সোমবার, ডিসেম্বর ০৮, ২০২৫

অদ্ভুদ জাতি

 অদ্ভুদ জাতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

********************************

এই দেশে জন্ম না নিলে, ভাই,
জানতাম না এমনও জাতি হয়—
যারা রক্তে পাওয়া স্বাধীনতাকে
তুচ্ছ করে, ছুঁড়ে ফেলে ইতিহাসের শূন্য কুয়োয়।

যারা শহীদের রক্তকে বলে “পুরনো গল্প”,
আর মায়ের অশ্রুকে বলে— “অপ্রাসঙ্গিক রোদ্দুর”,
যারা জাতীয় সংগীতের বুকে
পাথর ছুঁড়ে ভাঙতে চায় স্মৃতির শুদ্ধ সুর।

এই জাতি—
স্বাধীনতাকে বানিয়েছে বাজারের পণ্য,
মুক্তিযুদ্ধকে সাজিয়েছে ব্যঙ্গের মঞ্চে,
আর শহীদের নাম লিখেছে
অবহেলার কালো পোস্টারে, সন্ধ্যার আগুন রঙে।

একটি দেশ—
রক্ত দিয়ে কেনা হয়েছিল যেদিন,
সেদিন আকাশ জানত, মাটিও জানত,
আজ সেই আকাশকে জিজ্ঞেস করি—
“তুমি কি ভুলে গেছো ওই আগুনদিন?”

এই প্রজন্ম—
চোখে মোবাইল, কানে মিথ্যার শব্দ,
তারা জানে না—
একটি মানচিত্র শুধু কাগজ নয়,
তা এক একটি কবরের নামফলক।

যারা মায়ের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছিল,
আজ তাদের সাথেই হাত মেলায় যারা,
তাদের বুকে নেই লজ্জার চিহ্ন,
তারা শুধু মুখে আনে “ক্ষমা” শব্দটা।

ধর্মের মুখোশে অধর্মের ব্যবসা,
আর বিবেকের ওপর জমে বরফ,
এই জাতি কি জানে—
একদিন স্বাধীনতা হঠাৎ হারিয়ে গেলে
ফেরত আনে না কোনো নীল মানচিত্র, কোনো দুঃখলিপি পোস্টার?

স্বাধীনতার কথা শুনলেই
যাদের গায়ে ফোসকা পড়ে,
যুদ্ধের নাম নিলেই যাদের ঠোঁট পুড়ে যায়—
ওরা কারা?
ওরা সেই অদৃশ্য শেকড়,
যারা ভেতর থেকে গাছ কেটে দেয়।

হে জাতি—
ঘুম থেকে জাগো, ইতিহাস ডাকছে,
মাটির নিচে শহীদেরা কাঁদছে,
তাদের রক্ত এখনো লাল,
তাদের স্বপ্ন এখনো আগুন।

মনে রেখো—
একটি দেশ হারায় না হঠাৎ,
হারায় ধীরে, নীরবে,
যখন এক জাতি তার শহীদের নাম
হাসির মাঝে ডুবিয়ে দেয়।

আজ যদি না জাগো,
কাল তোমার সন্তানেরাও বলবে—
“আমরা ছিলাম এক অদ্ভুদ জাতি,
যারা স্বাধীনতার দাম বুঝেছিল
শুধু হারাবার পরে।”

অদ্ভুদ জাতি

 অদ্ভুদ জাতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************

এই মাটিতে জন্ম না নিলে, ইয়া আখি,
জানতাম না— রক্তের দাম হয় মিছরি,
শহীদের কবরও হয় তামাশার বস্তু,
আর স্বাধীনতা হয় নিলামের পুতলি।

লাখুঁ শহীদের খুনে লেখা জমিন,
আজ সেই জমিনে কেনো এতো বরফিন?
হৃদয়ে আগুন নেই, চোখে নেই লাজ,
জিন্দেগি হয়েছে শুধু নকল আওয়াজ!

মা’য়ের ইজ্জত— ইতিহাসের আর্তি,
আজ তাকে বলে “গল্প”, “মিথ্যা বার্তি”,
হায়! কিসমত এ উম্মতের? হায়!
নিজের শেকড় নিজেই কাটে লাজে-অলাজ!

