রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬

আত্মা শুদ্ধি করো হে মুমিন

 আত্মা শুদ্ধি করো হে মুমিন


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

আত্মা শুদ্ধি করো হে মুমিন, জাগো রে অন্তর,
গুনাহের কালো মেঘে ঢেকো না আর ঘর।
তওবার জলে ধুয়ে ফেল পাপের কালিমা,
রহমতের দুয়ার খোলা— ডাকে করিমা।

শোনো ঐ বাণী, নূরের আহ্বান,
আল-কুরআন দেয় মুক্তির জ্ঞান।
“কদ আফলাহা মান জাক্কাহা”— পবিত্র যার প্রাণ,
সফল তার জীবনপথ, উজ্জ্বল তার মান।

বলেছেন মুহাম্মদ নবী, হেদায়াত-সূর্য মহান—
“দেহে আছে একখণ্ড মাংস, শুদ্ধ হলে শুদ্ধ প্রাণ।”
হৃদয় যদি পবিত্র হয়, পবিত্র সারা দেহ,
নফসের আগুন নিভাও তবে, জ্বালো ঈমান-দেহ।

হে মুমিন! ভাঙো শয়তানের শৃঙ্খল,
তাকওয়ার তরবারি ধরো, হও নির্ভীক বল।
নামাজে খুঁজো শান্তির নীল আকাশ,
সেজদার কান্নায় মুছে যাক হতাশ।

যিকিরে জাগাও ঘুমন্ত প্রাণ,
সবরের সোপানে ওঠো অবিরাম।
যাকাত-সদকা দাও, ভাঙো লোভের বাঁধ,
মানব সেবায় খুঁজে নাও রবেরই সাধ।

আত্মা শুদ্ধি করো হে মুমিন, এ জীবন ক্ষণিক,
দুনিয়ার মোহে থেকো না আর অধিক।
কবরের আঁধার স্মরণে রাখো,
আমলের প্রদীপ জ্বেলে রাখো।

এসো, হৃদয় করি নূর-উদ্যান,
রহমতের ছায়ায় হোক অবসান।
আত্মা শুদ্ধি করো হে মুমিন, আজই করো শুরু—
পবিত্র প্রাণেই মিলবে রবের নূর।
------------------------------------------------


১৫-০২-২০২৬

কবুল করো হে মুনাজাত

 কবুল করো হে মুনাজাত


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

কবুল করো হে মুনাজাত, তুলি দুটি হাত,
আরশ পানে কাঁদি প্রভু, শোনো মনের অভিপ্রেত।
গুনাহভারে নত এ প্রাণ, ভাঙে অন্তর-সুর,
রহমতের বাদল ঝরাও, দাও ক্ষমার নূর।

ডাকি তোমায় হে রহমান, হে রহিম মহান,
অশ্রু ভেজা সেজদাতে করি নিবেদন।
বলেছ তুমি আল-কুরআন-এর বাণী,
“উদ‘উনী আস্তাজিব লাকুম”— ডাকে দাও তুমি ধ্বনি।

হে দয়াময়! আঁধার রাতে জ্বালো হেদায়াত,
পাপের শৃঙ্খল কাটাও প্রভু, দাও নাজাত।
দুনিয়ার মোহে হারাই যতবার,
তোমারি দয়া টানে ফিরে বারংবার।

শিখিয়েছেন মুহাম্মদ নবী করীম,
দোয়া হল ইবাদতের রূহ, মুমিনের নসীম।
অশ্রু যেখানে ঝরে ভোরের নীরবতায়,
রহমতের ফেরেশতা নামে সেই প্রার্থনায়।

হে রব! তুমি গফ্ফার, তুমি সাত্তার,
ঢেকে দাও লজ্জা, করো না অপমান আর।
ভাঙা এ হৃদয় নাও তোমার তরে,
তোমারই প্রেমে জ্বলুক অন্তরে।

