Monday, October 20, 2025

জানি হে কত সুন্দর তুমি

 

জানি হে কত সুন্দর তুমি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************


জানি হে কত সুন্দর তুমি হে প্রিয়া…
জানি হে কত সুন্দর তুমি হে প্রিয়া…


জানি হে কত সুন্দর তুমি হে প্রিয়া,
প্রেমের ঘর, ভালোবাসার ভরা দ্যুতি,
সন্তান হাসে আনন্দে,
আলোর ছোঁয়ায় ভরা,
স্বর্গিয় সংসার হোক ঝঙ্কার,
জানি হে কত সুন্দর তুমি হে প্রিয়া।


ও নামে ফুল ফোটে বাগানে রাশি রাশি,
প্রেমেরই চাঁদ ভরা আকাশে হাসি,
স্নেহের সুরে বাজে,
হৃদয়ের গান গায়ে,
মধুময় মধুরে দেয় ঝঙ্কার,
জানি হে কত সুন্দর তুমি হে প্রিয়া।


সন্তান খেলে নদীর তীরে,
সুখের ঢেউয়ে, দুঃখের ঝড়ে,
মায়ের আদর, পিতার স্নেহ,
ভালোবাসার ছন্দে,
প্রতি মুহূর্তে দেয় ঝঙ্কার,
জানি হে কত সুন্দর তুমি হে প্রিয়া।


ধৈর্য আর মমত্বে ভরা সংসার,
প্রেমময় চোখে ঝলকে প্রতিটি তার।
শিক্ষা, জ্ঞান, সদ্ব্যবহার,
সন্তান-পত্নীর মিলনে হোক আনন্দ,
প্রতি পদক্ষেপে দেয় ঝঙ্কার,
জানি হে কত সুন্দর তুমি হে প্রিয়া।


স্বর্গিয় সংসারে বাজুক সুর,
মায়া-মমত্ব, ভালোবাসার জ্বালা।
প্রেমময় বন্ধনে আবদ্ধ হৃদয়,
মর্যাদা রক্ষা করে সুখী জীবন ঢেউয়ে,
প্রতি ছন্দে দেয় ঝঙ্কার,
জানি হে কত সুন্দর তুমি হে প্রিয়া।


ভালোবাসার আলো ভরে ওঠে ঘর-বাড়ি,
সন্তান হাসে, সংসার হোক পূর্ণিমা।
ধৈর্য, স্নেহ, প্রেমের মেলায়,
প্রতি মুহূর্তে বাজুক হৃদয়-গান,
প্রতি ছন্দে দেয় ঝঙ্কার,
জানি হে কত সুন্দর তুমি হে প্রিয়া…

----------------------------------------------

আমি বেদ্রোহী মুজাহিদ

 আমি বেদ্রোহী মুজাহিদ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************

আমি বেদ্রোহী মুজাহিদ — লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌!
ভয়ে কাঁপে তাগুত, জালেম, ফিরাউন সব দাহ্‌!
আমি হক্কের নূর, আমি কুফরের বজ্রাঘাত,
আমি আল্লাহর সৈনিক, শাহাদতের আহ্বাত!

আমি তুফান! আমি সাইকা-স্বর!
আমি হাকের বজ্র-অবর্বর!
আমার মুখে “আল্লাহু আকবর!” —
কাঁপে জাহেলিয়াতের প্রাচীর ঘর!

আমি কিবলাহর সিপাহি, আমি ঈমানের সৈরান,
আমি রণধ্বনি, আমি ইকরামের আহবান!
আমি লাঠি নয়, তলোয়ারের ভাষা জানি,
আমি কুফর ভাঙি, জুলুমের দেয়াল টানি!

এই যুগে ভয়, এই যুগে মুনাফিকি রাজ,
দাদা’দের সামনে করে সবাই সাজ!
মানবিক কাজেও লাগে অনুমতি-ফরমান,
হায়, এ কেমন দেশ! এ কেমন ইমান!

বুক ভরা ভয়, মুখে শান্তির বুলি,
ভেতরে ভেতরে শয়তানের খুলি!
দোসর চকমা দেয়, সত্য করে জাহির,
আমি বলি — “তুমি কুফরি রাহে সাফির!”

আমি তাওহীদের সৈনিক, আমি হক্কের হায়দার,
আমার তলোয়ারে আগুনের দরবার!
আমি মুজাহিদ, আমি রণভূমির শাহীন,
আমার হৃদয়ে বাজে আজান ধ্বনি — “হায়া আলাল ফালাহীন!”

আমি ভণ্ড নেতার পদভারে নত নই,
আমি নতজানু নয়, আমি আরশেরই জুই!
আমি আল-হক্ক, আমি ন্যায়ব্রতী,
আমি বিদ্রোহী, আমি আল্লাহর শক্তি!

বৈষম্যের বেড়াজাল ছিন্ন করি আজ,
আমি বলি, ওরে মুনাফিক, থাম তোর লাজ!
তুমি সংগঠন করো, কিন্তু ভয় পেও না,
তাওয়াক্কুল করো, খোদার পথে চলো না!

আমার দেহে শাহাদতের শিরা,
আমার হৃদয়ে লা-ইলাহার নূর-ধারা!
আমি বেদ্রোহী মুজাহিদ — হক্কের সৈনিক,
আমি আল্লাহর বাণী, আমি অমর চিরবিক!

আমি বলি — সত্য এসেছে, মিথ্যা ভেঙে যায়,
আমি মুজাহিদ, আমি বজ্র, ভয় কিসে হায়!

ওকুল জা-আল হাক্কু ওয়া জাহাকাল বাতিল!
(বলো — গর্জে ওঠ, সমস্ত জালিম কাঁপুক!)

আমি বেদ্রোহী মুজাহিদ — লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ!
আমি আগুন, আমি বজ্র, আমি সত্যের তুফান,
আমি খোদার কলাম, আমি ঈমানের পতাকা,
আমি বিদ্রোহী — আমি অমর, আমি অজেয়!

-----------------------------------------------

Sunday, October 19, 2025

পেশাজীবিদের রাজনীতি

 পেশাজীবিদের রাজনীতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

-----********************************

শিক্ষক উঠে কলম হাতে, দলবাজির তাওয়ানে,
শিক্ষার মাঠে নয়, ক্ষমতার খোঁজে মিশন আসে।
গবেষক, বিজ্ঞানী, আলোর রাহবার যারা দাঁড়াত,
আজ কলম বিক্রি, জনস্বপ্ন নিভে যায় রাত।

ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যখাতের শাহরায়,
রোগ নিধন নয়, তহরিকের খোরাক খায়।
ফার্মাসিস্ট, নীতি প্রণেতা, স্বাস্থ্য নীতি সাজায়,
কিন্তু জনসেবায় নয়, নিজের ত্রিপ্তি ছড়ায়।

আইনজীবী, বিচারক, ন্যায়ের কায়দা,
দলবাজি খেয়ে কলম হয় বিকৃত, সত্য নিভে রাব্তা।
নীতি-নিয়ম প্রণেতা, কওমের তোরণ,
শাহিদদের স্বপ্ন ভেঙে যায়, হারায় বিজয়রঙ্গ।

ইঞ্জিনিয়ার, প্রযুক্তিবিদ, সেতু আর শহর গড়ে,
কিন্তু দলবাজির লোভে জনকল্যাণ হারায় তোরণ ধরে।
তথ্য–প্রযুক্তি দিয়ে গণতন্ত্রে আলো জ্বলে না,
দুষ্টশক্তি বড় হয়, ইস্তিকলালের আলো লুকায়।

সাংবাদিক, প্রতিবেদক, কণ্ঠে তহরিক,
কিন্তু কলম বিকৃত, সংবাদ হয় পক্ষপাতির শিক।
মিডিয়ার বাতাসে বাজে দুষ্টরাজ্যের বাজম,
শাহিনের মতো উড়ে স্বপ্ন, নৈতিকতা নিভে আসে বান।

ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, অর্থনীতি সাজায়,
কিন্তু লোভ–স্বার্থে জনসেবা রুগ্ন হয়, জনগণ পিছনে যায়।
শোষণ–বঞ্চনায় চোখে তেজ, সতর্ক মন হারায়,
ইস্তিকলালের স্বপ্ন কুয়াশার আঁধারে ডুবে যায়।

সমাজকর্মী, এনজিও, জনসংযোগের বাতাস,
দুর্নীতি, অন্যায়, দারিদ্র্য খাওয়া যায় দমবন্ধ্যাস।
পরিবেশ, স্বাস্থ্য, মানুষের কল্যাণে কাজ হারায়,
শাহিনের মতো উড়ে স্বপ্ন, দলবাজির ছায়ায় নেমে আসে।

শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতির তোরণ,
কিন্তু ক্ষমতার ছায়ায় সেবা হয় রুগ্ন, কাব্য নিভে যায় অরণ।
নাট্যশিল্পী, সঙ্গীতজ্ঞ, কলমে শিল্পের গান,
আজ দলবাজি–স্বার্থে ভেঙে যায় মানবতার প্রাণ।

সরকারি কর্মকর্তা, নীতি প্রণেতা, প্রশাসন-শক্তি,
দলবাজি ধাক্কায় বাজে জনস্বপ্নের ধ্বনি।
ক্ষমতার লোভে পেশার মর্যাদা নষ্ট হয়,
জনসেবা ব্যর্থ হয়, স্বপ্ন ও সত্য নিভে যায়।

দলবাজি, লোভ, প্রতিপক্ষের নিগ্রহ, বিভাজন–
সব মিলিয়ে আজ পেশাজীবির রাজনীতি রুগ্ন।
ইনকিলাব নয়, আজাদি হারায়,
সত্য নিভে মেলে, কওমের আশা জলে ডুবে যায়।

-------------------------------------------------------

মিরাজ

 

মিরাজ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************

হে মিরাজের নবী, আলোর পথে তুমি,  

শান্তি দাও আমাদের হৃদয় ভরা।  

ফরজ নামাজ হলো, রহমতের দিশা,  

সিজদায় আল্লাহর ধরা পায় প্রাণ।।  


শোন শোন, ইয়া ইলাহী, আমার মোনাজাত,  

তোমারি নাম জপে যেন হৃদয় দিবস-রাত।  

যেন কানে শুনি সদা তোমারি কালাম হে খোদা,  

চোখে যেন দেখি শুধু কোরআনের আয়াত।।  


মক্কার কোল থেকে আকসার পথে, জিবরাইল সঙ্গী সাথে,  

মসজিদে নবীদের ইমাম হলেন, হৃদয় জ্বলে আলোকময় রাতে।  

আদমের দোয়া, ইউসুফের হাসি, ইদ্রিসের আশীর্বাদ,  

মূসা কেঁদে বলিল— “তোমার উম্মত হবে ধন্য সদা।”  


