বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২৫

প্রেমের আসামী

 প্রেমের আসামী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************

দোষ যদি হয়ে থাকে, সে দোষ আমার নয়—
সে দোষ কেবল অবুঝ হৃদয়ের;
আমি তো চেয়েছিলাম দূরে থাকতে,
কিন্তু হৃদয়–
এই উন্মাদ সত্তা—
বারবার ছুটে গেছে তোমার দিকে
ঝড়ের ভেলায় ভেসে যাওয়া পাতার মতো।

আমি কখনো চাইনি তোমাকে ছুঁতে,
চাইনি দেহের গরম নিশ্বাস,
চাইনি যৌবনের আগুনে পুড়তে—
আমি শুধু চাইছিলাম
তোমার হৃদয়ের জানালায়
একটুখানি আলো হয়ে থাকতে,
তোমার নিঃশ্বাসের ভিতরে
একটি কবিতা হয়ে বেজে উঠতে।

তুমি কিন্তু শুনলে না
হৃদয়ের মহাকাব্য,
দেখলে না
তার গোপন অলংকার,
তোমার কান পৌঁছায়নি সেই সুরে
যেখানে আমি নাম ধরে ডেকেছিলাম
শুধু অনুভবে,
শুধু ব্যথায়,
শুধু অবুঝ ভালবাসায়।

আর তুমি?
না বুঝেই দোষারোপ করেছ আমাকে—
যেন প্রেম করা অপরাধ,
যেন ভালোবাসা এক দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া।
তাই বলো—
এখানে আমার দোষটা ঠিক কোথায়?

যদি শাস্তি দিতেই চাও,
আমার হৃদয়কে দিও—
ভালোবেসে, গভীর করে,
যেন সে বুঝতে পারে
এ দুনিয়ায় সবচেয়ে মধুর দণ্ড
হলো তোমার প্রেমের কারাগার।

আমি কিছু চাইনি—
শুধু তোমার হৃদয়ের ভেতর
একটি খালি আসন,
একটি নরম অন্ধকার
যেখানে আমি বন্দী হতে পারি
তোমার স্মৃতির সশ্রম কারাদণ্ডে।

আমি হতে চাই
তোমার হৃদয়ের আসামী,
প্রেমের আজীবন সাজাপ্রাপ্ত—
যার শেকল শুধু তোমার নাম,
আর মুক্তির চাবি
তোমার একটুখানি হাসি।

প্রেম যদি অপরাধ হয়—
তবে আমাকে দাও সেই অপরাধে ডুবতে,
আমাকে বানাও তোমার
চিরন্তন প্রেমের আসামি।
-------------------------------------------------------


২৭-১১-২০২৫

প্রেমের কি এক শিহরণ!

 প্রেমের কি এক শিহরণ!

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

ওই ফুল–কাননের নরম বুকে আজ
গোলাপের ছোট্ট ডালে ফুটেছে দুটি নবীণ কলি—
মনে হলো দু’টি চোখ, অপলক চেয়ে আছে
আমারই দিকে, নিঃশব্দে, নিঃস্পন্দে,
এক আশ্চর্য প্রেম-দর্শনের মুগ্ধতায়।

আমিও হারালাম সেদিকে,
সুহাসিনী সেই কলির গভীরে—
ঠিক যেন হৃৎসিন্ধু বেয়ে মধুর নহর
ঝর্ণার মতো ঝরে পড়ছে অশব্দ সুরে।
গোলাপের পাপড়ি বুঝি আজই ফুঁটে যাবে,
তার আগে চাই ছুঁয়ে দেখতে—
মন চায় ছিঁড়ে নিয়ে রাখি
হৃদয়ের গোপন ফুলদানিতে,
যেখানে যুগ যুগ ধরে জমে থাকে
অস্পর্শিত প্রেমের রক্তিম দ্যুতি।

শরীর জুড়ে কি এক উথাল–পাতাল ঢেউ!
রোমান্টিক দর্শনের সব আলো যেন
একত্রে নেমে এলো এ মুহূর্তে—

