Monday, November 17, 2025

জাগো জাগো বাঙালি জাগো

 জাগো জাগো বাঙালি জাগো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************************

জাগো জাগো বাঙালি জাগো!
অন্ধকার ভাঙো, চেতনার আগুন জ্বালাও।
দমনের শৃঙ্খল ছিন্ন করো আজই,
মুক্তির দীপ উঁচু করো সর্বত্র বাজাও।

মুক্তিযুদ্ধকে যারা মুছে দিতে চায়,
ষড়যন্ত্র ভাঙো, চিৎকার তুলো তাপে।
রক্তের স্বাক্ষী গর্জাক শোরে,
বাঙালির হৃদয়ে জ্বালো বিদ্রোহের ঢেউ।

মুক্তিযোদ্ধার অপমান সহ্য নয়,
সিংহের মতো দাঁড়াও দৃঢ়ভাবে।
ন্যায়ের তলোয়ার হাতে ধরো,
অপরাধীর মুখে ঢেলে দাও ভয়।

জাতীয় সংগীত চুরি করতে চায় কেউ,
তাদের নীরবতা ভাঙো শোরে।
পতাকা উঁচু করো, গান বাজাও,
স্বাধীনতার রক্তে লেখা সুরে।

বিচারের নামে প্রহসনের মঞ্চ,
সত্যের শিখা উঁচু করো তাপে।
দমন নয়, বিদ্রোহের ঢেউ জ্বালো,
ঘুম ভাঙাও, জাগো বাঙালির দেশে।

উগ্রবাদের অন্ধকার জোয়ার দমাও,
চেতনার ঢেউ তোলো, আগুন জ্বালো।
দেশদ্রোহীর প্রশ্রয়, নীরবতার ছায়া,
চিৎকার করো—“না! ব্যর্থ হবে ষড়যন্ত্র।”

গণতন্ত্রের কবর খোঁড়া হয়েছে,
তবু পতাকা উঁচু করো দৃঢ়ভাবে।
সত্যের দীপ জ্বালাও অমলচঞ্চল,
অন্ধকার সরাও, মুক্তির পথে দাঁড়াও।

ফ্যাসিবাদের শিরে দাঁড়াও,
বিদ্রোহী হৃদয়ে আগুন জ্বালাও।
লুট ও তরাজের লোভী খেলায়,
চেতনার তলোয়ার হাতে ধরো, জাগো, জাগো!

জাগো! জাগো! বাঙালি জাগো!
আকাশে বাজুক বীরের চিৎকার।
পৃথিবীতে নেমে আসুক লড়াই,
দমন নয়—আজকের দিন হোক জাগ্রত।

নীরবতা ভাঙো, স্বাধীনতার গান,
প্রতিটি শ্বাসে জ্বালো বিদ্রোহের ধ্বনি।
রক্তের পতাকা উঁচু করো,
বাঙালির স্বাধীনতা জাগুক সর্বত্র অনন্ত।
-------------------------------------------


১৭-১১-২০২৫

অত্যাচারী শাসক

 অত্যাচারী শাসক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

হে অত্যাচারী শাসক! শুনো—
আসমানের মালিক দেন হুঁশিয়ারি!
জুলুমের মেঘ যত ঘনাও তুমি,
সত্যের বজ্র আসে অগ্নি-ধারি!

ফিরাউনও বলেছিল— “আমি প্রভু!”
তবু স্রোতে ডুবল অহংকার-পর্বত,
কারো সিংহাসন চিরকাল থাকে না—
আল্লাহর নামে মাটিও থরথর কেঁপে ওঠত!

জালেমের ঘর আল্লাহ রাখেন না,
কোরআন বলে— “জালিমদের পরিণাম কঠিন”;
তুমি যতই গড়ো শিকল বন্দী করে,
মুমিনের হৃদয়ে তবু লুকায় আগুন-প্রবীণ!

হে শাসক! ভাবো— যে ক্ষমতা আজ তোমার,
কাল তা হবে মরিচিকা, ধুলোর মতো হালকা;
তোমার প্রতিটি অত্যাচারের হিসাব
লেখা থাকে লওহে মাহফুজে, অক্ষরে অমলকা!

আমি আজ বিদ্রোহী সত্যের ডাকে,
শাসনের মাটিতে জ্বালি ন্যায়ের শিখা;
জুলুম থাকলে আকাশ জ্বলে ওঠে—
আল্লাহর বিচার আসে ধীরে, কিন্তু খুবই দৃঢ়, দৃশ্যদেখা!

উঠে দাঁড়াবে সত্য— ঝড়ে, রোদে, রাত্রে,
জুলুম ভাঙবে একদিন বজ্রেরই গানে;
“সত্য এসেছে, মিথ্যা মুছে গেল”—
এই আয়াতই গর্জে ওঠে মানবতার প্রাণে!

হে অত্যাচারী শাসক! সতর্ক হও—
তোমার সিংহাসন আগুন-খাওয়া ধোঁকা,
জুলুমের পথ ছেড়ে দাও—
নইলে বিচার দিবসে পরবে শিকল, ছুটবে না কোনো নৌকা!

ন্যায়ের সৈনিকেরা ঘুমিয়ে থাকে না—
তারা সত্যের মুহূর্তে বজ্র হয়ে জেগে ওঠে;
জুলুমের রাত যতই লম্বা হোক,
আল্লাহর সুবহে সাদিক ঠিকই ভোর হয়ে প্রতি প্রভাতে ফোটে!
--------------------------------------------------------


১৭-১১-২০২৫

পরের হক নষ্ট করা

 পরের হক নষ্ট করা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************

পরের হক নষ্ট করা—
হে মানুষ! এ জুলুমের তলোয়ার,
এ আগুনের লেলিহান জ্বালা,
এ দোযখের পথেরই প্রথম বিজ্ঞাপনে!
কোরআন গর্জে ওঠে—
“অন্যায় পথে সম্পদ গ্রাস করো না,
ওজনে কম দিও না,
আমানত ফিরিয়ে দাও যার প্রাপ্য!”
বজ্রের মতো ধ্বনি তার—
ন্যায়ের বুকে শাণিত তলোয়ারের ঘা।

হে অত্যাচারী!
পরের প্রাপ্য চুরি করে
তুমি ভাবো বুকে লুকানো ধন?
না! সে ধন তো শয়তানের ফাঁদ,
যা তোমার হৃদয়কে করে রক্তাক্ত,
তোমার কপালে লেখে অন্ধকার বিচার!

আমার গানের ঢেউ আজ উঠুক—
বিদ্রোহের ছন্দে, সন্ত্রস্ত বজ্রের মতো—
পরের হক নষ্ট করা মানেই
মানুষের আত্মাকে হত্যা করা,
আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা!
আর সেই যুদ্ধে তুমি কখনোই জিততে পারবে না—
কারণ সত্যের সৈন্যদল অমর,
ন্যায়ের সেনারা অপরাজেয়!

হে মাপ কম দেওয়া ব্যবসায়ী!
হে ঘুষখোর!
হে জালিয়াতির রাতের ডাকাত!
তোমাদের দিকে কোরআন করে অভিশপ্ত ইশারা—
“তোমরা ধ্বংসপ্রাপ্ত!”
কারণ তোমরা শোষণ করো দুঃখীর ঘাম,
দরিদ্রের রক্ত,
অসহায়ের অশ্রু!
তোমাদের কৃতকর্ম আকাশের বুক ছিঁড়ে
চিৎকার করে বলে—
“জুলুম! জুলুম!”

আমি বিদ্রোহী আজ!
বিদ্রোহী হয়ে কোরআনের বাণী নিয়ে
ঘোষণা করি—
যে অন্যের হক নষ্ট করে,
সে আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত,
সে পৃথিবীর পাপীদের অগ্রনায়ক।
তার ঘর অন্ধকার,
তার পথ মরুভূমি,
তার মনে শত কাঁটার ক্রোধ!

হে মানুষ!
নতুন করে জাগো!
হকের উপর দাঁড়াও,
ন্যায়ের সৈনিক হও।
যার যা প্রাপ্য, ফিরিয়ে দাও দৃপ্ত হাতে।
কারো কান্না যেন না ওঠে তোমার কারণে—
কারণ সেই কান্নার এক ফোঁটা
তোমার কবরকে করে অন্ধকার,
তোমার আমলনামায় ফুটোয় আগুনের গর্ত!

নজরুলীয় বজ্রকণ্ঠে তাই বলি—
হক রক্ষা করো, ন্যায়ের শপথ নাও!
জুলুমের বিরুদ্ধে হও আগুন,
সত্যের পথে হও ঝড়!

পরের হক নষ্ট করো না—
এ আদেশ আল্লাহর,
এ ডাক বিদ্রোহীর,
এ পথ মুক্তির,
এ পথ জয়ের!
-------------------------------------------------


১৭-১১-২০২৫

সাহাবী গাছ

 সাহাবী গাছ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

বালুকার শুকনো বুকে দাঁড়ায় এক গাছ—
হেদায়াতের স্মৃতি ধরে যুগে যুগে রাখ।
তার ছায়ায় বসেছিলো নবীর প্রিয়জন,
ধূলিমাখা মরুতে জেগে উঠেছিলো জীবন।

শুকনো ডালে লুকানো আশীর্বাদের ঢেউ,
বদরের বাতাসে শোনা যেতো সাহসের নেউ।
উহুদের ক্ষতবিক্ষত দিনের সাক্ষী সে—
রোদঝরা মরুর বুকে ছায়ার পরশ যে।

সেদিন যে হাত রাখিলে নবীর সাহাবীরা,
আল্লাহর প্রেমে হৃদয় করেছিলো ধীরা;
ইমানের শপথ বুকে ধারণ করে তারা,
মরুর বুকে অটল ছিলো দীপ্ত এক তারা।

এই গাছ নয় কেবল একটি বৃক্ষ-মূর্তি,
এ যেনো ইতিহাসের পবিত্র স্মৃতিসূর্তি—
যেখানে নবীর কথা মিশে আছে বাতাসে,
আর সাহাবীদের অশ্রু শুকায় নীরব নিশ্বাসে।

বালুর ঢেউয়ের দেশে দাঁড়িয়ে আজও বলে—
“ইমানের আলো ধরে রাখো অন্তরের তলে;
ত্যাগের মহিমা ছাড়া নেই কোনো পথ,
সাহাবীদের জীবন যেন শিক্ষার শপথ।”

হে সাহাবী গাছ! তুমি ইতিহাসের গান,
তোমার ছায়ায় জাগে হৃদয়ে ঈমান;
তুমি সেই আমানত, যা রাখে মনে দাগ—
ইসলামের গৌরবময় অতীতের অটল অনুরাগ।
-----------------------------------------------


১৭-১১-২০২৫

রাজনীতির কৃতদাস

 রাজনীতির কৃতদাস

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************

নিবেদিত কর্মী আজ দল নামে দাস,
নেতার হুকুমে কাঁপে বুকে দম,—জাগে না বিশ্বাস!
মিছিলের ঢেউয়ে ডুবে কোপানো প্রাণ,
তবু চাটুকারীর সুরে বাঁধা থাকে তাদের দান।

তাবেদারির তুর্য বাজে—“হুজুর! হুজুর!” ধ্বনি,
স্বপ্ন ঘুমায় মাটির নিচে—মরে যায় প্রাণের বাণী।
পোস্টার-ব্যানার হাতে তুলে লড়াই করে দিনভর,
ঠোঁট ফাটে, পা কাঁপে—তবু নেতা থাকে অন্তর-সম্রাট ঘর।

চাঁজা-দখল-মাদক সিন্ডিকটে জ্বলে ভয়াল আগুন,
সন্ত্রাসের কুঠার পড়ে গরিবেরই বুকে প্রতিক্ষণ।
বোমার শব্দে আকাশ ভাঙে, ককটেলের অগ্নি-তরঙ্গ,
রাতজাগা শহর কাঁদে—কর্মীর জীবন রক্তরঙ।

জেল-জুলুম-হুলিয়ার বাঁশি বাজে অন্ধকারের পথে,
কর্মীরা সব সহে তবু নেতা হাসে সোনার রথে।
শিক্ষার আলোর পথ তাদের কাছে চিরদিনই বন্ধ,
উচ্চপদে উঠবে তারা?—সে আশা যেন অন্ধ!