আল্লাহ! তোরা কি দেখিস না হাল,
দ্বীনের নাম নিয়ে চলে কিতাল-জাল?
মুখোশ পরে চলে অধর্মের খেল,
হক মরে যায়, বাতিল পায় বল।

শত্রুর বুকে হাত, নিজের বুকে ছুরি,
এ কেমন কাল? এ কেমন অসূর?
হে মিল্লাত! জাগো! তো উঠো, তো ওঠো,
নইলে তোমার নাম হবে শুধু শোক!

যেদিন আজাদি হবে খোয়াই,
সেদিন শুধু চোখ ভেজাবে প্রলয়,
তখন কাঁদবে মানচিত্র, কাঁদবে নিশান,
কিন্তু ফিরবে না আর হারানো ইমান।

আজও সময় আছে—
আজও বাতাসে শহীদের ডাক,
“ঘুম থেকে উঠো, ও গাফেল জাতি!
আগুন হও, নয়তো হয়ো ছাই!”

কারণ ইতিহাস ক্ষমা করে না,
যে জাতি নিজের রক্ত ভুলে যায়,
তার কপালে লেখা থাকে—
অন্ধকার, লাঞ্ছনা, ও চিরকালীন বিলাপ।
-----------------------------------------------


০৮-১২-২০২৫

অদ্ভুদ জাতি

 অদ্ভুদ জাতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************

হে দেশ! হে মাটি! হে রক্ত-ঋণ!
জাগো, জাগো, উঠো প্রজন্মীন!
স্বাধীনতা শুধু শব্দ নয়,
এ শহীদের জ্বলন্ত শপথ-চিহ্ন!

এই দেশে জন্ম না নিলে ভাই,
জানতাম না রক্তও হয় অপমান!
যেখানে শহীদের নাম শুনলে,
কাঁপে না বুক, জ্বলে না প্রাণ!

হে পতাকা! লাল-সবুজ শপথ,
তুমি কি আজ একা একা কাঁদো?
হে সংগীত! ত্যাগের সুর,
কেন আজও অপমান সয় বো?

যে মাটি কিনেছি মায়ের চোখে,
সেই মাটিতেই অবহেলার চাষ,
যুদ্ধের ইতিহাস মুছে মুছে
ভুল শেখায় মিথ্যার বাতাস!

হে রক্ত! হে ত্যাগ! হে শহীদ,
তোমাদের ডাক আজও জীবন্ত!
আমরা কি থাকব নীরব হয়ে?
নাকি হব ঝড়ের মত উত্তপ্ত?

ধর্মের মুখোশ, অন্তরে অন্ধকার,
জিহ্বায় সত্য, হৃদয়ে বিকার,
যারা শত্রুর সাথে হাসে–বসে
তাদের বুকে নেই লজ্জার আঁকার!

জাগো রে দেশ! জাগো রে মন!
ঘুম ভেঙে দেখো ইতিহাস!
দেশ শুধু মানচিত্র নয়—
দেশ মানে লাখ শহীদের শ্বাস!

আজ যদি আমরা না বুঝি,
কাল বেয়ে আসবে দীর্ঘশ্বাস,
তখন বলবে আমাদের ছেলেরা—
“স্বাধীনতা ছিল, আজ তা লাশ!”

হে জাতি! এবার জাগো, জাগো!
ভুলে যেও না রক্তঋণ!
স্বাধীনতা মানে দায়িত্ব—
এ আগুন, এ শপথ, এ দিন!
--------------------------------------------


০৮-১২-২০২৫

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ০৪, ২০২৫

এসো হে বেহেস্তের বাগান

 এসো হে বেহেস্তের বাগান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************

এসো হে মুমিন! এসো হে মুসলমান,
দেখ হে আজ রাওনাট মাঠ গুলশান-এ-ইমান।
তফসিরুল কোরআন রাওশন করে জান—
এ যেন বেহেশতের সুবহ-এ-গুলিস্তান।


