বুধবার, ডিসেম্বর ০৩, ২০২৫

অবলা কুকুরের কান্না

 অবলা কুকুরের কান্না

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************
হে বিশ্ব! হে মানবতা!
তোমরা কি শুনতে পাচ্ছো
অবলা কুকুরের রক্তমাখা কান্নার রোল,
যেন আকাশ নিজেও কাঁদছে তার সঙ্গে?

আজ সে একা—
অটল, কাঁদছে নিঃশব্দে,
তার আটটি সন্তানের প্রাণ
মানুষের হিংস্র অগ্রাসনে হারিয়ে গেছে।

হে মানব! দেখো—
কী অপরাধ ছিল তার,
কী অপরাধ ছিল তার নিষ্পাপ সন্তানদের?
সে চিৎকার করছে,
কিন্তু তুমি কি শুনছো?
তোমার কানের বাইরে কি গগণ বিদারী আর্তনাদ পৌঁছাবে?

তার বুক ভেঙে গেছে,
তিনশ হাড়ের ভাঙা শব্দে,
মাতৃত্বের রক্তমাখা আকুলতায়।
তার ছোট প্রাণের ছায়া এখন
ভাঙা পথের কোলে লুকিয়ে আছে,
অথচ সে খুঁজছে, হাহাকার করছে,
একটি আশ্রয়ের জন্য,
যেখানে তার সন্তানরা ফিরে আসতে পারে।

হে মানবতা!
আজ সে বিচার চায়—
তোমার বিচার কি এখনো চুপচাপ থাকবে হে বিচারক?
তুমি কি দেখো তার চোখের জল,
যা জমে জমে নদী হয়ে গেছে তার বুকের ভেতরে?

অবলা মা,
তোমার কান্না আমাদের লজ্জা,
আমাদের চুপচাপের অভিশাপ।
আজ আমরা তোমার সঙ্গে কাঁদি,
আজ আমরা তোমার সন্তান হারানোর যন্ত্রণা অনুভব করি,
আজ আমরা শপথ করি—
যে কোন অস্তিত্বকে আমরা আর অবহেলা করব না।

হে বিশ্ব!
শোনো!
একটি অবলা কুকুরের কান্না,
যা মানবতার আড়াল ভেঙে দেয়।
প্রতিটি লাইন, প্রতিটি রোদ্দুর ভাঙা হাহাকার,
আমাদের চোখে অশ্রু,
আমাদের হৃদয়ে ছেদ।
--------------------------------------------------------------


০৩-১২-২০২৫

বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু

 বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

মুড়ইর মাটিতে বাজল বিদ্রোহের সুর,
চোখে আগুন, হৃদয়ে স্বাধীনতার পুর।
মা-বাবার শূন্যতা, শিশুসুলভ ব্যথা,
পা ছুটে চলে স্বাধীনতার পথে দিগন্ত দেখা!

যুগান্তরের পত্রিকা, বিপ্লবী কণ্ঠের গর্জন,
কিশোর ক্ষুদিরাম শুনল—“এ হলো দেশপ্রেমের অর্জন।”
রাতের অন্ধকারে অস্ত্রের ছন্দ,
রক্তে লেখা প্রতিশোধের বেণু, জ্বলে চরণে বেণু!

মুজাফফরপুরের রাস্তায় বোমার ঝড়,
প্রক্সি মৃত্যু এলেও ক্ষুদিরাম অচল নয়।
কিংসফোর্ডের পিছু নিল প্রাণ দিয়ে,
তবু স্বাধীনতার অগ্নি দাহ করল অন্তরে ঝড়ে!

গ্রেপ্তার হলো সে, শুধু আঠারো বসর,
কিন্তু সাহসের ঢেউয়ে ভেসে যায় নীরব নবর।
জেলখানার কক্ষে গান, প্রার্থনা ভোরবেলায়,
বন্দেমাতরম! বলে জানালো—মরণ নয়, অনন্ত সঙ্গম বেলায়।

ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে, হাসিমুখে বলল,
“দেশের ডাক শুনে যেতেই হবে, মৃত্যু নয় বন্দন।”
দ্রুত ধূলিকণার মতো উড়ে গেল সে মুক্তির আকাশে,
সাহসের চিহ্ন হয়ে রইল তরুণ হৃদয়ে বিস্ফোরণে!

