Monday, November 10, 2025

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)

 হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

তোমায় পাঠালাম মানবপথে
  আলো হয়ে ভাসো সৃষ্টির বুকে,
অন্ধকারে ডুবা দুনিয়া আজ
  জাগুক তোমার নামের সুখে।
  আমি বলি, “হে প্রিয় নবী,
  তুমি আমার রহমত কবি,”
তোমার মুখে ফুটুক আমার কালাম নিরবধি।

দীর্ঘ যুগের শুষ্ক ধরা
  জল পাবে তোমার আঁখি-ছোঁয়ায়,
পাষাণহৃদয় গলবে সেথা
  দয়া মিশে তব মধুর বাণায়।
  আমি দেখি—তোমার দৃষ্টি,
  মানবতায় অনুপ্রবিষ্টি,
আমার করুণা তোমার শ্বাসে মিশে রয়।

তোমার চরণে রেখেছি আমি
  সত্যের দিশা, ন্যায়ের আলোক,
তোমার বুকে জ্বালিয়েছি আমি
  প্রেমের অমৃত, স্নেহের লোক।
  বলেছি আমি, “তুমি যাও,
  মানব-মনে আলো ছড়াও,”
আমার বাণী তোমার বুকে করুক অনুরণন।

রাত্রি যতই ঘন হোক প্রিয়,
  তোমার নূরেই ভোরের দিশা,
তুমি যে আমার প্রেরিত রহম,
  সৃষ্টির মাঝে দয়া-নিশা।
  জগতে যারা তোমার পথে,
  চলবে নেকের আলোকরথে,
আমি তাদের রাখব তব দোয়ায় অনুক্ষণ।

প্রকৃতির প্রতিটি স্রোতে
  তুমি পৌঁছে দাও আমার বাণী,
শুষ্ক মরুভূমি, নদী, বাতাসে
  সকলেই হোক আমার রহমত শাণী।
  হৃদয় যারা খুঁজে আমার প্রেম,
  তোমার চরণে তারা পাবে ত্রিম্ময় দান,
আমি দেখব তাদের আনন্দে, শান্তিতে সমান।

তোমার মুখে বলি আমি, “প্রিয়,
  সত্যের পথে চলা মানুশরা,”
নিষ্ঠার চিহ্ন তোমার চরণে
  আলোর পথ দেখায় ধীরে ধীরে।
  আমি রাখব তোমাকে আকাশে ও ভূমিতে,
  আমার রহমত তোমার ছায়ায় মিলে,
সত্য ও ন্যায়ের পথে যারা, তাদের পথকে দীপ্ত করি।

তুমি যে আমার প্রেরিত বাতিঘর,
  মানবতার অন্তরে আলো জ্বালো,
ভালোবাসা, দয়া, ন্যায় ও শান্তি
  সকলের হৃদয়ে তুমি ছড়ালো।
  আমি বলি, “হে প্রিয় নবী,
  তুমি চলো পথের প্রদীপ হয়ে,”
মানবতার পথে তুমি চিরকাল আলোকিত হও।
------------------------------------------------------


১০-১১-২০২৫

ইল্লিনের আলো

 ইল্লিনের আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

উচ্চতম আসমান ইল্লিন, নেককারের ঠিকানা,
রুহের শান্তি, আলোর দীপ উজ্জ্বল প্রভাতানা।
যেখানে নেকী লেখা, আমল সংরক্ষিত চিরকাল,
আল্লাহর নৈকট্য, প্রিয় রূহের মধুর মালা।

প্রার্থনা, তওবা, সদকা, নেক কর্মের আলো,
ইল্লিনে মিলিত হয়, হৃদয়ে ভরে আলো।
পাপের ছায়া দূর হয়, সত্যের আলো প্রবাহে,
রুহের উচ্চতম শান্তি, চিরন্তন অনুগ্রহে।

নবী (সা:) বলেছেন, “নেককর্মের স্বর্গীয় স্থান এখানে,
ইল্লিনে লেখা, আল্লাহর প্রিয় ও আশীর্বাদপদ্মা।”
যে চায় হৃদয়ে, দিনে রাতে ধ্যান,
তার নেক আমল, তার দুঃখমুক্ত প্রাণ।

ইল্লিনের আলো ছায়ার মাঝে বিরাজ করে,
আল্লাহর অমিয় অনুগ্রহ, হৃদয় শুদ্ধি জাগরে।
সকল নেককার, রুহের প্রার্থনা একত্রিত,
ইল্লিনে মিলিত হয়, চিরন্তন আনন্দ সীমাহীনিত।

সত্যের পথে যারা চলে, তাদের জন্য আলোকিত,
প্রিয়তম রূহরা সেখানে, নেকী তাদের ভাস্করিত।
ইল্লিনের আলো শিখায়, ঈমানের মহিমা স্পষ্ট,
চিরন্তন শান্তির বসতি, আল্লাহর পবিত্র বন্ধন অম্লান।
----------------------------------------------


১০-১১-২০২৫

শিক্ষকের চোখে অশ্রু

 শিক্ষকের চোখে অশ্রু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************
যে গুরু দিয়েছিল জ্ঞানের দীপ,
আজ সে গুরু কেন ক্ষুধায় নিঃশব্দ নীপ?
রোদে-জলে পোড়ে, চোখে রক্তধারা,
হে রাজা! বলো, এই কি তার কারা?

হে জ্ঞানের সৈনিক, হে জাতির প্রাণ,
তোমার বুকে আজ কেন অপমানের গান?
যে ছাত্রকে গড়েছিলে আলোর মানচিত্র,
সে আজ গুরুর বুকে ফেলে রক্তের চিত্র!

লাঠি, গ্যাস, বুলেট— গুরুর দিকে যায়,
মানবতা কাঁদে, বিবেক থরথরায়,
বইয়ের পাতা ফেলে আজ রক্ত ঝরে,
হে শাসক! জিজ্ঞাসি— এ কেমন ঘোরে?

চকের গন্ধে যে লিখেছিল ভবিষ্যৎ,
আজ তার ঘরে ক্ষুধার নিঃশেষ যুক্ত,
অর্ধহারে সে বাঁচে, চোখে স্বপ্নভঙ্গ,
কেন এই শিক্ষক অপমানে বন্দী সঙ্গ?

ওরে শাসক! শোনো রুদ্রের ডাক,
গুরুর রক্তে জ্বলছে বিপ্লবের ফাঁক,
দাও সম্মান, দাও প্রাপ্য স্থান,
না হলে উঠবে গর্জন— “গুরুই মহিমান!”

রক্তে লেখা হবে শিক্ষা-দেবীর শপথ,
অবহেলায় নয়— আজ মরবে অন্য রথ!
শিক্ষক যদি জাগে, কাঁপবে সিংহাসন,
আলোয় ভাসবে জনতার মনন!

দাও প্রমোশন, দাও প্রাপ্য গ্রেড,
দাও জীবনের প্রণোদনা, ন্যায়ের মেধ,
বিশ্বের তালে শিক্ষক হাঁকুক গর্বে,
"আমিই জাতি গড়ি!" — উচ্চারণ হোক সবে!

আর নয় অবমাননা, আর নয় ক্ষুধা,
শিক্ষকের চোখে আজ জ্বলে আগুন-চিঠি লেখা!
অশ্রু নয় — তা লাল বিপ্লবের রঙ,
জ্বালাও মশাল! ছিন্ন করো বঞ্চনার বন্ধ!

শিক্ষকই আলোর রথী, জাতির শির,
তাঁর অশ্রুতে ডুবে যাক অন্ধ অধীর,
আজ প্রতিটি কণ্ঠে উঠুক এক সুর—
“গুরুর মর্যাদা চাই, চাই এখনই— পুরপুর!”
------------------------------------


১০-১১-২০২৫

Sunday, November 9, 2025

যন্ত্রনাহীন মৃত্যু

 যন্ত্রনাহীন মৃত্যু



যে মুমিন ইখলাসে বাঁচে, নফসের জিহাদে পূর্ণ,
তার মৃত্যু হয় রুহুল-আমিনে, শান্তির পরিপূর্ণ।
ফেরেস্তা আসে তাকে, মুখে হাসি, হৃদয়ে নূর,
জান্নাতের কূলে পৌঁছে, শান্তি দান করে দোর।


কোন যন্ত্রণা নেই তার, রুহ ওঠে সুবাসে,
মৃন্ময় দেহ হাসে তবু, শান্ত ঘুমের আশে।
নবী বলেছেন একদিন, “শাহাদাতের মওত”,
ফুলের মতো নরম তার, নয় কোনো ক্ষত।


হে প্রশান্ত প্রাণ, ফিরে আয় তোমার রবের দিকে,
রাযি আমি তোমাতে, তুমিও সুখে আমার দিকে।
সেই রুহ নেয় ফেরেস্তা, মিসক ও কাফুরে,
সুগন্ধ ছড়ায় জান্নাতে, সিদরাতুল মুনতাহায় নূরে।


নয় কষ্ট, নয় তড়প, নয় নিঃশ্বাস ভার,
তাসবিহের সুরে চলে রুহ, ফেরেস্তার বাহার।
যারা ঈমান আনে, সৎ কাজ করে, হয় মওত মুবারক,
মৃত্যুর বেদনাহীন হয়, চোখে নেমে নূর।


যে মৃত্যুর আগে করে তাওবা নাসুহা,
আল্লাহ দেন তাকে, “আফওয়ান”, মাগফিরার রুহা।
ফেরেস্তারা বলে, “সালামুন আলাইকম”,
তোমরা প্রবেশ করো জান্নাতে, সুখের আলোয় ভাস।


এ মৃত্যু নয় মৃত্যু, এ তো রাহমাতুল্লাহ,
যে আত্মা চলে যায়, পায় জান্নাতুল-ফিরদাউসের ছায়া।
কোন যন্ত্রণা নেই — নবীর আশ্বাসের মতো,
মুমিনের মৃত্যু, আল্লাহর কাছে বিশেষ আভাস।


রাতের অন্ধকারে, যখন ঘুম আসে নরম,
মুমিনের আত্মা চলে যায়, আলোর পথে সবরম।
ফেরেস্তারা পথ দেখায়, ইমান ও দোয়ার আলোয়,
প্রশান্তি মিশে যায়, সকল দুঃখ ভুলে যাওয়।


মৃত্যুহীন মৃত্যু, যেন জান্নাতের সকাল,
শান্তি আর রহমত মিশে যায় রুহের মলয়কাল।
হৃদয়ে থাকে কেবল ভালোবাসা, আল্লাহর নূরে,
প্রশান্ত আত্মা পৌঁছে, পায় চির শান্তির ছায়া ভুরে।


নিশ্চয়, মুমিনের মৃত্যু হয় আনন্দময় দিন,
যেখানে কষ্ট, যন্ত্রণা, নয় কোনো ক্ষিন।
ফেরেস্তারা তাকে নেবে, মিসক ও সিদরের পথ,
রুহের শান্তি পূর্ণ হবে, আল্লাহর অশেষ রহমতের সত্য।


এ যন্ত্রনাহীন মৃত্যু, আধ্যাত্মিক এক অভিজ্ঞান,
যে প্রাণ যাইবে শান্তিতে, পাবে আল্লাহর জান্নাতান।
প্রেম, স্নেহ, শান্তি মিশে যায়, চিরন্তন নূরে,
মুমিনের মৃত্যু হয় বিজয়, নয় কোনো যন্ত্রণার ছায়ে।
-------------------------------------


০৯-১১-২০২৫

ফুলসিরাত

 ফুলসিরাত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

ফুলসিরাত সে পথ, আল্লাহর হেদায়াত ভরা,
পদে পদে জ্বলে ইমান, ভেঙে দেয় পাপের ছায়া সরা।
সদকা, সালাত, রোজা, হজ্জ ভরে অন্তর,
নেকীর নূর ছড়ায়, পথিক পায় মুক্তির ধর।


হৃদয় জাগে ধৈর্যের আলোতে, ইমানের স্পর্শে,
যাকাতের স্রোত বইয়ে দুঃখী পায় সুখের খোঁজে।
শিয়াম, জিকিরে পূর্ণ হয় অন্তরের রহমত,
প্রতি ধাপে আল্লাহর করুণা ভরে অমল ধারা।


শয়তান ফাঁদ ফেলে, ভ্রান্তি ছড়ায় পথে,
কোরআনের বাণী রাখে দৃঢ় বিশ্বাস জীবনে।
নেকীর পদচারণা মুক্তির ধারা বহায়,
আল্লাহর করুণা অন্তরে শান্তি ছড়ায়।

হজ্জের তীর্থে চলা, কাবার ছায়ায় নিশ্বাস,
নেকীর প্রতিটি কাজ দেয় অন্তরকে প্রশ্বাস।
ফুলসিরাত মানে জীবনকে সরল রাখে সত্য পথে,
আল্লাহর নির্দেশে ভরে অন্তরে শান্তি নিরালা।

ফুলসিরাত শেখায় সতর্কতা, পাপের ছায়া দূরে,
নেকীর সঙ্গে মিলিত হয় রাহমত আল্লাহর ভরে।
ধৈর্যশীল পথিক পায় মুক্তি, জান্নাতের নূর,
প্রতি ধাপে রহমত আসে অন্তরে দীপ্তি।

শিয়াম, জিকির, সদকা, নেকীর প্রতিটি কাজ,
প্রতি ধাপে আল্লাহর করুণা ভরে অন্তরের রাজারাজ।
শয়তানের ফাঁদ ভাঙে ধৈর্যশীল পথিক,
ফুলসিরাতের আলোয় পায় মুক্তির দিক।

ফুলসিরাত মানে আত্মার চেতনা, দুনিয়ার বাঁধা ছাড়া,
নেকীর ধারা জ্বলে, কোরআনের নির্দেশে ভরা।
প্রতি পদে সতর্কতা, পাপের অন্ধকার দূর হয়,
পথিক পায় মুক্তি, জান্নাতের ছায়া ভরা।

হৃদয় ভরে যায় ইমান, ধৈর্য ও সৎকর্মে,
শিয়াম, জিকিরে আল্লাহর করুণা ভরে আত্মার ঘর।
ফুলসিরাতের পথিক ধৈর্যশীল ও সত্যপ্রিয়,
প্রতি ধাপে আল্লাহর সাহায্য অন্তরে ছায়া ছড়ায়।

নেকীর ধারা সরল, হেদায়াত ভরা পথে,
শয়তান বিভ্রান্তি ছড়ায় অন্ধকারে ভেঙে।
ফুলসিরাত মানে জীবনকে আলোকিত করা,
প্রতি ধাপে রহমত আসে অন্তরে সুধা ধারা।