দাওয়াতুল হকের নূর ঝরে বারবার—
রাওশন হয় রাহ-এ-সিদক ও ইখলাস-এ-ইখতিয়ার।
অমান উল্লাহ সরকারের সৌফিয়ানা ধ্যান—
জাগায় উম্মতের রূহে নূর-এ-তামান্না, নূর-এ-এহসান।
আটাশ বছর ধরে বয় হাওয়া-এ-করাম,
এই মাহফিল গুলশান-এ-রহমত, গুলশান-এ-জান।


এসো হে মুমিন! শুনো হে বিশ্বজাহান
তফসিরের নূরে জ্বলে রূহ-ও-ইমান…

দিল-এ-মজলিশে যখন দরূদের বরখা পড়ে—
রূহ হয়ে ওঠে নাজুক গুল-এ-নূর, ফোটে আবার জ্যোতিসুধায় ভরে।
মুফাসসিরের কণ্ঠ যেন মেহরাব-এ-গোলজার—
সেখানে শব্দ নয়, নামে লাইলাহর হিকমত-এ-আবরার।
ফেরেশতার সায়া নামে রাওশান-এ-দিলবার—
মাহফিল হয় নূর-এ-মেহর, নূর-এ-নাজর, নূর-এ-কারওয়ান।


এসো হে মুমিন! শুনো হে বিশ্বজাহান
রাওনাট মাঠ আজ নূর-এ-গুলিস্তান…


তওবা-এ-নাসুহা হলো রূহের পরিশান—
তাওবার অশ্রু নেমে আসে গুল-এ-চক্ষুতে, হয় নূর-এ-দান।
কোরআনের কালাম— হাদিয়ে-এ-রাহমান—
যে শুনে, সে পায় হেদায়েত-এ-দিল, খোলে রহমত-এ-দরবান।
এই মাহফিল হলো রূহ-এ-সাফা, রূহ-এ-গোলজার—
এখানে হৃদয় হয় মেহর-এ-নূর, সিজদায় খুঁজে পায় জান।


এসো হে মুমিন! শুনো হে বিশ্বজাহান
তফসির-এ-নূরে রাঙাও নিজের প্রাণ।
রাওনাট মাঠ আজ রাওশন-এ-রহমান—
এ যেন খোদার গুলশান-এ-বেহেশত,
ফিরে এসো হকের পথে, জানান…
--------------------------------------------------


০৪-১২-২০২৫

বুধবার, ডিসেম্বর ০৩, ২০২৫

রাওনাট গ্রামের ঐতিহ্য

 রাওনাট গ্রামের ঐতিহ্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

রাওনাটের মাঠে আজ আগুন—
বজ্র–তুফান–ভীতি ভেঙে ওঠে ঈমানের দাবানল,
দাওয়াতুল হকের তূরী বাজে—
“হে মুমিন! হে লা-ইলাহার সৈনিক! ওঠো, ওঠো সমগ্র রাত জ্বল!”

অমানুল্লাহ সরকারের হাতের মশালে
জ্বলে ওঠে তাওহীদের রুদ্র নক্ষত্র,
তার আহ্বানে গর্জে ওঠে রাওনাট–ডাঙ্গা—
হক বাঁচাও! তাগুত ভাঙো! জুলুমের সিংহাসন করো ছত্রভঙ্গ ছত্র!

হে মুসলমান! কে বলল ভীরু হতে?
কে টেনে নিয়ে গেল দুনিয়ার ফিতনার আঁধারে?
আজ বিদ্রোহ করো!
শয়তানের আড্ডায় আগুন ধরাও, ফিরো হকের দীপ্ত অস্ত্রধারে!

