Friday, June 18, 2021

পরীক্ষাটা চলুক


-----------মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

উৎসর্গ্ঃ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি।

*****************************************

শিক্ষার এক্সপ্রেস তরি গড়ি দৌড়ে ছুটে গেল।

কাকে থামাতে?

নিশির বাদুর সেজে কার কাছে গেল?

রাত্রির সদ্যুর মতো কালো অন্ধকারে, জাতি ধবংসে

কাকে উপহার দিবে মেরুদন্ডহীন আগামীর মশাল?

জাতির চোখে মুখে শিক্ষার খিদে- চক্ষুহীন চিতাবাঘ

এদিক সেদিক থাবা দিয়ে নিজেই ক্ষত বিক্ষত !

অবরুদ্ধ কারাগারে কাকে সে জ্বলাবে?

আজতো প্রদীপের প্রদীপ নেই!!

চেরাগের কোন স্মৃতির উৎসবে ভবিষ্যৎ জাগবে?

কোন ভবিষ্যৎ এর কোন খানে দেখা হবে তার?

সে কি লাল সবুজের বিদ্রোহী পতাকা?

তবে কেন তার পথ অবরুদ্ধ করা হলো?

একটা বছর অনেক সময়- অনেক পিছিয়ে পরার শঙ্কা!

এর চরম মূল্য তাকেই দিতে হবে!!

লাল নিশানের মতো বিপদ সংকেত টাঙিয়ে রেখেছে!

বিষ্ন্ন ছায়া দেখি আমি সন্তানের চোখে মুখে

অসনি ঘন্টা শুনি আমি জাতির ঘরে ঘরে

তুমি কি বধির! নাকি অন্ধ?

তোমার সন্তানতো মাতৃকাভুলে পরবাসের মতো

তুমি কি বুঝবে?

যদি বুঝ দ্বার খুলে দাও আজি ! পরীক্ষাটা চলুক---

ছাত্র-ছাত্রীরা হেসে উঠুক আগামীর জয়গানে।

----১৮-০৬-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

রাত্রির পরী

 

      ------মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

**************************************************

তোমাকেই রাত্রির পরী মনে হয়!!

তোমার ভিতরে নিষিদ্ধ সব জল ঢুকে গেছে।

গুপ্ত কূপ যেন পোকামাকড়ে ভরে গেছে স্তরে স্তরে

রাত্রির পোকা, দিবসের পোকা ,র্নদমার কীতপতঙ্গ

তোমার জলে সাঁতার কাটে মাতাল নেশা গ্রস্থ ।

 

নগ্নতার নরকে যায় যারা,গিয়ে ফিরে আসে

উম্মাদ মাতাল হয়ে হয়ে যন্ত্রনার স্বাদ বুকে নিয়ে

রাত্রির পরীদের কিনে কিনে

অথবা নিজেদেরে ইজ্জত বিক্রি করে

আধুনিক দুলাল দুলালী এক রঙ্গ শালায় মেতে উঠে

রঙ্গ খোলায়—

রাত্রির পরীরা ডানা মেলে আছে!

ফাঁদ পেতে আছে----

 

অভিজাত ক্লাবের গাঢ় অন্ধকারে গন্ধ পাই তোমার নিম্মাঙ্গের!

ভয়াবহ নগ্ন উগ্রতায় নেচে উঠো কালো টাকার মঞ্চে

আলিঙ্গনে আলিঙ্গনে বহুদূর ভেসে যাও মদ্যপানে

তাও আছো জনপ্রিয়তার শীর্ষে

নগ্ন ক্যামেরার অগ্রপানে--

 

ধিক ধিক তোমারই মতো বেশ্যাময়ী রাত্রির পরী!

শুভ্র আয়নায় মুখ রেখে

পৃথিবী ছড়াচ্ছো লাল গোধূলির ফুল।

পর্দার আড়ালে তুমি এক নাইট ক্লাবের যৌন কর্মী !

তাও আছো অভিজাত শ্রেণীর মাতাল কোলে কোলে

নগ্ন ক্যামেরার অগ্রপানে--

----১৮-০৬-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

 

এক সূর্যের সমাধি

 ----------মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

*************************************

দারুন বিষ্ময়ে এই পৃথিবী দেখলো!