ইব্রাহিম বায়তুল মা’মূরে দাঁড়িয়ে, জান্নাতের দোয়া কবে,  

হারুন দয়া দেখালেন, প্রেমে ডুবে নবী খোদার আলোয় ভরে।  

সপ্ত আসমান অতিক্রম করিলেন, নবীরা দিলেন অভিবাদন,  

সিদরাতুল মুনতাহায় নবী পৌঁছে আল্লাহর দরবার।।  


পঞ্চাশ নামাজ প্রথমে ফরজ, পরে কমে পাঁচ, তবু সমান সওয়াব,  

নবী ফিরে এলেন পৃথিবীতে, সকল উম্মত পেল আশীর্বাদ।  

হে প্রিয় নবী! হে মিরাজ-পথিক! হৃদয় নূরে ভরা,  

তোমার প্রেমে জ্বলে দুনিয়া, সিজদায় আল্লাহ ধরা।।  


মুখে যেন জপি আমি কলেমা তোমার দিবস-যামী,  

তোমার মসজিদেরি ঝাড়ু-বরদার হোক আমার এ হাত।  

সুখে তুমি, দুখে তুমি, চোখে তুমি, বুকে তুমি,  

এই পিয়াসি প্রাণে খোদা তুমি, খোদা তুমি আবহায়াত।।  


হে মিরাজের নবী, আলোর পথে তুমি,  

শান্তি দাও আমাদের হৃদয় ভরা।  

ফরজ নামাজ হলো, রহমতের দিশা,  

সিজদায় আল্লাহর ধরা পায় প্রাণ।।  

------------------------------------------

মিথ্যার অভিশাপ

 

মিথ্যার অভিশাপ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************

হে ভাই, হে বোন, শুনো আল্লাহর কথা,
সত্য ছাড়া যে পথ নেই, সে ভুল পথে যাতা।

মিথ্যা বলো না কখনো, শয়তান হয় সঙ্গী,
হৃদয় ভরে যায় ধোঁয়ায়, অশ্রু ঝরে চোখে অবিরাম।

নবী বলেছেন সরাসরি, মিথ্যা নরকের দাওয়াত,
সত্যের আলো না মানিলে, ধ্বংস আসে ঘরে ঘরে।

যে সমাজে মিথ্যা ছড়ায়, বিশ্বাস ভাঙে সেখান,
ভালোবাসা কাঁপে ভয় থেকে, বন্ধুত্ব হয় ধূসর ধ্বংসান।

চোর, দুর্নীতি, প্রতারণা, সব মিথ্যারই ফল,
আল্লাহর দৃষ্টি ক্ষীণ হয়, শাস্তি আসে ভয়ঙ্করোল।

হে মানুষ, সতর্ক হও, আজই ফিরো পথে সত্যের,
মিথ্যার শেকল ছিঁড়ে ফেলা, আল্লাহর দয়ায় ভরে।

সত্যের আলোয় মন আলোকিত হোক, প্রাণ ভরে উঠুক,
মিথ্যার কুসমাচার দূরে থাক, শান্তি আমাদের সঙ্গে থাকুক।

যে মুখে সত্য নেই, সে হৃদয় শুকায়,
যে পদে মিথ্যা লেগে থাকে, ধ্বংস সেখানে ঘুমায়।

আল্লাহ দেখেন সব, কখনো কিছু লুকানো যায় না,
মিথ্যা বাঁচায় না কাউকে, তার ফল হবে যন্ত্রণা।

হে ভাই, হে বোন, সত্যের পথে থাকো তুমি,
মিথ্যার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাক, আল্লাহর দয়া তোমায় ভর।

সত্যের সুরে গাও এই গান, হৃদয় ভরে উঠুক,
মিথ্যার আঁধার চিরতরে দূরে থাক, আলো আল্লাহর ছড়াক।

-----------------------------------------------------------------

জাতীয়তাবাদ

 

জাতীয়তাবাদ 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************

জাতীয়তাবাদ হলো হৃদয়ের গান,
ভাষা, মাটি, নদী আর ইতিহাসের সান।
এটি চেতনা, যা দেয় প্রাণে আগুন,
এক হয়ে বাঁধে জাতি, দেশ, স্বপ্নের সোপান।

শহীদদের রক্তে মাতৃভাষার গান,
বলেছিল তারা—“হারাবো না প্রাণ!”
এই আত্মত্যাগে জন্ম নেয় ভাষাভিত্তিক চেতনা,
যা জাগায় হৃদয়ে অম্লান আশা।

মুক্তিযুদ্ধের মাঠে ঝরল রক্তের রঙ,
স্বাধীনতার সপনে জাগে নতুন সঙ্গ।
রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদ গড়ে তোলে দেশপ্রেম,
স্বাধীনতা ও মর্যাদার জন্য লড়ে প্রতিটি সৈন্য।

আজকের জাতীয়তাবাদ শুধু যুদ্ধ নয়,
এটি চেতনা, যা শেখায়—ভাষা, ঐতিহ্য রক্ষা।
মাটি, নদী, মানুষ, ইতিহাস এক সঙ্গে বাজে সঙ্গ,
সব মিলিয়ে গড়ে তোলে জাতির অহংকার, মর্যাদা ও বঙ্গ।

চেতনা জাগায় উদার, ন্যায়ের পথে চলার গান,
এক হয়ে বাঁধে আমরা, বাধা অতিক্রম করার প্রাণ।
জাতি ও দেশকে রক্ষা করি, এক সঙ্গে হাত ধরি,
এই চেতনা আমাদের, স্বপ্নের আলোকে ঝলমল করি।

----------------------------------------------------------------

মৃত্যুর পরের ডাকে

 

মৃত্যুর পরের ডাকে 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর


হে রব্বুল আলামিন, তোরই নূর আমার চক্ষে ভাসে,
তোর রহমতে ঢেকে দে হে, মৃত্যুর কালো ভাসে।
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, এই সুরে প্রাণে আগুন,
তোরই নামে উঠি জেগে, থেমে যাক সব দাগুন!

“ইয়া আল্লাহ, ইয়া রহমান!” — হৃদয়ে বাজে সুর,
মৃত্যু নয় ভয়, এ তো তোর দিদারে নূর!




চাঁদ-সূর্য ম্লান হবে একদিন, দুনিয়া হবে খামোশ,
তোরই হুকুমে ধ্বনিত হবে— “ইরজিই ইলা রব্বিক!” — ঘোষ।
তুই খালিক, তুই রহিম, তুই সাবুর,
তোরি ফয়যে বাঁচি হে, তুইই তো নূর-এ-নূর!

ইয়া আল্লাহ, ইয়া রহিম!” — জ্বলে প্রাণে দা’ওয়াত,
মৃত্যু নয় শেষ, এ তো তোরই লিকায়াত!



কবরের গাহে নিঃশব্দ রজনী, দে নূরের আলো তোর,
রুহে সালাম, দে শান্তি তোরই, উঠুক সুবহে নূর!
গুনাহগার বান্দা আমি, কর মাগফিরাত হে খোদা,
তোর রহমে দে দয়া ভরা, দে জান্নাতের বাগচা!


তুই চিরজীব, কায়েম, কাদির, মালিকুল মুলক,
তোরি জিকিরে মিশে প্রাণ, তোরই প্রেমে ঢুলুক।
জন্ম-মৃত্যু তোরই হুকুমে, তুইই আল্লাহ মহান,
তোর আশিক আমি, তোর ইবাদত — আমার জান!

“লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ!” — দোলে প্রাণে নূর,
ফিরে যাব তোর দরগাহে, হে রহমান, হে গফুর!

------------------------------------------------------------

অশুভ আগুন

 অশুভ আগুন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

****************************

অশুভ আগুন! অশুভ আগুন!
লাল-লাল ধোঁয়া ছড়ায় নীরব আকাশে,
 পাহাড়-উঁচুতে খেলে অগ্নির ঝড়,
 নদীও কাঁপে, মাঠও ভয় পায়—
 প্রাণের ঘরে ঘরে বাজে শোকের ঢেউ!
  অশুভ আগুন!

বিদ্যালয়, পাঠশালা, বই-পত্রের ঘর—
সব ভেঙে ছাই হয়ে মিশে যায় পথের ধারে।
 ছাত্রদের হাসি থেমে যায়, প্রার্থনার ঘর নিঃশব্দ,
 শিখা নাচে খোলা জানালায়, দেয়ালের ভাঁজে,
 জ্বলছে শিক্ষা, জ্বলছে ভবিষ্যত।
  অশুভ আগুন!

মসজিদ, মন্দির, গির্জা—
প্রার্থনার স্থান সব ছাই, ধুলো আর ধোঁয়া।
 বেল, কলস, গম্বুজ ভেঙে পড়ে,
 শব্দ নেই, শুধু শিখার নাচে ভয় ও শোক।
  অশুভ আগুন!

দোকান, বাজার, হাট—
সব কৌচকাই কাঁদছে শিখার স্পর্শে।
 শস্য, জিনিসপত্র, খুচরা ধন—
 আগুনের মাঝে মিলিয়ে যায় একে একে,
 মানুষের জীবন ক্ষণিকের ছায়া।
  অশুভ আগুন!

ফ্যাক্টরি, কলকারখানা, গুদাম—
ইঞ্জিন, কাঠ, কাঁচ—সব কৌচকাই ভস্ম।
 কর্মচারীর নিঃশ্বাস থেমে যায়,
 মেশিনের গর্জন নীরব, ধোঁয়ার স্রোতে ডুবে যায় শহর।
  অশুভ আগুন!

বন, পাহাড়, নদী—
প্রকৃতির বুক জ্বলে শিখার আগুনে।
 গাছের ডালে ফোঁটা ঝরে, পাখির ডানায় ভয়,
 নদীর জল ম্লান, পাথরের ধ্বনি নীরব।
  অশুভ আগুন!

হাওয়া নাচে, শিখা ছুঁয়ে যায় গাছ-পাতা,
 মাটির বুক জ্বলে, শহর নিঃশ্বাস থামে।
 তবু এই ছন্দে, এই গানমুখর স্রোতে,
 বাঁচার আশা, পুনর্জীবনের স্বপ্ন আঁকে।
  অশুভ আগুন!

হে কান্ডারী, জাগো হে — কান্ডারী, ওঠ দিশা দেখাও!
 হাতে নাও দণ্ডু, হাতে নাও শক্তি,
 অশুভ শক্তি যদি থাকে—ধ্বংস করো, রক্ষা করো জন-চাক।
  অশুভ আগুন!

বস্তু, মাটি, নদী—সব ছাই হয়ে গেল,
 তবু নতুন সকাল হবে, নব উদয় হবে।
 হৃদয় গড়ে তুলবে পুনর্জীবনের গান,
 মানুষ দাঁড়াবে, হাতে হাত—বাঁচবে প্রাণ,
  অশুভ আগুন!