রাহে সরল, কোরআনের আলো, নবীর আদেশ সঠিক,
ধৈর্য, সদকা, নেকীর পথে পায় পথিক সুখ।
শিয়াম, জিকির, হজ্জ, ফিতরা অন্তরে ভরে,
প্রতি ধাপে আল্লাহর নূর ছড়ায় অমল ভরে।
-----------------------------------------------------


০৯-১১-২০২৫

হাশরের ময়দান

 হাশরের ময়দান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************

ইসরাফিল বাজায় সুর, কম্পে দুনিয়া থরথর,
সব রূহ নিঃশেষ হয়, স্তব্ধ নিস্তব্ধ ঘর।
আবার সুরে প্রাণ ফিরে, কাঁপে দেহ দিশাহারা,
হাশরের সেই ময়দানে, জমে সব ধরা।

সূর্য নিকটে আসে জ্বলে, আগুন তার শিখা,
মানুষ তখন তপ্ত বুকে, হারায় সব দীক্ষা।
ভয়ে শুকায় জিহ্বা তৃষ্ণায়, কাঁপে দেহ মন,
হায়! সেই দিনের ভয়, বর্ণনাতীত ক্ষণ।

আসমান ছিঁড়ে পড়ে নিচে, কবর উগরে দেয়,
জেগে ওঠে প্রতিজন প্রাণ, আমল হাতে নেয়।
কেউ ডান হাতে নূর পায়, মুখে হাসি খেলে,
কেউ বা বামে অন্ধকারে, জাহান্নামের ফাঁদে মেলে।

খুলে পড়ে আমলনামা, চমকে ওঠে প্রাণ,
বলে মানুষ—“হায় রাব্বি! সবই তো ছিল জ্ঞান!”
মিজানুল আমলে তখন, ওজন হয় কাজ,
ন্যায়ের পাল্লা হেলে পড়ে, আল্লাহ দেন লাজ।

আরশে আজীমে ধ্বনি উঠে—“আজ রাজত্ব কার?”
উত্তর আসে—“আল্লাহ এক, রাজা আপার!”
সিরাতুল মুস্তাকীম সেতু, তলোয়ারের ধার,
বিশ্বাসীরা পার হয় নূরে, কাফের পড়ে পার।

হাওযে কাওসারে নবী দেন, সুশীতল পানীয়,
যে পান করে একবার, হয় না তার তৃষ্ণীয়।
জান্নাতে নূরের বাগান, নদী বইছে ধীর,
জাহান্নামে আগুন ধোঁয়া, চিত্কার ভয়ে গহীর।

শেষে রাহমান ডেকে বলেন—“হে মুমিন আত্মা ফের,
আমার রহমতের ছায়ায়, করো সুখের ভোর।”
আশা রাখো, ওহে মানুষ, তওবা করো আজ,
হাশরের ময়দানে যেন, হয় না লজ্জার সাজ।
------------------------------------------------------


০৯-১১-২০২৫

Zen G অতীত ভুলে যাচ্ছে

 Zen G অতীত ভুলে যাচ্ছে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

শুনো হে শুনো হে জাতি, সময়ের ঘুমন্ত গান,
Zen G আজ ভুলে বসে, অতীতের সম্মান।
বীরের রক্ত, শহীদের হাহাকার —
সব ইতিহাস আজ ধোঁয়ায় হারায়, মোবাইলের পর্দার পার।

যে মাটিতে রক্ত ঝরেছিল, সেই মাটি আজ নিরব,
যে কণ্ঠে ছিল স্বাধীনতার ডাক, আজ সে কণ্ঠ বেহাল সুরের রব।
লাল-সবুজ পতাকা আজও উড়ে গর্বে,
কিন্তু Zen G চেনে না কে দিয়েছিল প্রাণ, কে গিয়েছিল যুদ্ধে।

ভাষার জন্য রক্ত ঝরেছে, ওরা জানে না ভাষার মানে,
২১শে ফেব্রুয়ারি কেবল ছুটি, উৎসব নয় প্রাণের টানে।
স্বাধীনতা দিবস আসে যায়, সাজে শুধু রঙিন পোস্ট,
বিজয় দিবস মানে আজ কেবল ফেসবুকের এক "হ্যাশট্যাগ পোস্ট"।

গণতন্ত্র, ভোটাধিকার — শব্দগুলো শুনে হাসে,
ইতিহাসের বইতে ঘুমিয়ে পড়ে, জ্ঞানের আলো নিভে আসে।
স্বৈরতন্ত্র, বীরত্ব, মুক্তির জয়গান —
সব আজ ওদের কাছে পুরোনো রূপকথা, হারানো সন্ধান।

কেউ শেখায়নি তাদের কাদের রক্তে এ দেশ জেগেছিল প্রাণে,
কেউ বলেনি কে মীরজাফর, কে ছুরি চালায় বিশ্বাসের টানে।
রাজনীতিবিদেরা ভুলে গেছে শিক্ষা, ইতিহাসবিদেরা নিঃশব্দ,
তাই আজ Zen G ছুটে চলে অন্ধপথে, অন্ধকারে দৃঢ় পদ।

দেশপ্রেম আজ ম্লান হয়ে গেছে, মাদক আর লোভে ঢেকে,
চাঁদাবাজি, টেন্ডার যুদ্ধ, নৈতিকতা গেছে মরে কবে থেকে।
স্কুল ফেলে, কলেজ ছেড়ে, হাতে শুধু ফোনের আলো,
ভবঘুরে এক প্রজন্ম জন্ম নিচ্ছে — নেই গন্তব্য, নেই ভালো।

বরণ্যদের মর্যাদা মুছে গেছে, বীরদের নাম নেই ঠোঁটে,
কবি, শিক্ষক, শহীদের কণ্ঠ আজ ডুবে যায় গোপন নোটে।
Zen G ভুলে গেছে মাতৃকার বেদনা, ভুলে গেছে সোনার দেশ,
ভালোবাসার স্থলে বসেছে লোভ, আর স্বার্থের শেষ নেই শেষ।

ওহে জাতি, জাগো আবার, ইতিহাসের জ্বালাও দীপ,
Zen G-কে শেখাও কে আমরা, কেন রক্ত দিয়েছি নিঃশব্দে চুপ।
গৌরব ফিরুক অতীতের, নতুনে জ্বলুক সেই শপথ —
যে শপথে জন্ম নিয়েছিল এক স্বাধীনতা, এক মাতৃভূমির সত্য।
-------------------------------------------------------------------


০৯-১১-২০২৫

জাহানরা আজ কাঁদে

 জাহানরা আজ কাঁদে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************

জাহানরা আজ কাঁদে, আকাশ আজ নীরব,
মানবতা মরে গেছে— হৃদয় আজ সিরব!
নররূপে ঘুরে বেড়ায় পিশাচ বীভৎস,
নারী আজ বন্দী, স্বাধীনতা ক্ষতবিক্ষত!

পথে ঘাটে, বাসে, লঞ্চে, অফিস আদালতে,
লালসার নখে রক্ত ঝরে প্রতিক্ষণে মাততে!
শিক্ষালয়ে নষ্ট শিক্ষক দাঁড়ায় হায়েনা হয়ে,
মায়ের মুখে শাপ উঠে— “মানুষ কেন মরে যায় না সয়ে!”

নারীর চোখে কান্না, ভয়ে কাঁপে প্রাণ,
যে হাসত একদিন, সে আজ লজ্জার দান।
পথের বাতিতে ঝুলে তার আর্তনাদ,
“বাঁচাও আমায়, ওরে আল্লাহ! কোথায় তোর বাদ?”

অভিযোগ তো ওঠে, হয় তদন্ত রোজ,
তবু বিচার আসে না— লজ্জা যেন লোহ রোজ!
ফাইলের স্তূপে ঢেকে যায় নারী জীবনের কাহন,
লালসার দানব হাসে— “এই তো মানব আইন!”

ওরে সমাজ! তোর চোখে ধুলো কে দিল?
নারীর অশ্রুতে ভিজে তবু বিবেক মরে গেল!
যে নারী তোর জননী, বোন, তোর ঘরের আলো,
তাকে তুই দিলি অপমান, তুই মানুষ ভালো?

ওরে দোষী, তুই কাপুরুষ, তুই অভিশপ্ত দানব,
তোর রক্তে আগুন জ্বলুক, তোর ঘরে হোক রাব্বি রব!
নারীর অশ্রু আগুন হবে, পুড়বে তোর নরক চুলা,
তোর পরিণতি লিখা আছে— বিচার আসছে তুলা!

জাহানরার কান্না আজ জাতির কলঙ্ক,
তার অশ্রুতে ধুয়ে যাক অন্যায়, হোক দণ্ড অমলঙ্ক!
নারী আর নীরব নয়— নারী এখন আগুন,
তাঁর চোখে ঝলসে যাবে, পিশাচ, তোর জীবন রঙিন বাগুন!

গর্জে উঠুক নারী, উঠুক মানবতার দল,
“নারী মানেই মর্যাদা”— এ স্লোগানে জ্বলুক বল!
যে নারী দেয় জীবন, সে অপমান পায় কেন?
জাহানরার কান্নায় আজ— কাঁদে গো বিশ্ব ভুবন!

জাগো হে শাসক! তোর ঘুম আজ পাপ!
নারীর অশ্রুতে জ্বলছে দেশ, মাটি, আকাশ, শাপ!
কেন তুই চুপ? কেন তোর রক্তে বরফ?
জাহানরার চোখে দেখ, আগুনের তরফ!
------------------------------------------------------------------


০৯-১১-২০২৫

টাকার তাজে মুকুট

 টাকার তাজে মুকুট

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

কি জমানা এলো ভাই, আজ বড়োই বিস্ময়,
শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-গরিমা গেছে হারিয়ে কোথায়?
যে পেত সম্মান জ্ঞানে, যেই করত প্রভা দান,
সে আজ কোণে পড়ে নিঃশব্দ, নত শিরে অবমান।

টাকাই আজ রাজা, ক্ষমতাই বিধান,
মানুষ নয়, মানদণ্ড আজ পয়সার পরিমাণ।
যে যত ধনী, সে তত মহান,
ফুলের মালা, দাওয়াত, সম্ভাষণ, জয়ধ্বনি তারই গান।

কোথায় গেল সেই গুণী, বিনয়ী জন,
যে আলো দিত সমাজে, করত সুশিক্ষার বরণ।
আজ অশিক্ষিত ভণ্ড, চাঁদাবাজ সন্ত্রাসি,
মঞ্চে উঠে অতিথি, মাথায় তার ফিতে বাঁধা হাসি!

রাজনীতি, ওয়াজ-মাহফিল, সমাজের আয়োজন,
সবখানে আজ অর্থেরই একচ্ছত্র রাজত্বের জয়ধ্বনন।
যে নেই ভদ্রতা, যার নেই নৈতিক মান,
তাকেই বলে “সম্মানিত অতিথি”, করে স্তুতির গান।

জ্ঞানীরা নীরব, মুখে যেন তালা,
টাকায় কেনা যায় সম্মান, বিক্রি হয় ভালো-মন্দের পালা।
এই যদি চলে, এই যদি হয় পথ,
তবে সমাজ হারাবে জ্যোতি, নামবে অন্ধকারের রথ।

হে মানব, জাগো তুমি, ভাঙো এই ধারা,
সম্মান দাও যোগ্যকে, ফিরাও সত্য সারা।
জ্ঞান, নীতি, চরিত্রে হোক সমাজের মান,
অর্থ নয়, গুণই হোক মানুষের আসল পরিচয় ও প্রাণ।
---------------------------------------------------------


০৯-১১-২০২৫

Thursday, November 6, 2025

ফেরেস্তা

 ফেরেস্তা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

ফেরেস্তা আসমানে, আল্লাহর আদেশ সঙ্গী,
নির্ভীক তারা চলা, সৎ পথে চিরন্তন রঙ্গী।
রাত্রি-দিনে সেবা, শান্তি ছড়ায় তারা,
ভয় ও শ্রদ্ধায় ভরে, হৃদয় যেন মধুর আঁধার ভাঙা।

কোরআনে এসেছে, “মালাএকাতু” নামে পরিচয়,
যারা আদেশ মেনে চলে, ভুলের নেই কোনো ভয়।
শাস্তি দেয় যখন, নিখুঁত ন্যায় আর সততা,
রহমত দেয় যখন, ভরে হৃদয় আনন্দময়তা।

মৃত্যুর মুহূর্তে আসে, জীবনশেষের পথে,
ফেরেস্তা থাকে পাশে, আল্লাহর হুকুমে যথার্থ ছায়া ছড়ে।
হাদিসে বর্ণিত, তারা সত্য ও রহমতের বাহক,
মানুষকে শান্তি দেয়, অপরাধে হয় শাস্তির পাথক।

মানুষের পাশে আসে, অদৃশ্য রূপে চুপিচুপি,
রহমত বয়ে আনে, শাস্তি দেয় যখন অপরাধী।
তাদের কাজ নিঃস্বার্থ, লোভ নয় কখনো,
শুধু আল্লাহর আদেশে, সৎ পথে তারা চিরন্তন অমলময়ো।

আল্লাহর রহমত, তাদের হাতে জ্বলে,
ভয় ও শ্রদ্ধার মিশ্রণে হৃদয় ছুঁয়ে যায় ঢলে।
অলস নয় তারা, কখনো মন্দের সঙ্গে নয়,
সৎ কাজ ও সাহসে পূর্ণ, তাদের চিরন্তন ফয়সালয়।

ফেরেস্তার ছায়া আসে, জীবন-যাত্রা সঙ্গী,
আল্লাহর পথে তারা দ্যুতি, শান্তির অমূল্য রঙ্গী।
কোরআন হাদিসে বর্ণিত, এই বাহিনীর মহিমা,
আল্লাহর আদেশে স্থির, হৃদয় হয় তাদের কাছে মমিমা।

ফেরেস্তার আলোয় ভরে জীবনের প্রতিটি ছায়া,
আসুক সেই দিন, শান্তি ছড়াক, হৃদয় হোক আলোর মায়া।
---------------------------------------------


০৬-১১-২০২৫

শয়তান

 শয়তান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

শয়তান তো এক শত্রু, মনের অন্ধকার,
আল্লাহর পথে বাঁধা, কলঙ্কের আগুনের ধার।
মোজেসের আগে থেকে, ছিল সে বিপথগামী,
মানুষের হিতের শত্রু, পাপে ডুবে থাকায় রাহী।

আল্লাহর আদেশে, সেজদা সে করল না,
গর্বে ভরা মন, আল্লাহর বিরুদ্ধতা।
অদৃশ্য এই শয়তান, দেখায় পাপের পথ,
কুরআন আর হাদিসে, চিহ্নিত তার অন্তর্ভুক্ত।

