বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৫

এক সোনার প্রতীক

 এক সোনার প্রতীক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ ০৪-০৯-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*************************
কাপাসিয়ার মাঠে জন্ম নিল আলো ও তেজে,
ডাঃ সানাউল্লাহ (জন্ম: অজ্ঞাত, মৃত্যু: ২৫ জুন ২০১৭)—
চিকিৎসা ও রাজনীতির এক অভিসিদ্ধ মেষে।
গাজীপুরের গাছের মতো দৃঢ় তাঁর সংকল্প,
মুক্তিযুদ্ধের ধূসর আকাশে জ্বলেছে হৃদয়-উৎসর্গে অন্তরঙ্গ।

১৯৭১ সালের ঝড়ে, স্বাধীনতার স্রোত বহে,
প্রথম প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু, ইতিহাসে অমলিন চিহ্ন রেখে।
১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, সংসদে পদার্পণ,
ঢাকা-২২ (বর্তমান গাজীপুর-৪) আসনে বিজয় ছিনিয়ে আনলেন অনুপ্রেরণ।

সংসদে বক্তৃতায় যেমন বাতাসে নীরব ফুলের গন্ধ,
তেমনি শক্তিশালী, অটল—যেন পাহাড়ের প্রাচীর-বন্ধ।
কাপাসিয়া কলেজের ইটে ইটে পরিশ্রমের ছাপ,
জ্ঞান-প্রকাশের সুবাস ছড়ায় চারপাশে এক অনন্য আভাপ।

রাজনীতির ঝড়ে দাঁড়িয়েছেন অটল বৃক্ষের মতো,
প্রজাদের স্বপ্ন রক্ষা করেছেন নদীর নীরব স্রোতের মতো।
প্রকৃতির গহন অলঙ্কারে—পাতা, নদী, পাহাড়, বাতাসের সাথে,
ডাঃ সানাউল্লাহ-এর জীবন জ্বলেছে চিরন্তন আলোতে।

মেজর (অবঃ) শফিউল্লাহ মিঠু, কৃতী সন্তান, ধ্রুবতারা,
বাবার পথে এগিয়ে যায়, যেন ইতিহাসের প্রতিফলিত তারা।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি তাঁর সাহসের দ্যুতি,
বাঙালির হৃদয়ে জ্বলে চিরস্মরণীয় প্রতিফলন-মুতি।

চিকিৎসায় সহানুভূতি, রাজনীতিতে দৃষ্টান্ত,
ফুলের সুবাসের মতো ছড়িয়েছে তাঁর গুণের তান।
মৃত্যুর পরও স্মৃতি উড়ে বেড়ায় আকাশের রঙিন পরী,
জন্মস্থান কাপাসিয়ার মাটিতে অমলিন হয়ে আছে তাঁর পীড়ী।

প্রজাদের হৃদয়ে তাঁর নাম চিরকাল জ্বলুক দীপ্তি,
যেন সূর্যোদয়ের রশ্মি, অন্ধকার ভেঙে আনে নতুন দিপ্তি।
ডাঃ সানাউল্লাহ—চিকিৎসা ও নেতৃত্বের এক সোনার প্রতীক,
প্রকৃতি, ইতিহাস, সন্তান—সব মিলিয়ে জীবন তাঁর এক দ্যুতি-শ্রুতিক।
--------------------------------------------------------

ইতিহাসের অমর দীপ্তি

 ইতিহাসের অমর দীপ্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ ০৪-০৯-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*************************
ঢাকার মাটিতে ১৯৩২, ২৪ ডিসেম্বরের প্রভাতে,
জন্ম নিলেন জোহরা, আলোয় ভরা এক আঁধারে।
সৈয়দ সেরাজুল হকের স্নিগ্ধ শিক্ষার আলো,
মাতার মমতা নিয়ে বোনা জীবনখানি হাসিমুখে ভালো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে জ্ঞান সমাহার,
তৃপ্তি আর ত্যাগের মিলন, সাহসের প্রখর উদ্ভার।
১৯৫৮ সালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের ধ্বনি,
রাজনীতির মাঠে দাঁড়ালেন অদম্য মনোবলিনী।