নির্বাচনের ময়দানে তাদের নেই অধিকার,
গণতন্ত্রের নাম শুনে হৃদয়ে জমে অশ্রুবার।
যত অপকর্ম—ভারী সব বোঝা কর্মীর কাঁধে,
নেতা শুধু লুটের হরিণ—স্বর্গ বানায় নিজেদের আধে।

নেতার ছেলে-মেয়ে রাজপুত্র—কোথাও নেই সংগ্রামে,
কর্মীর রক্ত ঝরে তবু!—নেতা থাকে রাজার আসনে।
লুটের মদিরা খেয়ে নেতা হাসে, তৃপ্তির হাওয়ায়,
কর্মী শুধু কাঁদে রাত্রি জাগে—চোরাবালির ছায়ায়।

হুকুমই ধর্ম—শিরে বহে তাদের কৃতদাসের শপথ,
মাটি কাঁপে তাদের পদধ্বনিতে—তবু হয় না মুক্ত-রত।
এই কি দেশ? এই কি দল?—এই কি স্বাধীনতার রাগ?
কর্মীরা শুধু কৃতদাস—নেতার হাতে বাঁধা লাগ!

কিন্তু শুনো—বিদ্রোহীর রক্ত এখনো দেহে জাগে,
শেকল ভাঙার সেই ডাকে আগুন জ্বলে বুকে জাগে।
কৃতদাস নয়—মানুষ হবে!–এই হোক নতুন ইতিহাস,
বাংলার মাটি গেয়ে উঠুক—“দাসত্ব ভাঙো! জাগো প্রকাশ!”
------------------------------------------


১৭-১১-২০২৫

Sunday, November 16, 2025

শুব্র রাজকন্যা

 শুব্র রাজকন্যা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

শুব্র রাজকন্যা, নিঃসঙ্গতার পথে হাঁটে,
চাঁদের আলোয় তার কষ্টের ছায়া ভাসে।
স্বপ্নেরা ভেঙে গেছে, প্রাসাদ শুন্য রবে,
হৃদয় অমলিন, দুঃখে বিদ্রোহী তার বাজে।

স্বামী দিল তালাক, শুব্রতার দায় মনে করল,
অপরাধহীন হৃদয়, দুনিয়া ভুল বোঝল।
প্রেম, বন্ধন সব হারিয়ে, শুধু কষ্টের স্রোত বাজে,
হতভাগ্য রাজকন্যা দাঁড়ায়, লড়াই তার কাজে।

মায়ের স্নেহ হারিয়ে, প্রাসাদ শূন্য রাত্রি,
অশ্রু ভরা চোখে স্বপ্নের নদী মাতাল।
শত্রু ও বিশ্বাসঘাতক হাহাকার করে,
হৃদয়ের দীপ জ্বলে, বিদ্রোহী উড়ে বাতাসে বাল।

শুব্রতার দোষ নয়, তবু দুনিয়া অভিযোগ তোলে,
নির্দোষ রাজকন্যা, কষ্টের ছায়া সব হরিলে।
হতভাগ্য হলেও সে জাগে, লড়াই থামায় না,
স্বপ্ন ও আশা ধরে, আগুন হয়ে জ্বলে যায় না।

চিৎকার করো, হে রাজকন্যা, দুনিয়ার অন্ধকারে,
স্বামী, শত্রু, বিশ্বাসঘাতক হোক ভেঙে বিক্ষার।
শুব্রতা অপরাধ নয়, তাই লড়ো নিঃসঙ্গ পথে,
হৃদয়ের আগুন জ্বলে উঠুক, বিজয়ের দীপে।

অশ্রু ঝরে, হৃদয় জ্বলে, তবু থামো না,
হতভাগ্য রাজকন্যা, শক্তিতে দাঁড়াও একা।
শত্রু ভেঙে যাবে, স্বপ্ন হবে অমলিন,
শুব্রতার ছায়া দূর হবে, আলোর পথে জ্বলে প্রণ।

প্রাসাদ শুন্য, রাজপথ নিঃসঙ্গ, আকাশও কাঁদে,
চাঁদের আলো যেনো তার কষ্টের ছায়া সাজে।
স্বপ্নেরা ভেসে যায়, স্মৃতির নদীতে হারায়,
শুব্র রাজকন্যা, তবু লড়াই জানায়।

হতভাগ্য হলেও সে জাগে, বিদ্রোহী শক্তিতে ভরা,
প্রেম, বন্ধন হারালেও, আশা তার অমলিন ঢরা।
শুব্রতার দোষ নেই, দুনিয়া ভুল বোঝে,
রাজকন্যা দাঁড়ায় শক্তি হয়ে, অশ্রু ভাসে।

হৃদয়ের শক্তি, আত্মার দীপ, সবই অস্ত্র তার হাতে,
শত্রু ও দুঃখ ভেঙে দাও, রক্তের ছন্দে বাজে।
চিৎকার করো, ঝাঁপাও, ভাঙো সকল শোকের খাঁজ,
শুব্র রাজকন্যা হবে বিজয়ের প্রাস।

হতভাগ্য হলেও সে জাগে, দুঃখের মাঝে বিদ্রোহী,
স্বপ্ন, আশা, প্রেম সব হারলেও, থাকে দীপ অগোছালো।
শুব্রতার দোষ নেই, পৃথিবী ভুলের খেলা,
রাজকন্যা দাঁড়ায় অমলিন, অশ্রুর ছত্রে বেলা।
-------------------------------------------------------------------------


১৬-১১-২০২৫

ঘাতক শকুন

 ঘাতক শকুন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল িএহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************

হে তরুণ বিপ্লবী, জাগো, জাগো, জাগো,
ঘাতক শকুন চোখ রাখছে লাল সবুজের লগো।
মায়ের মাংস কেটে খাচ্ছে তারা ভয়ঙ্কর সুরে সুরে,
লাল রক্তে লেখা মুক্তির প্রতিজ্ঞা বাজে চারদিকের ধ্বরে।


মীর জাফরের ছায়া ফের ফিরে এসেছে ঘরে,
বিশ্বাসঘাতক, মুনাফিক, ধ্বংস ছড়ায় খোরে।
তুমি যদি থেমে যাও, হেরে যাবে দেশ চিরতরে
লাল সবুজ পতাকা উড়ুক, বাজুক রণের ভোরে।


চোখে চোখ রেখে, চিৎকার করো শকুনের ছায়ায়,
ভয়কে ভেঙে দাও, রক্তে লেখা স্বাধীনতার মায়ায়।
তাদের ধোঁকা, তাদের ছদ্মবেশ, আর বিশ্বাস করো না,
বিদ্রোহের রণক্ষেত্রে দাঁড়াও, স্বদেশ প্রেমের চেতনা।


মুক্তির বাতাস বয়ে চলুক, শকুনের ভয় ভাঙুক,
তোমার রণ, তোমার প্রাণ, অমর হোক প্রতিশোধে।
হাতের শক্তি, হৃদয়ের আগুন, সবই হয়ে অস্ত্র,
শকুনদের ছদ্মবেশ উন্মোচন করো, রক্তে ভাসুক ধ্বনি।


চিৎকার করো, ঝাঁপাও, শকুনের খেলা শেষ করো,
মায়ের রক্ত, দেশের লাল, হবে বিজয়ের মেলো।
তুমি হে তরুণ, হে বিদ্রোহী, চিরন্তন শক্তির নাম,
শকুনের ছায়া শেষ হবে, উড়ুক পতাকা ধ্বনি-ধারায়।

উঠে দাঁড়াও রণক্ষেত্রে, ধ্বংস করো শত্রুর খেলা,
মুক্তির আগুন ছড়িয়ে দাও, বিজয়ের সুরে ভেলা।
লাল-সবুজ পতাকা গর্জে উঠুক বাতাসে,
শকুনেরা পালাবে, তুমি জিতবে রক্তের ধারায়।


হৃদয় দাও, প্রাণ দাও, দেশকে করো মুক্ত,
শকুনেরা ভাঙবে, তুমি জিতবে অমলিন দৃঢ়ত।
চিৎকার করো, ঝাঁপাও, ভাঙো শকুনের খাঁজ,
মায়ের রক্ত, দেশের লাল, হবে বিজয়ের নাজ।

হে তরুণ, হে বিপ্লবী, চিরন্তন আগুন,
শকুনের ছায়া শেষ হবে, স্বাধীনতার আলো ছড়াবে শুন।
মুক্তির পতাকা উড়ুক, রক্তের ছন্দে ধ্বনি বাজুক,
শকুনেরা হারুক, দেশ হোক আজ চিরস্থায়ী আগুন।
-------------------------------------------------


১৬-১১-২০২৫

বৈশাখের কৈ

 বৈশাখের কৈ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজিীপুর
*********************************

বৈশাখের কৈ, ছুটে চলে নদী ধারে,
আকাশে গুড় গুড়, কালো মেঘের চাদরে।
বৃষ্টির স্রোত, ঝরে পড়ে ঝরঝরে,
নাচে কৈ স্বপ্নে, স্বপ্নেরই মধুরারে।

পাহাড়ে সমতলে, উচ্ছ্বাসে ছলছে প্রাণ,
কিন্তু অজানার পথে অপেক্ষা ভয়ঙ্কর ধান।
ঈগল, শৃগাল, মানবদৈত্যের প্রাচীর,
ধীরে ধীরে বন্যা রক্তে রঙিন হবে সীর।

ঝরছে আনন্দ, বৃষ্টির মশোল ধারায়,
কিন্তু মৃত্যুর ফাঁদ লুকিয়ে আছে তার ধরায়
প্রকৃতির ছলনা, আজকের কৌশল খেলা,
তরুণের কৈ মাছের মত, দিশেহারা মেলা।

সম্মুখে স্বাধীনতা বিরোধীর ছায়া,
যা অচেতন, অজানার ভয়ঙ্কর কায়া।
ক্ষণিক উচ্ছাস, তবু বিপদের গান,
জীবনের রথ আটকে যাবে ভয়ঙ্কর যানে।

বৈশাখের কৈ, তোমার নাচ হলো বিদ্রোহী,
বৃষ্টির স্রোতে মেশে তরুণ হৃদয়ের উত্থান-প্রবাহী।
ভবিষ্যতের ফাঁদ, স্বাধীনতার লীলায় ঢেকে,
তবু তোমার ছন্দে বাজে জীবনরাঙা রঙ্গভূমি কণ্ঠে।

নিশি গভীর, স্রোতধারা তীব্র,
তরুণের তলে ঝরে অগ্নি, জ্বলছে বিভ্রান্ত স্বপ্নের টিভ্র।
কিন্তু বিশ্বাস রাখো, কৈয়ের মতোই জীবন ফিরে পাবে মুক্তি,
অন্ধকার ভাঙবে, বৃষ্টি ঝরে, নতুন স্বপ্নের দিগন্তে মুক্তি।
-----------------------------------------


১৬-১১-২০২৫

স্বাধীনতার চিৎকার

 স্বাধীনতার চিৎকার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************

আমি বিপ্লবী! আমি বিদ্রোহী! আমি ভুলতে পারি না স্বাধীনতা,
যে রক্তের নামে জ্বলে উঠেছিলো বাংলা, থেমে গিয়েছিলো মৃত্যুর প্রার্থনা।
হে জাতি! তোমরা কি ভুলে গেছো মুক্তির দাম,
যে ত্যাগে ফুটেছিল প্রভাত, যে আগুনে জ্বলেছিল রুদ্রের জ্যোতিস্নিগ্ধ ধাম।

মুক্তিযোদ্ধার বুকের রক্ত কি আজও তোমাদের ছোঁয় না?
কেন ইতিহাসের আগুন তোমাদের অন্তরে ঝলসে ওঠে না?
কোথায় সেই শপথ, সেই বজ্রকণ্ঠের রণহুংকার,
যে শপথে বাংলার মাটি হয়েছিল স্বাধীনতার জাগ্রত অবতার!

কেন পতাকা ওঠে না গর্বের দীপ্তিতে?
কেন সংগীত বাজে না হৃদয়ের গভীর নন্দিতিতে?
কে ওরা যারা জাতিকে অপমানের অন্ধকারে বেঁধে রাখে?
আর কেন তোমরা নীরব, কেন নিজের আলোকে নিভাতে থাকো?

হে স্বদেশসন্তান, তুমি কি সকলেই ক্লান্ত, নাকি মূক?
জীবন কি আজ শুধু ভয়ের শেকলে বাঁধা দুঃখের দুক?
স্বাধীনতা কাগজ নয়—সে আগুন, সে শপথ, সে জীবনের প্রার্থনা,
সে মাতৃভূমির রক্তে লেখা অনন্ত মুক্তির যজ্ঞধ্বজা।

উঠো! বিদ্রোহের ঝড় তোলো, ভেঙে দাও শৃঙ্খলের বাঁধন,
দুর্নিবৃত্তের অন্ধকার আজও নাম চাই, চাই আগুনের স্বাধন।
আজ যদি চুপ থাকো, ইতিহাস তোমার মুখে থুথু নিক্ষেপ করবে—
বলবে, “যারা স্বাধীনতার শপথ ভুলে গেছে, তারা জাতি হতে পারে না, তারা শুধু ভয়ে মরে।”

গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে দাও গর্জনের রণশঙ্খ,
মুক্তির যোদ্ধাদের রক্ত আজও জীবন্ত, আজও শ্বাসরুদ্ধ চঞ্চলসংক।
প্রতিটি লোম দাঁড়াক, প্রতিটি বুক গর্জে উঠুক দহনধ্বনি,
বলুক—“স্বাধীনতা আমার শ্বাস, আমার রক্ত, আমার চিরন্তন প্রাণভোমরা ধ্বনি!”