মঞ্চে বক্তার কণ্ঠ—
যেন হুনাইন–বদরের ঘোড়ার খুরের আওয়াজ,
কোরআনের তিলাওয়াতে কেঁপে ওঠে বাতাস—
“ওয়াল-আস্‌র! ইন্নাল ইনসান!”
ঐ ধ্বনিতে ছিন্ন হয় ঘুমন্ত জাতির নিস্তব্ধ সাজ।

উর্দুর আগুন— “তাগুত কি হকুমত মিটাও!”
ফার্সির ঝংকার— “আয়নাতুল হক বারান!”
আরবি বজ্র— “কুম! ফা-অনযির!”
—কাঁপে পুরো মাঠ—
যেন কিয়ামতের পূর্ব-রাতের গর্জন জ্বালান।

তৌহীদি জনতার চোখে আজ রণদীপ্ত লাল,
কেউ আর ভয় পায় না জুলুমকে—
যেন সাহাবীদের সারি এসে দাঁড়িয়েছে
এই রাওনাটের আয়াতে–রহমতের ঢেউকে।

নাতের সুর— “ইয়া রাসূল! ইয়া হাবীব!”—
আকাশ কাঁপে, হৃদয় কাঁদে, বাতাস হয় রৌশন,
এ যেন তাশহীদের মিছিল—
হক, হক, হক!— তাগুতের বেড়া করে ভস্ম ক্ষণেক্ষণ।

এই মাহফিল জলসা নয়—
এ এক ইলমী দাওয়াতের বিপ্লব,
যেখানে শয়তানের বাঁধন ছিন্ন হয়,
ফেরেশতারা নামে দলে দলে—
ইয়াওমুল জিহাদের সুরে জাগায় উম্মতের হৃদয়ের কাব্য-খঞ্জর।

শেষ দোয়ার সময়—
মাঠে আর কান্না থাকে না, থাকে বজ্রধ্বনি,
সবাই চিৎকার করে ওঠে—
“ইয়া আল্লাহ! তাগুত ধ্বংস করো! হককে করো জিন্দা জিন্দা!
আমাদের অন্তরে দাও তলোয়ারের ঈমান,
আর রাওনাট-মাহফিল হোক আগামীর মুক্তির দাওয়ান!”

রাওনাটের এই ঐতিহ্য—
অগ্নিবীণার তারে রচিত ইসলামী বিদ্রোহ,
যেখানে প্রতিটি শ্বাসে জ্বলে ওঠে ঘোষণা—

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ—
হক জিতবেই!
ফিতনা মরবেই!
তাগুত ভেঙে যাবে বজ্র-তুফানের মতন!
-------------------------------------------------


০৩-১২-২০২৫

রক্ত দিয়ে পেয়েছি স্বাধীনতা

 রক্ত দিয়ে পেয়েছি স্বাধীনতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************

রক্ত দিয়ে পেয়েছি স্বাধীনতা—
এ বাক্য নয়, এক অগ্নিজীবন–ঘোষণা।
একেক ফোঁটা রক্ত ছিল লাল-সবুজের কোড,
ছিল মুক্তির সিগন্যাল— অন্ধকারে জ্বলা আলোদোদুল্যমান মোড।

রক্ত দিয়ে পেয়েছি এই মানচিত্র—
যেখানে প্রতিটি নদী আঁকে শহীদের স্মৃতিচিহ্ন।
যেখানে মাটির গন্ধে লুকানো থাকে
মা-বোনের কান্নার নোনা সাগর–তরঙ্গ,
যুদ্ধফেরতা সৈনিকের অদম্য প্রতিজ্ঞা,
বুকে লুকিয়ে রাখা অসমাপ্ত স্বপ্নের ব্যথা।

রক্ত দিয়ে পেয়েছি স্বাধীনতা—
তাই অপশক্তির ঢেউ এলে বুক থরথর করে না,
বরং আরেক দফা আগুন জ্বলে ওঠে—
প্রতিটি তরুণের চোখে,
প্রতিটি মানুষের চেতনায়,
প্রতিটি সংবেদনশীল হৃদয়ের গভীরে।

যারা ইতিহাস ভুলে যায়—
তাদের জন্য এই লাল-সবুজ
জীবন্ত স্মারক, কঠোর সতর্কবার্তা।
যারা ষড়যন্ত্র আঁকে—
তাদের উদ্দেশে বজ্রের ভাষায় বলে:
“এই মাটি বিক্রির নয়, এই আকাশ কারো দাস নয়!”