বলেছে আল্লাহ, "শয়তান তোমাদের শত্রু,
তাকে শত্রু জানো, এ পথেই যাও না ভুল।"
তার মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে ফেলে সত্য,
সিদ্ধান্ত নেয় যারা, শয়তানই তাদের মিত্র।

হাদিসে বলেন নবী, "এ চিহ্নিত শত্রু,
যার কর্ম সকল পাপের, তাকে পরিহার করো।”
সে পথ হারায়, আর দুষ্টুমিতে পরে,
আল্লাহর রহমত থেকে, সে নিঃশেষ হয়ে যায়।

মনে রেখো, আল্লাহর ফেরেশতারা পাহারা দেয়,
শয়তান কেবল ঘুরে, যে অন্ধকারে চলে যায়।
ধৈর্য ধরো, আল্লাহর পথেই হেঁটো,
শয়তান সবসময়ই, তোমাদের পথের মঞ্চের নয়।
------------------------------------------------------


০৬-১১-২০২৫

পরকিয়ার অভিশাপ

 পরকিয়ার অভিশাপ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************************

ওহে মানব, শুনো হে শুনো, পরকিয়া হারাম,
ঝুলছে ফাঁদে জীবন, জ্বলছে সংসারের ধাম।
কোরআন বলে, “নৈকট্য যেও না ব্যভিচারের,”
সে পথ অন্ধকার, জাহান্নামের আগুনের।

হাদিসে নবী বললেন, "লজ্জা ঈমানের অর্ধেক,"
যে হারায় তা, পায় শয়তানের অমোঘ লেক।
বাংলার গাঁয়ে ঘরে ঘরে কান্নার ধ্বনি বাজে,
ভালোবাসার নামে মানুষ ডুবে পাপে সাজে।

তালাকের শব্দে কেঁপে ওঠে নীরব রাত,
চুপচাপ কাঁদে স্ত্রী, ভাঙে সংসার, নিঃশেষ প্রভাত।
বিচ্ছেদের কাগজে শুকায় প্রেমের রঙিন ফুল,
পরকিয়ার ছোঁয়ায় হয় জীবন অচেনা ভুল।

সন্তান এতিম হয়ে ঘুরে, বলে, “আমার মা কোথায়?”
বাবা মায়ের ছায়া পায় না, দুঃখে বুক ফাটায়।
বিদ্যালয়ের মাঠে হাসি হয় মলিন,
ভালোবাসার নামে কষ্টের হয় বিলীন।

লজ্জায় ঝুঁকে পড়ে মুখ, সমাজ করে তিরস্কার,
বংশের সম্মান মাটিতে মিশে যায়, হয় লজ্জার ভার।
কেউ সহে না অপমান, কেউ ঝাঁপ দেয় মৃত্যুর ছায়ায়,
আত্মহত্যার খবর ছড়ায়, কান্না ওঠে নিঃশেষ মায়ায়।

বিচ্ছিন্ন নারী পুরুষ হয়, শূন্য ঘরে ধ্বংসের গান,
ভালোবাসার নামে মিথ্যা, তাতে শয়তানের টান।
রাতের ঘুম হারায়, স্বপ্ন হয় বিষাক্ত আগুন,
পরকিয়ার পথে সুখ নয়, শুধু পাপের ধ্বংস ধুন।

কবরেও শান্তি নেই, শাস্তি ভয়ংকর ভার,
আগুনে জ্বলে আত্মা, চিরন্তন ধ্বংসের পার।
আল্লাহর রোষে ভীত পৃথিবী, আকাশ গর্জে ওঠে,
হারাম প্রেমে লিপ্ত প্রাণ জ্বলে জাহান্নামের গহ্বরে।

ফিরে চলো মানব, তওবা করো হৃদয়ের আলোয়,
রক্ষা করো ঘর-সংসার, চলো ঈমানের পালোয়।
পরকিয়া ছায়া ত্যাগ করো, ধরো আল্লাহর দীন,
পবিত্র প্রেমেই লুকায় সত্য সুখের দিন।
--------------------------------------------------------


০৬-১১-২০২৫

মসজিদের চাষাবাদ

 মসজিদের চাষাবাদ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

মাটি নয়, নয় ধান-ভূমি, নয় শস্যের ডালি,
মসজিদ হল বীজ বোনার, আল্লাহর দিকনির্দেশের কালি।

হাতের কাজ নয়, পায়ে শস্য বোনার নয় ধান,
হৃদয় সেচে দাও নেকি, করো সালাত ও ইমান।

সদকা, জাকাত, নফল, তওবা – এ বীজেরা,
মসজিদের জমিতে জন্মাবে নেকির চারা।

জুমার দিনে ভিড় নয় কেবল নামাজের সাজ,
ভালো কাজের বীজ বোনো, করো পাপমুক্তির আসাজ।

মসজিদ চাষাবাদে, লাভ হয় আখিরাতের ধন,
মৃত্যুর পরও ফসল দেয়, করিম আল্লাহর অনুগ্রহজন।

দোয়ার সেচে গড়ে ওঠে মন ও সমাজের ফুল,
নৈকট্য আল্লাহর কাছে, থাকে হৃদয়ে সূর্য ঢুল।

মসজিদের চাষে শুধু পুঁজি নয়, নয় ধন,
নেতৃত্ব, ন্যায়, প্রেম ও শান্তি বোনো, হোক সকলের মন।

যে চাষী হয় ধৈর্য, ভক্তি ও নেকি মিলে,
ফসল হয় নাজাতের, আল্লাহর কাছে হবে কিলে।

সুতরাং মসজিদের চাষাবাদ, বুঝো এই সহজ কথা,
নেকি বোনো, দোয়া দাও, জীবনে করো সৎতা।
-----------------------------------------------------


০৬-১১-২০২৫

প্রতিবেশীর হক

 প্রতিবেশীর হক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

প্রতিবেশীর প্রতি দয়া করো, হৃদয় হোক খিরাতে ভরা,
সন্তান-বৃদ্ধ-দরিদ্র সবাই পায় আল্লাহর রহমতে সরা।

সৎকর্মে আল্লাহ বলেছেন, দাও নিকটতমকে সেবা,
প্রতিবেশীর দুঃখ ভাগ করো, দাও মধুর হাম্মতেবা।

যে হাসি দেয় সাহায্য করে, সে পায় আকাশের নূর,
হাদিসে বলা, সদা নেক হোন, ছড়াও মমতার সুর।

চোখে চোখ রাখো সদয়, মন দিয়ে দাও মেহেরবানী,
যে দুঃখে ভরা, তাকে দাও সহায়তার উষ্ণ হানী।

নিন্দা নয়, বিরোধ নয়, হোক হৃদয়ে ভ্রাতৃত্ব,
প্রতিবেশীর শান্তি রক্ষা করো, আল্লাহর আনন্দ প্রীতি।

যে দরজা খোলা, সে বাড়ি আল্লাহর কাছে উঁচু,
প্রতিবেশীর জন্য জীবন হোক সত্য ও ন্যায়ের ছুঁচু।

চলমান ভালোবাসায় দাও হাসির উষ্ণ ছোঁয়া,
প্রতিবেশীর দুঃখ ভাগ করো, রাখো হৃদয়ে ভালো ধোঁয়া।

যে সাহায্য চায়, বিনা বিনিময়ে দাও আনন্দের ধারা,
প্রতিবেশীর হক রক্ষা করো, আল্লাহর রহমত ছড়ায় পারা।

প্রতিবেশীর প্রতি সদয় মন হোক ধ্রুবক তারা,
যেন আকাশের নীলা, আলোর ছায়া ভরে ঘর ভরা।

চোখে চোখে হাসি, কথায় সদয় মধুর গান,
প্রতিবেশীর জন্য থাকুক সর্বদা শুভকামনার মান।

প্রতিবেশীর হক রক্ষা করো, মানো আল্লাহর আদেশ,
যেখানে ভালোবাসা, সেখানে নেই কোনো ভ্রান্তি-বেশ।
----------------------------------------------


০৬-১১-২০২৫

হকের বণ্টন

 হকের বণ্টন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

আল্লাহই মালিক সমস্ত, মানুষ শুধু মাসুলিয়াত,
তাঁর দেওয়া শারিয়াহ মানো, ভুলে যেও না হায়াত।
পিতা-মাতা রেখে যাওয়া, ভাই-বোন, সন্তান,
সবার আছে হক্ক, রাখো সদা ন্যায়ের মান।

সূরা নিসা’য় বাণী আছে, স্পষ্ট যেমন কথা,
পুরুষ যেমন পায় ভাগ, নারীরও অধিকার যথা।
অন্যায় যদি করো, হারাবে মালিকিয়াহ,
বরকত চলে যাবে দূরে, হারাবে সাকুন সাগরিয়া।

বোনের হক মারিলে, ভাই তুই নিঃস্ব হবি,
আল্লাহর আজাব নেমে, হৃদয় হবে দগ্ধ ও রাব্বি।
যে দেয় মিথ্যা দলিল, চুরি করে হক্ক,
সে কিয়ামতের মাঠে পাবে শোক, দুঃখের ঢক্ক।

ন্যায়ের বণ্টন করো, রাখো আল্লাহর ভয়,
অন্যের অধিকার দিলে, সুখে থাকবে হৃদয়।
যে রাখে হকদারের হক, সে আল্লাহর প্রিয়,
তার ঘরে বরকত নামে, রাহমতের নিড ত্রিয়।

মনে রেখো সম্পদ শুধু, এক আমানাত দান,
এটি নয় গর্বের বস্তু, নয় অহংকারের প্রাণ।
কোরআনের বিধান মানো, চলো সরল পথে,
ন্যায়ের বণ্টনেই লুকায় সুখ, চিরমুক্তির ফারিশতা।
------------------------------------------


০৬-১১-২০২৫

তৃণমূল কর্মী

 তৃণমূল কর্মী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************************************

তৃণমূল কর্মী — নামটি যেন ত্যাগের প্রতীক,
দলের প্রাণ, রক্তে মিশে আছে তার শপথ অনন্ত দীপিক।
হাতের ফোস্কা, ঘামে ভেজা কাঁধ, রাত্রির ঝড়েও দাঁড়ায়,
নেতার নামে শ্লোগান তোলে, নিজের ক্ষুধা ভুলে যায়।

জেল, জুলুম, হুলিয়া— তার জীবনের অলংকার,
বুকে চেপে রাখে দুঃখ, তবু মুখে হাসির অঙ্গার।
গৃহে ক্ষুধার কান্না বাজে, সন্তান চেয়ে থাকে চেয়ে,
তবু বলে— “দল বাঁচুক আগে, আমায় রাখো পরে।”

মিছিলের রাস্তায় লাঠির ঘা, তবু সে পিছু হটে না,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক পেতে দেয়, মৃত্যু ভয় পায় না।
ভোটের মাঠে ভোর থেকে রাত, শত্রুর ছোড়া গুলি খায়,
নেতা হাসে টেলিভিশনে, তৃণমূল কবরের মাটি ঢাকে!

যে বীজ বোনে মাঠে মাঠে, ফসল ফলায় রক্তে,
সে-ই কর্মী পরে ফেলে রাখা হয়— ইতিহাসের খাতায় ভ্রান্তে।
আর যাদের ঘামে জন্মে ক্ষমতা, তারা তো ভোগে বিলাসে,
গাড়ি, বাড়ি, পদ-পদবি— সবই ভাগ হয় উঁচু আসনে।

তৃণমূল কর্মী তখন দাঁড়ায় লাঞ্ছিত, নত, নিঃস্ব,
নেতা বিদেশে, সে লুকায় জেলে— তারই নামে মামলা রচে কৌশল।
পুলিশের বুটে পিষ্ট হয় তার বুক,
আর তার চিৎকার ঢেকে দেয় মাইকের ধ্বনি, “জয় দল!” — এই সুখ।

যে দেয় রক্ত, যে রাখে দলের মান,
তার ঘরে নেই চাল, নেই চিকিৎসা, নেই সম্মানের স্থান।
দলের নামে সে দেয় প্রণাম, নেতা নেয় তিরস্কার,
তবু বলে— “আমার দলই আমার ঈমান, আমিই তৃণমূলের কারিগর।”

একদিন হয়তো ইতিহাস লিখবে রক্তের কালিতে তার নাম,
যে কর্মী ছিল রাজনীতির মূল, অথচ পেলো না সম্মান!
বলে যাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম —
“তৃণমূল কর্মী হলো সেই অজানা শহীদ,
যার ঘামে দাঁড়িয়ে থাকে নেতাদের রাজপ্রাসাদ,
আর সে থাকে পথে, নিঃস্ব, পরিত্যক্ত, অথচ অবিচল বিশ্বাসে দৃঢ়!”
---------------------------------------------------------


০৬-১১-২০২৫

Wednesday, November 5, 2025

পরিবারতন্ত্রের দৈরাত্ত্ব

 পরিবারতন্ত্রের দৈরাত্ত্ব

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************
কিসের রাজনীতি করো হে নেতা, বলো?
পরিবারতন্ত্র গ্রাসিয়াছে তোমার স্বপ্নের ঢল, হে প্রহর!
মিছিল-মিটিং পথ অবরুদ্ধ, ঘরে ফিরো শূন্যে,
জুলুম হুলিয়া অপমানে ভরা, শুধুই তোমার, প্রভু হে!