আজও মুড়ই, নদীয়া, কলকাতা পথ,
শ্রদ্ধায় মুখরিত, জাগে প্রতিটি শক্তি-স্রোত।
ক্ষুদিরাম বসু—বিপ্লবের তরঙ্গ, অমর বীর,
তার নাম উচ্চারিত হয়, তাণ্ডবী ছন্দে, বিদ্রোহী পীর!
------------------------------------


০৩-১২-২০২৫

পশু-ঘাতক নারী

 পশু-ঘাতক নারী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
হে মানব! আজ আকাশ কেন এত কালো?
কেন বাতাস কাঁপে? কেন নদীর ঢেউ থরথর?
কার আর্তনাদ ছুঁয়ে গেল আরশে-মুয়াল্লা পর্যন্ত?
কেন ফেরেশতারা বিস্ময়ে থেমে গেল মুহূর্তভর?

কারণ,—
এক নারী, এক প্রতীক—অন্ধকারে গড়া,
হৃদয়হীন ছায়া,
মমতাহীন বরফের বাতাস
যে নিজের হাতে ডুবিয়ে দিল
আটটি কচি প্রাণ—
আটটি সদ্যোজাত, কাঁপতে থাকা আল্লাহর রহমতের ফুল।

হে মানব!
এ দৃশ্য শুধু নদীতে ডোবা নয়—
এ যেন ডোবে দয়া, ডোবে আদর,
ডুবে যায় মানবতার আলো।

একটি অবলা মায়ের বুক ছিঁড়ে গিয়েছে—
যে কুকুর-জননী দাঁড়িয়ে কাঁদছিল কেবল,
তার চোখে ছিল—
“হে আল্লাহ, আমার সন্তানের কী দোষ ছিল?”
তার কান্না চলে যায় আসমান ভেদ করে—
আরশ কেঁপে ওঠে সন্তানের এমন নিঃশব্দ শোকে।

হে নারী-প্রতীক!
তুমি কি জানো মাতৃত্ব কী?
মায়ের বুকের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক কী?
যদি তোমার শিশুটিকে কেউ
বস্তায় ভরে ঠাণ্ডা মৃত্যুজলে ছুড়ে ফেলত—
তবে কি তুমি এই আকাশটাকে ক্ষমা করতে?
এই পৃথিবীকে মাফ করতে?
নিজেকে মানুষ বলতে পারতে?

কোরআন তো বলে—
“যে একটি প্রাণ হত্যা করে,
সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করে।”
তাহলে বলো—
তোমার অন্তর কত পাথর হলে
তুমি পারলে আল্লাহর সৃষ্টি—
নবজাত ক্ষুদ্রতম প্রাণের নরম শ্বাস
এভাবে নিভিয়ে দিতে?

রাসূল (সা.)-এর বাণী আজ
রক্তের মতো হৃদয়ে জ্বলে—
“রহমত করো জীবে, তোমার প্রতি রহমত বর্ষিত হবে।”
কিন্তু তুমি তো রহমতের পথ ছাড়লে,
বেছে নিলে কঠিন, অন্ধকার মৃত্যুর গলি।

হে মানব!
দেখো এখন নদীর জলে ভাসছে যে নীরবতা—
ওই নীরবতার প্রতিটি ফোঁটায় লেখা আছে—
“আমাদের বিচার চাই, হে রব!”
আটটি অপলক চোখের আর্জি
আজ ঘুরে বেড়ায় দুনিয়া-আখেরাতের সীমানায়।

মানবতা আজ কাঁদছে,
দয়া আজ নিঃশ্বাস ফেলছে কষ্টে,
ইসলাম আজ তলোয়ার তুলে বলছে—
“অন্যায়কে রুখো!
কারণ দয়া ছাড়া মানুষ—মানুষ নয়,
দয়া ছাড়া হৃদয়—হৃদয় নয়!”