--------------------------------------------------

শ্রেষ্ঠ সম্পদ

 শ্রেষ্ঠ সম্পদ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া ,গাজীপুর।

**********************************

পৃথিবীর ধন-সোনা, হীরা, রূপা যত,
সবই তুচ্ছ, যদি শিশু না হয় হৃদয় জগত।
আদর্শ সন্তানই পিতা-মাতার শ্রেষ্ঠ সম্পদ,
সেই ছোট মনেই লুকানো থাকে আনন্দের প্রদ।

শিশু যেন বীজ, ফোটে প্রজ্ঞা, ন্যায়ের আলো,
নির্ভুল পথে চালাও, দেখাও নৈতিক শোল।
নৈতিক শিক্ষা দাও, অসৎ সঙ্গ হতে দূরে রাখো,
সন্তান হোক আদর্শ—ভালো, সত্য, সততার আঁখো।

সোনা, হীরা, বাড়ী, গাড়ী—সবই ফিকে,
শিশুর শিক্ষা, ভালোবাসা ছাড়া তুচ্ছই মিথ্যে।
হাসি খেলুক তার কানে, বাজুক শিশুর গান,
শুদ্ধি, প্রেম, সততা ভরে উঠুক তার প্রাণ।

শিশু যদি হয় আদর্শ, গর্ব হোক পিতা-মাতার,
সদাচার, দয়া, জ্ঞান, ন্যায়—ভরা হোক তার কাহার।
অসৎ বন্ধু, ভ্রান্ত পথ থেকে দূরে রাখো তাকে,
সততার আলোয় হোক সে পথিক, সত্যের দ্যুতি মেখে।

এই আদর্শ সন্তানই প্রকৃত ধন, প্রকৃত সম্পদ,
পৃথিবীর সব ধন-মালা মিলেও যে থাকে খালি নদীর স্রোত।
কারণ পিতা-মাতার চাওয়া, জীবনের পরম আশা,
সন্তান হোক ভালো, শিক্ষিত—সেই হবে সত্যিকারের ধনকথা।

----------------------------------------------------

আমরা শোকাহত

আমরা শোকাহত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

******************************

ধূপ-ধোঁয়ার মতো ক্ষণস্থায়ী জীবনে,
হঠাৎ নিভে গেল আলো—খোকন ভাই চলে গেলেন চিরতরে।
পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত, নিঃশব্দে শুয়ে,
যেন থমকে গেছে পৃথিবীর সমস্ত বাতাস, সমস্ত আলো।

পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাদ মাগরিব,
প্রথম জানাজার ধ্বনি যেন হৃদয়ের ছেদ ছাড়ে।
দ্বিতীয় জানাজা চাঁদপুরের চান্দুনে,
হাজারো মানুষের নীরব চোখে ভাসে বেদনার স্রোত।

দীর্ঘদিন সে নেতৃত্ব দিল সত্য ও ন্যায়ের পথে,
অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি কখনো স্পর্শ করতে পারেনি তাকে।
সকলের প্রিয় খোকন ভাই প্রমাণ করলেন,
রাজনীতি হতে পারে শ্রদ্ধার, আদর্শের, মানবতার স্রোত।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুল আলম খান বেনু ভাইয়ের সঙ্গে,
গাজীপুরের আলোচনায় উঠে এল অজানা গল্পের খনি।
তার সাহসিকতা, আদর্শ, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা—
সব যেন আজ বুকে ছুরি বেয়ে ঢুকে যায়।

হে আল্লাহ! জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দাও তাকে,
আমাদের প্রিয় খোকন ভাইকে শান্তির কোলে রাখো চিরকাল।
এই শোক, এই ব্যথা, এই চোখের অশ্রু—
সব যেন প্রমাণ করে, পৃথিবী আজ কিছুটা অন্ধকারে ভাসে।

আমরা মাথা নত করি, হৃদয় ভারাক্রান্ত,
কিন্তু তার স্মৃতি আমাদের পথপ্রদর্শক,
তার আদর্শের আলোয় চলবো অনন্তকাল,
যেন পৃথিবীকে জুড়ে দেয় ন্যায় ও মানবতার দীপ।

--------------------------------------------------

দূর্গাপুর আমার প্রাণ

 দূর্গাপুর আমার প্রাণ 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান  মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

**************************


দূর্গাপুর, আমার প্রাণ,
শীতলক্ষ্যা, খাল-বিল, সবুজের গান।
নদী খাল, ফুলবাড়ীয়া বাগান,
দূর্গাপুর, আমার প্রাণ!


শীতলক্ষ্যা তীরে, বানার সবুজ জলধারা,
ঘাটকুরি, নাজাই, বড়চালার খালের ধারা।
আমার হৃদয় ভরে ওঠে আনন্দ-বেদনায়,
দূর্গাপুর আমার প্রাণ, মিলন-বিরহে গান যায়।


বড়চালা, বাড়ীগাঁও, বেগুনহাটি, বিলজরাইল,
চাকৈল, চাপাত, চাটারবাগ, দলিনগর ঢেউ।
আম, জাম, কাঠাল, আনারস, লিচু, পান, কলা—সব বাগান,
দূর্গাপুরের মাঠে ছড়িয়ে আনন্দের ভরা গান।


বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ জসিম, নরুল ইসলাম,
মজের জেনারেল মঞ্জুর রশিদ খান, মোতাহার হোসেন মোল্লা।
আবু তালেব, খন্দকার নুরুজ্জামান, আজিজুর রহমান,
আজগর রশিদ, হাবিবুর রহমান, মমতাজ উদ্দিন মেহেদী, লতিফ মাষ্টার জহিরুল।
সাংবাদিক সামসুল হুদা লিটন,আমিনুল এহছান মোল্লা—কবি, গানের প্রাণ।


দূর্গাপুর, আমার প্রাণ,
শীতলক্ষ্যা, খাল-বিল, সবুজের গান।
নদী খাল, ফুলবাড়ীয়া বাগান,
দূর্গাপুর, আমার প্রাণ!


মসজিদ শতাধিক, নামাজে ভরে জীবন,
দূর্গাপুর দারুল মিল্লাত, রাওনাট হাছানিয়া আলিম।
ফুলবাড়ীয়া, একডালা, বেগুনহাটি ফাজিল মাদরাসা,
চাঁপাত আকবারিয়া, বাড়ৈগাঁও মহিলা দাখিল।
প্রাথমিক বিদ্যালয়: মাশক উত্তরপাড়া, দূর্গাপুর সরকারি, রাণীগঞ্জ, রাওনাট, বেগুনহাটি, বড়চালা।


নদী আর খালের মাঝে বয়ে চলে সবুজ স্রোত,
জীবন শান্তি খুঁজে, খেলাধুলার মেলবন্ধন খোঁটে।
আমার কৃষক মন গান গেয়ে যায় প্রিয় বাটিকা,
নিজেকে হারিয়ে পাই ফিরে ফিরে এক নীল ঢেউ।


দূর্গাপুর, আমার প্রাণ,
শীতলক্ষ্যা, খাল-বিল, সবুজের গান।
নদী খাল, ফুলবাড়ীয়া বাগান,
আম, জাম, কাঠাল, আনারস, লিচু, পান, কলা—সব মিলন আমাদের প্রাণ!
দূর্গাপুর, আমার প্রাণ…
সবুজের ঢেউ, নীলাকাশের গান…

-+------------------------------------------------------

Thursday, October 16, 2025

অশ্লীল শব্দ

 অশ্লীল শব্দ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

****************************

নেতার মুখে আজ অশ্লীল শব্দ!
সভা-মঞ্চে বাজে কেবল কুখ্যাতি।
শপথ ভাঙা, দেশে হাহাকার,
গলিতে ছড়ায় কুৎসিত গীবতের ধারা।

অফিস কক্ষে চোর হাসে চমকে,
আদালতে শ্লেষের তান বাজে রুখে।
শিক্ষক ক্রন্দন করে, ছাত্র চুপচাপ,
সত্যের দুর্ভিক্ষে লজ্জা কুয়াশার চাপ।

গলির কোণে কুকুর শকুনও হাসে,
নেতার অশ্লীল বাক্য, মানুষ লজ্জায় হাহাসে।
মহল্লায় কুৎসিত নামের খেলা,
দেশ জুড়ে ভেসে যায় লজ্জার ঢেউ।

প্রতিটি পদক্ষেপ, কথার খামখেয়ালি,
অশ্লীল শব্দে ভরা, সত্য হারায় অলসায়।
মানুষ চায় ন্যায়, নেতা দেয় তামাশা,
গীবত-তামাশায় ভেসে যায় সোনার দেশ।

অফিস আদালতে, সভা মঞ্চে,
অশ্লীল শব্দের রাগে ভরা সব দেশ।
চোর, দস্যু, মুখে মায়া দেখায়,
কিন্তু সত্য হারায় কুৎসার অন্ধকারে।   

কিন্তু একদিন ভাঙবে সব বাঁধ,
সত্য উঠবে জোয়ারে মানুষের মুখে।
নেতার অশ্লীল শব্দ আর নয় বাজবে,
সত্যের বাঁশি বাজবে বিদ্রোহী গানে।

------------------------------------------

বিপ্লবী হও

 

বিপ্লবী হও

-কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************

তুমি বিপ্লবী হও!—বলো, জাগো মানব,
জাগো তাতী, জেলে, কামার-কুমার, কৃষক-শ্রমজীবন নব!
উঁচু-নীচু, ধনী-দরিদ্র, এক হও বুকে,
অন্যায়ের মুখে ছড়িয়ে দাও আগুনের রথ!

তুমি বিপ্লবী হও!—জ্বালো আগুনে, জ্বালো রক্তে,
গর্জে উঠো অন্যায়ের হৃষ্টমুখে!
শোষণের প্রাসাদে দাও বজ্রের ঘা,
মানবতার নামে জ্বালো নতুন দিশার দা!

তুমি বিপ্লবী হও!—প্রাণ নয়, তুমি তলোয়ারের ধ্বনি,
দুর্বার ঝড়—বন্দীহীন রণিনী!
রক্তে মিশে আছে নিপীড়িতের হাহাকার,
লেখ বিপ্লব—লেখ মুক্তির অংকার!

অন্ধকার শাসক! শুনো তার বজ্রবাণী,
রাজমুকুটে জ্বলে আগুনের পানি!
গর্জে বলো— “ভয় পাস না মানুষ!”
মানবই শক্তি, মানবই আলো, সত্যের জাহ্নবী, জাগো নিঃশেষে নব রস!

তুমি বিপ্লবী হও!—কৃষকের ঘাম, শ্রমিকের গান,
দুঃখের মাটি থেকে উঠা প্রাণ!
রক্তে ঝড়ে জাগরণের ধ্বনি,
নজরুলের পথে চলা আগুনবাহী রণিনী!

তুমি বিপ্লবী হও!—ভাঙো বঞ্চনা, গড়ো দিগন্ত,
আনো মানবতাতে নতুন প্রভাতের অন্ত!
ভয় জানো না, সত্যের যোদ্ধা হও,
থামো না, এগিয়ে চলো মানুষের পথে!

জাগো যুবক!—তোমার হাতে রাখো আগুন,
ভালোবাসায় পোড়াও অন্যায়ের ধুন!
ধর্মের নামে নয়, মানবতার নামে দাঁড়াও,
অত্যাচারের শৃঙ্খল আজ ছিঁড়ে ফেলো, বিপ্লবী হও!

গর্জে বলো!— “জাগো বিশ্ব মানবতা!”
দহো!— “ভয়হীন স্বাধীনতা!”
শুধু শব্দ নয়, লেখো ইতিহাসের বাণী,
জ্বালাও পথে পথে রক্তে রাঙা বাণী!