১৯৫৯ সালের ২৬ এপ্রিল, রাত চারটায়,
বেলী ফুল হাতে বেঁধে দিলেন দাম্পত্যের পথযাত্রায়।
তাজউদ্দীনের সঙ্গে শুরু হলো নিঃস্বার্থ জীবনযাপন,
দেশ ও জাতির জন্য মিলল হৃদয়ের অনন্য প্রেরণ।

মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সালে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে,
স্বামী পাশে, সাহসের দীপ জ্বেলে অন্ধকারে।
শরণার্থী শিবিরে নারী পুনর্বাসনে দান,
ঝড়-ঝঞ্ঝা সামলে করলেন ত্যাগের মহিমান্বিত প্রমাণ।

বঙ্গবন্ধুর ১৫ আগস্টে জীবনহানি,
৩ নভেম্বর কারাগারে স্বামীসহ চার নেতার কল্পনা অচেনা।
১৯৭৭ সালের এপ্রিল, আহ্বায়ক হয়ে উঠলেন অদম্য,
সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের বাতি জ্বেলালেন অক্ষয়।

দলের প্রাণে প্রাণ সঞ্চার, শান্তি ও ঐক্য বজায়,
প্রচণ্ড ঝুঁকি, হুমকি, তবু ছিলেন দৃঢ়মনা মহৎ।
১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে দলে যোগ দিলেন,
সভাপতিমণ্ডলীতে দায়িত্ব নিয়ে দলকে শক্তি দিলেন।

পারিবারিক জীবনও ছিল অনন্য—চার সন্তান সুখী,
শারমিন, সিমিন, মাহজাবিন, তানজিম—সবাই প্রেরণার মুখী।
পাকিস্তান মিলিটারির তাড়া, গ্রামান্তর পথ অতিক্রম,
পরিবার নিয়ে সাহসী পদক্ষেপ, মানবিক ত্যাগে পরিপূর্ণ অন্বেষণ।

জোহরা ভ্রমণ করে দল পুনর্গঠন, নেতা ও কর্মী উজ্জীবিত,
শান্তি ও ঐক্য রক্ষা, দুঃসাহসিক পদক্ষেপে অনন্য অভিপ্রেত।
প্রাকৃতিক উপমায় জীবন, নদী ও বনে প্রেরণার প্রতিধ্বনি,
অগ্নি, বৃষ্টি, চাঁদনি—সব মিলিয়ে তাঁর ত্যাগের ছায়া ধ্বনি।

২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর, বিদায় নিলেন নিঃশব্দে,
জোহরার জীবন, ত্যাগ ও সাহস আজও স্মরণীয় প্রেরণায় ভেসে।
নীরব নক্ষত্রের মতো দৃষ্টি, নদীর স্রোতের মতো ধৈর্য,
জোহরা তাজউদ্দীন—আলোকিত নারী, ইতিহাসের অমর দীপ্তি।
--------------------------------------------------------

বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ

 বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ


দারদিয়া গ্রামে জন্ম, ২৩ জুলাই ১৯২৫,
শীতলক্ষ্যা নদীর ধারায় সোনার শিশির ভেজ।
ঢাকা কলেজের পথে হাঁটা, ১৯৪৪ সালের আলো,
অর্থনীতির জ্ঞানে উদিত, ১৯৫৩-এর সোনালি ভালো।

আইনের পথে পা, ১৯৬৪, ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনে,
শৃঙ্খলিত শাসনের বাতাসে গেঁথে দিলেন মন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৬৬-এর বেলা,
দলের বিজয়ী সূর্যোদয় যেন আলোর দোলা।

১৯৭০ সালের নির্বাচন, জনগণের বিশ্বাসে পূর্ণ,
মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভে, মুজিবনগর সরকারের ধ্বর্ণ।
১৯৭১-এর মার্চে পলায়ন, ভারতে আশ্রয় নিলেন,
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে, স্বাধীনতার বাণী দিলেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২–১৯৭৪ অর্থমন্ত্রী,
দেশের সোনার চাষে, তার পরিকল্পনা ধনশক্তি।
সংবিধান প্রণয়নে তার হাত, গণতন্ত্রের কলমে,
নির্ভীক ও নির্লোভ, জাতির চেতনায় যম।

পৃথিবীর অন্ধকারে, ৩ নভেম্বর ১৯৭৫,
কারাগারের শৃঙ্খলে, মিলল শেষ বেদনার ঝড়ে।
তার আত্মত্যাগে বাঙালি জাতি পেল স্বাধীনতার গান,
প্রকৃতির মতো বিশুদ্ধ, অমলতার অমর চিহ্নspan।

