Monday, November 24, 2025

ইতিহাসে শকুনের চোখ

 ইতিহাসে শকুনের চোখ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

ইতিহাসের মাথায় আজ শকুন বসে টুপি পরে,
যেন বিদ্বান–বাবু, চোখে তার গোল চশমা ঝরে।
পাতা উল্টায় গুরুগম্ভীর, মুখে হালকা বিরহ সুর,
বলতে থাকে—“এই দেশ তো ভুলেই চলে বছর–দু’চার দূর!”

যে রক্ত দিয়ে লেখা হলো ভাষার প্রথম দৃপ্ত নাম,
শকুন বলে—“তা ভালো, তবে একটু সংশোধন করা থাম!”
মুক্তিযুদ্ধের পাতায় গিয়ে খুঁজে আনে অন্য পথ,
“এটা নাকি অতিরঞ্জন!”—মনে মনে হাসে ফোঁস–ফোঁস শ্বস।

বইয়ের ভেতর ফেলে রাখে বাকা অক্ষর, হালকা জ্বালা,
কথা বদলে দেশে বানায় নতুন কিছু “আধুনিক” কাণ্ডকারখানা।
শহীদের ছবি ঘেঁটে দেখে—“এ তো খুবই দার্শনিক!”,
তারপর নিচে লেখে দেয়—“উনি তো ছিলেন নিয়মিত সন্দেহভাজন লোক!”

রাজাকারকে বানায় সাধু—“বেশ ভালো মানুষ ছিলেন, শুনেছি”,
যে অপরাধ দিনের মতো স্পষ্ট—তা হয় “তথ্য ভুল, দুঃখিত।”
বীরের গায়ে কালো কালি মেখে বলে—“এটা গবেষণা, বোঝো কি?”,
যে গবেষণা শুনলে সাধারণ মানুষ হাসে—“এ আবার কি বুদ্ধি!”

জাতির স্মৃতি নিয়ে এমন খেলা—এ যেন শিশুর লুডো–খেলা,
সত্যকে রেখে কোণে, মিথ্যার গায়ে মেখে দেয় মধুর মেলা।
প্রজন্ম যদি জিজ্ঞেস করে—“সত্য কোনটি? কে বুঝিয়ে দেবে?”
শকুন হাসে ঝুপঝুপ করে—“সত্য তো অনেক, বাছা! কোনটা নেবে?”

কিন্তু সত্যেরও থাকে জেদ—বালুচরে লুকোয় না সে,
একদিন হাওয়ার সাথে উঠে দাঁড়ায় দৃপ্ত, নতুন বেশে।
মিথ্যার মুখোশ খুলে পড়ে—ধপাস ছিটকে দূর–কোনে,
ইতিহাস তখন বলে উঠে—“চেনা চেহারা ফিরিয়ে দে, সোনা!”

শকুনেরা যতই নখ বসাক—আলোর পথে ফেরে দিন,
কলম যখন জ্বলে ওঠে, মুছে যায় সমস্ত মিথ্যাচার–চিন।
বেঁচে থাকবে সত্যই শুধু—রবে চিরকাল অমলিন,
ইতিহাসের চোখে তখন দেবে আলো নতুন প্রজন্ম–বীণ।
------------------------------------------------------

ইবলিশের পরিচয়

 ইবলিশের পরিচয়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
 ইবলিশ সেই শত্রু, আঁধারের স্বামী,
হৃদয়ে ফোঁটাই ভয়, ভ্রান্তির তামী।

আল্লাহর নাফরমানীতে আমার গর্ব ফুঁটেছে,
অহংকারে মোড়া, অগ্নি শিখা জ্বলে উঠেছে।

সাজাই মিথ্যার বেণী, ছড়াই প্রলোভনের দ্যুতি,
মানুষের পথকে বাঁধি, দিই ভুলের ভয়ঙ্কর গতি।

সৎমনের মন দহন করি, কালে-কালে,
ধোঁকার ছলেই বোনা আমার কল্পনার জালে।

কোরআন বলে, “মানুষকে প্রলুব্ধ করব আমি,
সন্তদের পথ থেকে সরাব নানাভাবে ছলচাতুরী।“

অহংকারে ভরা, আমি সেই দুষ্ট আত্মা,
সত্যের আলোতে আঁধার, নক্ষত্রহীন খাতা।

বন্ধুর মুখে আসি, শত্রুর ছদ্মবেশে,
ভালোবাসার মুখোশে ছড়াই মিথ্যার বেণী বেসে।

যারা আল্লাহর হুকুম ভঙ্গ করে, আমি তাদের পাশে,
পথভ্রষ্ট করি, মিথ্যার ছলছলে, নিঃশেষ করি আশা।

বিপথে ডাকি, প্রলোভনে বাঁধি, ভ্রান্ত করি মন,
সতর্ক হও! কোরআন বলেছে, “এ সে ধোঁকার জন।”

সাধুদের কাছে অদৃশ্য, প্রভাবশালী আমার দ্যুতি,
সচেতন হৃদয়েই হারাই, ভ্রান্তির জালে বাঁধি সব ব্যক্তি।

সত্যের আলো মেনে চল, আল্লাহর পথে দৃঢ় হও,
ইবলিশের চক্রান্ত থামবে, হবে জ্ঞানের জয়ই চিরযৌ।
---------------------------------------


২৪-১১-২০২৫

তাকওয়ার পথে

 তাকওয়ার পথে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************************

তাকওয়ার পথে চল, হৃদয় ভরে আলোর মেলা,
নামাজে, রোজায়, করুণা প্রভুর দেখা।
ইমানের দীপ জ্বালাও, অন্ধকার সব ভাঙাও,
হে বন্ধু, আল্লাহর পথে চলো, জীবনকে আলোকিত করো।

হে প্রাণ, আল্লাহর পথে উঠো,
সত্যের দীপ জ্বালাও, পথ অন্ধকার ছুঁড়ো।

নামাজে ভরে যায় মন, রোজার ত্যাগে স্নিগ্ধ প্রাণ,
ইমানের আলোয় জ্বলে হৃদয়, অশান্তি যেন দূরিত প্রাণ।

তাকওয়া শুধু মুখের সাজ নয়, হৃদয়ে যে আলো জ্বলে,
ভয় তুচ্ছ, ন্যায় পথে চলো, পথ দেখায় প্রভুর মিলে।


তাকওয়ার পথে চল, হৃদয় ভরে আলোর মেলা,
নামাজে, রোজায়, করুণা প্রভুর দেখা।
ইমানের দীপ জ্বালাও, অন্ধকার সব ভাঙাও,
হে বন্ধু, আল্লাহর পথে চলো, জীবনকে আলোকিত করো।

নিসফারদে সহায়তা দাও, দুঃখীকে শান্তি দাও,
রিযিক ভাগ করে দাও, প্রভুর দয়া যেন সবখানে ছাও।

সত্যের পথে অদম্য হও, ধৈর্য্যশীল ও স্থির হও,
প্রভুর নাম স্মরণে রাখো, জীবন ভরে যাবে আলোকিত।

হে বন্ধু, আল্লাহর ভয়ে চলো, পাপের পথ ত্যাগ করো,
হৃদয়ের গভীরে ভর করো ভালোবাসা, অন্যায় দূরে সরো।

তাকওয়ার পথে চল, হৃদয় ভরে আলোর মেলা,
নামাজে, রোজায়, করুণা প্রভুর দেখা।
ইমানের দীপ জ্বালাও, অন্ধকার সব ভাঙাও,
হে বন্ধু, আল্লাহর পথে চলো, জীবনকে আলোকিত করো।

তাকওয়ার আলো জ্বালাও, নামাজে হৃদয় ভাসাও,
রোজার ত্যাগে হৃদয় ধুয়ে, অমল জীবনের পথ সাজাও।

প্রভুর স্মরণে শান্তি, ভরিয়ে রাখো জীবনের পাথ,
তাকওয়ার পথে চললে চির জয় হবে, অন্ধকারও হোক নিস্তব্ধ নিভৃন্ত।

তাকওয়ার পথে চল, হৃদয় ভরে আলোর মেলা,
নামাজে, রোজায়, করুণা প্রভুর দেখা।
ইমানের দীপ জ্বালাও, অন্ধকার সব ভাঙাও,
হে বন্ধু, আল্লাহর পথে চলো, জীবনকে আলোকিত করো।
------------------------------------------------


২৪-১১-২০২৫

মিথ্যা সাক্ষ্য

 মিথ্যা সাক্ষ্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

হে মানব! শোনো অন্তরের নীরব সুর,
মিথ্যার ছায়ায় হারিও না কখনো।
সত্যের পথে ধীর, দৃঢ় পদচারণা,
এ পথেই শান্তি, এ পথেই চিরন্তন আলো।

যে জবান মিথ্যা বলে, সে নিজে দগ্ধ হয়,
অন্যায়ের অশ্রু তারই ছায়া হয়।
হৃদয় খোলো, সত্যের বাণী শোনো,
মিথ্যার আঁচল ছিঁড়ে নাও, ন্যায়ের পথে দাঁড়াও।

মিথ্যা জবান শয়তানের ফিসফিসানি,
অন্যায়ের পথ খোলে অন্ধকারে।
যে সাক্ষী মিথ্যা বলে, সে আগুন হাতে ধরে,
কিয়ামতের ময়দানে লজ্জায় দগ্ধ হয়।

সত্যের কথা—মধুর, গভীর, শান্তির সুর,
মিথ্যার কথা—শূন্য, অন্ধকার, ধ্বংসের দোলা।
হৃদয়ে লিখো সত্য, পাতায় ফুটুক ন্যায়ের আলো,
মিথ্যার ছোঁয়া দূরে করো, উঁচু করো পতাকা।

উঠো! শোনো সত্যের নীরব গান,
যেখানে সত্য আছে, সেখানে হার মানে না কেউ।
মিথ্যার ছায়া উড়ে যাবে,
ন্যায়ের দীপ জ্বলে চিরন্তন আলোয় হৃদয় আলোকিত হবে।

হে মানব! জবান শুদ্ধ করো, কলম শুদ্ধ করো,
সত্য বলো—নির্ভীক, দৃঢ়, অন্তরে আলো জ্বালো।
সত্যের পথে উঁচু দাঁড়াও,
এ পথেই মুক্তি, এ পথেই আলোর সহযাত্রী হবে।
---------------------------------------------------


২৪-১১-২০২৫

কোন চেতনায় ছুটেছি?

 কোন চেতনায় ছুটেছি?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

হে জাতি! প্রশ্ন করি— কোন চেতনায় ছুটছ আজ?
রক্তে লেখা স্বাধীনতার পথ কি হলো বেদনার সাজ?
কোথায় সেই বজ্র-বীর্য, সেই অহংকার, সেই দীপ্ত শপথ—
যার অনলে দগ্ধ হয়ে ছারখার হয়েছিলো শত্রুর রথ?

পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে আমরা যারা হয়েছি মুক্ত,
আজ কি তাদেরই সন্তান হয়ে গেছি স্বার্থলোভে আবদ্ধ?
স্বাধীনতা কি শুধু কাগুজে শব্দ—হয়ে গেছে ক্ষয়ে?
নাকি ক্ষমতার নেশায় জাতি হারাচ্ছে মূল চেতনার স্রোতে ভেসে?

হায়! আজ দেখি দুঃসহ দৃশ্য—
ওরা কারা? যারা শ্রেষ্ঠ সন্তানদের দেয় জুতার মালা!
মুক্তিযোদ্ধার বুকে দেয় অপমানের দাহ,
স্মৃতিসৌধ ভাঙে, মিনারে আঘাত হানে,
জাতীয় সংগীতের সুরে তোলে বিষাক্ত দৃষ্টি—
বাঙালির সংস্কৃতি মুছতে চায়,
শত্রুর মতো ছুঁড়ে ফেলে স্বাধীনতার ইশতেহার!

ওরা কোন মীর জাফর? কোন বিশ্বাসঘাতের বংশধর?
যাদের বুকে মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনলেই জ্বলতে থাকে ঘৃণার ঘোর?
জাতি কি এখনো তাদের চেনে না?
চেনে না সেই বিষাক্ত মুখ—
যারা মাঝে মাঝে বন্ধু সাজে,
আর পেছন থেকে ছুরি মারে শিকড়ে, শেকড়ে, ইতিহাসে?

হে জাতি! শুনো—
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ফলক যারা ভাঙে,
স্বাধীনতার মানচিত্র যারা মুছে দিতে চায়,
তারা স্বাধীনতার বন্ধু নয়—
তারা জাতির ভবিষ্যৎ শত্রু!

জাগো বাঙালি! আবারও জাগো—
রক্তে পাওয়া স্বাধীনতা আজ নিরাপদের প্রশ্নে!
এ প্রজন্ম কি রাখবে তার দায়িত্ব?
নাকি লোভ-অভ্যাসে হারাবে জাতির আত্মার দীক্ষা?

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আজ অবক্ষয়ে—
এই অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে চাই বজ্র-বিক্রমে দাঁড়ানো,
চাই অগ্নি-জাগরণ, চাই শপথের তলোয়ার—
যে শপথে বলবে জাতি—
“স্বাধীনতা হারাবো না!
দেশের মান লুটতে দেবো না!
শহীদের রক্ত অশ্রদ্ধা করতে দেবো না!”

চলো জাগি আবার—
নজরুলের অগ্নিশিখা বুকে ধরে,
স্বাধীনতার রক্তলেখার শপথ নিয়ে—
চলো দাঁড়াই সেইসব বিশ্বাসঘাতের বিরুদ্ধে
যারা আজও ইতিহাসে বিষ ঢালে!

চলো জাতি!
এই প্রশ্নের উত্তর দেই—
আমরা স্বাধীনতার যোগ্য কি না!
চলো প্রমাণ করি—
এই দেশ, এই মান, এই স্মৃতি—
আমরাই রক্ষা করবো!

জাগো বাঙালি—
মুক্তির চেতনায় আগুন জ্বালো—
আজও যুদ্ধ, আজও সংগ্রাম—
স্বাধীনতার মান রক্ষারই পরাক্রম-ঘোষণা!
------------------------------------------------------


২৪-১১-২০২৫

Sunday, November 23, 2025

কে নিরপেক্ষ?

 কে নিরপেক্ষ?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

বলতো কে নিরপেক্ষ?
ছাত্র জনতা! শিক্ষক! অধ্যাপক!
ডাক্তার! উকিল! ব্যারিস্টা! সাংবাদিক!
সরকারি! বেসরকারি! চাকুজীবি!
বণিক! শিল্পী! কলাকুশলী! আম জনতা!
সবাই চাটুকার! সবাই দলে বাঁধা!

হা—সত্য কোথায়?
হা—দেশ প্রেম কোথায়?
মুখে হাসি! চোখে মায়া!
অন্তরে শূন্যতা! হৃদয়ে আগুন!

পত্রিকার পাতা রঙিন মিথ্যে!
রাস্তায় ঝাঁপ দেয় লোভের ঢেউ!
শিক্ষক শেখায় নিজের দলের খেলা!
ছাত্র শিখে চাটুকারীর গান!