এক নিরাশ্রয় রক্তাক্ত নিষ্ঠুর এই জেলখানা।

রাত্রির শেষ প্রহরেও এই পৃথিবী আযানের শব্দ শুনলনা

ধরাধম নিদ্রিত! প্রভাত পাখিদের কোলাহল নেই

ভুঁতুরে অন্ধকার!আকাশের সূর্য্যি মামাটাও জেগে নেই

বিনিদ্র কিছু ঘাতকের উচ্চভিলাষী মহরা---

 

নির্দয় বুলেটের র্নিমম পরিহাস‘! বিশ্ব কম্পিত হলো!

জাগ্রত হলো বাঙ্গালীর তাজ! চৌদিক অন্ধকার হয়ে এলো

বিকট শব্দে শব্দে চৌচির হলো কারাপ্রকোষ্ঠ!

রক্ত ফিনকি দিয়ে উঠল! পানি পানি চিৎকারে

নিস্তেজ হয়ে গেলো বাঙ্গালীর তাজ!!!

রক্তের প্লাবনে প্লাবেন ভেসে উঠল- ”এক সূর্যের সমাধি”

 

বাঙ্গালী শুধু দেখল সাদা চাঁদরে ঢাকা নিথর তাজ!

চিরনিদ্রার ভাব ভঙ্গি তার

নিখিলের আঙিনা ব্যাপী কন্টকিত হাহাকার আর অবহেলা,

ষড়যন্ত্রে জাল ছড়িয়ে গেছে ঘর থেকে বাইরে

পুরুস্কিত হচ্ছে কলঙ্কিত হাত--

 

এ যেন এক বিরান কারবালা!

এলোমেলো পরিচর্যাহীন এক মহানায়কের করুণ সমাধি!

পুড়েছে কপাল জাতির- ঘাতকের এই বাংলাদেশে।

বঙ্গ তাজ জাতিকে ভালোবেসেছিল

দিতে চেয়েছিল আরো কিছু বেশী

জাতি তাকে কি দিলো?

----১৮-০৬-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

Thursday, June 17, 2021

বাঙ্গালীর অক্সিজেন

     

-----মোঃ আমিনুল এহছান  মোল্লা।

*************************************

ওরা বলে তুমি নাকি নেই! ওরা মুছে ফেলতে চায়—

ওরা ভয় দেখায়! হুমকি দেয়!ইতিহাস পাল্টায় !

কি লাভ তাতে? তুমি তো পতপত উড়ছো পতাকায়..

জগৎ জানে,পাড়া-প্রতিবেশী জানে -তুমি কে ?

তুমি তো সেই কবি যেকিনা দেশমাতৃকার ত্যাগে

সবার আগে

হৃদয়ের সংযোগে

ঝড়ের গতিবেগে

বিনিদ্র জেগে—

মুক্তি যুদ্ধের বর্ণগুলোকে শব্দে শব্দে বাক্যের চরণে চরণে

রচনা করেছো ইতিহাসের মহাকাব্য বাংলার স্বাধীনতা।

বিজয়ের অমর কবিতা “লাল সবুজের পতাকা”

 

দুরভিসন্ধির খেলা জাতি বুঝে গেছে- এদিন শেষ হয়ে যাবে

পূর্ব দিগন্তে আবার উদিত হবে বঙ্গ তাজের ”তাজ”

সেই ভয়ে!  সেই ভয়ে ওরা!

এই দেশে ভালোবেসে বলবে মানুষ

বঙ্গ তাজই ছিল  বঙ্গ বন্ধুর স্পন্দিত প্রবাহ

তবু ‘ওদের নেই এতটুকু দীনতা।

 

ওরা তোমাকে মুছ ফেলতে চায়ে- হে বঙ্গ তাজ !!

এ জাতি তোমাকে চায়- হে কিংবদন্তি সম্রাট!

যে শুভ্রতায় স্নিগ্ধতায় সমুজ্জল  এদেশের মানুষ

সে হৃদয়ের কলরবে তুমি আছো- হে রক্ত ঝরা বুক

হে লাল-সবুজের মুখ!

