Wednesday, October 22, 2025

গ্রাম্য মাতব্বর

 গ্রাম্য মাতব্বর

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

---------------------------------------------

গ্রামের মাঠে মাতব্বর উড়ায় লাল পতাকা,
চোখরাঙানি, কুটনীতি—খেলে চলে অমঙ্গলকারা।

মিথ্যা অভিযোগে দগ্ধ হয় নিরীহ পাড়া,
নিরপরাধ মুখে ভয়, হৃদয়ে অশ্রুর ধারা।

দারিদ্র্যের বাতাস ঘুরে আসে ঘরে ঘরে,
অপবাদ ছড়ায় কালো ছায়া, ধ্বংস করে শান্তির ভরে।

হিংসার আগুন পোড়ায় বন্ধুত্বের সেতু,
প্রতিহিংসার ছায়ায় জমে অন্ধকার, দগ্ধ হয় সবেতু।

কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র পরিবার,
মাতব্বরের ছলাচলে নিভে আশা, ভাঙে স্বপ্নঘর।

অপমানিত মর্যাদা, ক্ষয় হয় আত্মবিশ্বাস,
নিরীহ প্রাণ পুড়ে ছাই, ফাঁকা থাকে আকাশ।

মহিলা ও শিশু, স্বপ্নময়, নিরপরাধ,
প্রায়ই পড়ে হেনস্থার খাতে, রক্ষা নেই কোনো হাত।

হয়রানি, দমননীতি, প্রতারণা, স্বার্থপরতা,
গ্রামে মানুষের জীবন ভেসে যায় ধ্বংসের নদীপথে।

দলীয় স্বার্থ, পিতৃতান্ত্রিক অহংকার,
ন্যায়ের আলো ম্লান করে, আশা নষ্ট করে বারবার।

আজিকার মাতব্বর? সে কখনও নিরপেক্ষ নয়,
লোভ, পক্ষপাত, আত্মকেন্দ্রিকতা—মানুষকে দেয় নয়।

মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, ফাঁকি, অপদস্তকরণ,
নিরীহ জীবনে জমে থাকে ছলাচাতুরি, খোরাকরণ।

সংকট, ভীরু গ্রামবাসী গুরু গর্জায়,
পশ্চাৎ-পথে সন্দেহ জাগে—কোন দিকে যাবে জাতি আজায়?

কাণ্ডারী! তুমি ভুলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি ন্যায়-মাঝ?
অবিচার, হানাহানি, লোভ—মাতব্বর টেনে নেয় শাসনের মহাভার-মাঝ।

ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে অভিমান,
নিরীহ আশা থাকে শুধু ধ্বংসের তলে-মান।

চোখরাঙানি, অহঙ্কার, কুটনীতি, প্রতারণা,
ক্ষমতার লোভ—মানুষ হয় সরঞ্জাম, শুধু ধ্বংসনা।

ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়ায় যারা জীবন দিয়েছে প্রমাণে,
অলক্ষ্যে দাঁড়ায় সাধারণ—কেউ দেয় না বলিদান-প্রমাণে।

হে মাতব্বর! দেখো, নদী ভরেছে রক্তে,
শিশু, নারী, মানুষ—তোমার লোভে পুড়ে ফেটে।

মিথ্যা মামলা, হয়রানি, দমননীতি, অপবাদ,
গ্রামের জন নীরব, হৃদয়ে জ্বলে বিদ্রোহের আগুন-বাদ।

অসহায় জাতি ডুবিয়া মরিছে, জানে না কোন তরণ,
কাণ্ডারী! দেখো আজ, মাতৃমুক্তি হোক না তরণ।

হিন্দু বা মুসলিম? জিজ্ঞাসে না কোন জন,
কাণ্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার-জন।

কিন্তু গভীরে, ঘরে-বাড়িতে চুপচাপ জ্বলে,
বিদ্রোহের আলো—দিন আসবে, সত্যের ঝড় বয়ে যাবে ঢলে।

-------------------------------------------------------------

Tuesday, October 21, 2025

উদিয়মান সূর্য

 উদিয়মান সূর্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর

**********************************

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ

ব্যক্তিগত তথ্য

  • পূর্ণ নাম: মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ

  • পিতার নাম: মৃত ইব্রাহিম খান

  • মাতার নাম: মৃত ফিরোজা খাতুন

  • জন্ম তারিখ: এক মে এক হাজার নয়শো বত্রিশ (০১/০৫/১৯৭২)

  • জাতীয় পরিচয়পত্র নং: সাত কোটি পঁচাত্তর লাখ আট হাজার ছয়শ ছয়ষট্টি

  • বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম রাউতকোনা, ডাকঘর কাপাসিয়া, ইউনিয়ন কাপাসিয়া, উপজেলা কাপাসিয়া, জেলা গাজীপুর

শিক্ষাগত যোগ্যতা

  • এমএসএস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • এলএলবি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রাথমিক শিক্ষা: রাউতকোনা প্রাইমারি স্কুল

  • মাধ্যমিক শিক্ষা: কাপাসিয়া সরকারি হাই স্কুল, ১৯৮৮

  • উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা: ঢাকা কলেজ, ঢাকা

  • বিশ্ববিদ্যালয় আবাসন: স্যার এ এফ রহমান হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়

  • বর্তমান পদ: সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ), মিজানুর রহমান খান মহিলা ডিগ্রী কলেজ, শ্রীপুর পৌরসভা সদর, গাজীপুর

  • সাবেক পদ: ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, মিজানুর রহমান খান মহিলা ডিগ্রী কলেজ, শ্রীপুর পৌরসভা সদর, গাজীপুর

রাজনৈতিক পরিচয়

  • যুগ্ম মহাসচিব, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, কেন্দ্রিয় কমিটি

  • সাবেক মহাসচিব, বাংলাদেশ ডেমোক্র্যাটিক পিপলস পার্টি (বিডিপিপি)

  • সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ পিপলস পার্টি (বিপিপি)

  • সাবেক সদস্য সচিব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, গাজীপুর মহানগর সদর মেট্রো থানা

  • সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, কাপাসিয়া ইউনিয়ন বিএনপি

সামাজিক পরিচয়

  • সাবেক সভাপতি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), কাপাসিয়া উপজেলা শাখা

  • সাবেক সভাপতি, কাপাসিয়া উন্নয়ন পরিষদ (কাউপ)

  • সাবেক ছাত্রনেতা, কাপাসিয়া ডিগ্রী কলেজ

  • সাবেক ছাত্রনেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এফ রহমান হল

  • ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে গণতন্ত্র মঞ্চের পরিচিত মুখ

  • ************************************************************************

    উদিয়মান সূর্য

    -----------------------------------------

    উদিয়মান সূর্য,
    কাপাসিয়ার মাটি তোমার ছায়া ভেসে যায়।
    তুমি হেঁটে যাও নীরব পথ ধরে,
    মাটির গন্ধে ভরা সকাল, শিশিরভেজা ধানের মাঠ।

    ছাত্র নেতা তুমি,
    নব প্রজন্মের চোখে তুমি দীপশিখা।
    দক্ষ সংগঠক, নিঃসঙ্গ পরিকল্পনায় অনন্য,
    সমস্যার অন্ধকারে তুমি আলোর পথ দেখাও।

    আলোকিত শিক্ষক,
    ক্লাসরুমের নিঃশব্দ কক্ষে তুমি
    জ্ঞান ছড়াও, ন্যায় ও সত্যের দীপ জ্বালো।
    হৃদয় ভরে জনতার কষ্ট,
    নিরাশ্রয় ও নিঃস্বার্থে ভালোবাসা ছড়াও ছায়ায়।

    প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তুমি,
    অটল ন্যায়ের সৈনিক,
    লাল সবুজের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে।
    মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি তোমার চোখে জাগে,
    স্বাধীনতার গান বাতাসে ভেসে যায়।

    নীরব সন্ধ্যার মধ্যে তুমি বসো,
    চুপচাপ চোখে প্রজন্মের আশা আঁকো,
    সমাজ ও দেশের প্রতিটি কোণে তুমি আলোর রেখা।
    অন্ধকার দূরে, সত্যের আলো কাছে,
    উজ্জ্বল হয়ে ওঠে কাপাসিয়ার প্রতিটি গলি।

    উদিয়মান সূর্য, তুমি কৃতি সন্তান,
    তোমার হেঁটে যাওয়া পথ যেন মাটির গভীরে লেখা।
    প্রজন্মের হৃদয়ে জন্মাও আশা,
    মাটির মিশ্রণ, শিশিরের খোঁচা, ঝর্ণার নীরব গান।

    তুমি হেঁটে যাও নীরব,
    কিন্তু প্রত্যেক পদক্ষেপে জাগে আশা।
    ছাত্র, নেতা, শিক্ষক—সবই তোমার সঙ্গে হেসে যায়,
    কাপাসিয়ার প্রিয় সন্তান,
    উদিয়মান সূর্য, চিরন্তন আলো।

  • -----------------------------------------------------------

বিপ্লবের অর্জন

 

বিপ্লবের অর্জন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************

হে বিদ্রোহী শিক্ষক! জাগো, জাগো প্রহরী,
তোমার অঙ্গীকারে বাজে সত্যের তীর ধরি।
ক্লাসরুম নয়, এ মহাবিপ্লবের মঞ্চ,
প্রতিটি পদে ফোটে ন্যায়ের অমলঞ্চ।

একতাই অস্ত্র, একতাই তোমার শক্তি,
ভালোবাসার শক্তি ভাঙে না কখনোযাত্রী।
হাতে হাতে বন্ধন, হৃদয়ে হৃদয় শিখা,
অদম্য চেতনা জাগায় শিক্ষার দীক্ষা।

দূষিত শক্তি আসে লাঠি হাতে,
তোমাদের দৃঢ়তায় ভেঙে যায় ব্যাধি রাতে।
ইস্পাত কঠিন হয় বিপ্লবীর বন্ধন,
সত্য-ন্যায় রক্ষা করে জাগ্রত অঙ্গন।

ধরো পথে, করো অটল শপথ,
প্রতিটি প্রতিবন্ধকতা হবে তুচ্ছ কল্প।
বিপ্লবী শিক্ষক! কল্যাণে জেগে জনতা,
একতায় গড়ে নতুন যুগের প্রহরতা।

শিক্ষা নয় শুধু পাঠ, স্বাধীনতার ধ্বজা,
প্রতিটি শিকড় থেকে উঠে সমাজের গর্জা।
বিদ্যাপীঠ নয়, এ বিপ্লবের প্রাণ,
সত্য-ন্যায় দগ্ধ আলোয় জ্বলে মান।