যে জাতি ভুলে যায় ইতিহাস, সে জাতি বসে রাতের গভীর খাদে,
ভবিষ্যৎ তার অন্ধকারে ডুবে যায়, চিরকাল থাকে হতভাগ্যে।
আজ না দাঁড়ালে কাল নেই, আজকের শপথই আগামী dawn,
স্বাধীনতার শপথ তোমার বুকেই জাগুক অসীম শান।

কে ওরা যারা পতাকা নামায়?
কারা জাতির গান থামায়?
রুখে দাঁড়াও! আগুন হও! বজ্র হও!
স্বাধীনতার মন্দিরে জ্বেলে দাও নতুন সূর্যের আলো।

চিৎকার করো—
“আমি বিপ্লবী! আমি বিদ্রোহী! আমি ভুলতে পারি না স্বাধীনতা!”
আজ বিদ্রোহই প্রার্থনা, স্বাধীনতাই জীবন,
আজ আমরা বলছি—
“আমি স্বাধীন জাতির সন্তান—আমি আর নীরব নই, আমি বজ্রের মতন!”
----------------------------------------------------


১৬-১১-২০২৫

অপ্রতিরোধ্য ছিনতাই

 অপ্রতিরোধ্য ছিনতাই

কলমেঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

তুমি বজ্র! তুমি ঝঞ্ঝা!—
তুমি আজ জেগে উঠেছ ছিনতাইয়ের অশনি সংকেতে!
স্বাধীন দেশের বুক যখন প্রশ্নে কাঁপে—
তুমিই জাগাও সত্যের রণধ্বনি, অন্ধকারের শেকল ভেঙে!

পথে পথে রক্তচিহ্ন, ছুরির নিচে ভাঙে স্বপ্ন,
অলি-গলিতে কিশোর গ্যাংয়ের উন্মত্ত বিজয়-নৃত্য!
চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই—
যেন দানবের মহাউন্মাদনা!
স্বাধীনতার বুক ছিন্ন করে হাসে অমানুষের ব্যঙ্গনা!

হে বাঙালি!—
যে দেশে রক্ত দিয়ে গড়া হয়েছিল লালসবুজ,
সেই দেশের ভয় ভাঙাবে তুমি—
কারণ তুমিই বিদ্রোহী, তুমিই অগ্নিবাজ, তুমিই বজ্রের ধ্বনির যুগ!

যারা এসেছে নাগরিক অধিকার ছিনিয়ে নিতে,
তুমি তাদের সামনে দাঁড়ালে—
ওরা পিপীলিকার মতো কাঁপবে,
কারণ তুমি বিদ্রোহী আত্মার অগ্নি-তরঙ্গ, ভয়ের নয়, ধ্বংসের দানব!

জাতীয় সংগীত!—
যার প্রতিটি শব্দে ছিল শপথ, ছিল আগুন, ছিল স্বাধীনতার গান,
আজ যদি কেউ তাকে ছিনতাই করতে চায়—
তুমিই হব আকাশভেদী বজ্র-বাণ!
একদিন যার সুরে জেগেছিল সাত কোটি প্রাণ—
সেই সুর আজও ধাপে ধাপে তোমার রক্তে করে আগুনদান।

যারা বাঙালির সংস্কৃতি লুটে নিতে চায়,
অন্ধকারের নেশায় ধ্বংসের পতাকা উড়ায়—
তুমি দাঁড়াও!
কারণ বাঙালির রক্তে দাসত্বের শিকল ভাঙার শক্তি আজও মহাশক্তিময়।

হে বাংলাদেশ!
তোমার ভোরে নতুন সূর্য তুলে ধরবে তোমারই সন্তান—
তুমি সেই সন্তান!
তুমি গর্জে ওঠলে আঁধার ভয়ে ভেঙে পড়ে,
তুমি উঠে দাঁড়ালে অন্যায়ের কাটা বরফ গলে যায় ঝড়ে।

বলো—
“ছিনতাই নয়, চাই অধিকার!
ভয় নয়, চাই জাগরণ!
অবিচার নয়, চাই বজ্র-প্রতিরোধ!”
কারণ তুমি বিদ্রোহীদের রক্তে জন্মেছ—
তোমার স্বরই অন্ধকারের বিরুদ্ধে অগ্নিসংগীত!

তুমি গর্জে উঠো বাঙালি!—
তোমার হাতেই রচিত হবে নতুন ভোর,
মানুষের নিরাপত্তা ছিনতাই করতে এলে
তুমি দাঁতে দাঁত চেপে দেবে বজ্রের কঠোর ঘোর!

অন্ধকার যতই গভীর হোক—
তোমার বিদ্রোহী আত্মা অপ্রতিরোধ্য, অনিবার্য, অপরাজেয়!
ছিনতাইকারীর রাত নিভে যাবে—
আর তোমার হাতেই উঠবে আলোর পতাকা!
কারণ বাংলাদেশ তোমার শক্তিতে গর্জে ওঠে—
তুমি বিদ্রোহী, তুমি অগ্নি, তুমি অনির্বাণ!

-------------------------------------------------------


১৬-১১-২০২৫

Thursday, November 13, 2025

নষ্ট মেধার অভিশাপ

 নষ্ট মেধার অভিশাপ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************************

আমি বলি —
উঠো হে ঘুমন্ত জাতি! জাগো হে মিথ্যার দাস,
মেধার নামে চলছে আজ অজ্ঞানতার সর্বনাশ!
যে ইলম ছিলো নূরের দান, সে হলো আজ ফিতনা,
জালেমের দোলে বাজে গান — শয়তানেরই চিতনা!

স্বাধীনতার নামে যারা গড়েছে শৃঙ্খল-ফাঁদ,
তাদের মুখে “হক” বচন আজ বিষের মতো বাঁধ!
ইলম আজ বন্দী মিথ্যার ঘরে, সত্য কাঁদে রণ,
আক্বল মরে, বিবেক শুয়ে, হাসে ধোঁকার বন!

ওরা বলে — "আমরাই জ্ঞানী!" —
তাদের চোখে পাথর কালো, অন্তর নিস্তেজ প্রাণ,
হিকমতের নামে বিক্রি করে দীন, বিক্রি করে ইমান!
ফিরে এলো নব ফিতনার কাল, ফেরাউনীর চাল,
দেশপ্রেমে ফ্যাসিবাদ, বুকে জ্বলে জালেমের জাল!

আমি বলি —
এই মেধা নয়, এই আগুন নিভিয়ে দে,
এই লজ্জা নয়, এই জাতিকে জাগিয়ে দে!
সত্যের হক্‌ তলোয়ারে ফাটাও মিথ্যার প্রাচীর,
ইলমের জ্যোতিতে দগ্ধ করো বাতিলের তাবির!

ওরে তরুণ! তোর নাম আজ বিদ্রোহী—
তুই মিথ্যার বাঁধন ভাঙিস, তুই হক্‌র দাস!
আল্লাহর কালামে যে আলোর আহ্বান,
তুই সেই বজ্র, তুই সেই নিপাতন-প্রভাত!

তুই গর্জে ওঠ —
“আমি মানুষ! আমি ইমানের জাহান!”
আমি জ্ঞানের সৈনিক, হক্‌ আমার দিশা,
আমি মিথ্যার মুখে ছুঁড়ে দেবো আল্লাহর বিচাররশ্মি আশা!

এই জাতি মরবে না, যতদিন রবে
এক তরুণের বুকেতে সেই তেজের জ্বালা!
নষ্ট মেধার অভিশাপ গলিয়ে দে আজ—
জ্বালো নব ইলমের আলো, হোক হিকমতের জয়ধ্বজা!
-----------------------------------------


১৩-১১-২০২৫

দাস নয়, নেতা হও

 দাস নয়, নেতা হও

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************

দাস নয়, নেতা হও — জাগো রে বীর তরুণ!
তোর রক্তে জ্বালো আগুন, গর্জে তোল গগন-বধূন!
নতমুখে নয়, তোল কণ্ঠে, ত্যাগের বজ্রধ্বনি,
বাঁধন ছিঁড়ে দাঁড়াও তুমি, দেশের গৌরবধনী!

শ্লোগানে নয়, কর্মে চেনা — সত্য নেতার মান,
মিথ্যার সিংহাসন ভেঙে গড়, ন্যায়ের রাজস্থান।
চাঁদাবাজ নয়, দখলবাজ নয়, নেতা করে না লাজ,
সে তো গড়ায় রক্তে ফুল, সে তো আলোর সমাজ!

দাসের মত পিছে ঘুরে নয়, নিজের পথ খুঁজে নে,
নিজের মাটি, নিজের ঘামে স্বপ্নের আলো বুনে নে।
নেতার তরে প্রাণ দিলে, তোরই প্রাণ হয় ধূলি,
ওরা রাজা, তুই গরিব — এ কেমন অবহেলা ভুলি?

তাদের ছেলে মেয়েরা জ্ঞানে জ্বলে, আলোয় মিশে রয়,
তোর সন্তানের হাতে বই নেই, আছে শিকলময়।
তুই মরিস জেলে, তারা হাসে — রাজসভাতে যায়,
তুই চিৎকার করিস “জয় নেতা!”, তারা তোরে ভুলে যায়!

তাই বলি আজ, জাগ তুই ভাই, বাঁধন কেটে ফেল,
ভিক্ষা নয়, অধিকার তোর— বলিস দৃপ্ত স্বর-বেল!
জ্ঞান হোক তোর অস্ত্রধার, ত্যাগ হোক তোর ঢাল,
ন্যায়ের তরে গড় তুই নেতা, মিথ্যাকে কর কাল!

উঠে দাঁড়াও, ওরে তরুণ, গর্জে দে এই গান—
“দাস নয়, নেতা হবো”— এ তোর বীরের প্রাণ!
যে নিজের যোগ্যে নেতৃত্বে গড়ে নতুন ভোর,
সেই তো সত্য নেতার সন্তান, সেই তো জাতির গৌর!
-------------------------------------------


১৩-১১-২০২৫

জীবন একটি দৌড়

 জীবন একটি দৌড়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
জীবন এক দৌড় — জিন্দেগির ময়দানে,
হিম্মতে যারা চলে, জিতে তারা জানে!
তকদিরের লেখায় নয়, লড়ে নেয় জয়,
সংগ্রামেই লুকায় খোদারই হুকুমত ভয়।

রাহের কাঁটা ভেদে চলে আশার রথ,
বিপদে বলে দোআ — “আল্লাহ আছে সাথে যথ।”
চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বাজে ইমানের সুর,
জীবন মানে জিহাদ — নয় কোনো ভীত ভরপুর!

হাসির পেছনে কান্না, কান্নায়ও নূর,
ভালোবাসার আগুনে জ্বলে আত্মার সুর।
মেহনতের ঘামে ভিজে ফুলে আশা-বাগ,
খোদার সন্তুষ্টি তবু পরমই অনুরাগ।

ঘাতের পর প্রতিঘাত, নিয়তিরই খেলা,
তবু মুমিন হাসে — “খোদা রয় আমার বেলা।”
তলওয়ারের ঝলকিতে জ্বলে বিজয় দীপ,
হার মানে না সে প্রাণ, যার অন্তরে নীশান তীব্র।

তাই বলি হে আশিক! হিম্মত হারাস না,
রাহে-হকের পথেই লুকায় জান্নাতখানা।
রক্তে লিখ জয়গান, লহু কর ফুল,
জীবন এক দৌড় — তাও তকদিরের কূল!
-----------------------------------------------


১৩-১১-২০২৫

Wednesday, November 12, 2025

শিক্ষাই আলো

 শিক্ষাই আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************
শিক্ষাই আলো, দীপ জ্বলে অন্তরে,
আল-কোরআনের বাণী মিশে হৃদয়ে ভরে।
“ইকরা বিসমি রব্বিক” জানায় পথের ঠিকানা,
অন্ধকার ভেদ করে মন হয় প্রফুল্ল, প্রজ্জ্বলিত চেতনা।
হাদিসের হাওয়ায় জ্ঞান যেন ফুলে ফোটে,
সদকাতুল ইলমে মন-মাঝে আলো ছড়ায় জীবন তটে।
নূরের সন্ধানে, হক্বের পথে চল,
প্রকৃতির চক্রে মানবতার সঙ্গম তুল।
পাঠশালার দেয়ালে নয়, অন্তরের জানালায়,
তালিমের আলো ছড়াও, সীমাহীন মহিমায়।
ফিলোসফি, দর্শন, বিজ্ঞানের জ্ঞান,
কোরআন-সুন্নাহর আলোয় পাবে সমাধান।
আত্মশুদ্ধি, সংযম, ধৈর্য্য—শিক্ষার রূপ,
জ্ঞানী প্রজন্ম গড়ে, সমাজ হবে অমূল্য ধনুপ।
যার হৃদয় শিক্ষায় উজ্জ্বল, সে অন্ধকারকে দূরে ফেলে,
আলোর পথে হাঁটায়, মানবতাকে সত্যি করে বলে।
শিক্ষাই আলো, দীপ জ্বলে অন্তরে,
আল-কোরআনের বাণী মিশে হৃদয়ে ভরে।
জ্ঞান নয় শুধু শব্দ, নয় শুধু পাঠ,
এ জীবনকে আলোকিত করে, দেয় মন-মাঝে শান্ত পরিপাট।
১২-১১-২০২৫