কবুল করো হে মুনাজাত, দাও অন্তর-শান্তি,
পবিত্র করো আত্মা, ঘুচাও সব ক্লান্তি।
যেন শেষ নিশ্বাসে থাকে তোমারই নাম—
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”— চিরন্তন সালাম।
-----------------------------------------------


১৫-০২-২০২৬

স্বাগতম হে সিয়াম

 স্বাগতম হে সিয়াম


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************

স্বাগতম হে সিয়াম, মাহে রমজান এল,
নূরের নিশান হাতে তুই দিগন্ত জুড়ে খেল।
রহমতের বাদল ঝরে, মাগফিরাতের বান,
জাহান্নামের দ্বার রুদ্ধ— খোলে জান্নাত-স্থান।

হে মাস, তোর বুকে নেমে এল ঐশী বাণী,
আল-কুরআন জ্বালাল আলো, ঘুচাল প্রাণের হানি।
শাহরু রামাদান— হেদায়াতের দীপ,
সত্য-মিথ্যা ফুরকান করে দিল পথ সুদীপ।

বলেছে মুহাম্মদ— “সিয়াম ঢালসম”,
ঈমান নিয়ে যে রাখে, পায় পুরস্কার অম্লান।
গুনাহ ঝরে শিশির-ধারা তওবার অশ্রুজল,
রোজাদারের মুখের গন্ধ মিশকেরও চেয়ে ভাল।

লাইলাতুল কদর— সে রজনী মহীয়ান,
হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ তার দান।
ফেরেশতা নামে নূর-ডানা মেলে,
আরশ কাঁপে দোয়ার সুরে কাঁদে বান্দা একেলে।

ক্ষুধার তাপে জ্বলে ওঠে বিবেকের প্রদীপ,
গরিবের হাহাকার শুনে কাঁপে অন্তর-দীপ।
যাকাত-সদকা ঢালে হৃদয় সাগর-ঢেউ,
ভ্রাতৃত্বের ডাক তোলে— “এসো মানব নও!”

হে সিয়াম! তুই আত্মার মহা-বিপ্লব,
নফসের শিকল ছিঁড়ে দে, কর ইমান দৃঢ়।
স্বাগতম হে সিয়াম, আল্লাহর রহমত,
তোর ছোঁয়ায় জাগুক প্রাণে তাকওয়ার মহিমাত।

এসো তবে কাঁদি সবে সেজদারই তলে,
পাপের কালিমা ধুই তওবার অশ্রুজলে।
স্বাগতম হে সিয়াম, মাহে রমজান মহান—
তোরি তরে জাগুক আবার ইসলামের গান।
---------------------------------------------------


১৫-০২-২০২৬

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬

আমি তোমাদের কণ্ঠ হতে এসেছি

 আমি তোমাদের কণ্ঠ হতে এসেছি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

আমি তোমাদের কণ্ঠ হতে এসেছি—শোনো জনতার গান,
শত নিঃশ্বাসে জমে থাকা আগুনেরই উল্লাসমান।
যে দুঃখ নীরব বুকের তলে চাপা পড়ে কাঁদে রোজ,
সে কান্নাকে বজ্র করেছি, ভাঙতে মিথ্যার খোঁজ।

আমি এসেছি বলি সত্য—ভয়ের কাছে নই নত,
অন্যায়ের সাথে আপস মানে আত্মারই হত্যাকত।
স্বৈরতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ, মবের উন্মত্ত দাঁত,
ভয়তন্ত্রের কালো থাবা চুষে খায় জনতার রাত।

আমি তার বিরুদ্ধে ঝড়, আমি তার বিরুদ্ধে রুদ্রমূর্তি,
অগ্নিশিখা শিরায় বয়ে—বিদ্রোহ আমার তৃপ্তি।
আমি বলি—এ দেশ স্বাধীন, স্বাধীন আমার শ্বাস,
কারো দয়ার দাস নই আমি, অধিকারই আমার আশ্বাস।