সাধুবাদ হে বিদ্রোহী! তেজস্বী প্রাণ,
তোমার সংগ্রামে জ্বলে সমাজের মহান জান।
যদি সত্য-ন্যায় থাকে চিরন্তন মন্ত্রে,
বিপ্লবের অর্জন হয় অমর, অম্লান তন্ত্রে।

বিক্ষুব্ধ অন্ধকার দূরে হটে,
তোমার আলোর শিখা গগনে ভেসে উঠে।
অশ্রু-রক্ত মিশে হয় এক অমর ইতিহাস,
বিপ্লবী শিক্ষকের তরে জাগে নতুন আশা।

-----------------------------------------------------

অবুঝ প্রেমের পরিণতি

 অবুঝ প্রেমের পরিণতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর

***************************************

তুমি এসেছিলে — এক বিকেলের মেঘে,
চুলে রোদ, চোখে ছিল নদীর ঢেউয়ের মতো স্বপ্ন।
আমি তখন অবুঝ — ভালোবাসা মানে কী, জানতাম না,
তবু তোমার হাসিতে কেমন এক আলো জ্বলে উঠেছিল অন্তর তলে।

স্কুলের পথে হাত ছুঁয়ে যাওয়া হাওয়ায়
আমি ভেবেছিলাম, এ-ই বুঝি চিরন্তন বন্ধন!
তুমি বলেছিলে — “ভালোবাসা মানেই বাঁচা।”
আমি বিশ্বাস করেছিলাম শিশুর মতো নিঃস্বার্থ মনে।

তারপর ধীরে ধীরে সময়ের কুয়াশা নামল,
ফেসবুকের ছবিতে দেখলাম তুমি অন্য কারও সঙ্গে —
আমি বুঝিনি, প্রেম কতো সহজে বদলে যায়,
কতো সহজে একটা হৃদয় অন্যের চোখে হারিয়ে যায়।

রাতগুলো দীর্ঘ হতে লাগল —
বালিশ ভিজে যায় চুপিচুপি, কারও চোখে পড়ে না।
মনের মধ্যে এক ভয়ানক শূন্যতা জন্ম নিল,
যেখানে স্বপ্নও ভাঙে নরম কাচের মতো শব্দহীন।

বন্ধুরা বলে — “ভুলে যা!”
কিন্তু ভুলে থাকা কি এত সহজ?
তোমার কণ্ঠ এখনো ভেসে আসে
বৃষ্টির শব্দে, ভেজা জানালার কুয়াশায়,
যেন প্রতিটি ফোঁটায় তোমার নাম লেখা আছে।

অবুঝ বয়সের প্রেম —
যেখানে যুক্তি নেই, কিন্তু হৃদয়ের ঢেউ আছে;
যেখানে প্রতিশ্রুতি শিশিরের মতো —
ভোর হতেই মিলিয়ে যায় সূর্যের উষ্ণতায়।

আমি আজও মাঝে মাঝে ফিরে যাই সেই দিনে —
স্কুলের বেঞ্চে, নীল খাতার পাতায় তোমার নাম লেখা;
সেই অবুঝ ভালোবাসার দিনগুলো
আমার জীবনের সবচেয়ে মধুর,
আর সবচেয়ে করুণ গল্প হয়ে রইল।

ভালোবাসা আসলে শিখিয়ে দিয়েছে আমাকে —
সব আলোই একদিন অন্ধকারে মিশে যায়;
আর কিছু স্মৃতি, যতই ভোলা যাক,
মন নামের নদীতে চিরকাল ভেসে থাকে।


তুমি ছিলে আমার প্রথম কবিতা,
আর আমি ছিলাম তোমার এক অবুঝ পঙ্‌ক্তি —
যা শেষ হয়নি,
কেবল সময়ের কুয়াশায় হারিয়ে গেছে চুপিচুপি।

------------------------------------------------------------

এসো হে আলো

 এসো হে আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*********************************


এসো হে আলো, অন্ধকার দূর করো,

হাত ধরে হাত মিলিয়ে মুক্তির গান বাজাও।
গণতন্ত্রের পতাকা উড়াও উজ্জ্বল আলোয়,
ফ্যাসিবাদ, স্বৈরতন্ত্র—সব ভেঙে ফেলে আনো।


দিবসের আলো—পূর্ণিমার মিনার,
অশুভের আঁধার সবাই ডুবে যায় তাহার।
তরুণ ঈশান, বাতাসে ঘোরাও প্রলয় বাণী,
ধ্বংস নয়—জাগরণ উড়ুক প্রাচীর ভেদে সাঁনী।

কারার লৌহকপাট ভেঙে ফেলো দেখি,
শিকল ছিঁড়ে দাও—পাষাণ পূজো মাটি-ঢাকি।
গণতন্ত্রের পতাকা উড়ুক উঁচু, বিহঙ্গস্বরে,
স্বৈরতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ—বিমূঢ় করে ছার করো দেশে।


এসো হে আলো, অন্ধকার দূর করো,
হাত ধরে হাত মিলিয়ে মুক্তির গান বাজাও।
গণতন্ত্রের পতাকা উড়াও উজ্জ্বল আলোয়,
ফ্যাসিবাদ, স্বৈরতন্ত্র—সব ভেঙে ফেলে আনো।


গাজনের তালে উঠুক সত্যের মুক্তি নৃত্য,
কে মালিক, কে আরাজ্য—না, নয় সে গন্ধ মিথ্য।
হাস্য যেন জয়ধ্বনি—উঠুক কণ্ঠে হাসির ঢল,
ঝড়ে ভেসে যাক ভ্রান্তি, অমানবতার সব বল।

ওরে পাগলা ভোলা, দাও বদলে নতুন দোলা,
জোরে ধরে ঐচ্ছে—হৃদয় খোলে মুক্তির পালা।
কাঁধে বাজে ঢাক, কণ্ঠে ওঠে মুক্তির ডাক,
জীবনের গান, স্বাধীনতার সুর—হোক আগাইয়াছে পাক।


এসো হে আলো, অন্ধকার দূর করো,
হাত ধরে হাত মিলিয়ে মুক্তির গান বাজাও।
গণতন্ত্রের পতাকা উড়াও উজ্জ্বল আলোয়,
ফ্যাসিবাদ, স্বৈরতন্ত্র—সব ভেঙে ফেলে আনো।


কালবোশাখী নাচে—সততার কাঁটা কেটে যায়,
ভীম মেজেজে নাড়া প্রাচীর—লাঠি নয়, এবার স্বদেশ বলে যায়।
যত বন্দী শালা—মুক্তির আলো জ্বালো মন,
পরাধীনতা হরেছে—নতুন ভোরে মাথা তুলে উঠুক জন।

এসো হে আলো, সাম্যের মশাল জ্বালাও হাতে,
ঐক্যের ডাক দাও—কণ্ঠে- কণ্ঠে বাজাক পথে।
গণতন্ত্রের পতাকা উড়াও—লাল সবুজ ভরলত রাঙা,
ফ্যাসিবাদ গুড়িয়ে ফেলো—স্বাধীনতা জাগুক সবার বাঙা।


এসো হে আলো, অন্ধকার দূর করো,
হাত ধরে হাত মিলিয়ে মুক্তির গান বাজাও।
গণতন্ত্রের পতাকা উড়াও উজ্জ্বল আলোয়,
ফ্যাসিবাদ, স্বৈরতন্ত্র—সব ভেঙে ফেলে আনো।


দুর্নীতিকে না বলো—ন্যায় প্রতিষ্ঠা করো তীব্র,
দেশদ্রোহী বিভাজন উড়িও দূরে—মিলনে হোক তীর।
অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ো—মুক্তির চেতনায় পুষে,
শহীদের রক্তধারা—চির অমল, আলোতে মিশে।

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান, মুসলিম—একই স্বপ্নে মিলুক মন,
ভাগাভাগি নয়, প্রেমেই থাকুক মানবতার পরাক্রমের গমন।
এসো হে আলো, দেশপ্রেমের প্রলয়ে মিলি সবাই,
দিবসের আলো, পূর্ণিমা চাঁদ—সবার আলোকিতই হোক সাজাই।


এসো হে আলো—হাত ধরো মিলি,
“আমার সোনার বাংলা, ভালোবাসি”—বলব উচ্চস্বরে।
অন্ধকার ভাঙো, তুপকে কাঁধে নাও ন্যায়ের লাঠি,
মানব সভ্যতা গড়ি—সত্যের পথে আমরা চলি।

---------------------------------------------

মানুষ কেন অমানুষ?

 

মানুষ কেন অমানুষ?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************


জাগো হে! জাগো হে! অমানুষের ঘরে,
হারানো হৃদয় খুঁজে নাও অন্তরের আলো।
মানবতার পতাকা উড়াও, প্রেম দয়া জ্বালাও,
অমানুষের আড়াল ভেঙে মানুষ হয়ে দাঁড়াও।



শহরের রাস্তা দীর্ঘ, ধোঁয়া ঢেকে আলো,
বন্ধুর হাসি ফিকে, আনন্দ হারায় মধুর।
লোভ, অহংকার, হিংসা—সব মিশে অন্তরে,
দরিদ্র, অসহায় কাঁদে, কেউ শোনে না কাছে।

বন্ধুত্ব, মমত্ববোধ, আজ ফিকে কল্পনায়,
প্রেম-ভালোবাসা হারায় ব্যস্ত জীবনের মাঝে।
মানুষ ব্যস্ত তার স্ক্রিনে, ভুলে প্রকৃতি,
পাহাড় চেঁচায়, নদী কাঁদে, কেউ নেই কাছে।



জাগো হে! জাগো হে! অমানুষের ঘরে,
হারানো হৃদয় খুঁজে নাও অন্তরের আলো।
মানবতার পতাকা উড়াও, প্রেম দয়া জ্বালাও,
অমানুষের আড়াল ভেঙে মানুষ হয়ে দাঁড়াও।



উচ্চ শিক্ষার অহংকার, মানুষ ভুলে ন্যায়,
শিক্ষক, শ্রমিক, দরিদ্র—সবই গিয়েছে মায়ায়।
স্বার্থপরতা, ক্ষমতার লোভ, প্রতারণার ছায়া,
ধর্মের নামে স্বার্থপূর্ণ মানুষ হারায় দয়া।

রাজনীতির বিভাজন, স্বার্থপরতার আগুন জ্বলে,
প্রকৃতির অবহেলা, পরিবেশ বিপন্ন, নদী শুকায়।
ভয়, উদ্বেগ, স্ট্রেস, জীবনের বোঝা ভারী,
মানবিকতা হারায়, অন্তর হয় ঘোরে তারি।

স্ক্রিনের আলোয় আনন্দ ফিকে, মিথ্যা নাচে,
সোশ্যাল মিডিয়ার ঝড়ে সত্য হারায় কাছে।
নামাজের ধ্বনি হারায় ব্যস্ত জীবনের মাঝে,
সদকাহ, দানশীলতা ফিকে কল্পনায় বনে।



হাত বাড়াও, দয়া দেখাও, পাশে দাঁড়াও প্রিয়,
অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়ে করো অন্তরের নিয়।
মানবতার আলো জ্বালাও অন্তরে অম্লান,
প্রেম, ন্যায়, ধর্ম, সহানুভূতি ফিরাও প্রাণ।

মানুষ হয়তো আবার মানুষ হবে, জানি,
হারানো হাসি, নরম হৃদয় ফিরে মিলি।
প্রকৃতি, মানুষ, আধ্যাত্মিক আলো—সব একাকার,
এই মিলনে ভরে উঠুক জীবনের গানকার।


জাগো হে! জাগো হে! অমানুষের ঘরে,

হারানো হৃদয় খুঁজে নাও অন্তরের আলো।
মানবতার পতাকা উড়াও, প্রেম দয়া জ্বালাও,
অমানুষের আড়াল ভেঙে মানুষ হয়ে দাঁড়াও।

------------------------------------------------------------

উচ্চশিক্ষিতের কলঙ্ক

 

উচ্চশিক্ষিতের কলঙ্ক 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************


জাগো হে জাগো হে জ্ঞানের অন্ধরা, জাগো!
কলমে লেখা আছে, কিন্তু হৃদয় কি শূন্য-জাগো!