সেবাই মুক্তি

 সেবাই মুক্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************************

হে ইন্সান, তোর খিদমত হোক দোয়ার মতন প্রাণে,
খোদার পথে চল আজ তুই, মেহরবানি ছড়িয়ে দাও মানে।

নবীর বাণী চিৎকার করে, শুন অন্তরের হদয়ে,
মানব খিদমতই ঈমানের চাবি, অখল ধারায়ে।

মিসকিন মুখে ফোটুক হাসি, করো নিঃস্বার্থ সহায়,
অহংকার ভুলে প্রাণ উজাড়, প্রেমের সুরে ভরায়।

রোজার ক্ষুধা ভুলে দাও, ভাগ করো খয়রাতের জলে,
খোদার রহমত জ্বলে তোর মাঝে, চির শান্তির পরশ খেলে।

মসজিদের মিনার থেকে ডাক, প্রতিধ্বনি করে বাজে,
সেবা করো ভাই ইন্সানের, আল্লাহর পথে সাজে।

নবীর মশাল হাতে নাও, চল যাক তোর জিগর প্রাণে,
হৃদয়ে ভরে দাও মেহর, খিদমত করো মানুষের মানে।

হে ইন্সান, তোর খিদমত হোক খোদার নামে দীপ্ত,
মুক্তির পথে আলো জ্বলে, রহমতের পরশ মিপ্ত।

সেবাই মুক্তি!—সেবাই ঈমান, সেবাই আল্লাহর পথ,
যে সহায় প্রাণ উজাড় করে, তারই জান্নাতের রথ।
--------------------------------------------------------------


১২-১১-২০২৫

ঐক্যই শক্তি

 ঐক্যই শক্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************
বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি গান,
ঐক্যের বাণী দেয় কোরআনের জ্ঞান।
আল্লাহ বলেন—"ওহে মুমিনগণ,
আঁকড়ে ধরো আল্লাহর রজ্জু এক মন।"
ভাঙো না সম্পর্ক, ভুলো না দয়া,
ঐক্যে আছে শক্তি, বিভেদে ক্ষয়।
যে জাতি মিলেমিশে চলে ঈমান ধরে,
আল্লাহ তাতে রহমত বর্ষে নীরে ভরে।
রাসূল (সা.) বলেছিলেন—“মুমিন এক দেহ,
একজন কাঁদিলে অন্যজনও দেহে দেহ।”
যদি এক অঙ্গ ব্যথিত হয় বুকে,
পুরো দেহ জ্বলে ওঠে দুঃখের সুখে।
ঐক্য যেখানে, সেথায় বরকত,
বিচ্ছিন্ন হলে নামে লা’নত।
তাই তো নবী শেখালেন বারেবারে—
“ভাই ভাই হও, কভু না ঝগড়ায় ধারে।”
এক দড়িতে বাঁধা মুক্তার মালা,
তেমনি মিলেমিশে থাকুক ভ্রাতারা সারা।
রঙে, ভাষায়, জাতিতে ভিন্নতা হোক,
কিন্তু হৃদয়ের দোয়া যেন এক রোক।
আল্লাহর পথে সবাই মিলাও হাত,
নাফরমানি নয়—চলো হেদায়াতের রাত।
এক কিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়াও,
এক উম্মাহ হয়ে নামাজে কাঁধ মিলাও।
যে জাতি ঐক্যে থাকে অবিচল,
সে জাতি জিতে নেয় বিজয়ের বল।
আর যে জাতি ভাঙে নিজে নিজে,
সে হারায় শক্তি, ধ্বংস হয় দিশেহারা মিছিলে।
তাই এসো, ভাই আমার, মিলি নব চেতনায়,
ঐক্যের পথে ফিরি আল্লাহর রহমায়।
আমরা এক দেহ, এক হৃদয়, এক প্রাণ,
ঐক্যই শক্তি—এই বাণী হোক জ্ঞান।
-------------------------------------------------
১২-১১-২০২৫

সত্যিকার নেতা

 

সত্যিকার নেতা
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************
নেতা সে নয়, যাঁর কণ্ঠে কেবলই গর্জন,
যে ক্ষমতার নেশায় ভুলে মানবতার আয়োজন।
নেতা সে, যে ভীত নয় সত্য বলায়,
যে ন্যায়ের পথে চলে, আল্লাহর ভয় হৃদয়জুড়ে পায়।
যে শাসন করে সুবিচার, রাখে দীনতার মান,
সে-ই তো নেতা, সে-ই মহান।
যে জনগণের সেবায় রাখে অন্তর উন্মুক্ত,
তার নেতৃত্বে জাগে শান্তি, হয় সমাজ পবিত্র।
নেতা সে নয়, যে চেয়ারে বসে গর্বে উঁচু হয়,
নেতা সে, যে মাটির মানুষ হয়ে সবার পাশে রয়।
যে পরিশ্রমে খুঁজে নেয় জীবনের মান,
যে বিনয় দিয়ে জিতে নেয় সবার প্রাণ।
আল্লাহর ভয় যার অন্তরে দীপ্ত,
যে জানে নেতৃত্ব এক পরীক্ষা, নয় কোনো লিপ্ত।
যে অন্যায়ের পাশে দাঁড়ায় না কখনো,
ন্যায়ের পক্ষে থাকে, হোক বিপদ যতই বড়।
সত্যিকার নেতা — সে আলো, সে পথপ্রদর্শক,
নম্রতায় বিনম্র, তবু ন্যায়েতে দৃঢ়।
জনগণের সুখে শান্ত, দুঃখে ব্যথিত প্রাণ,
সে-ই তো নেতা, সে-ই ঈমানের নিদর্শন মহান।
---------------------------------------------------
১২-১১-২০২৫


Monday, November 10, 2025

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)

 হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

তোমায় পাঠালাম মানবপথে
  আলো হয়ে ভাসো সৃষ্টির বুকে,
অন্ধকারে ডুবা দুনিয়া আজ
  জাগুক তোমার নামের সুখে।
  আমি বলি, “হে প্রিয় নবী,
  তুমি আমার রহমত কবি,”
তোমার মুখে ফুটুক আমার কালাম নিরবধি।

দীর্ঘ যুগের শুষ্ক ধরা
  জল পাবে তোমার আঁখি-ছোঁয়ায়,
পাষাণহৃদয় গলবে সেথা
  দয়া মিশে তব মধুর বাণায়।
  আমি দেখি—তোমার দৃষ্টি,
  মানবতায় অনুপ্রবিষ্টি,
আমার করুণা তোমার শ্বাসে মিশে রয়।

তোমার চরণে রেখেছি আমি
  সত্যের দিশা, ন্যায়ের আলোক,
তোমার বুকে জ্বালিয়েছি আমি
  প্রেমের অমৃত, স্নেহের লোক।
  বলেছি আমি, “তুমি যাও,
  মানব-মনে আলো ছড়াও,”
আমার বাণী তোমার বুকে করুক অনুরণন।

রাত্রি যতই ঘন হোক প্রিয়,
  তোমার নূরেই ভোরের দিশা,
তুমি যে আমার প্রেরিত রহম,
  সৃষ্টির মাঝে দয়া-নিশা।
  জগতে যারা তোমার পথে,
  চলবে নেকের আলোকরথে,
আমি তাদের রাখব তব দোয়ায় অনুক্ষণ।

প্রকৃতির প্রতিটি স্রোতে
  তুমি পৌঁছে দাও আমার বাণী,
শুষ্ক মরুভূমি, নদী, বাতাসে
  সকলেই হোক আমার রহমত শাণী।
  হৃদয় যারা খুঁজে আমার প্রেম,
  তোমার চরণে তারা পাবে ত্রিম্ময় দান,
আমি দেখব তাদের আনন্দে, শান্তিতে সমান।

তোমার মুখে বলি আমি, “প্রিয়,
  সত্যের পথে চলা মানুশরা,”
নিষ্ঠার চিহ্ন তোমার চরণে
  আলোর পথ দেখায় ধীরে ধীরে।
  আমি রাখব তোমাকে আকাশে ও ভূমিতে,
  আমার রহমত তোমার ছায়ায় মিলে,
সত্য ও ন্যায়ের পথে যারা, তাদের পথকে দীপ্ত করি।

তুমি যে আমার প্রেরিত বাতিঘর,
  মানবতার অন্তরে আলো জ্বালো,
ভালোবাসা, দয়া, ন্যায় ও শান্তি
  সকলের হৃদয়ে তুমি ছড়ালো।
  আমি বলি, “হে প্রিয় নবী,
  তুমি চলো পথের প্রদীপ হয়ে,”
মানবতার পথে তুমি চিরকাল আলোকিত হও।
------------------------------------------------------


১০-১১-২০২৫

ইল্লিনের আলো

 ইল্লিনের আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

উচ্চতম আসমান ইল্লিন, নেককারের ঠিকানা,
রুহের শান্তি, আলোর দীপ উজ্জ্বল প্রভাতানা।
যেখানে নেকী লেখা, আমল সংরক্ষিত চিরকাল,
আল্লাহর নৈকট্য, প্রিয় রূহের মধুর মালা।

প্রার্থনা, তওবা, সদকা, নেক কর্মের আলো,
ইল্লিনে মিলিত হয়, হৃদয়ে ভরে আলো।
পাপের ছায়া দূর হয়, সত্যের আলো প্রবাহে,
রুহের উচ্চতম শান্তি, চিরন্তন অনুগ্রহে।

নবী (সা:) বলেছেন, “নেককর্মের স্বর্গীয় স্থান এখানে,
ইল্লিনে লেখা, আল্লাহর প্রিয় ও আশীর্বাদপদ্মা।”
যে চায় হৃদয়ে, দিনে রাতে ধ্যান,
তার নেক আমল, তার দুঃখমুক্ত প্রাণ।

ইল্লিনের আলো ছায়ার মাঝে বিরাজ করে,
আল্লাহর অমিয় অনুগ্রহ, হৃদয় শুদ্ধি জাগরে।
সকল নেককার, রুহের প্রার্থনা একত্রিত,
ইল্লিনে মিলিত হয়, চিরন্তন আনন্দ সীমাহীনিত।

সত্যের পথে যারা চলে, তাদের জন্য আলোকিত,
প্রিয়তম রূহরা সেখানে, নেকী তাদের ভাস্করিত।
ইল্লিনের আলো শিখায়, ঈমানের মহিমা স্পষ্ট,
চিরন্তন শান্তির বসতি, আল্লাহর পবিত্র বন্ধন অম্লান।
----------------------------------------------


১০-১১-২০২৫

শিক্ষকের চোখে অশ্রু

 শিক্ষকের চোখে অশ্রু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************
যে গুরু দিয়েছিল জ্ঞানের দীপ,
আজ সে গুরু কেন ক্ষুধায় নিঃশব্দ নীপ?
রোদে-জলে পোড়ে, চোখে রক্তধারা,
হে রাজা! বলো, এই কি তার কারা?

হে জ্ঞানের সৈনিক, হে জাতির প্রাণ,
তোমার বুকে আজ কেন অপমানের গান?
যে ছাত্রকে গড়েছিলে আলোর মানচিত্র,
সে আজ গুরুর বুকে ফেলে রক্তের চিত্র!

লাঠি, গ্যাস, বুলেট— গুরুর দিকে যায়,
মানবতা কাঁদে, বিবেক থরথরায়,
বইয়ের পাতা ফেলে আজ রক্ত ঝরে,
হে শাসক! জিজ্ঞাসি— এ কেমন ঘোরে?

চকের গন্ধে যে লিখেছিল ভবিষ্যৎ,
আজ তার ঘরে ক্ষুধার নিঃশেষ যুক্ত,
অর্ধহারে সে বাঁচে, চোখে স্বপ্নভঙ্গ,
কেন এই শিক্ষক অপমানে বন্দী সঙ্গ?

ওরে শাসক! শোনো রুদ্রের ডাক,
গুরুর রক্তে জ্বলছে বিপ্লবের ফাঁক,
দাও সম্মান, দাও প্রাপ্য স্থান,
না হলে উঠবে গর্জন— “গুরুই মহিমান!”