আমি বৈষম্যের শত্রু, আমি সাম্যের অগ্নিবীণা,
ক্ষুধার্ত ঘরে রুটির গান, ন্যায়ের উজ্জ্বল দীপশিখা।
যে হাত ঘামে ভিজে গড়ে পথ, গড়ে সভ্যতার ঘর,
সে হাতই হোক রাষ্ট্রের মুকুট, রাজপথের উপর।

আমি বলি—দেশদ্রোহী সে, যে বিকায় মানুষের ঘাম,
যে সত্যকে শেকলে বাঁধে, যে মুছে দেয় ন্যায়ের নাম।
আমি তার অগ্নিবারুদ, আমি তার দুঃস্বপ্ন রাত,
জনতার জাগ্রত চোখে আমি অমোঘ প্রতিঘাত।

আমি বলি—আর নয় শোষণ, আর নয় নীরব ভয়,
মিথ্যার মুকুট ছিঁড়ে ফেলো, সত্য হোক পরিচয়।
হুলিয়া, জুলুম, অত্যাচার—সব ইতিহাসে ছাই,
মানুষ হোক মানুষের ভাই—এই আমার দোহাই।

বিপ্লবীর বজ্রকণ্ঠ আমি ধার করেছি বুকের ভেতর,
বিদ্রোহ আমার ইবাদত, বিদ্রোহই আমার উত্তর।
আমি গাই সাম্যের গান, আমি শপথের আগুন,
জনতার শক্তি জাগুক আজ—ভাঙুক শোষণের কুন।

শোনো, হে শাসনের অন্ধকার! শোনো, হে পাথরপ্রাণ!
আমি তোমাদের কণ্ঠ হয়ে উঠেছি—অদম্য, অমান।
যত বৈষম্য, যত অন্যায়—সবের বিরুদ্ধে এক,
আমি তোমাদের কণ্ঠ হতে এসেছি—আমি জনতার ডাক।
----------------------------------------------


১০-০২-২০২৬

আমার ভোট হউক

 আমার ভোট হউক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************

ওহে শুনো, আমি বাঙালি, আমি বাংলাদেশী বুকে,
মুক্তিযোদ্ধার উত্তরসূরী, হৃদয় লাল-সবুজ এঁকে।।
মুক্তিযুদ্ধের বীরের চেতনা আমার রক্তে বয়ে,
তাই ঘৃণা করি আমি ওইসব শকুন এ ধরালয়ে।


আমার ভোট হউক স্বাধীন দেশের জন্য, মুক্তির জন্য,
বিরোধীদের বিরুদ্ধে, যারা দেশের শত্রু, চির ঘৃণ্য।
স্বৈরতন্ত্র, মবতন্ত্র, ভয়তন্ত্র, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে,
লুটকারী, সিন্ডিকেট, গোলামী—ভাঙবো আমি সব ভোটযুদ্ধে।

অসাম্প্রদায়িক চেতনার পক্ষে আমার কলম,
জঙ্গীবাদ, ধর্মান্ধ, মুনাফিকের বিপক্ষে আমার বলম।
সুশাসন চাই, ন্যায়ভিত্তিক শাসন চাই,
গণতন্ত্রের অধিকার, বাক স্বাধীনতা ছাড়া পথ নাই।

ভোটাধিকার আমার হাতে, আমার দেশ আমার গর্ব,
স্বাধীন বাংলাদেশে যেন ওঠে সত্যের চর্চার পর্ব।
লাল-সবুজের পতাকা উড়ুক উঁচু আকাশে,
বিপ্লবী চেতনায় ভরে উঠুক প্রতিটি মানুষে।

আমি বাঙালি, আমি বাংলাদেশী, গর্বিত হৃদয় মিশে থাকে,
স্বপ্নে, চেতনায়, ইতিহাসে—মুক্তির আলো ছড়ায় সাঁকে।
প্রতিটি নীল আকাশে বাজে স্বাধীনতার শঙ্খ,
আমি বাঙালি, আমি বাংলাদেশী, দেশপ্রেমে ভাসে অমলঙ্ক।