পড়াশোনার মাথায় বসে স্বার্থের সিংহাসন,
দরিদ্রের কান্না শুনে না, নীরবতার বাণী শাসন।


গ্রন্থাগারে জ্ঞান, অন্তরে অমানবিক ধ্বনি,
মানুষের কষ্ট ভুলে গেছে, হৃদয় যেন খালি।
স্বার্থ, মর্যাদা, সংখ্যা—হায়, মানুষের অভিমান!
জাগো হে জাগো হে, জ্ঞানী, মানবিক হও আবার!


প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, জ্ঞান—হাতে নেয় খেলা,
মানবতা হারায়, অন্ধকারে জ্বলে মেলা।
চাকরি, পদ, কর্পোরেট ক্ষমতার লোভে ঢেকে হাসি,
মানুষকে সংখ্যা বলে দেখে, নয় মুখের আলো, নয় অনন্ত বাসি।


নৈতিক শিক্ষা নেই, হৃদয় খালি,
দয়া, প্রেম, সহানুভূতি—সবই হয়তো ভুলে যায়ালি।
উচ্চশিক্ষার ছায়ায় জ্ঞানী যখন অবিশ্বাসী,
সত্য, ন্যায়, প্রেম—হায়, নিস্তব্ধ, দুর্বিষহ পাষাণী।


জাগো হে জাগো হে, কলঙ্কের রেখা দেখ!
হৃদয়ে লালিত করো সত্য, ন্যায়, মানবিক প্রাণ।
নাহলে হারাবে তোমার গর্ব, জ্ঞান,
সবই হয়ে যাবে ভ্রান্তি-চিহ্নিত ধ্বান!

--------------------------------------------

বঞ্চিত শিক্ষক বলছি

 

বঞ্চিত শিক্ষক বলছি 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************

জাগো হে! জাগো হে! শিক্ষকের অমলিন প্রাণ,
সত্য‑ন্যায় জাগুক আজ! অদম্য মহাবিপ্লবী প্রাণ!

হাতের শক্তি বাজে, কণ্ঠে ঝড়ে বিদ্রোহের সুর,
ঘরে ঘরে উঠুক আজ, নীরবতার বাঁধ ভেঙে দূর।
বলো হে! ন্যায্য অধিকার দিতে হবে অবিলম্বে,
উচ্চকণ্ঠে বলো! শিক্ষকের মর্যাদা ফিরুক আজই।

জাগো! জাগো! জাগো! শিক্ষকের প্রাণ জাগুক!
অবহেলার ছায়া ভেঙে, নীরবতা উড়ে যাক!

ক্লাসরুমে স্বপ্ন জাগুক, হৃদয়ে আশা যেন বয়ে,
রক্তাক্ত শরীর, ক্লান্তি, ছিঁড়া কাপড়ের কথা শোন।
প্রশ্নের জবাব চাই! মানবিকতা জাগুক সত্যি,
বাড়ী ভাড়া, স্বাস্থ্য, উৎসব — ক্ষুদ্র দাবিগুলো পূর্ণ হোক।

জাগো! জাগো! জাগো! শিক্ষকের প্রাণ জাগুক!
মর্যাদা ফিরে আসুক, জীবন সমৃদ্ধ হোক!


ভয়কে তাড়া করো! হতাশাকে দূরে সরিয়ে দাও!
শিক্ষকের শক্তি অদম্য, অমলিন, অবিস্মরণীয়।
মুক্তির চেতনা জাগুক, স্বপ্নের সোনার আলো ছড়াক,
বাংলার মাটিতে ফুল ফুটুক, রঙে রঙে প্রাণ হোক!

জাগো! জাগো! জাগো! অন্তরের আলো জ্বালাও!
শব্দ হবে তলোয়ার, বাক্য হবে বজ্র — অপ্রতিরোধ্য!

আকাশ ঝড়াবে আজ, ভূমি গর্জাবে আমাদের সঙ্গে,
শ্রেণিকক্ষ হবে বিদ্রোহের উদ্যান, আশা ও শক্তি।
হাত ধরা ধরে আমরা গড়ব নতুন ঠিকানা উজ্জ্বল,
বঞ্চিত হলেও, সংকল্প অক্ষুণ্ণ, সাহসিকতা অমলিন।

জাগো! জাগো! জাগো! অন্তরের আলো, প্রেরণার দীপ!
জাগো! হে শিক্ষক! জাগো! জাগো! জাগো! চিরন্তন শক্তি!

-----------------------------------------------------

বিপ্লবী জনতা

 

বিপ্লবী জনতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************

জাগো হে জনতা! হে সাহসী আওয়াম!
তোমার রুহে আগুন, তোমার মুখে সালাম!
ভেঙে দাও জুলুমের মসনদখানা,
হক দাবি কর, তোল আওয়াজ—“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ!”

এই জমিনে আর নয় বেগুনাহ রক্তধারা,
তোমার বুকেই বাজুক সত্যের তাজা নারা।
হে মুজাহিদ, হে মুক্ত প্রাণ,
তুমি উম্মতের গৌরব, জাতির ইমান!

রুখে দাও ফ্যাসাদ, রুখে দাও বেদিল শাসন,
জালিমের সিংহাসন কর ছাই সমান।
তুমি তো কওমের ফজল, তুমি আল্লাহর নূর,
তোমার কণ্ঠে উঠুক বজ্রের সুর!

হক-এর সৈনিক, কর শপথ নতুন,
মিথ্যার গর্দান কেটে দাও শত শত গুন।
তোমার নামেই জাগে শাহাদতের আলো,
তোমার পথে হাঁটে নবীর ভালো।

ভয় করো না! তোমার সাথে রাব্বুল আলামিন,
তুমি তো শহীদের রক্তে গড়া যামিন।
তোমার হাতে লিখিত ইতিহাস নতুন,
তুমি বিপ্লবী, তুমি জাতির মজনুন!

তুলি কণ্ঠ, তুলি হাত, তুলি শপথ একসাথে—
সত্যের ইনসাফে, জালিমের বিরুদ্ধে!
গর্জে উঠ হে জনতা, হে আল্লাহর বান্দা,
বলো—
জিন্দাবাদ! হক-এর জিন্দাবাদ!
জালিমের মসনদ—নাউজুবিল্লাহ!

------------------------------------------------

Monday, October 20, 2025

দুর্নীতির ছোবল

 

দুর্নীতির ছোবল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

তোরা দেখে যা সমাজের নদীতে রিবা-মাল এর বান
দুনিয়া জাহান ডুবু-ডুবু সেই লোভের স্রোতে ভেসে
যেন ন্যায়ের কোলে নূর-ও-সততার আলো দোলে।।

কূল মখলুকে আজি ধ্বনি ওঠে, কে এলো ঐ
“আয়, কে চলবে সৎ পথে?” — নবীর বাণী ঠোঁটে, কে এলো ঐ
খোদার নূর পেশানিতে ফোটে, কে এলো ঐ
অন্যায়-অসৎ পড়ে লুটে, কে এলো ঐ
পড়ে দরুদ-ও-ফেরেশ্তা, সমাজে সব দরজা খোলে।।

মানুষে মানুষের অধিকার দিল যে-জন
“এক আল্লাহ ছাড়া প্রভু নাই” কহিল যে-জন
মানুষের জন্য চির-দীন্‌ পথ ধরিল যে-জন
দরিদ্র-শোষিতকে একত্রিত করিল যে-জন।।


দুর্নীতি যায় না, নূর-ও-সততার আলো বাঁচে
নবীর পথে চল, খোদার রহম আসে।।

এলো ধরায় ধরা দিতে সেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
ব্যথিত-মানবের ধ্যানের ছবি
আজি মাতিল বিশ্ব-নিখিল সততার কলোরোলে
ন্যায় ও সততার আলো ছড়ায় সমস্ত গ্রামে।।

পথ দেখায় সে কোরআন-হাদিসের আলো হাতে
হেসে, হেসে, দাঁড় টানে চার আসহাব তাঁরি সাথে
নামাজ-রোজা, জাকাত, ফুল-ফসলে শ্যামল হ’ল মরু
প্রেমের রসে ফুটল ইমানি মন, নীরস মনও হয়েছে ধ্রুব।।


দুর্নীতি যায় না, নূর-ও-সততার আলো বাঁচে
নবীর পথে চল, খোদার রহম আসে।।

------------------------------------------------

হিংসার আগুন

 হিংসার আগুন 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর

***********************************


ইয়া আল্লাহ, তুমি রক্ষা কর দুনিয়া ও দ্বীন,
শান-শওকতে হোক পূর্ণ আবার সমস্ত মুসলিম।
আমিন, আমিন।

হাসাদের আঁচে যেন জ্বলে না হৃদয়,
ভালোবাসা আর শান্তি হোক মানুষের মধ্য।
প্রতিশোধ নয়, বরং ক্ষমার পথ ধরো,
ধৈর্য ও বিশ্বাসে আলোকিত হোক জীবন।
আমিন, আমিন।