রক্তে লেখা হবে শিক্ষা-দেবীর শপথ,
অবহেলায় নয়— আজ মরবে অন্য রথ!
শিক্ষক যদি জাগে, কাঁপবে সিংহাসন,
আলোয় ভাসবে জনতার মনন!

দাও প্রমোশন, দাও প্রাপ্য গ্রেড,
দাও জীবনের প্রণোদনা, ন্যায়ের মেধ,
বিশ্বের তালে শিক্ষক হাঁকুক গর্বে,
"আমিই জাতি গড়ি!" — উচ্চারণ হোক সবে!

আর নয় অবমাননা, আর নয় ক্ষুধা,
শিক্ষকের চোখে আজ জ্বলে আগুন-চিঠি লেখা!
অশ্রু নয় — তা লাল বিপ্লবের রঙ,
জ্বালাও মশাল! ছিন্ন করো বঞ্চনার বন্ধ!

শিক্ষকই আলোর রথী, জাতির শির,
তাঁর অশ্রুতে ডুবে যাক অন্ধ অধীর,
আজ প্রতিটি কণ্ঠে উঠুক এক সুর—
“গুরুর মর্যাদা চাই, চাই এখনই— পুরপুর!”
------------------------------------


১০-১১-২০২৫

Sunday, November 9, 2025

যন্ত্রনাহীন মৃত্যু

 যন্ত্রনাহীন মৃত্যু



যে মুমিন ইখলাসে বাঁচে, নফসের জিহাদে পূর্ণ,
তার মৃত্যু হয় রুহুল-আমিনে, শান্তির পরিপূর্ণ।
ফেরেস্তা আসে তাকে, মুখে হাসি, হৃদয়ে নূর,
জান্নাতের কূলে পৌঁছে, শান্তি দান করে দোর।


কোন যন্ত্রণা নেই তার, রুহ ওঠে সুবাসে,
মৃন্ময় দেহ হাসে তবু, শান্ত ঘুমের আশে।
নবী বলেছেন একদিন, “শাহাদাতের মওত”,
ফুলের মতো নরম তার, নয় কোনো ক্ষত।


হে প্রশান্ত প্রাণ, ফিরে আয় তোমার রবের দিকে,
রাযি আমি তোমাতে, তুমিও সুখে আমার দিকে।
সেই রুহ নেয় ফেরেস্তা, মিসক ও কাফুরে,
সুগন্ধ ছড়ায় জান্নাতে, সিদরাতুল মুনতাহায় নূরে।


নয় কষ্ট, নয় তড়প, নয় নিঃশ্বাস ভার,
তাসবিহের সুরে চলে রুহ, ফেরেস্তার বাহার।
যারা ঈমান আনে, সৎ কাজ করে, হয় মওত মুবারক,
মৃত্যুর বেদনাহীন হয়, চোখে নেমে নূর।


যে মৃত্যুর আগে করে তাওবা নাসুহা,
আল্লাহ দেন তাকে, “আফওয়ান”, মাগফিরার রুহা।
ফেরেস্তারা বলে, “সালামুন আলাইকম”,
তোমরা প্রবেশ করো জান্নাতে, সুখের আলোয় ভাস।


এ মৃত্যু নয় মৃত্যু, এ তো রাহমাতুল্লাহ,
যে আত্মা চলে যায়, পায় জান্নাতুল-ফিরদাউসের ছায়া।
কোন যন্ত্রণা নেই — নবীর আশ্বাসের মতো,
মুমিনের মৃত্যু, আল্লাহর কাছে বিশেষ আভাস।


রাতের অন্ধকারে, যখন ঘুম আসে নরম,
মুমিনের আত্মা চলে যায়, আলোর পথে সবরম।
ফেরেস্তারা পথ দেখায়, ইমান ও দোয়ার আলোয়,
প্রশান্তি মিশে যায়, সকল দুঃখ ভুলে যাওয়।


মৃত্যুহীন মৃত্যু, যেন জান্নাতের সকাল,
শান্তি আর রহমত মিশে যায় রুহের মলয়কাল।
হৃদয়ে থাকে কেবল ভালোবাসা, আল্লাহর নূরে,
প্রশান্ত আত্মা পৌঁছে, পায় চির শান্তির ছায়া ভুরে।


নিশ্চয়, মুমিনের মৃত্যু হয় আনন্দময় দিন,
যেখানে কষ্ট, যন্ত্রণা, নয় কোনো ক্ষিন।
ফেরেস্তারা তাকে নেবে, মিসক ও সিদরের পথ,
রুহের শান্তি পূর্ণ হবে, আল্লাহর অশেষ রহমতের সত্য।


এ যন্ত্রনাহীন মৃত্যু, আধ্যাত্মিক এক অভিজ্ঞান,
যে প্রাণ যাইবে শান্তিতে, পাবে আল্লাহর জান্নাতান।
প্রেম, স্নেহ, শান্তি মিশে যায়, চিরন্তন নূরে,
মুমিনের মৃত্যু হয় বিজয়, নয় কোনো যন্ত্রণার ছায়ে।
-------------------------------------


০৯-১১-২০২৫

ফুলসিরাত

 ফুলসিরাত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

ফুলসিরাত সে পথ, আল্লাহর হেদায়াত ভরা,
পদে পদে জ্বলে ইমান, ভেঙে দেয় পাপের ছায়া সরা।
সদকা, সালাত, রোজা, হজ্জ ভরে অন্তর,
নেকীর নূর ছড়ায়, পথিক পায় মুক্তির ধর।


হৃদয় জাগে ধৈর্যের আলোতে, ইমানের স্পর্শে,
যাকাতের স্রোত বইয়ে দুঃখী পায় সুখের খোঁজে।
শিয়াম, জিকিরে পূর্ণ হয় অন্তরের রহমত,
প্রতি ধাপে আল্লাহর করুণা ভরে অমল ধারা।


শয়তান ফাঁদ ফেলে, ভ্রান্তি ছড়ায় পথে,
কোরআনের বাণী রাখে দৃঢ় বিশ্বাস জীবনে।
নেকীর পদচারণা মুক্তির ধারা বহায়,
আল্লাহর করুণা অন্তরে শান্তি ছড়ায়।

হজ্জের তীর্থে চলা, কাবার ছায়ায় নিশ্বাস,
নেকীর প্রতিটি কাজ দেয় অন্তরকে প্রশ্বাস।
ফুলসিরাত মানে জীবনকে সরল রাখে সত্য পথে,
আল্লাহর নির্দেশে ভরে অন্তরে শান্তি নিরালা।

ফুলসিরাত শেখায় সতর্কতা, পাপের ছায়া দূরে,
নেকীর সঙ্গে মিলিত হয় রাহমত আল্লাহর ভরে।
ধৈর্যশীল পথিক পায় মুক্তি, জান্নাতের নূর,
প্রতি ধাপে রহমত আসে অন্তরে দীপ্তি।

শিয়াম, জিকির, সদকা, নেকীর প্রতিটি কাজ,
প্রতি ধাপে আল্লাহর করুণা ভরে অন্তরের রাজারাজ।
শয়তানের ফাঁদ ভাঙে ধৈর্যশীল পথিক,
ফুলসিরাতের আলোয় পায় মুক্তির দিক।

ফুলসিরাত মানে আত্মার চেতনা, দুনিয়ার বাঁধা ছাড়া,
নেকীর ধারা জ্বলে, কোরআনের নির্দেশে ভরা।
প্রতি পদে সতর্কতা, পাপের অন্ধকার দূর হয়,
পথিক পায় মুক্তি, জান্নাতের ছায়া ভরা।

হৃদয় ভরে যায় ইমান, ধৈর্য ও সৎকর্মে,
শিয়াম, জিকিরে আল্লাহর করুণা ভরে আত্মার ঘর।
ফুলসিরাতের পথিক ধৈর্যশীল ও সত্যপ্রিয়,
প্রতি ধাপে আল্লাহর সাহায্য অন্তরে ছায়া ছড়ায়।

নেকীর ধারা সরল, হেদায়াত ভরা পথে,
শয়তান বিভ্রান্তি ছড়ায় অন্ধকারে ভেঙে।
ফুলসিরাত মানে জীবনকে আলোকিত করা,
প্রতি ধাপে রহমত আসে অন্তরে সুধা ধারা।

রাহে সরল, কোরআনের আলো, নবীর আদেশ সঠিক,
ধৈর্য, সদকা, নেকীর পথে পায় পথিক সুখ।
শিয়াম, জিকির, হজ্জ, ফিতরা অন্তরে ভরে,
প্রতি ধাপে আল্লাহর নূর ছড়ায় অমল ভরে।
-----------------------------------------------------


০৯-১১-২০২৫

হাশরের ময়দান

 হাশরের ময়দান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************

ইসরাফিল বাজায় সুর, কম্পে দুনিয়া থরথর,
সব রূহ নিঃশেষ হয়, স্তব্ধ নিস্তব্ধ ঘর।
আবার সুরে প্রাণ ফিরে, কাঁপে দেহ দিশাহারা,
হাশরের সেই ময়দানে, জমে সব ধরা।

সূর্য নিকটে আসে জ্বলে, আগুন তার শিখা,
মানুষ তখন তপ্ত বুকে, হারায় সব দীক্ষা।
ভয়ে শুকায় জিহ্বা তৃষ্ণায়, কাঁপে দেহ মন,
হায়! সেই দিনের ভয়, বর্ণনাতীত ক্ষণ।

আসমান ছিঁড়ে পড়ে নিচে, কবর উগরে দেয়,
জেগে ওঠে প্রতিজন প্রাণ, আমল হাতে নেয়।
কেউ ডান হাতে নূর পায়, মুখে হাসি খেলে,
কেউ বা বামে অন্ধকারে, জাহান্নামের ফাঁদে মেলে।

খুলে পড়ে আমলনামা, চমকে ওঠে প্রাণ,
বলে মানুষ—“হায় রাব্বি! সবই তো ছিল জ্ঞান!”
মিজানুল আমলে তখন, ওজন হয় কাজ,
ন্যায়ের পাল্লা হেলে পড়ে, আল্লাহ দেন লাজ।

আরশে আজীমে ধ্বনি উঠে—“আজ রাজত্ব কার?”
উত্তর আসে—“আল্লাহ এক, রাজা আপার!”
সিরাতুল মুস্তাকীম সেতু, তলোয়ারের ধার,
বিশ্বাসীরা পার হয় নূরে, কাফের পড়ে পার।

হাওযে কাওসারে নবী দেন, সুশীতল পানীয়,
যে পান করে একবার, হয় না তার তৃষ্ণীয়।
জান্নাতে নূরের বাগান, নদী বইছে ধীর,
জাহান্নামে আগুন ধোঁয়া, চিত্কার ভয়ে গহীর।

শেষে রাহমান ডেকে বলেন—“হে মুমিন আত্মা ফের,
আমার রহমতের ছায়ায়, করো সুখের ভোর।”
আশা রাখো, ওহে মানুষ, তওবা করো আজ,
হাশরের ময়দানে যেন, হয় না লজ্জার সাজ।
------------------------------------------------------


০৯-১১-২০২৫

Zen G অতীত ভুলে যাচ্ছে

 Zen G অতীত ভুলে যাচ্ছে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

শুনো হে শুনো হে জাতি, সময়ের ঘুমন্ত গান,
Zen G আজ ভুলে বসে, অতীতের সম্মান।
বীরের রক্ত, শহীদের হাহাকার —
সব ইতিহাস আজ ধোঁয়ায় হারায়, মোবাইলের পর্দার পার।

যে মাটিতে রক্ত ঝরেছিল, সেই মাটি আজ নিরব,
যে কণ্ঠে ছিল স্বাধীনতার ডাক, আজ সে কণ্ঠ বেহাল সুরের রব।
লাল-সবুজ পতাকা আজও উড়ে গর্বে,
কিন্তু Zen G চেনে না কে দিয়েছিল প্রাণ, কে গিয়েছিল যুদ্ধে।

ভাষার জন্য রক্ত ঝরেছে, ওরা জানে না ভাষার মানে,
২১শে ফেব্রুয়ারি কেবল ছুটি, উৎসব নয় প্রাণের টানে।
স্বাধীনতা দিবস আসে যায়, সাজে শুধু রঙিন পোস্ট,
বিজয় দিবস মানে আজ কেবল ফেসবুকের এক "হ্যাশট্যাগ পোস্ট"।

গণতন্ত্র, ভোটাধিকার — শব্দগুলো শুনে হাসে,
ইতিহাসের বইতে ঘুমিয়ে পড়ে, জ্ঞানের আলো নিভে আসে।
স্বৈরতন্ত্র, বীরত্ব, মুক্তির জয়গান —
সব আজ ওদের কাছে পুরোনো রূপকথা, হারানো সন্ধান।

