কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
***************************************
রাওনাট গাঁয়ের
সবুজ
লতাটি
বাতাসে
দুলিয়া
মরে,
সোনার
ধানের
ক্ষেতখানি আজো
রূপের
পসরা
ধরে।
সাজানো
ঘরটি
তেমনি
আছে
গো,
আছে
আঙিনার
গাছ,
গাছের
শাখায়
ডাকিয়া
ফিরিছে
ডাহুক
ও কানাকোচ।
সবই
আছে
গাঁয়ে,
শুধু
তুমি
নাই,
ও মোর দাদাজান!
তোমার
অভাবে
ম্লান
হয়ে
গেছে
এ কূলের সব গান।
আব্বা কাঁদিছে, চাচা-চাচী কাঁদে, কাঁদিছে ভাই
ও বোন,
শূন্য
ঘরের
খুঁটিটি ধরিয়া
গুমরিছে সারা
মন।
মোল্লা
বাড়ির
আঙিনা
জুড়িয়া
উদাসী
বাতাস
ধায়,
অলিতে
গলিতে
পাড়ার
মহলে
তোমারে
খুঁজিতে চায়।
তুমি
যে
আমার
শিকড়
আছোহি
মাটির
গভীরে
নামি,
তুমি
বিনে
আজ
এই
ভুবনেতে বড্ড
একেলা
আমি!
শুনেছি আমি
গো
গাঁয়ের
লোকের
মুখের
সুধা-বাণী,
তুমি
ছিলে
এক
পরহেজগার, খোদার
আশেক
জানি।
মৌলভী মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ আলী মোল্লা তোমার
নাম,
তোমার
স্মরণে
নত
হয়ে
আসে
রাওনাট
গাঁয়ের
গ্রাম।
রাওনাট
গাঁয়ের
ঈদগাহ
মাঠে
ইমামতি
করতে
তুমি,
তোমার
চরণের
ধূলি
পেয়ে
ধন্য
এ পুণ্য ভূমি।
দেওবন্দ হতে
আলেম
হইয়া
এনেছ
জ্ঞানের আলো,
হাকিম
সাহেব,
পণ্ডিতজী গো,
সবায়ে
বেসেছ
ভালো।
মাঠের
শ্রেষ্ঠ কৃষক
ছিলে
গো,
ফলাইতে
সোনা
ধান,
বিনিময়
কিছু
নিতে
না
তো
কভু,
সঁপেছিলে দ্বীনে
প্রাণ।
কোরআন
শরীফ
না
পড়ে
কভুও
ঘরের
বাহিরে
যেতে
না,
তোমার
মতন
পুণ্যবান তো
এ গাঁয়ে আর মেলে
না!
আগুনের মতো
রূপ
ছিল
রাঙা,
রূপের
নাহিকো
শেষ,
'লাল
মৌলভী'
বলিয়া
ডাকিত
গাঁয়ের
মানুষ
বেশ।
বড়ই
মধুর
আছিল
তোমার
কথা
ও ব্যবহারখানি,
আজো
লোকমাঝে অমলিন
আছে
তোমার
সে
স্মৃতি
বাণী।
ছোটবেলা তোমায়
দেখেছিনু দাদা,
মনে
ছিল
বড়
ভয়,
রাগী
ছিলে
তুমি,
কাছে
যেতে
তাই
কাঁপিত
এ হৃদয়।
আজকে
তোমার
মুখের
সে
ছবি
মনে
নাহি
পড়ে
স্পষ্ট,
তবু
তোমা
লাগি
নিশিদিন মোর
বুকেতে
জমা
হয়
কষ্ট।
গাঁয়ের
লোকে
যখন
তোমার
গুণের
গীতি
গায়,
গর্বে
আমার
বুক
ভরে
ওগো,
অশ্রু
নয়নে
ধায়।
মনের গহীনে
জাগে
বারেবারে একটি
মিনতি
মোটে,
তোমার
মতন
আদর্শ
নিয়ে
চলিতে
পারব
কি
বাটে?
তাই
তো
আজো
চারণের
মতো
ছুটিয়া
ব্যাকুল পায়,
তোমার
চরের
আদর্শ
খুঁজি
স্মৃতির আঙিনায়।
হে খোদা
রহমান,
মোনাজাত করি
সজল
নয়ন
পাতে,
জান্নাতবাসী করিও
আমার
দাদারে
পরম
জাতে।
রহমতেরই শীতল
ছায়ায়
ঘুমাও
মাটির
ঘরে,
নাতি
তোমার
কাঁদিয়া ফিরিছে
রাওনাট
গাঁয়ের
চরে।
আমীন।
-----------------------------------------------------------------------