শ্রীমুখে হাসি, হৃদয়ে দেশপ্রেমের আলো,
তাজউদ্দীন আহমদ, জাতির তরে চির অমল।


প্রথম প্রধানমন্ত্রী

 প্রথম প্রধানমন্ত্রী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ ০৪-০৯-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*************************
কাপাসিয়ার দরদরিয়া গ্রামে জন্ম, ২৩ জুলাই ১৯২৫,
শীতলক্ষ্যা নদীর স্রোতের মতো শান্ত, মন তার ভেজ।
মৌলভী মুহাম্মদ ইয়াসিন খানের আদর্শে গড়ে ওঠা,
মেহেরুন্নেসা খাতুনের স্নেহে ঘেরা শিশুর চোখে আলো ভরা।

ভাই-বোনদের সঙ্গে কাটল শৈশবের দিন,
ভালবাসার আঁচলে বাঁধা জীবন যেন নদীর নিখিল ছিন।
ছোটবেলা থেকেই কোরআনের হাফেজ, আলোর পথে চলা,
শিক্ষার আকাশে জ্বলে ওঠে তার জ্ঞান-বুদ্ধির পোহরা।

ঢাকা কলেজে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪–এর আকাশে,
ইন্টারমিডিয়েট ১৯৪৮, স্বপ্নের ডানা মেলে বাতাসে।
অর্থনীতিতে বিএ অনার্স, ১৯৫৩–এর সোনালি আলো,
জ্ঞানভান্ডার সমুদ্রের মতো, চেতনার নীল হাওয়ায় ভেলা।

আইন শিখল ১৯৬৪, ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনে,
ন্যায়ের পথে হাঁটা, ঝড়-বাদলের মধ্যেও স্থির হৃদয়ে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৬৬–এর কিরণে,
সূর্যের মতো জ্বলল তার নেতৃত্ব, অন্ধকারের শিখরে।

১৯৭০–এর নির্বাচনে জনগণের ঢেউয়ে ভাসল সে,
ভোটের কাগজে লেখা ইতিহাস যেন নদীর প্রবাহে লেখা।
মার্চ ১৯৭১–এ পলায়ন ভারতে, আশ্রয়ে শরণ,
মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ধরণ।

মুক্তিযুদ্ধের অনন্য সংগঠক, দেশপ্রেমে অটল,
বঙ্গবন্ধুর আদেশে স্বাধীনতার সপথে অমল।
শত্রুর আগ্রাসন বন্ধ করতে, ঢেউয়ের মতো সংগঠন করল,
জনগণের মনোজগতে স্বাধীনতার আলোক ঝড়োল।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২–১৯৭৪ বাংলাদেশে,
দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতৃত্ব দিলেন সাহসী পথে।
সংবিধান রচনায় কলম তার, গণতন্ত্রের কুম্ভে,
নতুন সূর্যোদয় যেন প্রকৃতির রোদের কোমল কুম্ভে।

১৯৭৪–এ মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন ধীর,
নির্লোভ জীবনযাত্রায় দেশপ্রেমে অমল, অদ্বিতীয়, নির্ভীক দীক্ষা।
১৫ আগস্ট ১৯৭৫, দেশের হৃদয় কেঁপে উঠল,
শহীদদের রক্তে লেখা স্বাধীনতার গীত ধ্বনিত হল।

৩ নভেম্বর ১৯৭৫–এ কারাগারে শেষ হল তার ধ্যান-চেতনা,
আত্মত্যাগের বাতাসে বাঙালি জাতি পেল স্বাধীনতার গান।
প্রকৃতির মতো বিশুদ্ধ, নদীর স্বচ্ছ জলে প্রতিফলন,
বাতাসে বাঁশির সুরে শোনা যায় তার অমর পদচিহ্নের গান।

শিশিরমুক্ত সকাল, চাঁদের নীরব আলোকচ্ছটায়,
তার স্মৃতি রোদে-মেঘে, বৃষ্টির ধ্বনিতে জেগে থাকে।
তাজউদ্দীন আহমদ, কাপাসিয়ার গর্ব, চিরকাল জাতির প্রাণে অমর দীপ্তি,
স্ত্রী জহুরা তাজউদ্দিনের স্নেহে গড়া সংসার, ছেলে-মেয়ের বিবাহিত জীবন রঙিন রেখা।