বিপ্লবী হও!—ন্যায়ের পথে চলো,
অন্যায় দেখিলে বজ্রের মতো বলো!
বুকে আগুন, হাতে আলো, কণ্ঠে বজ্রধ্বনি—
তুমিই আগামী, তুমিই বিপ্লবী! 

---------------------------------------------

বিদ্রোহী কলম

 

বিদ্রোহী কলম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************

বিদ্রোহী কলম, তুই আজ রণশিঙা বাজা,
অন্ধকার ভেদ করে আগুনের ভাষা সাজা।
লুটেরার রাজত্বে তুই আগুন ফেল,
অবিচার, দাসত্ব, নিপীড়ন, সব পুড়িয়ে গেল।

তাতী, জেলে, কামার, কুমার, কৃষাণ,
তুই তাদের কণ্ঠে দে বিদ্রোহের গান।
ধনী দরিদ্র, উচু নীচু, এক পথে আন,
ধর্ম বর্ণ ভুলে তুই মানবের বান।

ক্ষমতার লেলিহান ত্রাস ভাঙ তুই,
দুর্বল হৃদয়ে আগুন ঢাল, জ্বাল তুই।
যে কবি নীরব, সে আজ অপরাধী,
নীরবতা আজ অমানবিক সাধী।

অধিকার লুণ্ঠিত, তবু তুই চুপ কেন?
নিপীড়ন দেখেও তোর কলম কেন নীরব?
লাল রক্তে ডুবিয়ে তুই লিখ অগ্নি শপথ,
"শোষকের কফিনে দিব শেষ আঘাত।"

মিথ্যা মুখোশ ছিঁড়ে দে বিদ্রোহী শ্লোগান,
মানবতার নামে জ্বাল সত্যের আগুন।
নিরপরাধের কান্নায় তুই লিখ প্রতিশোধ,
ভয়হীন ছন্দে তুল নব বিদ্রোহ।

শাসকের প্রাসাদে আগুন লাগা শব্দ হোক,
অমানবের বুকে ন্যায়বাণী দগ্ধ হোক।
দুর্বলকে শক্তি দে, দুর্জনকে ভয়,
তোর কলমে জ্বালো ন্যায়বিচারের রায়।

রক্তে লেখা তোর প্রতিটি শব্দ আগুন,
তুই কাঁপাস সভ্যতা, তুই বিদ্রোহের ধ্বনি।
মাতৃকার মুখে তুই বজ্রের হাসি,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে চির অনলবাসী।

----------------------------------------------------

পাতি নেতার উৎপাত

 

পাতি নেতার উৎপাত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************

শহর গঞ্জ গ্রামজুড়ে পাতি নেতার রাজ,

অলি গলি পাড়া-মহল্লা—সবখানেই সাজ!
মাইকে চেঁচায় দিনরাত, “আমি জনতার সেবক!”
পেছনে দেখি দখলদার, চাঁদাবাজ, চোরের দেবক! 

চায়ের কাপে সভা বসে, বক্তৃতি হয় ঠাস,
বলে—“দেশটা আমিই চালাই, বাকি সবাই বাঁশ!”
কিশোর গ্যাং পিছে পিছে, উল্লাসে তারা মাত,
চুরি-ছিনতাই-রাহাজানি—সবই পায় পাঠ!

বাজারে গেলে দোকানদার কাঁপে দোতলায়,
বলে—“নেতা আসছে ভাই, টাকা লুকাও তলায়!”
মসজিদের ইমামও ডরায়, মাথায় দেয় সেলাম,
নেতা বলে—“ছবি তুলো! ইনশাআল্লাহ, আমি ইমাম!”

অফিস আদালত নিস্তব্ধ, কাগজ চলে ঘুষে,
যে বলে সত্য, সে পরের দিন যায় কারুশে!
গ্রামে খাস জমি নেই, শহরে দখলখাতা,
পাতি নেতার কৃতিত্বে, আইনও হলো পাতা।

মহল্লার মোড়ে দাদা ভাই, দাড়িয়ে বড় ভঙ্গি,
বলছে—“আমি প্যাডি লিডার, চিনবি না রে, ভঙ্গি!”
বাচ্চারা ভয়ে বলে—“দাদা আসছে, দে রে দৌড়!”
মুরগি হাঁস পর্যন্ত ভাবে—“এই লোকটা বড় ছোঁড়!”

রাতে বাজে পার্টির গান, ফুর্তি চলে ভারি,
ভোটের সময় দরজায় দান, পরে চুরি সাড়ি।
চাঁদাবাজি, দখলবাজি—সবই তার ধর্ম,
মুখে বলে—“মানবসেবা”, ভিতরে ঝড় ঝঞ্ঝা!

শেষে বলে বৃদ্ধ ঠাকুর, পুকুর পাড়ে বসে,
“দেশের নেতা পাতি হলে, জাতটা মরে হেসে!”
তবু আশা একটুখানি—ভালো মানুষ জাগে,
যেদিন সত্য উঠবে জেগে, নেতারা যাবে ভাগে! 

---------------------------------------

কি যুগ এলো ভাই

 কি যুগ এলো ভাই

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

********************************

অপমান–অপদস্ত শহরে, কেউ প্রতিবাদ করে না
শিক্ষক চুপ, শিক্ষিকা ভয়ে মুখ বন্ধ
মুক্তিযোদ্ধা হাঁটে, মাথা নত করে
নেতা হাসে লোভে, নেত্রী চোখে আঁচিল

হুজুর প্রার্থনায়, কেউ প্রতিবাদ করে না
কবি ব্যঙ্গ করে, লেখক চিৎকার করে
ইতিহাস দগ্ধ, ঐতিহ্য নিপতিত পড়ে
ফেসবুকে চিৎকার, কেউ প্রতিবাদ করে না

চাঁদাবাজি, ঘুষ, আদালত বিক্রি চলছে
শিশুর অধিকার নষ্ট, পথের ধুলোয় নিপতিত
গীবত বেড়ে, শত্রুতামি সমাজে ছড়িয়ে
অপমান–অপদস্ত, প্রতিহিংসার খেলা চলছে

শাসকের চোখ বন্ধ, লোভে মগন চিত্ত
মানবতার দীপ নিভে, অশ্রু ঝরে শহরে
শিক্ষক–শিক্ষিকা চুপ, ইতিহাস চুপ থাকে
মুক্তিযোদ্ধা রুখে, নেতা–নেত্রী সাহস রাখে

তবু কেউ উঠে, ব্যঙ্গ করে সমাজে
বল ভাই, কি যুগ এলো, মানুষ ভুলে যায়নি
অপমান–অপদস্ত, কেউ প্রতিবাদ করে না
মানবতার দীপ জ্বলে, সমাজে আশা জাগে

শহরে চুপ, গলি ভয়–শূন্য সাড়া
অপমানের ঢেউ ভাঙে, কেউ নয় সাহসী
হৃদয় দগ্ধ, মুখে নীরবতার আবরণ
তবু সত্যের শিখা জ্বলে, কেউ লজ্জা পায় না

বিদ্রোহী গান বাজে, গলি–শহর ঝাঁকে
মানবতা উঠে, চিৎকার করে, খুঁজে মুক্তি
শাসক তলব, চোখে আঁচিল, বিদ্রোহ জ্বলে
বল ভাই, কি যুগ এলো, বলো, কেউ দাঁড়াও!

---------------------------------------------------------

পাতি নেতার উৎপাত

 পাতি নেতার উৎপাত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

***************************

পাতি নেতা হাঁটে, রাস্তায় ধুলো উড়ায়,
মানুষ ঘরে লুকায়, ভয়ে পোঁকে ছড়ায়।
কিশোর গ্যাং মাঠে লাফায়, ঘাট দখল ছড়ায়,
চুরি ডাকাতি, রাহাজানি—সবই বড় খেলা।

দোকানদার চেঁচায়, “ওহে! টাকা দিতে হবে!”
নেতার হাসি মধুর, ভিতরে বিষ, ছল, ধূর্ত।
চাঁদাবাজি বাড়ে, বাজারে, ঘাটে, রাস্তায়,
অফিস আদালত চুপ, ন্যায় ফাঁদে পড়ে ফাঁদে।

মেয়েরা কান্নায় ভিজে, ছেলে শিখে হিংসা,
পাথরে, রাস্তায়, খেলার মাঠে—তাণ্ডব অবিরাম।
পাতি নেতার পদধ্বনি—ঝাঁঝালো কৌতুক, মানুষ ভীত,
অপমান, অপদস্তি, গরিবের ঘরে হাসি হয় ব্যঙ্গ।

কিশোররা চুরি ডাকাতি শিখে, নাচে নাচায়,
দখলবাজি, চাঁদাবাজি—নিত্য দিনের চমৎকার খেলা।
আইন ফাঁদে, ন্যায় নিভে যায়, সত্য লুকিয়ে থাকে,
নেতার পা রাখে, কেউ বাঁধা দেয় না, হাস্যকর দৃশ্য।

রাতের ছায়ায় গাঁও ভেসে যায় ধোঁয়ায়,
সব আশা ভাঙে, চোখে অশ্রু জমে।
পাতি নেতার উৎপাত—হাসি, লজ্জা, ছল,
তবু হৃদয়ে লুকায় আশা—সত্যের আলো একদিন জ্বলে।

--------------------------------------------------------

মানবিক সংগঠন গড়ো, হে যুবক!

 

মানবিক সংগঠন গড়ো, হে যুবক!

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

**********************************

হে যুবক!
দেখো, সূর্য হাসছে ভোরে,
পাখিরা চেঁচাচ্ছে জঙ্গলে,
তোমারও হাসি হোক মানুষের জন্য।

হাত বাড়াও, চোখ বড় করো,
শত্রুতা নয়, প্রতিহিংসা নয়,
মানবিকতার রঙ ছড়াও চারদিকে।

গ্রামের গলি, নদীর ধারে,
শিশুর কান্না, বৃদ্ধের দুঃখ—
তুমি পৌঁছাও,
ছড়িয়ে দাও তোমার দয়া।

দেখেছো, কুটনামি, গীবত, চোখ রাঙানি?
তাদের নাম মুছে দাও,
হাসি আর ভালোবাসার লেখা দিয়ে।

হে যুবক!
তুমি একা নও,
দু’জন হাত মেলালে নদী হয়,
একটা উদ্যোগ বয়ে যায় সমুদ্র হয়ে।

তোমার সংগঠন হোক বাতিঘর,
যেখানে অন্ধকার থাকে না,
শুধু আশা, শুধু আলো।

উঠো, দাঁড়াও,
প্রতিটি ছোট কাজ আজই শুরু করো।
শিশু, বৃদ্ধ, অসহায়—
সবার জন্য হাত বাড়াও।

মানবিক সংগঠন গড়ো, হে যুবক!
শত্রুতা নয়, হিংসা নয়,
শুধু ভালোবাসা,
শুধু উদারতা,
শুধু একতার ডাকে সাড়া দাও।

পাখি যেমন গায় সকালে,
তুমি তেমনি গান গাও মানবতার।
ছোট ছোট হাসি, ছোট ছোট দয়া,
একদিন বড় নদী হয়ে বইবে সবার হৃদয়ে।

হে যুবক!
আজই শুরু করো,
কাল হবে তুমি দেখবে—
পুরো সমাজ আলোকিত।

---------------------------------------

অর্থপাচার

 

অর্থপাচার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

রাজনীতিবিদ টুপি পরে, বলে—“দেশ আমার মা!”
রাতে ডলার উড়ে যায়—লন্ডন–দুবাই–জা!
দেশে বলে—“জনসেবা!”, বিদেশে সুটবুট তার,
বিবেক ঘুমায়, ব্যাংক জাগে—অর্থপাচার! অর্থপাচার!!