হে জনতা! চোখ খুলে দেখো!
দলে বাঁধা সব চিঠি! সব চাটুকার!
সত্যের মুখ চেপে যায়!
মিথ্যার রাজ্যে মরিছে নিরপেক্ষতার সোহাগ!

হৃদয়ের বালিয়াড়ি কাঁপে!
দেশের শিহরণে ঝরে ব্যথার জলধারা!
কেউ বলে না—“প্রাণপ্রিয় দেশ!”
কেউ করে না—সৎ প্রেমের শপথ!

বলতো কে নিরপেক্ষ?
এই শূন্য দেশে!
যেখানে শাসক-শিশুর হাসি এক!
মিথ্যা-সত্যের লড়াই রক্তঝরা!
সবাই বন্দী! সবাই দলে বাঁধা!
সবাই চাটুকার! কেউ স্বাধীন নয়!
----------------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

সাংবাদিক যখন রাজনৈতিক চাটুকার

 সাংবাদিক যখন রাজনৈতিক চাটুকার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

হে সংবাদিক! কোথায় হারালে তুমি স্বাধীন দৃষ্টি,
যেখানে জনমানুষের কান্না, সেখানে আর নেই তৃষ্ণা?
কলমে আগুন, কথায় বিদ্রোহ—আজ ধোঁয়া কুয়াশার চাদরে মিশে,
রাজনীতির কণ্ঠে বাঁধা, চাটুকারির রঙে রঙিন হয়ে।

শহর-গ্রামের প্রতিটি কোণে,
তোমার পায়ের ছাপ মুছে গেছে ভয়ানক চাপে,
শব্দগুলো সাজানো, সত্যের ছায়া হারালো,
রাজনীতির প্রশংসায় কলম নাচে, জনগণের চিৎকার মুছে যায়।

একদিন তুমি বাজিয়েছিলে স্বাধীনতার শঙ্খ,
আজ সেই শঙ্খ নিঃশব্দ, চাপে বাঁধা,
মিথ্যার নাচনায় কলম ঢেলে,
সত্যের আলো অন্ধকারে হেরেছে, নিঃশব্দে।

কিন্তু মনে রেখো—জনগণ তোমার চোখে তাকায়,
শুধু খবর নয়, তারা খোঁজে স্বপ্নের আলো,
চাটুকারির সিংহাসন যত উঁচু,
সত্যের কণ্ঠ চিরজাগ্রত, অদম্য, অবিচল।

সাংবাদিক! চাও কি চিরকাল চুপ থাকা?
কিম্বা আবার বাজাও কলমে বিদ্রোহের শঙ্খনাদ,
যেন নদীর মতো নির্ভীক জল বয়ে যায়,
চাটুকারির কালি কখনো তোমার পথ বন্ধ করতে পারবে না।
------------------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

নেতা সে বুক উঁচিয়ে

 নেতা সে বুক উঁচিয়ে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************

যদি হও তুমি সাহসী, কেন পিছু তাকাও হে!
চিতা কভূ নয়, পিছু তাকায় শিকারী ধরার প্রত্যয়ে।

জেতে হবে সম্মুখে, শত বঞ্চিতের স্বপ্ন ধরায়,
তুলতে বিজয়ী নিশানা, পর্বতের চূড়ায় উড়ায়!

মাসুম সরকার—নেতা সে বুক উঁচিয়ে,
বলবে জনতার কথা, দুঃখী মানুষের কাহিনী,
সত্য ও ন্যায়ের ঝর্ণা বইবে তার অন্তরে।

সে দাঁড়ায় অন্ধকারের বিপদে,
মাদক, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অস্রবাজির ধ্বংসগতি!
খুন, গুম, ধর্ষণ, দখলবাজির নিকষ ছায়া—
তার সাহসে ভেঙে যায়, চূর্ণ হয় প্রতিটি দুষ্টাচার।

কিসের হিমেল, কিসের তপ্ত—সবই যেন সিগ্ধময়,
প্রতিটি পদক্ষেপে তার ঝড়ে উড়ে যায় মিথ্যার বর্জ্য।

সে কভূ হয় না নত শির,
দুর্গমগিরি, কান্তার মরুর মাঝি।
লঙ্গিতে জানে উত্তাল সমুদ্র, অন্ধকার রাত,
তবুও ভয় নয়—তার বুক উঁচিয়ে, জনতার আশা ঝলমল।

মাসুম সরকার—যিনি শোনেন চিৎকার, কান্না, করুণার শব্দ,
দান করেন সাহস, জ্ঞানের আলো, ও ন্যায়ের পথে নেতৃত্ব।

শ্রদ্ধা তার প্রতিটি নিঃশ্বাসে,
প্রতিটি পদক্ষেপে লুকিয়ে আছে সত্য ও ন্যায়,
এক অমর প্রতীক—বুক উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে,
অন্ধকারের সব শক্তি চূর্ণ করে,
জনতার স্বাধীনতার দীপ জ্বালিয়ে।

শ্বাসে শ্বাসে বয়ে চলে জনতার স্বপ্ন,
চোখে চোখে জমে থাকে নিঃসঙ্গদের আশা।
মাসুম সরকার—নেতা সে বুক উঁচিয়ে,
দৃঢ় চেতনায় জাগ্রত,
যেন প্রতিটি বাঁধা ভেঙে, স্বাধীনতার গান গায়!
----------------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

আবেগের উত্তেজনায়

 আবেগের উত্তেজনায়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

আবেগের উত্তেজনায় মানুষ ভেসে যায়—
অচেনা নদীর ঢেউয়ের মতো নিঃশব্দে,
রাতের আকাশে ছড়িয়ে অজানা শ্বাস।

মিছিলে মিছিলে ছুটছে তারা,
নেতার পিছু, বাতাসে মিশে যায় শূন্যতা,
সন্তান-স্ত্রী-পিতার মুখ দূরের আলো হয়ে জ্বলছে স্মৃতিতে।

দলের স্লোগান—
মন্ত্রমুগ্ধ শব্দের মতো
বুকের ভেতর গেঁথে রাখে মানুষকে,
কিন্তু ফেলে দেয় মরুভূমির মতো জীবন।

কত তরুণ হারায় পথের ধুলোয়,
কত জীবন নিভে যায় রক্তে ভিজে থাকা শহরের ছায়ায়,
কেউ চাঁদাবাজির গলিতে,
কেউ সন্ত্রাসের অরণ্যে,
মিথ্যার কুহেলি ঢেকে দেয় সত্যের আলো।

উত্তেজনার আগুন—
দেশকে শীতল বিষে ঢেকে দেয়,
গুম-হত্যার কালো রাত্রি জন্ম দেয় নিস্তব্ধ অগ্নির।

হে পথহারা কর্মী,
এ কি তোমার জীবন?
অন্ধ আবেগের ভাঙা নৌকায় ভেসে যাওয়া?
সন্তান-স্ত্রী-পিতার চোখ অচেনা হয়ে গেছে কি?

শোনো—
নীরবতার ভেতর রয়েছে পথ,
মানুষ হয়ে থাকার একমাত্র দায়—
আলো খুঁজে নেওয়া নিজের অন্তর থেকে।

অবশেষে, দেশের জন্য দাঁড়ানো—
হল নীরব, চুপচাপ,
কিন্তু চিরন্তন।

যে আলো জ্বেলে,
সেই বোধের দীপ
পাথরের মতো নিস্তব্ধ,
মানুষকে আবার তার মানুষি স্মরণ করায়।
---------------------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

ভোটার যদি অন্ধসমর্থক হয়

 ভোটার যদি অন্ধসমর্থক হয়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

ওহে ভোটারগণ, শোনো আজ জাগরণের ডাক—
তোমরা যদি অন্ধসমর্থক হও, হারাবে জাতির স্বপ্নের ফাঁক।
একটি ভোট শুধু কাগজ নয়,
এ এক জাতির প্রভাত-সূর্য, নতুন দিনের অগ্নিমন্ত্র হৃদয়ময়।

সে সূর্য যদি সোনালী আলোয় না জ্বলে,
দিবস ডুবে যাবে অন্ধকার অনলে।
অযোগ্য নেতার ছায়ায় দেশ হবে ক্ষত-বিক্ষত—
উঠবে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, দখলবাজের দুষ্ট শক্ত।

সন্ত্রাসী, সেন্ডিকেট, গুমহত্যা— যাবে ছড়ায়ে,
দেশবিরোধী ছায়া পড়বে এ প্রিয় মাতৃভূমির গায়ে।
সত্যকে গলা টিপে মারবে অপশক্তি,
অন্যায় হবে রাজা, নিপীড়ন হবে নিত্য দিনের বৃত্তি।

তাই দলকানা নয়— বিবেক হোক তোমার পথের প্রদীপ,
যে প্রার্থী ন্যায়বোধে দৃঢ়, তার হাতেই দাও আমানতের সঠিক নসীব।
কারণ ভোটারের সিদ্ধান্তেই জাতি গড়ে, জাতি ধ্বসে,
একটি ভুলেই প্রজন্ম হারায়, ভুলের বোঝা বয়ে চলে বসে।

ওহে ভোটারগণ, জাগো!
জাতির জন্য ভোট দাও, দুর্নীতিবাজের জন্য নয়—
আবেগ নয়, বিবেক হোক তোমার হাতিয়ার,
তোমার ভোটেই বদলাবে দেশ, উঠবে নতুন ভোর এবার।
-------------------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

 মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************

হে স্বাধীনতার দীপ্ত জ্যোতি—
তুমি চির অবিনশ্বর, অমলিন আগুনের আলো!
তোমার হাত ধরেই জাগে বাংলার প্রাণ,
গর্জে ওঠে লাল-সবুজের বিজয়ের কালো।

কে রুখিবে তোমার পথ?
এই মাটিতে শহীদের রক্তের নীলাম্বরী শপথ—
যাকে ছাড়া স্বাধীনতার অস্তিত্ব কল্পনাই করি না,
তিনি বাঙ্গালির বুকের কম্পন, মুক্ত আকাশের প্রার্থনা।

যে রাতে ছিলো শৃঙ্খলের ছায়া,
সে রাত চূর্ণ করে ভোরের আলোয় উঠে দাঁড়ায় মায়ের মাইয়া ছায়া!
দুঃসাহসী মুক্তিযোদ্ধারা, স্যালুট তোমাদের—
তোমাদের রক্তে লেখা হয়েছে বাংলার আকাশ ডানার।

লক্ষ শহীদের আত্মবলিদান—
আমাদের পতাকায় জ্বলে জীবন্ত জ্বালান,
লাল-সবুজের প্রতিটি বিন্দু আজও বলে,
“স্বাধীনতার দাম স্বাধীন রক্তেই চলে!”

যারা এ চেতনাকে অস্বীকার করে,
তারা নহে কখনো স্বাধীন বাংলার প্রতিনিধি রে—
তাদের নয় মুক্তির গান, নয় বিজয়ের ধ্বনি,
বাংলার মানচিত্রে তাদের নেই কোনো পরিচয় ধ্বনি।

আমার সোনার বাংলা—
তুমি আমাদের প্রাণের স্পন্দন, হাজার বছরের শেকড়!
তোমার বুকেই জন্ম নেয় আমার প্রতিবাদ, আমার বিদ্রোহের মেকড়।
নজরুলের ঢঙে আজ বলি—

জেগে উঠো হে বাঙালি!
দাবায়ে রাখতে পারে নি, পারিবে নাকো কোনোদিনই—
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের বজ্র-শপথ,
এই মাটিই আমাদের পথ, রক্তে রাঙা শৌর্যের রথ।

যতদিন গাইবে বাংলার সন্তান—
"আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি”—
ততদিন মুক্তির আগুন নিভিবে না,
ততদিন বাঙালি থাকবে বিজয়ের আলোকধারায় হাসি।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা—
চির অমর, চির বিপ্লব, চির স্বাধীনতার ভাষা!


২৩-১১-২০২৫

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

 মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************

হে অগ্নিজ্যোতি! হে স্বাধীনতার শিখা!
তোমার চেতনায় কাঁপে পদ্মা, গর্জে আকাশ—
লাল-সবুজে আঁকা মুক্তির রথ,
শহীদদের রক্তে লেখা বিজয়ের ভাষা!

দেখো! হাতে পিস্তল, বুকের ভিতর তুফান,
বীরেরা দাঁড়ায়—শপথে লেখা চির অমর গান।
যে স্বপ্নে তারা জাগে,
যে রাত শৃঙ্খল ভেঙে দেয়,
তার প্রতিটি ধ্বনি আজও বাজে আকাশে!

হাজার প্রাণের আত্মত্যাগ—
লাল রঙের প্রতিটি বিন্দুতে বিজয় স্পন্দিত,
সবুজে ভরা মাঠে বাজে শহীদদের চিত্কার,
মুক্ত বাংলার মর্যাদা গর্জন করে,
বিপ্লবের শ্লোগান বয়ে চলে নদী, পাহাড়, আকাশ!

হে বাঙালি! জাগো—
এখনই সময় আত্মসমর্পণের নয়!
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তোমার হাতের তরোয়াল,
শব্দে, পদে, রক্তে বাজুক বিপ্লবের গান!

যারা আমাদের চেতনাকে মুছে দিতে চায়,
তাদের পথ বন্ধ করো—
লাল-সবুজের পতাকায় জ্বলুক প্রতিটি বিন্দু,
শহীদদের আত্মার স্পন্দনে বেঁচে থাকুক চির অমলিন মর্যাদা!

আমার সোনার বাংলা—
তুমি শুধু মাটি নয়,
তুমি বিদ্রোহ, তুমি মুক্তি, তুমি চিরন্তন অহংকার।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা চিরজাগ্রত, চির বিপ্লবী,
চির স্বাধীনতার অমোঘ প্রতীক!

জেগে উঠো হে বাঙালি!
লাল-সবুজে বাজুক বিজয়ের গর্জন—
এই মাটি আর মুক্তির সঙ্গী হোক চিরকাল!
------------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

ভোটের গুরুত্ব

 ভোটের গুরুত্ব

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************
জাগো হে স্বাধীন জনতা! তোলে আওয়াজ শঙ্খধ্বনি,
ভোটের অধিকারে জ্বলে উঠুক মুক্তির দীপের জ্বানি।
শৃঙ্খল ভাঙার গান যে গাইলে বহুদিন ধরে,
আজ সেই শক্তি তোমার হাতে—ভোটের কাগজ ঘরে ঘরে!

