিল স্বামীর জামিন,
চেয়েছিল ন্যায় বিচার,
কিন্তু বিচারকের কলমে মানবিকতা নেই।

স্বামী অপরাধ করলেও
শাস্তি হোক ন্যায়বিচারে,
তবু প্রাণ যেন ঝরে না,
এটাই চেয়েছিল পরিবার, চাই মানবতা।

হতাশার করাল গ্রাসে নিমজ্জিত হয়ে
দিশেহারা মা নেমে গেল নদীতে,
নিজ সন্তানকে বুকে চেপে ধরে,
নিজেই জীবন উৎসর্গ করল—শেষ আর্তনাদে।

পিতা পারল না শেষ বিদায় দিতে,
দেখতে পারল না সন্তানকে শেষবার,
রাষ্ট্র দিল না প্যারোল,
মৃত্যুর আগে মিলল না একটুখানি মানবিকতা।

আইন নির্বিকার, শাসক নিষ্ঠুর,
মানবিক শাস্তি নেই,
শাসকের খেলায় মরল আশা,
অপরাধীর বিচার হোক,
কিন্তু প্রাণ যেন ঝরে না।

হে শাসক, শোনো ইতিহাসের আর্তনাদ,
মানবতা হত্যা করলে একদিন রায় হবে তোমার।
বিচারের আগে শাস্তি হোক,
এ দেশ হোক সত্যের বাতিঘর,
মানবতার চিরন্তন দিশারি।


২৫-০১-২০২৬

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২২, ২০২৬

ভোট দাও হে নিজ বিবেকে

 ভোট দাও হে নিজ বিবেকে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************
জাগো হে বাঙালি, জাগো—
নিদ্রাভাঙা ভোরে জাগো বিবেকের ডাকে,
ভোট দাও হে নিজ বিবেকে,
হুজুগে নয়, ভয়েতে নয়,
সত্যের দীপ্ত আলোর পথে হেঁটে।

কে বলল হ্যাঁ, কে বলল না—
সে কথা নহে বিচার্য আজ,
দল নহে মুক্তির চাবি,
নয় বেহেস্তের সোনালি দরজা;
যোগ্যতা, ন্যায় আর দেশপ্রেম—
এই হোক তোমার মাপকাঠি, রাজ।

যে নেতা ন্যায়পরায়ণ,
যার বুকে মাটির গন্ধ, মানুষের টান,
যে দেখে দেশকে মায়ের মতো,
সে-ই হোক তোমার অধিনায়ক, তোমার মান।
দেশবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী
কভু পারে না হতে দেশের কর্ণধার,
তার মুখে যত মধুর বাণীই ঝরুক,
সে বিষধর, সে অন্ধকার।

বিবেককে প্রশ্ন করো, গভীর প্রশ্ন করো—
কে সে, যে ন্যায়ের পথে অবিচল দাঁড়ায়?
কে সে, যে ক্ষমতার নেশায় নয়,
মানুষের দুঃখে বুক ভাঙায়?
তাকেই ভোট দাও, তাকেই মানো,
এই হোক তোমার দৃঢ় শপথ আজ।

এ দেশ তোমার, এ ভোট তোমার,
নেতাও তোমার নির্বাচিত পথ,
ভীরুর মতো নয়, নাগরিক হয়ে
উচ্চ করো অধিকার-শপথ।
কোনো হুজুগে যেও না তুমি,
মিথ্যা স্লোগানে দিও না মন,
যারা বলপ্রয়োগে পথ রোধ করে—
বজ্রকণ্ঠে রুখে দাও তাদেরই তখন।

জাগো হে বাঙালি, জাগো আবার—
কলমে, কণ্ঠে, ব্যালটের ঘায়ে,
নজরুলের বজ্রধ্বনি বুকে নিয়ে
ভোট দাও সত্য, ন্যায় আর স্বাধীনতায়।
---------------------------------------------


২২-০১-২০২৬

অশুভন বাচিকের কাব্য

 অশুভন বাচিকের কাব্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************
সভ্যতার যুগে আজিকার প্রজন্ম
রচে অশুভন বাচিকের ভয়ংকর সংগম।
মুখের ভাষা শুনিলে কেঁপে ওঠে মন,
পাগলের মাতম যেন—বিবেকহীন ধ্বনন।

চেহারা সুহাসীনি, রূপে মায়ার ছায়া,
অথচ মুখের ভাষা ন্যাংটা কুকুরের ঘেউ-ঘেউ হায় হায়া।
ছিঃ ছিঃ বলতেও লজ্জা লাগে প্রাণে,
মানুষের মুখে পশুত্ব—লুকানো কোন কালে?