জাতির হৃদয়ে তিনি, নদীর ধারা মতো প্রবাহমান,
প্রকৃতির রূপক দিয়ে বাঁধা তার সাহসের কাব্যরেখা।
কাপাসিয়ার দরদরিয়া স্মৃতিতে রইল তার চিরন্তন গল্প,
মুক্তিযুদ্ধের অনন্য সংগঠক, কোরআনের হাফেজ,

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ,
চিরকাল আমাদের হৃদয়ে জীবন্ত আলো।
--------------------------------------------------------

ফকির মান্নান শাহ–অমর নাম

 ফকির মান্নান শাহ–অমর নাম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ ০৪-০৯-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*************************
ঘাগটিয়ার মাটিতে জন্ম, জানুয়ারির ভোরের আলোয়,
ফকির মান্নান শাহ এসেছে, ইতিহাসে অমলিন চিহ্ন ছোঁয়।
পিতা আব্দুল ওয়াহাবের ছায়া, মাতার নেছার কোমল আশ্রয়,
গ্রামের মাদ্রাসায় শিখা জ্বলে, জ্ঞানপানে মন ভরাল অমলধারায়।

মেট্রিকুলেশন ১৯২৫, ইন্টারমিডিয়েট ১৯২৭–এর ধ্রুব আলো,
১৯২৯–এর স্নাতক ডিগ্রি, ১৯৩৪–এ আইনময় জ্ঞানের পাল্লায় ভরা।
রাজনীতির পথে যাত্রা ১৯৩৬–এ, কৃষক প্রজা পার্টির আলোয়,
পাকিস্তান আন্দোলনে মুসলিম লীগের প্রতীক হয়ে আলো ছড়ায়।

১৯৪৬–এর নির্বাচন, এমএলএ প্রার্থী হয়ে জয়লাভ,
পূর্ববাংলা আইন পরিষদে ১৯৪৭–৫৪, জনকল্যাণে অদম্য ভাব।
১৯৫৩–৫৮ সাধারণ সম্পাদক, মুসলিম লীগের নেতৃত্বে দ্যুতি,
পরে ১৯৬৫–৬৯ কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী, দেশের কল্যাণে অঙ্গীকার মিঠা।

পরাজয়ও হয়েছে, ১৯৫৪–এ যুক্তফ্রন্টের তাজউদ্দীন আহমদের কাছে,
কিন্তু মনোবল অটল, ইতিহাসে লেখা, দেশের জন্য অমিয় দীক্ষা।
পরিবারে বয়ে গেছে গর্ব, তিন ছেলে, দুই মেয়ে–নিষ্ঠার চিহ্ন,
হান্নান শাহ–সাংসদ, পাটমন্ত্রী, সেনার অবসরপ্রাপ্ত সিংহ।

মেঝ ছেলে শাহ আবু নাঈম, সুপ্রিম কোর্টে আইনময় দৃষ্টি রাখে,
ছোট ছেলে মোবারক শাহ, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মের আলো জ্বলে রাখে।
মেয়েরা–আনোয়ারা ইদ্রিস, বার এসোসিয়েশনের প্রথম নারী ভাইস চেয়ারম্যান,
ছোট মেয়ে আঞ্জুমান আরা বেগম মিনু, আন্তর্জাতিক গবেষণায় দীপ্তিময় প্রাণ।

১৯৯৩–এর ৩১ অক্টোবর, বিদায় নিলেন অমর জীবনের ছন্দে,
কিন্তু কর্মময় ইতিহাস, বাঙালি মনে অমলিন অমৃতবিন্দুতে।
ফকির মান্নান শাহ, দেশের জন্য অদম্য, জ্ঞান ও রাজনীতির নক্ষত্র,
পরিবারে প্রেরণা, সমাজে দ্যুতি–চিরকাল তার নাম অমলিন জ্বলন্ত।

নির্ভীকভাবে চলেছেন তিনি, প্রতিটি প্রতিকূলতায়,
দেশপ্রেমের প্রদীপ জ্বলে, অন্ধকারে দিশারী হয়ে।
মুক্তির স্বপ্ন বোনা, ন্যায়ের পথে অটল ধ্রুবতারা,
ফকির মান্নান শাহ–অমর নাম, হৃদয় জুড়ে চিরন্তনা।