আমলা হাসে ফাইল হাতে—“নিয়ম মেনে সব!”
ঘুষের গন্ধে নীতি মরে, টেবিল কাঁপে রব।
হিসেব মেলে গোপন ঘরে, সিন্দুক খোলে দ্বার,
দেশে আলো, মনে কালো—অর্থপাচার! অর্থপাচার!!

ব্যবসায়ী গায়—“দেশের তরে!”—চালে ফাঁকি ঢাকে,
ট্যাক্সের ছিদ্র, স্বার্থ খেলা, শেয়ারবাজারে ফাঁকে।
“দেশপ্রেম আমার মূলধন”—বলে মুখে হুলস্থূল,
তবু টাকায় মাপে দেশ—বিবেক তার কূলহীন কূল!

পেশাজীবি, নেতা, শিক্ষক—সবাই নীতির জার,
বলে—“দেশ বাঁচাও”—নিজে খায় ঘুষের অমৃতধার!
ছাত্র শেখে, “সত্য কঠিন”, কিন্তু দেখে আর—
সত্য বিক্রি যায় বাজারে—অর্থপাচার! অর্থপাচার!!

বিচারকও ন্যায়ের নামে দেয় রায়ের সাজা,
বিচার ঘুমায় ফাইলখানায়, চোখে ঘোরে তাজা!
আইন বলে, ন্যায় বলে—সবই কথার ভার,
দেশের প্রাণে মরে প্রেম—অর্থপাচার! অর্থপাচার!!

মোল্লা বলে—“ধর্ম রক্ষা কর, মিথ্যে বলিস না!”
তবু সোনার চেইনে জপে সে—“লাভটা কত না?”
দেশপ্রেম এখন কৌতুকময়, মুখে বুলি ভার,
হৃদয়হীন প্রার্থনায়ও—অর্থপাচার! অর্থপাচার!!

-------------------------------------------------------

দুর্নীতির অভিশাপ

 

দুর্নীতির অভিশাপ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*******************************

আমরা বলি মুসলমান, করি নাম আজান,
তবু ঘুষে মিশে গেছে জাতির প্রাণ!
হারাম টাকায় ভরেছে পেট,
ইমান গেছে, বিবেক ফেটে মেট!

হালাল কাজের পথে বাঁধা দেয় মন,
শয়তান হাসে— “ঘুষে হয় সখন!”
কুরআনের বাণী পড়ে সবাই,
কিন্তু কাজে রাখে না তাই!

দুর্নীতি যেমন কালো জ্বালা,
নষ্ট করে জাতির আশা, আলো, ছায়া।
আল্লাহর গজব নামে ঘরে ঘরে,
বরকত হারায় সুখের ভরে।

ফসল ফলায়, তবু ফল শুকায়,
কারখানায় কাজ হয় না সুফলায়।
রাস্তায় দুঃখ, মেঘে অন্ধকার,
কারণ হারাম ছুঁয়েছে সংসার।

জন্ম নেয় শিশু, হারাম দুধে বড়,
তার বুকের দুধে নেই রহমতের তর।
বৃদ্ধ কাঁদে— তরুণ ব্যস্ত পাপে,
বিবেক ঘুমায়— লজ্জা হারায় রাপে!

দুর্নীতির পথে চলে জাতি যখন,
আল্লাহ ফিরিয়ে নেন রহমত তখন।
দোয়া ওঠে, ফেরেশতা বলে—
“তাদের অন্তর অন্ধতায় ঢলে!”

জমিন রুষ্ট হয়, বৃষ্টি হারায়,
ঘরবাড়ি ভাঙে, শান্তি না যায়।
আকাশ চায় না নামাতে দান,
কারণ মাটিতে নেই ইমান!

নেতা হয় লোভী, প্রজা হয় ক্ষুব্ধ,
ন্যায় হারায়, অন্যায় সুখ।
বিচার হয় দামে, দয়া হয় ঠুনকো,
মানবতা মরে— মিথ্যার সিংহাসনে বসে ধূর্ত কো!

ঘুষে গড়া দালান, ঘুষে গড়া সেতু,
প্রতিটি ইটে লেখা— “হারাম রক্তের ঋতু!”
যেখানে মিথ্যা রাজা, সত্য হয় বন্দী,
সেখানে বরকত পায় না কোন সন্ধি!

দুর্নীতি মানে আত্মার ক্ষয়,
দুনিয়া মেলে, আখিরাত ভয়!
কবরের আঁধারে জ্বলে সেই আগুন,
যে খেয়েছিল ঘুষে হারাম মুগ্ধতাসুন!

ফেরেশতা জিজ্ঞেস করবে একদিন—
“হারাম খেয়ে কেমন হলো দিন?”
কেউ বলবে— “ওহে, তখন বুঝিনি”,
কিন্তু আজ আগুনে পোড়াই নিজে!

হে জাতি! ফিরো আজ সত্যের পথে,
তাকওয়ার আলো রাখো অন্তরে!
ঘুষ, চুরি, মিথ্যা ছেড়ে দাও,
আল্লাহর ভয়েই নিজেকে গড়াও!


দুর্নীতির অভিশাপ— জাতির কালো দাগ,
আল্লাহর রহমত ফেরে না ফাঁক!
সততার ফুল ফুটুক নবীন প্রাণে,
বাংলা হোক আল্লাহর বরকতের টানে!

-----------------------------------------------

Wednesday, October 15, 2025

বখাটে ছেলে

 

বখাটে ছেলে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************

চোখে আগুন, ভাঙে সব বাঁধন।
পিতার আদেশকে ভেঙে ফেলে সে।
মায়ের কণ্ঠে বাজে শূন্যর গান।
হঠকারী রাগে ঝরে ক্ষতি, প্রাণ।

দুষ্টুমিতে ভরা প্রতিটি ক্ষণ।
ইগোতে ভরা, অন্যকে দেখেনা সে।
দায়িত্ব এড়ায় চুপচাপ, অলসতা খায়।
মিথ্যা, ছলনা, ব্যবহার—সবই নেশা।

সহানুভূতির ছায়া নেই হৃদয়ে।
সন্ত্রাসীর ধ্বনি, গুন্ডার ছায়া কাঁপে।
চাঁদাবাজি, দখলবাজি, লোভ দমনহীন।
দেশ-চেতনা বিরোধী, আড্ডা বাজে সময়।

নেশা-গ্রস্থ অন্তর, হিংসার অগ্নি জ্বলে।
রাগে, ঘৃণায় ভরা, চিৎকার করে সে।
অন্ধকারে খুঁজে নেয় দুরাচার, লোভ, অধিকার।
অবাধ্য, অশৃঙ্খল, শহর দানবের নূর।

বন্ধু-বান্ধব, পরিবার, সমাজ সব ত্যাগ করে।
নিয়ম-আইন ভেঙে, নিজেই পতিত হয় সে।
নেশা ও দুষ্টুমিতে জীবন ধ্বংস পায়।
সন্ত্রাস, দখল, চাঁদাবাজি—সমাজ কাঁপে তার হাতে।

অন্ধকারে হারায় আত্মার দীপ্তি, জীবন শুন্য।
অবহেলা, শোষণ, ন্যায়ের অভাব তার সঙ্গী।
পিতার আশা ভেঙে যায়, মায়ের স্বপ্ন নষ্ট।
অলসতা ও অবাধ্যতার ফল, পতনের আঁচড় চিহ্নিত।

বিদ্রোহী কণ্ঠে আওয়াজ দাও, প্রতিবাদ করো।
মানবতার পথে ফিরো, মুক্তি আনো সকল।
নিয়ম ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করো সমাজে।
বখাটে ছেলের রাগ, শোষণ, হিংসা—শেষ হোক।

নতুন সকাল আনে আলোর দীপ্তি।
অন্ধকার ছিঁড়ে যায়, সত্যের পতাকা উড়ে।
বিদ্রোহী হৃদয় বলবে, “আর নয় এ কায়দায়।”
মানবতার পথে দাও মুক্তির গান।

-------------------------------------------

রাজনীতির মুনাফিক

 রাজনীতির মুনাফিক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*************************

রাজনীতির মুনাফিক, হাসি মুখোশে বিষ।
দু’মুখী ভঙ্গিতে দেশের চেতনা বিকৃত।
মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে নয়, ইতিহাস বিকৃত।
যোগ্যদের নিপীড়ন, প্রতিভার পথ বন্ধ।

সিন্ডিকেটের আঁধারে খেলে ক্ষমতার লোভ।
প্রচারণা, প্রলোভন দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত।
ভীতি ছড়ায়, মানুষকে দমন করে লুট।
মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে সত্যকে বিকৃত করে।

অর্থ, প্রকল্প, তহবিল — সবই লুট।
প্রক্সি নেটওয়ার্ক, জাল রিপোর্টে ঢেকে।
বিশ্বাসঘাতকতা ছুরি, বন্ধুত্বও ফাঁদ।
বাহিরে ভ্রাতৃত্ব, ভিতরে লোভের আঁধার।

প্রিভিলেজ বিক্রি করে, স্বার্থে ধ্বংস সৃষ্টি।
ভবিষ্যতের দায়বোধ নেই, লোভের তৃষ্ণা।
সত্য-মিথ্যার মিশ্রণে জনমত নিয়ন্ত্রণ করে।
সিন্ডিকেট, ভ্রান্তি, বিশ্বাসঘাতকতা সব মিলিয়ে।

মুক্তিযুদ্ধ চেতনা অমল, দেশপ্রেম জ্বলে।
জনগণ জেগেছে, শোষণ আর হবে না।
মুনাফিকের ছলনা ফেটে যাবে একদিন।
সত্যের আলো অন্ধকারকে বিজয়ী করবে।

--------------------------------------------------

দেশপ্রেমিক নেতার গুণ

 দেশপ্রেমিক নেতার গুণ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

***********************************

দেশের মাটিতে জ্বলে তার নূর,
প্রাণে বাজে মাতৃভূমির তানবীর-সুর।
সত্যের পথে সে কখনো নাহি থমকে,
ন্যায় ও নৈতিকতা তার চিরন্তন দর।

জনগণের কল্যাণে সে ফারজ পালন করে,
অসহায়ের পাশে তার হাত জিরা-ইশর।
দূরদৃষ্টি তার আকিদাহ,
ভবিষ্যতের পথে বুনে দেয় সেতু-ইশর।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমৃদ্ধি—হোক হাদিয়াহ,
জনমুখী নীতি ছড়ায় আল-বারাকাহ।
অহিংসা, ঐক্য—তার আলফা ও বেত,
বৈষম্যের অন্ধকারে জ্বলে তার ন্যায়ের জ্বেত।

