Sunday, March 3, 2019

দ্রুতই চলে যাচ্ছে




                                                 -কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
সুস্থতা, সেই স্বর্গ্ সুখের স্পর্শের মতন;
যখন চাঙ্গা থাকে এ দেহের মনোবল
অঙ্গে অঙ্গে জাগে শক্তির দুরন্ত দল
রক্ত প্রবাহে নাচে রে নাচে এ দেহ প্রাণ
সব হেরে দেয়  দুর্গম পথের কলোতান
যে নেয়ামত সেই বিধাতার অপার করুণা
এ দেহ প্রাণে শক্তি পাই কত না !
আজ যখন অসুস্থ হয়েছি সব তার প্রতিকূলে
দেহ চলে না, প্রাণ হাসেনা জীবনের অনুকূলে.
যৌবনের দুরন্তপনার দিক তাকালে এখনো
মনে হয় যেন  সুস্থতা দুর্বল হবে না কখনো
আজ সেই শরীরের রক্ত প্রবাহ নীল,
ধূসুর বর্ণিল সুস্থ দেহের যৌবন নিখিল
আজ সব অঙ্গে অঙ্গে অসুস্থতার ব্যাথা..
সমুদ্রের উপকন্ঠে নানাবিধ রুগ্ন চিল সেথা
এ কোন পরীক্ষায় অবিতীর্ণ্ দেহ প্রাণ সব !
হে সুস্থতা,
তুমি কি এ মর্ম্ বাণী করেছো অনুভব ?
অনেক অপরিমেয় সুস্থতা চলে গেল;
কি কৃতজ্ঞতা করেছি যিনি নেয়ামত দিল !
সুস্থতা ক্ষণিক, স্থিরতর হতে দেবে না সময়;
সময় চলে যাচ্ছে, দ্রুতই চলে যাচ্ছে মনে হয়..

সুস্থতা প্রভূর নেয়ামত- জীবন তীরে এসে জাগে
দ্রুতেই চলে যাচ্ছে,প্রস্তুত কি যবনিকা আগে ?
------------------------------------------------রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

এই আকাশেই একদিন




                                                             -কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা ।
মানুষের ব্যবহারে অন্ধকার ঘন হয়ে উঠেছে;
আকাশের রহস্যময়ী দৃশ্যমান তারার মতো এই অন্ধার !

যে মানুষ চিরদিন সভ্যতাকে ভালোবেসেছে..
যার মুখে কোনদিন ব্যঙ্গ কুটু বাক্য শুনিনি
সেই অসভ্যের মতো
দিবসে মেঘের দলেরা জমাট বেধে উঠেছে..

চৌদিকে যেন অসভ্য পথ ঘাট, অলি গলি
এক ধূসর বর্ণিল সাজে নিষ্ঠুর রক্ত প্রবাহে প্রবাহে ।

নীতি নৈতিকতার সমুদ্রে..
অপমান অপদস্তের চূড়ান্ত সীমানা
অথবা বেদনার উম্মুক্ত সাগরে..
মানুষের আচার ব্যবহার নগ্ন উল্লাসে..
আজ আর নেই, সেই হৃদয় স্পর্শী মানবের প্রেম, ভালবাসা , শ্রদ্ধাবোধ
প্রেমকে এক রূপক গল্প মনে হয়..
অনৈতিকতায় ভরা মানবের হৃদয় প্রাসাদ;

অথচ এই আকাশেই একদিন অনেক রৌদ্দুর ছিল..
অন্ধকার রজনীতে পূর্ণির শুভ্রতা ছিল –
প্রাণে প্রাণে প্রেম ভালবাসা ছিল,
ভিতর বাহ্যিক স্নেহ- শ্রদ্ধাবোধ ছিল, সাম্যের শ্লোগান ছিল কন্ঠে কণ্ঠে…
এই সব সেই মানুষের অন্তরে ছিল একদিন ।

হৃদয়ের অহংকার নিয়ে আসে সেই পরাজয়ের ঘৃণ্য গ্লাণী,
মানুষের সভ্য রূপ আজ এ শতাব্দিতে খুব বেশী দেখি না,

অথচ এই আকাশেই একদিন অনেক রৌদ্দুর ছিল..
আজ উম্মুক্ত কালো মেঘেরা তার মুকুট ছিনে নিল !

------------------------------------------------- রাওনাট,কাপাসিয়া, গাজীপুর।




বজ্র কণ্ঠের সেই কবিতা




                                                -কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
আজ এক ঐতিহাসিক দিন!
সেই দিন এ বাঙ্গালী
ইতিহাসের অমর কবিতা শুনেছে উতরোল তরঙ্গে তরঙ্গে…
”রেস কোর্সে ”জন সমুদ্রের বিপ্লবী মঞ্চে কবি
বজ্র কণ্ঠের ধ্বনি গর্জে উঠল ক্ষুধার্ত্ বাঘের মতো
দিকে দিকে আঙ্গুলি তুলে উচ্চারিত হতে থাকলো..

”এবারের সংগ্রাম- মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম- স্বাধীনতার সংগ্রাম”

তুমুল করতালিতে শ্লোগান উঠতে থাকলো জনতার মুখে মুখে
মৃত্তিকার শূন্য নেচে উঠল নৃত্যের তালে তালে..
পাখিরা থমকে গেল, সমীরন স্থির হল, পত্র শাখে শাখে স্তব্দ নিরবতা..
কি এক অপূর্ব্ মুহূর্ত্ সম্মুখে !
আজ এক ঐতিহাসিক দিন- ৭ মার্চ্

বাঙ্গালী শুনেছে এক কালজয়ী কবিতা, শুনেছে  মুক্তির প্রথম ডাক ।
”এবারের সংগ্রাম- মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম- স্বাধীনতার সংগ্রাম”
সেই বজ্র কণ্ঠের ডাক শুনেই  উজ্জেবিত বাঙ্গালীর শিরা- উপশিরা –
বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে –অস্র হাতে নিয়েছে,লড়াই করেছে
এক মুক্তির সংগ্রামে, এক স্বাধীনতার সংগ্রামে।

কেউ হঠেনি পিছু এ মায়ের সন্তান, কেউ ভুলেনি কবির কবিতা.
জনতা শুনেছে কান পেতে অমর কবিতার ক্রন্দন..
যে প্রেম ভালবাসায় কবি দিয়েছে স্বাধীনতার গর্জ্ন।
ডাক শুনে কবির, বাঙ্গালী তুলেছে তুমুল যুদ্ধ ঝড় !
রক্ত গঙ্গায় ভাসায়ে তরী লাল-সবুজ এনেছে তার ।

সম্মুখে, সম্মুখে, আরো সম্মুখে, ঐ দেখ বিজয় নিশান উড়ে,
বজ্র কণ্ঠের সেই কবিতা আজো বাজে, আজো বাজে
বাঙ্গালী জাতির অন্তঃপুরে..
নিশি- প্রভাত , ভর দুপুরে
লাল-সবুজের শরীর  জুড়ে
----------------------------------------------রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।