মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ০২, ২০২৫

স্বাধীনতার মর্যাদা

 স্বাধীনতার মর্যাদা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************

রক্তঝরা মাটির বুক কাঁপে,
শহীদদের চিৎকার—“আমরা বাঁচব চিরকাল, আমরা বাঁচব মুক্তি-পথে।”
মাটি বলছে—“তুমি আমার, আমি তোমার,
এই স্বাধীনতা রক্ষা করো, জীবন দিয়ে দাও!”

নাগরিকরা উঠে দাঁড়ায়, অগ্নির দীপ চোখে,
হৃদয়ে অঙ্গীকার—অন্যায়কে ভেঙে ফেলব,
দেশের প্রতি আনুগত্যে শপথ করি,
সত্যের পথে জীবন উৎসর্গ করব।

দেশদ্রোহীর ছায়া দূরে হোক,
যারা বিক্রি করেছে মাটির মর্যাদা,
ধ্বংসের পথে তারা হারাবে,
শহীদদের স্মৃতি রাখব বুকে, তাদের চিরন্তন আহবান শোনব।

স্বাধীনতা মানে কেবল অধিকার নয়,
এটি সাহস, সততা, ন্যায়ের লড়াই,
দায়িত্ব, ত্যাগ, অদম্য ইচ্ছাশক্তি।
যুদ্ধের স্মৃতি বলে—উঠো! দাঁড়াও!
প্রতিটি পাথর, প্রতিটি নদী,
আমাদের অঙ্গীকারের সাক্ষী।

চোখে অগ্নি, হৃদয়ে আগুন,
নাগরিকরা উচ্চারণ করে—
“এই মাটি, এই প্রাণ,
শহীদদের জন্য, সত্যের জন্য,
আমরা রক্ষা করব স্বাধীনতার মর্যাদা!”

হে জাতি! হে বীর সন্তান!
শপথ করো, লড়ো, রক্ষা করো—
মাটির মর্যাদা, শহীদদের ত্যাগ,
এই স্বাধীনতার সোনালী আলো,
আমাদের অহংকার, আমাদের প্রতিজ্ঞা!
---------------------------------------------------


০২-১২-২০২৫

পন্ডশ্রম

 পন্ডশ্রম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
--------------------------------------------------
পৃথিবীর বুকে—
কে আছে কুকুরের লেজকে সোজা করতে?
দগ্ধ দিন-রাত্রি, ঘাম ঝরিয়ে,
কিন্তু শেষ পর্যন্ত—শুধুই পন্ডশ্রম!

ওহ, মূর্খের চোখে
এটাই তাদের মাপকাঠি।
কিন্তু তুমি,
রক্তে স্বাধীনতাভরা জাতি,
মনে রেখো—
পিছু লেগেছে সেই পুরানো শকুনেরা!

রাজাকার, আলবদর, আল সমাসের চক্র,
দেশদ্রোহী, স্বাধীনতা বিরোধী,
আজও ঘুরে বেড়ায়
স্বাধীনতার রক্তের সন্ধানে।
তাদের লেজসোজা প্রচেষ্টা—
শুধুই পন্ডশ্রম! পন্ডশ্রম! পন্ডশ্রম!

তোমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হও,
স্বদেশ চেতনায়,
মুক্তিযুদ্ধের রক্তের আগুনে,
তাদের শ্লোগান ধ্বংস হবে
নিছক ব্যর্থতার ধোঁয়ায়।

পন্ডশ্রম!
শুধু একটি শব্দ নয়,
এটি বিদ্রোহের তীর,
এটি সতর্কবার্তা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সামনে,
দেশদ্রোহী কার্যক্রম পেছনে,
ইতিহাস চিৎকার করবে—
“এগুলো কেবল পন্ডশ্রম!”

রক্তের স্বাধীনতা তোমার হাতে,
শকুনের লেজ—
সোজা করা অসম্ভব।
অর্থহীন, ব্যর্থ,
অসহায়—
পন্ডশ্রম! পন্ডশ্রম! পন্ডশ্রম!