সাহস ও দৃঢ়তার প্রতীক সে,
শত্রু যতই হিংস্র, সে অদম্য থাকে।
ক্ষমা ও সহমর্মিতা তার জামাল,
মানবতার পথে তার অনন্ত তাল।

জাতির হৃদয়ে চিরন্তন নক্ষত্র সে,
আলো ছড়ায় দূরে, দুঃখ-অন্ধকারে।
দেশপ্রেমের লালন, ন্যায়ের কবি,
সবার আশা, সবার প্রেরণা—অমর নেতা হকি।

দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা, পরিকল্পনা—তার সাথী,
দেশের স্বার্থে ত্যাগ করতে সে নয় কৌশলী।
শাসন নয় শুধু, বরং সেবা ও ন্যায়ের মন্ত্র,
মানবতার জন্য বাঁধে সে চিরন্তন সেতু।

দেশপ্রেমিক নেতা, জাতির হাকিমতি,
অদম্য সাহস, মানবিকতা—তার অনন্ত নূরশীতি।

----------------------------------------------------

মুসলিম দেশ তবু নৈরাজ্য

 

মুসলিম দেশ তবু নৈরাজ্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************

মসজিদের মিনার ছায়া, কোরআনের আলো—
কিন্তু রাস্তায় চুরি-ডাকাতির আগুন জ্বলছে।
সুদ-ঘুষে বিক্রি হচ্ছে ন্যায়,
ক্ষমতার খেলা ভেঙে দিচ্ছে উম্মাহর আশা।

সন্ত্রাসীর চোখ, গুন্ডামির হাত,
ফ্যাসিবাদের আগুনে রক্তে ভিজছে শহর।
স্বৈরতন্ত্রে দংশিত মানবতা,
মুনাফিকির মুখে দোয়া, অন্তরে বিষ।

বিশ্বাসঘাতকরা হাসে, শপথ ভেঙে,
অধিকার লুণ্ঠিত, স্বাধীনতা চুরির মঞ্চে।
হাসি চুরি, কান্না চুরি, স্বপ্ন ভেঙে যায়,
মুসলিম দেশ তবু নৈরাজ্য, এই চিৎকারে নিস্তেজ।

শাসকের চোখ বন্ধ, তলোয়ার হাতে সৈন্য,
অবিচার ছড়ায়, মানুষের অন্তর কেঁপে ওঠে।
চিৎকারে ভরা শহর, শিশুর কান্না নীরব নয়,
মুসলিম দেশ তবু নৈরাজ্য, সত্যের আলোকে ছাপিয়ে।

দরিদ্র্য আর দুর্নীতি, লোভের আগুন,
শোষণের হাতের তাণ্ডব, মানুষের আশা ছিন্ন।
চুরি-ডাকাতি, সুদ-ঘুষে বিক্রি ন্যায়,
মুসলিম দেশ তবু নৈরাজ্য, কোথায় মুক্তি খোঁজ।

বিদ্রোহী হৃদয় জেগেছে, চিৎকার করে,
সত্যের আলো ছুঁড়ে দেবে মানুষ।
চুরি, দখল, স্বৈরতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ ধ্বংস হবে,
উম্মাহ জেগে উঠবে, ন্যায়ের পতাকা উড়াবে।

মুসলিম দেশ তবু নৈরাজ্য, আমরা আর নীরব নই,
বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে মুক্তির গান গাই।
অন্ধকারে জ্বলবে সত্যের জ্যোতি,
বিদ্রোহী কণ্ঠে মিলবে মুক্তির গান, উম্মাহর নবজাগরণ।

----------------------------------------------

একই শরীরে দুই পৃথিবী

 একই শরীরে দুই পৃথিবী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

**********************************

একই শরীরে রোদ ঝরে, অন্ধকার গর্জে,
হাসি মুখে মধুরতা, অন্তরে লোভের ঝঞ্ঝা বাজে।

প্রেম বলে সে, স্বার্থে পুড়ে অন্তর,
উদারতার পর্দা চোখে, কুৎসার অগ্নি গহর।

মায়ার খেলা ভোরের রোদে ভেসে যায়,
হিংসার ছায়া রাতের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকে।

রক্ত লাল, প্রাণ জ্বলে অগ্নির মতো,
অন্তর কালো, ভয় আর অহংকারে ডুবে।

হাসি মুখে মায়া, কণ্ঠে সঙ্গীত বাজে,
কিন্তু অন্তরে প্রতারণার তীব্র ছায়া থাকে।

দুজনের মাঝে ভালোবাসা, একার মাঝে লোভ,
মানুষ—একই শরীরে দুই পৃথিবীর দাস।

বিদ্রোহী সঙ্গীত বাজে, ক্ষোভ আর আশার মাঝে,
একই বুকে রোদ আর অন্ধকারের দ্বন্দ্বের মাঝে।

দুপুরের আলো ছুঁয়ে যায় রক্তে,
রাত্রির অন্ধকার ভর করে অন্তরের অমাবস্যায়।

প্রেম আর লোভ, আশা আর ভয়,
একই বুকে বিদ্রোহী দ্বন্দ্বের খেলা হয়।

মানুষ—সেই দ্বৈত চরিত্রের রাজা,
রক্ত লাল, অন্তর কালো, জীবন আর অন্ধকারে বেঁচে থাকে।

বিদ্রোহী চিৎকারে ফুঁড়ে ওঠে হৃদয়,
একই শরীরে দুই পৃথিবীর লড়াই, মানুষের গান।

------------------------------------------

“শাসকের চোখ বদ্ধ”

 “শাসকের চোখ বদ্ধ”

কলমে ঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর

****************************************

শাসকের চোখ বদ্ধ, দুনিয়া নিঃশব্দ,

রাষ্ট্রযন্ত্র সব বিকল, ন্যায় আজ চুপচাপ নিগৃহীত।
অফিস আদালত নিস্তব্ধ, ঘুষ ও দুর্নীতির খেলা,
আমি গর্জি—“ইনকিলাব!” বাজুক ন্যায়ের শপথে তুমুল তালে।

হে শাসক! দেখো, মানুষ জেগেছে ঘুমের আড়ালে,
তোমার অন্ধচোখে হবে দয়া, কিন্তু নয় আমাদের ভালে।
নফসের জাল, মিথ্যার সিংহাসন ভেঙে যাবে,
হক–ন্যায় জাগবে, সত্যের দীপ প্রজ্জ্বলিত হবে।


মানবতা আজ হরণ, অধিকার নিস্পেষিত,

স্বাধীনতা লুণ্ঠিত—হয়ত মানবতা আজ নীরব।
পাচার-লুটতরাজ, ঘুষের দৈরাত্ব, পেশীশক্তির ত্রাস,
জালিমেরা হাসে, মুনাফিকি গর্জে, শাসক চোখ বদ্ধ অন্ধকারে।

হে মজলুম! ওঠো, তলোয়ার হাতে চিৎকার করো,
হক–ন্যায়ের দাবানলে আগুন জ্বালাও, দুঃশাসকের বাঁধা ভাঙো।
সত্য ফিরুক, ন্যায়ের বিজয় হোক,
মানবতার রক্তমাখা পতাকা উড়ুক স্বাধীন আকাশে।


মবতন্ত্রের মাতাম, লুটের রাজ্যে মানুষ শ্বাসরুদ্ধ।

গণতন্ত্র ধূলিসাৎ, দেশবিক্রি বিক্রি হয় নগরে,
পরিবারতন্ত্রে মানুষ শৃঙ্খলে, মুক্তি আজ নেই কেউরে।

আমি বিদ্রোহী—তলোয়ার হাতে, আগুন জ্বালিয়ে,
ঘুষ, সুদ, দুর্নীতি, ন্যায্য অধিকার লুটের খেলা পোড়াই।
হক ফিরুক, দেশ হোক মুক্ত —
মানবতার কণ্ঠে বাজুক সত্যের সোনালী ঝঙ্কার।


ঘুষ, সুদ, পেশীশক্তি, দুর্নীতি — সবই জঙ্গলে লুট,

মানুষের জীবন বিক্রি হয়, সত্য দিচ্ছে ঝুক।
মুনাফিকি মাথা উঁচু করে, জালিমের হাসি বজ্রঝঙ্কার,
আমি বিদ্রোহ করি — অন্ধকার ছিন্ন করি, সত্যের দীপ জ্বালাই উদার।

হে শাসক! তোর রাত শেষ, আগুনের দিন শুরু,
হক জাগুক, অধিকার ফিরে আসুক, মানুষের হৃদয়ে নূর ঝরে।
ইনকিলাব! ইনকিলাব!
তোর সিংহাসন ভেঙে দাও, ন্যায়ের প্রভাত জাগাও।


মুক্তিযোদ্ধার রক্তে লেখা পতাকা আজ অপমানিত,

যে লড়েছিল স্বাধীনতার জন্য, সেই বীরের নাম কলঙ্কিত।
হে জাতি! চিৎকার করো, তোরই অধিকার বাঁচাও,
দেশবিক্রির বিপদে তলোয়ার হাতে সত্যকে জাগাও।

শাসক চোখ বদ্ধ রাখুক, তবু নয় মানুষের চেতনা,
ইনকিলাবের আগুন জ্বলে, সত্য ফিরুক জন্মভূমিতে।
হক–ন্যায় পূর্ণ হোক মাটি, মর্যাদা ফিরে পাক,
হে মানুষ! একসাথে লড়, দুর্নীতি ও জুলুমে আঘাত পাক।


আইন আজ জালিমের খেলা, বিচারপতি নিঃশব্দ,

নির্যাতিত মানুষের হক হারায়, সত্যের পেছনে দুঃখ ঝড়।
আমি বিদ্রোহী, তলোয়ার হাতে সত্যের ধার,
জুলুমের মুখে দিই আগুন, ন্যায়ের শিখা জ্বালাই বারবার।

ঘুষ, পেশীশক্তি, নফসের কু-রাজ — সবই ভেঙে দিই,
ইনকিলাবের দাবিতে মানুষকে স্বপ্ন দেখাই।
হক জাগুক, ন্যায়ের বিজয় হোক,
দেশ হোক মুক্ত, মানবতার গান গায় সবত্র।


অজ্ঞানতা আজ দুনিয়ার দাস, জ্ঞান নীরব,

ইলমের দীপ জ্বালে মানুষকে করি স্বতন্ত্র।
হে ছাত্র, হে যুবক! পড়ো, জাগো, লড়ো,
অন্ধকারের শাসককে দেখাও, সত্যকে শক্তি দাও।

ইনকিলাব হবে জ্ঞানের মাধ্যমে,
হক–ন্যায়ের বিজয় হবে শিক্ষার আলোতে।
আমি বিদ্রোহী, তলোয়ার হাতে দাওয়া জ্ঞান,
জুলুমের সিংহাসন ভেঙে দাও, মানুষ হোক স্বাধীন মহান।


দেশবিক্রি, লুট, পাচার — মাটি আজ দাস,

সম্পদ চুরি হয়, মানুষ বঞ্চিত, রাজা হাসে।
আমি বিদ্রোহী, তলোয়ার হাতে বাজি ধরি,
সত্যের আগুনে সব দুর্নীতি, লুটের খেলা ভাঙি।

হক ফিরুক, মানুষের অধিকার হোক নিরাপদ,
দেশ হোক মুক্ত, জাতি হোক স্বাধীন ও অভিজাত।
ইনকিলাব! ইনকিলাব!
এই স্বপ্ন বাস্তব, মানুষকে দাও জাগরণ।



আমি সেই জাতি, যারা ভয় পাই না মৃত্যুর সামনে,
যারা ভালোবাসে সত্যকে, ইমানের রক্তকে।
শাসকের চোখ বদ্ধ হোক, কিন্তু নয় মানুষের চেতনা,
কারণ হক সর্বদা জাগে — আল্লাহর ন্যায়ের শপথে।

উঠো হে যুবক, জাগো হে নারী,
হক ফিরুক, ন্যায় ফিরুক, দেশ হোক মুক্তির খানি।
শাসকের দাসত্ব ভেঙে দাও, জুলুমের খাঁচা ভাঙো,
আল্লাহু আকবার! বলে ন্যায়কে জাগাও।



আমি বিদ্রোহী! আমি ইনকিলাবের দূত!
আমি বলি — হক বাঁচুক, জুলুম মরুক,
এই দেশ ফিরুক আল্লাহর হুকুমে,
মুক্তির জয়ধ্বনি উঠুক — মানবতার নামে!