রক্ত দিয়ে পেয়েছি স্বাধীনতা—
তাই বুকে শপথ আজো জাগে,
যে শপথ বাতাসে গেয়ে ওঠে—
আমার সোনার বাংলা— আমি তোমায় ভালোবাসি।
এ ভালোবাসা শুধু গান নয়,
এ ভালোবাসা অস্ত্রহীন বিদ্রোহ,
এ ভালোবাসা অদম্য সাহস।

রক্ত দিয়ে পেয়েছি স্বাধীনতা—
তাই দেশদ্রোহীর কালো ছায়া
যতই ঘনিয়ে আসুক—
বাংলার প্রজন্ম দাঁড়াবে আলোর মতো,
রুখে দেবে অন্ধকারের প্রতিটা কৌশল,
ছিন্ন করবে বিদ্বেষের প্রতিটা জাল।

কারণ—
স্বাধীনতা আমাদের দান নয়,
স্বাধীনতা আমাদের রক্তের স্বাক্ষর।
এ স্বাক্ষর মুছবে না কোনোদিন,
এগিয়ে চলবে প্রজন্মে প্রজন্মে—
মহাকালের গর্বিত ডানা মেলে।

রক্ত দিয়ে পেয়েছি স্বাধীনতা—
তাই মাথা নোয়ানো আমাদের জাত-ধর্ম নয়।
------------------------------------------------


০৩-১২-২০২৫

যে জাতি রক্তে লিখেছে

 যে জাতি রক্তে লিখেছে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************

যে জাতি রক্তে লিখেছে স্বাধীনতার নাম,
তার তরঙ্গ ওঠে বুকে— বজ্রেরই ধ্বনি–ঝনঝন-ঝমঝম।
অপশক্তির হুঙ্কার যতই ছুটে আসুক পথরোধে,
মুক্তিযুদ্ধের উত্তরসূরী দাঁড়ায় অটল শপথ বেঁধে।

লক্ষ শহীদের রক্তগাঁথা— অগ্নিশপথ রাত্রিদিবস,
ইজ্জতহারা মা-বোনের কান্না— আজো কাঁপায় বিবেকবাস।
বজ্রকণ্ঠে সেই ডাক এখনো জাগায় অন্তর–অগ্নিবীণা,
স্বাধীনতার সোনালি স্বপনে জ্বলে ওঠে মুক্তি–দিনা।

অস্ত্রহারা বাঙালির বুকেও ছিল দুর্জয় শক্তির ঢেউ,
সেই ঢেউয়ে ডুবে গিয়েছিল পরাজিত শত্রু–দেউ।
কোনো অপশক্তি টিকবে না— এ মাটির এ দিগন্তে,
লাল-সবুজের অহঙ্কার জ্বলে চির অবিনশ্বর দান্তে।

আজো দেশদ্রোহীর চোখে ঘুম নেই— কালো ষড়যন্ত্রের ছক,
তবুও জনতার মুঠি ওঠে— রুখে দাঁড়ায় শক্তির ডাক।
স্বাধীনতা-বিরোধীর নীলনকশা ছিন্ন হবে বজ্র–প্রহরে,
বাংলার সন্তান গেয়ে উঠবে— “সোনার বাংলা”— সমস্বরে।

সাবধান! সাবধান! হে দেশদ্রোহী— বাঙালি জাগে অগ্নিতে,
রক্তে লেখা স্বাধীনতার গান বাজে প্রতিটি শিরায়–নিতে।
যে জাতি রক্তে লিখেছে নাম— কখনো মাথা নোয়াবে না আর,
লাল-সবুজ আমার অহংকার— চিরদিন উড়ুক অগ্নিধার!
---------------------------------------------------


০৩-১২-২০২৫

অবলা কুকুরের কান্না

 অবলা কুকুরের কান্না

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************
হে বিশ্ব! হে মানবতা!
তোমরা কি শুনতে পাচ্ছো
অবলা কুকুরের রক্তমাখা কান্নার রোল,
যেন আকাশ নিজেও কাঁদছে তার সঙ্গে?