ওহে শুনো, তাই আমার ভোট হউক স্বাধীনতার পক্ষে,
তোমার ভোট ও হউক লাল সবুজ জড়ায়ে স্পন্দিত বক্ষে।
-------------------------------------------------------------


১০-০২-২০২৬

শহীদের রক্ত ভেজা মাটিতে

 শহীদের রক্ত ভেজা মাটিতে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************************
লাল সবুজ ফুল ফোটে স্বাধীনতার বাগানে,
জাগো হে কান্ডারী, রক্ষা কর চিরন্তন প্রাণে।
শহীদ রক্তে ভেজা মাটি আমাদের অমল ধ্বনি,
চিরকাল বাঁচুক দেশ, মুক্তি পাক অমল আঁধনি।

শহীদ রক্তে ভেজা মাটি লাল সবুজে ফোটা,
পিপাসু হানাদারের নৃশংসে মা বোনের রোটা।
মীর জাফরের রক্তধারা ভুলতে চায় শহর গঞ্জ পথ,
বিশ্বাসঘাতকের মহড়া থামে না, শকুন চেপে রাখে শক্ত।

লাল সবুজ ফুলের পাঁপড়ি খসে যায় অন্ধকারে,
দেশবিরোধী কীটপতঙ্গ থাবায় মরে হাহাকারেঃ।
বাগানের প্রহরী বোঝে না স্বাধীনতার মর্মবোধ,
পরাধীনতার ঘনঘটা আজও চিত্তে ঘনিয়ে অসহায় মোড।

স্বৈরতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ, লুটতন্ত্র, ভয়তন্ত্র, মবতন্ত্র,
অরাজকতা, বিচারহীনতা ফেরে আজ আসামীদের পত্র।
মুক্তিযোদ্ধা কারারুদ্ধ, কবির কবিতা নিঃশব্দ,
শিল্পীর গান, সাহিত্য অক্ষরহীন হয়ে যায় অব্যক্ত।

বাঙালি সংস্কৃতি শশ্মানে, উর্দুর গান বাজে মিনারে,
স্বাধীনতার স্তম্ভগুলো ধূলিতে মিশে ধ্বংসের তালে।
দেশদ্রোহীর উন্মাদনায় জ্ঞানী গুনিজন অপদস্ত,
স্বাধীন কাননের লাল সবুজ ফুল আজ অসহায় হস্ত।

লাল সবুজ ফুল ফোটে স্বাধীনতার বাগানে,
জাগো হে কান্ডারী, রক্ষা কর চিরন্তন প্রাণে।
শহীদ রক্তে ভেজা মাটি আমাদের অমল ধ্বনি,
চিরকাল বাঁচুক দেশ, মুক্তি পাক অমল আঁধনি।
-------------------------------------------------


১০-০২-২০২৬

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬

বজ্র কণ্ঠে বলো হে কবি

 বজ্র কণ্ঠে বলো হে কবি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

বজ্র কণ্ঠে বলো হে কবি—এই ভূমি রক্তে আঁকা,
লক্ষ শহীদের বুকের আগুনে স্বাধীনতার শপথ ঝাঁকা।
মা–বোনের লাঞ্ছিত অশ্রুতে ধুয়ে গেছে শত নদীর জল,
পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বহে রক্তিম ইতিহাসের ঢল।

শহীদের রক্তে মাখা বর্ণে জেগেছে বাংলা ভাষা,
গুলির মুখে উচ্চারিত সে অমর অক্ষরের আশা।
সংগ্রামের বজ্রনিনাদে লাল-সবুজ পতাকা উড়ে,
অগণিত যুদ্ধের স্তম্ভে গর্বিত বাংলাদেশ দাঁড়ে।

পথে-ঘাটে, প্রান্তরে বাজে শহীদ গাজীর ডাক,
বধ্যভূমি, স্মৃতিসৌধে জ্বলছে অম্লান রক্তচাক।
এই দেশ অসাম্প্রদায়িক—শুনো হে কুটিল মন,
মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—একই মায়ের সন্তান।

