Saturday, July 24, 2021

অকৃত্রিম বন্ধু

------মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

***********************************

এক অকৃত্রিম বন্ধুর স্পর্শ্ পেয়েছিলাম আমি

চৌদিক যখন অন্ধকার হয়ে এসেছিল-এ ভূমি!

আলোর মশাল নিয়ে এসেছিলে তুমি

নিঃর্স্বাথভাবে পথ দেখিয়েছিলে দিবাযামী ।

 

তুমি বুঝেছিলে পথ হারা পথিকের ব্যাথা !

প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন নেই- সেই এক কথা!

বন্ধুত্ত্বের দাবী নিয়ে তুমি ছিলে পাশে

আজ সেই শিক্ষাই সূর্যের মতো হাসে

 

হয়তো এর প্রতিদান কোনদিন হবে না শেষ!

হবে না বহিঃপ্রকাশ

তবু তুমি হৃদয়ে রবে অনিমেষ।

প্রভূর সনে প্রার্থনা রবে পরিশেষ।

 

এক উদাস যুবক ভ্রষ্ট আঁধারে বন্ধুর দূয়ারে-

এক বিজলীর চমক দেখেছিল বিশ্ব সম্ভারে।

সূর্য্ জেগেছে রক্ত লাল!

বন্ধু হেসেছে বিপদ কাল।

 

বন্ধুত্বের কিছুটা উত্তাপ চাই, কিছুটা দৃঢ়তা চাই

এ বন্ধন হউক আলোকিত মশাল-

আঁধারে চাঁদটা উঠুক বন্ধুর বিপদে যাই।

বন্ধু বন্ধুকে প্রাণে দিক ঠাঁই--

 

এক অকৃত্রিম বন্ধুর স্পর্শ্ পেয়েছিলাম আমি

চৌদিক যখন অন্ধকার হয়ে এসেছিল-এ ভূমি!

---২৪-০৭-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

আমাদের পল্লী কবি

 


---মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

**********************************

তাকালেই  প্রাণ ভরে যায় কবির সৃজনে

আমাদের পল্লী কবি লিখেছে মনে প্রাণে

রাওনাট গ্রামখানি সবুজ -শ্যমলে ভরা

আম কাঠাল আনারস ফলের বসুন্ধরা।

 

প্রাণে আঁধার খুঁজে পাই না কখনো বন্ধনে

ঈদ পার্বনে উল্লাসে মাতে নানা আয়োজনে

আমাদের পল্লী কবি বন্ধু মহলের রফিকুল

পথে ঘাটে বাজারে ময়দানে ফুটায় ফুল।

 

ডাক দিলে ছুটে আসে জড়ায়ে রক্ত ঘাম

কবিতার চরণে চরণে লিখে রাওনাট গ্রাম।

গায় সদা সাম্যের গান হৃদয়ের দ্বার খুলে

যায় না কভূ দুঃখী মানুষের দুঃখ ভুলে।

 

কবি দেখে পাখিরা ফিরে পথ চিনে  ঘরে

শিমুল পশাল জুঁই চ্যামিলী ফুটে ভোরে

কৃষাণ –কৃষাণী তাঁতী কুমার জেলে

নানা পেশাজীবি রাওনাট গ্রামের কোলে।

 

কবিতার চরনে দেখেছি আমি পল্লীর ছবি!

প্রকৃতির প্রেমে উদাস আমাদের পল্লী কবি!

হৃদয়ের কোণায় জমা একফোঁটা রক্ত জল

প্রেমের স্পর্শে লিখে সবুজ শ্যামল তরুতল।

---২৪-০৭-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

 


 

তোমার জন্মে

 


------মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

***************************************

এক ভূতুরে অন্ধকার ঘিরে আছে বঙ্গের চৌদিক!

শুন্যতার দিকে চোখ,শুন্যতা বুকের ভেতরেও

চোখ খুললেই  এক অসীম দিগন্ত ভেসে উঠে

বিলুপ্ত মানবতার স্পর্শ্, বিলুপ্ত বঙ্গের স্বাধীকার

হিংস্র হায়ানার দল সবুজ শ্যামলের অন্তরালে।

কীট পতঙ্গের আনাগোনা-

রাত্রির আঁধারে পূর্ণিমার পূর্ণি জাগে না আর !