ভ্রাতৃত্বের বন্ধন হোক অটুট,
শত্রুতা ও হিংসা হোক দূরে।
ভালো মন, সহানুভূতি ও সহিষ্ণুতা—
হোক জীবনের সঠিক দিক নির্দেশ।
আমিন, আমিন।

ইয়া আল্লাহ, তুমি রক্ষা কর দুনিয়া ও দ্বীন,
শান-শওকতে হোক পূর্ণ আবার সমস্ত মুসলিম।
আমিন, আমিন।

মুক্তি দাও আমাদেরও, সেই বিশ্বাস আর ত্যাগের শক্তি,
হোক আমাদের জীবন সৎ পথে আলোকিত।
হাসাদ ও প্রতিহিংসার আগুন নিভে যাক,
শান্তি আর ভালোবাসা হোক সবার মাঝে।
আমিন, আমিন।

ভোগ-বিলাসের লোভ যেন হৃদয় নষ্ট না করে,
সত্য ও ন্যায়ের পথে হোক আমাদের জীবন।
প্রতিশোধ নয়, বরং ক্ষমা আর সহিষ্ণুতায় চল,
এভাবেই হোক আলোর পথ আমাদের।
আমিন, আমিন।

ইয়া আল্লাহ, তুমি রক্ষা কর দুনিয়া ও দ্বীন,
শান-শওকতে হোক পূর্ণ আবার সমস্ত মুসলিম।
আমিন, আমিন।

হাসাদ নিভে যাক, প্রতিহিংসা হোক দূরে,
ভালোবাসা আর শান্তি হোক সবার মাঝে।
আমাদের হৃদয় আলোকিত কর,
আমিন, আমিন।

---------------------------------------------------

রোজার ফজিলত

 রোজার ফজিলত 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান  মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*************************************

রোজার মাহে রমজান, হে নবীন সওদাগর,
বদনসীব আয়, আয় গুনাহগার, নতুন করে কর সওদা ধর।।
সেহরির নূর-আলোয়, সাহুর খাও ইমানের সাথে,
ইফতারের রোজা খোলে, আল্লাহর রহমত আর ফাযিলাতে।।


কোরআনের ঐ খাজানা, হীরা-মুক্তা-পান্না,
লুটে নে, রে লুটে নে, ভরে তোল তোর ঘর ইমানের আলমা।।
কালেমার ঐ কানাকড়ি, বদলে দেয় রোজাদার,
শাফায়াতের সাত রাজার ধন, আয়, ত্বরার কর ইবাদত বার।।


কিয়ামতের বাজারে ভাই, মুনাফা চাও যে বহুৎ,
এই ব্যাপারীর হও খরিদ্দার, লও রে সীলমোহর-ইমানী।।
আল্লাহর পথে রোজা, রাত্রি-দিবস তার সঙ্গী,
দুনিয়ার লোভ ছেড়ে, পাবে সে জান্নাতের দ্বার খোলা।।


রোজা মানে শুধুই ক্ষুধা নয়, বরং আত্মার উন্নতি,
তাকওয়া, ধৈর্য, মানবিকতা – এইই মূল সম্পদী।।
ফজরের সেহরি, ইফতারের রোশন আলো,
ভাগ্যবান সে যে রাখে, রোজার ঐ সোনা মান্দালো।।


আরশ হ’তে পথ ভুলে এ এল মদীনা শহর,
নামে মোবারক মুহাম্মদ (সাঃ) পূঁজি আল্লাহু আকবর।।
ইমানে, তাকওয়ায়, রোজার ফজিলতে ভরা জীবন,
নবীন সওদাগর সে, আল্লাহর নূরেই ভরে প্রাণ।।

---------------------------------------------------------

সুরেলা ডাক

 সুরেলা ডাক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*****************************

মদিনার বাতাসে নেমে আসে হায়,
প্রথম কণ্ঠে নূর ছড়ায় আল্লাহর রোশনী রায় —
সারা হেরেম খুলে যায়, আকাশে ফজিলত ভাসে,
সে যে আমার আযানের সুরেলা ডাকসুরেলা ডাক।।

হজরত বিলাল রা হাতে মুকরাত,
পাহাড়-ভূমির প্রতিধ্বনি বয়ে যায় নদী, বন-সাথ,
রাত-দিবস মিশে যায় ইমানের ঢেউয়ে,
সে যে আমার আযানের সুরেলা ডাকসুরেলা ডাক।।

আসমানে জ্যোতি নেমে ছায়া দিতে,
পূর্ণিমার চাঁদ মুকাদ্দস সাজাতে চায়,
মহল্লার মানুষ শুনে হৃদয়ে ইকবাল জাগে,
সে যে আমার আযানের সুরেলা ডাকসুরেলা ডাক।।

আল্লাহু আকবার, প্রতিটি হৃদয় কাঁপে,
নামাজের আহ্বান হুদার আলো জ্বলে,
শাহাদাতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সমগ্র দুনিয়ায় ভাসে,
সে যে আমার আযানের সুরেলা ডাকসুরেলা ডাক।।

মোনাজাতের ছন্দে গড়ে উঠে ফালাহ,
মদিনার ময়দানে প্রথম আযানের আলোকিত রাহ,
নবীদের নূরায়িত পথ ধরে
সে যে আমার আযানের সুরেলা ডাকসুরেলা ডাক।।

হজরত রাসুলুল্লাহ সোঃ) নির্দেশিত সুরে,
প্রথম আযান হৃদয়ে জ্বালায় নূরানী লহরি,
প্রত্যেক নাবিক, মুসাফির, যুবক ও বৃদ্ধের মনে বাজে
সে যে আমার আযানের সুরেলা ডাকসুরেলা ডাক।।

মাশাআল্লাহ, প্রতিটি পদে আলোর খেলা,
পাহাড়, নদী, বৃক্ষ—সব মিলিয়ে ওঠে ইহসানের মেলা,
যখন বিলালের কণ্ঠ ছড়ায় আল্লাহু আকবার
সে যে আমার আযানের সুরেলা ডাকসুরেলা ডাক।।

-----------------------------------------------------------

কিবলা

 

কিবলা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*********************************

ওরে ও মুসলিম, বলতে পারিস কোন সে পথ তোর
নামাজ পড়ে মুখ ফিরিয়ে কা‘বার দিকে রে তোমার।
বাতাসে বাজে জিকির, পাথরে ঝরে নূরের ছায়া,
মসজিদুল হারামের দিক দিয়ে ভেসে আসে আলোর ব্যায়া।


মা আয়েশা দেখিয়েছিল নবীজীর পা ধোয়া যথা
নামাজের পথে হেঁটে যেত, রেখেছিল রুহের আলোতর।
প্রথম আজান ভাঙল ঘুমের ঘোরে,
মুখ ফিরল কিবলার দিকে—হৃদয় ভরে নূরের সুর।


হায় রে মদিনার পথ, শিশুর খেলা, পাথর-কুচি, খেজুর বন
নবীজীর পদধ্বনি ছুঁয়েছে মাঠের ধূলা—হৃদয় নীরব মন।
দূর দেশেও শোনায় কিবলার ডাক,
আল্লাহু আকবার ধ্বনি বাজে, নামাজে ভরে প্রাণের পাখি।



পাহাড়ের ঝর্ণা-তীরে মেষ চরাতেন নবী
মাসুম শিশুর মতো হাসতেন, দুনিয়ার জন্য আলোয় ভরে হুই।
মুখ ঘুরে কিবলার দিকে, সবার মিলন এই জায়গায়
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—নূরের ছায়া ছড়ায়।


কিবলা, কিবলা—নূরের দিশারী
মুখ ঘুরিয়ে দাও, দুনিয়ায় আলোর বারি
ইয়া আল্লাহু, হেদায়াত দাও
সালাতের মাঝে হৃদয় ভরে নূরের ছায়া ছাও।

----------------------------------------------

কাবা ঘর

 কাবা ঘর

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর

**********************************

ওরে বালিয়াদে হরাম, কিসে ভরে তোর বাতাস?

নূর-ই-খোদা তোর বুকে, মেহেরের সুবাস।
সুবহান, সুবহান ধ্বনি বাজে সর্ব দিক-দিশা,
তাওহীদের ঘর তুই, রুহে খোদার নিশা।
ইয়া রব্বি ইয়া আল্লাহ।।


ওরে জমজমে রহমা, তোর স্রোতে বরকত ঢালে,
ইব্রাহিমের দু'আ তোর বুকে আজও জ্বলে।
ইসমাঈলের অশ্কে গড়া তোর কণিকা,
রূহে সাকিনা ভরে, গলে পাথরও নরমিকা।
ইয়া রব্বি ইয়া আল্লাহ।।


ওরে বাইতুল্লাহ দরবার, তুই তাজ-উল-মকাম,
নূর-ই-মোহাম্মদে তোরে দিল আল্লাহ সালাম।
গিলাফে কালো রেশম, জহরাতে ঝলমলে,
জিকিরে কাঁপে আরশ, নামি নূর উজ্জ্বল।
ইয়া রব্বি ইয়া আল্লাহ।।


ওরে হজরে আসওয়াদ, তোর কালোতে রহমত,
মানবের গুনাহ ঢেকে রাখে তোর নীরব জ্যোত।
চুমে মোমিন, কাঁদে রূহ, কাঁপে অন্তর,
আল্লাহর প্রেমে পুড়ে ওঠে সমুদ্র সম্বর।
ইয়া রব্বি ইয়া আল্লাহ।।


ওরে কা'বা তুই আরশের ছায়া,
নূর-ই-আজল তোর গায়ে মায়া।
তাওহীদের সাগরে তুই মুক্তার মত,
রবের জামাল তোর রূপে প্রতিফলিত।
ইয়া রব্বি ইয়া আল্লাহ।।


যাঁর নূরে মুসা বেহুঁশ, জ্বলল তুর পাহাড়,
যাঁর জালালে ফেরেশতা করে সিজদা বারবার।
সে রব্বে রহমান, সে খোদা-ই-কারিম,
তাঁর নামে জিকিরে বাঁচে প্রতিটি মোমিন।
ইয়া রব্বি ইয়া আল্লাহ।।


যাঁর নাম “আল্লাহু আহাদ”, যিনি রব্বুল আলামীন,
তাঁর তাজে আছে দয়া, ভালোবাসা বিলীন।
তাঁর প্রেমে কাঁদি আমি, রূহে ইশ্‌কের ঝরনা,
তাঁর নামেই মৃত্যু, তাঁর নামেই বাঁচা।
ইয়া রব্বি ইয়া আল্লাহ।।

ওরে মরুভূমি বল, তোরে কে দিল এ প্রাণ?
বালি রেণুতে কেন বাজে নূরের গান?
কা'বার ছায়ায় জেগে উঠে ইমান,
রহমতের নূর ঝরে বালি কণায় কণায়।
ইয়া রব্বি ইয়া আল্লাহ।।