হে মানব!
ফিরে এসো আল্লাহর নির্দেশে—
জীবে দয়া করো,
প্রাণকে ভালোবাসো,
আর নিষ্ঠুরতার আগুন নিভিয়ে দাও
তোমার অন্তরের গভীরতম অন্ধকারে।
-----------------------------------------------------------------


০৩-১২-২০২৫

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ০২, ২০২৫

স্বাধীনতার মর্যাদা

 স্বাধীনতার মর্যাদা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************

রক্তঝরা মাটির বুক কাঁপে,
শহীদদের চিৎকার—“আমরা বাঁচব চিরকাল, আমরা বাঁচব মুক্তি-পথে।”
মাটি বলছে—“তুমি আমার, আমি তোমার,
এই স্বাধীনতা রক্ষা করো, জীবন দিয়ে দাও!”

নাগরিকরা উঠে দাঁড়ায়, অগ্নির দীপ চোখে,
হৃদয়ে অঙ্গীকার—অন্যায়কে ভেঙে ফেলব,
দেশের প্রতি আনুগত্যে শপথ করি,
সত্যের পথে জীবন উৎসর্গ করব।

দেশদ্রোহীর ছায়া দূরে হোক,
যারা বিক্রি করেছে মাটির মর্যাদা,
ধ্বংসের পথে তারা হারাবে,
শহীদদের স্মৃতি রাখব বুকে, তাদের চিরন্তন আহবান শোনব।

স্বাধীনতা মানে কেবল অধিকার নয়,
এটি সাহস, সততা, ন্যায়ের লড়াই,
দায়িত্ব, ত্যাগ, অদম্য ইচ্ছাশক্তি।
যুদ্ধের স্মৃতি বলে—উঠো! দাঁড়াও!
প্রতিটি পাথর, প্রতিটি নদী,
আমাদের অঙ্গীকারের সাক্ষী।

চোখে অগ্নি, হৃদয়ে আগুন,
নাগরিকরা উচ্চারণ করে—
“এই মাটি, এই প্রাণ,
শহীদদের জন্য, সত্যের জন্য,
আমরা রক্ষা করব স্বাধীনতার মর্যাদা!”

হে জাতি! হে বীর সন্তান!
শপথ করো, লড়ো, রক্ষা করো—
মাটির মর্যাদা, শহীদদের ত্যাগ,
এই স্বাধীনতার সোনালী আলো,
আমাদের অহংকার, আমাদের প্রতিজ্ঞা!
---------------------------------------------------


০২-১২-২০২৫

পন্ডশ্রম

 পন্ডশ্রম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
--------------------------------------------------
পৃথিবীর বুকে—
কে আছে কুকুরের লেজকে সোজা করতে?
দগ্ধ দিন-রাত্রি, ঘাম ঝরিয়ে,
কিন্তু শেষ পর্যন্ত—শুধুই পন্ডশ্রম!

ওহ, মূর্খের চোখে
এটাই তাদের মাপকাঠি।
কিন্তু তুমি,
রক্তে স্বাধীনতাভরা জাতি,
মনে রেখো—
পিছু লেগেছে সেই পুরানো শকুনেরা!

রাজাকার, আলবদর, আল সমাসের চক্র,
দেশদ্রোহী, স্বাধীনতা বিরোধী,
আজও ঘুরে বেড়ায়
স্বাধীনতার রক্তের সন্ধানে।
তাদের লেজসোজা প্রচেষ্টা—
শুধুই পন্ডশ্রম! পন্ডশ্রম! পন্ডশ্রম!

তোমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হও,
স্বদেশ চেতনায়,
মুক্তিযুদ্ধের রক্তের আগুনে,
তাদের শ্লোগান ধ্বংস হবে
নিছক ব্যর্থতার ধোঁয়ায়।

পন্ডশ্রম!
শুধু একটি শব্দ নয়,
এটি বিদ্রোহের তীর,
এটি সতর্কবার্তা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সামনে,
দেশদ্রোহী কার্যক্রম পেছনে,
ইতিহাস চিৎকার করবে—
“এগুলো কেবল পন্ডশ্রম!”

রক্তের স্বাধীনতা তোমার হাতে,
শকুনের লেজ—
সোজা করা অসম্ভব।
অর্থহীন, ব্যর্থ,
অসহায়—
পন্ডশ্রম! পন্ডশ্রম! পন্ডশ্রম!