গণতন্ত্রের বুকে লেখা— “মানুষই সবার রাজা”,
জনতার শক্তি ছাড়া কোনো সিংহাসন নয় তাজা!
একটি ভোট—তরবারি যেন, অত্যাচারীর বুকে লাজ,
একটি ভোট—আলোর মশাল, অন্ধকারে আনে সাজ।

হে দুর্জয় নাগরিক! তোর ভোটেই বদলায় দেশ,
মিথ্যার মুখোশ খুলে ফেলে সত্যের বজ্র-উপদেশ।
যে করে অন্যায় দম্ভে—তাকে ভাঙার তোরই ডালি,
ভোটের চিহ্নে রেখে যা দাগ, আধিপত্য সব হয় খালি।

নাই ভয়ে, নাই বাধায়—ভোটাধিকার তোর রণজয়,
এ অধিকার রক্ষা করতে জীবন দিলো কত সহস্র!!
আজ তোর হাতে সে তপস্যা—বুকে রাখিস অমূল্য স্নেহে,
ভোটের মেঘে জাগুক গর্জন, বজ্রের মতো মহাস্মেহে।

যে ভোট দেয় না, সে নীরবে দেশের প্রতি করে অপরাধ,
নাই দায়িত্ব, নাই জাগরণ—বুঝে না স্বাধীনতার সাধ।
তাই বলি—জাগো রে শোনো! ওঠো রে সত্যের দুয়ারে—
ভোট দাও নৈতিকতায়, আনো নতুন ভোরের পাঁয়োনারে।

গর্জে উঠুক মানুষের কণ্ঠ—
“হক আমার! অধিকার আমার!”
ভোটের শক্তি আসমানে তোলে
দেশের গৌরব, ভবিষ্যৎ সুন্দর।

হে জনতা! ভোটই তোমার বজ্র, তোমার তূর্য, তোমার জয়—
ভোট দাও ন্যায়-শান্তিতে, গণতন্ত্র হবে অমর-অজেয়!
-----------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

সৎ স্বামী সদা কিপটা

 সৎ স্বামী সদা কিপটা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************

সৎ স্বামী সদা কিপটা! হায়, কত করুণ ব্যথা তার মনে!
চোখে অশ্রু ঝরে নদীর মতো, ভাঙে হৃদয় তার ঘরে।

“তুমি কি কচুটা করেছো?”—শোনে প্রতিদিন অভিযোগের তীর,
না আছে বাড়ী, না আছে গাড়ী, নেই ধন-সম্পদের কিছুই পরী।

চাকরি করে সে, পিয়নও ব্যস্ত, ঘরে আনন্দ কোথায় আসে?
দেখে তারা খুশি, হাসে—কিন্তু তার ঘরে নিঃশব্দ অশ্রুস্রোত বাজে।

নিজের জন্য কিছু নেই, পরিবারের জন্যও নেই তো প্রলয়,
বললে “টাকা নেই”—হৃদয় ভাঙে, অশ্রু ঝরে অমল ধোয়ার মতো।

সন্তানের চাহিদা অমেটা, ঝগড়া ঘরে দহন করে প্রতিদিন,
সৎ স্বামী সদা কিপটা, নিঃশব্দ, চোখে অশ্রু, মুখে অদৃশ্য অগ্নিপিন।

সুদ, ঘুষ, উপরি টাকা—কিছুই খায় না সে,
লুটপাট, দুর্ণীতি—জগৎ তার কাছে নিষ্ঠুর খেলা মাত্র।

(পল্লব – গভীর নাট্য আবহ)
নিরবে কাঁদে সে, ঘরের কোণে অশ্রুমালা ঝরে,
মর্যাদা হারানো অবিভাবক, সংসারের ছায়া ঘিরে।

সন্তানের হাসি অম্লান, স্বপ্ন ভাঙে ধূলিমাখা পথে,
তার চোখে শুধু করুণার ছায়া, মন ভেসে যায় নিঃস্বার্থ তীরে।

প্রতিদিনের ক্ষুধা, অভাবের আগুনে পুড়ে যায় দেহ,
কিন্তু সে নিরবে সহ্য করে, হৃদয়ে আঁকা শুধু করুণার রেখা।

ঘরের দেয়ালও শোনে সব, কষ্টের হাহাকার বয়ে যায়,
অশ্রুমালা মুছে না কেউ, প্রতিটি আঘাত তার মনে দগ্ধ ছায়া।

সৎ স্বামী সদা কিপটা, জীবন বয়ে চলে ধীরে,
প্রতিটি অশ্রু—তার জীবনের একেকটি নীরব দুঃখচিহ্নেরে।

হে পৃথিবী, দেখো তার করুণা, নিস্পৃহতায় ভরা হৃদয়,
যেখানে অর্থ নেই, মর্যাদা নেই, শুধু মানবিক দুঃখের অমল আলোয়।
------------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

যিলযাল

 যিলযাল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

হে মানব, শোনো ইয়িলযিল’এর হাহাকার,
পাহাড় ভেঙে, নদী ছুটে যায়, বাতাসে বজ্রের গর্জন আকার।
আল্লাহু আকবার, কেঁপে ওঠে দুনিয়ার সব তল,
ভয় নয়, শিক্ষা নয়, ইমান’ই জাগায় প্রাণের কল।

ধরতি কেঁপে ওঠে, ঝরছে পাহাড়ের রক্ত,
রাহিম আল্লাহ’র দয়া, ক্ষয় নয়, শিক্ষা শুধু সতর্ক।
কাঁপন শিখায় মানুষের অন্তরে সাবর ও তাকওয়া,
দোয়া ধরো, সালাত ধরো, রহমতের আলো ছড়াও ধারা।


আকাশ ফেটে পড়ে বজ্র, যিলযিল শব্দে তুফান,
ধ্বংস নয়, প্রেরণা, তাওবা’র আলোই প্রাণ।
হে মানব, দুঃসাহস নয়, সতর্কতা ধরো অন্তরে,
আখিরাত’র প্রেরণা মনে রাখো, দুনিয়ার লোভ ত্যাগে করো ধীরে।

শোনো! জমিন কেঁপে ওঠে, নদী চূর্ণ, পাহাড় ভাঙে,
ভয় নয়, শিক্ষা নয়, তবে ইমান শক্তি জাগে।
ইলাহি শক্তি প্রমাণ দেয়, শাস্তি নয়, আহবান,
হৃদয়ে জাগুক আলোর দীপ্তি, সাবর ও দয়া হোক প্রাণ।

হে মানব, কাঁপন কেবল শব্দ নয়, আল্লাহর ইশারা,
ভয় নয়, শিক্ষা নয়, তাওবা ও তাকওয়া’র প্রেরণা পায় অন্তরকারা।
যিলযিল’এর ঝাঁকুনিতে জীবন জানে ক্ষণিকের সত্য,
ভূমি, পাহাড়, নদী, আকাশ, সবই শিখায় আল্লাহর রহমত।
------------------------------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

ভূমিকম্পের প্রতিটি ধাক্কা

 ভূমিকম্পের প্রতিটি ধাক্কা


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

কাঁপে ধরনি! ওঠে বজ্র—কার আদেশে থরথরি?
রবের গর্জন বজ্রধ্বনি, দুনিয়া আজ কেনো অন্ধ-অহংকারী?
জমিন যখন বুকের ভিতর আগ্নি হয়ে কেঁপে ওঠে,
কোরআনে সেই বাণী লেখা—যিলযালাহর রণকোঁটে!

বলল রবঃ “যখন কাঁপিবে জমিন ভয়ংকর কাঁপনে,”
মানুষ তখন খুঁজবে পথ—কে বাঁচাবে সেই দাপটে?
হায়! গুনাহ যখন ছড়ায় ধূলি হয়ে আকাশ-বাতাসে,
অশ্লীলতার আগুন জ্বলে অন্তরে ও ভাষায় সর্বনাশে,
জুলুম যখন ছায়া ফেলে রক্তমাখা সমাজ-গাছে—
তখন ধরনিই কাঁদে প্রথম, মানুষ জাগে সর্বশেষে!

রাসূল বলেছিলেন অশ্রুস্বর—
“জুলুম বাড়লে কাঁপে ধরতি”—বিচারেরই ঘোষণা,
মানুষ যেন ফিরে আসে স্বীয় রবের দরবারে—
নয় তো ভেঙে যায় দালানকোঠা, ধুলায় মেশে অরণ্য-নগরখানা।

হে মানুষ! ভয় যদি পাও, তবে ভবে কেনো এত কঠিন?
যে আল্লাহ কাঁপান ধরতি, তিনিই দেন আস্তিন–
তওবার বৃষ্টি, রহমতের ছায়া, শান্তি-দানের কূপ,
ফিরে গেলে তাঁরই পথে, ভয় সব ভেঙে যায় সম্পূর্ণরূপ।

করণীয় কী? শুনো তবে—
— পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে দাঁড়াও, ঈমানকে করো উচ্চ পর্বত,
— গুনাহ হতে তওবা করো, মন করো ধুয়ে নির্মল স্রোতে,
— জুলুম ত্যাগ, সত্যে দৃঢ়, করো ন্যায়ের পতাকা উড়ে,
— অসহায়-দরিদ্র পাশে দাঁড়াও সদকার দীপ্তি ধরে।

কাঁপুক ধরতি—ঈমানী হৃদয় কাঁপবে না এক শল্ক!
যে রব সৃষ্টি করেন কম্পন—তাঁরই হাতে নিরাপদ সব পথ।
ভূমিকম্পের প্রতিটি ধাক্কা যেন তওবার ডাক—
ফিরে চলো! প্রভুর দ্বারে—রহমতের আলো আজও অক্ষয়।
------------------------------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

Thursday, November 20, 2025

আশরাফুল মাখলুকাত

 আশরাফুল মাখলুকাত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

আল্লাহর কুদরতে খুঁজে পাই
মানবের দীপ্তি,
চিরদিন মোর অন্তরে।
মাটির কণায় শ্বাস আমারে
আত্মার স্রোতে ভাসায়,
হৃদয়ে সদকা, নেকি বয়ে চলে
আলোর পথে।

কোরআনে লেখা, শোনো বান্দা,
“মানুষের জন্য বানিয়েছি আমি দয়া,”
প্রতিটি প্রাণকে সেবা শিখায়,
প্রতিটি জীবনে আলো ছড়ায়।
নদী, বাতাস, ফুলে ফুলে,
চন্দ্র-তারার আলোয়
মানুষের হৃদয় ভরে আনন্দে।

সেরা তোমাদের, যারা মানুষকে উপকারী,
চিরন্তন প্রেরণার সঙ্গী,
জ্ঞান, ধৈর্য, নেকি মিলায়,
অন্তরের গহরে আলোর গান।
আশরাফুল মাখলুকাত মানব,
নেক কাজের প্রতীক,
সৃষ্টির পথে আলোকিত হোক।

আজকের বিকেলে, অন্তরের আলো জ্বলে,
হৃদয়ে সদকা, কাজের ইমান—
মানবের আলো বয়ে আনে।
প্রকৃতির ছন্দে, নদী, বাতাস, আলো,
হোক প্রেমের সোনালি প্রবাহ,
প্রতিটি নীরব ক্ষণে
প্রতিটি সৃষ্টির দ্যুতি।

মানব হোক আলোর পথে, পথিকের দিশারী,
জীবনের প্রতিটি ক্ষণ যেন আলো ছড়ায়।
আল্লাহর রহমত, দয়া, আলো—
চিরন্তন মানবের দ্যুতিক।
আশরাফুল মাখলুকাত মানব,
নেক কাজের প্রতীক,
হৃদয়ে চির অমলিন।
-------------------------------------


২০-১১-২০২৫

হঠাৎ মৃত্যু

 হঠাৎ মৃত্যু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া, গাজীপুর
********************************

হঠাৎ মৃত্যু আসে, জানি না কখন,
প্রভুর পথে চলা হোক সবার জীবন।
নামাজে বাঁধা হৃদয়, দোয়ায় ভরা মন,
সদকাহ নেক কাজ রাখি, মৃত্যুর দিন হোক ধন।


আল্লাহর রহমত অসীম, অফুরান,
হঠাৎ মৃত্যু প্রভুর পরীক্ষা, আশ্রয় সকল প্রাণ।
প্রিয়জন চলে গেলে, শূন্য হয়ে যায় মন,
কোরআন বলে স্মরণ কর, মৃত্যুর দিন আল্লাহ হয় সঙ্গী প্রাণ।


হঠাৎ মৃত্যু শিক্ষা দেয়, দুনিয়ার সব অস্থায়ী,
তাওহীদ মানলে জীবন হয় পূর্ণ, মন হয় শান্তায়ী।
সৎ পথে চলা হোক, নৈতিকতার আলো জ্বলে,
মৃত্যুর ভয় হোক প্রভুর কাছে, দোয়া ও ভালোবাসায় ভরে।

প্রভুর হুকুম মানলে, মৃত্যুর দিনও আনন্দে ভরে,
বিশ্বাস নেক কাজ নিয়ে চল, হোক জীবন অমলিন গানে ভরে।
প্রতিটি মুহূর্তে স্মরণ কর, মৃত্যু যে হঠাৎ আসে,
নেক কাজ, তাওহীদ, নামাজে বাঁধা জীবন সাজাও, হে ভাই হে বোন সবাই।

হঠাৎ মৃত্যু আসে, হঠাৎ মৃত্যু আসে,
নেক কাজ, তাওহীদ, নামাজে বাঁধা জীবন সাজাও।
------------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

বখাটে সন্তান জাতির অভিশাপ

 

বখাটে সন্তান জাতির অভিশাপ
মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

বখাটে সন্তান জাতির অভিশাপ
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************

অভিভাবক! কেন আজ তুমি ঘুমাও অলস নিশ্চিন্ত কোলে?
সন্তান তোমার অচেনা পথে—রাত্রি জাগে হেলে দোলে!
পড়ার টেবিল ফেলে রেখে মোবাইলে ডোবে মায়া জালে,
কে জানে কোন অন্ধ কারাগারে আটকে যাচ্ছে ভবিষ্যৎ কালে!

তুমি শুধু দাও ইচ্ছের সোনা—শাসনের নেই কঠোর শপথ,
এই দায়হীন স্বাধীনতায় ছেলে-মেয়ে হাঁটে বিপথে শত।
মাদক লেগে বিষের ঢেউয়ে দুঃস্বপ্ন নামে কিশোর বুকে,
বন্ধুর নামে দস্যু ওড়ে—টানে তাকে অতল সুখে-দুঃখে!

কেউ সাজে প্রেমের নকল মুখোশে—অবৈধ আগুন জ্বালে প্রাণ,
নষ্ট পথে জন্ম নেয় শত দুঃখ—কাঁদে বিবেক, কাঁদে আইন-জ্ঞান।
দখলবাজি, চাঁদাবাজি, রাহাজানি—কানে বাজে বিদ্রোহী ঘণ্টা,
কিশোর গ্যাংয়ের রক্তমদিরা ছাপিয়ে দেয় জীবন-চিত্রা।

লেখাপড়া ছুঁড়ে ফেলে অন্ধকারে—চোখে নেশার ঝড়ের নাচ,
বাবা-মায়ের বুক চিরে ওঠে কান্না—শেষে আত্মহত্যার কাঁচ!
তোমরা যদি আজও না জাগো—জাতি হবে শবের সমাধি,
শাসনহীন সন্তান জাতির শত্রু—তাদের মনে বিষের বাঁধি!

হে অভিভাবক! আজ উঠো জেগে—হও সন্তানের রক্ষাকবচ,
ভালোবাসার আয়রন রডে গড়ো তার চিত্ত, করো মনকে উন্নত!
নজরুলের সেই অগ্নি-কণ্ঠে ডাকি—
“জাগো মানব, জাগো পিতা-মাতা, নাও শাসনের অগ্নি-শপথ!”