-------------------------------------------------------------

মানবই প্রথম পরিচয়

 

মানবই প্রথম পরিচয়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

********************************************

হে মানব, মানবিক হও,
অন্তঃকরনে ঝাঁপিয়ে পড়ো মানব কল্যাণে।
মানুষই মানুষের জন্যে,
সাম্যের কথা কও, সাম্যের গান গাও।

কে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান-মুসলিম, তা নহে গো মানবতায়,
মানুষই প্রথম পরিচয়।
ধর্ম নহে গো এখানে বিভেদ রেখা,
কল্যাণে নহে গো বৈষম্য।


মানুষ সুন্দর, মানবতা সুন্দর,
সুন্দরতম আদর্শ নিখিলের,
হে রাসুলে খোদা!
জুলমাতে পথ দেখালে জান্নাতের।

মিথ্যার কাছে মানুষ যখন
সপেঁছিল তার সারা তনু মন,
ভাঙ্গিলে তখন নিজ হাতে তুমি
অসত্যের জাল কেটে ফেলিলে।


তোমার আলোকে মিলাল হে নবী,
অন্যায়, অবিচার।
তুমি দিলে চির বঞ্চিত জনে
মানুষের অধিকার।

এই ধরণী তল চির ভুলে ভরা,
পেল অপরূপ শান্তি পশরা,
দিলে এনে যবে খোদার কালাম
সওগাত সত্যের।


হৃদয়ে আলো জ্বালো, অন্ধকার দূর করো,
দূর করো বিভেদ, মিলনমুখী হউ।
মানবের চোখে দেখো শুধুই প্রীতি,
ভেদাভেদ ভুলে মিলো মিলনের ছায়ায়।


যদি কেউ দুঃখী, তুমি দাও সহায়,
যদি কেউ পিপাসু, তুমি দাও জলের ধারা।
মানবতার হাতে মানবতার আশ্রয়,
প্রেমের সুরে বাজুক সবারই ধারা।


সত্যের পথ ধরো, মিথ্যা দূরে রাখো,
অন্যায়ের শত্রু হউ, ন্যায়ের বন্ধু হউ।
চল মানবতার দীপ হাতে হাতে,
আলোকিত হউ বিশ্বের বুকে, পূর্ণ করো যুথ।


ভালোবাসার গান গাও, সব প্রান্তে বাজাও,
জাগাও হৃদয়, ভালোবাসা পূর্ণ করো।
মানবই প্রথম পরিচয়, মানবতার লহরী,
সকলের জন্যে মানবিকতার স্রোত বহাও।

----------------------------------------------------

ইসলামী দাওয়াতুল হক, রাওনাট

 ইসলামী দাওয়াতুল হক, রাওনাট

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

***********************************

আল্লাহু আল্লাহু

রাওনাট গ্রামে জাগে আলো নূরুল্লাহ
রাওনাট স্কুল মাঠে মিলন মজলিসে ওয়াজ
সাত দিন ব্যাপী ওয়াজ মাহফিল-এ
ইসলামী দাওয়াতুল হক উজ্জ্বল চির প্রিয় দলে
আল্লাহু আল্লাহু

জনাব আমানুল্লাহ সরকারের নেতৃত্বে
হাজার হাজার তৌহিদী জনতা একত্রে
সবার অন্তর আলোকিত হয় ফিকরুল্লাহ
ইসলাম কি দাওয়াত ছড়িয়ে চির প্রেমে মুহাব্বতুল্লাহ
আল্লাহু আল্লাহু


সত্যের ডাক কহে, "ওরে মানুষ, শুনো এই বার্তা
কোথা পেলি কোরআনের আলো, জীবন বিধান সুপথের?"
কহে আল-কোরআন, "আমার আলোতলে চল,
হৃদয় শুদ্ধ করো, আল্লাহর হুকুম মানো।"
আল্লাহু আল্লাহু

হে রবি শশী, হে গ্রহ-তারা
কোথা পেলি এই নূরের জ্যোতি, সজল হৃদি জ্বালা?"
কহে জীবনপন্থা, "সালাত, জাকাত, তাওবা ও সদকা দিয়ে চলো,
আল্লাহর রহমতে পূর্ণ হবে পথচলা।"
আল্লাহু আল্লাহু


নূরের ডাক কহে, "শোন, শোন ওরে হৃদয়!
কোথা পেলি এ আলোকিত পথ, সত্যের রূপ অতুল?"
কহে কোরআন, "আমার আলোয় চল, হেঁটো নূরানী পথে
হৃদয় শুদ্ধ করো, আল্লাহর হুকুম মানো।"
আল্লাহু আল্লাহু

দ্যুলোকে ভুলোকে সবারে ছাড়িয়া
তোমারি কাছে পড়ি লুটাইয়া
তোমারি কাছে যাচি হে শক্তি
তোমারি করুণায় পূর্ণ কামি
আল্লাহু আল্লাহু


সরল সঠিক পুণ্য পন্থা সিরাতুল মুস্তাকীম
মোদেরে দাওগো বলি দাওয়াতুল হক
চালাও সে পথে তাবলীগুল্লাহ
যে পথে তোমার প্রয়োজন গেছে চলি ইজতিহাদুল্লাহ
আল্লাহু আল্লাহু

যে পথে ভ্রান্তি চির পরিতাপ গালাতুল ইমান
যে পথে চির অভিশাপ লানাতুল্লাহ
হে মহাচালক মোদেরে কখনো
করো না সে পথগামী শিরক ও বিদআত থেকে বাঁচো
আল্লাহু আল্লাহু


যাঁরে আউলিয়া-আম্বিয়া ধ্যানে না পায়
কুল-মাখলুক যাঁহারি মাহিমা গায়
যে নাম নিয়ে এসেছি এই দুনিয়ায়
সেই নাম নিতে নিতে মরি — এই আরজু
আল্লাহু আল্লাহু

চল মোদেরে দাওয়াতুল হক সিরাতুল ইসলাম
চল ইসলাম-এ নূর ভরা পথে নূরুল কোরআন
হৃদয় ভরে আলোকিত চির শান্তি ও প্রীতি সালাম ও মওয়া
মোদেরকে করো তোমারি করুণায় পূর্ণ হে প্রভু রাব্বুল আলামিন
আল্লাহু আল্লাহু


অমর হউক এ ইসলামী দাওয়াতুল হক
দাওয়াতুল হক হউক
ইসলাম প্রচারে আমান ও সালামের আহ্বান হউক
সকলের হৃদয় আলোকিত হোক নূরানী হৃদয়
ভ্রান্তি দূর হোক ফাজায়েল
মমত্ব জাগুক চির মুহাব্বতুল্লাহ
আল্লাহু আল্লাহু

------------------------------------------------

জানি হে কত সুন্দর তুমি

 

জানি হে কত সুন্দর তুমি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************


জানি হে কত সুন্দর তুমি হে প্রিয়া…
জানি হে কত সুন্দর তুমি হে প্রিয়া…


জানি হে কত সুন্দর তুমি হে প্রিয়া,
প্রেমের ঘর, ভালোবাসার ভরা দ্যুতি,
সন্তান হাসে আনন্দে,
আলোর ছোঁয়ায় ভরা,
স্বর্গিয় সংসার হোক ঝঙ্কার,
জানি হে কত সুন্দর তুমি হে প্রিয়া।


ও নামে ফুল ফোটে বাগানে রাশি রাশি,
প্রেমেরই চাঁদ ভরা আকাশে হাসি,
স্নেহের সুরে বাজে,
হৃদয়ের গান গায়ে,
মধুময় মধুরে দেয় ঝঙ্কার,
জানি হে কত সুন্দর তুমি হে প্রিয়া।


সন্তান খেলে নদীর তীরে,
সুখের ঢেউয়ে, দুঃখের ঝড়ে,
মায়ের আদর, পিতার স্নেহ,
ভালোবাসার ছন্দে,
প্রতি মুহূর্তে দেয় ঝঙ্কার,
জানি হে কত সুন্দর তুমি হে প্রিয়া।


ধৈর্য আর মমত্বে ভরা সংসার,
প্রেমময় চোখে ঝলকে প্রতিটি তার।
শিক্ষা, জ্ঞান, সদ্ব্যবহার,
সন্তান-পত্নীর মিলনে হোক আনন্দ,
প্রতি পদক্ষেপে দেয় ঝঙ্কার,
জানি হে কত সুন্দর তুমি হে প্রিয়া।


স্বর্গিয় সংসারে বাজুক সুর,
মায়া-মমত্ব, ভালোবাসার জ্বালা।
প্রেমময় বন্ধনে আবদ্ধ হৃদয়,
মর্যাদা রক্ষা করে সুখী জীবন ঢেউয়ে,
প্রতি ছন্দে দেয় ঝঙ্কার,
জানি হে কত সুন্দর তুমি হে প্রিয়া।


ভালোবাসার আলো ভরে ওঠে ঘর-বাড়ি,
সন্তান হাসে, সংসার হোক পূর্ণিমা।
ধৈর্য, স্নেহ, প্রেমের মেলায়,
প্রতি মুহূর্তে বাজুক হৃদয়-গান,
প্রতি ছন্দে দেয় ঝঙ্কার,
জানি হে কত সুন্দর তুমি হে প্রিয়া…

----------------------------------------------

আমি বেদ্রোহী মুজাহিদ

 আমি বেদ্রোহী মুজাহিদ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************

আমি বেদ্রোহী মুজাহিদ — লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌!
ভয়ে কাঁপে তাগুত, জালেম, ফিরাউন সব দাহ্‌!
আমি হক্কের নূর, আমি কুফরের বজ্রাঘাত,
আমি আল্লাহর সৈনিক, শাহাদতের আহ্বাত!

আমি তুফান! আমি সাইকা-স্বর!
আমি হাকের বজ্র-অবর্বর!
আমার মুখে “আল্লাহু আকবর!” —
কাঁপে জাহেলিয়াতের প্রাচীর ঘর!

আমি কিবলাহর সিপাহি, আমি ঈমানের সৈরান,
আমি রণধ্বনি, আমি ইকরামের আহবান!
আমি লাঠি নয়, তলোয়ারের ভাষা জানি,
আমি কুফর ভাঙি, জুলুমের দেয়াল টানি!

এই যুগে ভয়, এই যুগে মুনাফিকি রাজ,
দাদা’দের সামনে করে সবাই সাজ!
মানবিক কাজেও লাগে অনুমতি-ফরমান,
হায়, এ কেমন দেশ! এ কেমন ইমান!