কেউ শেখায়নি তাদের কাদের রক্তে এ দেশ জেগেছিল প্রাণে,
কেউ বলেনি কে মীরজাফর, কে ছুরি চালায় বিশ্বাসের টানে।
রাজনীতিবিদেরা ভুলে গেছে শিক্ষা, ইতিহাসবিদেরা নিঃশব্দ,
তাই আজ Zen G ছুটে চলে অন্ধপথে, অন্ধকারে দৃঢ় পদ।

দেশপ্রেম আজ ম্লান হয়ে গেছে, মাদক আর লোভে ঢেকে,
চাঁদাবাজি, টেন্ডার যুদ্ধ, নৈতিকতা গেছে মরে কবে থেকে।
স্কুল ফেলে, কলেজ ছেড়ে, হাতে শুধু ফোনের আলো,
ভবঘুরে এক প্রজন্ম জন্ম নিচ্ছে — নেই গন্তব্য, নেই ভালো।

বরণ্যদের মর্যাদা মুছে গেছে, বীরদের নাম নেই ঠোঁটে,
কবি, শিক্ষক, শহীদের কণ্ঠ আজ ডুবে যায় গোপন নোটে।
Zen G ভুলে গেছে মাতৃকার বেদনা, ভুলে গেছে সোনার দেশ,
ভালোবাসার স্থলে বসেছে লোভ, আর স্বার্থের শেষ নেই শেষ।

ওহে জাতি, জাগো আবার, ইতিহাসের জ্বালাও দীপ,
Zen G-কে শেখাও কে আমরা, কেন রক্ত দিয়েছি নিঃশব্দে চুপ।
গৌরব ফিরুক অতীতের, নতুনে জ্বলুক সেই শপথ —
যে শপথে জন্ম নিয়েছিল এক স্বাধীনতা, এক মাতৃভূমির সত্য।
-------------------------------------------------------------------


০৯-১১-২০২৫

জাহানরা আজ কাঁদে

 জাহানরা আজ কাঁদে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************

জাহানরা আজ কাঁদে, আকাশ আজ নীরব,
মানবতা মরে গেছে— হৃদয় আজ সিরব!
নররূপে ঘুরে বেড়ায় পিশাচ বীভৎস,
নারী আজ বন্দী, স্বাধীনতা ক্ষতবিক্ষত!

পথে ঘাটে, বাসে, লঞ্চে, অফিস আদালতে,
লালসার নখে রক্ত ঝরে প্রতিক্ষণে মাততে!
শিক্ষালয়ে নষ্ট শিক্ষক দাঁড়ায় হায়েনা হয়ে,
মায়ের মুখে শাপ উঠে— “মানুষ কেন মরে যায় না সয়ে!”

নারীর চোখে কান্না, ভয়ে কাঁপে প্রাণ,
যে হাসত একদিন, সে আজ লজ্জার দান।
পথের বাতিতে ঝুলে তার আর্তনাদ,
“বাঁচাও আমায়, ওরে আল্লাহ! কোথায় তোর বাদ?”

অভিযোগ তো ওঠে, হয় তদন্ত রোজ,
তবু বিচার আসে না— লজ্জা যেন লোহ রোজ!
ফাইলের স্তূপে ঢেকে যায় নারী জীবনের কাহন,
লালসার দানব হাসে— “এই তো মানব আইন!”

ওরে সমাজ! তোর চোখে ধুলো কে দিল?
নারীর অশ্রুতে ভিজে তবু বিবেক মরে গেল!
যে নারী তোর জননী, বোন, তোর ঘরের আলো,
তাকে তুই দিলি অপমান, তুই মানুষ ভালো?

ওরে দোষী, তুই কাপুরুষ, তুই অভিশপ্ত দানব,
তোর রক্তে আগুন জ্বলুক, তোর ঘরে হোক রাব্বি রব!
নারীর অশ্রু আগুন হবে, পুড়বে তোর নরক চুলা,
তোর পরিণতি লিখা আছে— বিচার আসছে তুলা!

জাহানরার কান্না আজ জাতির কলঙ্ক,
তার অশ্রুতে ধুয়ে যাক অন্যায়, হোক দণ্ড অমলঙ্ক!
নারী আর নীরব নয়— নারী এখন আগুন,
তাঁর চোখে ঝলসে যাবে, পিশাচ, তোর জীবন রঙিন বাগুন!

গর্জে উঠুক নারী, উঠুক মানবতার দল,
“নারী মানেই মর্যাদা”— এ স্লোগানে জ্বলুক বল!
যে নারী দেয় জীবন, সে অপমান পায় কেন?
জাহানরার কান্নায় আজ— কাঁদে গো বিশ্ব ভুবন!

জাগো হে শাসক! তোর ঘুম আজ পাপ!
নারীর অশ্রুতে জ্বলছে দেশ, মাটি, আকাশ, শাপ!
কেন তুই চুপ? কেন তোর রক্তে বরফ?
জাহানরার চোখে দেখ, আগুনের তরফ!
------------------------------------------------------------------


০৯-১১-২০২৫

টাকার তাজে মুকুট

 টাকার তাজে মুকুট

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

কি জমানা এলো ভাই, আজ বড়োই বিস্ময়,
শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-গরিমা গেছে হারিয়ে কোথায়?
যে পেত সম্মান জ্ঞানে, যেই করত প্রভা দান,
সে আজ কোণে পড়ে নিঃশব্দ, নত শিরে অবমান।

টাকাই আজ রাজা, ক্ষমতাই বিধান,
মানুষ নয়, মানদণ্ড আজ পয়সার পরিমাণ।
যে যত ধনী, সে তত মহান,
ফুলের মালা, দাওয়াত, সম্ভাষণ, জয়ধ্বনি তারই গান।

কোথায় গেল সেই গুণী, বিনয়ী জন,
যে আলো দিত সমাজে, করত সুশিক্ষার বরণ।
আজ অশিক্ষিত ভণ্ড, চাঁদাবাজ সন্ত্রাসি,
মঞ্চে উঠে অতিথি, মাথায় তার ফিতে বাঁধা হাসি!

রাজনীতি, ওয়াজ-মাহফিল, সমাজের আয়োজন,
সবখানে আজ অর্থেরই একচ্ছত্র রাজত্বের জয়ধ্বনন।
যে নেই ভদ্রতা, যার নেই নৈতিক মান,
তাকেই বলে “সম্মানিত অতিথি”, করে স্তুতির গান।

জ্ঞানীরা নীরব, মুখে যেন তালা,
টাকায় কেনা যায় সম্মান, বিক্রি হয় ভালো-মন্দের পালা।
এই যদি চলে, এই যদি হয় পথ,
তবে সমাজ হারাবে জ্যোতি, নামবে অন্ধকারের রথ।

হে মানব, জাগো তুমি, ভাঙো এই ধারা,
সম্মান দাও যোগ্যকে, ফিরাও সত্য সারা।
জ্ঞান, নীতি, চরিত্রে হোক সমাজের মান,
অর্থ নয়, গুণই হোক মানুষের আসল পরিচয় ও প্রাণ।
---------------------------------------------------------


০৯-১১-২০২৫

Thursday, November 6, 2025

ফেরেস্তা

 ফেরেস্তা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

ফেরেস্তা আসমানে, আল্লাহর আদেশ সঙ্গী,
নির্ভীক তারা চলা, সৎ পথে চিরন্তন রঙ্গী।
রাত্রি-দিনে সেবা, শান্তি ছড়ায় তারা,
ভয় ও শ্রদ্ধায় ভরে, হৃদয় যেন মধুর আঁধার ভাঙা।

কোরআনে এসেছে, “মালাএকাতু” নামে পরিচয়,
যারা আদেশ মেনে চলে, ভুলের নেই কোনো ভয়।
শাস্তি দেয় যখন, নিখুঁত ন্যায় আর সততা,
রহমত দেয় যখন, ভরে হৃদয় আনন্দময়তা।

মৃত্যুর মুহূর্তে আসে, জীবনশেষের পথে,
ফেরেস্তা থাকে পাশে, আল্লাহর হুকুমে যথার্থ ছায়া ছড়ে।
হাদিসে বর্ণিত, তারা সত্য ও রহমতের বাহক,
মানুষকে শান্তি দেয়, অপরাধে হয় শাস্তির পাথক।

মানুষের পাশে আসে, অদৃশ্য রূপে চুপিচুপি,
রহমত বয়ে আনে, শাস্তি দেয় যখন অপরাধী।
তাদের কাজ নিঃস্বার্থ, লোভ নয় কখনো,
শুধু আল্লাহর আদেশে, সৎ পথে তারা চিরন্তন অমলময়ো।

আল্লাহর রহমত, তাদের হাতে জ্বলে,
ভয় ও শ্রদ্ধার মিশ্রণে হৃদয় ছুঁয়ে যায় ঢলে।
অলস নয় তারা, কখনো মন্দের সঙ্গে নয়,
সৎ কাজ ও সাহসে পূর্ণ, তাদের চিরন্তন ফয়সালয়।

ফেরেস্তার ছায়া আসে, জীবন-যাত্রা সঙ্গী,
আল্লাহর পথে তারা দ্যুতি, শান্তির অমূল্য রঙ্গী।
কোরআন হাদিসে বর্ণিত, এই বাহিনীর মহিমা,
আল্লাহর আদেশে স্থির, হৃদয় হয় তাদের কাছে মমিমা।

ফেরেস্তার আলোয় ভরে জীবনের প্রতিটি ছায়া,
আসুক সেই দিন, শান্তি ছড়াক, হৃদয় হোক আলোর মায়া।
---------------------------------------------


০৬-১১-২০২৫

শয়তান

 শয়তান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

শয়তান তো এক শত্রু, মনের অন্ধকার,
আল্লাহর পথে বাঁধা, কলঙ্কের আগুনের ধার।
মোজেসের আগে থেকে, ছিল সে বিপথগামী,
মানুষের হিতের শত্রু, পাপে ডুবে থাকায় রাহী।

আল্লাহর আদেশে, সেজদা সে করল না,
গর্বে ভরা মন, আল্লাহর বিরুদ্ধতা।
অদৃশ্য এই শয়তান, দেখায় পাপের পথ,
কুরআন আর হাদিসে, চিহ্নিত তার অন্তর্ভুক্ত।

বলেছে আল্লাহ, "শয়তান তোমাদের শত্রু,
তাকে শত্রু জানো, এ পথেই যাও না ভুল।"
তার মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে ফেলে সত্য,
সিদ্ধান্ত নেয় যারা, শয়তানই তাদের মিত্র।

হাদিসে বলেন নবী, "এ চিহ্নিত শত্রু,
যার কর্ম সকল পাপের, তাকে পরিহার করো।”
সে পথ হারায়, আর দুষ্টুমিতে পরে,
আল্লাহর রহমত থেকে, সে নিঃশেষ হয়ে যায়।

মনে রেখো, আল্লাহর ফেরেশতারা পাহারা দেয়,
শয়তান কেবল ঘুরে, যে অন্ধকারে চলে যায়।
ধৈর্য ধরো, আল্লাহর পথেই হেঁটো,
শয়তান সবসময়ই, তোমাদের পথের মঞ্চের নয়।
------------------------------------------------------


০৬-১১-২০২৫

পরকিয়ার অভিশাপ

 পরকিয়ার অভিশাপ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************************

ওহে মানব, শুনো হে শুনো, পরকিয়া হারাম,
ঝুলছে ফাঁদে জীবন, জ্বলছে সংসারের ধাম।
কোরআন বলে, “নৈকট্য যেও না ব্যভিচারের,”
সে পথ অন্ধকার, জাহান্নামের আগুনের।

হাদিসে নবী বললেন, "লজ্জা ঈমানের অর্ধেক,"
যে হারায় তা, পায় শয়তানের অমোঘ লেক।
বাংলার গাঁয়ে ঘরে ঘরে কান্নার ধ্বনি বাজে,
ভালোবাসার নামে মানুষ ডুবে পাপে সাজে।

তালাকের শব্দে কেঁপে ওঠে নীরব রাত,
চুপচাপ কাঁদে স্ত্রী, ভাঙে সংসার, নিঃশেষ প্রভাত।
বিচ্ছেদের কাগজে শুকায় প্রেমের রঙিন ফুল,
পরকিয়ার ছোঁয়ায় হয় জীবন অচেনা ভুল।

সন্তান এতিম হয়ে ঘুরে, বলে, “আমার মা কোথায়?”
বাবা মায়ের ছায়া পায় না, দুঃখে বুক ফাটায়।
বিদ্যালয়ের মাঠে হাসি হয় মলিন,
ভালোবাসার নামে কষ্টের হয় বিলীন।

