মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬

আজ যা শক্তি ,কাল তা অভিশাপ

 আজ যা শক্তি ,কাল তা অভিশাপ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

কিসের বড়াই, কিসের দম্ভ হে অহঙ্কারী শাসক,
এ দেহ, এ বল—সবই ক্ষণিক, সবই রবের অনুগ্রহক।
আজ যে শক্তি বুকে ধারণ করো অহংকারের তাপে,
রব চাইলে মুহূর্তে নিভে যায় এক ফোঁটা ব্যথার কাঁপে।

একটি রোগে, এক দৈব আঘাতে ভেঙে যায় সিংহাসন,
মাটি ডাকে, অহংকার কাঁদে—শেষ হয় সব আয়োজন।
তবে কেন অবিচার বুনো পৃথিবীর বুক জুড়ে?
কেন ক্ষমতার নেশায় অন্যের অধিকার করো চূর্ণে?

কেন জুলুমে হাসি আঁকো, মজলুমের অশ্রু ঝরে?
কেন অপমানের আগুনে মানবতা পুড়ে মরে?
তুমি তো মালিক নও কিছুই—সবই রবের দান,
যেদিন তিনি ছিনিয়ে নেবেন, থাকবে শুধু শূন্যস্থান।

মজলুমের অভিশাপ কুড়িও না শক্তির মোহে,
সে অভিশাপ আগুন হয়ে জ্বলে ওঠে ইতিহাসের খোঁজে।
মনে রেখো, ক্ষমতার বলই প্রকৃত শক্তি নয়,
আজ যা শক্তি কাল তা অভিশাপ, কাল তা নিশ্চিত পরাজয়।
------------------------------------------------


২৭-০১-২০২৬

দাদা নেই, তবু মৃত্যুঞ্জয়ী

 দাদা নেই, তবু মৃত্যুঞ্জয়ী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
উৎসর্গঃ প্রিয় দাদা মরহুম অলিউল্লাহ সরকার্
*************************************************

হে দয়াময় রব, আজ তোমার দরবারে দাঁড়াই,
শূন্য হাতে, ভেজা চোখে দোয়ার ভাষা খুঁজে পাই।
দাদা নেই—তবু তাঁর স্মৃতি হৃদয় ভরে রাখে,
নশ্বর দেহ ফুরোলেও রূহ যে রহমতে থাকে।

শৈশব থেকে যৌবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে,
তাঁর স্নেহের ছায়া ছিল জীবনের ফাঁকে ফাঁকে।
অল্প কথায় শিখিয়েছেন বড় জীবনবোধ,
নীরবতায় বুঝিয়েছেন ক্ষমা আর সংযমের শোধ।

মেঠো পথে, মসজিদের নীরব প্রাঙ্গণে,
আজও তাঁর কণ্ঠ শুনি অন্তরের গভীরে।
রাগে নয়, দয়ায় গড়া ছিল তাঁর মন,
নিরঙ্কারী মুরুব্বি—সহিষ্ণুতাই ছিল গুণ।

হে গাফফার, নশ্বরের যত ভুল-ত্রুটি আছে,
তুমি ক্ষমা করে দিও তোমার অসীম ভালবাসে।
কবরকে করো নূরে ভরা জান্নাতের বাগান,
ভয় বদলে দিও শান্তি, দুঃখ বদলে দাও মান।

জান্নাতুল ফেরদৌস দিও সর্বোচ্চ মাকাম,
আরশের ছায়ায় রাখো—এ আমার শেষ সালাম।
দাদা নেই—তবু দোয়ায় তিনি অমর হয়ে রয়,
হে করুণাময় রব, তিনিই আমার মৃত্যুঞ্জয়ী আশ্রয়।

আমিন।
--------------------------------------------------


২৭-০১-২০২৬

ইতিহাসই শেষ আদালত

 ইতিহাসই শেষ আদালত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

শোনো হে জালেম শাসক—বজ্রকণ্ঠে বলি,
ক্ষমতার সিংহাসন ক্ষণিক, সত্য চিরঞ্জীব জ্বলি।
তুমি গেলে—মুছবে না তোমার কলঙ্কিত দাগ,
ইতিহাসের পাতায় পাতায় জাগবে অপরাধের গতিবেগ!