--------------------------------------------------------


স্মৃতির আলো

 স্মৃতির আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ ০৪-০৯-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*************************
১৯৪০ সালে জন্ম নিল ভোরের সোনালি আলোয়,
দরদরিয়ার মাটিতে গড়ল চরিত্রের অমল উদয়।
শীতলক্ষ্যার ঢেউয়ের মতো শান্ত, অচল স্থির, ,
কাপাসিয়ার গর্বে জ্বলে মানুষের হৃদয়ের তীর।

প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহম্মেদের ছোট ভাই,
ন্যায় ও দায়িত্ব বেছে নিলো উজ্জ্বল শান্তি তরে যাই
আইনজীবীর মুকুট মাথায়, ন্যায়ের দীপ জ্বেলে,
উপজেলার চেয়ারম্যান হয়ে জনতার কল্যাণে দোলে।

১৯৮৭ সালে আওয়ামী লীগের পতাকা হাতে ধরে খেল,
মাটির সাথে মিলিয়ে গড়ল মানুষে মানুষের মেল।
১৯৯৬ সালে সংসদে নির্বাচিত, গাজীপুরের প্রতীক,
প্রতিমন্ত্রীর আসনে দায়িত্বে, জনমনের আশার স্পন্দন নিখুঁত।

ছয় মাসের কর্ম্ময় পথ, গৃহায়ন-গণপূর্তে স্বপ্নের দিশা,
রাজনীতির নদীতে ভেসে চলল তার দৃঢ় নিশ্বাস।
পরিবারে শান্তি, স্ত্রীর ভালোবাসা, দুই সন্তানের আলো,
এক ছেলে বিদেশে, অন্য দেশে চিকিৎসায় মানবতার বালো।

২০২১ সালের নভেম্বরে ঢাকায় বিদায় নিলেন,
মৃত্যু হলেও স্মৃতি রবে হৃদয়ে চিরকালীন মিলেন।
তার নামের প্রতিটি অক্ষর বাজে ইতিহাসের ঘণ্টায়,
রাজনীতি ও ন্যায়ের সেতু গড়ল সময়ের স্রোতায়।

মাটির ছোঁয়ায়, মানুষের চোখে, নদীর ঢেউয়ে বয়ে যায়,
আফসার উদ্দিন আহম্মেদ খানের কর্মময় গাথা চিরকাল রয়ে যায়।
প্রত্যেক পদক্ষেপে মানুষের আশা, প্রতিটি শব্দে ন্যায়ের গান,
কাপাসিয়ার গর্ব, দেশের ইতিহাসে তাঁর অবদান অমর মান।
--------------------------------------------------------

দুঃসাহসী প্রাণ –আমাদের প্রিয় দাদা

 দুঃসাহসী প্রাণ –আমাদের প্রিয় দাদা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ ০৪-০৯-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*************************

দূর্গাপুরে তারাগঞ্জের মাটিতে জন্ম নিল এ আলো,
শিশুকালে স্বপ্ন বোনা—সূর্যের মতো দীপ্তির পালো।
বিদ্যালয়ের ধূসর প্রাচীরে জেগে ওঠে মন,
ছুটে যায় মুক্তির খুঁজে, আলো ছড়ায় সমর রণ।

মুক্তিযুদ্ধের আগুনে পুড়ে তেজী হৃদয় জ্বলে,
বাংলায় মানুষে মানুষে স্বাধীনতার দীপ্তি ঢলে।
বীরত্বে ভরা হাত, নদীর মতো অটল ও প্রবল,
দুঃসাহসী প্রাণ—আকাশের মতো মুক্তির মহল।

রাজনীতির মঞ্চে দাঁড়ালে, বজ্রপাতের মতো আওয়াজ,
সাম্যের পতাকা হাতে, চাঁদের আলোয় পথপ্রদর্শক রাজ।
উন্নয়নের পথে পা, যুবসমাজের শিক্ষা তুলে,
মাদক-সন্ত্রাসের অন্ধকারে—ঝড়ের মতো উড়ে যায় মূলে।

লোকে বলে, আমাদের প্রিয় দাদা, নেতৃত্বের আলো,
সব অন্ধকার মুছে যায়, পথ হয় আলোকিত ও মোলাও।
বিদ্রোহী চরিত্রের মহিমা, বজ্র-নিশ্বাসের মতো অটল,
খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, জনগণের অমোঘ বল।