বুক ভরা ভয়, মুখে শান্তির বুলি,
ভেতরে ভেতরে শয়তানের খুলি!
দোসর চকমা দেয়, সত্য করে জাহির,
আমি বলি — “তুমি কুফরি রাহে সাফির!”

আমি তাওহীদের সৈনিক, আমি হক্কের হায়দার,
আমার তলোয়ারে আগুনের দরবার!
আমি মুজাহিদ, আমি রণভূমির শাহীন,
আমার হৃদয়ে বাজে আজান ধ্বনি — “হায়া আলাল ফালাহীন!”

আমি ভণ্ড নেতার পদভারে নত নই,
আমি নতজানু নয়, আমি আরশেরই জুই!
আমি আল-হক্ক, আমি ন্যায়ব্রতী,
আমি বিদ্রোহী, আমি আল্লাহর শক্তি!

বৈষম্যের বেড়াজাল ছিন্ন করি আজ,
আমি বলি, ওরে মুনাফিক, থাম তোর লাজ!
তুমি সংগঠন করো, কিন্তু ভয় পেও না,
তাওয়াক্কুল করো, খোদার পথে চলো না!

আমার দেহে শাহাদতের শিরা,
আমার হৃদয়ে লা-ইলাহার নূর-ধারা!
আমি বেদ্রোহী মুজাহিদ — হক্কের সৈনিক,
আমি আল্লাহর বাণী, আমি অমর চিরবিক!

আমি বলি — সত্য এসেছে, মিথ্যা ভেঙে যায়,
আমি মুজাহিদ, আমি বজ্র, ভয় কিসে হায়!

ওকুল জা-আল হাক্কু ওয়া জাহাকাল বাতিল!
(বলো — গর্জে ওঠ, সমস্ত জালিম কাঁপুক!)

আমি বেদ্রোহী মুজাহিদ — লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ!
আমি আগুন, আমি বজ্র, আমি সত্যের তুফান,
আমি খোদার কলাম, আমি ঈমানের পতাকা,
আমি বিদ্রোহী — আমি অমর, আমি অজেয়!

-----------------------------------------------

Sunday, October 19, 2025

পেশাজীবিদের রাজনীতি

 পেশাজীবিদের রাজনীতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

-----********************************

শিক্ষক উঠে কলম হাতে, দলবাজির তাওয়ানে,
শিক্ষার মাঠে নয়, ক্ষমতার খোঁজে মিশন আসে।
গবেষক, বিজ্ঞানী, আলোর রাহবার যারা দাঁড়াত,
আজ কলম বিক্রি, জনস্বপ্ন নিভে যায় রাত।

ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যখাতের শাহরায়,
রোগ নিধন নয়, তহরিকের খোরাক খায়।
ফার্মাসিস্ট, নীতি প্রণেতা, স্বাস্থ্য নীতি সাজায়,
কিন্তু জনসেবায় নয়, নিজের ত্রিপ্তি ছড়ায়।

আইনজীবী, বিচারক, ন্যায়ের কায়দা,
দলবাজি খেয়ে কলম হয় বিকৃত, সত্য নিভে রাব্তা।
নীতি-নিয়ম প্রণেতা, কওমের তোরণ,
শাহিদদের স্বপ্ন ভেঙে যায়, হারায় বিজয়রঙ্গ।

ইঞ্জিনিয়ার, প্রযুক্তিবিদ, সেতু আর শহর গড়ে,
কিন্তু দলবাজির লোভে জনকল্যাণ হারায় তোরণ ধরে।
তথ্য–প্রযুক্তি দিয়ে গণতন্ত্রে আলো জ্বলে না,
দুষ্টশক্তি বড় হয়, ইস্তিকলালের আলো লুকায়।

সাংবাদিক, প্রতিবেদক, কণ্ঠে তহরিক,
কিন্তু কলম বিকৃত, সংবাদ হয় পক্ষপাতির শিক।
মিডিয়ার বাতাসে বাজে দুষ্টরাজ্যের বাজম,
শাহিনের মতো উড়ে স্বপ্ন, নৈতিকতা নিভে আসে বান।

ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, অর্থনীতি সাজায়,
কিন্তু লোভ–স্বার্থে জনসেবা রুগ্ন হয়, জনগণ পিছনে যায়।
শোষণ–বঞ্চনায় চোখে তেজ, সতর্ক মন হারায়,
ইস্তিকলালের স্বপ্ন কুয়াশার আঁধারে ডুবে যায়।

সমাজকর্মী, এনজিও, জনসংযোগের বাতাস,
দুর্নীতি, অন্যায়, দারিদ্র্য খাওয়া যায় দমবন্ধ্যাস।
পরিবেশ, স্বাস্থ্য, মানুষের কল্যাণে কাজ হারায়,
শাহিনের মতো উড়ে স্বপ্ন, দলবাজির ছায়ায় নেমে আসে।

শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতির তোরণ,
কিন্তু ক্ষমতার ছায়ায় সেবা হয় রুগ্ন, কাব্য নিভে যায় অরণ।
নাট্যশিল্পী, সঙ্গীতজ্ঞ, কলমে শিল্পের গান,
আজ দলবাজি–স্বার্থে ভেঙে যায় মানবতার প্রাণ।

সরকারি কর্মকর্তা, নীতি প্রণেতা, প্রশাসন-শক্তি,
দলবাজি ধাক্কায় বাজে জনস্বপ্নের ধ্বনি।
ক্ষমতার লোভে পেশার মর্যাদা নষ্ট হয়,
জনসেবা ব্যর্থ হয়, স্বপ্ন ও সত্য নিভে যায়।

দলবাজি, লোভ, প্রতিপক্ষের নিগ্রহ, বিভাজন–
সব মিলিয়ে আজ পেশাজীবির রাজনীতি রুগ্ন।
ইনকিলাব নয়, আজাদি হারায়,
সত্য নিভে মেলে, কওমের আশা জলে ডুবে যায়।

-------------------------------------------------------

মিরাজ

 

মিরাজ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************

হে মিরাজের নবী, আলোর পথে তুমি,  

শান্তি দাও আমাদের হৃদয় ভরা।  

ফরজ নামাজ হলো, রহমতের দিশা,  

সিজদায় আল্লাহর ধরা পায় প্রাণ।।  


শোন শোন, ইয়া ইলাহী, আমার মোনাজাত,  

তোমারি নাম জপে যেন হৃদয় দিবস-রাত।  

যেন কানে শুনি সদা তোমারি কালাম হে খোদা,  

চোখে যেন দেখি শুধু কোরআনের আয়াত।।  


মক্কার কোল থেকে আকসার পথে, জিবরাইল সঙ্গী সাথে,  

মসজিদে নবীদের ইমাম হলেন, হৃদয় জ্বলে আলোকময় রাতে।  

আদমের দোয়া, ইউসুফের হাসি, ইদ্রিসের আশীর্বাদ,  

মূসা কেঁদে বলিল— “তোমার উম্মত হবে ধন্য সদা।”  


ইব্রাহিম বায়তুল মা’মূরে দাঁড়িয়ে, জান্নাতের দোয়া কবে,  

হারুন দয়া দেখালেন, প্রেমে ডুবে নবী খোদার আলোয় ভরে।  

সপ্ত আসমান অতিক্রম করিলেন, নবীরা দিলেন অভিবাদন,  

সিদরাতুল মুনতাহায় নবী পৌঁছে আল্লাহর দরবার।।  


পঞ্চাশ নামাজ প্রথমে ফরজ, পরে কমে পাঁচ, তবু সমান সওয়াব,  

নবী ফিরে এলেন পৃথিবীতে, সকল উম্মত পেল আশীর্বাদ।  

হে প্রিয় নবী! হে মিরাজ-পথিক! হৃদয় নূরে ভরা,  

তোমার প্রেমে জ্বলে দুনিয়া, সিজদায় আল্লাহ ধরা।।  


মুখে যেন জপি আমি কলেমা তোমার দিবস-যামী,  

তোমার মসজিদেরি ঝাড়ু-বরদার হোক আমার এ হাত।  

সুখে তুমি, দুখে তুমি, চোখে তুমি, বুকে তুমি,  

এই পিয়াসি প্রাণে খোদা তুমি, খোদা তুমি আবহায়াত।।  


হে মিরাজের নবী, আলোর পথে তুমি,  

শান্তি দাও আমাদের হৃদয় ভরা।  

ফরজ নামাজ হলো, রহমতের দিশা,  

সিজদায় আল্লাহর ধরা পায় প্রাণ।।  

------------------------------------------

মিথ্যার অভিশাপ

 

মিথ্যার অভিশাপ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************

হে ভাই, হে বোন, শুনো আল্লাহর কথা,
সত্য ছাড়া যে পথ নেই, সে ভুল পথে যাতা।

মিথ্যা বলো না কখনো, শয়তান হয় সঙ্গী,
হৃদয় ভরে যায় ধোঁয়ায়, অশ্রু ঝরে চোখে অবিরাম।

নবী বলেছেন সরাসরি, মিথ্যা নরকের দাওয়াত,
সত্যের আলো না মানিলে, ধ্বংস আসে ঘরে ঘরে।

যে সমাজে মিথ্যা ছড়ায়, বিশ্বাস ভাঙে সেখান,
ভালোবাসা কাঁপে ভয় থেকে, বন্ধুত্ব হয় ধূসর ধ্বংসান।

চোর, দুর্নীতি, প্রতারণা, সব মিথ্যারই ফল,
আল্লাহর দৃষ্টি ক্ষীণ হয়, শাস্তি আসে ভয়ঙ্করোল।

হে মানুষ, সতর্ক হও, আজই ফিরো পথে সত্যের,
মিথ্যার শেকল ছিঁড়ে ফেলা, আল্লাহর দয়ায় ভরে।

সত্যের আলোয় মন আলোকিত হোক, প্রাণ ভরে উঠুক,
মিথ্যার কুসমাচার দূরে থাক, শান্তি আমাদের সঙ্গে থাকুক।

যে মুখে সত্য নেই, সে হৃদয় শুকায়,
যে পদে মিথ্যা লেগে থাকে, ধ্বংস সেখানে ঘুমায়।

আল্লাহ দেখেন সব, কখনো কিছু লুকানো যায় না,
মিথ্যা বাঁচায় না কাউকে, তার ফল হবে যন্ত্রণা।

হে ভাই, হে বোন, সত্যের পথে থাকো তুমি,
মিথ্যার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাক, আল্লাহর দয়া তোমায় ভর।

সত্যের সুরে গাও এই গান, হৃদয় ভরে উঠুক,
মিথ্যার আঁধার চিরতরে দূরে থাক, আলো আল্লাহর ছড়াক।