নও তুমি কারো স্ত্রী, নও কারো সন্তান, নও রক্তের ধারায়,
যত বড় নেতা হও, বঞ্চিত তোমার ন্যায্য ধারায়।
নমিনেশন বঞ্চিত, পদবী শুধু স্বপ্নের নেশা,
বিরোধী দলে হ’লে হয় তোমার ঘর ফাঁকা, কারা দরজা বন্ধ রেশা।

পরিবারতন্ত্রের শিকলে বাঁধা, গণতন্ত্র অধরা,
যোগ্যতা থাকলেও তুমি অযোগ্য, এই রাষ্ট্রের পর্দা।
বিক্রি হয়ে যায় নেতা নেত্রী, মন্ত্রি মালিকের তখলিক,
অর্থ-সাম্রাজ্যে ভেসে যায় ক্ষমতার শিরে শিরিক।

তোমার আশা, তোমার আকাঙ্খা, সবই শুধুই শূন্য,
পরিবারতন্ত্রের ভীড়ে, ক্ষুদ্রতাও হয়ে যায় বন্ধ।
নিয়ম-কানুনের নাম কেবল, কাগজে মুদ্রিত,
বাস্তবতা হলো ভীতি, ভয়, আর শাসকের বৃত্ত।

হে নেতা! তবু ক্ষয় হোক না,
সত্যের দীপ জ্বালো অন্তরে, আঁধারে ভাসাও আলো।
পরিবারতন্ত্রের দৈরাত্ত্বে নয় হোক ক্ষমতার জয়,
গণতন্ত্রের শিখা জ্বালো, মুক্ত হোক জনের অহংয়।

তোমার রক্তে বাজুক স্বাধীনতার সুর,
অবিচল, অদম্য, হোক প্রজাদের মধুর।
যুদ্ধ হোক অন্ধকারের বিরুদ্ধে, জুলুমের জালে,
বাংলার মাটিতে জাগুক স্বাধীনতার নতুনrale।

পরিবারতন্ত্রের দৈরাত্ত্ব আজও আছে, কিন্তু হে নেতা,
জনগণ জাগুক, ক্ষুধার্ত হৃদয় হোক অটল, অদম্য ভাতা।
---------------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

নিত্তি

 নিত্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************************

হে মানব, মনকে কর প্রজ্ঞার আলোয় জাগ্রত,
নেতিবাচক চেতনা দাও বিদায়, দাও তুষ্টি।
সৃষ্টিকর্তার পথে চল, না ভ্রান্তির খোঁজে,
নিশ্চিত নিত্তি শেখে সে, যে রাখে দিশারি।

আল্লাহ বলেছে: "হে মুমিন, সত্য ও ন্যায়ে থাক,
অপরাধ থেকে দূরে থাকো, হৃদয় হবে মুক্ত।"
প্রভুর নীরব আদেশে লুকানো শক্তি,
মোমিনের অন্তরে জাগায় আলোর মূর্তি।

নেতিবাচক ইচ্ছা ত্যাগ করো, হে প্রিয়,
সৎকর্মে জীবন ভাসাও, করো ভ্রাতৃত্বের বাণী।
হাদিস বলে: “সত্যবাদী মুক্তি পায়,
ধৈর্যশীলই ধনশালী হরদিনের স্বপ্নে।”

হে প্রাণ, নিত্তি শুধু কেবল শব্দ নয়,
এটি জীবনের পথে পদচিহ্ন, রূপান্তরের সোপান।
অহংকার, লোভ, লালসা, হিংসা ত্যাগ করো,
প্রকৃত নিত্তি দেখাবে আল্লাহর স্নেহের চিহ্ন।

নিশ্চয়, নিত্তি হল হৃদয়ের শান্তি,
মানবের জীবনের সত্যিকারের গহ্বর।
হে মুমিন, চলো সৎকর্মের পথে,
সত্য ও ন্যায়ের আলোয় জ্বলো চিরকাল।
---------------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

ভয়ঙ্কর রাজনীতি

 ভয়ঙ্কর রাজনীতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************************

এদেশ বিপন্ন আজ; জানি আজ নিরাশ জীবন—
মৃত্যুরা প্রত্যহ সঙ্গী, শাসকের আক্রমণ অবিরাম।
ভয়ঙ্কর রাজনীতি আঁকে রক্তের অ্যালপনা,
কানে বাজে দমন-পীড়নের নিঃশব্দ আর্তনাদ।

তবুও সুদৃঢ় আমি, আমি এক ক্ষুধিত নাগরিক,
আমার সম্মুখে শত্রু: হিংসা, বিশ্বাসঘাতকতা, লুটপাট।
শত্রুর আঘাত, দুর্নীতি উদ্দীপ্ত শপথে,
দমন-পীড়নের ছায়ায় প্রতিদিন নিভে যায় আশা।

কঠিন প্রতিজ্ঞা—স্তব্ধ কারখানায় শ্রমিকের দৃঢ় সংকল্প,
প্রত্যেক নির্বাক যন্ত্র প্রতিবাদে গর্জন করে।
আমার হাতে স্পর্শে প্রতিদিন প্রতিরোধের ধ্বনি,
স্মরণ করায় পণ; অবসাদকে দেই বিসর্জন।

ভয়ঙ্কর রাজনীতির যন্ত্রের বুকে যুদ্ধ ঘোষণা,
যুদ্ধ আমার যুদ্ধ, তারই পথে গোনা দিন।
অদূর দিগন্ত আসে ক্ষিপ্র দিনের জ্যোতি,
আমার দৃষ্টিতে লাল প্রতিবিম্ব মুক্তির পতাকা।

শত্রুর স্বৈরাচারী শক্তি, ফ্যাসিবাদ, মবতনত্র—
প্রচুর প্রচুর দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখল-মীরজাফরি।
আমার বেগান্ধ হাত, অবিরাম প্রতিরোধের প্রসব,
প্রচুর প্রচুর সৃষ্টির উৎসবে জয় হবে নিশ্চিত।

হে জনতা! ভয়ঙ্কর রাজনীতি ভাঙো আজ,
হিংসা, দমন, বিদ্বেষ—সব অন্ধকার দূর করো।
সততার সোনার তীর নিক্ষেপে বিজয় আনবে,
ভয়ঙ্কর রাজনীতি চিরদিন হারাবে আলোয়।
-----------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

রাজনীতির মুনাফিক

 রাজনীতির মুনাফিক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
হে জনতা! শোনো, শোনো তাদের নাট্যরঙ্গ,
মঞ্চে হাসি, ভেতরে বিষের অন্ধকার কঙ্গ।
কথায় তারা স্বাধীনতার গান,
কিন্তু ঘরে নিয়ে আসে শুধু লুটের মান।

নগর-বাংলায়, গ্রামে গ্রামে শোনা যায় চীৎকার,
জনতার ঘামে, দুঃখে, বিষাদে তারা করে কারবার।
মিথ্যার বেলায় বোনা তাদের কথার জাল,
শান্তির মুখোশে লুকানো লোভের চাল।

পদে পদে তারা বোনে ষড়যন্ত্রের তন্তু,
ক্ষমতার আসনে বসে, লুটে নেয় জনতার অন্তঃকরণ।
প্রতিশ্রুতিতে মোড়া, কিন্তু সত্যের অবহেলা,
জনতার চোখে পড়ে তাদের দোষের ঝাঁপেলা।

হে তরুণ! চোখ খোলো, শোনো মনের স্বর,
মুনাফিকের রাজনীতি বয়ে আনে কেবল ধ্বংসের ঝড়।
দুঃখ, ক্ষুধা, দারিদ্র্য—এ সব তাদেরই সৃষ্টি,
স্বার্থের পেছনে তারা ভুলিয়ে দেয় জাতির সৃষ্টিশক্তি।

তাদের রাজ্য নয়, তাদের খেলা নয়,
অন্যায়, অবিচার, লোভ—এই তাদের ছায়া ছায়া ছায়।
হে মানুষ! রুখো তাদের, করো বিদ্রোহের ডাক,
নির্দয় মুনাফিকের রাজনীতি হবে চিরকাল ধ্বংসপ্রদর্শক।
------------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

তরুণীর মুখে গাঁজা

 তরুণীর মুখে গাঁজা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

তরুণীর মুখে গাঁজা—ধোঁয়ার মতো ভাসে দুঃখ,
চোখে তার বিষণ্ন আগুন, হৃদয়ে নিভে গেছে সুখ।
যে মুখে ছিল হাসির ফুল, আজ সে মুখে মৃত্যুর ছোঁয়া,
তরুণীর মুখে গাঁজা—ভালোবাসা আজ ছাই হয়ে যায় গো ছোঁয়া।

স্কুলের চৌহদ্দি পেরিয়ে, বইয়ের গন্ধ হারায় কবে,
কলেজপথে নয় আর জ্ঞান—নেশার ঘোরে মনটা ভবে।
অলি-গলি, পার্কের ছায়ায়—ধোঁয়া ভাসে নির্ভয় মনে,
তরুণীর মুখে গাঁজা—লজ্জা মরে জনতার ক্ষণে।

চুলে তার জড়ায় গন্ধ ধোঁয়ার, চোখে ঝুলে নিঃশেষ রাত,
প্রেমের নামে শরীর বিকায়, মরে ভিতরে মানবজাত।
হায়, যে কন্যা মায়ের কোলের ফুল, আজ পথের পাশে ছাই,
তরুণীর মুখে গাঁজা—নির্মলতা আজ মৃত্যুর ঠাঁই।

বন্ধু হাসে, প্রেমিক হারায়, নামটি মুছে ধোঁয়ার ঢেউ,
যে পথ ছিল আলোর দিকে, আজ তা শুধু অন্ধকার বেউ।
বাবার মুখে নীরব কান্না, মায়ের চোখে প্রশ্ন ঝরে,
“কোথায় গেল আমার মেয়ে?”—ধোঁয়ার কুয়াশা ঢেকে মরে।

শেষ রাতে নিভে যায় জীবন, গলায় কাঁপে নিঃশেষ সুর,
স্বপ্ন মরে, শরীর কাঁদে, চোখে ছায়া নরকের দূর।
তরুণীর মুখে গাঁজা—ধোঁয়ার ভেতর ফেরেশতা হারায়,
বেঁচে থেকেও সে মৃত এখন—পাপের শিকলে প্রাণটা যায়।
---------------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

অভিশপ্ত মোটর বাইক

 অভিশপ্ত মোটর বাইক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************

শুনো হে তরুণ! বেগের মত্ততায় ডুবে যেও না—
পথে ঝরে প্রতিদিন কিশোর রক্তের বেদনা,
চাকার ঘূর্ণিতে মিশে যায় মায়ের আর্তনাদ,
হাসিমুখ সন্তানেরে কবর দেয় আজ।

হেলমেট পড়ে না, বুকভরা দম্ভে হাসে,
রাতের রাস্তায় উড়ে যায় আগুনের ভাষে!
বন্ধু বলে—“চলো দোস্ত, উড়ি বাতাসে আজ”,
অতঃপর নিথর দেহ — নিঃশব্দ সাঁজ!

বাংলার রাস্তায় লাল হয়ে যায় সড়ক,
মায়ের চোখে তখন ঝরে শোকে তরল লবণ ঢলক,
বাবার কাঁধে সেই একসময়ের বীর,
আজ শুধু কাফনের ফুল, নিঃশেষ ধূলির নীর।

তরুণী হাসে পাশে বসে, বাতাসে ওড়ে ওড়না,
অজান্তে মৃত্যুর ছায়া ফিসফিস করে কোণা,
"ধীরে চলো সন্তান আমার"— বলে মেঘের গলা,
তবুও গতি বাড়ে, বাজে নিষ্ঠুর বেলা।

এদেশে রোজ ভোরে শিরোনামে উঠে নাম,
“আরও এক তরুণ গেল — ট্র্যাজেডির দাম!”
ফেসবুকে ভাসে ভালোবাসার ছবি,
আর পেছনে কাঁদে মা — ভাঙা প্রার্থনার নবি।

তরুণ! মোটর বাইক নয় — তা যেন রাক্ষসের মুখ,
যেখানে প্রবেশ মানে মৃত্যু, ব্যথার সুখ,
বেপরোয়া গতির আগুনে পোড়ে জীবন,
নির্দয় সড়কে পড়ে থাকে রক্তরঞ্জিত মন।

তুমি যে প্রাণ, জাতির আশার প্রতীক,
মৃত্যুর খেলায় নয় — বাঁচাও জীবনের সুরভিত দিক,
থামাও গতি, ফিরাও ঘরে নিরাপদ প্রাণে,
মায়ের কোলে ফিরুক হাসি — কান্নায় নয় টানে।

হে তরুণ তরুণী, মোটর বাইক নয় দম্ভের মঞ্চ,
এ জীবনের আলো রাখো — বেপরোয়া গতি নয় পাঞ্জ।
একটি ব্রেক বাঁচাতে পারে শত জীবনের দান,
বেঁচে থাকাই জয়ের নাম — সেটাই সত্যি মহান!
-----------------------------------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

অভিশপ্ত মোবাইল

 অভিশপ্ত মোবাইল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************

হে মোর শিশুর প্রাণ, যাকে তুমি করেছ দাস,
অভিশপ্ত মোবাইলের নেশায় হারায় তার আশ।
খেলনা, হাসি, বন্ধুত্ব, সব নিভে গেছে ধূলিতে,
অভিশপ্ত মোবাইলের বন্দনে লুকায়ে শিশুর মন।
অভিশপ্ত মোবাইল, হবে শিশুরে সব দুঃখের সমান।

রাত্রি জেগে, স্বপ্ন ভেঙে, চোখ লাল অশ্রুযেতে,
পাঠশালার পাতা শূন্য, হৃদয় ভারী বিষাদে।
অভিশপ্ত মোবাইল ঝলকানি শরীর জ্বালায়,
হাসি বন্ধুর নিঃশব্দে নিভে যায় ধীরে।
অভিশপ্ত মোবাইল, হবে শিশুরে সব দুঃখের সমান।

ফিরে দাও মাঠের খেলা, ফিরাও শিশুর আনন্দ,
নীরব ঘরে ফিরে আসুক খুশির আলো।
মনের ব্যথা ভরে উঠুক নতুন আশায়,
দীর্ঘ সময় নিভে যাওয়া হাসি জাগুক আবার।
অভিশপ্ত মোবাইল, হবে শিশুরে সব দুঃখের সমান।

মায়ের কোলে ছিল যে শান্তি, বাবার বুকে প্রেম,
তোমার ছলে সব হারায়, শিশু ভয় পায় গোপনে।
অভিশপ্ত মোবাইল দাও না সে নির্দোষ প্রাণে,
শিশুর জীবন হোক পূর্ণ, আনন্দে ভরে দিন-রাত্রি।
অভিশপ্ত মোবাইল, হবে শিশুরে সব দুঃখের সমান।
-------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

জনতার পিঠে ছুরি

 জনতার পিঠে ছুরি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

জনতার পিঠে ছুরি, রক্তে লেখা বিপ্লব,
দুর্নীতি লুটতরাজে সব শহর-গ্রাম ভেঙে ত্রাস।
শাসকের জুলুমে জ্বলে অগ্নি আশা,
অত্যাচারের ছায়ায় নিভে না প্রাণের ভাষা।
কাঁধে হাতকড়ি, গলায় নীরবতার দৃষ্টি,
নির্যাতিতের চোখে জাগে বিদ্রোহের শিখা ক্ষণিক।

ফ্যাসিবাদ, স্বৈরবাদ, মববাদের তাণ্ডব,
ভয়ঙ্কর নীরবতা গড়ে দেয় জনতার বাঁধব।
ভোট চুরিতে লেখা শূন্য, স্বপ্ন ভেঙে যায়,
সাম্প্রদায়িক আগুনে সব সেতু ঝড়ে ভাসে ছায়ায়।
দেশবিরোধী চক্রান্তে থমকে যায় শান্তির ধারা,
কর্মহীন কলকারখানায় বাজে হতাশার হারা।

সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি, দখলবাজ দাপট,
রক্ত চুষে খায় ক্ষমতার ভোজে মানুষের দ্যাপট।
জেল জুলুম হুলিয়ায় কাঁদে নিরীহ প্রাণ,
জনতার কণ্ঠে জাগে বিদ্রোহের ধ্বনি মহান।
শ্রমিক-গ্রাম-নাগরিক হোক এক অটল শক্তি,
হাত মিলাও, দাঁড়াও, বিপ্লবের ডাক ডাকো শক্তি।

জনতার পিঠে ছুরি ভাঙবে, শৃঙ্খল ছিন্ন হবে,
স্বাধীনতার মাটিতে সত্যের পতাকা উড়ে গর্বে।
তীব্র বিদ্রোহের সুর বাজুক সব গলায়,
কণ্ঠে ন্যায়, হৃদয়ে সাহস—শক্তির ঝড় হোক ছলায়।
অপরাজিত আত্মায় জ্বলে উঠুক দেশপ্রিয় আলো,
প্রহরের মতো দাঁড়াও, আর হবে না অন্যায়ের শ্যালো।
--------------------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

হে জালিম

 হে জালিম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************

হে জালিম! ওঠো না দাপটে, নয়তো ঝড় বইবে,
মাটি-আকাশ চিৎকার করবে, দুঃশাসন তোমায় ছুঁবে।
অন্যায়ের দেউল ভেঙে যাবে, কোরআন শিখায়,
সত্যের আগুনে দম্ভ তোমার চূর্ণ হবে বারবার।

হে জালিম! শোনো বিদ্রোহের ঝাঁঝালো ডাক,
নির্দোষের রক্তে লেখা হবে তোমার কুপ্রতাপ।
ধৈর্য ধরো বলে হাদিস, সত্য জয়ী হবে,
বিপ্লবী হৃদয় দমনে পারবে না দুঃশাসকের তেজ।

হে জালিম! অন্ধকারে দাপট করো না, আলো আছে কোণে,
যে শাসন অন্যায়ে বাঁধা, সে দিনের শেষে ধূলিতে মিলবে।
নির্দোষের কান্না, শোষণের ক্রন্দন চূর্ণ করবে তোমার তলোয়ার,
আল্লাহর ন্যায়ে উঠবে বিপ্লব, ভেঙে যাবে জালিমের বাঁশি।


হে জালিম! মাথা নোও না দম্ভে, প্রলয় অপেক্ষা করছে,
নবীর হুকুম—“সত্যের পাশে থাকো, অন্যায় চিরস্থায়ী নয়।”
তোমার ক্ষমতা কেটে যাবে, আর থাকবে না প্রতারণার ঠাঁই,
বিপ্লবী শব্দে ধ্বনিত হবে, শান্তি ছড়াবে ধরণায়।

হে জালিম! ভয় করো, অনুতাপ জাগাও অন্তরে,
কোরআনের আলো দেখাও, দুঃশাসন হোক না দীর্ঘায়ু।
হিসাবের দিন কাছে, সে দিন হবে চূড়ান্ত,
যে শাসনই করো, আল্লাহর ন্যায়ে ধূলিসাৎ হবে অব্যাহত।

হে জালিম! দেখো তোমার দাপটে কি ভয়াবহ অগ্নি,
নদী-মাটি কাঁপছে, নিপীড়িতের রক্তে চূর্ণ।
তোমার রাজ্য হবে ধূলি, তোরণ ভেঙে পড়বে,
সত্যের আগুনে পুড়ে যাবে দুঃশাসকের দেহ।

হে জালিম! প্রতিশোধের তান্ডব ঘরে ঘরে বাজে,
অন্যায়ের খোঁজে দাঁড়াবে কেউ পারবে না।
তোমার দুঃশাসন হবে ইতিহাসের লজ্জা,
প্রলয়প্রেমী বিচার তোমায় শিখাবে শিক্ষা।

হে জালিম! ভয় করো, অনুতাপ আনো অন্তরে,
কোরআনের আলো দেখো, অন্যায়ের পথ শেষ হয়েছে।
নিশ্চয়ই চূড়ান্ত হিসাবের আগুন তোমাকে পোড়াবে,
অন্যায়ের শক্তি শূন্যে মিলিয়ে যাবে চিরদিনের মতো।

হে জালিম! জেগে উঠেছে অগ্নির নদী,
বিদ্রোহী হৃদয় ঝরছে বজ্রধ্বনি।
তোমার দখল কাঁপবে, অন্ধকার ছিঁড়ে যাবে,
সত্যের পতাকা উড়ে যাবে, ন্যায়ের রথে।

হে জালিম! আর থাকো না দম্ভে, বিদ্রোহ চরমে,
নবীর আদেশ—সত্যের পাশে দাঁড়াও।
প্রলয় আগুনে পুড়ে যাবে দুঃশাসনের দেউল,
বিপ্লবী তরঙ্গ উঠবে, ন্যায়ের জয় চিরস্থায়ী হবে।
----------------------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

মানবিক ডাক্তার

 মানবিক ডাক্তার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

ডাঃ মতিলাল বর্মন হাসি বয়ে আনে প্রভাতে,
রোগীর দুঃখে ছায়া হয়ে দাঁড়ান যে রাতে।
কাপাসিয়া বাজারে চেম্বার আলোয় ভরে,
ঘরে ঘরে পৌঁছে যান, সেবা তার ছড়িয়ে বেড়ে।

রাত্রি নাই, দিন নাই—যে ডাক আসে সাথে,
প্রবীণ শরীরে বয়ে নেন আশা অঙ্গীনে।
অহংকার তুচ্ছ, প্রেমময় সেবাই তার সঙ্গী,
মানবতার দীপ জ্বলে হৃদয়ে চিরন্তন অমল সঙ্গী।

ছোট বড় সকলেই জানে তোর নাম,
নিবেদিত প্রাণে দান করে তুই সেবা অমল ধাম।
হাসি দিয়ে ভয় দূর করে তুই,
দুঃখের বেদনা মুছে যায় তোর স্নেহময় ছোঁয়ায়।

প্রতি পাতা, প্রতি ছায়া শান্তি বাঁধে,
রোগীর কষ্টে ভাগি হয়ে তুই দুঃখ হারিয়ে পড়ে।
সৃষ্টি কর্তা দান করুক দীর্ঘায়ু তোর,
চিরন্তন হোক এই সেবক, মানুষের জন্য আলো সরে।

রোগীর কষ্টে তোর মমতা অমল,
প্রাণের ছোঁয়ায় দূর হয় সব দুঃখকাল।
ডাঃ মতিলাল—নাম নয়, গুণাবলীর প্রতীক,
কাপাসিয়ার মানুষ স্মরণ করবে চিরকাল স্নেহময় দীক্ষা।

হাসি দিয়ে দুঃখ দূর কর, দাও শান্তি প্রভাতে,
নিবেদিত প্রাণের সেই আলো জ্বলে চিরন্তন রাতে।
মানবতার প্রতিমা, সেবার চিরন্তন দীপ,
ডাঃ মতিলাল বর্মন—নাম নয়, গুণাবলীর জীবন্ত মীপ।
-----------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

কাপাসিয়ার সেন্টমার্টিন

 কাপাসিয়ার সেন্টমার্টিন

কলমেঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************************

ধাঁধার চর, শীতলক্ষ্যা-ব্রক্ষপুত্র মোহনায় জন্মেছে প্রাণ,
কাপাসিয়ার মাঠে খেলে নদীর স্রোতের গান।
শিবপুর-মনোহরদী, কালিগঞ্জ পাশে সবুজের আলো,
বাংলার চরে বয়ে যাক আনন্দের ঢেউকালো।

পেয়ারার বাগান দুলে বাতাসে খুশির ছায়া,
আম ও কাঁঠালের ডালে পাখির কিঁচির মায়া।
আলুর ক্ষেতে হাসে উর্বর মাটির মন,
চরের সৌন্দর্যে ভরে গাজীপুর-নরসিংদীর অমলিন ধন।

বর্ষার ঢেউয় ভেসে যায় স্বপ্নের রাত,
চরের প্রতিটি কোণে ঝরে সুখের বাত।
শীতকালে শান্ত নদী, মায়ায় ভরা জল,
বাংলার হৃদয়ে বাজে ধাঁধার সোনার কল।

ভাওয়াল রাজার খাজনায় চাষি পেয়েছিল ধন,
মাতব্বর কলসিটি নদীতে ভাসায় মন।
পর্যটক আসুক, হোক উৎসবের খনি,
চরের সৌন্দর্যে ভরে গগন রূপচন্দ্রা।

মাটি উর্বর, ফলনশীল স্বপ্নের মন,
কাপাসিয়ার সেন্টমার্টিন হোক বাংলার জন।
হে শাসক! রক্ষা করো নদী-মাটির রত্ন,
ভূমি ও জলই আমাদের অমূল্য বিন।

চরের সৌন্দর্যে হোক জাতির গর্ব,
বাংলার গানে ভেসে যাক চিরদিনের শব্দ।
পাখির কিঁচিরমিচিরে ভরে উঠুক আকাশ,
ফুলের সুগন্ধে ভাসুক হৃদয়ের পাথর।

নদীর ঢেউয়ে মিলেছে আকাশের আলো,
পাখির গানে ভরে উঠেছে প্রতিটি পাল।
চরের প্রতিটি কোণে সুখ-স্মৃতির মেলা,
বাংলার হৃদয়ে বাজুক চিরন্তন সঙ্গী-খেলা।
-------------------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

নদী দখল

 নদী দখল

কলমেঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

হে দখলদার! থামো, লজ্জা কোথায় তোমার?
মায়ের বুক ছিঁড়ে গড়ো প্রাচীর—সেটাই কি সংসার?
যে নদী দিত জীবন, আজ সে বন্দি শিকলে,
ক্ষমতার মদে মত্ত তুমি, মানুষ নয়, পিশাচের দলে!

তোমার প্রাসাদ গড়ো নদীর বুকে,
মরুক জনতা, মরুক মাছ, কৃষকের সুখে!
আইন তুমি পায়ের নিচে চাপা দাও হেসে,
সিংহাসনের ছায়ায় বসে লুট করো দেশে।

ওই নদীর কান্না শুনতে পাও না কানে?
বাঁধে-বাঁধে মরছে স্রোত, শুকোয় তীরে গানে।
নৌকা আজ নিঃস্ব, জেলে আজ হাহাকার,
তবুও তুমি চাও আরও জমি, আরও ক্ষমতার ভার!

নদী ছিলো জননী, তুমি করলে ক্রীতদাস,
লোভে পাপের স্রোত বইছে সর্বনাশ!
বৃষ্টির জল থামে, মাঠে ওঠে বিষ,
নদী মরে গেলে বাঁচবে কে—জানো কি নিঃশেষ?

জেগে ওঠো জনতা! ভাঙো এই দখল-শৃঙ্খল,
ফিরাও নদীর বুকে তার স্বাধীন স্রোতধল।
নদী বাঁচাও, জীবন বাঁচাও—এই শপথ হোক আজ,
দখলদার, তোর ক্ষমতার দিন শেষ—এই রাজ!
------------------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

বন দস্যু

 বন দস্যু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************************

জাগো হে জনতা! জাগো হে বীর!
সবুজ লুটে নেয় দস্যুর দল নির্দয় ধীর।
কাপাসিয়ার বুকে আজ কান্নার হাহাকার,
বন উজাড় করে হাসে তারা—অধিকারধারী শিকার!

ক্ষমতার ছত্রে ভয় নাই কারো,
আইন প্রশাসন তাদের দ্বারে হারো।
বনবিভাগও নীরব, বুঝি লোভে পা দিয়েছে,
জনতার সম্পদ তারা ভাগাভাগি করে নিয়েছে!

যে গাছ দিত প্রাণবায়ু, ছায়া, সুখের গান,
আজ তা পড়ে রক্তে ভেজা কাঠের মান।
করাতের দাঁতে করুণা নাই, মানবতা নাই,
সবুজ আজ বন্দী, দস্যুর রক্তজমা ঠাঁই!

সাংবাদিক গেল সত্য বলিতে—
ফিরে এল সে ক্ষতবিক্ষত বুকে লিখিতে!
বলে তারা—“ক্ষমতা আমাদের, আইন আমাদের হাতে,”
হে আল্লাহ! এই অন্যায় কবে মুছিবে রাতেতে?

দস্যু নয় তারা—ধরার অভিশাপ,
তাদের হাতে বনভূমি আজ বিলাপ।
ফুল ঝরে, পাখি মরে, নদী কাঁদে বেদনায়,
সবুজের বুক আজ রক্তে রঞ্জিত হাহাকারে।

জাগো হে মানুষ! শপথ করো প্রাণে,
বন বাঁচাও, দেশ বাঁচাও, অন্যায়ের টানে!
কাপাসিয়ার বন ফেরাও প্রাণে,
সবুজ হোক মুক্তি—ন্যায়ের তরণীতে গানে!
----------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

Tuesday, November 4, 2025

নিখোঁজ সংবাদ

 নিখোঁজ সংবাদ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

কোথায় গেলে হে মতিলাল, তোমায় পায় না কেউ?
সন্ধ্যার ছায়ায় হারালে তুমি, ঝরে নিঃশেষ আলো ঢেউ।
ইস্কাটনের পথে পথে, প্রশ্ন ওঠে ঘরে ঘরে—
“ফিরে এলে না ডাক্তারবাবু, কী আঁধার এলো নগর ঘোরে?”

মীনাক্ষীর দু’চোখে এখন জোয়ারে বেদনার স্রোত,
দরজার পাশে জ্বলছে প্রদীপ, আশায় অনির্বাণ জোট।
গ্রামের পথে কান্নার ধ্বনি— কাপাসিয়া নিঃশব্দ আজ,
চেনা মুখের খোঁজে সবাই, ডাকে প্রভু, করে সাজ সাজ।

মানুষ যার প্রাণে মিশে, চিকিৎসায় দান করেছেন প্রাণ,
সেই আলোর মানুষ হারিয়ে গেলে, নীরব হয়ে যায় গান।
হে মতিলাল, ফিরো ফিরে, জনতার আকুল ডাক—
তোমার চশমা পড়ে আছে, অথচ তুমি কোথায় রাখ?