মুক্তিযুদ্ধের রক্তে লেখা, সূর্যোদয়ের মতো শিরোনাম
সাহস ও নেতৃত্বে অনন্য,জাতির হৃদয়ে প্রিয় দাদার নাম।
--------------------------------------------------------

নামাজ

 নামাজ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ ০২-০৯-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*************************

ভোরের আলো ফজরের ডাকে, জাগে হৃদয় পবিত্র,
আল্লাহর প্রেমে সেজদা দিলে, কাটে অন্ধকার শত্রু ।

আসো সবাই নামাজ পড়ি, প্রাণে জাগে নূরের ঝরনা,
সেজদার মাঝে মেলে শান্তি, মুছে যায় সব দুঃখ-করুণনা।

দুপুর বেলায় যোহরের সুরে, কর্মের মাঝে ডাকে,
শান্তির ছায়া ঢেকে যায়, মন হয় জিকিরে মাখে।

আসো সবাই নামাজ পড়ি, প্রাণে জাগে নূরের ঝরনা,
সেজদার মাঝে মেলে শান্তি, মুছে যায় সব দুঃখ-করুণনা।

বিকেলের রোদ আসরের ডাকে, ভক্তি হয়ে যায় গভীর,
হৃদয় ভরে রহমতের স্রোতে, জীবন হয় আলোক-নির্ভর।

সূর্যাস্তে মাগরিব আসে, আকাশ রঙিন আলোয়,
সেজদা দিয়ে মিলি খোদার সাথে, প্রাণ ভরে নূরের ঢলয়।

রাতের নীরব ইশার মুহূর্ত, প্রেমে জড়ায় অন্তর,
আল্লাহর কাছে কান্নার সুরে, মুছে যায় গুনাহ-অন্ধকার।

আসো সবাই নামাজ পড়ি, জান্নাত হবে আমাদের ঠিকানা,
নামাজেতে মেলে প্রেমের আলো, আল্লাহর রহমতের খাজানা।
-------------------------------------------------------

নাতে রাসূল (সা.)

 নাতে রাসূল (সা.)

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ ০২-০৯-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*************************
নূরের ধারা নামে প্রিয় নবীর প্রাণে—
রা–হমাতুল্লিল আলামীন, শান্তি আনেন জগতে জানে।
ওয়া মা আরসালনাকা ইল্লা রাহমাতান লিল আলামীন —
করুণার ডাক, তুমি যে আল্লাহর রহমত, নবীজি হে হাবীব হক।
সাল্লু আলাইহি— ওয়া সাল্লিমু তাসলিমা…

আসমানের তারা লুকায় তোমার নূরের তরে—
মক্কার বুকে উঠল আজান, কালেমার আলো ভরে।
কদ্ জা’আকুম মিনাল্লাহি নূরুওঁ, ওয়া কিতাবুম্ মুবীন —
হেদায়েতের রাহবর তুমি, উম্মতের জান।
সাল্লু আলাইহি— ওয়া সাল্লিমু তাসলিমা…

জাহেলিয়ার আঁধার ভেঙে ফুটল ঈমানের ফুল,
তাওহীদের বাণী শোনাও, করো হৃদয় কূল।
ইন্না আ’তাইনাকা আল-কাওসার — কাওসারের দান,
উম্মতের জন্য করো শাফা'আত, নবীজি মহান।
সাল্লু আলাইহি— ওয়া সাল্লিমু তাসলিমা…

তুমি যে আল্লাহর প্রিয়, সেরা সৃষ্টির ধন—
ওয়া ইন্নাকা লা’আলা খুলুকিন আযীম — চরিত্রে অগণন।
মদিনার বুকে তোমার পদধ্বনি আজও বাজে—
ভালোবাসি নবীজি তুমি, হৃদয়ের সাজে।
সাল্লু আলাইহি— ওয়া সাল্লিমু তাসলিমা…
------------------------------------------------

বুধবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৫

শাহ্ রিয়াজুল হান্নান সাহেবের প্রতি জনতার প্রত্যাশা

শাহ্ রিয়াজুল হান্নান সাহেবের প্রতি জনতার প্রত্যাশা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

তারিখঃ ০৩-০৯-২০২৫ ইং

স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

*************************

আমার সোনার বাংলা হউক, আপনার হৃদয়ের গান,
শান্তি, প্রগতি, শিক্ষার আলো—সব মিলুক হৃদয়ে জাগ্রত!
আমার সোনার বাংলা হউক, আপনার হৃদয়ের গান,
সম্প্রীতি অটুট থাকুক, জনতার আশা হোক চির অম্লান
!