সব মিলেমিশে আজ বুকের ভেতর
এক দুরন্ত ঝড়—
কলি দুটো ডাকছে যেন ফিসফিস সুরে:
“এসো, আমাদের মধুর ঝর্ণাধারা বেয়ে
ডুবে যাও গভীর নদীর অতলে—
উত্তাল স্রোতধারার সঙ্গী হয়ে।”

নদীর বুকও আজ ফুলে ওঠে অশান্তভাবে—
রঙিন ঢেউয়ে দোলে প্রেমের কাব্য,
আর আমি—
সেই ঢেউয়ের তৃষ্ণার্ত যাত্রী,
নেমে যাই অন্তহীন রোমান্টিক স্রোতে,
যেখানে তুমি, গোলাপকলি—
আমার সমস্ত জাগ্রত স্বপ্নের একমাত্র বসন্ত।
-----------------------------------------------------


২৭-১১-২০২৫

আজকের পরাজয় আগামীর বিজয়

 আজকের পরাজয় আগামীর বিজয়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************
ওহে শুনো!
আজকের পরাজয় নহে আগামীর অন্ধকার—
এই ক্ষতই হবে আগামী যুদ্ধের অগ্নিরণঙিন সোপান,
আজকের হেরে যাওয়া তলোয়ারেই
আগামীর বজ্র-প্রতিশোধী শাণ।

তোমাদের বিজয়-উল্লাস
হয়তো থেমে যেতে পারে উগ্রবাদের মদিরায়,
যেখানে মানুষ ভুলে যায় মানুষকে—
হিংস্রতা উঠে দাঁড়ায় রাজার বেশে,
স্বাধীনতার নামে জেগে ওঠে শৃঙ্খল-ছায়া।

বিজয় মানে উগ্রতা নয়—
বিজয় মানে প্রতিশোধের আগুন নয়,
অধিকার কেড়ে নেওয়ার পাষাণ নয়,
ফ্যাসিবাদের রক্ত-বাষ্প নয়,
স্বৈরাচারের লোহার নখর নয়,
অপমান-অপদস্তের বিষধর নয়,
ক্ষমতার পেশী প্রদর্শনের গর্জন নয়—
বিজয় হলো পুষ্পের মতো ছড়িয়ে পড়া সুবাস,
নিঃস্বার্থ পাপড়ির নরম ঘ্রাণ,
মানুষের হৃদয়ে মুক্তির বাতাস।

বিজয় হলো জনতার উৎসব—
যেখানে শিশুর হাতে থাকে আলো,
বৃদ্ধের কণ্ঠে শান্তির দোয়া,
নারীর হাসিতে স্বপ্নের শহর জ্বলে।

যদি সে বিজয় হয় স্বেচ্ছাচারের অশ্বত্থ তলায়
ছায়া-কুয়াশা হয়ে দাঁড়ানো অত্যাচারের বৃক্ষ—
তবে সে বিজয় নয়,
আগামী পরাজয়ের ভয়ঙ্কর অমঙ্গলের ফাঁদ।

আজকের উন্মাদনা যদি হিংসার উল্কি আঁকে,
তবে তা আগামী ধ্বংসের বিলাসিতা—
যেখানে শহর ভাঙে, মানুষ ভাঙে,
আর ইতিহাস কাঁদে
মানুষের ভুলে লেখা মানুষের শোকগাথা।

ওহে শুনো!
পরাজয় আজ কেবল ক্ষণিকের ঝড়—
এই ঝড়ের ভেতরেই জমে ওঠে
নতুন দিনের শক্তি, বীজ, আর আলো।
আজ যাকে বলো পরাজয়—
কাল সে-ই হবে বিজয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রভাত,
যদি হৃদয় থাকে শুদ্ধ,
আর বিজয় হয় মানুষের—
মানুষের মুক্তির,
মানুষের সুবাসের মতো।
-----------------------------------------------