শান্তির মুখোশে শুনালে শ্মশানের গান,
অশান্তির বীজ বুনে দিলে বিভেদের বিষবাণ।
আজ ঢেকেছো কলঙ্কিত চিহ্ন ক্ষমতার ঢালে,
কাল পাখির ডানায় লেখা রায় নামবে আকাশ-জ্বালে।

স্বাধীন বাংলার মাটি উঠবে ফেটে—
বজ্রশপথে বলবে নাম, একে একে:
বিশ্বাসঘাতক! দেশদ্রোহী! খুনি! অমানবিক শাসক!
হিংসা–প্রতিহিংসার জনক—শান্তির নামে অশান্তির দাসক!

ফ্যাসিস্ট তাড়াতে গিয়ে নিজেই হলে দানব,
জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াবে—নির্বস্ত্র, নিরুপায়, নির্ভব।
ইতিহাস লিখবে লাল অক্ষরে—মুনাফেক ভয়ংকর,
তোমার ছত্রছায়ায় মুছে দিলে স্বাধীনতার স্মৃতির স্বর।

মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান—এ কোন সাহসের খেলা?
লাশ পুড়ালে, জীবন্ত মানুষ—আগুনে দিলা ঠেলা!
উগ্রবাদে দিলে আশ্রয়, জাতিকে করলা খণ্ড,
জেল–জুলুমের স্টিমরোলার চালালে নির্লজ্জ দণ্ড।

আজ গর্জাও মঞ্চে—কাল নীরবতা,
সত্যের ঢেউ এলে ভাঙবে মিথ্যার প্রাসাদ-দ্বারতা।
সেদিন জবাব দেবে কী, হে জালেম শাসক—বলো?
কালো অধ্যায়ে খোদাই নাম—অমোচনীয়, অচলো।

মানুষ ছিঃ ছিঃ করবে—রায় দেবে কাল,
আমি বিদ্রোহী কণ্ঠে বলি—শুনুক দিগন্তের জাল:
শাসন ফুরোয়, মিথ্যা পুড়ে—সত্য থাকে অটল,
ইতিহাসই শেষ আদালত—এ রায় অনিবার্য, উজ্জ্বল!
-----------------------------------------------


২৭-০১-২০২৬

ফয়সালা কেবলই আল্লাহ’র

 ফয়সালা কেবলই আল্লাহ’র

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

শুনো হে মানব, আমি দাস, আল্লাহর কাছে আমি খাঁটি,
ভালো-মন্দের হিসাব কেবল প্রভুর হাতে, চিরন্তন আঁটি।
পৃথিবীর কেউ দিতে পারে না বেহেস্তের সোনালি চাবি,
দোজখের ছায়া কেবল প্রভুর ন্যায়ে বাঁধা যায় গভীর ঢাবি।

আমি মুমিন, আমি মুসলিম, নবী করিমের পথে যাই,
আল-কোরআনের দীপে চলি, সুন্নাহর আলোয় ভাসি।
ধর্মান্ধ নই, প্রভুভীরু, তবু ভয় ও প্রেমে হাসি,
যারা লোভে ধর্ম বিক্রি করে, তাদের সঙ্গে নেই আমার ভাষি।

দুনিয়ার শব্দ, মোহ, লোভ—সবই অস্থির, মলিন,
কেবল প্রভুর ন্যায় ও রহমতে হৃদয় হয় অটল, চিরন্তন বিন।
ফকির-গরীবের আশা, দাসের অন্তর সবই তাঁর নির্দেশে,
যে বলে বেহেস্তর টিকেট নাও তাকে করি প্রত্যাখ্যানের প্রসে।