 

শাহ্ রিয়াজুল হান্নান! মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যেন চির অক্ষুন্ন,
পিতা হান্নান শাহ-এর অসমাপ্তর কাজ যেন কভূ না হয় ক্ষুন্ন।
কাপাসিয়া বাসীর! ভোটাধিকার রক্ষা করো, রাতের আঁধারে চাঁদের আলো ফিরিয়ে আনো,
শিক্ষার পথে ঘুষের আগুন পুড়িয়ে, স্বপ্নের নদী বয়ে আনো ঝরঝরে স্রোত!

 

চাঁদাবাজ লুটেরা নিক্ষেপ করো দূরে, মানুষ যেন হাসে ফুলের মতো কোমল,
মেধাভিত্তিক নিয়োগ করো, অমলিন আলো যেন পথ দেখায়, সূর্যের মতো ঝলমল!
ফ্যাসিবাদী স্বৈরতন্ত্র রুখে, গণতন্ত্রের দীপ জ্বালাও পথে পথে
আইনশৃঙ্খলা পাহাড়ের মতো শক্ত করো, আমাদের ঘর-বাড়ি হোক অটল শিখরের মতো স্থির।

 

মাদক, দুর্নীতি, রাহাজানি, হানাহানি, চাঁদাবাজি—সব বন্ধ করো একবারে,
শান্তি ফিরুক বন-ছায়ায়, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, ড্রেনেজ—সব যেন নদীর ঢেউয়ের মতো খেলে

বেকারত্ব যেন ঘুচে যায়! প্রতিটি ছেলে-মেয়ে পায় কর্মসংস্থানের আলো,
স্বপ্নের বাতাসে উড়ুক আশা, যেন নদী-ঝর্ণার স্রোতে মিলিত আলো।

 

কাপাসিয়া ডিজিটাল সিটি হোক! যুবসমাজের স্বপ্নের মেলা,
স্টার্টআপ, প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ—চাঁদের আলোয় পথ হোক খোলা, রাতের আকাশে নক্ষত্রের মতো জ্বলা!
গাজীপুর-৪ হোক দুর্নীতিমুক্ত! আধুনিক, সবুজ আসন প্রিয়,
মানুষের হাসি হোক ফুলের মতো, স্বপ্নের বাতাসে ভাসুক ধ্রুব, পাখির গান বয়ে আনুক সকালের দিগন্তে!

 

হাতে হাত মেলাও! গণতন্ত্র দাও , আশা ও সেবার প্রতিশ্রুতি,
ওহে—শাহ্ রিয়াজুল হান্নান, পিতা হান্নান শাহ-এর ছায়ায় অমৃতশ্রুতি!
দূর হোক অন্ধকার! ফেরুক আলো, নদীর ঢেউয়ে খেলুক সূর্যরশ্মি,
শান্তি ও প্রগতি ফুটুক প্রতিটি পথে, প্রতিটি ধাপে, বনের কুয়াশায় রোদ ঝিলমিল করে!

 

মানুষের হাসি হোক ফুলের মতো! স্বপ্নের বাতাসে ভাসুক নিত্য,
গাজীপুর-৪ হোক আলোয় ভরা, মুক্তি ও প্রগতির মঞ্চরীতি!

কাপাসিয়া বাসীর প্রতি! প্রতিশ্রুতি করো অটল—জনতার জন্য জীবন উৎসর্গ হউক

ফ্যাসিবাদ, স্বৈরতন্ত্র, দুর্নীতি, মাদক, রাহাজানি, হানাহানি, চাঁদাবাজি—সব দূর হোক!
এবং সম্প্রীতি অটুট থাকুক, যেন নদীর স্রোত মিলিত হয় আকাশের আলোতে!

 

-------------------------------------------------------------------


“অগ্নিপথের অগ্রনায়ক”

    কলমে : মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা। রাওনাট , কাপাসিয়া , গাজীপুর। -------------------------------------- একাত্তরের অগ্নিস্মৃতি ,...