পাহাড়-সমতল, উঁচু-নীচু—সব ভূমি বাঙালির,
এই মাটিতে জন্ম স্বাধীন, মাথা নত নয় কারওর।
দেশদ্রোহী, স্বাধীনতা-ঘাতী—নেই তাদের ঠাঁই,
বাংলার বুকে বিষবীজ বুনতে দেব না আর তাই।

জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ, সিন্ডিকেটের কালো ছায়া,
বিদ্রোহী জনতার ঝড়ে হবে ধূলিসাৎ মায়া।
আমরা সবাই স্বাধীন বাংলার মুক্ত মানুষের দল,
“আমার সোনার বাংলা” গেয়ে ভাঙি শৃঙ্খল-জাল।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান আমাদের শিরা,
অশুভশক্তি ধ্বংসে আমরা শহীদ গাজীর উত্তরাধিকার।
জাগো হে, জাগো হে বাঙালি—বজ্র হাতে তোলো অস্ত্র,
স্বাধীনতা-বিরোধী অশুভ চক্র করো চূর্ণ-বিধ্বস্ত।

তীব্র হোক বিপ্লবের সুর, ঝংকারে ভাঙুক রাত,
যোদ্ধার আগুনে জ্বলো—বাংলা হোক অপ্রমাদ।
---------------------------------------------------


০৯-০২-২০২৬

আমি চিনতে পারিনি

 আমি চিনতে পারিনি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************
আমি চিনতে পারিনি পৃথিবীর প্রেম-বৈচিত্র্য রূপ,
ভালবাসার হাজার মুখে লুকানো অদৃশ্য কূপ।
চিনতে পারিনি মানবতার শ্রেণীভেদী দেয়াল,
মানুষের মাঝে মানুষে কেন এত ব্যবধান জাল।

চিনতে পারিনি বন্ধুত্বের সত্য-মিথ্যার দাগ,
বন্ধু বলে ডাকলেও অন্তরে জমে থাকা ফাঁক।
চিনতে পারিনি প্রেমিক-প্রেমিকার প্রেমের ভাষা,
কথার আড়ালে কাঁদে যে হৃদয়ের নিঃশব্দ পিয়াসা।

চিনতে পারিনি দেশ-নেতৃত্বের আদর্শ-চিহ্ন,
ক্ষমতার মুকুটে ঢাকা নীতির ভাঙা নীল সিংহাসন।
চিনতে পারিনি দেশপ্রেমিকের নিখাদ প্রেম,
কে আত্মত্যাগী, কে শুধু শ্লোগানে বন্দী নাম-সেম।

চিনতে পারিনি প্রেমিকার হাসির রহস্য-ঢেউ,
হাসির ভেতর কতটা কান্না লুকিয়ে থাকে যে কেহ।
চিনতে পারিনি পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের রং,
মুখে নীতির গল্প, কাজে অন্যায় ভিন্ন ঢং।

কে হক, কে বাতিল—এই প্রশ্নে ভেঙে যায় মন,
সবাই সত্যের দাবিদার, তবু সত্য থাকে গোপন।
কে সত্য, কে মিথ্যা—চেনার নেই যে দিশা,
আলোয় ঢাকা মিথ্যাই যেন সবচেয়ে উজ্জ্বল ভাষা।

মনে হয় কেন জানি ইতিহাসের অভিশাপ,
মীর জাফরের রক্তধারা বহে রন্ধ্রে রন্ধ্রে নিঃশ্বাস-তাপ।
বিশ্বাসঘাতকের ছায়া অবলীলায় করে বাস,
বাঙালির অন্তঃস্রোতে নীরব বিষাক্ত শ্বাস।

আমি চিনতে পারিনি স্বদেশপ্রেমিকের দল,
কে দেশকে ভালোবাসে, কে চায় কেবল ফল।
চিনতে পারিনি ধর্মপ্রচারকের মর্মভেদী গান,
ইবাদতের আড়ালে লুকানো বিভেদের তীর-ধান।