উদ্দাম আগুনে,
বিদ্রোহী তর্জনী মেলে,
পৃথিবী জানুক—
স্বাধীনতার চেতনাকে কেউ দমন করতে পারবে না।
-----------------------------------------------------


০২-১২-২০২৫

লাল সবুজের চেতনা

 লাল সবুজের চেতনা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
হে নতুন প্রজন্ম, শোনো—শোনো আজ,
লাল-সবুজের চেতনা জ্বলে আগুন মাজ।
রক্তে লেখা সোনার বাংলা, হৃদয়ে বাজে গান,
শহীদদের ত্যাগে জ্বলে চির অমল প্রান।

সবুজের বুক জ্বলে লাল পাঞ্জাবির আলো,
বাঙালির সংস্কৃতি বাজে হৃদয়ে ঝড়ালো।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, শপথ করো প্রাণে,
মুক্তির অঙ্গীকার অটল থাকুক মানে।

ও হে নতুন প্রজন্ম, জাগো—জাগো! বলো,
লাল-সবুজের পতাকা কখনো নামবে না, জানো।
সত্য ও ন্যায়ের পথে অদম্য হোক পদচারণা,
অন্ধকার যতই ঘন হোক, আলোর দিশা তোমার সাথীানা।

এসো, এসো! হাত মিলাই—মিলাই একত্রে,
স্বাধীনতার পথে অঙ্গীকারে অটল হই একত্রে।
দেশপ্রেমের আগুন জ্বলে অন্তরে উজ্জ্বল,
শহীদদের ত্যাগ স্মরণে হোক সাহসের বাণী মম।

হে নতুন প্রজন্ম, জেগে ওঠো! জেগে ওঠো!
লাল-সবুজের শক্তি, মুক্তির আলো—আমাদের প্রাণ।
সোনার বাংলার গান বাজুক উচ্চে—নতুন দিন,
আশরাফ আলী মোল্লার সুরে শোনাও বিজয়ী সঙ্গিন।
------------------------------------------


০২-১২-২০২৫

বাংলাদেশে অকৃত্রিম বন্ধু

 বাংলাদেশে অকৃত্রিম বন্ধু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
বাংলাদেশের পিপাসিত মাঠে,
যেখানে ধান আর নদীর চোখ ভিজেছে,
সেই মঞ্চে বাজলো গিটার,
জর্জ হ্যারিসনের করুণা,
রবি শঙ্করের সেতার বাঁধনে।

১৯৭১-এর ছায়া ধ্বনিত হলো গান “Bangla Desh”,
বিশ্বের দিকে ছড়িয়ে গেল মুক্তির ডাক,
যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর, শরণার্থী শিবির,
যেখানে সাহায্যের হাত খুঁজছিল প্রতিটি প্রাণ।
তাহা পৌঁছালো তাঁর সুরের তীব্রতার মাধ্যমে।

শুধু শিল্পী নয়, মানবতাবাদী ছিলেন তিনি,
সঙ্গীত হয়ে উঠল মানবিক শক্তি,
যে শক্তি জন্ম দিতে পারে আশা,
যে শক্তি ছুঁতে পারে হৃদয় ও দেশের মাটি।

২৯ নভেম্বর ২০০১, লস এঞ্জেলেসের আকাশে নীরবতা,
কিন্তু বাংলাদেশের হৃদয়ে অমর তাঁর সুর,
আজো বাজে সেই গান,
শরণার্থী ও মুক্তির স্মৃতিতে,
শ্রদ্ধা জানাই অকৃত্রিম বন্ধুকে,
জর্জ হ্যারিসন, বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু।
--------------------------------------------


০২-১২-২০২৫

আদর্শ মানুষের আলো

 আদর্শ মানুষের আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

হাজীবাগের ভোরের হাওয়া যেমন
নীরবতায় বুনে রাখে গ্রামের প্রাণ,
তেমনই তুমি—
ডাঃ সামসুল আলম,
মানুষের চোখের লুকানো অন্ধকারে
জ্বেলে দাও প্রার্থনার দীপশিখা।