জি এন জি লাগামহীন অশ্বের মতো ছুটে,
পথ বাদরে দাপায়, শালীনতা লুটে।
শিষ্টাচার নেই, ভদ্রতা নির্বাসনে,
শিক্ষার আলো নিভে যায় অন্ধ অঙ্গভঙ্গিতে, হিংস্র হাসনে।

শিক্ষিত তারা, তবু আচরণে পশু,
জন্তু জানোয়ারের চেয়েও অধম যেন কিছু।
এদের হাতে দেশ কি নিরাপদ থাকে?
ভবিষ্যৎ কাঁপে ভয়ে—ইতিহাস প্রশ্ন রাখে।

কোন অসভ্যতার যুগে ছুটছে এ প্রজন্ম?
আজিকার বড় প্রশ্ন, বিবেকের সম্মুখে স্তব্ধ মন।
জাতি স্বপ্ন বুনেছিল জিএজি ঘিরে,
আজ আশা-নিরাশার দোলাচল হৃদয় চিরে।

বিপ্লবের আড়ালে স্বার্থের নীল নকশা,
ভয়াল ছায়া নামে, সত্য হয় উপহাসা।
দেশবিরোধী কার্যক্রমের নীরব মহড়া,
চেতনার বুকে বাজে অশনির ঝড়ো ঝাঁড়া।

রাজনীতি, পথঘাট, শিক্ষা ও আদালত,
অফিসে অফিসে ছড়ায় অসভ্যতার ক্ষত।
শ্লোগানের গর্জনে নেই আদর্শের গান,
কেবল ক্ষমতার নেশা, স্বার্থের উন্মত্ত তান।

হে প্রজন্ম, শোনো—এ কি তোমার পথ?
মানুষ হওয়া কি এতই সস্তা, এতই অযোগ্য অর্থ?
ভাষা হোক শুদ্ধ, আচরণ হোক আলো,
বিপ্লব মানে নির্মাণ—ধ্বংস নয় ভালো।

জাগো, হে বিবেক—শব্দে শব্দে শপথ,
অশুভন বাচিক নয়, মানবিকতার রথ।
দেশ ডাকছে তোমায় শালীনতার টানে,
মানুষ হয়ে ওঠো—এই কাব্যের শেষ মানে।
-----------------------------------------------------


২২-০১-২০২৬

বুধবার, জানুয়ারি ২১, ২০২৬

ওহে সাধু সাবধান!

 ওহে সাধু সাবধান!

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

ওহে সাধু, ওহে সাধু সাবধান—
ঘিরে আছে ছোবল-তোলা অজগর জান,
বিষাক্ত সাপ, বিচ্ছু, হায়েনার দল,
নিশাচরের চোখে আগুন, রক্তাক্ত জল।

দিকে দিকে ছদ্মবেশী বন্ধুর ভিড়,
মুনাফিকের হাসির আড়ালে বিষের নীড়।
স্বাধীন সমুদ্রে ঢেউ উঠেছে উত্তাল,
কালবৈশাখীর হুঙ্কারে কাঁপে দিগন্ত কাল।

তুষারের পাহাড়ে জমেছে হিম শীতল ষড়যন্ত্র,
নর্দমা-খাল-বিলে লুকিয়ে পচা মন্ত্র।
শুকুনের ছোবল আজও জাগ্রত প্রাণ,
তোমার চারপাশে ঘোরে মৃত্যু-সন্ধান।

ওরা তোমার মাকে জ্বালাতে চায় আগুনে,
মা-বোনের শরীর ক্ষতবিক্ষত করুক রক্তবনে।
মায়ের আঁচল খামচে ধরে ছিঁড়ে নিতে চায়,
পরিচয়ের নাম-নিশান মুছে দিতে চায়।

তাদের চাওয়া তোমার কাঁধে চাপায় ভার,
অধিকার হরণ করে গড়ে স্বৈরাচার।
মবতন্ত্রের মাঠে চাষ করে ভয়,
কণ্ঠরোধ করে বলে—“নীরব থাকো, হে জনসাধারণ, ভয়!”

তোমার সংস্কৃতি ভাঙে, জন্মের ইতিহাস মুছে,
অর্থনীতির শিরায় ঢালে বিষের কুঁচে।
গতকালের রক্তিম পথ মুছতে চায় আজ,
স্বাধীনতার মানচিত্রে টানে অন্ধকার রাজ।

জাগো হে সাধু, জাগো এই ক্ষণে,
চেনো মুখোশ, চিনে নাও ছায়ার জনে।
সতর্ক পায়ে হাঁটো, দৃঢ় কর প্রাণ,
সাবধান না হলে হারাবে স্বাধীনতার মান।

জাগো—আর লিখে দাও ইতিহাসের বুকে,
ওদের সমাধি স্বাধীন বাংলার মাটিতে ঢুকে।
শান্তির নামে যারা আগুন বয়ে আনে,
সাবধান হে সাধু—সাবধান সেই প্রাণঘাতী গানে।
-----------------------------------------------------


২১-০১-২০২৬

অনুপম প্রেম (গান)

  অনুপম প্রেম কবি মোহাম্মদ আমিনুল এহছান মোল্লা রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর -------------------------------------------------- কখনো ক...