২৭-১১-২০২৫

ভয়ানক ভাইরাল সংস্কৃতি

 ভয়ানক ভাইরাল সংস্কৃতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

দিক–দিক ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাল অগ্নিকুণ্ড,
মানুষ হয়ে গেছে মাগল উম্মাদ।
ফেসবুকের ঝলক, ইউটিউবের ঝলমলে ফ্ল্যাশ,
টিকটকের নাচে নৃত্য, ইন্ট্রোগ্রামের ফিল্টার—
সব ফাঁদ, সব কৌতুক, সব উলঙ্গতা।

যুবক–যুবতী, বৃদ্ধ–বৃদ্ধা,
সবাই লিপ্সায় আবদ্ধ,
অসীম প্রতিযোগীতায় হারিয়েছে মানবিকতা।
গুজবের বন্যা, মিথ্যার ঝড়,
ফটকাবাজির ছায়া সবখানে—
সত্যের মুখে দাঁড়াতে নেই কেউ।

বেহায়াপনা ছড়ায় চুপিচুপি,
ডিজিটাল নোংরামি ভর করে মন।
হাসি আড়াল করে ক্ষুদ্র অহংকার,
“ভাইরাল হলেই আমি বড়”—
কেউ বোঝে না, অন্তর শূন্য।

ডিজিটাল সন্ত্রাসের ছায়া পড়ে ঘর-বাড়ি,
স্মৃতিশক্তি মলিন, হৃদয় হিমশীতল।
ফেসবুকের চ্যাটে, টিকটকের কমেন্টে
নিন্দা আর বিদ্রূপ—সবার খেলা।
মুখে হাসি, অন্তরে ব্যাধি,
নৈতিকতার মৃত্যু হয়ে গেছে ভীষণ সাধারণ।

এই ভাইরাল সংস্কৃতির চক্রে আমরা বন্দী,
বুকের ভেতর ক্ষুদ্রতম আনন্দও নষ্ট।
দিক–দিক তাকাও, চোখ মেলে দেখো,
ভাইরাল পৃথিবীর নোংরামি—
কতোটা ভয়ানক, কতোটা মর্মান্তিক!

মানুষ একে বলে “মজা”, আমি দেখি সন্ত্রাস।
হৃদয় খোঁচা খায়, চিৎকার করে,
কেউ শোনে না—সব ভেসে যায় ভাইরালের ঢেউয়ে।
------------------------------------------------


২৭-১১-২০২৫

সুবোধ তুই পালিয়ে যা

 সুবোধ তুই পালিয়ে যা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************

সুবোধ! তুই পালিয়ে যা,
নদীর মতো সত্যও আজ চিত্তরক্ত,
রাজনীতির খাঁচায় চেঁচামেচি,
হিংসা-মিথ্যার আগুন জ্বলে চারিদিকে।

বাজারে হাসে লোভের মুখোশ,
শিক্ষার ক্লাসরুমে শোনা যায় শুধু কাগজের কথা,
শুধু নোটের দাম,
কাগজে লেখা মরীচিকা!

দুর্নীতি শপথে লুকিয়ে আছে,
মিথ্যা মামলার ছায়ায় ভেঙে পড়ে সাহস।
অত্যাচারের পা চেপে ধরে হৃদয়,
অনাচারের জলে ভেসে যায় মানবতার আশা।

সমাজে তোর স্থান নেই, সুবোধ!
যেখানে সত্য বললে শাস্তি,
যেখানে ন্যায়ের কণ্ঠস্বরে আঘাত,
তোমার চুপ থাকা বাঁচায়,
চুপ থাকা বাঁচায়, চুপ থাকা বাঁচায়।

পালিয়ে যা, সুবোধ! পালিয়ে যা!
নিজের ভিতরে আলো ধর—
যেন অন্ধকারের গহ্বরেও
উজ্জ্বল হয় ন্যায়ের দীপ।

হ্যাঁ! সময় আসবে, সত্য নদী বয়ে যাবে,
হ্যাঁ! সূর্য উঠবে ন্যায়ের কিরণে,
তুই ফিরে আসবি,
তোর অস্তিত্বের দীপ্তিতে
সমাজের চোখে জ্বালাবে আগুন!
---------------------------------------------------