তুমি চিকিৎসক—
কিন্তু শুধু দেহের নয়,
অসুস্থ মনে ছুঁয়ে দাও শান্তির ওষুধ,
যেন শিশিরভেজা পাতায় ছড়িয়ে থাকা
অলৌকিক নিরাময়ের রস।

তুমি কাউন্সেলর—
ভাঙা মানুষের বুকের ভিতর
শব্দের হাত রাখো,
যেমন আকাশ
ঝড়ের গাল টেনে বলে—
“শান্ত হও, আমি আছি।”

তুমি কবি—
তোমার বাক্য ভোরের আদরের কুয়াশা,
মাথার উপর ঘুরে বেড়ানো দুঃখকে
রুপান্তর করো সাদা-নীল আলোতে।

তুমি দার্শনিক—
একটি প্রশ্নের ভিতর থেকে তুলে আনো
সমুদ্রের মত গভীর উত্তর,
যেন জোছনার ঢেউ
অন্ধকার রাতকে বুঝিয়ে দেয়—
“অস্তিত্ব মানে আলো খোঁজা।”

তুমি অভিভাবক—
গ্রামের প্রতিটি মানুষের চোখে
তোমায় দেখে ভরসার ছায়া,
যেন শুকনো মাটিতে
হঠাৎ জেগে ওঠা কোমল বর্ষার গান।

তুমি কলমধারী চিন্তাবিদ—
সত্যকে খুঁজে ফিরো শেকড়ের ভিতর,
যেন পুরোনো বটগাছ
ন্যায়ের পাতা ছড়িয়ে
ছায়া দেয় পথহারা মানুষকে।

মানুষ যখন মানুষকে ভুলে যায়,
তুমি তখন স্মরণ করিয়ে দাও—
মানবতা কোনো তত্ত্ব নয়,
এ এক নিঃশব্দ দান,
একটি হাত বাড়িয়ে দেওয়া,
একটি হৃদয়ের দরজা খোলা।

হাজীবাগের আকাশ তোমার নামে
ধীরে ধীরে সন্ধ্যার আভা তোলে—
কারণ তুমি সেই আলো,
যার উষ্ণতায়
মানুষ তার নিজের মানচিত্র ঠিক খুঁজে পায়।
----------------------------------------------


০২-১২-২০২৫

বীরপ্রতীক তারামন বিবি

 বীরপ্রতীক তারামন বিবি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************

ধুলো–ওঠা গ্রাম, নদীর ধারে কাচারীপাড়া,
চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল এক কিশোরী—
কিন্তু বুকের ভেতর আগুন, চোখে বিদ্রোহী ঝড়।
নাম তার তারামন বিবি—
ইতিহাসের পাতায় যার নামের পাশে জ্বলে উঠে বীরপ্রতীকের তলোয়ার।

রাজিবপুরের নিশ্বাসভারী রাত,
শিয়ালের হাহাকার ফুঁড়ে
সে হেঁটে যায় শত্রুশিবিরের পাশ ঘেঁষে—
সাধারণ মেয়ে সেজে,
কিন্তু চোখে গেরিলা গোপন নকশা।

গমের দানা, ভাতের হাঁড়ি, ছাইভরা চুল্লি—
এসবের আড়ালে সে বহন করত আগুনের বার্তা।
স্টেনগানের ট্রিগারে তার ক্ষুদ্র আঙুল ছুঁতেই
চমকে উঠেছিল রাত,
ভয়ে পিছিয়েছিল রাজাকারদের হিংস্র মুখ।

শব্দহীন পদক্ষেপে সে ছিল ছায়া,
তবু তার অস্তিত্ব জ্বলে উঠত বজ্রের মতো—
যখন পাকিস্তানি মিলিটারি আসে খোঁজে,
তখনো হাসতো তারামন!
কারণ দেশ বাঁচানো মানুষ ভয়ে নয়,
বিশ্বাসে বাঁচে।

রাতের আক্রমণে যখন এলএমজি গর্জে ওঠে,
তারামনের হাতে আলো কাঁপত—
মুক্তির অগ্নিশিখা যেন বন্দুকের মুখে নাচত।
গেরিলা দলে তাকে সবাই ডাকত—
“তারামন আপা— আগুনমেয়ে!”