কোন দলে মুক্তি নেই, মুক্তি কেবল প্রভুর নিকটে,
মানব চেষ্টায় নয়, প্রভুর ন্যায়চক্রে শান্তি মেলে চিরন্তন লিপটে।
চলুন হে বিশ্ব! জাগো, আলোর দিশায় যাত্রা করো,
দুনিয়ার দোহায় নয়, প্রভুর পথে চিরন্তন বিশ্বাস ধরো।

ফয়সালা কেবলই আল্লাহ’র, রহমত, ন্যায় ও করুণার মিশ্রণে,
আমার অন্তরের শান্তি, আত্মার মুক্তি, চিরন্তন আলোয় ঝিলমিশ্রণে।
আমি দাস, আমি গোলাম, রবের দাসত্বে জীবন বাঁধি,
ভালো-মন্দের হিসাব কেবল তাঁই হাতে, চিরন্তন দিশা আঁধি।
---------------------------------------------


২৭-০১-২০২৬

শিক্ষকের শিক্ষা মরে না

 শিক্ষকের শিক্ষা মরে না

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

আজ বাংলার আকাশও যেন কাঁদছে,
প্রতিটি বাতাসে ভেসে আসে বেদনার সুর।
জনাব শাহাবুদ্দিন স্যার চলে গেলেন,
কিন্তু তার আলোকিত পদচিহ্ন চিরন্তন, হৃদয়ে অমলিন।

হে মহান শিক্ষক, বিদায়ের ক্ষণে,
মাটি কেঁপে ওঠে, নদী থমকে যায়, আকাশ কাঁদে অশ্রুবিন্দু।
আমরা প্রার্থনা করি—রাব্বুল আলামিনের দরবারে,
জান্নাতুল ফেরদৌসে হোক তার জন্য স্থায়ী আসন।

শিক্ষকের শিক্ষা কখনো মরে না,
সে বেঁচে থাকে হৃদয়ে, আলোর দীপস্বরূপ।
তার প্রতিটি বাক্য, তার দীক্ষার আলো,
পথ দেখায় অন্ধকারে, হৃদয়কে উজ্জ্বল করে।

হে আল্লাহ, করো তার রুহ শান্ত,
মাফ করো তার ভুল, করো কবর প্রশস্ত।
বানাও জান্নাতুল ফেরদৌস তার স্থায়ী ঠিকানা,
আমাদের অন্তর দাও দৃঢ়তা ও সহমর্মিতা।

শ্রদ্ধার অশ্রু আজ চোখে ভাসছে,
বাংলার প্রতিটি ফুল, প্রতিটি পাখি কাঁদছে তার জন্য।
হে স্যার, নাম তোমার লিপ্ত হোক আমাদের দোয়ায়,
তুমি চিরকাল আমাদের সাথে বেঁচে থাকো।

আমরা চাই—তোমার আদর্শের আলোয় গড়ে উঠুক প্রজন্ম,
সত্য, ন্যায়, শান্তির দীপ জ্বলে চিরন্তন।
তোমার ছায়ায় আমরা চলছি,
আল্লাহর ভরসা ও ধৈর্য আমাদের পথ প্রদর্শক।

শিক্ষকের নাম হয়ে ওঠে দোয়ার সুর,
তার প্রতিটি শিক্ষা জ্বালায় নূরের দীপ।
হৃদয়ে জ্বলে আলো, দূর করে অন্ধকার,
আমাদের অন্তরে রঙিন করে ভালোবাসা।

হে মহান শিক্ষক, তুমি চিরকাল বেঁচে থাকো,
প্রজন্মের অন্তরে জ্বলে থাকো আলোর দীপে।
শিক্ষক কখনো মরে না,
সে হয়ে ওঠে অনন্ত নূরের দীপ, আমাদের অন্তরের প্রেরণা।
-----------------------------------------------------------