ঠিক তখনই তুমি  তাজ হয়ে উঠেছিলে বঙ্গ গগণে-

২৩ জুলাই, ১৯২৫

এ পরাজিত পৃথিবী দেখতে পেল এক নব সূর্য্দয়

ধীরে ধীরে অন্ধকার প্রকোষ্ঠ পেরিয়ে

তুমি জেগেছিলে ”বঙ্গ তাজ” হয়ে বাঙ্গালীর স্বপ্নে।

স্বাধীনতার প্রশ্নে

দৃশ্যমান যখন হায়নাদের জটাজুটে অবরুদ্ধ কাল

প্রখর উত্তাপে তুমি ধ্বংস করেছিলে শত্রুর দূর্গ্

ধুঁধু বালুচরে তুলেছিলে লাল-সবুজ পতাকা।

 

বাঙ্গালী খুঁজে পেল মুক্তির নিশানা! স্বাধীন ঠিকানা।

দীপ্ত ত্যাজের উত্তাপে পরাজিত হল অন্ধকার!

বঙ্গে উদ্ভাসিত হলো মুক্তির বিজয় কেতন

নব পরিচয়ে নব অধিকারে

স্বাধীন বাংলাদেশ।

 

তোমার জন্মে এ পৃথিবী হেসেছিল

তোমার বিদায়ে এ প্রাণ কেঁদেছিল।

এ তাজ কখনো অস্তমিত হবে না

তুমি অবিনশ্বর বঙ্গ তাজ-ওরা বুঝে না।

-------২৪-০৭-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

Friday, July 23, 2021

ফুল দু’টো ফুটে আছে

         (Anniversary to  ছাব্বির স্যার  দম্পতি)

**************************************

বাগানে ফুল দু’টো ফুটে আছে, ফুটেই রবে !

পূর্ণিমার পূর্ণি যেন নেমে গেছে  শুভ্র চাঁদরে

সূরভী পাঁপড়ির উজ্জ্বল মহিমাতে

রোমান্টিক চরণগুলো যেন

ক্লান্তহীন পথ হেঁটে চলেছে যুগল সন্ধিতে--

হৃদয় নিংরানো অনুপম প্রেমের উচ্ছাসে

আর কিছু দূর গেলেই স্বর্গ্ নদী!

হৃদয়ে হৃদয়ে স্পর্শ্ করে বলে প্রিয়-প্রিয়া

এ বন্ধনের মধ্যে বন্ধন বোধ কে সরাবে?

 

ঝরে যাওয়ার আগেই ফুলগুলো ফুটে গেছে

ফুলের মধ্যে সৌরভই আছে, সুবাসই আছে।

রেণু-পরাগের স্পর্শে স্পর্শে

নবীণ ফুলে ফুলে ভরে গেছে প্রেমের ফুলদানি।

 

এ এক সুখী দাম্পত্য জীবনের অমর কবিতা!

কবিতার শব্দ সম্ভার!হৃদয়স্পর্শী উৎফুল্ল ভাষা

যুগল কাব্যের ইতিকথা-

প্রেমের তরে প্রেমই ছিল ।

 

বাইরে হু হু ঝড়! এর চেয়ে বেশী

হৃদয়ের গভীরে-----

কবির প্রার্থ্না- চিত্ত উতলা হাসি অটুট থাকুক অবিনশ্বর।

-----২৩-০৭-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

নির্ভয়্ আশ্রয় তুমি

 

-----মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

***********************************

তোমার দূর্গে তুমি অতন্ত্র প্রহরী!     

অনেক রক্তাক্ত পথ অতিক্রম ক'রে

আজ এখানে এসে বিজয় কেতন তুলেছো

স্বপ্নের সীমানায়-

 

ধূসর প্রাণ হতে বিরহের তরঙ্গে

প্রেমের শিহরণ তুলে ছুটে গেছো বিপ্লবী সমরে

অকৃত্রিম প্রেমিক প্রেমিকার মতো

দুর্ণিবার, ঐক্যের পতাকা হাতে

ঝরে পড়া ফুল হতে বিনিসূঁতার মালাতেও

তোমার সৌরভ সুবাস ছড়িয়ে দিয়েছো---

 

আজ দেহে তোমার দীপ্ত যৌবনের পোশাক

প্রাণে এখনো দুর্জ্য় প্রেমের শিরহণ!