১৯৭১— বিজয়ের ভোরে
সে ফিরে গেল সাধারণ জীবনে,
কিন্তু তার বুক ভরা সাহস
আমাদের স্বাধীনতার স্তম্ভে খোদাই হলো নীরবে।

দীর্ঘদিন হারিয়ে থাকা বীরত্ব
একদিন আবার আলো পেল—
জাতি বলল,
“এ যে আমাদের তারামন— বীরপ্রতীক, আগুনের কন্যা!”

আজও যখন কুড়িগ্রামের ভোরে কুয়াশা নামে
আমি শুনি তারামনের ছুটে চলা পায়ের শব্দ,
শুনে ফেলি ফিসফিসিয়ে ওঠা যুদ্ধের গান—
স্বাধীনতার মাটিতে তাঁর নাম
একটি বিপ্লবী দীপশিখা,
যা এখনও জ্বলে,
জ্বলতেই থাকে—
বাংলার প্রতিটি সাহসী হৃদয়ে।

তোমাকে সালাম,
হে তারামন বিবি,
হে আগুনের মেয়ে,
হে দুর্জয় গেরিলা,
হে স্বাধীনতার লৌহ–শিখা!

এই ভূমির প্রতিটি শ্বাসে
তোমার বীরত্বের ধ্বনি—
এই দেশের প্রতিটি শিশুর চোখে
তোমারই শেখানো সাহসের আগুন।

আমরা মাথা নত করি,
মুক্তির মাটিতে শ্রদ্ধার ফুল ছড়িয়ে দিই—
কারণ তুমি প্রমাণ করেছো,
স্বাধীনতা শুধু পুরুষের যুদ্ধ নয়;
স্বাধীনতা নারীরও আগুন, নারীরও বিপ্লব।
----------------------------------------------------


০২-১২-২০২৫

সোমবার, ডিসেম্বর ০১, ২০২৫

উত্তম শিফা দাও হে প্রভূ!

 উত্তম শিফা দাও হে প্রভূ!

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

হে প্রভূ, তোমার দরবারে
উঁচু হয়ে গেছে কোটি কোটি হাত,
অশ্রুবান চোখে নামছে এক অদম্য আকুলতা,
রক্তের দেশ আজ তোমার মুক্তি কামায়।

হে খালেদা জিয়া, ফিরে এসো হে,
ফিরে এসো হে, দেখো স্বাধীন জাতি তোমার জন্য জেগেছে।
হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান—
সবই একই কাতারে দাঁড়িয়েছে,
তোমার আপোষহীন ন্যায়নীতির কাছে মাথা নত করে।

জাতি আজ তোমাকে মা মেনেছে,
নেত্রী মেনেছে,
তোমার স্বর্ণালী কর্মচিত্রে ঝলমল করছে
লাল-সবুজ পতাকার প্রতিটি রক্ত বিন্দু।

তুমি না থাকলে ছায়াহীন হবে জাতি,
অভিভাবিকহীন হয়ে যাবে পথচলা,
তোমার আদর্শই দেখায় মুক্তির পথ,
তোমার মমতায় ভরে যায় ভ্রান্ত হৃদয়।

হে আল্লাহ, দাও মুক্তি,
এই জনতার মাতাকে,
গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রীর মুক্তি দাও।
তুমি জানো, চোখে অশ্রু আর হৃদয়ে শিহরণ
কত প্রার্থনার ঢেউ বয়ে গেছে এই দেশজুড়ে।

ফিরে এসো হে নেত্রী,
আমাদের হাতের তলে আবার রাখো
শান্তি, ন্যায় ও অভিজ্ঞতার বাতাস।
এ জাতি তোমার মুক্তিতে একসাথে কাঁদে,
এ জাতি তোমার জন্য প্রার্থনা করে,
এ জাতি তোমার লাল সবুজের অম্লান আলোয়
আলোকিত হতে চায়।

হে প্রভূ, উত্তম শিফা দাও,
তুমি ফিরলে আবার জেগে উঠবে
এই অবহেলিত জাতির মন, শরীর ও প্রাণ।
-----------------------------------------------------------