বখাটে সন্তান জাতির অভিশাপ—
সততার পথে ফিরিয়ে আনা অভিভাবকেরই পবিত্র দায়িত্ব!
------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

ধূপমানের ক্ষতি

 ধূপমানের ক্ষতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************
ধূপের ধোঁয়া আজ উঠিছে জাগি— অন্ধকারের বিষদূত রূপে,
মানুষ ঘুমায়, ঘর জ্বলে ক্ষয়ে— মৃত্যুর ছায়া লুকায় ধূপে!
হে মানব! তুই জাগবি কবে? নিশ্বাস কেন আজ শিকলে বাঁধা?
বিজ্ঞান বলে— ক্ষুদ্র কণা যেন রক্তে ঢোকে তীরের সাধা!

ফরম্যালডিহাইড— বিষের তরবারি, ফুসফুস কাঁপে দুঃখের ক্ষয়ে,
ধূপের গন্ধ নয়, এটি মৃত্যুর মুখোশ— নিশ্বাস কেড়ে নেয় হঠাৎ ধেয়ে।
হে তরুণ! হে বৃদ্ধ! হে মা! শিশুরা শ্বাস নেয় কোন অপরাধে?
ধোঁয়ার ভিতর লুকিয়ে থাকে মৃত্যুর রথ— করুণ অশনীসাধে!

অর্থের ক্ষয়— সংসারের কাঁধে দুঃখচূড়া হয়ে ওঠে চূড়াল,
ধূপ মানিতে টাকা যায়, পরে রোগে বিল হয় পর্বতকাল!
কে শোনে! কে বোঝে! ধোঁয়ার নেশায় হারায় ঘরের পবিত্র আলো,
যে গন্ধ ছড়ায় ক্ষণিক সুখ— সে-ই পরে আনে দীর্ঘশোকের কালো!

সামাজিক পথে ছড়ায় বিবাদ— ধোঁয়া গিয়ে পড়ে পরের জালে,
কান্না ওঠে শিশুর বুকে, বৃদ্ধের বুকে ব্যথা চালে।
ভাইর ঘরে বিষ ঢোকে কেন? ধোঁয়ার নামে কুসংস্কার,
মানুষ মানুষ হতে দূরে— ধূপের ধোঁয়া জ্বলে আঁধার।

ধর্মের ঘরে ধূপের ধোঁয়া— মনোযোগ কেড়ে নেয় নির্মল তাপ,
ইবাদতে শান্তি চায়— ধোঁয়া এনে দেয় ছিন্ন ছাপ।
খুশু-খুজুর স্রোত ভেঙে— মন ভাসে উদ্বিগ্ন ছায়ায়,
ধূপের ধোঁয়া পবিত্রতা শুষে নেয় অশান্তির দায়ায়।

হে মানবজাতি! জাগো আজ— ধূপের ধোঁয়া নয় জীবনের পথ,
শুদ্ধ বাতাসে বাঁচে ইবাদত, বাঁচে নীতি, বাঁচে মহত্ত্ব-রথ।
ধূপ মানিলে ধর্ম নয় বাড়ে— বাড়ে বিষ, বাড়ে অন্ধ ক্ষতি,
ধোঁয়ার বদলে আলো জ্বালো— সত্যের শিখায় তাড়াও অমিটি!

বিদ্রোহীর কণ্ঠে আজ ডাক—
“ধোঁয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়াও মানব! শুদ্ধ নিশ্বাসে তোলো শপথ,
ধূপের ক্ষতি ভাঙো আজই— মুক্ত করো জীবন, পরিবার, স্বদেশমত!”

এসো হে যুবক! এসো হে যুবতী!—
গর্জে বলি বিদ্রোহীর সুরে,
“ধূপ নয়, চাই নির্মল জীবন—
ধোঁয়ার অন্ধকার ভাঙো পুরে!”
--------------------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

কাপাসিয়ার কাঁঠালের গান

 কাপাসিয়ার কাঁঠালের গান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

সবুজ শ্যামলে কাপাসিয়ার মাঠ,
লাল কাঁঠালের ঝুড়ি ঝরে ঝরে রসের আভাস রাত।
দূর-দূরান্ত থেকে আসে পাইকারেরা,
হাত ভরা কাঁঠাল, মুখে হাসি, চোখে জ্বলে ধারা।

বারিষাবের খেতে ঘ্রাণ মিষ্টির ঝড়,
খিরাটীর সোনালি রোদে নেচে ওঠে জমি-খড়।
খোদাদিয়ার বাগানে লাল কাঁঠালের ঝিলিক,
বরুনের মাঠে ফোটে শিশুর হাসি, কৃষকের ঘামে ভরা কোণিক।

কান্দানিয়া, চাঁদপুর, কামড়া মাশকের বাগান,
ফুলে ওঠে উৎসব, বাজে সোনার গান।
ঘাটকুড়ি, রাওনাট, ভূবনেরচালা—প্রতিটি গ্রামে,
মাঠের কাঁঠাল যেন মুক্তির স্বপ্নে ভরা প্রান্তর তানে।

জামিরারচর, সূর্য্যনারায়ণপুর, পাবুর বাগানে,
প্রতিটি গাছে ঝরে রস, ঘ্রাণে ভরা হাসির ধ্বনি।
রাউৎকোনা, কাজাহাজী, চাকৈল, বড়জোনায়,
মৌসুম এলেই মাঠ-ঘাটে ভরে ওঠে আনন্দের ঢেউ।

দুর্গাপুর, তরগাঁও, নবীপুর, বাঘিয়ায়,
পাইকারেরা আসে খুঁজতে মিষ্টি কাঁঠাল ঘরে।
মৈশন, উত্তরখামের, সোনারুয়া, পিরিজপুরে,
উঁচু মাটিতে চারা রোপণ করলে ফলন হয় দীর্ঘকাল ধরে।

বেগুনহাটি, কড়িহাতা, কাপাসিয়া, সিংহশ্রী, রায়েদ,
প্রতিটি বাগান যেন জীবন ও বিদ্রোহের খনি।
দরদরিয়া, চৌরাপাড়া, বড়হর, বাগেরহাটে,
কৃষকের ঘাম, হাসি, পরিশ্রম—কাঁঠালের ঘ্রাণে ভেসে।

ভুলেশ্বর, বেলাশী, কপালেশ্বর, গিয়াসপুর, বারাব,
উৎসবের ধ্বনি বাজে বাজারে, কাঁঠালের আনন্দে ভরা।
উজলী, কির্ত্তুনিয়া, গাওরার, ভেরারচালা,
ছাতির বাজার, টোক, সনমানিয়া—সব মিলিয়ে উৎসবের ঝড়।

রাওনাটের বাগানে ঝরে মিষ্টি রসের ঝিলিক,
কৃষকের মুখে হাসি, মাঠে ভরে আনন্দের মিলিক।
শ্রীপুরের বাজারে ভিড় জমে ঢেউ,
জিআই স্বীকৃত কাঁঠাল ছড়িয়ে দেয় খ্যাতি দেশে-বিদেশে।

নগরহাওলা, চকপাড়া, টেপিরবাড়ি, রাজাবাড়ি,
ছাতির, চন্নাপাড়া, কেওয়া—বাজারে ধন, খুশির ফোয়ারি।
ট্রাকে ট্রাকে যায় দেশের কোণে কোণে,
পাইকারের খুশি, কৃষকের পরিশ্রমের সোনার সোনে।

খাজা, গালা, দুরসা—প্রকারে ভিন্ন,
মিষ্টির স্বাদে মেলে মানুষের মনে শোভা অনন্য।
কাঁঠালের কাঠে বানানো আসবাব, ঘরে ঘরে পিঠার স্রোত,
মাটির ঘ্রাণে ভরা প্রতিটি কাঁঠাল, কৃষকের হাসির কোদ।

মৌসুমের দিনগুলো ভরে হাসি আর গান,
প্রতিটি বাজারে আনন্দের বাঁধ ভাঙে ধান।
পাইকারেরা ছুটে আসে, ক্রেতারা আনন্দিত,
প্রতিটি কাঁঠাল বাগান, গ্রামীণ জীবনের প্রণীত।

শ্রীপুর, কাপাসিয়া, রাওনাট—সব গ্রামে,
কাঁঠালের ঘ্রাণে ভরে ওঠে প্রাণের ধামে।
হিমাগার হোক, নীতি হোক, প্রশিক্ষণ হোক সঠিক,
কাঁঠাল হোক দেশের শক্তি, ভবিষ্যতের দিশা নির্মিত।

সবুজ শ্যামলে কাপাসিয়া গ্রাম,
কাঁঠালের ঘ্রাণে মেলে জীবন-ধারার ধাম।
কৃষকের পরিশ্রম, গ্রামের হাসি, বাগানের কাঁঠাল,
মাটির দানে ভরে ওঠে দেশের সুখ-স্মৃতির পাল।

বিদেশেও রপ্তানি হয়—কাপাসিয়ার কাঁঠাল, গৌরবের মালা।


২০-১১-২০২৫

কাপাসিয়ার আখ

 কাপাসিয়ার আখ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

উইড়া যায়রে আখের পাতা হাওয়ায় নাচি,
রাওনাটের মাঠে কৃষ্ণরাজের লম্বা ডালি ছাঁদিতে।

পাবুর খেতে গুড়িয়ার হেসে ওঠে রোদ,
কাপাসিয়ার মাঠে রাজমুখীর লম্বা ডানা ফোটে মোদ।

চাঁদপুরে নীলকণ্ঠের ছায়া নীরবে পড়ে মাটিতে,
সাদা আখ, হলুদ আখ—মাঠে ছড়ায় সবুজ রঙের বাতিতে।

কৃষকের কাঁধে ঘাম, চোখে হাসির আলো,
বাজারে বাজারে বিক্রি, গুড়ের মেলায় আনন্দের ঝলো।

গুড়ের ঘ্রাণে ঘর ভরে পিঠা, চাটনি, মিষ্টি খেলা,
মাটির ঘ্রাণে ভরে মাঠ, গ্রামের উৎসবের মেলা।

মাঠে মাঠে আখের ছায়া, শিশুরা খেলে খুশিতে,
বৃদ্ধও মেলে হাসি, আখের ডাল ছোঁয়ে প্রিয় কিশোরীতে।

কৃষ্ণরাজের গুড়, গুড়িয়ার মিষ্টি স্বাদ,
রাজমুখীর উঁচু আখ, নীলকণ্ঠ লম্বা, সুগভীর নাদ।

রাওনাট থেকে কাপাসিয়া, পাবু থেকে চাঁদপুর,
আখের খেতে বাজে জীবন, মাঠে উৎসবের উচ্ছ্বাসপুর।

বাজারে লেলানো আখ, গুড়ের মেলায় আলো,
মাটির ঘ্রাণে ভরে প্রাণ, কৃষকের ঘাম শান্তি বাজে।

সারা খেত ভরে মাঠ, বাতাসে বাজে গান,
কাপাসিয়ার আখের বন্দনা—বাংলার প্রাণে জীবন জ্বান।

মাঠে মাঠে আখ, বাজারে বাজারে গুড়,
কৃষকের ঘামে গড়া সুখ, বাংলার প্রাণে ডুমুড়।

মাটির বুকে খুঁজে পাওয়া স্বর্ণ, মাঠে মাঠে ফুল ফোটে,
কাপাসিয়ার আখের বন্দনা—বাংলার হৃদয় ছুঁয়ে ওঠে।

রাওনাটের আলো, কাপাসিয়ার হাসি,
পাবুর হাওয়া, চাঁদপুরের মধুরবাসি।

কৃষকের ঘামে গড়া সুখ, আখের ঘ্রাণে আশা,
বাংলার মাঠে বাজুক গান, আনন্দ হোক প্রিয় ভাসা।
---------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

অভিনন্দন মুশি

 অভিনন্দন মুশি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

হে মুশি! মাঠে বাজে বিজয়ের আলো,
শততম টেস্টে তুমি করলেই উজ্জ্বল ঝলো।

বল উড়ে যায় দূরে, ব্যাটে জ্বলে আগুন,
বাঙালি হৃদয়ে বাজে গর্বের দীপ্তি নাগুন।

প্রাণঢালা অভিনন্দন, স্বপ্নের আলো ভোর,
শত রানের ধ্বনি বাজে, খুশির রঙে জোর।

মুশি! নাম তোমার কণ্ঠে কণ্ঠে বাজে গান,
এই মুহূর্তে গাই আমরা, মুখর আনন্দের মান।

চলুক পথ জয়ধ্বনিতে, গানে ভরা হৃদয়,
শততম রানের সৌরভ ছড়াক, সোনালি প্রেরণার খোঁয়।

মাটির কণায় মিশে যায় ইতিহাসের ছাপ,
বাঙালির চোখে জ্বলে আনন্দের উজ্জ্বল ভাপ।

প্রতিটি বলের আঘাত, ইতিহাসে লেখা হয়,
সাহসী ব্যাটে ফুটে ওঠে জাতির আশা যে রয়।

বল ও ব্যাটের খেলা, গর্বের প্রতীক তুমি,
মুশি! তুমি চিরকাল বাঙালির দীপিক, উজ্জ্বল রুমি।

শততম রানের গর্জন বাজে কণ্ঠে কণ্ঠে,
বাঙালির প্রাণে আনন্দ ভেসে, মুখর গলধ্বনি ঘন্টে।

মুশি! তুমি বাঙালির গর্ব, হৃদয়ের দীপ্তি,
অভিনন্দন তোমায়, জীবনের উজ্জ্বল ঝলকিতি।

চলুক পথ তোমার জয়ধ্বনিতে ভরা,
সাফল্যের আলো ছড়াক, গানের ছন্দে ভরা।

শত রানের মর্যাদা, শত শুভেচ্ছায় ভরা,
মুশি! তুমি সোনার বাংলার গর্ব, হৃদয়ের আলো সারা।
--------------------------------------


২০-১১-২০২৫

দেশের প্রতি অনুগত্য

 দেশের প্রতি অনুগত্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
----------------------------------------

হে মুমিন! হে বীর! পদধ্বনি তুলো বুকে,
দেশের জন্য রক্ত ঢালো, ভয় করো কাকে ?
নিষ্ঠার প্রদীপ জ্বালো, অন্ধকার ছিন্ন করো,
কোরআনের নূর ধরে রেখো, লড়ো, লড়ো, লড়ো!

জুলুম ছড়ায় যে শাসক, ধ্বনি দাও ধ্বংসকরো,
সত্যের তরী বেয়ে দাও বিপ্লবের ঝঞ্ঝা ঢলো।
হে প্রজন্ম! চোখ খোলো, শুনো জাতির কণ্ঠস্বর,
স্বাধীনতার আহবান বাজে, করো হৃদয়-নিঃশ্বাস ধর।

দেশের জন্য বলো লাব্বাইক! করো ত্যাগ মহান,
পদধ্বনিতে ফোটাও ঈমান, অমলিন দান।
হৃদয়ে আগুন, প্রাণে উচ্ছ্বাস—দেশ হোক তোমার প্রার্থনা,
মুক্তির বাতাসে ভাসুক, তোর দেশ, তোর প্রাণের ছায়া।

তুমুল ঝড় হোক তোমার পদধ্বনিতে,
অধিকার রক্ষা করো, ভয় নষ্ট করো সব জড়িত!
দেশের প্রতি অনুগত্য কেবল শপথ নয়,
এটি হলো ঈমানের সুরে রচিত বিদ্রোহের ছায়া।
--------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

জুলুমকারী শাসক

 জুলুমকারী শাসক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************

শোনো! আকাশ ফেটে চিৎকার করে বলে—
“জুলুমের রাত শেষ! সত্যের আগুন জ্বলে!”
মাটির তলায় কম্পন—শাসকের মিথ্যা সিংহাসন কাঁপে,
অন্যায়ের ছায়ায় আজ বিদ্রোহের বজ্র পতন নামে!