আকাশে জেগে পূর্ণ চাঁদ, তবু মনটা অন্ধকার,
কোথায় তুমি মানবপ্রেমী, কোথায় তোমার স্নেহের ভার?
হে প্রিয় চিকিৎসক, ফিরো ঘরে, কাপাসিয়া কাঁদে আজ,
প্রার্থনায় ভিজে মাটি-আকাশ, তোমারই নামে বাজ।
-----------------------------------------------------


০৪-১১-২০২৫

আদর্শ শিক্ষক

 আদর্শ শিক্ষক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

হে নাজমুল করিম, আলোর দিশা, জাতির নব জাগরণ,
তোমার বাণী বজ্রকণ্ঠে, জাগায় ঘুমন্ত মন।
তুমি গুরু নও কেবল, তুমি যুগের প্রেরণা,
তোমার ছোঁয়ায় পায় নবজীবন, ছাত্র হৃদয় শুদ্ধ সোনা।

তুমি শিখাও—“সত্যই শক্তি, অন্যায় মানা নয়”,
তোমার চোখে জ্বলে দিগন্ত, তেজে ভয়ও ক্ষয়।
তুমি প্রেমের, ন্যায়ের, শ্রমের দীপ,
তোমার বুকে জ্বলে ঈমানের নীপ।

তুমি বলো—“মানুষ হও, ধর্মে ন্যায়ে স্থির থেকো”,
“দেশপ্রেমে গড়ে তোলো মন, সেবায় জীবন ঢেকো।”
তোমার কণ্ঠে বিপ্লবী সুর, তব বাণী আগুন শিখা,
তুমি গড়ো চরিত্র, ভাঙো মিথ্যা, সত্য করো দীক্ষা।

নাজমুল করিম! তুমি নও নামের শিক্ষক,
তুমি জাতির প্রহরী, পথের আলোকিত দীক্ষক।
তুমি নীরব তবু উচ্চতর, ন্যায়ের মূর্তি প্রাণে,
তোমার শাসন স্নেহে মেশে, ভালোবাসার টানে।

তুমি বলো—“দেশের তরে প্রাণই উৎসর্গ”,
“জ্ঞান ছাড়া জাতি অন্ধ, শিক্ষা হোক অর্ঘ্য।”
তুমি পরিশ্রমে রচনা করো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম,
তোমার আদর্শে বাঁচে আশা, গড়ে নব চেতনা গম্ভীর সম্ম।

নাজমুল করিম, তুমি শিক্ষক নয়—তুমি জাতির মান,
তোমার পদে প্রণাম জানায় কৃতজ্ঞ মানবজ্ঞান।
তোমার মতো গুরু থাকুক যুগে যুগে ধ্রুবতারা,
তোমার আলোয় পথ দেখুক নতুন প্রভাত সারা।
-----------------------------------------------------


০৪-১১-২০২৫

আত্মনির্ভরশীল নারী

 আত্মনির্ভরশীল নারী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************************

জাগো হে নারী! তোরে ডাকে প্রভাতের রবি,
অন্ধকার ভেদি জাগ, তুই যুগ-প্রেরণার নবী।
শাহিনুর তোর নাম, তোরে চিনে বিশ্বপানে,
আলোকিত সে তোর পথ, জ্ঞানের অমল প্রানে।

দোষু নারায়ণপুরে ফুটেছিল তোর কুসুম,
রাহেলা মাতার কোলে জেগেছিল জ্ঞান-ধ্বনি, মধুর রুম।
আব্দুস সামাদের আশীর্বাদে তুই বেড়ে উঠেছিস বল,
সাহসী কন্যা, তুই আজ বিজয়ের প্রতীক, জ্বলজ্বল!

তাজউদ্দিন আদর্শ বিদ্যালয়ে প্রথম তোর পাঠশালা,
কলমে আঁকিস তুই ভাগ্য, নয় কারো দয়া-ভিক্ষা।
কাপাসিয়ার কলেজ মাঠে তুই ছুঁয়েছিলি আকাশ,
জ্ঞান তোর দীপ, মনের শক্তি, দৃঢ়তার ইতিহাস।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তোর প্রজ্ঞার প্রমাণ,
বি.বি.এস, এম.বি.এস – ম্যানেজমেন্টে অনুপম দান।
পদে পদে তোর অধ্যবসায়ে জ্বলে ওঠে দীপ,
তুই আজ শিক্ষক, তোর জ্ঞানে সমাজ হোক চিরস্নিগ্ধ সিক্ত।

নারী তুই কোনো দুর্বল নয়, তুই শক্তির মূর্তি,
তোরে সৃষ্টি করেছিল ঈশ্বর নিজ শক্তি হতে পূর্তি।
জীবনের আঁধারে তুই বাতিঘর, প্রেরণার আলো,
তোর চরণে সমাজ নত, তোর হাতেই ভবিষ্যতের পালো।

যে তোরে ছোট করে, সে জানে না ইতিহাস,
নারীর চোখে লুকানো আছে বিপ্লবের আকাশ।
রক্তে তোর আছে সৃষ্টির দীপ্তি, কর্মের গান,
তুইই তো মানবতার সূর্য, আলোকিত প্রাণ!

বাঁধন তোরে জড়াবে কে, তুই তো মহাকালের ধারা,
তোরই স্পর্শে জাগে বনে পুষ্পিত বিকাশারা।
তোর ত্যাগে ভরে ঘর, তোর শ্রমে বাঁচে দেশ,
আত্মনির্ভর নারী, তুইই সভ্যতার শেষ বিনেশ।

নীরবে তুই বুনিস আশা, বুকে রাখিস আগুন,
শিক্ষার আলোয় তুই করিস অন্যায়ের অনুন।
শাহিনুর তুই প্রতীক আজ, নারীজাগরণের দীপ্তি,
তোর পথে চলবে আগামী প্রজন্ম, সংগ্রামের নীতি।

তোর কণ্ঠে বাজে বিদ্রোহ, তোর চোখে জ্বলে দীপ,
নবযুগের নারী তুই—জ্ঞান, শ্রম, সাহসের প্রতীক।
তুই দেখিয়েছিস জগৎকে, নারী নয় কেবল স্নেহ,
নারী মানে বিদ্যা, বল, বীর্যের উজ্জ্বল গেহ।

তোর হাসিতে আলোকিত ভোর, তোর শিক্ষায় জাগে প্রাণ,
তোর কর্মে জাগে সমাজ, তোর দৃষ্টিতে নব-বাণী গান।
আত্মনির্ভর তুই নারী, যুগের গর্ব, তোরে সালাম,
তুই প্রমাণ – নারী মানেই শক্তি, আলো, অবিচল প্রাণ!
----------------------------------------------------


০৪-১১-২০২৫

Gen Z

 Gen Z

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

Gen Z! Gen Z! ডিজিটাল প্রজন্ম!
নেটের আলোয় জন্ম, স্মার্টফোনে প্রাণ।
  স্বপ্ন ভরা চোখে, উদ্ভাবন-চাহিদা,
  সৃজনশীল চিন্তা, স্বাধীন মন-অভিযান,
তারা পথিক, উদ্যমী, জ্ঞান-বিহারী!
  Gen Z!

তথ্যের স্রোতে ভাসে তরুণ চেতনা,
সোশ্যাল মিডিয়ার আলোয় জাগে প্রেরণা।
  বৈচিত্র্য সমতা, ন্যায়ের প্রতি ধ্রুব,
  পরিবেশ সচেতন, শক্তি ও চেতনা অনন্য,
জীবনকে করে তারা চিরন্তন যাত্রা!
  Gen Z!

উদ্যোক্তা স্বপ্নে, কাজের মাঝে তীব্র আগ্রহ,
মনের শান্তি, মানসিক সুস্থতা হোক পথপ্রদর্শক।
  Boomers Gen X Millennials থেকে আলাদা,
  ডিজিটাল দক্ষতার জগতে নবীন পথিক,
Gen Z নতুন যুগের নেতা, সমাজ গঠক!
  Gen Z!

তথ্যের মহাসাগরে নৌকা ভাসায় তারা,
স্বাধীনতা, সৃজনশীলতা, নতুন দিগন্ত আনে।
  প্রত্যেক মনোজগৎ দীপ্তি জাগায় প্রেরণা,
  ভবিষ্যতের স্বপ্ন, শক্তি, অদম্য সাহসী,
ডিজিটালের সন্তান, উন্মুক্ত নিখুঁত পথপ্রদর্শক!
  Gen Z!
-----------------------------------------------


০৪-১১-২০২৫

নেতা নির্বাচন

 নেতা নির্বাচন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

হে জনতা! ভোরের বাতাসে শোনো!
নেতা নির্বাচন নয় খেলা, নয় ছলকানো!
সত্যিক নেতা হবে ধ্রুব, ধর্মে অটল,
ভয় শুধু আল্লাহর, অদম্য ন্যায়ের পথে চল।

পথ আল্লাহর, নেতা হোক অদ্বিতীয়,
অন্যায়ের আঁধারে নয়, নয় ভয়ঙ্কর ভয়ানক!
ক্ষমতার দায়িত্ব ভারী, হাদিস বলে স্পষ্ট,
অন্যায় করিলে অভিশাপ ঘনীভূত, হবে ভারী।

অহংকার নয়, নয় ধন-লোভ,
জনতার কল্যাণে হোক জীবন-প্রেমের ধ্রুব!
ভোটের দিনে চোখ খোলা রাখো,
নেতা বাছাই করো—সত্যের প্রভাত হোক ধ্রুব!

সত্য, ন্যায়, সততা—হোক তার বুকে,
ধর্মনিষ্ঠা হোক প্রেরণা, আল্লাহর ভয় হোক তার বুকের রাশ্মি!
ভোটের জয় হোক অমলিন,
জনতার কল্যাণ হোক ধ্রুবপদ্মে, অটল, অদম্য, আল্লাহ’র সুরে!

নেতার অঙ্গীকার হোক জনতার প্রিয়,
ধ্বনি হোক বিদ্রোহী, বুকে হোক ধ্রুব সীয!
নির্ভীক হোক সে, অদম্য হোক তার মন,
জনতার কল্যাণ হোক সর্বশেষ, হোক জয় অমলিন!
-------------------------------------------


০৪-১১-২০২৫

বিবাহ-বিচ্ছেদ

 বিবাহ-বিচ্ছেদ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************************

বাঁধা জীবন, প্রেম ও দায়িত্বের সেতু।
কোরআন বলে—তালাক সর্বশেষ পন্থা।
ধৈর্য ধরো, পরামর্শ নাও আগে।
মুহাব্বতের আলো জ্বালো চিরন্তন পথে।

প্রেম নয় শুধু আবেগের ঝড়।
রাসূলের বাণী—শৃঙ্খলা, উদারতা, সদাচার।
দাম্পত্যের দীপ জ্বালো ন্যায়ের আলোতে।
হে নারী, হে পুরুষ, মিলিত হও সত্যে।

প্রথম তালাক দিলে, সময় দাও।
তিন মাস ভাব, সন্তানের কল্যাণে যত্ন।
অর্থ, স্নেহ, সমানভাবে বিতরণ করো।
হাদিস বলে—বিচ্ছেদের সময় ন্যায়ের পথে।

দ্বিতীয় তালাক হলে, পরামর্শ নাও।
তৃতীয় তালাক দিলে, চূড়ান্ত বিচ্ছেদ।
আইন, নিয়ম, ন্যায়—সব মেনে চলো।
বিচ্ছেদ শেষে ক্ষতি নয়, শিক্ষা আসে।

দায়িত্ব থাকুক, সন্তানের অধিকার রক্ষা।
অর্থনৈতিক সহায়তা, স্নেহ—সব নিশ্চিত করো।
ক্ষমা, ন্যায়ের দীপ, সদিচ্ছা জ্বালো।
ভালোবাসা, ধৈর্য, ন্যায়ের আলোয় জীবন সাজাও।

কোরআন নির্দেশ, হাদিস চিরন্তন দিকনির্দেশ।
বিদ্রোহ নয়, শিক্ষা ও দায়িত্ব শিখাও।
হে মানুষ, হে নারী, শৃঙ্খলা মানো নির্ভয়ে।
জীবন সাজাও, ভালোবাসা ও ন্যায় আলোয়।
-------------------------------------------------


০৪-১১-২০২৫

দেনমোহর

 দেনমোহর

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************

দেনমোহর হোক সত্য, হৃদয় জ্বলো উজ্জ্বল।
হৃদয় জাগুক ন্যায়, নারী-পুরুষ সমান সকল।

দাও প্রেম, দাও ন্যায়, দাও সত্যের আলো।
ভালোবাসা জাগুক সকল, হোক আলোর আলো।

বিবাহ নয় খেলনা, নয় ধন-সম্পদের খেলা।
প্রেম হোক মুক্ত, বিশ্বাস হোক নির্ভুল খেলা।

হৃদয়ের আলোয় জ্বলো, সংসারের পথ দীপধারা।
ভালোবাসা জাগাও, দাও দাসের মর্যাদা খারা।

যে স্বচ্ছহৃদয়ে দেবে দেনমোহর, আল্লাহর আলো জ্বলে।
অন্ধকার দূরে হোক, ন্যায়বলে উঠুক জীবন উজলে।

নিশ্চল নয় বন্ধন, নয় হিমশীতল ধারা।
প্রেম, সম্মান, ন্যায়—মিলাও একত্রে, হৃদয় খারা।

দেনমোহর হোক চিরন্তন, হোক আলোর ঝর্ণা।
দাও প্রেম, দাও ন্যায়, দাও সততা, হোক তরানা।

হৃদয় জাগো! সংসার জাগো! আল্লাহর পথে এগোও।
দাও সম্মান, দাও ভালোবাসা, দাও ন্যায়, হোক ভলো।

দেনমোহর হোক পবিত্র, হৃদয়ে হোক সত্যের দীপ।
দেনমোহর হোক চিরন্তন, আল্লাহর দৃষ্টিতে পূর্ণ দীপ।

দাও! দাও! দাও! দাও! দাও! দাও!
হে মানব! হে নবীন! হে যুবক! হে তরুণ!