রক্তে রক্তে তরঙ্গিত জয়ের এক অদম্য শপথ

সহকর্মীর দুর্দিনে নির্ভ্য় আশ্রয় তুমি

ব্যদনার নীল আকাশে সূর্যকে করো নিমন্ত্রণ

প্রশান্তির হাওয়া দিয়ে যাও কারারুদ্ধ নীর

 

হৃদয়ের সামনে খুলে দাও প্রেমের চিঠি

কিছুতেই বুঝি না কি করে এড়াব তোমাকে?

কি করে ভুলব তোমার এই অবিচল প্রেম?

সহকর্মীর দুর্দিনে নির্ভ্য় আশ্রয় তুমি

প্রতি মুহূর্তে নেচে উঠো হৃদয়ের রক্ত প্রবাহে !,

প্রাণে প্রাণে প্রসারিত মুক্তি!

--২৩-০৭-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

আগামীর যোদ্ধা

             ---মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

-       --উৎসর্গ্ঃ প্রতিটি সন্তানের প্রতি

*************************************

ওহে দিতে হবে পারি সাত-সমুদ্র তের-নদী

নির্ভয়ে বাইতে হবে তরী তুফান আসে যদি!

পরাজয়ের শঙ্কা না নিয়ে উড়াতে হবে পাল

টানতে হবে দাঁড় দিতে হবে আলো মাস্তুল।

দূর্গ্ম পথ যেতে যেতে কেটে যাবে সংশয়

সেদিন দূরে নয় দেখবে যেদিন নব সূর্য্দয় !

আর পৃথিবী তোমায় খুঁজে নিবে হৃদয় পার

তুমি যে আগামীর যোদ্ধা

বিজয়ের আলো সব আঁধার !

বাতিলেরা যেখানে সত্যে মিথ্যে বিভাদ করি

তাগুদের মোহ নিয়ে পৃথিবী যেখানে অহঙ্কারী

তুমি সেখানে এক মানবতার অলঙ্কারে

হকটাকে শুধু আগলে রাখবে অন্তরে- বিস্তরে

 

তুমি একজন লুপ্তগর্ব পিতার স্বপ্নের তনয়

কোন আঁধার পথে যাবে না-কোনমতে নয়

তোমাকে যেতে হবে সেখানেই যেখানে আলো

নোঙ্গার করতে হবে যুদ্ধের তরী- দুর্বার চলো

পিতার আর্শীবাদ আছে- ভয় কিসে তবে?

তাও হতে হবে সত্যের পূজারী ক্ষণিক ভবে।

 

তোমায় ভাবি আজ আগামীর যোদ্ধা বিজয়ের কানন;

এই পৃথিবী খুঁজে নিবে তোমায় আপন কর্মের সাধন!!

 ---২৩-০৭-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

 

Thursday, July 22, 2021

রাসেলের প্রাণ কাঁদে

 ------মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

***********************************

গাজীপুরের ছেলে ভাই দাম্মাম শহরে

এক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সে প্রবাসী বহরে।

রক্ত ঝরা সংগ্রাম শুরু হল রাসেলের

মাতৃকার কেউ  রইল না সঙ্গীদের

নিঃসঙ্গ প্রবাস জীবনে জড়ো হল সকলে

তফাৎ রইল নাকো নিদ্রা-অনিদ্রা ধকলে

শুধু শুনি যোদ্ধা যোদ্ধা প্রশংসার শব্দ

যেন দেশপ্রেমিক যোদ্ধা-পৃথিবী স্তব্দ!

রাসেলের প্রাণ কাঁদে,চোখ ছল ছল

যোদ্ধার মৃত দেহ বরফের সিক্ত কল!

ক্ষিপ্ত রাসেল অন্তরে বিদ্রোহ জাগালো

প্রবাসী ফোরাম তলে বেয়নেট ছুঁচোলো,

সাধারণ সম্পাদক সে এখন তৈরী

ভাঙ্গবে প্রাচীর যত প্রবাসীদের বৈরী।

সুদূর প্রবাসে সে নহে গো একেবারে বাচ্চা!

তার হাতেই উঠবে বিজয়ের পতাকাটা আচ্ছা;

সে এক রেমিট্যান্স যোদ্ধা!