হে বাঙ্গালীর অক্সিজেন-” বঙ্গতাজ তাজঊদ্দিন আহম্মেদ”

---১৭-০৬-২০২১ ইং ,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

 


আমি শীতলক্ষ্যা

 


---মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

******************************************

আমার বুকে স্মান করতে এসো না- তুমি মরে যাবে

শরীরের সারা অঙ্গে অঙ্গে বিষের মাতোয়ারা

বিপুল ইচ্ছে জাগে তোমায় আলিঙ্গনে আলিঙ্গনে

দূর কোথাও বয়ে যাই অনাবিল—

 

এতো কাছে এসো না, তুমি পুড়ে যাবে-

 বুকে  ধুঁধূ বালুচর! প্রখর রৌদ্রের লেলিহান শিখা

শীতল ছায়া নেই, পাখিদের কোলহল নেই

জেলেদের হৈ চৈ নেই

আছে কিছু ঘাতক ক্যামিকেল, কীটপতঙ্গ সাপ বিচ্ছু

নর্দমার র্আবজনা কিংবা ঘাতকের ফেলে যাওয়া

কিছু অচেনা লাশ!!

বিজ্ঞানসম্মত ভাবে যতোটুকু দূরে থাকা যায় তাই করো।

 

তুমি ঠিক ততোখানি দুরত্বে থেকো- ভূমি দুস্যরা সজাগ!

অনেক বিপদ হবে! মাঝি মাল্লা কেউ নেই- নৌযান গুলো

নিলাম হয়েগেছে-

আমার দু”কূল ডাকাতি হয়েগেছে- আমি নিঃশ্ব!

 

পৃথিবীর মানুষেরা ভুলেগেছে আমার মৌল উপাদান।

তাদের ভেতরে  মূর্তির মতো সেই প্রাণ নেই

তারা দানবের মতো আমাকে হত্যা করেছে

আমি শীতলক্ষ্যা কেবল ইতিহাস

কিছুটা বেঁচে আছি—

স্মৃতির পাতায়--

 

আজকাল নিরেট অধঃপতনের দিকে মনুষ্যত্ব মানুষের

সভ্যতার সীমানা ছেড়ে অসভ্য  নরপশুদের প্রতিযোগীতা।

-১৭-০৬-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

শীতলক্ষ্যার কান্না

----মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

********************************

জল ধারায় তুমুল তরঙ্গে তুমি এঁকে বেঁকে চলো

বুক উঁচিয়ে যৌবন দীপ্ত কিশোরীর মতো---

তুমি সেই ষোড়শী বালিকা ! প্রকৃতির নির্মল উপহার

প্রেমের শিরহণ আমার ।

 

অজস্র প্রেমিকের স্পর্শ্ বুকে নিয়ে কতো রোমাঞ্চিত তুমি!

কোন অভিযোগ নেই! কোন অভিমান নেই !

খুলে দেও দেহকে কি যে তুমুল উল্লাসে অবিরাম

রক্তাক্ত হও বার বার নির্লোভ ভ্রমণে

জীবন বির্সজনের কি ব্যাকুল স্থপতি  তুমি!

অশুরেরা বুজলো না- তোমাকে বুজলো না—

 

শুনেছি অনেক দুঃখে আছো- যৌবনের তরঙ্গে

নেই আর রূপের সূরভী- শরীরের কাঠামোও ভেঙ্গেগেছে

বুকের ভাঁজে ভাঁজে হাহাকার! গগণ বিদারী বিষাদের ছায়া

পাষন্ড প্রেমিকেরা লুটে পুটে নিচ্ছে ভরা যৌবন!

আজ তুমি এক  যৌবনহীন ষোড়শী বালিকা

এ শীতলক্ষ্যার বুকে--

 

কেউ কি নেই শুনে  “শীতলক্ষ্যার কান্না”?