লজ্জায় ঝুঁকে পড়ে মুখ, সমাজ করে তিরস্কার,
বংশের সম্মান মাটিতে মিশে যায়, হয় লজ্জার ভার।
কেউ সহে না অপমান, কেউ ঝাঁপ দেয় মৃত্যুর ছায়ায়,
আত্মহত্যার খবর ছড়ায়, কান্না ওঠে নিঃশেষ মায়ায়।

বিচ্ছিন্ন নারী পুরুষ হয়, শূন্য ঘরে ধ্বংসের গান,
ভালোবাসার নামে মিথ্যা, তাতে শয়তানের টান।
রাতের ঘুম হারায়, স্বপ্ন হয় বিষাক্ত আগুন,
পরকিয়ার পথে সুখ নয়, শুধু পাপের ধ্বংস ধুন।

কবরেও শান্তি নেই, শাস্তি ভয়ংকর ভার,
আগুনে জ্বলে আত্মা, চিরন্তন ধ্বংসের পার।
আল্লাহর রোষে ভীত পৃথিবী, আকাশ গর্জে ওঠে,
হারাম প্রেমে লিপ্ত প্রাণ জ্বলে জাহান্নামের গহ্বরে।

ফিরে চলো মানব, তওবা করো হৃদয়ের আলোয়,
রক্ষা করো ঘর-সংসার, চলো ঈমানের পালোয়।
পরকিয়া ছায়া ত্যাগ করো, ধরো আল্লাহর দীন,
পবিত্র প্রেমেই লুকায় সত্য সুখের দিন।
--------------------------------------------------------


০৬-১১-২০২৫

মসজিদের চাষাবাদ

 মসজিদের চাষাবাদ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

মাটি নয়, নয় ধান-ভূমি, নয় শস্যের ডালি,
মসজিদ হল বীজ বোনার, আল্লাহর দিকনির্দেশের কালি।

হাতের কাজ নয়, পায়ে শস্য বোনার নয় ধান,
হৃদয় সেচে দাও নেকি, করো সালাত ও ইমান।

সদকা, জাকাত, নফল, তওবা – এ বীজেরা,
মসজিদের জমিতে জন্মাবে নেকির চারা।

জুমার দিনে ভিড় নয় কেবল নামাজের সাজ,
ভালো কাজের বীজ বোনো, করো পাপমুক্তির আসাজ।

মসজিদ চাষাবাদে, লাভ হয় আখিরাতের ধন,
মৃত্যুর পরও ফসল দেয়, করিম আল্লাহর অনুগ্রহজন।

দোয়ার সেচে গড়ে ওঠে মন ও সমাজের ফুল,
নৈকট্য আল্লাহর কাছে, থাকে হৃদয়ে সূর্য ঢুল।

মসজিদের চাষে শুধু পুঁজি নয়, নয় ধন,
নেতৃত্ব, ন্যায়, প্রেম ও শান্তি বোনো, হোক সকলের মন।

যে চাষী হয় ধৈর্য, ভক্তি ও নেকি মিলে,
ফসল হয় নাজাতের, আল্লাহর কাছে হবে কিলে।

সুতরাং মসজিদের চাষাবাদ, বুঝো এই সহজ কথা,
নেকি বোনো, দোয়া দাও, জীবনে করো সৎতা।
-----------------------------------------------------


০৬-১১-২০২৫

প্রতিবেশীর হক

 প্রতিবেশীর হক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

প্রতিবেশীর প্রতি দয়া করো, হৃদয় হোক খিরাতে ভরা,
সন্তান-বৃদ্ধ-দরিদ্র সবাই পায় আল্লাহর রহমতে সরা।

সৎকর্মে আল্লাহ বলেছেন, দাও নিকটতমকে সেবা,
প্রতিবেশীর দুঃখ ভাগ করো, দাও মধুর হাম্মতেবা।

যে হাসি দেয় সাহায্য করে, সে পায় আকাশের নূর,
হাদিসে বলা, সদা নেক হোন, ছড়াও মমতার সুর।

চোখে চোখ রাখো সদয়, মন দিয়ে দাও মেহেরবানী,
যে দুঃখে ভরা, তাকে দাও সহায়তার উষ্ণ হানী।

নিন্দা নয়, বিরোধ নয়, হোক হৃদয়ে ভ্রাতৃত্ব,
প্রতিবেশীর শান্তি রক্ষা করো, আল্লাহর আনন্দ প্রীতি।

যে দরজা খোলা, সে বাড়ি আল্লাহর কাছে উঁচু,
প্রতিবেশীর জন্য জীবন হোক সত্য ও ন্যায়ের ছুঁচু।

চলমান ভালোবাসায় দাও হাসির উষ্ণ ছোঁয়া,
প্রতিবেশীর দুঃখ ভাগ করো, রাখো হৃদয়ে ভালো ধোঁয়া।

যে সাহায্য চায়, বিনা বিনিময়ে দাও আনন্দের ধারা,
প্রতিবেশীর হক রক্ষা করো, আল্লাহর রহমত ছড়ায় পারা।

প্রতিবেশীর প্রতি সদয় মন হোক ধ্রুবক তারা,
যেন আকাশের নীলা, আলোর ছায়া ভরে ঘর ভরা।

চোখে চোখে হাসি, কথায় সদয় মধুর গান,
প্রতিবেশীর জন্য থাকুক সর্বদা শুভকামনার মান।

প্রতিবেশীর হক রক্ষা করো, মানো আল্লাহর আদেশ,
যেখানে ভালোবাসা, সেখানে নেই কোনো ভ্রান্তি-বেশ।
----------------------------------------------


০৬-১১-২০২৫

হকের বণ্টন

 হকের বণ্টন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

আল্লাহই মালিক সমস্ত, মানুষ শুধু মাসুলিয়াত,
তাঁর দেওয়া শারিয়াহ মানো, ভুলে যেও না হায়াত।
পিতা-মাতা রেখে যাওয়া, ভাই-বোন, সন্তান,
সবার আছে হক্ক, রাখো সদা ন্যায়ের মান।

সূরা নিসা’য় বাণী আছে, স্পষ্ট যেমন কথা,
পুরুষ যেমন পায় ভাগ, নারীরও অধিকার যথা।
অন্যায় যদি করো, হারাবে মালিকিয়াহ,
বরকত চলে যাবে দূরে, হারাবে সাকুন সাগরিয়া।

বোনের হক মারিলে, ভাই তুই নিঃস্ব হবি,
আল্লাহর আজাব নেমে, হৃদয় হবে দগ্ধ ও রাব্বি।
যে দেয় মিথ্যা দলিল, চুরি করে হক্ক,
সে কিয়ামতের মাঠে পাবে শোক, দুঃখের ঢক্ক।

ন্যায়ের বণ্টন করো, রাখো আল্লাহর ভয়,
অন্যের অধিকার দিলে, সুখে থাকবে হৃদয়।
যে রাখে হকদারের হক, সে আল্লাহর প্রিয়,
তার ঘরে বরকত নামে, রাহমতের নিড ত্রিয়।

মনে রেখো সম্পদ শুধু, এক আমানাত দান,
এটি নয় গর্বের বস্তু, নয় অহংকারের প্রাণ।
কোরআনের বিধান মানো, চলো সরল পথে,
ন্যায়ের বণ্টনেই লুকায় সুখ, চিরমুক্তির ফারিশতা।
------------------------------------------


০৬-১১-২০২৫

তৃণমূল কর্মী

 তৃণমূল কর্মী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************************************

তৃণমূল কর্মী — নামটি যেন ত্যাগের প্রতীক,
দলের প্রাণ, রক্তে মিশে আছে তার শপথ অনন্ত দীপিক।
হাতের ফোস্কা, ঘামে ভেজা কাঁধ, রাত্রির ঝড়েও দাঁড়ায়,
নেতার নামে শ্লোগান তোলে, নিজের ক্ষুধা ভুলে যায়।

জেল, জুলুম, হুলিয়া— তার জীবনের অলংকার,
বুকে চেপে রাখে দুঃখ, তবু মুখে হাসির অঙ্গার।
গৃহে ক্ষুধার কান্না বাজে, সন্তান চেয়ে থাকে চেয়ে,
তবু বলে— “দল বাঁচুক আগে, আমায় রাখো পরে।”

মিছিলের রাস্তায় লাঠির ঘা, তবু সে পিছু হটে না,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক পেতে দেয়, মৃত্যু ভয় পায় না।
ভোটের মাঠে ভোর থেকে রাত, শত্রুর ছোড়া গুলি খায়,
নেতা হাসে টেলিভিশনে, তৃণমূল কবরের মাটি ঢাকে!

যে বীজ বোনে মাঠে মাঠে, ফসল ফলায় রক্তে,
সে-ই কর্মী পরে ফেলে রাখা হয়— ইতিহাসের খাতায় ভ্রান্তে।
আর যাদের ঘামে জন্মে ক্ষমতা, তারা তো ভোগে বিলাসে,
গাড়ি, বাড়ি, পদ-পদবি— সবই ভাগ হয় উঁচু আসনে।

তৃণমূল কর্মী তখন দাঁড়ায় লাঞ্ছিত, নত, নিঃস্ব,
নেতা বিদেশে, সে লুকায় জেলে— তারই নামে মামলা রচে কৌশল।
পুলিশের বুটে পিষ্ট হয় তার বুক,
আর তার চিৎকার ঢেকে দেয় মাইকের ধ্বনি, “জয় দল!” — এই সুখ।

যে দেয় রক্ত, যে রাখে দলের মান,
তার ঘরে নেই চাল, নেই চিকিৎসা, নেই সম্মানের স্থান।
দলের নামে সে দেয় প্রণাম, নেতা নেয় তিরস্কার,
তবু বলে— “আমার দলই আমার ঈমান, আমিই তৃণমূলের কারিগর।”

একদিন হয়তো ইতিহাস লিখবে রক্তের কালিতে তার নাম,
যে কর্মী ছিল রাজনীতির মূল, অথচ পেলো না সম্মান!
বলে যাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম —
“তৃণমূল কর্মী হলো সেই অজানা শহীদ,
যার ঘামে দাঁড়িয়ে থাকে নেতাদের রাজপ্রাসাদ,
আর সে থাকে পথে, নিঃস্ব, পরিত্যক্ত, অথচ অবিচল বিশ্বাসে দৃঢ়!”
---------------------------------------------------------


০৬-১১-২০২৫

Wednesday, November 5, 2025

পরিবারতন্ত্রের দৈরাত্ত্ব

 পরিবারতন্ত্রের দৈরাত্ত্ব

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************
কিসের রাজনীতি করো হে নেতা, বলো?
পরিবারতন্ত্র গ্রাসিয়াছে তোমার স্বপ্নের ঢল, হে প্রহর!
মিছিল-মিটিং পথ অবরুদ্ধ, ঘরে ফিরো শূন্যে,
জুলুম হুলিয়া অপমানে ভরা, শুধুই তোমার, প্রভু হে!

নও তুমি কারো স্ত্রী, নও কারো সন্তান, নও রক্তের ধারায়,
যত বড় নেতা হও, বঞ্চিত তোমার ন্যায্য ধারায়।
নমিনেশন বঞ্চিত, পদবী শুধু স্বপ্নের নেশা,
বিরোধী দলে হ’লে হয় তোমার ঘর ফাঁকা, কারা দরজা বন্ধ রেশা।

পরিবারতন্ত্রের শিকলে বাঁধা, গণতন্ত্র অধরা,
যোগ্যতা থাকলেও তুমি অযোগ্য, এই রাষ্ট্রের পর্দা।
বিক্রি হয়ে যায় নেতা নেত্রী, মন্ত্রি মালিকের তখলিক,
অর্থ-সাম্রাজ্যে ভেসে যায় ক্ষমতার শিরে শিরিক।

তোমার আশা, তোমার আকাঙ্খা, সবই শুধুই শূন্য,
পরিবারতন্ত্রের ভীড়ে, ক্ষুদ্রতাও হয়ে যায় বন্ধ।
নিয়ম-কানুনের নাম কেবল, কাগজে মুদ্রিত,
বাস্তবতা হলো ভীতি, ভয়, আর শাসকের বৃত্ত।

হে নেতা! তবু ক্ষয় হোক না,
সত্যের দীপ জ্বালো অন্তরে, আঁধারে ভাসাও আলো।
পরিবারতন্ত্রের দৈরাত্ত্বে নয় হোক ক্ষমতার জয়,
গণতন্ত্রের শিখা জ্বালো, মুক্ত হোক জনের অহংয়।

তোমার রক্তে বাজুক স্বাধীনতার সুর,
অবিচল, অদম্য, হোক প্রজাদের মধুর।
যুদ্ধ হোক অন্ধকারের বিরুদ্ধে, জুলুমের জালে,
বাংলার মাটিতে জাগুক স্বাধীনতার নতুনrale।

পরিবারতন্ত্রের দৈরাত্ত্ব আজও আছে, কিন্তু হে নেতা,
জনগণ জাগুক, ক্ষুধার্ত হৃদয় হোক অটল, অদম্য ভাতা।
---------------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