উদ্দাম আগুনে,
বিদ্রোহী তর্জনী মেলে,
পৃথিবী জানুক—
স্বাধীনতার চেতনাকে কেউ দমন করতে পারবে না।
-----------------------------------------------------


০২-১২-২০২৫

লাল সবুজের চেতনা

 লাল সবুজের চেতনা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
হে নতুন প্রজন্ম, শোনো—শোনো আজ,
লাল-সবুজের চেতনা জ্বলে আগুন মাজ।
রক্তে লেখা সোনার বাংলা, হৃদয়ে বাজে গান,
শহীদদের ত্যাগে জ্বলে চির অমল প্রান।

সবুজের বুক জ্বলে লাল পাঞ্জাবির আলো,
বাঙালির সংস্কৃতি বাজে হৃদয়ে ঝড়ালো।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, শপথ করো প্রাণে,
মুক্তির অঙ্গীকার অটল থাকুক মানে।

ও হে নতুন প্রজন্ম, জাগো—জাগো! বলো,
লাল-সবুজের পতাকা কখনো নামবে না, জানো।
সত্য ও ন্যায়ের পথে অদম্য হোক পদচারণা,
অন্ধকার যতই ঘন হোক, আলোর দিশা তোমার সাথীানা।

এসো, এসো! হাত মিলাই—মিলাই একত্রে,
স্বাধীনতার পথে অঙ্গীকারে অটল হই একত্রে।
দেশপ্রেমের আগুন জ্বলে অন্তরে উজ্জ্বল,
শহীদদের ত্যাগ স্মরণে হোক সাহসের বাণী মম।

হে নতুন প্রজন্ম, জেগে ওঠো! জেগে ওঠো!
লাল-সবুজের শক্তি, মুক্তির আলো—আমাদের প্রাণ।
সোনার বাংলার গান বাজুক উচ্চে—নতুন দিন,
আশরাফ আলী মোল্লার সুরে শোনাও বিজয়ী সঙ্গিন।
------------------------------------------


০২-১২-২০২৫

বাংলাদেশে অকৃত্রিম বন্ধু

 বাংলাদেশে অকৃত্রিম বন্ধু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
বাংলাদেশের পিপাসিত মাঠে,
যেখানে ধান আর নদীর চোখ ভিজেছে,
সেই মঞ্চে বাজলো গিটার,
জর্জ হ্যারিসনের করুণা,
রবি শঙ্করের সেতার বাঁধনে।

১৯৭১-এর ছায়া ধ্বনিত হলো গান “Bangla Desh”,
বিশ্বের দিকে ছড়িয়ে গেল মুক্তির ডাক,
যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর, শরণার্থী শিবির,
যেখানে সাহায্যের হাত খুঁজছিল প্রতিটি প্রাণ।
তাহা পৌঁছালো তাঁর সুরের তীব্রতার মাধ্যমে।

শুধু শিল্পী নয়, মানবতাবাদী ছিলেন তিনি,
সঙ্গীত হয়ে উঠল মানবিক শক্তি,
যে শক্তি জন্ম দিতে পারে আশা,
যে শক্তি ছুঁতে পারে হৃদয় ও দেশের মাটি।

২৯ নভেম্বর ২০০১, লস এঞ্জেলেসের আকাশে নীরবতা,
কিন্তু বাংলাদেশের হৃদয়ে অমর তাঁর সুর,
আজো বাজে সেই গান,
শরণার্থী ও মুক্তির স্মৃতিতে,
শ্রদ্ধা জানাই অকৃত্রিম বন্ধুকে,
জর্জ হ্যারিসন, বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু।
--------------------------------------------


০২-১২-২০২৫

আদর্শ মানুষের আলো

 আদর্শ মানুষের আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

হাজীবাগের ভোরের হাওয়া যেমন
নীরবতায় বুনে রাখে গ্রামের প্রাণ,
তেমনই তুমি—
ডাঃ সামসুল আলম,
মানুষের চোখের লুকানো অন্ধকারে
জ্বেলে দাও প্রার্থনার দীপশিখা।

তুমি চিকিৎসক—
কিন্তু শুধু দেহের নয়,
অসুস্থ মনে ছুঁয়ে দাও শান্তির ওষুধ,
যেন শিশিরভেজা পাতায় ছড়িয়ে থাকা
অলৌকিক নিরাময়ের রস।