-----------------------------------------------------------------

জাতীয়তাবাদ

 

জাতীয়তাবাদ 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************

জাতীয়তাবাদ হলো হৃদয়ের গান,
ভাষা, মাটি, নদী আর ইতিহাসের সান।
এটি চেতনা, যা দেয় প্রাণে আগুন,
এক হয়ে বাঁধে জাতি, দেশ, স্বপ্নের সোপান।

শহীদদের রক্তে মাতৃভাষার গান,
বলেছিল তারা—“হারাবো না প্রাণ!”
এই আত্মত্যাগে জন্ম নেয় ভাষাভিত্তিক চেতনা,
যা জাগায় হৃদয়ে অম্লান আশা।

মুক্তিযুদ্ধের মাঠে ঝরল রক্তের রঙ,
স্বাধীনতার সপনে জাগে নতুন সঙ্গ।
রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদ গড়ে তোলে দেশপ্রেম,
স্বাধীনতা ও মর্যাদার জন্য লড়ে প্রতিটি সৈন্য।

আজকের জাতীয়তাবাদ শুধু যুদ্ধ নয়,
এটি চেতনা, যা শেখায়—ভাষা, ঐতিহ্য রক্ষা।
মাটি, নদী, মানুষ, ইতিহাস এক সঙ্গে বাজে সঙ্গ,
সব মিলিয়ে গড়ে তোলে জাতির অহংকার, মর্যাদা ও বঙ্গ।

চেতনা জাগায় উদার, ন্যায়ের পথে চলার গান,
এক হয়ে বাঁধে আমরা, বাধা অতিক্রম করার প্রাণ।
জাতি ও দেশকে রক্ষা করি, এক সঙ্গে হাত ধরি,
এই চেতনা আমাদের, স্বপ্নের আলোকে ঝলমল করি।

----------------------------------------------------------------

মৃত্যুর পরের ডাকে

 

মৃত্যুর পরের ডাকে 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর


হে রব্বুল আলামিন, তোরই নূর আমার চক্ষে ভাসে,
তোর রহমতে ঢেকে দে হে, মৃত্যুর কালো ভাসে।
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, এই সুরে প্রাণে আগুন,
তোরই নামে উঠি জেগে, থেমে যাক সব দাগুন!

“ইয়া আল্লাহ, ইয়া রহমান!” — হৃদয়ে বাজে সুর,
মৃত্যু নয় ভয়, এ তো তোর দিদারে নূর!




চাঁদ-সূর্য ম্লান হবে একদিন, দুনিয়া হবে খামোশ,
তোরই হুকুমে ধ্বনিত হবে— “ইরজিই ইলা রব্বিক!” — ঘোষ।
তুই খালিক, তুই রহিম, তুই সাবুর,
তোরি ফয়যে বাঁচি হে, তুইই তো নূর-এ-নূর!

ইয়া আল্লাহ, ইয়া রহিম!” — জ্বলে প্রাণে দা’ওয়াত,
মৃত্যু নয় শেষ, এ তো তোরই লিকায়াত!



কবরের গাহে নিঃশব্দ রজনী, দে নূরের আলো তোর,
রুহে সালাম, দে শান্তি তোরই, উঠুক সুবহে নূর!
গুনাহগার বান্দা আমি, কর মাগফিরাত হে খোদা,
তোর রহমে দে দয়া ভরা, দে জান্নাতের বাগচা!


তুই চিরজীব, কায়েম, কাদির, মালিকুল মুলক,
তোরি জিকিরে মিশে প্রাণ, তোরই প্রেমে ঢুলুক।
জন্ম-মৃত্যু তোরই হুকুমে, তুইই আল্লাহ মহান,
তোর আশিক আমি, তোর ইবাদত — আমার জান!

“লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ!” — দোলে প্রাণে নূর,
ফিরে যাব তোর দরগাহে, হে রহমান, হে গফুর!

------------------------------------------------------------

অশুভ আগুন

 অশুভ আগুন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

****************************

অশুভ আগুন! অশুভ আগুন!
লাল-লাল ধোঁয়া ছড়ায় নীরব আকাশে,
 পাহাড়-উঁচুতে খেলে অগ্নির ঝড়,
 নদীও কাঁপে, মাঠও ভয় পায়—
 প্রাণের ঘরে ঘরে বাজে শোকের ঢেউ!
  অশুভ আগুন!

বিদ্যালয়, পাঠশালা, বই-পত্রের ঘর—
সব ভেঙে ছাই হয়ে মিশে যায় পথের ধারে।
 ছাত্রদের হাসি থেমে যায়, প্রার্থনার ঘর নিঃশব্দ,
 শিখা নাচে খোলা জানালায়, দেয়ালের ভাঁজে,
 জ্বলছে শিক্ষা, জ্বলছে ভবিষ্যত।
  অশুভ আগুন!

মসজিদ, মন্দির, গির্জা—
প্রার্থনার স্থান সব ছাই, ধুলো আর ধোঁয়া।
 বেল, কলস, গম্বুজ ভেঙে পড়ে,
 শব্দ নেই, শুধু শিখার নাচে ভয় ও শোক।
  অশুভ আগুন!

দোকান, বাজার, হাট—
সব কৌচকাই কাঁদছে শিখার স্পর্শে।
 শস্য, জিনিসপত্র, খুচরা ধন—
 আগুনের মাঝে মিলিয়ে যায় একে একে,
 মানুষের জীবন ক্ষণিকের ছায়া।
  অশুভ আগুন!

ফ্যাক্টরি, কলকারখানা, গুদাম—
ইঞ্জিন, কাঠ, কাঁচ—সব কৌচকাই ভস্ম।
 কর্মচারীর নিঃশ্বাস থেমে যায়,
 মেশিনের গর্জন নীরব, ধোঁয়ার স্রোতে ডুবে যায় শহর।
  অশুভ আগুন!

বন, পাহাড়, নদী—
প্রকৃতির বুক জ্বলে শিখার আগুনে।
 গাছের ডালে ফোঁটা ঝরে, পাখির ডানায় ভয়,
 নদীর জল ম্লান, পাথরের ধ্বনি নীরব।
  অশুভ আগুন!

হাওয়া নাচে, শিখা ছুঁয়ে যায় গাছ-পাতা,
 মাটির বুক জ্বলে, শহর নিঃশ্বাস থামে।
 তবু এই ছন্দে, এই গানমুখর স্রোতে,
 বাঁচার আশা, পুনর্জীবনের স্বপ্ন আঁকে।
  অশুভ আগুন!

হে কান্ডারী, জাগো হে — কান্ডারী, ওঠ দিশা দেখাও!
 হাতে নাও দণ্ডু, হাতে নাও শক্তি,
 অশুভ শক্তি যদি থাকে—ধ্বংস করো, রক্ষা করো জন-চাক।
  অশুভ আগুন!

বস্তু, মাটি, নদী—সব ছাই হয়ে গেল,
 তবু নতুন সকাল হবে, নব উদয় হবে।
 হৃদয় গড়ে তুলবে পুনর্জীবনের গান,
 মানুষ দাঁড়াবে, হাতে হাত—বাঁচবে প্রাণ,
  অশুভ আগুন!

--------------------------------------------------

শ্রেষ্ঠ সম্পদ

 শ্রেষ্ঠ সম্পদ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া ,গাজীপুর।

**********************************

পৃথিবীর ধন-সোনা, হীরা, রূপা যত,
সবই তুচ্ছ, যদি শিশু না হয় হৃদয় জগত।
আদর্শ সন্তানই পিতা-মাতার শ্রেষ্ঠ সম্পদ,
সেই ছোট মনেই লুকানো থাকে আনন্দের প্রদ।

শিশু যেন বীজ, ফোটে প্রজ্ঞা, ন্যায়ের আলো,
নির্ভুল পথে চালাও, দেখাও নৈতিক শোল।
নৈতিক শিক্ষা দাও, অসৎ সঙ্গ হতে দূরে রাখো,
সন্তান হোক আদর্শ—ভালো, সত্য, সততার আঁখো।

সোনা, হীরা, বাড়ী, গাড়ী—সবই ফিকে,
শিশুর শিক্ষা, ভালোবাসা ছাড়া তুচ্ছই মিথ্যে।
হাসি খেলুক তার কানে, বাজুক শিশুর গান,
শুদ্ধি, প্রেম, সততা ভরে উঠুক তার প্রাণ।

শিশু যদি হয় আদর্শ, গর্ব হোক পিতা-মাতার,
সদাচার, দয়া, জ্ঞান, ন্যায়—ভরা হোক তার কাহার।
অসৎ বন্ধু, ভ্রান্ত পথ থেকে দূরে রাখো তাকে,
সততার আলোয় হোক সে পথিক, সত্যের দ্যুতি মেখে।

এই আদর্শ সন্তানই প্রকৃত ধন, প্রকৃত সম্পদ,
পৃথিবীর সব ধন-মালা মিলেও যে থাকে খালি নদীর স্রোত।
কারণ পিতা-মাতার চাওয়া, জীবনের পরম আশা,
সন্তান হোক ভালো, শিক্ষিত—সেই হবে সত্যিকারের ধনকথা।

----------------------------------------------------

আমরা শোকাহত

আমরা শোকাহত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

******************************

ধূপ-ধোঁয়ার মতো ক্ষণস্থায়ী জীবনে,
হঠাৎ নিভে গেল আলো—খোকন ভাই চলে গেলেন চিরতরে।
পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত, নিঃশব্দে শুয়ে,
যেন থমকে গেছে পৃথিবীর সমস্ত বাতাস, সমস্ত আলো।

পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাদ মাগরিব,
প্রথম জানাজার ধ্বনি যেন হৃদয়ের ছেদ ছাড়ে।
দ্বিতীয় জানাজা চাঁদপুরের চান্দুনে,
হাজারো মানুষের নীরব চোখে ভাসে বেদনার স্রোত।

দীর্ঘদিন সে নেতৃত্ব দিল সত্য ও ন্যায়ের পথে,
অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি কখনো স্পর্শ করতে পারেনি তাকে।
সকলের প্রিয় খোকন ভাই প্রমাণ করলেন,
রাজনীতি হতে পারে শ্রদ্ধার, আদর্শের, মানবতার স্রোত।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুল আলম খান বেনু ভাইয়ের সঙ্গে,
গাজীপুরের আলোচনায় উঠে এল অজানা গল্পের খনি।
তার সাহসিকতা, আদর্শ, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা—
সব যেন আজ বুকে ছুরি বেয়ে ঢুকে যায়।

হে আল্লাহ! জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দাও তাকে,
আমাদের প্রিয় খোকন ভাইকে শান্তির কোলে রাখো চিরকাল।
এই শোক, এই ব্যথা, এই চোখের অশ্রু—
সব যেন প্রমাণ করে, পৃথিবী আজ কিছুটা অন্ধকারে ভাসে।

আমরা মাথা নত করি, হৃদয় ভারাক্রান্ত,
কিন্তু তার স্মৃতি আমাদের পথপ্রদর্শক,
তার আদর্শের আলোয় চলবো অনন্তকাল,
যেন পৃথিবীকে জুড়ে দেয় ন্যায় ও মানবতার দীপ।

--------------------------------------------------

দূর্গাপুর আমার প্রাণ

 দূর্গাপুর আমার প্রাণ 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান  মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

**************************


দূর্গাপুর, আমার প্রাণ,
শীতলক্ষ্যা, খাল-বিল, সবুজের গান।
নদী খাল, ফুলবাড়ীয়া বাগান,
দূর্গাপুর, আমার প্রাণ!