-----------------------------------------------------



তুমি এখন উগ্র নেতা

 

তুমি এখন উগ্র নেতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

**********************************

আমি গর্জে উঠি আজ —
হে জালিম নেতা! হে ফিতনার বাদশাহ!
তুমি আজ আগুনের সিংহাসনে বসে
মানুষের ইজ্জত লুটে করছো হাসাহাসি!

তুমি বলো— এ দুনিয়া তোমার!
তুমি বলো— ইখতিয়ার তোমার হাতে!
না! আমি বলি,
আল্লাহর জমিনে কারো মালিকানা নাই—
এ জমিন, এ আসমান, এ বাতাস—
জনতার, মজলুমের, বাশারের!

তুমি এখন উগ্র নেতা —
তোমার চাহনি ফনির বিষে ভরা,
তোমার হাতে রক্তে রঞ্জিত পদচিহ্ন।
তুমি যুবকের স্বপ্ন কেটে ফেলো লোহা দিয়ে,
তুমি শিক্ষিতের মুখ বন্ধ করো দাপটে,
তুমি চাঁদাবাজ, দখলবাজ,
তুমি মানবতার ঘাতক — নামধারী রাজা!

আমি বলি— হে ফিরাউন! থামো!
তোমার সিংহাসন ভাঙবে,
তোমার তাজ পড়বে মাটিতে ধূলায়!
তোমার অহংকার ছিঁড়ে ফেলবে আজাদ তরুণ,
তোমার রাজ্যে বাজবে এক সুর — ইঙ্কিলাব!

ইঙ্কিলাব! ইঙ্কিলাব!
উঠো, হে দুনিয়ার মজলুম,
উঠো, হে বন্দি বাশার!
ছিঁড়ে ফেলো শিকল, ভাঙো তসবিহের মতো দাসত্ব!
মানুষের হায়াত মুক্ত হোক,
মানবতার নামে উঠুক নূরানী ঝড়!

আমি দেখেছি — তোমার শাসনের নামে
জ্বলছে মা’র চোখ, পুড়ছে সন্তানের বুক,
আমি শুনেছি— ইমামের আজানেও ভয় ঢেলে দাও,
তুমি রক্তে লিখো আইন!
তুমি আল্লাহর নামে অন্যায়ের দলিল বানাও!

হে উগ্র নেতা! হে ক্ষমতার দানব!
তুমি জানো না — ইতিহাস কারও দাস নয়।
কাল তোমার নাম লেখা হবে কলঙ্কে,
যেমন লেখা ছিল ইয়াজিদের পাশে,
যেমন ঘৃণায় উচ্চারিত হয় নরকের ফিতনা!

আমি বলি—
তুমি যতই আগুন জ্বালাও,
আমরা হবো বৃষ্টির মতো ন্যায়পথে ঝরো,
তোমার দাপটে নয়— আমরা বিশ্বাসে শক্ত!
তুমি যদি গর্জাও, আমরা হবো বজ্রের উত্তর—
আমরা মানবতার সৈনিক, নবীর উম্মত,
ন্যায়ের পক্ষে অগ্নিদীপ্ত আজাদ!

আমি বিদ্রোহী!
আমি দুনিয়ার মজলুমের কণ্ঠ,
আমি রক্তের আগুনে লিখি ন্যায়—
আমি চিৎকার করে বলি:
তুমি এখন উগ্র নেতা —
কিন্তু কাল তুমি ইতিহাসের লাঞ্ছিত নাম!

ইঙ্কিলাব! ইঙ্কিলাব!
হে জালিম! তোর রাজসিংহাসন জ্বলে যাক আগুনে,
মানবতার জয়ধ্বনি উঠুক আকাশে!
তুই হারবি—
কারণ সত্যের সামনে মিথ্যা কোনোদিন টেকে না!

--------------------------------------------------------

তুমি কথা রাখলে না

 তুমি কথা রাখলে না 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর

***************************************

তুমি বলেছিলে —
মানবতার পথে চলবে,
দুঃখীর অশ্রু মুছবে,
অসহায়ের পাশে দাঁড়াবে —
আমি বিশ্বাস করেছিলাম!

তুমি বলেছিলে —
“মানবিক সেবায় আছি, থাকবো সারাজীবন।”
আমি ভেবেছিলাম, এই আলোর পথ
তোমারও আপন হবে।
কিন্তু তুমি পিছু হটলে অশুভ শক্তির ভয়ে!

কেন এমন করলে তুমি?
কে তোমাকে থামালো মানবতার গান থেকে?
কে তোমার হৃদয়ে ঢেলেছিল ভয়,
যে ভয় ভালোবাসাকেও নিঃশেষ করে দিলো?

তুমি বলেছিলে — ভালোবাসো!
ভালোবাসা কি এমন হয়?
যে ভালোবাসা দায়িত্ব থেকে পালায়,
যে প্রেম সেবার হাত ছাড়ে,
সে প্রেম নয় — এক নিঃসহায় ছলনা!

তুমি চলে গেলেও,
কিন্তু মানবিক কাজ থেমে থাকেনি,
মানবিকতার সূর্য আবারও ওঠবে
প্রতিটি সেবার আহ্বানে।

শুধু থেকে গেল এক প্রশ্ন —
তুমি কি সত্যিই মানুষটাকে নয়,
মানবিকতার প্রতীককেই হারালে?

তুমি বলেছিলে কথা রাখবে…
কিন্তু তুমি কথা রাখলে না।
তুমি মিথ্যে বলেছিলে —
ছলনাময়ী এক নারী,
যে হারালো নিজেরই প্রতিশ্রুতি!

তুমি থাকলে না, তবু
মানবিক কাজ চলবে,
প্রেমের নামে প্রতারণা নয় —
এবার মানবতার নামেই জয় হবো আমি। 

------------------------------------

রহমতের বিয়ে

 

রহমতের বিয়ে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

***************************


বিসমিল্লাহ, শুরু করি আজ,
দুই হৃদয় মিলল, আল্লাহর ফযলতাজ।
মহব্বত-এ-হক, বন্ধন-এ-ইমান,
শান্তি ভরে গেছে প্রাণের জান।


ইক্ববাল-এ-মহব্বত, রহমতের বাতিশা,
সাথী-এ-জান, আল্লাহর দোয়ায় রাশা।
সুনন-এ-রাসূল, পথ অনুসরণ করি,
মুহাব্বত-ও-সদকা, দোয়া থাক আল্লাহর ধরি।


শাদী-এ-সাকা, মিলন-এ-ইকবাল,
ধৈর্য ও সাবর, মিলায় জীবন-সালাল।
নবীর ফাহমে, ফখর-এ-আহল,
প্রেম ভরে যাক দুনিয়া ও আখিরাতের কল।


ইক্ববাল-এ-মহব্বত, রহমতের বাতিশা,
সাথী-এ-জান, আল্লাহর দোয়ায় রাশা।
সুনন-এ-রাসূল, পথ অনুসরণ করি,
মুহাব্বত-ও-সদকা, দোয়া থাক আল্লাহর ধরি।


ফারিশতা-এ-রাহমত, নূর-এ-আল্লাহ,
বিবাহের বন্ধনে শান্তির দোয়া।
হৃদয়-এ-মহব্বত, মন-এ-ইমান,
যুগে যুগে বাঁচুক রহমতের আলাপন।

----------------------------------------

Monday, October 13, 2025

অনলাইন জুয়া

 অনলাইন জুয়া 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

************************

হে অনলাইন জুয়া! প্রলয়ংকরী!
নেশার বিভীষণী, লোভিনী, ধনলোভী!
তুমি টান, যুবক-যুবতীকে ভাসাও,
হাহাকার ঘরে, আশা ধ্বংস করো।

অর্থ হারায়, ঋণের ঝড়ে ভেসে যায়,
পরিবার শান্তি, স্তম্ভ নাড়া খায়।
হাসিশূন্য তব তীরে ছায়া,
অশান্তি ঢেউয়ে আসে বেদনা।

লেখাপড়া শুকায়, বইয়ের পাতা স্তব্ধ।
নোটবই বাজে, স্বপ্ন খণ্ডিত হয়।
শ্রেণিকক্ষ আলো নির্বাসিত,
ফল মুছে যায়, ভবিষ্যৎ অন্ধকারে।

যুবকের মেধা ম্লান, যুবতীর স্পৃহা ধ্বংসে,
আত্মসম্মান ক্ষুণ্ণ হয়, আত্মবিশ্বাস কাঁদে ঢেউয়ে।
হতাশার স্রোতে সব ভেসে যায়,
আছড়ে পড়ে নীরবতা — ছায়া অন্ধকারে।

বন্ধুত্বে ফাটল, প্রেমে দ্বন্দ্ব,
অপরাধ, প্রতারণা জন্মায় চুরি।
নিষ্ঠুর লোভে অভিভাবক ক্ষত হয়,
আইনের হাত ধরলে মামলা আসে।

নেশার জালে বাঁধা, সময় ক্ষয়,
পড়াশোনা-কার্য ক্ষুণ্ণ, ক্যারিয়ার ভেঙে যায়।
ডেটা ফাঁস, প্রাইভেসি লঙ্ঘিত,
হ্যাকার শত্রু, তথ্য লুটে নেয়।

ঘর অশান্ত, কান্না নিস্পৃহ,
ভবিষ্যৎ অন্ধকার, ঘরে গুম।
এখনই সজাগ না হলে — পড়াশোনা নষ্ট,
পিতা-মাতার প্রতি অনাচার ঘটবে।

বন্ধুত্ব, প্রেম, সম্পর্ক ভেঙে,
অয়ি — অশান্তি, নিঃশেষ ভবিষ্যৎ।
অয়ি প্রলয়করী ঢেউ! হে জুয়া!
নেতিবাচক নদী, যুবক-যুবতী ভাসাও চিরকাল।

জ্ঞান হরণ করো, আশা কেড়ে নে,
পড়াশোনা জ্বলে, সমান প্রকাশিত।
পারিবারিক স্নেহ বৈর করো না,
অয়ি বিপর্যয়ের জুয়া! অয়ি লোভিনী!