গাজীপুরের ছেলে ভাই দাম্মাম শহরে

বিদ্রোহের মশাল জ্বেলে নেতৃত্বের শিখরে।

প্রবাস বিজয়ী সব যোদ্ধারা তার সঙ্গে

মাতৃকার টানে রেমিট্যান্স পাঠায় বঙ্গে।

ফোরামের মাধ্যমে রাসেল চালায় অভিযান

”রেমিট্যান্স যোদ্ধা”তাই রাখে দেশ, বাঁচে মান।

-২২-০৭-২০২১ ইংরাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

লাশ তো আসে না

----মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

*************************************

কতো প্রবাসী রেমিটেন্স পাঠায় বহুকাল

ভুলে যায় তবু সেই যোদ্ধাদের মৃত্যু কাল।

লাশ পড়ে থাকে অযত্নে বরফের সিক্তকল!

দেশে পরিবার পরিজন কেঁদে যায় নিষ্ফল

একটি বার সন্তানের মুখ দেখায় অপেক্ষোয়

প্রহর গুনে দিনের পর দিন লাশের প্রতীক্ষায়

লাশতো আসে না! বুক ফাটা কান্না

হৃদয়ে তপ্ত ভূমি,চোখে অশ্রু বন্যা।

গোরস্থান হা করে আছে লাশের ক্ষুধায়-

বিদায় জানাবে প্রিয় জনেরা জানাজায়

যোদ্ধার লাশ তো আসে না!

কঠিন বরফের চাঁদরে ঢেকে আছে প্রবাসে

বহুকাল ধরে

পড়ে আছে নিথর দেহ এক নিষ্ঠুর পরিহাসে?

যে যোদ্ধারা রক্ত দিয়ে তোমার মাকে সাজালো

বিশ্ব বুকে তোমার পতাকা উড়ালো

তোমাকে রেমিট্যান্স পাঠালো

মৃত্যুতে তারা কেন ফুরালো?

মাতৃ বুকে কেন লাশ ফিরে আসে না ?

কর্তৃপক্ষের ত্যাগ চাই- প্রশংসা চাই না

যোদ্ধাদের লাশ দেশে কবর দিতে চাই,

অনুকম্পা চাই না ।

লাশ পড়ে থাকে অযত্নে বরফের সিক্তকল!

দেশে পরিবার পরিজন কেঁদে যায় নিষ্ফল ।

সন্তানের লাশ তো দেশে আসে না!

হে কর্তৃপক্ষ- এ যোদ্ধা যেন প্রবাসে পঁচে না।

----২২-০৭-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

পিতার এ তপ্ত বুক

 -----মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

*************************************

শুনেছি শিক্ষিত তুমি,মস্ত বড় অফিসার!

ধনী সন্তান তুমি দরিদ্র পিতার

জম্মাবধি যা পেয়েছো সুখদুঃখভার

এখন আর নেই সেই দরিদ্রতা তোমার

পিতার রক্ত দানে তুমি দেশ-বিদেশে

মস্ত বড় অফিসার হয়েছো অবশেষে

আজ বাড়ী গাড়ী কত টাকার মালিক তুমি!

আমোদ প্রমোদে নষ্ট উল্লাসে ঘুরছো ভূমি

অসীম ঐশ্বর্যরাশি তোমার বলয় ঘিরে

কতো স্যালুট! কত ক্ষমতা আহা রে!

শুধু নিস্বঃ জম্মদাতা পিতা কূড়ে ঘরে

দরিদ্রতার নির্মম কষাঘাতে অশ্রু ঝরে

দু’মুঠো ভাত নেই!অন্নের চাহিদা যোগাতে

আজ পিতা ভিক্ষার ঝুলি হাতে

মানুষের দুয়ারে ঘুরতে ঘুরতে

বৃদ্ধাশ্রমের নিঃসঙ্গ ভেলকোনিতে

বিনিদ্র রাত্রিতে

তোমাকে খুঁজছে হে মস্ত বড় অফিসার!

শুনেছি শিক্ষিত তুমি,অর্থ্ বৈভবে সম্ভার

অপলক চেয়ে আছে -অফিসার কই? অফিসার কই?

কাঁদে তোমার পিতা ম্লান শুষ্ক মুখ!

তোমার সুখ খুঁজতে গিয়ে পিতার দুয়ারে

অসম্পূর্ণ্ সুখ—

হে সন্তান- একবার চেয়ে দেখ পিতার এ তপ্ত বুক!!

---২২-০৭-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।