শীতলক্ষ্যা তীরে, বানার সবুজ জলধারা,
ঘাটকুরি, নাজাই, বড়চালার খালের ধারা।
আমার হৃদয় ভরে ওঠে আনন্দ-বেদনায়,
দূর্গাপুর আমার প্রাণ, মিলন-বিরহে গান যায়।


বড়চালা, বাড়ীগাঁও, বেগুনহাটি, বিলজরাইল,
চাকৈল, চাপাত, চাটারবাগ, দলিনগর ঢেউ।
আম, জাম, কাঠাল, আনারস, লিচু, পান, কলা—সব বাগান,
দূর্গাপুরের মাঠে ছড়িয়ে আনন্দের ভরা গান।


বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ জসিম, নরুল ইসলাম,
মজের জেনারেল মঞ্জুর রশিদ খান, মোতাহার হোসেন মোল্লা।
আবু তালেব, খন্দকার নুরুজ্জামান, আজিজুর রহমান,
আজগর রশিদ, হাবিবুর রহমান, মমতাজ উদ্দিন মেহেদী, লতিফ মাষ্টার জহিরুল।
সাংবাদিক সামসুল হুদা লিটন,আমিনুল এহছান মোল্লা—কবি, গানের প্রাণ।


দূর্গাপুর, আমার প্রাণ,
শীতলক্ষ্যা, খাল-বিল, সবুজের গান।
নদী খাল, ফুলবাড়ীয়া বাগান,
দূর্গাপুর, আমার প্রাণ!


মসজিদ শতাধিক, নামাজে ভরে জীবন,
দূর্গাপুর দারুল মিল্লাত, রাওনাট হাছানিয়া আলিম।
ফুলবাড়ীয়া, একডালা, বেগুনহাটি ফাজিল মাদরাসা,
চাঁপাত আকবারিয়া, বাড়ৈগাঁও মহিলা দাখিল।
প্রাথমিক বিদ্যালয়: মাশক উত্তরপাড়া, দূর্গাপুর সরকারি, রাণীগঞ্জ, রাওনাট, বেগুনহাটি, বড়চালা।


নদী আর খালের মাঝে বয়ে চলে সবুজ স্রোত,
জীবন শান্তি খুঁজে, খেলাধুলার মেলবন্ধন খোঁটে।
আমার কৃষক মন গান গেয়ে যায় প্রিয় বাটিকা,
নিজেকে হারিয়ে পাই ফিরে ফিরে এক নীল ঢেউ।


দূর্গাপুর, আমার প্রাণ,
শীতলক্ষ্যা, খাল-বিল, সবুজের গান।
নদী খাল, ফুলবাড়ীয়া বাগান,
আম, জাম, কাঠাল, আনারস, লিচু, পান, কলা—সব মিলন আমাদের প্রাণ!
দূর্গাপুর, আমার প্রাণ…
সবুজের ঢেউ, নীলাকাশের গান…

-+------------------------------------------------------

Thursday, October 16, 2025

অশ্লীল শব্দ

 অশ্লীল শব্দ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

****************************

নেতার মুখে আজ অশ্লীল শব্দ!
সভা-মঞ্চে বাজে কেবল কুখ্যাতি।
শপথ ভাঙা, দেশে হাহাকার,
গলিতে ছড়ায় কুৎসিত গীবতের ধারা।

অফিস কক্ষে চোর হাসে চমকে,
আদালতে শ্লেষের তান বাজে রুখে।
শিক্ষক ক্রন্দন করে, ছাত্র চুপচাপ,
সত্যের দুর্ভিক্ষে লজ্জা কুয়াশার চাপ।

গলির কোণে কুকুর শকুনও হাসে,
নেতার অশ্লীল বাক্য, মানুষ লজ্জায় হাহাসে।
মহল্লায় কুৎসিত নামের খেলা,
দেশ জুড়ে ভেসে যায় লজ্জার ঢেউ।

প্রতিটি পদক্ষেপ, কথার খামখেয়ালি,
অশ্লীল শব্দে ভরা, সত্য হারায় অলসায়।
মানুষ চায় ন্যায়, নেতা দেয় তামাশা,
গীবত-তামাশায় ভেসে যায় সোনার দেশ।

অফিস আদালতে, সভা মঞ্চে,
অশ্লীল শব্দের রাগে ভরা সব দেশ।
চোর, দস্যু, মুখে মায়া দেখায়,
কিন্তু সত্য হারায় কুৎসার অন্ধকারে।   

কিন্তু একদিন ভাঙবে সব বাঁধ,
সত্য উঠবে জোয়ারে মানুষের মুখে।
নেতার অশ্লীল শব্দ আর নয় বাজবে,
সত্যের বাঁশি বাজবে বিদ্রোহী গানে।

------------------------------------------

বিপ্লবী হও

 

বিপ্লবী হও

-কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************

তুমি বিপ্লবী হও!—বলো, জাগো মানব,
জাগো তাতী, জেলে, কামার-কুমার, কৃষক-শ্রমজীবন নব!
উঁচু-নীচু, ধনী-দরিদ্র, এক হও বুকে,
অন্যায়ের মুখে ছড়িয়ে দাও আগুনের রথ!

তুমি বিপ্লবী হও!—জ্বালো আগুনে, জ্বালো রক্তে,
গর্জে উঠো অন্যায়ের হৃষ্টমুখে!
শোষণের প্রাসাদে দাও বজ্রের ঘা,
মানবতার নামে জ্বালো নতুন দিশার দা!

তুমি বিপ্লবী হও!—প্রাণ নয়, তুমি তলোয়ারের ধ্বনি,
দুর্বার ঝড়—বন্দীহীন রণিনী!
রক্তে মিশে আছে নিপীড়িতের হাহাকার,
লেখ বিপ্লব—লেখ মুক্তির অংকার!

অন্ধকার শাসক! শুনো তার বজ্রবাণী,
রাজমুকুটে জ্বলে আগুনের পানি!
গর্জে বলো— “ভয় পাস না মানুষ!”
মানবই শক্তি, মানবই আলো, সত্যের জাহ্নবী, জাগো নিঃশেষে নব রস!

তুমি বিপ্লবী হও!—কৃষকের ঘাম, শ্রমিকের গান,
দুঃখের মাটি থেকে উঠা প্রাণ!
রক্তে ঝড়ে জাগরণের ধ্বনি,
নজরুলের পথে চলা আগুনবাহী রণিনী!

তুমি বিপ্লবী হও!—ভাঙো বঞ্চনা, গড়ো দিগন্ত,
আনো মানবতাতে নতুন প্রভাতের অন্ত!
ভয় জানো না, সত্যের যোদ্ধা হও,
থামো না, এগিয়ে চলো মানুষের পথে!

জাগো যুবক!—তোমার হাতে রাখো আগুন,
ভালোবাসায় পোড়াও অন্যায়ের ধুন!
ধর্মের নামে নয়, মানবতার নামে দাঁড়াও,
অত্যাচারের শৃঙ্খল আজ ছিঁড়ে ফেলো, বিপ্লবী হও!

গর্জে বলো!— “জাগো বিশ্ব মানবতা!”
দহো!— “ভয়হীন স্বাধীনতা!”
শুধু শব্দ নয়, লেখো ইতিহাসের বাণী,
জ্বালাও পথে পথে রক্তে রাঙা বাণী!

বিপ্লবী হও!—ন্যায়ের পথে চলো,
অন্যায় দেখিলে বজ্রের মতো বলো!
বুকে আগুন, হাতে আলো, কণ্ঠে বজ্রধ্বনি—
তুমিই আগামী, তুমিই বিপ্লবী! 

---------------------------------------------

বিদ্রোহী কলম

 

বিদ্রোহী কলম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************

বিদ্রোহী কলম, তুই আজ রণশিঙা বাজা,
অন্ধকার ভেদ করে আগুনের ভাষা সাজা।
লুটেরার রাজত্বে তুই আগুন ফেল,
অবিচার, দাসত্ব, নিপীড়ন, সব পুড়িয়ে গেল।

তাতী, জেলে, কামার, কুমার, কৃষাণ,
তুই তাদের কণ্ঠে দে বিদ্রোহের গান।
ধনী দরিদ্র, উচু নীচু, এক পথে আন,
ধর্ম বর্ণ ভুলে তুই মানবের বান।

ক্ষমতার লেলিহান ত্রাস ভাঙ তুই,
দুর্বল হৃদয়ে আগুন ঢাল, জ্বাল তুই।
যে কবি নীরব, সে আজ অপরাধী,
নীরবতা আজ অমানবিক সাধী।

অধিকার লুণ্ঠিত, তবু তুই চুপ কেন?
নিপীড়ন দেখেও তোর কলম কেন নীরব?
লাল রক্তে ডুবিয়ে তুই লিখ অগ্নি শপথ,
"শোষকের কফিনে দিব শেষ আঘাত।"

মিথ্যা মুখোশ ছিঁড়ে দে বিদ্রোহী শ্লোগান,
মানবতার নামে জ্বাল সত্যের আগুন।
নিরপরাধের কান্নায় তুই লিখ প্রতিশোধ,
ভয়হীন ছন্দে তুল নব বিদ্রোহ।

শাসকের প্রাসাদে আগুন লাগা শব্দ হোক,
অমানবের বুকে ন্যায়বাণী দগ্ধ হোক।
দুর্বলকে শক্তি দে, দুর্জনকে ভয়,
তোর কলমে জ্বালো ন্যায়বিচারের রায়।

রক্তে লেখা তোর প্রতিটি শব্দ আগুন,
তুই কাঁপাস সভ্যতা, তুই বিদ্রোহের ধ্বনি।
মাতৃকার মুখে তুই বজ্রের হাসি,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে চির অনলবাসী।

----------------------------------------------------