০১-১২-২০২৫

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২৫

প্রেমের আসামী

 প্রেমের আসামী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************

দোষ যদি হয়ে থাকে, সে দোষ আমার নয়—
সে দোষ কেবল অবুঝ হৃদয়ের;
আমি তো চেয়েছিলাম দূরে থাকতে,
কিন্তু হৃদয়–
এই উন্মাদ সত্তা—
বারবার ছুটে গেছে তোমার দিকে
ঝড়ের ভেলায় ভেসে যাওয়া পাতার মতো।

আমি কখনো চাইনি তোমাকে ছুঁতে,
চাইনি দেহের গরম নিশ্বাস,
চাইনি যৌবনের আগুনে পুড়তে—
আমি শুধু চাইছিলাম
তোমার হৃদয়ের জানালায়
একটুখানি আলো হয়ে থাকতে,
তোমার নিঃশ্বাসের ভিতরে
একটি কবিতা হয়ে বেজে উঠতে।

তুমি কিন্তু শুনলে না
হৃদয়ের মহাকাব্য,
দেখলে না
তার গোপন অলংকার,
তোমার কান পৌঁছায়নি সেই সুরে
যেখানে আমি নাম ধরে ডেকেছিলাম
শুধু অনুভবে,
শুধু ব্যথায়,
শুধু অবুঝ ভালবাসায়।

আর তুমি?
না বুঝেই দোষারোপ করেছ আমাকে—
যেন প্রেম করা অপরাধ,
যেন ভালোবাসা এক দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া।
তাই বলো—
এখানে আমার দোষটা ঠিক কোথায়?

যদি শাস্তি দিতেই চাও,
আমার হৃদয়কে দিও—
ভালোবেসে, গভীর করে,
যেন সে বুঝতে পারে
এ দুনিয়ায় সবচেয়ে মধুর দণ্ড
হলো তোমার প্রেমের কারাগার।

আমি কিছু চাইনি—
শুধু তোমার হৃদয়ের ভেতর
একটি খালি আসন,
একটি নরম অন্ধকার
যেখানে আমি বন্দী হতে পারি
তোমার স্মৃতির সশ্রম কারাদণ্ডে।

আমি হতে চাই
তোমার হৃদয়ের আসামী,
প্রেমের আজীবন সাজাপ্রাপ্ত—
যার শেকল শুধু তোমার নাম,
আর মুক্তির চাবি
তোমার একটুখানি হাসি।

প্রেম যদি অপরাধ হয়—
তবে আমাকে দাও সেই অপরাধে ডুবতে,
আমাকে বানাও তোমার
চিরন্তন প্রেমের আসামি।
-------------------------------------------------------


২৭-১১-২০২৫

প্রেমের কি এক শিহরণ!

 প্রেমের কি এক শিহরণ!

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

ওই ফুল–কাননের নরম বুকে আজ
গোলাপের ছোট্ট ডালে ফুটেছে দুটি নবীণ কলি—
মনে হলো দু’টি চোখ, অপলক চেয়ে আছে
আমারই দিকে, নিঃশব্দে, নিঃস্পন্দে,
এক আশ্চর্য প্রেম-দর্শনের মুগ্ধতায়।

আমিও হারালাম সেদিকে,
সুহাসিনী সেই কলির গভীরে—
ঠিক যেন হৃৎসিন্ধু বেয়ে মধুর নহর
ঝর্ণার মতো ঝরে পড়ছে অশব্দ সুরে।
গোলাপের পাপড়ি বুঝি আজই ফুঁটে যাবে,
তার আগে চাই ছুঁয়ে দেখতে—
মন চায় ছিঁড়ে নিয়ে রাখি
হৃদয়ের গোপন ফুলদানিতে,
যেখানে যুগ যুগ ধরে জমে থাকে
অস্পর্শিত প্রেমের রক্তিম দ্যুতি।

শরীর জুড়ে কি এক উথাল–পাতাল ঢেউ!
রোমান্টিক দর্শনের সব আলো যেন
একত্রে নেমে এলো এ মুহূর্তে—