আজ সে একা—
অটল, কাঁদছে নিঃশব্দে,
তার আটটি সন্তানের প্রাণ
মানুষের হিংস্র অগ্রাসনে হারিয়ে গেছে।

হে মানব! দেখো—
কী অপরাধ ছিল তার,
কী অপরাধ ছিল তার নিষ্পাপ সন্তানদের?
সে চিৎকার করছে,
কিন্তু তুমি কি শুনছো?
তোমার কানের বাইরে কি গগণ বিদারী আর্তনাদ পৌঁছাবে?

তার বুক ভেঙে গেছে,
তিনশ হাড়ের ভাঙা শব্দে,
মাতৃত্বের রক্তমাখা আকুলতায়।
তার ছোট প্রাণের ছায়া এখন
ভাঙা পথের কোলে লুকিয়ে আছে,
অথচ সে খুঁজছে, হাহাকার করছে,
একটি আশ্রয়ের জন্য,
যেখানে তার সন্তানরা ফিরে আসতে পারে।

হে মানবতা!
আজ সে বিচার চায়—
তোমার বিচার কি এখনো চুপচাপ থাকবে হে বিচারক?
তুমি কি দেখো তার চোখের জল,
যা জমে জমে নদী হয়ে গেছে তার বুকের ভেতরে?

অবলা মা,
তোমার কান্না আমাদের লজ্জা,
আমাদের চুপচাপের অভিশাপ।
আজ আমরা তোমার সঙ্গে কাঁদি,
আজ আমরা তোমার সন্তান হারানোর যন্ত্রণা অনুভব করি,
আজ আমরা শপথ করি—
যে কোন অস্তিত্বকে আমরা আর অবহেলা করব না।

হে বিশ্ব!
শোনো!
একটি অবলা কুকুরের কান্না,
যা মানবতার আড়াল ভেঙে দেয়।
প্রতিটি লাইন, প্রতিটি রোদ্দুর ভাঙা হাহাকার,
আমাদের চোখে অশ্রু,
আমাদের হৃদয়ে ছেদ।
--------------------------------------------------------------


০৩-১২-২০২৫

বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু

 বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

মুড়ইর মাটিতে বাজল বিদ্রোহের সুর,
চোখে আগুন, হৃদয়ে স্বাধীনতার পুর।
মা-বাবার শূন্যতা, শিশুসুলভ ব্যথা,
পা ছুটে চলে স্বাধীনতার পথে দিগন্ত দেখা!

যুগান্তরের পত্রিকা, বিপ্লবী কণ্ঠের গর্জন,
কিশোর ক্ষুদিরাম শুনল—“এ হলো দেশপ্রেমের অর্জন।”
রাতের অন্ধকারে অস্ত্রের ছন্দ,
রক্তে লেখা প্রতিশোধের বেণু, জ্বলে চরণে বেণু!

মুজাফফরপুরের রাস্তায় বোমার ঝড়,
প্রক্সি মৃত্যু এলেও ক্ষুদিরাম অচল নয়।
কিংসফোর্ডের পিছু নিল প্রাণ দিয়ে,
তবু স্বাধীনতার অগ্নি দাহ করল অন্তরে ঝড়ে!

গ্রেপ্তার হলো সে, শুধু আঠারো বসর,
কিন্তু সাহসের ঢেউয়ে ভেসে যায় নীরব নবর।
জেলখানার কক্ষে গান, প্রার্থনা ভোরবেলায়,
বন্দেমাতরম! বলে জানালো—মরণ নয়, অনন্ত সঙ্গম বেলায়।

ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে, হাসিমুখে বলল,
“দেশের ডাক শুনে যেতেই হবে, মৃত্যু নয় বন্দন।”
দ্রুত ধূলিকণার মতো উড়ে গেল সে মুক্তির আকাশে,
সাহসের চিহ্ন হয়ে রইল তরুণ হৃদয়ে বিস্ফোরণে!