২৭-০১-২০২৬

আলো থেকে আঁধারে

 আলো থেকে আঁধারে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

অধিক মুক্তির প্রত্যাশায় ডেকেছিল জাতি যারে,
শান্তির দূত নাম ছিল তার—আশা ছিল ভোরের তারে।
দূত এল ঠিকই, এল পতাকা-ভরা প্রতিশ্রুতি হাতে,
কিন্তু শান্তি এল না, মুক্তি হারাল রক্তাক্ত প্রাতে।

পদে পদে ভয় বাড়ে, শ্বাস নেয় আতঙ্কের ছায়া,
ভাঙে জাতির ঐক্য-দেয়াল, ছড়িয়ে পড়ে বিভাজন-মায়া।
স্বাধীনতা মূর্ছিত হয়, ইতিহাস হয় বিকৃত,
মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা হয় অবহেলিত, ক্ষত-বিক্ষত।

দেশবিরোধী মাথা তোলে, উগ্রতার অগ্নিশিখা,
নাগরিক অধিকার লুণ্ঠিত, ন্যায় আজ বন্দি-লিখা।
মানবতা জল্লাদ হয়ে দাঁড়ায় ক্ষমতার পাশে,
ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া নামে রাষ্ট্রের আকাশে।

জাতি হারায় জাতিসত্তা, চেনা মুখ হয় অচেনা,
আলো ছেড়ে আঁধার বেছে নেয়—এ কোন সর্বনাশী চেনা?
শান্তির দূত অশান্তির কারণ—কলঙ্কে ভরে কাল,
বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ হয়, থামে প্রশ্নের ঝাল।

কবির কলম কাঁপে থেমে, প্রতিবাদী নিশ্চুপ,
জেল-জুলুম, হুলিয়া ধেয়ে আসে—নীরবতা হয় রূপ।
গণতন্ত্র পড়ে পদধূলিতে, ভোট হয় অবমান,
পৃথিবী দেখে অপদস্ত রাষ্ট্র—লজ্জায় নত মাথানত প্রাণ।

কে তাকে শান্তির দূত বলে? জিজ্ঞাসে নাগরিক আজ,
ফ্যাসিস্ট তাড়াতে গিয়ে নিজেরাই হল ফ্যাসিস্ট—এ কোন ব্যাজ?
উত্তর চাই ইতিহাসে, রক্তে-লেখা সত্যে,
আলো ফিরুক আঁধার ভেঙে—মানুষ জাগুক ন্যায়ে, মুক্তিতে।


২৭-০১-২০২৬

চলে গিয়েও তুমি থেকে গেছো

 চলে গিয়েও তুমি থেকে গেছো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
উৎসর্গঃ প্রিয় স্যার অধ্যাঃ আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া।
******************************************

চলে গিয়েও তুমি থেকে গেছো—আজ এই সত্য বুকে বাজে,
নীরব প্রস্থানের ক্ষত জেগে ওঠে প্রতিটি শ্বাসে।
হে বাংলা বর্ণের উজ্জ্বল শিখা, অমৃত সুরের প্রাণ,
তোমার বিদায়ে থমকে গেল সোনার বাংলার গান।

শ্রদ্ধেয় প্রিয় স্যার, অধ্যাপক আনোয়ার হোসের ভূঁইয়া,
এই নাম উচ্চারণেই ভিজে যায় স্মৃতির নীরব গলিপথিয়া।
বিধাতার ডাকে অনন্ত পথে পা বাড়ালে নিঃশব্দে,
পেছনে রেখে গেলে আলো, সামনে নিলে অনন্ত নীরবতা বুকে।

আজ তুমি নেই—এই বাক্যটি মানতে বড় কষ্ট হয়,
শ্রেণিকক্ষ আজ শূন্য দাঁড়ায়, বোর্ডও যেন নীরব রয়।
চক-ধুলো মাখা সেই হাত আজ থেমে গেছে চলা,
কিন্তু সে হাতে গড়া স্বপ্নগুলো জানে না থামা।