তুমি কাউন্সেলর—
ভাঙা মানুষের বুকের ভিতর
শব্দের হাত রাখো,
যেমন আকাশ
ঝড়ের গাল টেনে বলে—
“শান্ত হও, আমি আছি।”

তুমি কবি—
তোমার বাক্য ভোরের আদরের কুয়াশা,
মাথার উপর ঘুরে বেড়ানো দুঃখকে
রুপান্তর করো সাদা-নীল আলোতে।

তুমি দার্শনিক—
একটি প্রশ্নের ভিতর থেকে তুলে আনো
সমুদ্রের মত গভীর উত্তর,
যেন জোছনার ঢেউ
অন্ধকার রাতকে বুঝিয়ে দেয়—
“অস্তিত্ব মানে আলো খোঁজা।”

তুমি অভিভাবক—
গ্রামের প্রতিটি মানুষের চোখে
তোমায় দেখে ভরসার ছায়া,
যেন শুকনো মাটিতে
হঠাৎ জেগে ওঠা কোমল বর্ষার গান।

তুমি কলমধারী চিন্তাবিদ—
সত্যকে খুঁজে ফিরো শেকড়ের ভিতর,
যেন পুরোনো বটগাছ
ন্যায়ের পাতা ছড়িয়ে
ছায়া দেয় পথহারা মানুষকে।

মানুষ যখন মানুষকে ভুলে যায়,
তুমি তখন স্মরণ করিয়ে দাও—
মানবতা কোনো তত্ত্ব নয়,
এ এক নিঃশব্দ দান,
একটি হাত বাড়িয়ে দেওয়া,
একটি হৃদয়ের দরজা খোলা।

হাজীবাগের আকাশ তোমার নামে
ধীরে ধীরে সন্ধ্যার আভা তোলে—
কারণ তুমি সেই আলো,
যার উষ্ণতায়
মানুষ তার নিজের মানচিত্র ঠিক খুঁজে পায়।
----------------------------------------------


০২-১২-২০২৫

বীরপ্রতীক তারামন বিবি

 বীরপ্রতীক তারামন বিবি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************

ধুলো–ওঠা গ্রাম, নদীর ধারে কাচারীপাড়া,
চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল এক কিশোরী—
কিন্তু বুকের ভেতর আগুন, চোখে বিদ্রোহী ঝড়।
নাম তার তারামন বিবি—
ইতিহাসের পাতায় যার নামের পাশে জ্বলে উঠে বীরপ্রতীকের তলোয়ার।

রাজিবপুরের নিশ্বাসভারী রাত,
শিয়ালের হাহাকার ফুঁড়ে
সে হেঁটে যায় শত্রুশিবিরের পাশ ঘেঁষে—
সাধারণ মেয়ে সেজে,
কিন্তু চোখে গেরিলা গোপন নকশা।

গমের দানা, ভাতের হাঁড়ি, ছাইভরা চুল্লি—
এসবের আড়ালে সে বহন করত আগুনের বার্তা।
স্টেনগানের ট্রিগারে তার ক্ষুদ্র আঙুল ছুঁতেই
চমকে উঠেছিল রাত,
ভয়ে পিছিয়েছিল রাজাকারদের হিংস্র মুখ।

শব্দহীন পদক্ষেপে সে ছিল ছায়া,
তবু তার অস্তিত্ব জ্বলে উঠত বজ্রের মতো—
যখন পাকিস্তানি মিলিটারি আসে খোঁজে,
তখনো হাসতো তারামন!
কারণ দেশ বাঁচানো মানুষ ভয়ে নয়,
বিশ্বাসে বাঁচে।

রাতের আক্রমণে যখন এলএমজি গর্জে ওঠে,
তারামনের হাতে আলো কাঁপত—
মুক্তির অগ্নিশিখা যেন বন্দুকের মুখে নাচত।
গেরিলা দলে তাকে সবাই ডাকত—
“তারামন আপা— আগুনমেয়ে!”