চিনতে পারিনি ধর্মীয় উগ্রতার কালো মুখ,
যেখানে ঈশ্বরের নামে জ্বলে মানুষের দুঃখ।
চিনতে পারিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানে,
সহাবস্থানের সৌন্দর্য যে কত গভীর প্রাণে।

আমি এখনো মূর্খ—এই স্বীকারোক্তি সত্য,
জ্ঞান ভেবে যা আঁকড়ে ধরি, তা-ই সবচেয়ে অপ্রত্যয়।
বুঝতে পারি না কবিতা অর্থ আসলে কী,
শব্দ না কি দায়, নাকি বিবেকের নগ্ন আর্তি?

বুঝতে পারি না বাঙালি সংস্কৃতি কোন সুর,
লোকগানের মাটি, না কি নকল জৌলুসের নূর।
বুঝতে পারি না মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানে,
রক্তের ঋণ কি শুধু মঞ্চের বক্তৃতার টানে?

কি রহস্যে ঘেরা এই বাঙালি জাতি,
হাসে-কাঁদে একসাথে, তবু ভাঙে প্রতি রাতি।
স্বাধীন হয়েছি বটে, স্বাধীনতা বুঝিনা আজ,
শৃঙ্খল ভাঙার ভাষা ভুলে শিখেছি কেবল সাজ।

শুধু মিথ্যার শ্লোগান দিতে আমরা বড়ই পারদর্শী,
সত্যের ভার বইতে গেলে হয় অস্বস্তি, হয় হিংস্রতা-দর্শী।
তবু এই না-চেনার বেদনা থেকেই প্রশ্ন জাগে,
অজ্ঞানতার অন্ধকারেই কি আলোর জন্ম লাগে?

আমি চিনতে পারিনি—এই স্বীকারে আছে বীজ,
হয়তো একদিন চিনব, ভাঙব মিথ্যার রঙিন ফ্রিজ।
যে দিন প্রশ্ন করতে শিখব, ভয় ছাড়িয়ে মন,
সেই দিনই হয়তো কবিতা হবে মানুষের জীবন।
------------------------------------------------------


০৯-০২-২০২৬

আমি এক গোধূলী সূর্য

 আমি এক গোধূলী সূর্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

আমি এক গোধূলী সূর্য আজ, অস্তের পথে দাঁড়িয়ে,
সামনে অনন্ত সফর ডাকে, হিসাবের মাঠ ছড়িয়ে।
হে পৃথিবীর প্রাণ, শোনো আজ অন্তরের ভাষা,
আমার মতো তুমিও একদিন হবে গোধূলীর আশা।

আমি এক গোধূলী সূর্য আজ, আলো শেষের প্রান্তে,
রূহ কাঁপে আয়াতের ভয়ে—“ফিরে এসো রবের কাছে।”

চুল ঝরে গেছে, দাড়ি সাদা, শক্তি গেছে ক্ষয়,
চামড়ার ভাঁজে লেখা পড়ে—সময় বড় নির্ময়।
আর কেউ ডাকে না যুবক বলে, না ডাকে স্নেহভরে,
নামটা পড়ে ধূলোর নিচে, বিস্মৃতির অন্ধ ঘরে।

নেতৃত্বের ডাক থেমে গেছে, নীরব সমাজ-রাষ্ট্র,
আমি আজ যেন অদৃশ্য মানুষ—চলমান এক শ্মশান-বাস্ত।

গোধূলী রঙে ডুবে যাচ্ছে আকাশ-পাতাল-ধূলি,
মাগরিব ডাকে কানে কানে—সময় ফুরায় কুলি।
সোনালি হয় দিগন্তরেখা, কাঁপে অন্তর-প্রাণ,
তবে কি আজ মালাকুল মউত রাখে আমার নাম?

