Tuesday, March 12, 2019

তুমি মায়ের চিঠি



                                   -কবি  মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
আমার শরীর থেকে রক্ত ঝরতে ঝরতে
অ,আ,ক,খ বর্ণমালায় খোঁজেছি তোমাকে- হে কবিতা

আমি বিদ্রোহীদের আঘাতে মরতে মরতে
বাংলা ভাষায় আমার মা’কে পেয়েছি- হে কবিতা
আমি যমদুতের সম্মুখে এসেও
মাতৃভাষার প্রেমে পড়েছি- হে কবিতা ।
আমি সালাম, বরকত রফিক জাব্বারের রক্ত প্রবাহে…
প্রাণের ফুলকে দেখেছি, ষড় ঋতুর সুবাসে সুবাসে
আমি আদর্শ্ লিপির সন্ধান পেয়েছি - হে কবিতা
আমি স্বপ্ন বুঁনেছি স্বাধীনতার

তুমি যে আমার বুঁনিয়াদ, মায়ের ভাষা, প্রথম ভাষা
বাহান্নর বিপ্লবী গর্জনে এ বর্ণমালা পেয়েছি- হে কবিতা

তুমি কখনও শহীদ মিনার, তুমি কখনও চেতনা
তুমি বিপ্লবের প্রতীক, তুমি বিজয়ের অহংকার-
অমর একুশের আত্মদান- এক কালজয়ী প্রতিবাদ !
মার চেয়ে কে বেশী জানে- হে কবিতা ?

আমি ফুলে ফুলে সেই চেতনাকে খোঁজে বেড়াই
যে চেতনা স্বপ্ন দেখায় আমাকে,
এ বাংলা ভাষাকে, এ মাতৃ ভাষাকে..
আজ তুমি  বিশ্বব্যাপি, বিশ্ব জেগেছে তোমার ডাকে- হে কবিতা!

সাহিত্য কিংবা কাব্য জেগেছে তোমাকে ফোটাতে
তুমি জাগ্রত থেকো, তুমি চেতানায় থেকো- হে অমর একুশ ।
তুমি প্রাণের ধ্বনি, তুমি প্রেমের বর্ণ্- হে রক্তের অ, আ, ক, খ..
তুমি মায়ের চিঠি, এক অমর ইতিহাস
আমারই বাংলা ভাষা, আমারই মাতৃভাষা ।
------------------------------------------------রাওনাট,কাপাসিয়া,গজীপুর।

একটা ফুল এনে দাও না



                             -কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
বাবা, আমাকে  একটা ফুল এনে দাও না ,
বরং আজই এনে দাও!
আজ যে একুশে ফেব্রুয়ারী, ভাষা দিবস,
বাবা, আমাকে শহীদ মিনারে নিয়ে যাও না ?
ঐ যে রক্ত, ঐ যে প্রাণ..সালাম, বরকত ,রফিক ,জাব্বার
আরো কত আমাকে ডাকছে!
সইতে পারি না, আর পারি না বাবা, কথা দাও
আজ নিয়ে যাবে?

ওরা যে চেতনা, ওরা যে মাতৃভাষাকে আলো দিয়েছে
সেই সূর্যকে আমি ভুলি কিভাবে বাবা?
বাবা, আমাকে  একটা ফুল এনে দাও না ,
বরং আজই এনে দাও!
আজ যে একুশে ফেব্রুয়ারী, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
প্রভাত ফেরি শুধু হল, দলে দলে সঙ্গীরা ছুটল শহীদ মিনারে..
আমিও যাবো বাবা, সেই সব সূর্য্ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে
বাবা নিবে না ?

বাবা, আমাকে  একটা ফুল এনে দাও না ,
বরং আজই এনে দাও!

হে মা,
তুই যে আমার গর্ব্, সেই সূর্য্ সন্তানদের উত্তরসূরী.
বাংলা ভাষার আগামী, মাতৃভাষার ধরনি.
এই নে মা তোর ফুল! এই নে মা তোর ফুল!
চল চল এখনি চল,
ঐ শহীদ মিনারে এখনি চল, যেখানে তোর ব্যাকুল প্রাণ !
---------------------------------------------রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।




সে মা ,সে চাকুরিজীবি



                                      -কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা ।
আমি দেখেছি একজন চাকুরিজীবি মাকে,আমি বুঝেছি
কতো অসহ্য প্রহার তার জন্য অপেক্ষ করে,
শুধু একটু সামাজিক মযার্দা কিংবা অথনৈতিক মুক্তির জন্য
কর্মজীবি মায়েরা
ঘর থেকে বাইরে আসে; তবু তার মুক্তি নেই !
না আছে ঘরে, না আছে অলি গলি পথ ঘাট..
দায়িত্ববোধের দাবানলে পুড়তে পুড়তে সে এখন ক্লান্ত ।

আমি দেখেছি একজন চাকুরিজীবি মাকে,আমি বুঝেছি
কতো অব্যক্ত ভাষা তার হৃদয়ে গেঁথে আছে, সে কারো
করুণা কিংবা দয়া চায় না, শুধু একটু ভালবাসা চায়,
শুধু একটু পাশে চায়-
এই টুকুর মাঝেও কতো জনের কতো হিসেব নিকেষ
যেন সমস্ত দায়িত্ব তারই-

আমি দেখেছি এই যুগেও পশ্চাত মূখী সংস্কৃতির চর্চা
অনেকের কটুবাক্য শুনেও..
একজন চাকুরীজিবী মাকে
জীবন সংগ্রামে ক্ষত বিক্ষত হতে হয় ঘরে বাইরে
অথচ তারও আছে মর্যাদা নিয়ে বেচে থাকার অধিকার..
আমরা কি তা দেই ?

কেউ কি নারীকে ছাড় দিয়েছে দায়িত্ববোধের দায় থেকে ?
সে মা ,সে চাকুরীজিবী !
তাকেই দু’দিক  সামলাতে হয়
এক দিকে সংসার, অন্যদিকে কর্মস্থল
আর পুরুষ ?

এ সমাজ তাকে ছাড় দিতে শিখেনি, তার ক্লান্তি বুঝেনি
তার মূল্য বুঝতে চায়নি
অথচ এ “মা ” ই সংসারের দিপালী-

আমি দেখেছি একজন চাকুরিজীবি মাকে,আমি বুঝেছি
কতো অসহ্য প্রহার তার জন্য অপেক্ষ করে!
দায়িত্ববোধের দাবানলে পুড়তে পুড়তে সে এখন ক্লান্ত ।
------------------------------12-03-2019, রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।