১৯৭১— বিজয়ের ভোরে
সে ফিরে গেল সাধারণ জীবনে,
কিন্তু তার বুক ভরা সাহস
আমাদের স্বাধীনতার স্তম্ভে খোদাই হলো নীরবে।

দীর্ঘদিন হারিয়ে থাকা বীরত্ব
একদিন আবার আলো পেল—
জাতি বলল,
“এ যে আমাদের তারামন— বীরপ্রতীক, আগুনের কন্যা!”

আজও যখন কুড়িগ্রামের ভোরে কুয়াশা নামে
আমি শুনি তারামনের ছুটে চলা পায়ের শব্দ,
শুনে ফেলি ফিসফিসিয়ে ওঠা যুদ্ধের গান—
স্বাধীনতার মাটিতে তাঁর নাম
একটি বিপ্লবী দীপশিখা,
যা এখনও জ্বলে,
জ্বলতেই থাকে—
বাংলার প্রতিটি সাহসী হৃদয়ে।

তোমাকে সালাম,
হে তারামন বিবি,
হে আগুনের মেয়ে,
হে দুর্জয় গেরিলা,
হে স্বাধীনতার লৌহ–শিখা!

এই ভূমির প্রতিটি শ্বাসে
তোমার বীরত্বের ধ্বনি—
এই দেশের প্রতিটি শিশুর চোখে
তোমারই শেখানো সাহসের আগুন।

আমরা মাথা নত করি,
মুক্তির মাটিতে শ্রদ্ধার ফুল ছড়িয়ে দিই—
কারণ তুমি প্রমাণ করেছো,
স্বাধীনতা শুধু পুরুষের যুদ্ধ নয়;
স্বাধীনতা নারীরও আগুন, নারীরও বিপ্লব।
----------------------------------------------------


০২-১২-২০২৫

সোমবার, ডিসেম্বর ০১, ২০২৫

উত্তম শিফা দাও হে প্রভূ!

 উত্তম শিফা দাও হে প্রভূ!

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

হে প্রভূ, তোমার দরবারে
উঁচু হয়ে গেছে কোটি কোটি হাত,
অশ্রুবান চোখে নামছে এক অদম্য আকুলতা,
রক্তের দেশ আজ তোমার মুক্তি কামায়।

হে খালেদা জিয়া, ফিরে এসো হে,
ফিরে এসো হে, দেখো স্বাধীন জাতি তোমার জন্য জেগেছে।
হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান—
সবই একই কাতারে দাঁড়িয়েছে,
তোমার আপোষহীন ন্যায়নীতির কাছে মাথা নত করে।

জাতি আজ তোমাকে মা মেনেছে,
নেত্রী মেনেছে,
তোমার স্বর্ণালী কর্মচিত্রে ঝলমল করছে
লাল-সবুজ পতাকার প্রতিটি রক্ত বিন্দু।

তুমি না থাকলে ছায়াহীন হবে জাতি,
অভিভাবিকহীন হয়ে যাবে পথচলা,
তোমার আদর্শই দেখায় মুক্তির পথ,
তোমার মমতায় ভরে যায় ভ্রান্ত হৃদয়।

হে আল্লাহ, দাও মুক্তি,
এই জনতার মাতাকে,
গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রীর মুক্তি দাও।
তুমি জানো, চোখে অশ্রু আর হৃদয়ে শিহরণ
কত প্রার্থনার ঢেউ বয়ে গেছে এই দেশজুড়ে।

ফিরে এসো হে নেত্রী,
আমাদের হাতের তলে আবার রাখো
শান্তি, ন্যায় ও অভিজ্ঞতার বাতাস।
এ জাতি তোমার মুক্তিতে একসাথে কাঁদে,
এ জাতি তোমার জন্য প্রার্থনা করে,
এ জাতি তোমার লাল সবুজের অম্লান আলোয়
আলোকিত হতে চায়।

হে প্রভূ, উত্তম শিফা দাও,
তুমি ফিরলে আবার জেগে উঠবে
এই অবহেলিত জাতির মন, শরীর ও প্রাণ।
-----------------------------------------------------------


০১-১২-২০২৫

বাবা দিবসের প্রার্থনা (গান)

  কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর **************************************** তোমাকে নিয়ে কবিতা লিখতে বসলে কলম...