প্রেম হোক মুক্ত, বিশ্বাস হোক দৃঢ় অটল।
সততার পথে চলো, ন্যায়বলে চলুক জীবন চমৎকাল।

নারী-পুরুষ সমান, সমাজে হোক মর্যাদা সমান।
দেনমোহর হোক প্রতীক, হৃদয়ে হোক সততার মান।

অন্ধকার দূরে হোক, আলোর দীপ জ্বলে চিরন্তন।
ভালোবাসা জাগুক, ন্যায়বলে হোক হৃদয় উজ্জ্বল অনন্ত।

দাও প্রেম! দাও ন্যায়! দাও সততা, দাও সম্মান!
দেনমোহর হোক পবিত্র, হোক আল্লাহর পথে সান্নিধান।
-------------------------------------------


০৪-১১-২০২৫

ভোটের হাওয়া

 ভোটের হাওয়া

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************

এলো এলো এলো হে ভোটের হাওয়া,
পথ ঘাটে ময়দানে জাগে জনতার উৎসাহ।
শ্লোগানে শ্লোগানে উত্তাল বাংলার অলি গলি,
আমার ভাই, তোমার ভাই, ওমুক ভাই, ওমুক ভাই।

কে সত্য, কে মিথ্যে তার কোন বালাই নাই,
দলে দলে বিভক্ত, হার জিত যাই হউক।
আমার নেতা পবিত্র, যারে সাপোর্ট করে তারে নিয়েই মেতে উঠে,
একি বাংলাদেশ! একি গণতন্ত্র! যাচাই বাচাই নাই কোন।

হউক সে চাঁদাবাজ, দুর্ণীতিবাজ, লুটেরাজ,
দখলবাজ, সন্ত্রাসী, স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ,
মববাদ, উগ্রবাদ, দেশদ্রোহী, নর ঘাতক, ভোটচোর—
মার্কা শুধু মার্কায় নাচে, ভোটের হাওয়ায় জনতা।


জনতা কি বুঝে কে যোগ্য, কে অযোগ্য?
চোখ বন্ধ করে নাচে, মানে যায় ভ্রান্তি-ভেলায়।
বাপ-দাদার স্বপ্ন ভাঙে মাটি-ধূলায়,
রাজনৈতিক খেলা হয় শুধু কাগজে-কলমে।

পথ ঘাটে ঝড় ওঠে স্লোগান, নাচে পতাকা,
চোখে নেই বিচার, নেই কোন অন্তর।
হাসে নেতা, হাসে অনুগামী,
ভোটের হাওয়ায়, সবাই ভাসে অন্ধকারে।

চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, লুটেরাজ নাচে,
দখলবাজ, সন্ত্রাসী, স্বৈরাচার উল্লাসে।
মার্কা শুধু মার্কায়, ভোটের হাওয়ায় বিজয়ী,
জনতা হেসে ভোলে সব কিছু, সত্য-মিথ্যে মিলিয়ে।

হে ভোটের হাওয়া! তবই অদম্য উত্তাল,
জাগাও জনতার মনে বিদ্রোহের তান।
হাসি-নাচে লুকিয়ে আছে শাসক-নির্ভরতা,
চোখে পড়ে শুধু রঙিন কাগজের আশা।

এখানেও দেখা যায় বিভাজন, বিদ্বেষ,
দলবাজি, দলবিরোধ, নানান ছদ্মবেশ।
কিন্তু তুমি বল, হে ভোটের হাওয়া,
এই অন্ধকারে কি দেখা যায় কোনো আশা?

এতো দিন গেছে ঝড়-ঝাপটা,
তরঙ্গ-পীড়নে ভেসেছে জনতার মানস।
কিন্তু আজও নাচে তারা অচেনা নেতার পালে,
বিজয় মানে শুধু উল্লাস, বিচার ভুলে যাওয়া।

নিশান্তে সুবর্ণ-কান্তি নক্ষত্র যেমতি,
হে ভোটের হাওয়া, তেমনি দীপ্তি ছড়াও রাস্তায়।
অজ্ঞান জনতার অন্তরে তুমি প্রভা জাগাও,
নব নেতা, নব আদর্শ, নব প্রত্যাশায়।

দলবাজি, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, লুটেরাজ—
তাদের ছদ্মবেশে জনতা মেতে ওঠে।
স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, মববাদ, উগ্রবাদ,
সব কিছুর মধ্যে বাজে তোমার উচ্ছ্বাসী আলো।

হে ভোটের হাওয়া, তুমি কি শুধু উল্লাস,
নাকি সত্যের পথে অবিরাম বিদ্রোহী বাতাস?
জনতার মন জাগাও বিদ্রোহী সুরে,
বিজয় মানে শুধু আনন্দ নয়, ন্যায়ের পূর্ণ আলো।

নব ভোটের হাওয়া, হে জনতার প্রভা,
সততা, ন্যায়, বিদ্রোহ, আনন্দ—সব মিলে।
অন্ধকারে জ্বেলে রাখো নতুন সূর্য,
হাসি ফোটাও জনতার অন্তরে, ভবিষ্যতের আশায়।
---------------------------------------------------


০৪-১১-২০২৫

আত্মনির্ভরশীল হও হে নারী

 আত্মনির্ভরশীল হও হে নারী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************

শুনো, শুনো নারী! আর নয় নতশির!
জাগো, জাগো নারী! দাও তোমার অস্তিত্বের গর্জন, হে নারী!
নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলো, হে কণিকা!
বল নিজেকে—“আমি পারি! আমি পারি!”

বল নিজেকে—“আমি শক্তি! আমি জীবন!”
তুমি নও পরনির্ভরশীল! তুমি নও বন্ধনশীল!
পৃথিবীর অংশ তুমি, কোরআনের কথায়—ধার্মিক হলে সমান প্রতিদান মিলন।
তুমি যোগ্য অংশীদার, তুমি হুকুম দাও!

সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, বিশ্বব্যাপী—সবক্ষেত্রে তুমি যোগ্য।
কেন হবে তুমি নির্যাতিত? চোখে অশ্রু ঝরে?
কেন হবে অসহায়? তালাকের পথে ভয় ধীরে ধীরে?
চোখের জল মুছে ফেলো! গর্জে উঠো মহিমায়!

বল নিজেকে—“আমি পারি! আমি পারি!”
যদি তুমি হেরে যাও, হেরে যাবে পরিবার, সন্তান, নারী!
তুমি নীরব নয়! তুমি অধিকার রক্ষক নারী!
তালাক মানেই তুমি নও নিঃশেষ! তুমি নও অবলা!

জিতলে তুমি—জিতবে নারী, জিতবে সন্তান, জিতবে অধিকার!
নিজেকে শিক্ষিত করো! জ্ঞানকে শক্তি দাও!
নিজেকে সমৃদ্ধ করো! নেতৃত্বের ছাপ ছড়াও!
নিজের অর্থ আয় করো! স্বাধীনতা হোক তোমার সাথী!

নিজের জীবন রচনা করো! সাহসের পথচিহ্ন ছড়াও!
ভয়, সীমা, পুরনো বাঁধন—সব ভেঙে ফেলো!
মহিলার লড়াই, শক্তি, নতুন দিগন্ত জ্বালাবে!
নিজের স্বপ্ন বুনো! নিজের আশা আলিঙ্গন করো!

যদি তুমি জাগো, যদি তুমি দাঁড়াও, নতুন ইতিহাস গড়াবে!
শুনো নারী! আর নয় নতশির!
জাগো, লড়ো, দাও নিজের ভবিষ্যৎ নির্মিশ্র!
তুমি পারো! তুমি জিতবে! আলোর রূপ হইবে তুমি!

আত্মনির্ভরশীল হও, হে নারী! সাহসের গভীর স্রূপ দাও!
নিজের পথ রচনা করো, ভয়কে চিরতরে দূরে ফেলো।
নিষ্ঠা, ধৈর্য, সাহস—নিজের অস্ত্র করো সব জ্ঞানেলো।
উত্তরণ তোমার হাতেই, নিজেকে করো বিজয়ী নারী।

আত্মনির্ভর হও, হে নারী, বিশ্বে ছড়াও তোমার শক্তি!
শুনো, শুনো নারী! আর নয় নতশির!
জাগো, জাগো নারী! দাও তোমার অস্তিত্বের গর্জন, হে নারী!
বল নিজেকে—“আমি পারি! আমি পারি!”
--------------------------------------------------


০৪-১১-২০২৫

প্রাণ ঢালা অভিনন্দন

 প্রাণ ঢালা অভিনন্দন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
প্রাণঢালা অভিনন্দন হে রিয়াজুল হান্নান!
কাপাসিয়ার গৌরব তুমি, বীরের সন্তান!
বিগ্রেডিয়ার হান্নান শাহের রক্ত তোর ধমনী,
ন্যায়ের শপথে জ্বলো—আলোয় ভরো ধরণী!

আজ জনতার মুখে ধ্বনি, ধ্বনি, ধ্বনি—
“ন্যায়ের প্রতীক এসেছেন, এসেছে নববাণী!”
বিএনপি হতে মনোনীত তুমি আজ,
আনন্দে মাতোয়ারা কাপাসিয়ার সাজ!

তুমি হও সাহস, তুমি হও ন্যায়,
অন্যায়ের মূলে আনো ভয়ঙ্কর ক্ষয়!
দুর্নীতির দানব চূর্ণ করো আজ,
চাঁদাবাজ-ঘুষখোর—সবাই হোক লাজ!

লুটতরাজের রাজ্যে জ্বালো আগুন,
তোমার হাতে ফুটুক ন্যায়ের বনধুন।
মিথ্যা মামলা, হয়রানির ছল,
জনতার কণ্ঠে আনো সত্যের বল!

দখলবাজি, দলবাজি—সব করো ছাই,
আশ্রয় প্রশ্রয়ে আর যেন না ঠাঁই!
সুদ-মাদক-ঘুষের শৃঙ্খল ভাঙো,
অন্যায়ের রাত্রিতে বজ্রের মতো ঢাঙো!

তুমি হও শাসক—কিন্তু নিরপেক্ষ বীর,
সত্যের সেনানী, অবিচল ধীর।
আইনসভায় বলো, “আমি জনতার ধ্বনি!”
ধর্ম, মত, বর্ণে আনো সাম্যের বাণী।

তুমি হও সকল ধর্মের, সকল জাতির,
তুমি হও উন্নয়নের রূপকার শির।
যোগ্য পিতার যোগ্য উত্তরাধিকার,
তুমি হও মুক্তির দীপ্ত অধিকার।

ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে ভিজে তব প্রাণ,
ইজ্জতহারা মায়ের অশ্রু তব গান।
তুমি হও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মশাল,
অন্যায়ের প্রাচীরে দাও বজ্রের কণাল!

জনতার স্বপ্নে তুমি দীপ্ত জ্যোতিষ্মান,
তোমার নেতৃত্বে জাগুক গর্বিত গাঁথান।
কাপাসিয়ার মাটি আজ তব নাম ধরে কয়—
“রিয়াজুলই ন্যায়ের পথে জয়!”

আজকের মনোনয়ন এক অঙ্গীকার,
তোমার হাতে জ্বালো আশার অগ্নিদ্বার।
তুমি জিতো ন্যায়ে, তুমি জিতো মান,
তুমি হও গৌরব, হে রিয়াজুল হান্নান!

জনতার ভালোবাসায় উঠুক ধ্বনি তীব্র,
অন্যায়ের দুর্গ হোক ছাই, নিঃশেষ বিভ্র!
তুমি হও আগুন, তুমি হও দিশা,
সত্যের পথেই হোক তোমার নিশা!

প্রাণ ঢালা অভিনন্দন, হে রিয়াজুল হান্নান!
তুমি হও বজ্রের, তুমি হও গান!
ত্রিশ লক্ষ রক্তধারা, মায়ের অশ্রু তোমার প্রাণ—
এই বিজয়ের প্রভাতে তোমায় জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন!
--------------------------------------------

Monday, November 3, 2025

কেমন চাই তোমাকে, হে নেতা

 কেমন চাই তোমাকে, হে নেতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

হে নেতা! লাল-সবুজ চেতনার অদম্য সৈনিক,
মুক্তি যুদ্ধে অগ্রসেনা, অগ্নি বীর বাঙালি!
অন্ধকার ঝড়ে মাথা নত হবে না কখনো,
বজ্র কণ্ঠে বলবে—“আমি বাঙালি, আমি বাংলাদেশী!”

ন্যায়ের শাসক, সত্যের অবিচল কান্ডারী,
দুর্নীতি, দখল, চাঁদাবাজি—দূরে হোক ধ্বংস।
স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, মববাদের পথ হবে শূন্য,
দেশদ্রোহী, বিশ্বাসঘাতক—শাসনে আসবে না কখনো।

জনতার অধিকার ফিরবে তোমার তলে,
বৈষম্য ভেঙে যাবে, সত্যের দীপ জ্বলে।
লাল-সবুজ পতাকা উঁচু, নিরাপদ, গর্বিত, উজ্জ্বল,
দেশপ্রেমে প্রতিটি দিন হবে নতুন, অমলিন, অপ্রতিরোধ্য।

শহরে, গ্রামে, নদী তীরে, মাঠ-ঘাটে,
গর্জে উঠবে স্লোগান—“আমাদের নেতা, সাহসী, সত্যনিষ্ঠ!”
রণাঙ্গনে জাগুক অগ্নি, ভয়কে ভস্ম কর,
শিশু, যুবক, বৃদ্ধ—সবাই হবে তোর পক্ষে।

অপরাজেয় স্বপ্নে লাল সবুজের বিজয় হোক চিরকাল,
শত্রুর ভয়, জনতার আশা—সব একসঙ্গে জ্বলে, জ্বলে চিরকাল।
হে নেতা! গর্জে উঠো, ঝাঁঝালো, বলবান চিত্তে,
সত্য, ন্যায়, স্বাধীনতা—সব তোর তরে হবে অমলিন।
-------------------------------------------


০৩-১১-২০২৫

কেমন চাই তোমাকে, হে নেতা

 কেমন চাই তোমাকে, হে নেতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

হে নেতা! লাল-সবুজ চেতনার অদম্য সৈনিক,
মুক্তি যুদ্ধে অগ্রসেনা, অগ্নি বীর বাঙালি!
অন্ধকার ঝড়ে মাথা নত হবে না কখনো,
বজ্র কণ্ঠে বলবে—“আমি বাঙালি, আমি বাংলাদেশী!”

ন্যায়ের শাসক, সত্যের অবিচল কান্ডারী,
দুর্নীতি, দখল, চাঁদাবাজি—দূরে হোক ধ্বংস।
স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, মববাদের পথ হবে শূন্য,
দেশদ্রোহী, বিশ্বাসঘাতক—শাসনে আসবে না কখনো।

জনতার অধিকার ফিরবে তোমার তলে,
বৈষম্য ভেঙে যাবে, সত্যের দীপ জ্বলে।
লাল-সবুজ পতাকা উঁচু, নিরাপদ, গর্বিত, উজ্জ্বল,
দেশপ্রেমে প্রতিটি দিন হবে নতুন, অমলিন, অপ্রতিরোধ্য।

শহরে, গ্রামে, নদী তীরে, মাঠ-ঘাটে,
গর্জে উঠবে স্লোগান—“আমাদের নেতা, সাহসী, সত্যনিষ্ঠ!”
রণাঙ্গনে জাগুক অগ্নি, ভয়কে ভস্ম কর,
শিশু, যুবক, বৃদ্ধ—সবাই হবে তোর পক্ষে।

অপরাজেয় স্বপ্নে লাল সবুজের বিজয় হোক চিরকাল,
শত্রুর ভয়, জনতার আশা—সব একসঙ্গে জ্বলে, জ্বলে চিরকাল।
হে নেতা! গর্জে উঠো, ঝাঁঝালো, বলবান চিত্তে,
সত্য, ন্যায়, স্বাধীনতা—সব তোর তরে হবে অমলিন।
-------------------------------------------


০৩-১১-২০২৫

কাকে মন দিচ্ছো?