দৃশ্যত তুমি নেই স্যার, তবু তুমি আছো আজও,
এই পৃথিবীর ভাঁজে ভাঁজে, আলো-ছায়ার মাঝেও।
কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজের সবুজ শ্যামল মাঠ,
আজো তোমার পায়ের শব্দ খোঁজে নিঃশব্দ পথঘাট।

প্রতিটি ইট-পাথরের স্তরে লেখা তোমার ত্যাগের কথা,
প্রতিটি বেঞ্চে জমে আছে অসংখ্য স্বপ্নের ব্যথা।
সহকর্মীর দীর্ঘশ্বাসে, ছাত্র-ছাত্রীর চোখের জলে,
তোমার মমতা আজও নীরবে কথা বলে।

মনে পড়ে সেই দিনগুলো—বাংলা বর্ণের উৎসব,
কবিতা, গল্প, উপন্যাসে খুলে দিতে নতুন সব পথ।
অক্ষরে অক্ষরে তুমি গড়েছো মানুষের ভিত,
অজ্ঞতার অন্ধকার ভেঙে জ্বালিয়েছো জ্ঞানের দীপ।

তোমার কণ্ঠে শব্দ মানে ছিল আশ্রয় ও আলো,
ভাষা ছিল প্রতিবাদ, ভাষা ছিল ভালোবাসা ভালো।
এক কিংবদন্তী সাহিত্য বিষারদ তুমি ছিলে স্যার,
বাংলা ভাষার মন্দিরে তুমি চিরদিনের প্রহরী অমর।

আজ শ্রেণিকক্ষের নীরবতায় কান পাতে সময়,
মনে হয় তুমি দাঁড়িয়ে আছো—ডাকছো, “শোনো সবাই।”
সে ডাকে জেগে উঠতো প্রাণ, বদলে যেত দৃষ্টি,
আজ সেই ডাকের অপেক্ষায় ভিজে ওঠে চোখের পলক-বৃষ্টি।

চলে যাওয়া মানে কি হারিয়ে যাওয়া চিরতরে?
না স্যার—তুমি আলোকবর্তিকা হৃদয়-কুটিরের ভিতরে।
নশ্বর দেহ থেমে গেলেও থামে না যে আদর্শ,
তোমার শিক্ষা, তোমার মানবতা—চির অমলিন স্পর্শ।

তুমি আছো প্রতিটি শিষ্যের স্বপ্নের গভীর শিকড়ে,
তুমি আছো বাংলা ভাষার প্রতিটি বেঁচে থাকা অক্ষরে।
তুমি আছো কাপাসিয়ার বাতাসে, মাটির ঘ্রাণে,
তুমি আছো সেইসব চোখে—যারা মানুষ হতে জানে।

হে প্রিয় গুরুজন, অনন্তে ভালো থেকো তুমি,
রবের দয়ার ছায়ায় ভরে উঠুক তোমার অনন্ত ভূমি।
মহান আল্লাহ তোমার এই প্রস্থান করুক কবুল,
জান্নাতের সুউচ্চ মাকামে দান করুন চিরনূর—আমীন।
----------------------------------------------------------


২৭-০১-২০২৬

সোমবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২৬

আবেগের রাজনীতি

 আবেগের রাজনীতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************

যে আবেগ মুক্তিযুদ্ধকে ভুলে যায়,
আমি তাকে প্রত্যাখ্যান করি বারবার।
যে আবেগ স্বাধীনতার চেতনাকে আড়াল করে,
আমি তাকে বাঙালি/ বাংলাদেশী বলি না একবারও।

যে আবেগ দাঙ্গার আগুন জ্বালায়, মানুষকে বিভক্ত করে,
আমি বলি না, বলি না, বলি না।
যে আবেগ রাজনৈতিক সংঘাতের বীজ বপন করে,
আমি রাজনীতি বলি না, রাজনীতি বলি না।

যে আবেগ মববাদ, স্বৈরবাদ, ভয় সৃষ্টি করে,
আমি ঘৃণা করি, ঘৃণা করি, ঘৃণা করি।
যে আবেগ ধর্মান্ধের বুলি ছড়ায়,
আমি তাকে ধর্মভীরু বলি না।