২৭-১১-২০২৫

নদীতে জন্ম নদীতেই মৃত্যু

 নদীতে জন্ম নদীতেই মৃত্যু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

নদীতে জন্ম, নদীতেই মৃত্যু,
বিয়ে হয় আজব রীতিতে,
নৌকা ভাসে ঢেউয়ের তলে,
হাওয়ায় গল্প ভেসে আসে পলকে।

স্থায়ী ঘর নয়, শুধু জল আর বাতাস,
জীবন কাটে ঢেউয়ের ছন্দে, ছায়ার সাথে।
মাছ ধরা, জাল আঁকা, হালকা জামা-ধুতি,
বাঁশের ঘর, নৌকা—হাতের শিল্পে রঙের ছবি।

লোকগানের ছন্দ, ঢোল-বাদ্যের তালে,
নদী ভেসে যায় জীবনের কাব্যে।
উৎসব, বিবাহ, শোক—সব জলই সাক্ষ্য,
নদীর তীরে লেখা জীবনের স্বাক্ষর অমলিন।

খাবার—মাছ, শাক-সবজি, শস্য—
নদীর উপহার, সরাসরি রান্না।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাজার—চ্যালেঞ্জের ঢেউ,
তবু নদীর সঙ্গে সম্পর্ক অটুট, ছন্দে ভরা।

পুরুষের হালকা জামা, মহিলার রঙিন শাড়ি,
উৎসবের সাজে হালকা গহনা, নদীকে নमन করি।
নৌকা-উৎসব, মৌসুমি উৎসব, মাছধরার খেলা,
প্রতিটি ঢেউয়ে লেখা—জীবন, সংস্কৃতি, আচার-বেলা।

বেদেরা শুধু মানুষ নয়, নদীর সন্তান,
জল, স্বাধীনতা, ঐতিহ্যের চিরন্তন প্রতীক।
নদীর গল্প, নৌকা, গান, হস্তশিল্প, আচার, জীবন—
সব ভেসে চলে, ছন্দে ছন্দে, আজও।
----------------------------------------------


২৭-১১-২০২৫

সুপ্ত প্রেম

 সুপ্ত প্রেম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

আমার হৃদয় জ্বলছে।
নিঃশব্দে, অবিরত।
তোমার নাম লুকিয়ে রেখেছি চোখের জলেতে।

কেউ বুঝবে না।
কেউ জানবে না।
কতবার আমি চুরি করেছি আমার অস্তিত্ব তোমার জন্য।

প্রতিটি নিঃশ্বাসে তুমি।
প্রতিটি ব্যথায় তুমি।
অগ্নিকুণ্ডের ভিতরে জ্বলছি,
পুড়ে ছাই হয়ে যাই, নিঃশেষে।

বলতে পারিনি।
ভালোবাসা চুরমার হয়ে গেছে অন্তরে।
প্রতিটি রাত, প্রতিটি ঘুম—
অশ্রুজলে ভাসে তোমার অভাব।

একদিন পৃথিবী জানবে, হয়তো কেউ জানবে।
এই প্রাণ ভালোবেসেছিল কাউকে।
কিন্তু বলা হয়নি।
শুধু একজল ফুলে থাকবে আমার শ্রদ্ধা।

আমার প্রেম—
নীরব, অদৃশ্য,
অশ্রুজলে লেখা মহাকাব্য।
দ্বন্দ্বহীন, পবিত্র।
চির অবিনশ্বর।
মৃত্যুঞ্জয়ী।

একদিন কেউ এসে বলবে—
“আমিও তোমাকে ভালোবেসেছিলাম। কেন তুমি বলনি?”
এভাবেই তুমি হয়ে যাবে আমার জীবনের একমাত্র গোপন আগুন।
--------------------------------------------------


২৭-১১-২০২৫

পাগলেরাই সভ্যতার স্থপতি

 পাগলেরাই সভ্যতার স্থপতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

পৃথিবী চিৎকার করছে—
“পাগল! উম্মাদ! কাফের! বিদ্রোহী!”
কিন্তু তারা জানে না, তারা দেখেনি,