জুলুমকারী শাসক— শোনো!
তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে বিষের গন্ধ,
মানুষের কান্নায় ভেজা রাত্রিগুলো সাক্ষী—
তোমার মুকুট পুড়বে ন্যায়ের আগুনে একদিন নিশ্চিত!

তোমার লোভের দুর্গ, তোমার পাপের সিংহাসন—
আল্লাহর রোষে এক মুহূর্তেই ভেঙে যাবে ধুলোয়!
মুমিনের ধৈর্য যখন ফেটে যায়,
পাহাড়ও দাঁড়াতে পারে না তাদের সামনে!


উঠো মুমিন!
হৃদয়ের গভীরতম আগুনকে মুক্ত করো!
আজ বিদ্রোহের নাম— সত্য,
আজ বিপ্লবের নাম— আল্লাহর ন্যায়।

ঝড়ের মতো এগিয়ে যাও,
অন্ধকারের দেয়াল ভেঙে ফেলো এক আঘাতে!
অনাচারের সূর্যকে নিভিয়ে দাও সত্যের বাতাসে,
জুলুমের কুয়াশা গিলে ফেলুক আলোর ঘূর্ণিঝড়ে!


যে শাসক মানুষের চোখে ধুলা দিতে চায়,
কোরআনের আলো ঢেকে রাখতে চায়,
সে যেন জানে—
আল্লাহর বিচার অদৃশ্য, কিন্তু তার আঘাত বজ্রের চেয়েও প্রবল!

এমন আঘাত,
যাতে লৌহদেয়াল গুঁড়িয়ে যায়,
প্রাসাদের দোর ভেঙে যায়,
জুলুমের মুখোশ ছিন্ন হয়ে পড়ে—
বন্যার জলের মতো সত্য উন্মুক্ত হয়ে যায়!

হে জুলুমকারী!
তুমি বুঝতে পারো বা না পারো—
মুমিনের হৃদয়ে জ্বলে ওঠা আগুন
কোন শক্তি থামাতে পারে না!

এ আগুন ক্ষতির নয়—
এ আগুন জুলুমের মৃত্যু,
এ আগুন সত্যের জন্ম,
এ আগুন ন্যায়ের পুনর্জাগরণ!

একদিন আসবেই—
যেদিন তোমার মিথ্যা সাম্রাজ্য
ধসে পড়বে ঘূর্ণিঝড়ের নিচে,
আর মুমিনের কণ্ঠ উঠবে—
“আল্লাহু আকবার! ন্যায়ের জয়!”
----------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

জাহান্নামের শাস্তি

 জাহান্নামের শাস্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

হে ভাই! হে বোন!
মন দেয়ো আল্লাহর পথে, মনে রাখো শাস্তির কথা।

জাহান্নামের আগুন জ্বলে, দগ্ধ হবে অমনি!
যারা ভুলে আল্লাহকে, তারা হবে অনন্তে দমনি!
সৎ পথের যারা চলে, তারা পাবে জান্নাতের দিন,
আল্লাহর আশীর্বাদে, সুখময় চিরদিন!

দুনিয়ার মায়া-মোহে, যারা হারায় আল্লাহকে,
অগ্নির ছায়ায় দগ্ধ হবে, প্রতিটি ক্ষণেই তারা।
কোরআনে স্পষ্ট লেখা, সতর্ক হও, হে মুমিন ভাই!
পাপীর পথে যারা চলে, তারা হবে চিরকাল দগ্ধ।

জাহান্নামের আগুন জ্বলে, দগ্ধ হবে অমনি!
যারা ভুলে আল্লাহকে, তারা হবে অনন্তে দমনি!
সৎ পথের যারা চলে, তারা পাবে জান্নাতের দিন,
আল্লাহর আশীর্বাদে, সুখময় চিরদিন!

শয়তানের জালে যারা পড়ে, দিশাহীন জীবন তাদের,
তাদের কাঁদাবে কেউ না, শুধু আগুনের ধ্বনি।
হেদায়েত এড়িয়ে যারা চলে, তারা ভোগ করবে শাস্তি,
কোরআন বলে স্পষ্টভাবে, পাপীরা হবে দগ্ধ চিরকাল।

জাহান্নামের আগুন জ্বলে, দগ্ধ হবে অমনি!
যারা ভুলে আল্লাহকে, তারা হবে অনন্তে দমনি!
সৎ পথের যারা চলে, তারা পাবে জান্নাতের দিন,
আল্লাহর আশীর্বাদে, সুখময় চিরদিন!

সজাগ হও, হে মুমিন ভাই, মুমিন বোনেরা,
আল্লাহর পথে চলো, শাস্তি থেকে রক্ষা পেতে।
বিশ্বাসে স্থির হও, সৎকাজে নিবেদিত,
জান্নাতের আলো তোমার, চিরদিনের সুখময় জীবন।

জাহান্নামের আগুন জ্বলে, জ্বলে অমনি!
যারা ভুলে আল্লাহকে, তারা হবে অনন্তে দমনি!
সৎ পথের যারা চলে, তারা পাবে জান্নাতের দিন!
আল্লাহর আশীর্বাদে, সুখময় চিরদিন!
জ্বলে অমনি… জ্বলে অমনি… চিরদিন…
------------------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করো না

 তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করো না

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************************

তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করো না— আল্লাহর পবিত্র বাণী,
এই কোরআন নয় বাজারি মাল, নয় দুনিয়ার কোনো দামি।
এ যে নূরের আলো, হেদায়েতের দিশা—
হারালে পথ হবে অন্ধকার, ভেঙে যাবে আত্মার নিশা।

ও মুমিন! কোরআনকে তুচ্ছ করো না,
এতে জীবন— এতে রহমত— এতে আল্লাহর ডাক শোনা।
দুনিয়ার স্বার্থে দিও না বিকিয়ে,
কোরআন বুকে রাখো আঁকড়ে, থাকো সত্য-সিরাতে টিকে।

যারা আয়াত লুকিয়ে রাখে, দুনিয়ার লোভে পথ হারায়,
কোরআন বলে— সেই ক্রয় কত মন্দ! তারা আগুন কিনে নেয় হাজার দামে।
আমরা তো চাই ঈমানের আলো, সত্য পথের নির্ভরতা,
এই গ্রন্থে আছে মুক্তির পথ— আছে দয়ার মহিমা।

ও মুমিন! কোরআনকে তুচ্ছ করো না,
এতে জীবন— এতে রহমত— এতে আল্লাহর ডাক শোনা।
দুনিয়ার স্বার্থে দিও না বিকিয়ে,
কোরআন বুকে রাখো আঁকড়ে, থাকো সত্য-সিরাতে টিকে।

কোরআনের হুকুম বিক্রি করে, লাভ হবে না দুনিয়া-আখিরাতে,
হারামকে হালাল দেখিয়ে দিলে বিপদ বাড়ে অন্তরাতেই।
চলো ফিরে আসি রবের কাছে,
মেনে নেই আয়াতের ডাকে,
সত্য বলি, ন্যায় ধরি, তাওহিদের পথে থাকি দাঁড়িয়ে।

ও মুমিন! কোরআনকে তুচ্ছ করো না,
এতে জীবন— এতে রহমত— এতে আল্লাহর ডাক শোনা।
দুনিয়ার স্বার্থে দিও না বিকিয়ে,
কোরআন বুকে রাখো আঁকড়ে, থাকো সত্য-সিরাতে টিকে।

এই কোরআন আমাদের প্রাণ— আলোর পথ দেখায়,
যে আঁকড়ে ধরে এ গ্রন্থকে, আল্লাহ তার পাশে দাঁড়ায়।
তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করো না,
করো না সত্যের অবমান,
কোরআনই মুক্তির পথ— চিরকাল অপরিবর্তনীয় জ্ঞান।
------------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

Wednesday, November 19, 2025

তোমরা আমাদের শত্রু

 তোমরা আমাদের শত্রু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************
তোমরা সেইদিন ভাই ছিলে না—
ছিলে রাত্রির ঝড়েতে উঠে আসা কালো বুটের বজ্র গর্জন!
আমরা ছিলাম মাটির সন্তান—
তোমরা ছিলে দখলদার রক্তলোভী অন্ধ উন্মাদন!

তোমরা চেয়েছিলে ভাষায় তালা দিতে,
কণ্ঠ ভেঙে দিতে, পরিচয় মুছে দিতে—
কিন্তু বুকে ছিল আগুন!
সেদিন বাংলার সন্তানরা রক্ত দিয়ে তুলেছিল অক্ষর,
ধরিত্রী কেঁপে উঠেছিল আমাদের শপথে!

হায়, তোমরা কি ভাই ছিলে সেইদিন?
যখন মা-বোনের আর্তনাদ তোমরা পিষে দিয়েছিলে বুটের তলায়,
যখন গুলিবৃষ্টি ঝরেছিল তরুণ বুকের ভোরের ওপর,
যখন রাতের নদীতে ভেসেছিল শত শত নিথর দেহ—
তখন কি ভাইয়ের মুখ ছিল তোমাদের?

না!
তোমরা ছিলে বিষদাঁতধারী সাপ,
জুলুমের অন্ধকার রাজপুত্র,
অত্যাচারের লেলিহান শিখা!
বাংলার বুক লেখা আছে রক্তে—
যে হাত কাঁদে না, সেই হাত কখনো ভাই হতে পারে না!

তোমরা জ্বালিয়েছিলে ঘরবাড়ি,
লুটেছিলে শস্য,
চূর্ণ করেছিলে স্বপ্ন,
ধর্ষণ করেছিলে আমাদের আকাশের সূর্যালোকে—
তোমরা মানুষ নও, তোমরা শত্রু!
ইতিহাস তোমাদের মুখে ঝুলিয়ে দিয়েছে
লজ্জার কালো পতাকা।

আর আমরা?
আমরা ছিনিয়ে এনেছি স্বাধীনতা—
মৃত্যুর মাঝখানে হাসি, রক্তের ভিতর দিয়ে সূর্য!
আমরা উঠেছি বিদ্রোহীর মত,
হাজার বজ্রের শপথে—
"বাংলা আমার, অধিকার আমার, এই মাটিতে দখলদার চলবে না!"

তাই শুনে রাখো—
যে শত্রু একবার আমার মাতৃভূমিতে আগুন দেয়,
যে ভাইয়ের মুখোশ পরে বিশ্বাসঘাতকতা করে,
সে কখনো বন্ধুত্বের টেবিলে বসতে পারে না!
ইতিহাসের আদালতে তোমরা চিরকাল
শত্রুই— শত্রু, শত্রু!

বাংলা আজ স্বাধীন—
কিন্তু স্মৃতির ক্ষতে লেখা আছে তোমাদের নাম,
রাগে, রক্তে, প্রতিশোধের শপথে—
মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত দখলদার কোনোদিন ভাই নয়,
কখনো বন্ধু নয়—
সে শুধু শত্রু, চিরশত্রু!
--------------------------------------------------


১৯-১১-২০২৫

মনোনীত দ্বীন

 মনোনীত দ্বীন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া, গাজীপুর
***************************************

মনোনীত দ্বীন ইসলাম— জাগো হে প্রাণ,
তওহিদের আলোয় ভেসে উঠুক জগৎ মহান।
অন্ধকার দূর হোক, কোরআনের পথে হাঁটো,
নামাজে, রোজায়, জিকিরে হোক হৃদয় সযত্নে ভাঁটো।

মনোনীত দ্বীন ইসলাম— এ পথেই মুক্তির গান,
সততার রশ্মিতে জ্বলে ওঠুক মানুষের প্রাণ।
দুনিয়ার মোহে হারিও না কখনো,
নফসের ফাঁদে পড়িও না— রাখো ঈমানের আলো।

রহমতের স্রোত বইছে বুকের ভেতর,
যে মানুষ ঠিক পথে চলে— তারই জীবন সমর।
তাকওয়ার ডাকে কাঁপুক হৃদয়,
হৃদয়ের অন্তরে জাগুক আলোর স্রোতধারার সঞ্চয়।

হে মুমিন! ফেরো আল্লাহর পথে,
নবীজির সুন্নাহ আঁকড়ে ধ’রে।
সত্যের বাণী বলো নির্ভীক,
মনোনীত দ্বীনের পথে থাকো চির-সত্যের দীক্ষিত।

মনোনীত দ্বীন ইসলাম— এ পথ আলীর,
এ পথ বিলালের অটল শপথ।
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ— হোক এইই তোমার গান,
যেখানে হৃদয় জ্বলে, সেখানে জাগুক ঈমান।
-----------------------------------------------


১৯-১১-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন

অপশক্তির উত্থান

 অপশক্তির উত্থান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************

হে বাঙালি! জাগো! জাগো!
হৃদয় তোলো, রক্তের ঢেউ বয়ে যাক দিগন্তে।
স্বাধীন মাতৃভূমি কম্পিত, চাদরে ছড়ায় অশ্রুবিন্দু,
সত্য কথা কেউ বলবে না—কণ্ঠ চেপে আছে দানবের বন্যায়।

গণতন্ত্র শিকলবন্দি, ফ্যাসিবাদের চাকা ঘুরে,
জন থেকে জনে ছড়ায় হিংসার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ।
মুক্তির কথা সবাই বলে, বজ্রধ্বনি কেউ তোলে না,
মাতৃকা কাঁদে, দানবেরা হাসে, শূন্য চোখে জ্বলে আগুনের ঝরা।

সংস্কৃতি লুণ্ঠিত, পদে পদে লুটে নেওয়া স্বপ্ন,
দেশদ্রোহীর গর্জনে কাঁপছে স্বাধীনতার প্রতীক।
সত্য বললেই দোসর তকমা জুটে কপালে,
বিচারের বাণী শৃঙ্খলিত, কাঁদে নীরব নক্ষত্রের মত।

নায়ক ভিলেনে রূপ নিয়েছে, ভীতি দানবের হাসি জাগায়,
বিশ্বাসঘাতকের দুনিয়ায় বাঙালি একা—অভিশপ্ত জাতি।
অপশক্তি লেপ্টেছে দেশের প্রতিটি প্রান্তে,
হিংসা প্রতিশোধের নেশায় মেতে ওঠে মানুষ, দিনে-রাতে।

অপমান-অপদস্তের প্রতিযোগিতায় নিমজ্জিত বাঙালি,
ঐক্যের চেতনা হারিয়ে হুজুগে ভেসে যায় জনতা।
কিন্তু হে বাঙালি! শোনো—তোমার রক্তের ঢেউ আজও বাজে,
যুদ্ধের আগুন জ্বলে হৃদয়ে, বিদ্রোহের অগ্নিকণিকা ছড়িয়ে চারপাশে।