যে আবেগ মানবতা ভুলিয়ে দেয়, মনুষ্যত্ব শূন্য করে,
আমি মানুষ বলি না, মানুষ বলি না।
যে আবেগ দেশকে অস্বীকার করে, জাতিকে হেনস্তা করে,
আমি দেশপ্রেমিক বলি না।

আহা! যে রাজনীতি অমানবিক, জুলুমের ছায়া ফেলে,
সত্য-মিথ্যার পার্থক্য চেনে না, যোগ্যকে অচেনা করে,
আমি ঘৃণা করি, আমি প্রত্যাখ্যান করি, আমি মুখে বলি না!

যে রাজনীতি অন্ধ, পরাজয় ডেকে আনে জাতির কপালে,
আমি দাঁড়িয়ে বলি—না! না! না!


২৬-০১-২০২৬

কী এক অমানবিক দৃশ্য!

 কী এক অমানবিক দৃশ্য!

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
শোন হে মানবতা—শোন!
আজ স্বাধীন বাংলার বুকে
কফিনের ঢোল বাজে,
আইনের মসনদে বসে
নীরব ঘাতক নিয়ম!

রক্তহীন ফরমানের তলে
কাঁপে পিতৃত্ব,
কারাগারের লোহার দাঁতে
ছিঁড়ে যায় বুকের দুধ-ভেজা স্বপ্ন।
হে বিধাতা, এ কোন শাসন?
এ কোন সভ্যতার অভিশাপ?

নির্জন পথে ছুটে চলে
মৃত্যুর ঘোড়া—অ্যাম্বুলেন্স,
কফিনে শুয়ে মা,
তার বুকে নিথর
একটুখানি সূর্য—শিশু!
তবু তারা যাচ্ছে—
জীবিত পিতার কাছে!
হায়! জীবিতের কাছে যেতে
মৃত্যুই আজ একমাত্র অনুমতি!

পিতা চেয়েছিল
একবার—শুধু একবার—
জীবনের উষ্ণতা ছুঁতে,
কোলের মধ্যে ধরে
শোনাতে হৃদয়ের আজান।
কিন্তু রাজনীতির কালো দাঁত
চিবিয়ে খেল সেই আকাঙ্ক্ষা,
আইনের শীতল মুখে
মানবিকতা আজ নিষিদ্ধ ভাষা!

বিশ্ব তাকিয়ে রইল—
চোখে বিস্ময়ের আগুন,
জনতার চোখে ঝরল অশ্রু,
রাস্তায় নামল দীর্ঘশ্বাসের মিছিল।
হে রাষ্ট্র!
তোমার প্রাসাদের দেয়ালে
শোন কি না এই কান্নার বজ্র?

গেটের সামনে এলো পিতা—
চোখে অন্ধকার, বুকে শূন্যতার ঝড়,
দেখল—
স্ত্রী আর সন্তান,
নিথর, নিশ্চুপ, নিঃশব্দ।
সে চিৎকার করল না—
কারণ তার কণ্ঠ
আগেই খুন হয়েছে আইনের হাতে!

আকাশ ভেঙে পড়ল তার চোখে,
মাটি ফেটে বেরোল দীর্ঘ আর্তনাদ,
পাথর কাঁদল,
লোহা কাঁদল,
কাঁদল ইতিহাস—
শুধু কাঁদল না
শাসনের হৃদয়!

আমি কবি—
আমি প্রশ্ন ছুঁড়ি বজ্রের মতো,
যে আইন মানুষ চিনে না,
সে আইন আমি মানি না!
যে সভ্যতা পিতার কোলে
মৃত্যু তুলে দেয়,
সে সভ্যতার মুখে
আমি থুথু ছুঁড়ে দিই—বিদ্রোহের!

এই দৃশ্য শেষ নয়—
যদি মানুষ জাগে না,
যদি বিবেক না জ্বলে,
তবে কাল আবার
আরেক পিতার বুকে
নামবে শোকের নীল আগুন!