--------------------------------------------

বিপ্লবীর রক্ত

 বিপ্লবীর রক্ত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*********************************

শুনো হে শুনো, বিপ্লবীর রক্ত বৃথা নেই|
প্রবাহিত হয় স্রোতে, ভেসে যায় অন্ধকার সব|
উঠো হে বিশ্বের বিপ্লবী প্রাণ, বলো বিজয় ফুটবে|
পদপথে মিলিবে শাসকের অবনতি, ভাঙুক শৃঙ্খল|

অপমান শিক্ষকের নয় সভ্যতার প্রতিধ্বনি|
নয় স্বাধীনতার প্রতীক, জাগো হে বিপ্লবী প্রাণ|
ঝড় উঠে আকাশে, নদী বয়ে চলে উগ্র স্রোতে|
পাহাড় গর্জে ওঠে, দূরে শোনা যায় বিদ্রোহ ডাক|

ডালপালা দুলে বাতাসে, ঝরনায় ঢেউ ভাঙে তীব্র|
অন্ধকার ভেদ করে আলো, চোখে জ্বলে দীপ্তি, হৃদয়ে আগুন|
পাহাড় নাড়ে দূরে, নদী জেগে ওঠে উজ্জ্বল আলো|
পাখি ডাকে অচেনা সুরে, বিদ্রোহের সঙ্গীত বাজে|

ভাঙে শাসকের চিরাচরিত শৃঙ্খল, জাগো হে বিপ্লবী প্রাণ|
নতুন দিনের আলো ফুটুক, বিজয়ের গান উচ্চশ্বাসে|
চোখে জ্বলে দীপ্তি, হৃদয়ে আগুন ছড়াক প্রখর|
পদপথে মিলুক বিজয়, শাসকের অবনতি দৃঢ়ভাবে|

উঠো হে বিপ্লবী, শিখিয়ে দাও পৃথিবী সাহস|
জাগো হে, জাগো, বন্ধ হয়ে যাক নিপীড়নের ছায়া|
বিপ্লবীর রক্ত লিখে রাখুক ইতিহাসের পাতা অমর|
নতুন সূর্য উদিত হোক, জাগুক স্বাধীনতার আলো!

-------------------------------------------------------

রক্তাক্ত শিক্ষক

 

রক্তাক্ত শিক্ষক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************

চুপ চুপ… ওই ঘরে,
রক্ত ঝরে… ধীরে ধীরে…
চকের দাগে দুঃখ লেখা,
খাতায় জমে ব্যথার নীড়ে।

টুপ… টুপ… পড়ে ক্ষত,
ন্যায় চাওয়া! — যেন অপরাধ!
চোখে বিষাদ… বুকে ক্ষোভ,
মেরুদণ্ডে জ্বলে তিরস্কার।

চাঁদের নিচে… জেগে স্কুল,
আলো ঝরায়… নিঃশব্দ ফুল।
বইখান খুলে মুখে বলে —
“শিক্ষক আজ… রক্তে ভুল!”

ওই শুনো…! পাটাতনে ধ্বনি —
অধিকার চাই!” — হাওয়া বয় বনি।
কেউ শোনে না… কেউ দেখে না,
বিবেক সব… পাথর খনি।

দর্পণে মুখ… সব ঘোলা,
সত্য ঢাকে… কুয়াশা জ্বালা।
বিচারকের চোখে ঘুম,
ন্যায়বিচার… পড়ে বিমূঢ়।

হে সুশীল! তোর মুখ কই?
তুই কি তোর আত্মা… হারাইছস কই?
শিক্ষকের রক্তে লাল হলো পথ,
তবু তুই চুপ… কেন হে নীরব সভ্য সমাজ?

ওই স্কুলঘরে… গন্ধ আসে ঘাম,
আঁচলে মুছে নেয় ব্যথার নাম।
ফ্যাসিবাদের নব রূপে আজ,
লেখা হয়েছে… অন্যায়ের দাম।

চুপ চুপ… ও রাত জাগে,
ন্যায় চায়… কান্না লাগে।
জাতি গড়ার কারিগর কাঁদে,
কেউ আসে না… ন্যায়ের সাধে।

ওই দেখো! মেরুদণ্ড হীন,
চলার পথে… ছায়া চিন।
লজ্জায় কাঁদে… খাতা, কলম,
রক্তে ভিজে — শিক্ষা বন!

-------------------------------------

Sunday, October 12, 2025

দুর্ণীতির মঞ্চ

 দুর্ণীতির মঞ্চ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

***************************

হুমুনিয়া হুমুনিয়া! হাহাকার ভারি,
এইখানেতে লোভ আর ভয় ভারি,
ক্ষমতা মসনদের হাত ধরে
দোতলা কক্ষে ছায়া মিশে চেয়ে।

বাঁক সমুখে, সামনে ঝুঁকে,
স্বার্থের খেলা চুরি আর চাটুকারে ঢুঁকে,
বুক টানে, খাতা খুলে –
লুট, খুন, চাঁদাবাজি, কোপে কোপে খেলা।

সোনার হাড়-বেরুনো খেজুরগুলো
জায়গা করে নিয়েছে ধনীরা,
নাচে তারা গোপনে শহরের কোণে,
লোক দেখলে থমকে যায়, চুপচাপ ঘরে।

জমজমাটে ক্রমে ছায়ার খেলা,
ধোঁয়ায় ঢাকা সব ধন-অন্ধকার,
কোণার আলোয় দেহগুলো ফিরছে
স্বার্থের পাছে, পেছনের দরজা দিয়ে।

দখলবাজ, চোর চাটুকার,
গুম, খুন, লুটতরাজ,
ফ্যাসিবাদ, মববাদ –
দুর্ণীতির মঞ্চে সকলের খেলা।

প্রতিটি নিঃশ্বাসে গন্ধে ভরা,
অন্যায়ের উৎসব, নীরব দর্শক দেখে,
হাহাকার আর হাসি মিশে
মঞ্চে ভেসে ওঠে লোভ ও ক্ষমতার কাহিনী।

------------------------------------------------

আসন্ন বিপ্লবী

 

আসন্ন বিপ্লবী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

*************************************

আসন্ন বিপ্লবী! জাগো, চেতনান্বিত মন,
শোষণের আঁধারে হাসে শাসকের কপট চোখ।
জুলুমের ছায়া ভরে নিঃশ্বাসে ভয়,
তবু হৃদয় জ্বলে, অগ্নি-প্রবাহে।
স্বৈরবের কুঠুরি ভেঙে উঠে উদ্যম,
আসন্ন বিপ্লবী!


জেল-জুলুম, হুলিয়া, দমন-প্রহর,
নিশ্ছিদ্র রাত ভরে আতঙ্কের স্রোত।
তবু লুকোনো নেই উদ্যমের দীপ্তি,
পাথর-পাতা, মাঠ-নদী—শব্দ হয়ে ওঠে প্রতিবাদ।
শোষকের কুঠুরি কাঁপুক,
আসন্ন বিপ্লবী!

রক্তের ঝড়ে ভেজে প্রতিটি পথ,
ধ্বংসের মাঠে জন্মে নতুন প্রতিজ্ঞা।
অসীম আকাঙ্ক্ষা, স্বাধীনতার আহ্বান,
যুবসমাজের তেজে মিশে শক্তির স্রোত।
শোষণের দালাল হাহাকার করুক,
আসন্ন বিপ্লবী!

শৈলের চূড়া, পাহাড়ের বুক, নদীর পাথর,
সবুজ পাতায়, বাতাসে, সূর্যের আলোতে,
নিশ্বাসে নিশ্বাসে জাগে ক্ষোভ ও প্রতিরোধ।
হুলিয়া, জেল, প্রহর—সব বাধা ভেঙে,
নতুন দিনের সূচনা, মুক্তির আলো—
আসন্ন বিপ্লবী!

মোতির ঝলক নয়, রামধনু নয়,
কেবল দমবন্ধ করা চিৎকার,
নির্যাতিতের আহ্বান, উদ্দীপ্ত শক্তি।
প্রতিটি পদক্ষেপে নাড়া দেয় স্বৈরবের স্তম্ভ,
এই ক্ষোভ, এই সাহস, এই তেজ—
আসন্ন বিপ্লবী!

-----------------------------------------

ওহে নূরের কোরআন (গজল)

 ওহে নূরের কোরআন (গজল)

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

****************************************

ওহে নূরের কোরআন আল্লাহর বাণীওয়ালা,

যাঁহার অক্ষরে আছে নূরের উজালা।।

রহমতের বারতা নিয়ে নামিল যিনি আসমানে,
মানবের মুক্তির দিশা দিলেন কুরআনের তানে,
হেদায়েতের পথ দেখায় যে নিভৃতে-নিভালা।।


কালবের দাহনে সান্ত্বনা যে আনে,

অন্ধ হৃদয়েও জ্বালে ঈমানের প্রাণে,
পড়লে মুছে যায় অন্তরের জ্বালা।।


আয়াতে আয়াতে রহমত ধারা বয়ে যায়,

যে পড়ে সে পায় তৌহিদের মহিমায়,
এই কিতাবে লুকায়ে খোদার নিরালা।।


পাপে মগ্ন ধরা যবে তলিয়ে যায় আঁধারে,

কোরআন ডাকে — ফিরো, করো নামাজে সজগ সাবধানে,
আল্লাহর বাণী এই, চির সত্যর তালা।।

---------------------------------------------------------

উঠ রে আজান শুনে (গজল)

 উঠ রে আজান শুনে (গজল)

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

**********************************

ও মন নামাজের তরে উঠ রে আজান শুনে,
তুই প্রভুর দরবারে নত কর মস্তক ভবে গুণে।
তোর পাপের ভার, অন্ধকার পার হোক আলোর দিনে,
ও মন নামাজের তরে উঠ রে আজান শুনে। 

তুই কুরআনের বাণী শুন, হৃদয়ে কর স্থান,
তোর রব ডাকে, ফিরিয়ে নে তুই পথেরই সম্মান।
সেজদাহেতে খুঁজ্ শান্তি রে, হার মানিস না হীনেমনে,
ও মন নামাজের তরে উঠ রে আজান শুনে।

তুই দে যাকাত, তোর ভাইয়ের মুখে দে খুশির হাসি,
যার ঘরে আলো নাই, তারে দে ঈমানের বাতাসি।
তোর মায়ার ঘুম ভাঙ রে আজ, তওবা কর নির্ভয়ে প্রণে,
ও মন নামাজের তরে উঠ রে আজান শুনে।

ও মন ঈমানের আলো জ্বাল রে, ভাস ঈমানের স্রোতে,
মসজিদের মিনারে বাজে তকবিরেরই নোটে।
তুই প্রভুর প্রেমে মিলিয়ে যা রে, সব কষ্ট ভুলে মনে,
ও মন নামাজের তরে উঠ রে আজান শুনে।। 

--------------------------------------------------------------