পৃথিবীর রঙিন চশমা ধরে
যারা দেখেছে অদ্ভুত দিক, অজানা আলো,
তাদেরই মানুষ বলেছে পাগল, উম্মাদ, কাফের।
যারা স্বপ্নের খনি খুঁড়েছে,
তারা শুধু রঙিন ধোঁয়া পেয়েছে,
কেউ দেখেনি তাদের হাতে জ্বলন্ত দীপ,
যা অন্ধকারে আলো ছড়ায়।

নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, বডলার, থোরো—
ওদের কবিতার শব্দে, বিজ্ঞানী ও দার্শনিকের খুঁটিনাটি খুঁজে
প্রকৃতি, জ্ঞানের সেতু, নক্ষত্রের নাচ—
পৃথিবী পেয়েছে আলোক বিন্দু।

অসভ্য নিন্দুকেরা
শুধু দিতে পেরেছে পাগল, উম্মাদ, কাফের।
ওরা দিল না সৃজনের চাবি,
দিল না উন্মাদ আত্মার মুকুল।

পাগলদের হাতে রচিত পৃথিবী
একটি নদীর মতো প্রবাহিত,
যেখানে প্রতিটি ঢেউ
ধ্বংসকে পরিণত করেছে সৃজনের সিঁড়িতে।
একটি আগুনের মতো জ্বলছে
যা ছড়িয়ে দিচ্ছে অজানা আলো।

তারা হেঁটেছে অনির্ধারিত পথে,
মেঘের ভেতর দিয়ে, ঝড়ের মাঝখান দিয়ে,
তাদের পিছু নিয়েছে শুধুই বাতাসের ফিসফিস।
পৃথিবী আজ তাদের গল্পে জেগে আছে,
নিন্দুকেরা আজও বাইরে দাঁড়িয়ে চুপচাপ।

পাগলেরাই সভ্যতার স্থপতি,
যার কল্পনায় জন্ম নিয়েছে শহর, গান, নক্ষত্র, বিজ্ঞান।
যাদের পৃথিবীকে মানুষ জানে শুধু অদ্ভুত নাম দিয়ে,
তাদেরই হাতে লেখা ইতিহাস,
যা অজানা নদী হয়ে ছুটে চলে কালজয়ী।

পৃথিবী বলে পাগল,
কিন্তু পাগলই আনে আলো, আলো,
পাগলই বানায় পথ, পথ, পথ,
যেখানে নিন্দুকেরা কেবল ছায়া, ছায়া,
পাগলই অগ্নিস্ফুলিঙ্গে ছেঁড়ে দেয়
নতুন দিগন্ত!
জ্বলুক আগুন! শিহরণ ছড়াক! বজ্রপাত হোক প্রতিটি পদে!
---------------------------------------------------------


২৭-১১-২০২৫

নগ্নতার চর্চা

 নগ্নতার চর্চা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************
আমি বিদ্রোহী কণ্ঠ!
আজ আবার ঝড় তুলে বলি—
হে পাষাণ যুগের নতুন সন্তানেরা,
এ কোন উলঙ্গতার নগরী গড়লে?
যেখানে মানুষ নয়,
দেহের চামড়া রাজা—
নৈতিকতা সেখানে ভিখারি হয়ে
দরজায় দরজায় কাঁদে!

হে যুগ! তুমি কি অন্ধ হলে?
অশ্লীলতার আগুনে পুড়িয়ে দিলে
লজ্জার শেষ পাতাটুকুও?
মানবতার বুকে আজ
শৃঙ্খল নয়—
গলিত লোভের আগুন ঝরছে,
মানুষের চোখ হয়ে উঠছে
হিংস্র নেকড়ের নখ!

নারী—
যে ছিল মমতার মন্দির,
সংস্কৃতির গর্ভ—
তাকে আজ বানালে তোমরা
মঞ্চের প্রদীপ,
দেহের নেশা-বাজারের
চকচকে চামড়ার ক্যানভাস!
শাপ তোমাদের আধুনিকতার—
যা নারীর মর্যাদাকে
উন্মোচন করে
জন্তুদের উল্লাসে নিক্ষেপ করে।

আর পুরুষ!
যে ছিল রক্ষক,
সে-ও আজ অভিযুক্ত,
কারণ তোমাদের উন্মাদ যুগ
নারীকে পণ্যে নামালে—
আর পুরুষকে
ধর্ষকের মুখোশে!