উঠো! চিৎকার করো! শৃঙ্খল ভাঙো!
বীজমন্ত্র উচ্চারণ করো—“অপশক্তির উত্থান থামুক,
সত্য ও ন্যায়ের বিজয় হোক।”
বিদ্রোহী হৃদয় আর নিস্তব্ধ নয়,
অপশক্তির শৈলীতে দম বন্ধ করে না কেউ,
যে বলে সত্য, যে দাঁড়িয়ে চায় মুক্তির ঝড়!
-----------------------------------------------


১৯-১১-২০২৫

মন দেওয়ার আগে

 মন দেওয়ার আগে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************

হে যুবক, হে যুবতী—
কার পানে হেলে যাচ্ছে তোমার হৃদয়?
নদীর নীরব স্রোত কি শুধু ছোঁয়াই জানে,
অথবা তোমার অশ্রু তার জলছায়ায় মিলেছে।

মন যেন শ্যাওলার নরম পাতা,
ভুল হাতে পড়ে কেবল কুয়াশায় ভেসে যায়।
প্রেম—এক অগ্নিশিখা,
শুধু আলো নয়, কখনো অন্ধকারও বয়ে আনে।

ভুল প্রেমে হৃদয় ডুবে যায় নিঃশব্দ সমতলে,
হতাশার জল ঢেকে দেয় স্বপ্নের পথ।
যাকে ভালোবাসছো—
তার চোখে কি সত্যের নিঃশ্বাস আছে?
নাকি শুধু আঁকে ছায়ার রেখা,
যা কখনো আলো পায় না।

মন দাও সেই হাতে,
যে বোঝে তোমার চুপচাপ ব্যথার ভাষা,
যে আঁকড়ে ধরে আশা,
ভাঙে না স্বপ্নের সূক্ষ্ম লয়।

ভুল প্রেমের ক্ষত—
পরাজিত সৈনিকের মতো দাঁড়িয়ে থাকে।
রক্তে ভেজা প্রেমের মহাকাব্য,
নীরবতার মাঝে কাঁদে, নিভে যায় ছায়ায়।

হে যুবক, হে যুবতী—
ভেবে নাও, সে কি তোমার অন্তরকে আলোকিত করবে?
মন দাও শক্তির সঙ্গে,
ভালোবাসা হোক গড়ার হাত, ভাঙার নয়।

মন দেওয়ার আগে—
ভালোভাবে ভাবো,
প্রেম শুধু স্বর্গ নয়, নরকও নয়,
এটি জীবনসঙ্গী মহাকাব্য, নিঃশব্দে জ্বলন্ত চিরকাল।
---------------------------------------------


১৯-১১-২০২৫

আলোর পথে নারী

 আলোর পথে নারী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************

জাগো হে নারী, জাগো জ্ঞানের তরে,
আলোর দীপ জ্বেলে, অন্ধকার ভাঙো ভরে।
হাদিস বলে, জ্ঞান চাও, ফরজ তোমার পথ,
জাগো প্রজন্মের আশা হয়ে, আলোর আলো হোক গগনমথ।

শিক্ষিত নারী, ঘর নয় শুধু, বিশ্ব হোক তোমার মঞ্চ,
চাকুরি, শিল্প, ব্যবসা—যোগ্যতায় জয় করো অম্লান।
জাগো হে নারী! জাগো হে নারী!
আলোর পথে চল, অন্ধকারকে ভেঙে দাও।

ধ্বনিত হোক পদক্ষেপ, ভয় নয় কোনদূরে,
জ্ঞান, ন্যায়, আলোর পথে হেঁটো দৃঢ় ও নির্ভীকভাবে।
কোরআন-হাদিস বলে, জ্ঞান অর্জন ফরজ সকলের,
নারী হোক শিক্ষিত, দেশ গড়ে, আলোর পথে চলক প্রগাঢ়।

শিক্ষিত নারী, ঘর নয় শুধু, বিশ্ব হোক তোমার মঞ্চ,
চাকুরি, শিল্প, ব্যবসা—যোগ্যতায় জয় করো অম্লান।
জাগো হে নারী! জাগো হে নারী!
আলোর পথে চল, অন্ধকারকে ভেঙে দাও।

নারী শিক্ষিত হলে, জ্ঞান ছড়ায় চারিদিকে,
সমাজ গড়ে, দেশ ভরে, আলোর দীপে দীপে।
জাগো হে নারী, জাগো জ্ঞানের তরে,
আলোর দীপ জ্বেলে, অন্ধকার ভাঙো ভরে।
----------------------------------------------


১৯-১১-২০২৫

বিভক্ত হয়ো না মুমিন

 বিভক্ত হয়ো না মুমিন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

বিভক্ত হয়ো না, হে মুমিন, বিভক্ত হয়ো না!
একতার আলোয় চলো, একতার বাঁধনে বাঁধা থাকো।
ভ্রান্তির অন্ধকারে ভেসে যেও না,
নতুন দিনের আলোয় জেগে থাকো, জেগে থাকো!

দেখো চারদিকে অমানবের উত্থান,
লোভের আগুনে দগ্ধ হচ্ছে মানবজাতি।
তাদের দলে ভাঙো না, তাদের পথ চলো না,
সত্যের বুকে দাঁড়াও, মুমিন, শক্ত থাকো!

একতার দড়িতে বাঁধা ছিল সাহাবীরা,
ঐক্যই ছিল তাদের শক্তির সিংহাসন।
আজ কেন ভাঙো তুমি পথ,
ভ্রাতৃত্বের ঘর কাঁপছে, মুমিন, অটল থাকো!

তাগুতেরা আজ মিছিল তোলে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে,
মিথ্যার মুখোশ পরে, সত্যকে ঢেকে রাখে।
তুমি ভ্রান্ত হওয়ার ভয় পেও না,
সত্যের সিংহাসনে চলো, সাহসিকতার পতাকা উঁচু করো!

বিভক্ত হয়ো না, হে মুমিন, বিভক্ত হয়ো না!
ঐক্যের আলোয় জাগো, ঈমানের ঢেউ উঠাও।
নিষ্ঠার পথে দৃঢ় থাকো, অন্ধকার ভেদ করো,
মুমিনের শক্তি এক, সত্যের পতাকা উড়াও!

হাত ধরো হাতে, মুমিনের বন্ধন অটল রাখো,
নির্ভয়ে এগিয়ে চলো, আলোর পথে পথিক হও।
বিভক্ত হয়ো না, হে মুমিন, বিভক্ত হয়ো না!
একতার গান গাইবে পৃথিবী—সত্যের জয় হবে অবিচল।
---------------------------------------------


১৯-১১-২০২৫

আসছালামু আলাইকুম

 আসছালামু আলাইকুম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************

আসছালামু আলাইকুম—হে মুমিনেরা ভাই-বোন,
নূরের পথে চলো আজ, হোক অন্তর দীপ্তিময় অমলন।
অজানার অন্ধকার মুছে দাও, সত্যের প্রদীপ জ্বালাও,
সাহসের আগুনে পোড়াও, অহংকারের সব বাঁধ ভেঙে দাও।

রোজার তাপে ধোও অন্তর, সালাতের রোদে গলে যাও,
দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করো, তাওহিদে মিলন খুঁজে পাও।
জঙ্গলের শিবিরে ভয় থাকলেও, সাহসী হও হে বীর,
আল্লাহর নামে বল যা বল, সত্যের ডাক দাও, জাগো হে প্রিয়।

আসছালামু আলাইকুম!
উঠো, জাগো হে মুমিন!
নূরের তরে দাও প্রাণ, হৃদয় হোক দীপ্তিময়।
আসছালামু আলাইকুম!
সত্যের পতাকা উঁচু করো, ভুলের অন্ধকার মুছে ফেলো।

জাগো—হে মুমিনেরা,
নূরের তরে দাও নিঃশ্বাস, ভয়কে করো শেষ।
সত্যের আগুনে পোড়ো, ভুলকে বিদায় দাও,
আল্লাহর পথে হেঁটো—চল চলো আজ!

আসছালামু আলাইকুম!
উঠো, জাগো হে মুমিন!
নূরের পথে হেঁটো, হৃদয় জ্বালো, ভুল মুছে ফেলো।
আসছালামু আলাইকুম!
সত্যের পতাকা উঁচু করো, আল্লাহর নাম উচ্চস্বরে বলো।
জাগো! জাগো! মুমিনেরা, নূরের পথে চলো, চলো চলো চলো!
-----------------------------------------------------


১৯-১১-২০২৫

আসছালামু আলাইকুম

 আসছালামু আলাইকুম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

আসছালামু আলাইকুম— হে বোন ও ভাই মুমিন,
নূরের পথে চলো আজ, হোক অন্তর দীপ্তিময় চিন।
অজানার অন্ধকারে জ্বালো আলোর দীপ,
সত্যের পথে হেঁটো, ভয়কে ত্যাগ করো, হে প্রিয় প্রণিপ।

আসছালামু আলাইকুম! উঠো, জাগো হে মুমিন,
নূরের বাতাসে ভাসাও, হৃদয় হোক শান্তিময় নিদ্রিন।
আসছালামু আলাইকুম! সত্যের পতাকা উঁচু করো,
অহংকারের বাঁধ ভেঙে, ঈমানের নৌকা চালাও হরি করো।

সালাতের রোদে ধোও অন্তর, রোজার তাপে গলে যাও,
দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করো, তাওহিদে মিলন খুঁজে পাও।
জঙ্গলের শিবিরে ভয় থাকলেও, সাহসী হও হে বীর,
আল্লাহর পথে যা বল, তা বলো—ভয় করো না জণ।

আসছালামু আলাইকুম! উঠো, জাগো হে মুমিন,
নূরের বাতাসে ভাসাও, হৃদয় হোক শান্তিময় নিদ্রিন।
আসছালামু আলাইকুম! সত্যের পতাকা উঁচু করো,
অহংকারের বাঁধ ভেঙে, ঈমানের নৌকা চালাও হরি করো।

জাগো, জাগো—নূরের তরে দাও সব হারানো নিঃশ্বাস,
সত্যের রশ্মিতে ভাসাও, ভয়কে করো শেষ, করো তছনছ।

আসছালামু আলাইকুম! আল্লাহর পথে হেঁটো হে মুমিন,
সত্যের আগুনে পুড়ো, ভুলকে ত্যাগ করো হে প্রিয় প্রণিপ।
আসছালামু আলাইকুম! ভয় নয়—ঈমানই তোমার ধন,
হৃদয় জ্বালো, করো জাগরণ—নূরের পথে চলো ধন!
----------------------------------------------------


১৯-১১-২০২৫

আলহামদুলিল্লাহ

 আলহামদুলিল্লাহ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************
আলহামদুলিল্লা—হ্… আলহামদুলিল্লা—হ্…
রবের নাম নিলে মনে নামে নূরের ছাওয়া।
আলহামদুলিল্লা—হ্… আলহামদুলিল্লা—হ্…
তাঁর দয়া ছাড়া মোর জীবনে নেই আর আশ্রাওয়া।

ঝড় এলে বুকেতে, ভয়কে ডাকি না—
বলিম “হে আল্লাহ! তুমি আছো, এটাই মোর সানা।”
তাওহিদের আলোয় জ্বলে উঠে প্রাণ,
হৃদয়ের চিল্লায় বাজে ঈমান—
আলহামদুলিল্লা, আলহামদুলিল্লা!

রব যখন বলেন— “উদ’উনিই আস্তাজিব লাকুম”,
মোর আঁধার রাতেও জ্বলে ওঠে চাঁদের বরকত–ধুম।
হাদিসের ডাক— “হতাশ হয়ো না হে বান্দা”,
এই সুরে জেগে ওঠে বুকে নূরের বৈদ্যুত ছাঁদা—
আলহামদুলিল্লা, আলহামদুলিল্লা!

আলহামদুলিল্লা—হ্… আলহামদুলিল্লা—হ্…
রবের নাম নিলে মনে নামে নূরের ছাওয়া।

মানুষের দরজা বন্ধ— তবু তাঁর দরজা খোলা,
এক ফোঁটা কান্নায়ও দেন রহমতের ডালা।
সেজদার মাটিতে পড়ে বলি— “হে রব! ক্ষমা করো”,
দূর অন্তরে শোনা যায় ফেরেশতাদের নীরব সুর—
আলহামদুলিল্লা, আলহামদুলিল্লা!

যা দিলেন— মোর শুকরিয়া,
যা নিলেন— তাও তাঁরই দয়া;
মুমিনের জীবন ধৈর্যের রাগে,
কোরআনের সুরে, ঈমানের আগে—
আলহামদুলিল্লা, আলহামদুলিল্লা!

আলহামদুলিল্লা—হ্… আলহামদুলিল্লা—হ্…
রবের নূরে আলো হয়ে পথ দেখায় চিরদিন।
আলহামদুলিল্লা—হ্… আলহামদুলিল্লা—হ্…
এই শব্দেই লুকায় জান্নাতের পথ, মুক্তির সঙ্গীতরাগিণী।

আলহামদুলিল্লাহ।
-------------------------------------------------


১৯-১১-২০২৫

Tuesday, November 18, 2025

আজ তুমি অশ্রুজলে

 আজ তুমি অশ্রুজলে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

আজ তুমি অশ্রুজলে—
চোখের জল জমেছে আকাশের গভীরে,
বাতাসও থেমে গেছে নিঃসঙ্গ শূন্যতার প্রান্তে।
অহংকারের শুকনো পাতা ঝরে গেছে পথের কাঁধে,
প্রেম যে কখনো ছিল তোমার অন্তরের উষ্ণ আলো,
আজ সে দূরের ছায়া হয়ে কাঁপছে বৃষ্টির নীরবতায়।

বাগানের সব ফুল শুকিয়ে গেছে—
শূন্যে ভেসে বেড়ায় হাসি,
স্মৃতিগুলো চিৎকার করে দেয়াল হয়ে,
ছুরির মতো তীক্ষ্ণ, নিঃসঙ্গ সন্ধ্যার মর্মে।
তুমি কাঁদো, কাঁপো—
তবু প্রেম ফিরে আসে না এক ফোঁটা।

নিজেকে যে রাজা মনে করেছিলে,
আজ দেয়ালের মতো ভেঙে গেছে।
তুমি নিঃসঙ্গ, তুমি শূন্য,
প্রেমহারা পথিক, ধূসর আকাশের তলে।
নীরবতা ঘন, সময় থেমে গেছে নিঃশেষে,
আজ তুমি অশ্রুজলে—
নিঃশেষ, পরাজিত, নির্জন, একা,
যেন পৃথিবীও কেঁপে ওঠে তোমার নিঃশ্বাসে।
--------------------------------------------------


১৮-১১-২০২৫

জানালার পাশে

 

জানালার পাশে
মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

জানালার পাশে
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************

রোজ বিকেলের রক্তিম আলো
ঢলে পড়ত জানালার পাল্লায়,
সেই আলোয় তুমি বসতে চুপচাপ—
মুগ্ধতা ছড়িয়ে দাওয়ার ছলনায়।

তোমার চোখে তখন
থাকত সন্ধ্যার নরম নীল দীপ্তি,
আমার হাঁটার শব্দে হঠাৎ
হাসির মতো ভেসে উঠত ক্ষীণ সুর-স্রোতি।