সব মিলেমিশে আজ বুকের ভেতর
এক দুরন্ত ঝড়—
কলি দুটো ডাকছে যেন ফিসফিস সুরে:
“এসো, আমাদের মধুর ঝর্ণাধারা বেয়ে
ডুবে যাও গভীর নদীর অতলে—
উত্তাল স্রোতধারার সঙ্গী হয়ে।”

নদীর বুকও আজ ফুলে ওঠে অশান্তভাবে—
রঙিন ঢেউয়ে দোলে প্রেমের কাব্য,
আর আমি—
সেই ঢেউয়ের তৃষ্ণার্ত যাত্রী,
নেমে যাই অন্তহীন রোমান্টিক স্রোতে,
যেখানে তুমি, গোলাপকলি—
আমার সমস্ত জাগ্রত স্বপ্নের একমাত্র বসন্ত।
-----------------------------------------------------


২৭-১১-২০২৫

আজকের পরাজয় আগামীর বিজয়

 আজকের পরাজয় আগামীর বিজয়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************
ওহে শুনো!
আজকের পরাজয় নহে আগামীর অন্ধকার—
এই ক্ষতই হবে আগামী যুদ্ধের অগ্নিরণঙিন সোপান,
আজকের হেরে যাওয়া তলোয়ারেই
আগামীর বজ্র-প্রতিশোধী শাণ।

তোমাদের বিজয়-উল্লাস
হয়তো থেমে যেতে পারে উগ্রবাদের মদিরায়,
যেখানে মানুষ ভুলে যায় মানুষকে—
হিংস্রতা উঠে দাঁড়ায় রাজার বেশে,
স্বাধীনতার নামে জেগে ওঠে শৃঙ্খল-ছায়া।

বিজয় মানে উগ্রতা নয়—
বিজয় মানে প্রতিশোধের আগুন নয়,
অধিকার কেড়ে নেওয়ার পাষাণ নয়,
ফ্যাসিবাদের রক্ত-বাষ্প নয়,
স্বৈরাচারের লোহার নখর নয়,
অপমান-অপদস্তের বিষধর নয়,
ক্ষমতার পেশী প্রদর্শনের গর্জন নয়—
বিজয় হলো পুষ্পের মতো ছড়িয়ে পড়া সুবাস,
নিঃস্বার্থ পাপড়ির নরম ঘ্রাণ,
মানুষের হৃদয়ে মুক্তির বাতাস।

বিজয় হলো জনতার উৎসব—
যেখানে শিশুর হাতে থাকে আলো,
বৃদ্ধের কণ্ঠে শান্তির দোয়া,
নারীর হাসিতে স্বপ্নের শহর জ্বলে।

যদি সে বিজয় হয় স্বেচ্ছাচারের অশ্বত্থ তলায়
ছায়া-কুয়াশা হয়ে দাঁড়ানো অত্যাচারের বৃক্ষ—
তবে সে বিজয় নয়,
আগামী পরাজয়ের ভয়ঙ্কর অমঙ্গলের ফাঁদ।

আজকের উন্মাদনা যদি হিংসার উল্কি আঁকে,
তবে তা আগামী ধ্বংসের বিলাসিতা—
যেখানে শহর ভাঙে, মানুষ ভাঙে,
আর ইতিহাস কাঁদে
মানুষের ভুলে লেখা মানুষের শোকগাথা।

ওহে শুনো!
পরাজয় আজ কেবল ক্ষণিকের ঝড়—
এই ঝড়ের ভেতরেই জমে ওঠে
নতুন দিনের শক্তি, বীজ, আর আলো।
আজ যাকে বলো পরাজয়—
কাল সে-ই হবে বিজয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রভাত,
যদি হৃদয় থাকে শুদ্ধ,
আর বিজয় হয় মানুষের—
মানুষের মুক্তির,
মানুষের সুবাসের মতো।
-----------------------------------------------


২৭-১১-২০২৫

Student

  কবি মোহাম্মদ আমিনুল এহছান মোল্লা। রাওনাট , কাপাসিয়া , গাজীপুর। ************************************** জাগো রে ছাত্র ! জাগো রে...