ওগো মানুষ—জাগো!
আইন হোক মানবিক,
শাসন হোক করুণার,
নইলে এই কবিতা
শুধু শোক নয়—
হয়ে উঠবে আগামীর
বিদ্রোহী মহাকাব্য!
---------------------------------------------


২৬-০১-২০২৬

হায় রে রাজনীতি

 হায় রে রাজনীতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

হায় রে রাজনীতি!
কে তুই?
রক্তের উপর দাঁড়িয়ে শাসনের দাবিদার?
স্বাধীনতার মুখোশ পরে পরাধীনতার কারিগর?
বল্—
কে দিল তোকে মানুষের ঘাড়ে পা রাখার অধিকার?

আমি দেখি—
ন্যায়ের বুকে তোর খঞ্জর,
নীতির চোখে তোর অন্ধকার!
নেতৃত্ব কেন আজ জল্লাদ?
রাষ্ট্র কেন দুর্নীতির কসাইখানা?
উত্তর দে রাজনীতি!

কে ভাইয়ে ভাইয়ে ঢালে বিষ?
কে পাড়া-মহল্লা ভাগ করে দেয় আগুনে?
কে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় লেখে ক্ষমতার ইতিহাস?
তুই না—
তুই-ই তো!

আমি দেখি স্বৈরতন্ত্র,
আমি শুনি মবতন্ত্রের হুংকার,
আমি গুনি দুর্নীতিন্ত্রের দাঁত,
আমি চিনি ফ্যাসিবাদের মুখ!
এ কোন শাসন?
এ কোন সভ্যতা?

বল্—
কেন বন্ধু আজ শত্রু?
কেন বিচারক আজ জুলুমবাজ?
কেন মজলুম আজ আসামি,
আর জালেম আজ মসনদের মালিক?

ধর্ম কেন তোর ব্যবসা?
ঈমান কেন তোর পণ্যের নাম?
মসজিদ-মন্দির কেন তোর ক্ষমতার বিজ্ঞাপন?
মিথ্যার মঞ্চে বসে কেন গাইস উন্নয়নের গান?

গুম কে করে?
হত্যা কে করে?
রাহাজানি, লুণ্ঠন, অরাজকতার অবাধ চাষ—
কার শাসনে হয়?
চুপ কেন রাজনীতি?
জবাব দে!

আমি শুনি—
স্বাধীনতা আজ শিকলবন্দি,
স্বাধীনচেতা কণ্ঠ আজ কারাগারে!
আমি দেখি—
দিকে দিকে রক্তের বন্যা,
ভয়ের রাষ্ট্র, মিথ্যার সাম্রাজ্য!

তাহলে শোন—
আমি বিদ্রোহ!
আমি সেই কণ্ঠ
যাকে টিপে ধরলে বিস্ফোরিত হয় ইতিহাস!
আমি প্রশ্ন—
আমি আগুন—
আমি বজ্র!

আমি বলি—
যে রাজনীতি মানুষ খায়,
সে রাজনীতি বাঁচার অধিকার হারায়!
যে শাসন ন্যায় হত্যা করে,
সে শাসন একদিন নিজেই রায়ের কাঠগড়ায় দাঁড়ায়!

যেদিন জনতা জাগবে—
ভয় ভাঙবে, গুজব মরবে,
বিবেক হাতে রাস্তায় নামবে—
সেদিন তোর সব মুখোশ
ধুলোয় মিশে যাবে!

সেদিন মানুষ আবার মানুষ হবে,
আর রাজনীতি—
হয় ন্যায়ের পথে ফিরবে,
নয়তো ইতিহাসের আগুনে পুড়ে ছাই হবে!
-----------------------------------------------------


২৬-০১-২০২৬

রাওনাট ফুটবল টিম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা তারিখঃ ০৪ - ০৯ - ২০২৫ ইং স্থানঃ রাওনাট , কাপাসিয়া , গাজীপুর ---------------------------------------...