কখনো তুমি অকারণে গাইতে,
কখনো কাগজে আঁকতে বৃত্ত,
আর আমি ভাবতাম— এই তো প্রেম,
আমার বুকের সাগরেও উঠত তরঙ্গ-দ্বিত্ত।

ঐ মুহূর্তগুলো ছিল
তারার গায়ে লেখা চিরন্তন কবিতা,
তোমার প্রতিটি দৃষ্টি ছিল
আমার হৃদয়ের সবচেয়ে পবিত্র নৈবেদ্য।

আমি বিশ্বাস করতাম—
তোমার হাসির ভঙ্গিতে বোনা আছে স্নেহের চিঠি,
শুধু আমাকে দেখে তুমি
রঙিন করে তুলেছো বিকেলের প্রতিটি দিগন্ত-প্রান্তর-স্মৃতি।

কিন্তু হায়!
যে ভালোবাসা ভেবেছিলাম দেবদূতের ডানায় লেখা,
তাতেই লুকিয়ে ছিল ছলনার আঁচড়—
অভিনয়ের বিষাক্ত সুরভি ছিল তারই দেখা।

আমি যে প্রাণপণে ভালোবেসেছিলাম
তোমার সেই কায়া-কুমারী মুখ,
সে তো ছিল কেবল মুখোশ;
ভালবাসা নয়— ছিল অভিনয়েরই বুক।

এখন ভালোবাসা শব্দটি
আমার কাছে আর কোমল নয়,
এ যেন মৃত্যু-স্মৃতি-বহন করা
এক তীক্ষ্ণ আতঙ্কের নরক-বাঁশরী বই।

তবুও—
সেই জানালাটি এখনও আছে,
যেখানে বসে তোমার ছায়া
প্রতিদিন হারিয়ে যায় সন্ধ্যার ম্লান আকাশে।

ফাঁকা জানালায় এখনও দেখি
তোমার রেখে যাওয়া নিশ্বাসের দোলা,
শূন্যতার ফাঁকে এখনও শুনি
তোমার কণ্ঠের অজানা আদুরে হাহাকার-ছলা।

কত স্মৃতি ঝুলে আছে সেখানে—
হাজার প্রেমের কাহিনি,
হাজার বিরহের কান্না,
হাজার অশ্রুর অদৃশ্য সিম্পানি।

তুমি চলে গেছ— তবু
তোমার সুবাস রয়ে গেছে জানালার কাঠে,
আমি আজও তোমাকে দেখি
বাতাসের উড়ে-যাওয়া ধুলোর নরম নৃত্যে।

তুমি এখনো স্বর্গীয় এক অনুভূতি—
যে অনুভূতির নাম হারিয়ে যাওয়া প্রেম,
যে প্রেমের দহনে আজও
আমার বুক ধূসর আগুনে জ্বলে নির্মম হেমন্ত-ক্ষেম।

জানালার পাশে দাঁড়ালে আজও
তোমাকে খুঁজে ফেরে আমার চোখ,
তুমি না থাকলেও—
তোমার স্মৃতি আমার কাছে এখনও
সবচেয়ে গভীর, ব্যথিত, চিরন্তন প্রেমের লোক।
--------------------------------------------------


১৮-১১-২০২৫

সেই গোলাপটি ফুটেছিল

 সেই গোলাপটি ফুটেছিল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

সেই গোলাপটি ফুটেছিল বাগানের মগডালে,
প্রভাতী রোদে लাজুক রঙে স্বপ্ন তুলেছিল গালে।
পাপড়িগুলো ছড়ানো যেন নবযৌবনা তরুণী,
নীরব চোখে তাকিয়ে থাকে— আহা, কী সে চঞ্চল ধরণী!

অপলক দৃষ্টির ভেতর ছিল ডাক অদৃশ্য কোন,
চুপিচুপি বলছে যেন— এসো ছুঁয়ে দাও মন।
হৃদয়ের গভীর জলের তলে উঠল ঝড় তুমুল,
তরঙ্গে তরঙ্গে কাঁপছে প্রাণ— একে কি বলা যায় ভুল?

শরীরের ভাঁজে ভাঁজে তার স্পর্শে আগুন জ্বলে,
লাজুক সুরে দোলে গোলাপ— রঙ যেন ঢেউ তোলে।
আঙুল ছোঁয়া মাত্রই সে নিচু করে দিল মাথা,
হাসল মৃদু, যেন বুকের ভেতর খুলল প্রেমের পথা।

ফিসফিস করে বলল সে—
“তোমাকে ভালোবাসি আমি, তোমায় চাই অনন্তকাল,
পাপড়ির রক্তিম হৃদয় আমার— তোমার জন্য একাকার!”

সেই গোলাপটি আজও বাগানের মগডালে রয়,
যেন প্রেমের প্রথম অঙ্গীকার— চিরস্বপ্নের নীরব পরিচয়।
-----------------------------------------------


১৮-১১-২০২৫

ভাললাগা থেকে শুরু

 ভাললাগা থেকে শুরু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

ভাললাগা থেকে শুরু—
দিনের প্রথম রোদে তোমার নামের গোপন আলো,
মেঘের ভাঁজে জমে থাকা নীরব অনুভব
হঠাৎ করেই নেমে এলো হৃদয়ের উঠোনে।

গোপনে গোপনে তুমি বলেছিলে—
“হৃদয়ের রক্তকণিকাকেও ভালোবাসি”—
সেই একটি বাক্যেই তৈরি হলো ভেতরে
ঝড়, তুফান, অস্থি-মজ্জায় বয়ে যাওয়া দহন-স্পন্দন।
গভীর কোনো অচেনা নদী যেন
ধীরে ধীরে খুলে দিলো তার ব্যথাতুর স্রোত।

ভাললাগা তখন নিঃশব্দে
ভালবাসার রূপ ধরে ফেললো—
চোখের কোণায় জমা আলো,
শ্বাসের উষ্ণতায় লুকানো আশ্বাস,
একদম অজান্তেই তোমার কাছে বেঁধে ফেললাম জীবন।

আজ তুমি—
হৃদয়ের তরঙ্গধ্বনি,
উত্তাল ঢেউয়ে বয়ে যাওয়া স্বপ্নের নাবিক,
জীবনের জীবন্ত অস্তিত্ব।
কাব্য, গল্প, উপন্যাস—
বিরহের কান্না থেকে আনন্দের উচ্ছ্বাস—
সবকিছুতেই তোমার ছায়া, তোমার রং, তোমার শ্বাস।

কত আগুন!
কত যন্ত্রণা!
কত গভীর অনুভবের দহন—
সবই যেন মিলিয়ে যায়
একটা নামের অগোচর আলোর ভেতর।

তবু মনে প্রশ্ন ওঠে—
ভাললাগাই কি ছিল জীবনের সমাধি?
নাকি তোমার ছায়াই আমাকে ভুল পথে বহন করেছে?
কাকে ভালবেসেছিলাম—
আজও তার উত্তর পাই না—
শুধু শুনতে পাই হৃদয়ের দীর্ঘশ্বাস
অন্তহীন নীরবতার গহিনে।

তবু ভাললাগা থেকে শুরু হওয়া এই গল্প—
যদিও শেষ হয় বিরহের নিঃশব্দ জলছবিতে,
তবু এর প্রতিটি শব্দে, প্রতিটি দহনেই—
তুমি আছো,
এখনো আছো,
আমার কাব্যের গভীরতম প্রার্থনায়।
------------------------------------------------


১৮-১১-২০২৫

বিশ্বাস ঘাতকের আড্ডা

 বিশ্বাস ঘাতকের আড্ডা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************************

হে বাঙালি! দেখো আজ—নিশ্চল রাত ঘন,
ঘাতকের ছল, মুখোশে হাসি, লুকানো আগুন মন।

ফিসফিসে কথা, কুৎসিত ছলে ভরা ঘাট,
বিশ্বাস ভেঙে বুকে দহন, শত্রু বন্ধু মিশে রাত।

রঙ পাল্টায় মানুষ, স্বার্থে ডুবে যন্ত্রণা,
সত্যকে ঠেলে ফেলে গর্তে, মিথ্যা উঠে বরণা।

ওদের চোখে ছুরি, কথায় মেশে বিষ,
ওদের আড্ডা বুকে জন্ম দেয় অন্ধকারের রিষ।

নীতি নেই, আদর্শ নেই, মিথ্যার রাজ্যে নাচ,
ঘাতকের হাসি বাজে—ভ্রান্তি ছড়ায় প্রতিটি ছাপ।

মববাদ, উগ্রবাদ ঢেউয়ের মতো ভাঙে দেয়াল,
ওদের আড্ডা চুষে খায় স্বাধীনতার রক্তজ্বাল।

একতার নদী শুকিয়ে যায়, ওরা খুশি হয়,
জাতির মানচিত্র ভেঙে ফেলে, কালো কালের তলে নোয়।

যোগ্য নেতৃত্ব হারায় পথ, ছলে বোনা জাল,
বাংলার বুকে বসে ওরা, কালো কালের দলে।

হে বাঙালি! চোখ খোলো—কাকে বন্ধু, কারা শত্রু,
চিনে নাও ঘাতকেরা আজ, যারা হাসে, করে ষড়যন্ত্র ধূ।

এই আড্ডা ভাঙলে তবেই বাঁচবে রক্তে কেনা স্বাধীনতা,
সত্য ধরো, ভাঙো প্রতারণার আসন, জ্বালাও ন্যায়ের প্রদীপ শিখা।

যদি আজও ঘুমাও, চোখ না খোলো—বোধ করো,
বিশ্বাস ঘাতকের দম্ভে নিভে যাবে জাতির আলো।
---------------------------------------------------------


১৮-১১-২০২৫

বাঙালির চরিত্র

 বাঙালির চরিত্র

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

আমি বলি—বাঙালি, জেগে উঠো, ঘুম ভাঙাও!
বিপ্লবী হৃদয় ছুড়ে দাও, না হলে সময় কি বাঁচাবে তোমায়?
সহনশীল মুখে লুকানো আগুন,
আত্মভোলা চেতনায় বাঁধা পড়া অশ্রু—উঠো!

ক্ষমাশীলতায় ভেসে থাকা, কিন্তু চোখে কি নেই?
ঘাতকের ছায়া, মীরজাফরের রক্তধরা ইতিহাসের ছাপ।
অসাম্প্রদায়িক স্বপ্নে ভেসে যাওয়া,
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলিয়ান মন—না হয় কি নিঃশব্দ?

বিশ্বাসঘাতকতা, অকৃজ্ঞতার ছায়া—
দুর্নীতিবাজ স্বর, স্বৈরাচার-ফ্যাসিবাদের ঝড়।
হিংসা-প্রতিহিংসার মাঠে বাজে নিত্য নতুন বাঁশি,
ধর্মীয় উগ্রবাদ লুকিয়ে বসে দেশপ্রেমকে শ্বাসরোধে।

স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, ইতিহাস বিকৃতির খেলা,
হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান-মুসলিম—সবাই যেন খেলার পাত্র।
নেতাদের স্বেচ্ছাচারিতা, পরিবারতন্ত্রের বেঁধে রাখা বৃত্ত,
দেশপ্রেমে শূন্য—এটাই বাঙালির চরিত্র।

তবু, আমি বলি—বাঙালি, জেগে উঠো!
ভালো-মন্দের দ্বন্দ্বে ঝড় খেলুক,
বিপ্লবের শিখা চোখে, প্রেমের আগুন হৃদয়ে।
অবশেষে মুক্তির স্রোত বয়ে যাক তোমার প্রাণের বুকে।

উত্তাল নদীর মতো,
অবিচল প্রবাহে—
ধ্বংস করো ঘাতক,
ছুঁড়ে দাও অন্ধকারের সব বস্ত্র।

ভাঙো পুঁজিবাদ, লুটতরাজ, স্বৈরাচারের খাঁচা,
ঘাতকের ছায়া ভাঙো, ইতিহাসের সত্যকে জাগ্রত করো।
আমি বলি—বাঙালি, স্বাধীন হউক চেতনায়,
অবশেষে তোমার চরিত্র হোক সত্যিকারের বিপ্লবী।
---------------------------------------------------


১৮-১১-২০২৫

মানসিক সংস্কার

 মানসিক সংস্কার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

জাগো হে মানুষ! বিদ্রোহ করো!
শৃঙ্খল ভাঙো, অন্ধকারে আগুন জ্বালো!
মানসিক সংস্কার চাই—সত্য, ন্যায়, মানবতা,
প্রত্যেক হৃদয় গর্জে উঠুক, স্বাধীনতার ডাক শোনা যাক!

শুনো হে! যদি মানসিক সংস্কার না হয়,
মানুষ নিভে যাবে অন্ধকারে, আলো হারাবে ভাস!
মিথ্যা, জাল, লোভের শৃঙ্খল ছিঁড়ে ফেলো,
সত্যের সিংহাসন গড়ো, অন্যায়কে দাও প্রতিশোধ!

জালিমরা ভয়ে কাঁপুক, ন্যায়কে দেখে হক হোক!
নিরীহ প্রাণ চিৎকার করে, তার আহ্বান শোনো হোক!
ধর্ম, নীতি, বুদ্ধি—সব বিক্রি হলে,
মানবতার পতাকা উঁচু করো, বিদ্রোহ জ্বালাও!

জাগো হে মানুষ! বিদ্রোহ করো!
শৃঙ্খল ভাঙো, অন্ধকারে আগুন জ্বালো!
মানসিক সংস্কার চাই—সত্য, ন্যায়, মানবতা,
প্রত্যেক হৃদয় গর্জে উঠুক, স্বাধীনতার ডাক শোনা যাক!

যে জাতি স্বপ্নের দাম জানে, সে গড়ে নতুন ঠিকানা,
মানবতার পথে হেঁটে যাবে, আলোর শিখা জ্বালাবে সারা।
জাগো হে তুমি! চিৎকার করো, লড়াই করো,
মানসিক সংস্কার চাই—অন্যথায় সভ্যতা হারাবে!

জাগো হে মানুষ! বিদ্রোহ করো!
শৃঙ্খল ভাঙো, অন্ধকারে আগুন জ্বালো!
মানসিক সংস্কার চাই—সত্য, ন্যায়, মানবতা,
প্রত্যেক হৃদয় গর্জে উঠুক, স্বাধীনতার ডাক শোনা যাক!

বিদ্রোহের আগুন হোক চিরদিন,
মানুষ জাগুক, শৃঙ্খল ছিঁড়ে মুক্তির আলো জ্বালুক!
-------------------------------------------------------


১৮-১১-২০২৫

মানসিক সংস্কার

 মানসিক সংস্কার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************

শুনো হে! যদি মানসিক সংস্কার না হয়, মানুষের আলো নিভে যাবে!
মিথ্যার শৃঙ্খল ভাঙো! সত্যকে মুক্তি দাও!
জালিমের রাজ্যে ন্যায় হারালে, পৃথিবী কাঁপবে!
নিরীহ প্রাণ চিৎকার করে, শুনে নাও তার ডাক!

ধর্ম বিক্রি, নীতি ফেলে—এটি আর সহ্য হবে না!
বুদ্ধিহীন মানুষকে জাগ্রত করো, মুক্তির পথে দাও!
মানসিক সংস্কার চাই! নয়তো সভ্যতা ভেঙে যাবে!
অন্যায়ের শৃঙ্খল ছিঁড়ে ফেলো, প্রতিশোধের আগুন জ্বালো!