এই যে সভ্যতার পোড়া শহর—
এখানে মানুষ পোশাক পরে না,
পরিধান করে
লোভের চামড়া,
লজ্জাহীনতার বিষদাঁত!

আমি বজ্র!
আজ চিৎকার করে ঘোষণা করি—
যে সমাজ দেহ দেখিয়ে বাঁচে,
সে সমাজ আত্মা হারিয়ে মরে!
যে জাতির চোখে
লজ্জার আলো নিভে যায়—
সে জাতিরাই একদিন
নিজেদেরই হাত ধরে
অবনত হয় জাহান্নমের সিঁড়িতে!

উঠো মানুষ!
তুলে ধরো সত্যের তরবারি,
কেটে ফেলে দাও নোংরা আধুনিকতার শিকল—
যে শিকল মানুষকে টেনে নিয়ে যায়
অন্ধকারের অগ্নিখাদে।

আমি বলি—
ফিরে আনো লজ্জা—
ফিরে আনো মানবতার পবিত্র আবরণ!
নইলে পৃথিবী
আর মানুষ থাকবে না—
থাকবে শুধু ধ্বংসের পোড়া ছাই,
যার নাম হবে—
নগ্নতার মহামৃত্যু।
-------------------------------------------


২৭-১১-২০২৫

বুধবার, নভেম্বর ২৬, ২০২৫

হে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

 হে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

হে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম!
পড় হে তোমার প্রভুর নামে,
যিনি তোমায় রচনা করেছেন মহাশক্তিতে,
তোমার রক্তে লিখেছেন স্বাধীনতার গান!

জ্ঞান অন্বেষণে ছুটে যাও,
দিগন্ত ছুঁয়ে দিগন্তে,
মন তোমার হোক অটল, অদম্য,
সমুদ্রের মতো উচ্ছ্বসিত, অশেষ, অবিনাশী!

আলো হোন, হে জাগ্রত প্রজন্ম!
জ্ঞানালোকের প্রতিটি কণায় নিজেকে পবিত্র করো,
অন্ধকার ভাঙো,
অগ্নি হয়ে জ্বালো অন্তরের প্রদীপ,
মশাল হয়ে ছড়িয়ে দাও সত্যের দীপ্তি!

ছুঁড়ে ফেলো মিথ্যার শৃঙ্খল,
বলো—হে তুমি বীর!
মানবতার দূত তুমি,
পিতামাতার অহংকার,
স্বদেশের রক্তবিন্দু হয়ে জ্বলো তুমি!

মাথা নত করো না জুলুমের সামনে,
চোর, বাটপার, নেশাগ্রস্ত—তুমি নও।
তুমি বিপ্লবী, প্রতিবাদী,
হৃদয়ে আগুন, চোখে অগ্নি,
তুমি আশার প্রদীপ,
নতুন দিনের সূর্যসন্তান!

হে প্রজন্ম!
তুমি নতুন দিগন্তের স্রষ্টা,
স্বপ্নের পথে অপ্রতিহত সাহসের বাণী,
নতুন যুগের গান, নতুন পৃথিবীর আলো!

বলো! বলো! চিৎকার করো!
হে তুমি, মাথা নত করো না!
হে তুমি, অন্ধকার ভাঙো!
হে তুমি, আলো হও এই ভূমণ্ডলে!

উঠো! লড়ো! জাগো!
তুমি নবপ্রভাতের জ্যোতি,
তুমি স্বাধীনতার ডাক,
তুমি—হে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—অমর!
---------------------------------------


২৬-১১-২০২৫

বাবা দিবসের প্রার্থনা (গান)

  কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর **************************************** তোমাকে নিয়ে কবিতা লিখতে বসলে কলম...