আজও মুড়ই, নদীয়া, কলকাতা পথ,
শ্রদ্ধায় মুখরিত, জাগে প্রতিটি শক্তি-স্রোত।
ক্ষুদিরাম বসু—বিপ্লবের তরঙ্গ, অমর বীর,
তার নাম উচ্চারিত হয়, তাণ্ডবী ছন্দে, বিদ্রোহী পীর!
------------------------------------


০৩-১২-২০২৫

পশু-ঘাতক নারী

 পশু-ঘাতক নারী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
হে মানব! আজ আকাশ কেন এত কালো?
কেন বাতাস কাঁপে? কেন নদীর ঢেউ থরথর?
কার আর্তনাদ ছুঁয়ে গেল আরশে-মুয়াল্লা পর্যন্ত?
কেন ফেরেশতারা বিস্ময়ে থেমে গেল মুহূর্তভর?

কারণ,—
এক নারী, এক প্রতীক—অন্ধকারে গড়া,
হৃদয়হীন ছায়া,
মমতাহীন বরফের বাতাস
যে নিজের হাতে ডুবিয়ে দিল
আটটি কচি প্রাণ—
আটটি সদ্যোজাত, কাঁপতে থাকা আল্লাহর রহমতের ফুল।

হে মানব!
এ দৃশ্য শুধু নদীতে ডোবা নয়—
এ যেন ডোবে দয়া, ডোবে আদর,
ডুবে যায় মানবতার আলো।

একটি অবলা মায়ের বুক ছিঁড়ে গিয়েছে—
যে কুকুর-জননী দাঁড়িয়ে কাঁদছিল কেবল,
তার চোখে ছিল—
“হে আল্লাহ, আমার সন্তানের কী দোষ ছিল?”
তার কান্না চলে যায় আসমান ভেদ করে—
আরশ কেঁপে ওঠে সন্তানের এমন নিঃশব্দ শোকে।

হে নারী-প্রতীক!
তুমি কি জানো মাতৃত্ব কী?
মায়ের বুকের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক কী?
যদি তোমার শিশুটিকে কেউ
বস্তায় ভরে ঠাণ্ডা মৃত্যুজলে ছুড়ে ফেলত—
তবে কি তুমি এই আকাশটাকে ক্ষমা করতে?
এই পৃথিবীকে মাফ করতে?
নিজেকে মানুষ বলতে পারতে?

কোরআন তো বলে—
“যে একটি প্রাণ হত্যা করে,
সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করে।”
তাহলে বলো—
তোমার অন্তর কত পাথর হলে
তুমি পারলে আল্লাহর সৃষ্টি—
নবজাত ক্ষুদ্রতম প্রাণের নরম শ্বাস
এভাবে নিভিয়ে দিতে?

রাসূল (সা.)-এর বাণী আজ
রক্তের মতো হৃদয়ে জ্বলে—
“রহমত করো জীবে, তোমার প্রতি রহমত বর্ষিত হবে।”
কিন্তু তুমি তো রহমতের পথ ছাড়লে,
বেছে নিলে কঠিন, অন্ধকার মৃত্যুর গলি।

হে মানব!
দেখো এখন নদীর জলে ভাসছে যে নীরবতা—
ওই নীরবতার প্রতিটি ফোঁটায় লেখা আছে—
“আমাদের বিচার চাই, হে রব!”
আটটি অপলক চোখের আর্জি
আজ ঘুরে বেড়ায় দুনিয়া-আখেরাতের সীমানায়।

মানবতা আজ কাঁদছে,
দয়া আজ নিঃশ্বাস ফেলছে কষ্টে,
ইসলাম আজ তলোয়ার তুলে বলছে—
“অন্যায়কে রুখো!
কারণ দয়া ছাড়া মানুষ—মানুষ নয়,
দয়া ছাড়া হৃদয়—হৃদয় নয়!”

হে মানব!
ফিরে এসো আল্লাহর নির্দেশে—
জীবে দয়া করো,
প্রাণকে ভালোবাসো,
আর নিষ্ঠুরতার আগুন নিভিয়ে দাও
তোমার অন্তরের গভীরতম অন্ধকারে।
-----------------------------------------------------------------


০৩-১২-২০২৫

Student

  কবি মোহাম্মদ আমিনুল এহছান মোল্লা। রাওনাট , কাপাসিয়া , গাজীপুর। ************************************** জাগো রে ছাত্র ! জাগো রে...