কাকে মন দিচ্ছো?
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************

ওহে যুবক, ওহে যুবতী,
তুমি কাকে মন দিচ্ছো?
কখনো কি থেমে নিজেকে জিজ্ঞেস করেছো—
সে কি তোমার যোগ্য?
না কি কেবল আবেগের ঢেউয়ে ভেসে চলেছো?

প্রেম তো ফুল নয়,
প্রেম এক আগুন—
যদি সামলাতে না জানো,
পুড়ে যাবে মন, পুড়ে যাবে জীবন।

একবার যদি হৃদয়ের দরজা খোলো,
ভুল মানুষ এলে আর বন্ধ করা যায় না—
তখন মিষ্টি হাসি হয় বিষের পেয়ালা,
মায়ার আলোয় ঢেকে যায় অন্ধকার পথ।

যে প্রেমে নেই সম্মান, নেই দায়িত্ব,
সে প্রেম ধ্বংস ডাকে নিঃশব্দে—
লেখা-পড়া ফেলে, স্বপ্নগুলো পুড়ে ছাই,
নেশার কুয়াশায় হারিয়ে যায় সকাল।

প্রেম এক শিল্প—
তা জানতে হয়, গড়তে হয়,
অন্ধ আবেগে নয়, সচেতন বিশ্বাসে।
যে প্রেম আত্মাকে বড় করে,
সেই প্রেমই সত্য;
আর যে প্রেম লজ্জায় ডুবায়,
সে প্রেম অভিশপ্ত।

ওহে তরুণ, ওহে তরুণী—
মন দেওয়ার আগে মনটাকে যাচাই করো,
কারণ ভুল হৃদয়ের দাওয়ায়
নরকও জন্ম নিতে পারে ভালোবাসার নামে।
---------------------------------------


০৩-১১-২০২৫


তুমি কি নিরাপদ?

 তুমি কি নিরাপদ?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

তুমি কি নিরাপদ এই স্বাধীন দেশে?
রাস্তায় হেঁটে চল, প্রতিটি মোড়ে ভয় চাপা দমে।
ঘাট, বাগান, শহরের হাওয়ায়—
নজর রাখে অদৃশ্য অজস্র চোখ।

শাসক কি তোমার?
কোনো আদেশ কি তোমার জন্য?
ন্যায়, নিরাপত্তা, অধিকার—
সবই কি থাকে জনগণের হাতে,
নাকি শুধু শাসকের দাসত্বে বন্দি?

স্কুলে, কলেজে, পাঠশালার কোণে,
জ্ঞানচর্চা কি সত্যিই নিরাপদ?
শিক্ষক, বন্ধু, বই—সবকিছু কি
ভয়ের ছায়া ছাপিয়ে উজ্জ্বল?

পরিবারে, ঘরের প্রহরে,
প্রেম, যত্ন, আশ্রয় কি যথেষ্ট?
দরজা বন্ধ, দেয়ালের ভিতরে—
নিঃশব্দ ভয় কি লুকিয়ে থাকে?

কর্মক্ষেত্রে, পেশার মাঠে,
অধিকার, সম্মান—সবকিছু কি নিরাপদ?
তোমার শ্রমের মূল্য কি সম্মান পায়?
না কি অবহেলা ও অনিশ্চয়তার চাপে
স্বপ্ন থমকে যায় নিঃশব্দে?

রাষ্ট্রে, আদালতের আলোয়,
আইন কি সত্যিই তোমায় রক্ষা করে?
অভিযোগ কি বিচার পায়,
না কি অন্ধকারে ডুবে যায় মানবতা?

পথে, বাজারে, ঘাটে, শহরে,
প্রতিটি পদক্ষেপ কি নিরাপদ?
সড়ক, ট্রাফিক, মানুষের ভিড়ে—
ভয় কি তোমার সঙ্গী হয়ে বসে থাকে?

তুমি কি নিরাপদ?
প্রশ্নটি প্রতিটি সেক্টরে ঝরে আসে—
শিক্ষা, পরিবার, পেশা, রাষ্ট্র, রাস্তাঘাট—
সবখানে, অন্তরে, প্রতিটি মুহূর্তে।

তবু আশা আছে,
তবু স্বপ্ন আছে—
যে একদিন রোদ উঠবে,
শাসক সত্যিকারের জনতার হবে,
সবক্ষেত্রেই, সত্যিকারের নিরাপত্তা গড়ে উঠবে।
------------------------------------------


০৩-১১-২০২৫

ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট

 ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************
আঁধার পিঞ্জরে তুই, রে ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট,
রাজনীতি, পদবী, নীতি সব ধ্বংস করিস্ সতর্কে।
নেতার হাসি, ঘুষের খেলা, মানুষের আশা হারায়,
হৃদয়ের কোলাহলে বাজে তোর অদৃশ্য বাঁশি।

বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য—তেল, চাল, ডিমের দাপট,
ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট লুটে চলে জনতার ঘাম।
শিল্পী, কৃষক, শ্রমিক—সকলের স্বপ্নে আঁধার,
কোম্পানির ছায়া যেন, রাতের চাঁদে ধরা।

শিক্ষার মন্দির, পরীক্ষা, ফি, কোটা-ফাঁস,
ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট বাজায় জ্ঞান-ছিনিয়ে নেওয়ার হাসি।
মেধাবী ছাত্রের চোখে অন্ধকার,
শিক্ষক-মন্ত্রীর ছলে নিঃশ্বাস হয় ফাঁকা।

চিকিৎসালয়ে মৃত্যু, ঔষধে লোভের খেলা,
ডাক্তার নয়, কোম্পানি—ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেটের খেলা।
বিমার চিৎকারে মিশে বাণিজ্যের স্রোত,
মানবতার আশা নেমে যায় নিঃশব্দ ছায়ায়।

দাঁজাবাজি, দখলবাজি—গ্রামের জমি, শহরের খাতা,
মন্ত্রনালয় হাসে, নথি-কলমে থাকে তোর ছাপ।
সড়ক, পরিবহন, ব্রিজ ভাঙা, টোল-ঘুষের রাজ্য,
ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট দাপটে, পথচারীর ভয়ে হাস্য।

লোকাল রাজনীতি, স্বার্থের খেলা,
গণতন্ত্র হারে, দালাল পায় জয়।
সাহিত্য, কবিতা, সংস্কৃতির মঞ্চ,
ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেটের ছায়ায় চুপচাপ, স্রষ্টার সুর নিঃশ্বাসে।

আইন-আদালত—ন্যায়ের চেয়ে চালাকি,
ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট লুকায় সত্যের নৃত্য।
বিচার আর ন্যায়—দূরে ঘুরে বায়ু,
শুধু লোভের পাখি উড়ে, অন্ধকারে নিশ্বাসে।

তবু জনতার হৃদয়, নদী-স্রোতের মতো,
ধীরে ধীরে বয়ে ওঠে প্রতিরোধের ছোঁয়া।
একদিন ভাঙবে তোর আঁধার, রে ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট,
ফোটাবে নতুন প্রভাত—মুক্তির আলো, সত্যের ছায়া কাটে।

সকল সেক্টরে—রাজনীতি, ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা,
দাঁজাবাজি, দখলবাজি, সড়ক, সাহিত্য, আইন,
ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেটের ছায়া শেষ হবে একদিন,
মানুষ হাসবে মুক্ত, নতুন প্রভাতে—আলোর দেশে।
--------------------------------------------


০৩-১১-২০২৫

লেখা আছে অশ্রুজলে

 লেখা আছে অশ্রুজলে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

রাত্রি ছিল ঘন, ধরণী যেন স্থির,
আকাশে নিঃশব্দ ক্রন্দন— দীর্ণ গগন-বীণা।
ঢাকা-কারাগার— প্রাচীরবন্দিনী ইতিহাস,
যেথা চার দীপ্ত আত্মা বসে নীরব ধ্যানধারায়।

অন্ধকারে ভাসে মৃদু প্রার্থনা—
“হে পরম প্রভু, তব নামে করি সমর্পণ!”
রুদ্ধ নিঃশ্বাসে চঞ্চল বাতাস,
স্রোতবেগে ছুটে আসে মৃত্যুর রথ।

তাজউদ্দীনের তেজে কম্পে লৌহদ্বার,
স্যার সৈয়দ নজরুলের উচ্চনয়ন প্রভায় ঝলকায় সাহস,
মনসুরের হৃদয় — ধর্মের প্রতীক,
কামারুজ্জামান — ধ্যানমগ্ন তপোবন-বনপ্রাণ।

তবু!
হায়! হঠাৎ গর্জে উঠে কালপ্রহর,
বন্দুকের বজ্রনাদে ছিন্ন হলো প্রাণের মালা।
বেয়নেটের ক্ষুরধার ঝিলিকে— রক্ত-অরুণ দীপ,
ভিজিল ভূমি, কম্পিল আকাশ, নীরব হ’ল প্রহরীও।

সে রাত্রি— যেন প্রলয়ের অরুণোদয়,
দিগন্তে বয়ে যায় রক্তস্রোত-সঙ্গীত।
বাংলার মাটি সে রক্ত পান করে বলল—
“ওরে আমার সন্তান, তোমরা অমর!”

দিগ্‌দিগন্তে প্রতিধ্বনি তোলে শোকধ্বনি—
“জাগো, জাগো বঙ্গজন, রক্তে লেখা তোমার পথ।”
বাতাসে ভাসে মৃত্যুর গন্ধ, অথচ—
জীবন নবতর হয় আত্মোৎসর্গের পূণ্যতেজে।

হে অনন্ত করুণাময়,
যাদের রক্তে তব ভূমি পেল মুক্তি,
যারা নিঃশেষে উৎসর্গ করিল প্রাণ,
তাদের তুমি দান করো চির-শান্তি, চির-আলো।

হে আল্লাহ্‌,
চতুর্মহান বীরকে তুমি রাখো
জান্নাতুল ফেরদৌসের উদ্যান-প্রান্তে,
যেথা কল্যাণের নদী বহে, জ্যোত্স্না ঝরে স্নিগ্ধে।

আমীন —
তব করুণা-ছায়ায় থাকুন তারা চিরজাগ্রত,
বাংলার রক্তে, বাংলার রোদে, বাংলার প্রাতে।
---------------------------------------


০৩-১১-২০২৫

Sunday, November 2, 2025

স্বাধীনতা একবার হারালে

 

স্বাধীনতা একবার হারালে
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

ওহে শুনো! স্বাধীনতা একবার হারালে —
বুকের আগুন নিভে যায় অন্ধকার জ্বালে।
রক্তস্রোত থেমে যায় লজ্জার ভয়ে,
বীরের জাতি ভিক্ষে চায় দাসের নয়নে।

মাটির গন্ধ তখন হয় পরদেশি,
নিজের ঘরে পরের শাসন, যেন বিষম খেসি।
জন্মভূমি কাঁদে তখন সন্তানহারা,
আত্মা জ্বলে, বিবেক মরে, বাঁচে শুধু কারা?

যারা রক্তে গড়েছিল স্বপ্নের দেশ,
তাদের গানে আজ কাঁপে কফিনের রেশ।
স্বার্থলোভে নেতা হয় মীরজাফর নতুন,
মিথ্যা বাণী বেজে উঠে সভার সংগীতন।

পদে পদে বেচে যায় দেশের মান,
চাঁদাবাজে ঢেকে ফেলে বীরের গান।
শিক্ষায় বিষ, ধর্মে কপটতা,
মানুষ মরে মানবতার অপচয়তা।

তবু একদিন ইতিহাস জাগে রণতূর্যে,
রক্তের ঘ্রাণে বাজে মুক্তির সূর্যে।
যে জাতি রক্তে গড়ে নিলো পতাকা,
সে আবার জ্বালাবে ন্যায়ের আগুনে আঁকা।

ওহে মানব! সাবধান এখনি তবে —
স্বাধীনতার মুল্য রক্তে লেখা সবে।
একবার হারালে — ফিরে আসে না সে,
চিরনিদ্রায় শোয় জাতি লজ্জার দেশে।
-----------------------------------------


০২-১১-২০২৫


মুসল্লি শুন্য ওয়াজের মাহফিল

 মুসল্লি শুন্য ওয়াজের মাহফিল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

বাজে মাইকে সুরেলা সুর,
হুজুর কাঁদেন — “ফিরে এসো, ওহে নূরে-হায়াত, ওহে প্রাণের নূর!”
তবু মাঠে নেই কেউ, ফাঁকা চেয়ার সারি,
চাঁদের আলোয় নীরব আজ তাওহীদের বাজারি।

মঞ্চে জ্বলে রঙিন বাতি,
ওয়াজ শুরু হয় — তবু মুসল্লি নাহি।
এক পাশে চায়ের দোকানে মুখর গুঞ্জন,
ধোঁয়ার ছায়ায় হারায় ইমানের রওশন (আলোর ঝলক)।

মাইকে বাজে তাফসিরে কুরআন,
তবু মন পড়ে থাকে মোবাইলের দুনিয়ায় গিরফতমান।
নামী হুজুর, দামি ব্যানার, মহা আয়োজন,
তবু মুসল্লি? — গোনা যায় আঙুলে সেই গণন!

খুশবুতে (সুগন্ধে) ভরে চারিদিক,
মেহমান আসে, খায় — যায় নির্দ্বিধিক।
কেউ বসে না মঞ্চে, শোনে না বাণী,
তবু শেষে প্রশংসা — “মাশাআল্লাহ! ওয়াজটা ছিলো জানি!”

একদল এলে আরেকদল নাই,
ওয়াজেও আজ সিয়াসতের ছায়া পাই।
মঞ্চে মঞ্চে মুখের বাহার,
কে বড় আলেমে-দ্বীন, কে বড় নামধার?

ওয়াজের মাহফিল আজ যেন সাজানো মনজারাহ (দৃশ্য),
বক্তা আছেন, শ্রোতা নাই — এ কেমন বেজার রীতি!
তাওহীদের সুর পড়ে যায় ধুলায়,
আল্লাহর নামে আজ হাসির তুলায়।

হে প্রিয় মুসল্লি, কোথায় তুমি হারাও?
ওয়াজের মাঠে কেন চায়ের কাপে ডুবে যাও?
যে দিন ফিরবে হৃদয়ে ঈমানের তেজ,
সেদিন জেগে উঠবে মাহফিলে ইসলাম, মঞ্চ আর দেশ!
---------------------------------------------------------


০২-১১-২০২৫