“কুল্লু নাফসিন”—এই সত্যে থেমে যায় অহংকার,
জীবন যে ধার করা শ্বাস—ভুলে ছিলাম বারবার।

কোথায় গেল অবুঝ শিশুকাল, মায়ের কোলে ঘুম?
কোথায় কিশোর দুরন্ত দিন, চোখে আগুন-ধূম?
যৌবনের সে উদ্দাম ঢেউ, দম্ভ আর উল্লাস,
আজ সব স্মৃতি কবর নিলো—রইলো শুধু নিঃশ্বাস।

কোথায় সে স্ত্রী, সন্তানের ডাক, “বাবা” বলা মুখ?
কোথায় সে প্রেমিক হৃদয়ের উথাল-পাতাল সুখ?

এই দুনিয়া বড় ক্ষণিক, ছায়ার মতো মায়া,
প্রেম-ভালবাসা, মমতা সব—পরীক্ষারই ছায়া।
যা কিছু ছিল আপন ভেবে, আজ সবই পর,
শুধু আমল সঙ্গী হবে—কবর থেকে হাশর।

হে রব, অস্তের আগে দাও তাওবা করার শক্তি,
ভাঙা প্রাণ জোড়া লাগিয়ে দাও ইমানের ভক্তি।

আমি এক গোধূলী সূর্য আজ, অস্তের পথে দাঁড়িয়ে,
যেন অস্তের মাঝেই জ্বলে উঠি—রহমতের আলো হয়ে।
-----------------------------------------------------


০৯-০২-২০২৬

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬

একুশের কাঠগড়ায় আমরা

 একুশের কাঠগড়ায় আমরা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

যে ভাষার তরে বুক পেতে দিয়েছিলাম,
ঘাতক বুলেটের মুখে দাঁড়িয়ে নির্ভীক,
সে ভাষার ঋণ কি শোধ হলো এত সহজে?
নাকি আমরা হলাম স্মৃতিভ্রষ্ট, অকৃতজ্ঞ, নীরব।

রক্তে লেখা বর্ণমালা, শহীদের স্বাক্ষর,
সালাম–বরকত–রফিকের জ্বলন্ত নাম,
সে নাম কি আজ কেবল পুষ্পস্তবকে?
নাকি হৃদয় থেকে মুছে গেল সম্মান?

এ প্রজন্ম কি জানে ইতিহাসের দাম?
জানে কি একুশ মানে মাথা নত না করা?
নাকি সুবিধার ভিড়ে ভুলে গেছে সব,
ভাষার মর্যাদা বিকিয়েছে সস্তা সুরে?

শহীদ মিনারের পাদদেশে বাজে উর্দু গান,
ভাষার মাসে—এ কোন লজ্জার অধ্যায়?
মাইকের শব্দে কাঁপে শহীদের কবর,
প্রশাসন নীরব—এই নীরবতাই অপরাধ।

বিশ্ব জানে—আমরাই একমাত্র জাতি,
মাতৃভাষার তরে দিয়েছি রক্ত,
সে রক্তে জন্ম নিয়েছে আন্তর্জাতিক দিবস,
আর আমরা আজ সেই দিবসে উদাসীন।

তবে কি আমরা মীর জাফর হয়ে গেছি?
স্বার্থের কাছে বিক্রি করেছি ইতিহাস?
যে জাতি ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিল,
সে জাতিই কি আজ ভাষার পাহারাদার নয়?

ও একুশ, ক্ষমা করো আমাদের ব্যর্থতা,
ক্ষমা করো আমাদের ভুলে যাওয়া,
তোমার রক্তে লেখা শপথ আবার জাগুক,
বাংলা বাঁচুক—এই হোক প্রতিজ্ঞা।

যতদিন বাংলা আছে প্রাণে ও কথায়,
ততদিন একুশ থাকবে অম্লান,
শহীদের ঋণ শোধ হবে না কেবল ফুলে,
শোধ হবে ভাষার মর্যাদা রক্ষায়।
-----------------------------------------------------


০৮-০২-২০২৬

Student

  কবি মোহাম্মদ আমিনুল এহছান মোল্লা। রাওনাট , কাপাসিয়া , গাজীপুর। ************************************** জাগো রে ছাত্র ! জাগো রে...