জাগো হে মানুষ! সত্যের রণক্ষেত্রে লড়াই করো!
ভালোবাসা, ন্যায়, মানবতা—সবই রক্ষা করো!
প্রকৃতির সুরে ন্যায়ের ডাক শুনো, আন্দোলনে উঠো!
মানুষ হোক মুক্ত, অন্যায়ের দমন ভাঙো!

যে জাতি স্বপ্নের দাম জানে, সে গড়ে নতুন ঠিকানা!
মানবতার পথে হেঁটে যাও, আলোর শিখা জ্বালো!
শোনো হে! মানসিক সংস্কার যদি না হয়, সবই হারাবে!
প্রত্যাশার শিখা চিরদিন জ্বলুক, অন্ধকারকে ভেঙে দাও!

বিদ্রোহী চিত্ত জাগুক, অন্যায়ের জাল ছিন্ন হোক!
প্রত্যেক হৃদয় বলুক—“আমি মানুষ, নই দাস বা ফাঁকিবাজ লোক!”
জাগো হে তুমি! সত্যের রণক্ষেত্রে লড়াই করো!
ভুলত্রুটি, অমানবিকতা—সবই ফেলে দাও!

মানসিক সংস্কার চাই! নয়তো সভ্যতা হারাবে!
মানুষের প্রত্যাশা চিরদিন জ্বলে, অন্ধকার ভাঙবে!
শোনো হে! জাগো! লড়ো! মুক্তির আহ্বান শুনো!
মানবতার পতাকা উঁচু করো—বিদ্রোহের আগুন জ্বালো!
--------------------------------------------------


১৮-১১-২০২৫

জাগো হে জাগো মুমিন

জাগো হে জাগো মুমিন
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************

জাগো হে জাগো মুমিন— ইয়া আজলাদুল-মুত্তাকীন,
তোমার হৃদয় হোক মিহরাব-এ-হক, শিরায় শিরায় উঠুক নূরের তামকীন।

ধরে নাও আলমে-সালামত— শান্তির সবুজ লওহায় লিখো তাওহিদের নাম,
“আল্লাহু আকবার”— কাঁপুক দুনিয়া, কাঁদুক বাতিলের যাম।

বলো তুমি—
“হুয়াল আহাদ! হুয়াল কাহ্‌হার!” একক রব,
রব্বুল আলামীন যাঁর জ্যোতি সাগর পাড়ি দেবে সকল শব।

নবীর নামে বলো—
তাজদার-এ-মদিনা, হাবিবুল্লাহ, সিরাজুম মুনির,
আমরা তাঁর উম্মত— আমাদের পথ তাঁর, সিরাতে-নববি ধ্রুবনক্ষত্রের ফির।

কেন আজ উম্মাহ বন্দী জাহেলিয়াতের দালান,
কেন নফসের কাছে আবদ্ধ, করে বাতিলের সোহবত— লোভে-তন্দ্রায় ধ্বান্দা-প্রাণ?

কেন ফিতনার সওদাগর মুকুটে রাজত্ব গড়ে,
মুমিন নেমে যায় গাফলতের খাদে, সন্দেহে অন্ধ অশ্রু ফেলে।

কোথায় তোমার হিম্মত? কোথায় তাওয়াক্কুলের সেতারা?
কেন নফরাত, হাসদ— দাঁড়ায় ঈমানের জল্লাদ-কারা?

মুমিনে-মুমিনে দ্বন্দ্ব— ইখতিলাফের আগুন,
ভাইচারা আজ গোরস্থানে শুয়ে, নীরব— হারানো স্বপ্নের ধুন।

উঠো!
জাগো!
দাওয়াতুল হক-এর ময়দানে বাজুক নতুন সৌতে-ইস্তিকামাত,
রাওনাট স্কুল মাঠে জমুক মাহফিল-এ-নূর, মাজলিস-এ-খাইর, ইজতেমা-এ-বেরকাত।

এসো হে ইবনে-ইমান, তুমি সিপাহ-এ-হক, তুমি মারদান-এ-গাজী,
তোমার ঈমান হোক শমশের-এ-সিফফিন, অদম্য, ঐক্যের বাজি।

তুমি অন্ধকারের আলো— শামা-এ-তাওহিদ,
তুমি নূর-এ-ইলাহির বাহক, সত্যের কণ্ঠস্বর, ঈমানের মুরীদ।

উঠাও দাওয়াহর ঝড়— বাতিলের দুর্গে কাঁপুনি দাও,
তাওবা-ই-নাসুহায় কাঁদাও রূহ, ভাঙো নফসের ফেরাউনী।

বলো—
“লা গালিবা ইল্লাল্লাহ!” সাহায্য কেবল তাঁর,
তাঁর নূর-এ-হেদায়াহ দেবে পথ, রাতকে পার করবে অগ্নিস্রোতে।

হৃদয়ের দরজায় পড়ুক জওয়ালজোশ— কাঁপুক আসমান-ও-জমিন,
ঈমানের স্রোত বয়ে যাক— মতিওয়ালা, রূহ-পরওয়াজ, আলোর রওশন-নগীন।

মুমিন— তুমি পরাজিত নও!
পরাজয় হলো তোমার নফস, গাফলত, দুনিয়ার মোহ—
তুমি নয়! তুমি গালিব, তুমি ফতেহ, তুমি ফিরবে বিজয়ের দোহ।

পৃথিবী অপেক্ষায়—
তোমার ইত্তেহাদের পতাকা,
তোমার উম্মাহর জাগরণ,
তোমার হকের আওয়াজ,
তোমার শুকর ও সিজদাহর বিপ্লবী বরকতধারা।

জাগো হে জাগো মুমিন—
আল্লাহর নামে জ্বলে ওঠো সাহস-এ-সিদ্দিকি,
আমেনার নূর বুকে, ধরো ফারুকি দৃঢ়তা,
হাসানের কোমলতা, হুসাইনের জুলুম-ভাঙা মহাকাব্য-প্রতাপ—
এসবই তোমার ঐতিহ্য, তোমার মিরাস।

তুমি—
উম্মাহর রাহবর,
সত্যের মুজাহিদ,
হকের সালসাবিলের পথিক।

জাগো!
আজকের রাত শেষ হবে তোমার তাকওয়ার আলোয়,
তোমার দোয়ার কান্নায়,
তোমার তাওহিদের অগ্নিশিঙ্গায়।

জাগো হে জাগো মুমিন—
আল্লাহর নূর নিয়ে উঠে দাঁড়াও,
এই দুনিয়ার আঁধার চিরে
হকের সওর ঢেলে দাও।
-------------------------------------------


১৮-১১-২০২৫


ইসলামী দাওয়াতুল হকের ঘোষণাপত্র

 ইসলামী দাওয়াতুল হকের ঘোষণাপত্র

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************************
জাগো হে জাগো মুমিন!— আলমে-হকের তূরী বাজুক আজ,
ধরো পতাকা-এ-সালাম, ভাঙো বাতিলের কাঁটা-ফাঁজ!

শোনো হে শোন মুমিন
রাওনাট স্কুলের পবিত্র ময়দানে দাওয়াতুল হক মাহফিল,
আজ জ্বালাবে নূরের শামা, উঠবে ঈমানের তাহরিকে-কামিল।

বলো হে বলো মুমিন
আল্লাহু আকবার!— তাঁরি নামেই শুরু আমাদের সমাবেশ,
নূর-এ-মদিনা রাসুলুল্লাহ— তাঁর হৃদয়ে রয়েছে উম্মাহর পরম পরিবেশ।

এসো ইবনে-ইমান, এসো মুজাহিদে-হক,
এই ময়দান আজ ইজতেমা-এ-নূর,
এখানে হৃদয় হবে রূহানি, দুনিয়া হবে মাগফিরাতের সুর।

আজ রাত হবে জিকিরে-আজীম, কান্নার তাওবা-ই-নাসুহা,
দোয়ার ডানায় উঠবে সাঈদা, হৃদয় ধুয়ে যাবে গুনাহর নুছরা-দুছরা।

জাগো হে মুমিন জাগো মুমিন!
কেন থাকো ঘাফলতের ঘোরে?
কেন নেমে গেলে সিরাতুল হকের রোশন পথ ছেড়ে অন্ধকারের চোরে?

এ ইসলামী ্জলসা ডাকছে তোমায়—
ইত্তেহাদ, মাতবিয়্যাত, মুহাব্বতের গান,
নবীর পথে ফিরিয়ে নেবে হারানো উম্মাহর ইমান।

বাতিলের প্রাসাদে দাও কাঁপুনি—
আজ রাতে উঠবে জওয়ালজোশের তরঙ্গ,
রাওনাটের আকাশ কাঁপবে,
দুনিয়া শুনবে ঈমানের তিকরার, সত্যের সুরের ভঙ্গ।

এসো হে এসো মুমিন
হাতে নাও কোরআন-এ-মজীদ, বুকে নাও সুন্নাহর নূর,
তুমি অন্ধকারের আলো— শামা-এ-হক, তুমি ঈমানের গর্জন-নূর।

আজকের এ মাহফিল শুধু সমাবেশ নয়—
এ এক রূহ-পরওয়াজ,
এ এক তাওহিদের ঝড়,
এ এক নব জাগরণ—
যেখানে শিরায় শিরায় বাজবে *“লা গালিবা ইল্লাল্লাহ”*র গর্জন।

তাই বলো— বলো হে মুমিন
জাগো হে জাগো মুমিন!
ইয়া আহলুল ইমান, উঠো নূরের বাহিনী হয়ে,
তোমরাই উম্মাহর শক্তি, তোমরাই নবীর জ্যোতি—
তোমরাই বদলাবে দুনিয়া এই মাহফিলের আলো পেয়ে।
--------------------------------------------------


১৮-১১-২০২৫

মুমিনের গর্জন

 মুমিনের গর্জন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

জাগো হে জাগো মুমিন!
আজ তোর বুকে বাজুক তাওহিদের বজ্র-চাবুক!
পাপের দুর্গ আজ ভেঙে দে—
তুই তো আল্লাহর আরশকাঁপানো শক্‌তি-অভিব্যক্ত!
বাতিলের সিংহাসন আজ
তোর দৃষ্টিতে ধুলার ঢিবি—
গর্জে ওঠো!
লা গালিবা ইল্লাল্লাহ—
এই ধ্বনিতে আসমান-যমীন হোক দুলাধুলি!

নবীর প্রেম তোর রূহে যখন ফেটে পড়ে আগুন হয়ে,
তুই তখন রণতূর্য— তুই হকের ঝড়—
তুই অদম্য, অকুতোভয়, দীপ্ত নূর-অসুর!
জিহ্বায় তোর তওবাহর শিখা,
বুকে তোর তাকওয়ার ঢাল,
বাতিলের মুখোমুখি তুই
দাঁড়াস সিংহের মত—
রক্তে তোর ঈমানের লাল!

আমি মুমিন!
আমি নূরের বিদ্রোহী সন্তান—
আমি অন্ধকারকে করি ক্ষত-বিক্ষত,
আমি আল্লাহর নামে ফাটাই শয়তানের পর্দা-বন্ধন!
আমি তাগূতের তর্জন-গর্জনকে
হাসিমুখে করি চূর্ণ-বিচূর্ণ,
আমি হকের পথে রক্ত দিলেও
হেসে বলি— “এই মৃত্যু আমারই জয়-ধ্বজন!”

দিলে তোর উঠুক গুঞ্জন—
ইস্তিগফার! তওবা! রুহের বিপ্লব!
নফসকে লাথি মেরে
তুই দাঁড়া উম্মাহর উকিল-এ-গাজী রব!
দাওয়াতের ময়দানে তুই আজ
শামসের মত উঠ আলোরোহণ,
তোর কণ্ঠে নেমে আসুক
নূরের শান, তাদবীরের জঞ্জাল-বিজড়ন!

হে আল্লাহু নূর—
আজ আমাদের অশ্রু বানাও তাওবার সমুদ্র,
আমাদের বুকেতে দাও এমন ঈমান
যা পাহাড়কে করে গুড়িয়ে ছাইমুড়ি!
যুবকদের করো সিংহ-হিম্মত,
তাদের রূহ দাও আকাশচুম্বী উড্ডয়ন,
শয়তানের ফাঁদে না পড়ে
তারা হোক তাওহিদের তলোয়ার, সত্যের বীরোত্তম।

হে রব্ব—
আমাদের করো সালেহ মুমিন,
করো দীন প্রতিষ্ঠার ঝড়,
তোমার পথে জীবন দিলে
তা হোক আমাদের হাস্যমুখ-শুভ-অন্তিম ঘর।

— আমীন, ইয়া রাব্বুল আল-আমীন!


১৮-১১-২০২৫

Monday, November 17, 2025

বিচারক যদি নিরপেক্ষ না হয়

 বিচারক যদি নিরপেক্ষ না হয়


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

বিচারকের চোখে যদি পক্ষপাতের অগ্নি-ধোঁয়া,
কোরআন গর্জে— “সত্যে দাঁড়াও! পিছু হঠো না এক চোঁয়া!”
অন্যায়ের সিংহাসন ভেঙে ফেলাই মুমিনের পথ,
সত্যই তলোয়ার—আল্লাহর হুকুম তারই প্রথম রথ।

“সত্যের সাক্ষ্য দাও”— এ আয়াত আগুনের গর্জন,
মিথ্যার রায়ে জ্বলে ঈমান—হয়ে যায় ছাই-ভস্ম-ক্ষণ।
“শত্রুর বিরুদ্ধেও ন্যায়”— আলোর কঠিন আইন,
বিচারকের রক্তে যদি পক্ষপাত—তবে তার অন্তঃকরণ হীন।

দরিদ্রের কান্না ফুঁড়ে দেয় আসমান-জমিন,
বিচারক যদি না শোনে—সে নিজেই করে অপরাধের বিন।
ন্যায় আল্লাহর তরবারি—ধারালো, ঝলসানো আগুন,
অন্যায় রায়ে নিজেই জ্বলে বিচারকের অন্তঃসাধুন।

পক্ষপাতের বিষ ঢুকলে রায়ে মরে মানব-নীতি,
অন্যায় তখন নাচে, ধ্বংস ছড়িয়ে দেয় অগণিত গীতি।
সত্যের রায় বজ্রের গর্জন—আল্লাহর পথে বিজয়,
মিথ্যার রায় মানে অন্ধকার—শয়তানের শেকল-ক্ষয়।

বিচারক, শুনো—তোমার কলমই জাতির বহুদিনের আশা
তুমি বেঁকে গেলে অন্ধকারে ডুবে যাবে ভবিষ্যতের দিশা।
ন্যায় প্রতিষ্ঠা শুধু দায়িত্ব নয়—এ আমানত আল্লাহর,
পক্ষপাতের রায় দিলে জবাবদিহি হাশরে হবে ভয়াবহ আগ্রহর।

আল্লাহর নামে দাঁড়াও সত্যে—যার সামনে আগুনও ঠাণ্ডা হয়,
আর বিচারক যদি নিরপেক্ষ না হয়—ধ্বংসই তার একমাত্র ক্ষয়।
---------------------------------------------


১৭-১১-২০২৫