একটু ভালবাসাই পারে বিরহের ষোড়শীকে হাসাতে

ভরা যৌবনে ফিরাতে-

সে আমার সোনালি গৌরব- ঐতিহ্যের অমর কবিতা

সে আমার অনুপম প্রেম।

প্রকৃতির রূপসী কন্যা---

-----১৭-০৬-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

  

Wednesday, June 16, 2021

জেগে উঠো নব র্সূযদয়ে

 

--------মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

উৎসর্গ্ঃ জয়নাল আবেদীন খান-

(সভাপতি মাইলস্টোল মাল্টিপারপাস কোঃ লিঃ)

********************************************

প্রাণেরা বুঝতো যদি  মৃ্ত্যুর উদয়

ক্ষতবিক্ষত কতোখানি !,

ফেলে আসা দিনগুলোর আক্ষেপে

অনুতপ্ত হতো ততখানি

তুমুল স্পন্দিত হতো রক্ত কণিকাগুলো

প্রতিটা প্রহরের সন্ধ্যায়--

 

প্রাণের প্রদীপটা ধীরে ধীরে গোধূলীর দিকে যাচ্ছে

তবুও প্রভাতের দিকে ফিরে ফিরে

সূর্য্মূখী ফুটাচ্ছে ধরনীর মানুষ!

নতুন মশাল জ্বালাচ্ছে অন্ধকার রাত্রির প্রোকোষ্ঠে

একটি শুভ ক্ষণের প্রত্যাশায়--

 

প্রাণ  আর প্রত্যাশারা বুঝতো যদি জীবনের অস্তদয়

হয়তো চমকে উঠতো প্রতিটা প্রহরে প্রহরে

কতো দ্রুত ফুরায়ে যাচ্ছে স্বপ্নের পৃথিবী

তবু প্রাণেরা স্বপ্ন দেখে চিরন্তন প্রহরের

ভুলে যায় বিষাদের রাত্রি!!

 

নব উদ্দামে গেয়ে উঠে আগামী বিজয়ের গান ।

আরো বহু বেশী আনন্দদায়ক সুরে

তুমি জেগে উঠো নব র্সূযদয়ে তিমির রাত্রি-

জেগে উঠো- হে মহান আগামীর পৃথিবী!

শুভ জন্মদিন!  শুভ জন্মদিন!

--১৬-০৬-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

 

 

 

 

 

সূত্রপাত

 -------মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

 উৎসর্গ্ ঃ সন্দেহপ্রবণ দম্পতিদের প্রতি

**********************************************

আর কতো মোবাইলে কথা বলে যাবে – ওহে সুন্দুরী!!

তোমার ঘাটেই ভিড়াই ওগো মোর প্রমের তরী।

 

বুঝতে পারিনা গো কি আছে তোমার প্রাণে!

এতো ভালবাসি তুব নাহি যাও মোরে শুনে

ঝগড়া করো গায়ে পড়ে অঙ্গলি ওই তুলে

দিনে দিনে সংসার মায়া কেমন যেন ভুলে!

 

খেল শুধু যুদ্ধ খেলা সুখের গগনকোণে

বল কথা কোমাল সুরে অন্য কারো সনে

চুপি চুপি ঘরের কোণে

মোবাইল ফোন কানে

কিসের অন্বেষণে!!

 

বল দেখি মোরে!

কি অমৃত সূধা আছে ওই মোবাইলে ?

বধূ যেন ছলছল-আঁখি অশ্রুজলে

অগ্নি মূর্তি অনলে

কি এক হুঙ্কারে গর্জে উঠে দীর্ঘ্শ্বাস-প্রশ্বাস!

শুরু হলো খেলা বিশ্বাস-অবিশ্বাস

 

এ সূত্রপাত যেন নাহি আর থামে সংসার তরী!

সন্দেহের ঘূর্ণি তুফান ধেয়ে আসে প্রতিক্ষণ বাহারি

তারপর হতে উঠে নাই কভূ সুখের রবি

বধূর মোবাইলে ভাসে যেন অন্য কারো ছবি।

 

আর কতো মোবাইলে কথা বলে যাবে – ওহে সুন্দুরী!!

তোমার ঘাটেই ভিড়াই ওগো মোর প্রমের তরী।

১৬-০৬-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।