নিত্তি

 নিত্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************************

হে মানব, মনকে কর প্রজ্ঞার আলোয় জাগ্রত,
নেতিবাচক চেতনা দাও বিদায়, দাও তুষ্টি।
সৃষ্টিকর্তার পথে চল, না ভ্রান্তির খোঁজে,
নিশ্চিত নিত্তি শেখে সে, যে রাখে দিশারি।

আল্লাহ বলেছে: "হে মুমিন, সত্য ও ন্যায়ে থাক,
অপরাধ থেকে দূরে থাকো, হৃদয় হবে মুক্ত।"
প্রভুর নীরব আদেশে লুকানো শক্তি,
মোমিনের অন্তরে জাগায় আলোর মূর্তি।

নেতিবাচক ইচ্ছা ত্যাগ করো, হে প্রিয়,
সৎকর্মে জীবন ভাসাও, করো ভ্রাতৃত্বের বাণী।
হাদিস বলে: “সত্যবাদী মুক্তি পায়,
ধৈর্যশীলই ধনশালী হরদিনের স্বপ্নে।”

হে প্রাণ, নিত্তি শুধু কেবল শব্দ নয়,
এটি জীবনের পথে পদচিহ্ন, রূপান্তরের সোপান।
অহংকার, লোভ, লালসা, হিংসা ত্যাগ করো,
প্রকৃত নিত্তি দেখাবে আল্লাহর স্নেহের চিহ্ন।

নিশ্চয়, নিত্তি হল হৃদয়ের শান্তি,
মানবের জীবনের সত্যিকারের গহ্বর।
হে মুমিন, চলো সৎকর্মের পথে,
সত্য ও ন্যায়ের আলোয় জ্বলো চিরকাল।
---------------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

ভয়ঙ্কর রাজনীতি

 ভয়ঙ্কর রাজনীতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************************

এদেশ বিপন্ন আজ; জানি আজ নিরাশ জীবন—
মৃত্যুরা প্রত্যহ সঙ্গী, শাসকের আক্রমণ অবিরাম।
ভয়ঙ্কর রাজনীতি আঁকে রক্তের অ্যালপনা,
কানে বাজে দমন-পীড়নের নিঃশব্দ আর্তনাদ।

তবুও সুদৃঢ় আমি, আমি এক ক্ষুধিত নাগরিক,
আমার সম্মুখে শত্রু: হিংসা, বিশ্বাসঘাতকতা, লুটপাট।
শত্রুর আঘাত, দুর্নীতি উদ্দীপ্ত শপথে,
দমন-পীড়নের ছায়ায় প্রতিদিন নিভে যায় আশা।

কঠিন প্রতিজ্ঞা—স্তব্ধ কারখানায় শ্রমিকের দৃঢ় সংকল্প,
প্রত্যেক নির্বাক যন্ত্র প্রতিবাদে গর্জন করে।
আমার হাতে স্পর্শে প্রতিদিন প্রতিরোধের ধ্বনি,
স্মরণ করায় পণ; অবসাদকে দেই বিসর্জন।

ভয়ঙ্কর রাজনীতির যন্ত্রের বুকে যুদ্ধ ঘোষণা,
যুদ্ধ আমার যুদ্ধ, তারই পথে গোনা দিন।
অদূর দিগন্ত আসে ক্ষিপ্র দিনের জ্যোতি,
আমার দৃষ্টিতে লাল প্রতিবিম্ব মুক্তির পতাকা।

শত্রুর স্বৈরাচারী শক্তি, ফ্যাসিবাদ, মবতনত্র—
প্রচুর প্রচুর দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখল-মীরজাফরি।
আমার বেগান্ধ হাত, অবিরাম প্রতিরোধের প্রসব,
প্রচুর প্রচুর সৃষ্টির উৎসবে জয় হবে নিশ্চিত।

হে জনতা! ভয়ঙ্কর রাজনীতি ভাঙো আজ,
হিংসা, দমন, বিদ্বেষ—সব অন্ধকার দূর করো।
সততার সোনার তীর নিক্ষেপে বিজয় আনবে,
ভয়ঙ্কর রাজনীতি চিরদিন হারাবে আলোয়।
-----------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

রাজনীতির মুনাফিক

 রাজনীতির মুনাফিক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
হে জনতা! শোনো, শোনো তাদের নাট্যরঙ্গ,
মঞ্চে হাসি, ভেতরে বিষের অন্ধকার কঙ্গ।
কথায় তারা স্বাধীনতার গান,
কিন্তু ঘরে নিয়ে আসে শুধু লুটের মান।

নগর-বাংলায়, গ্রামে গ্রামে শোনা যায় চীৎকার,
জনতার ঘামে, দুঃখে, বিষাদে তারা করে কারবার।
মিথ্যার বেলায় বোনা তাদের কথার জাল,
শান্তির মুখোশে লুকানো লোভের চাল।

পদে পদে তারা বোনে ষড়যন্ত্রের তন্তু,
ক্ষমতার আসনে বসে, লুটে নেয় জনতার অন্তঃকরণ।
প্রতিশ্রুতিতে মোড়া, কিন্তু সত্যের অবহেলা,
জনতার চোখে পড়ে তাদের দোষের ঝাঁপেলা।

হে তরুণ! চোখ খোলো, শোনো মনের স্বর,
মুনাফিকের রাজনীতি বয়ে আনে কেবল ধ্বংসের ঝড়।
দুঃখ, ক্ষুধা, দারিদ্র্য—এ সব তাদেরই সৃষ্টি,
স্বার্থের পেছনে তারা ভুলিয়ে দেয় জাতির সৃষ্টিশক্তি।

তাদের রাজ্য নয়, তাদের খেলা নয়,
অন্যায়, অবিচার, লোভ—এই তাদের ছায়া ছায়া ছায়।
হে মানুষ! রুখো তাদের, করো বিদ্রোহের ডাক,
নির্দয় মুনাফিকের রাজনীতি হবে চিরকাল ধ্বংসপ্রদর্শক।
------------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

তরুণীর মুখে গাঁজা

 তরুণীর মুখে গাঁজা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

তরুণীর মুখে গাঁজা—ধোঁয়ার মতো ভাসে দুঃখ,
চোখে তার বিষণ্ন আগুন, হৃদয়ে নিভে গেছে সুখ।
যে মুখে ছিল হাসির ফুল, আজ সে মুখে মৃত্যুর ছোঁয়া,
তরুণীর মুখে গাঁজা—ভালোবাসা আজ ছাই হয়ে যায় গো ছোঁয়া।

স্কুলের চৌহদ্দি পেরিয়ে, বইয়ের গন্ধ হারায় কবে,
কলেজপথে নয় আর জ্ঞান—নেশার ঘোরে মনটা ভবে।
অলি-গলি, পার্কের ছায়ায়—ধোঁয়া ভাসে নির্ভয় মনে,
তরুণীর মুখে গাঁজা—লজ্জা মরে জনতার ক্ষণে।

চুলে তার জড়ায় গন্ধ ধোঁয়ার, চোখে ঝুলে নিঃশেষ রাত,
প্রেমের নামে শরীর বিকায়, মরে ভিতরে মানবজাত।
হায়, যে কন্যা মায়ের কোলের ফুল, আজ পথের পাশে ছাই,
তরুণীর মুখে গাঁজা—নির্মলতা আজ মৃত্যুর ঠাঁই।

বন্ধু হাসে, প্রেমিক হারায়, নামটি মুছে ধোঁয়ার ঢেউ,
যে পথ ছিল আলোর দিকে, আজ তা শুধু অন্ধকার বেউ।
বাবার মুখে নীরব কান্না, মায়ের চোখে প্রশ্ন ঝরে,
“কোথায় গেল আমার মেয়ে?”—ধোঁয়ার কুয়াশা ঢেকে মরে।

শেষ রাতে নিভে যায় জীবন, গলায় কাঁপে নিঃশেষ সুর,
স্বপ্ন মরে, শরীর কাঁদে, চোখে ছায়া নরকের দূর।
তরুণীর মুখে গাঁজা—ধোঁয়ার ভেতর ফেরেশতা হারায়,
বেঁচে থেকেও সে মৃত এখন—পাপের শিকলে প্রাণটা যায়।
---------------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

অভিশপ্ত মোটর বাইক

 অভিশপ্ত মোটর বাইক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************

শুনো হে তরুণ! বেগের মত্ততায় ডুবে যেও না—
পথে ঝরে প্রতিদিন কিশোর রক্তের বেদনা,
চাকার ঘূর্ণিতে মিশে যায় মায়ের আর্তনাদ,
হাসিমুখ সন্তানেরে কবর দেয় আজ।

হেলমেট পড়ে না, বুকভরা দম্ভে হাসে,
রাতের রাস্তায় উড়ে যায় আগুনের ভাষে!
বন্ধু বলে—“চলো দোস্ত, উড়ি বাতাসে আজ”,
অতঃপর নিথর দেহ — নিঃশব্দ সাঁজ!

বাংলার রাস্তায় লাল হয়ে যায় সড়ক,
মায়ের চোখে তখন ঝরে শোকে তরল লবণ ঢলক,
বাবার কাঁধে সেই একসময়ের বীর,
আজ শুধু কাফনের ফুল, নিঃশেষ ধূলির নীর।

তরুণী হাসে পাশে বসে, বাতাসে ওড়ে ওড়না,
অজান্তে মৃত্যুর ছায়া ফিসফিস করে কোণা,
"ধীরে চলো সন্তান আমার"— বলে মেঘের গলা,
তবুও গতি বাড়ে, বাজে নিষ্ঠুর বেলা।

এদেশে রোজ ভোরে শিরোনামে উঠে নাম,
“আরও এক তরুণ গেল — ট্র্যাজেডির দাম!”
ফেসবুকে ভাসে ভালোবাসার ছবি,
আর পেছনে কাঁদে মা — ভাঙা প্রার্থনার নবি।

তরুণ! মোটর বাইক নয় — তা যেন রাক্ষসের মুখ,
যেখানে প্রবেশ মানে মৃত্যু, ব্যথার সুখ,
বেপরোয়া গতির আগুনে পোড়ে জীবন,
নির্দয় সড়কে পড়ে থাকে রক্তরঞ্জিত মন।

তুমি যে প্রাণ, জাতির আশার প্রতীক,
মৃত্যুর খেলায় নয় — বাঁচাও জীবনের সুরভিত দিক,
থামাও গতি, ফিরাও ঘরে নিরাপদ প্রাণে,
মায়ের কোলে ফিরুক হাসি — কান্নায় নয় টানে।

হে তরুণ তরুণী, মোটর বাইক নয় দম্ভের মঞ্চ,
এ জীবনের আলো রাখো — বেপরোয়া গতি নয় পাঞ্জ।
একটি ব্রেক বাঁচাতে পারে শত জীবনের দান,
বেঁচে থাকাই জয়ের নাম — সেটাই সত্যি মহান!
-----------------------------------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

অভিশপ্ত মোবাইল

 অভিশপ্ত মোবাইল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************

হে মোর শিশুর প্রাণ, যাকে তুমি করেছ দাস,
অভিশপ্ত মোবাইলের নেশায় হারায় তার আশ।
খেলনা, হাসি, বন্ধুত্ব, সব নিভে গেছে ধূলিতে,
অভিশপ্ত মোবাইলের বন্দনে লুকায়ে শিশুর মন।
অভিশপ্ত মোবাইল, হবে শিশুরে সব দুঃখের সমান।

রাত্রি জেগে, স্বপ্ন ভেঙে, চোখ লাল অশ্রুযেতে,
পাঠশালার পাতা শূন্য, হৃদয় ভারী বিষাদে।
অভিশপ্ত মোবাইল ঝলকানি শরীর জ্বালায়,
হাসি বন্ধুর নিঃশব্দে নিভে যায় ধীরে।
অভিশপ্ত মোবাইল, হবে শিশুরে সব দুঃখের সমান।

ফিরে দাও মাঠের খেলা, ফিরাও শিশুর আনন্দ,
নীরব ঘরে ফিরে আসুক খুশির আলো।
মনের ব্যথা ভরে উঠুক নতুন আশায়,
দীর্ঘ সময় নিভে যাওয়া হাসি জাগুক আবার।
অভিশপ্ত মোবাইল, হবে শিশুরে সব দুঃখের সমান।

মায়ের কোলে ছিল যে শান্তি, বাবার বুকে প্রেম,
তোমার ছলে সব হারায়, শিশু ভয় পায় গোপনে।
অভিশপ্ত মোবাইল দাও না সে নির্দোষ প্রাণে,
শিশুর জীবন হোক পূর্ণ, আনন্দে ভরে দিন-রাত্রি।
অভিশপ্ত মোবাইল, হবে শিশুরে সব দুঃখের সমান।
-------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