Wednesday, November 5, 2025

জনতার পিঠে ছুরি

 জনতার পিঠে ছুরি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

জনতার পিঠে ছুরি, রক্তে লেখা বিপ্লব,
দুর্নীতি লুটতরাজে সব শহর-গ্রাম ভেঙে ত্রাস।
শাসকের জুলুমে জ্বলে অগ্নি আশা,
অত্যাচারের ছায়ায় নিভে না প্রাণের ভাষা।
কাঁধে হাতকড়ি, গলায় নীরবতার দৃষ্টি,
নির্যাতিতের চোখে জাগে বিদ্রোহের শিখা ক্ষণিক।

ফ্যাসিবাদ, স্বৈরবাদ, মববাদের তাণ্ডব,
ভয়ঙ্কর নীরবতা গড়ে দেয় জনতার বাঁধব।
ভোট চুরিতে লেখা শূন্য, স্বপ্ন ভেঙে যায়,
সাম্প্রদায়িক আগুনে সব সেতু ঝড়ে ভাসে ছায়ায়।
দেশবিরোধী চক্রান্তে থমকে যায় শান্তির ধারা,
কর্মহীন কলকারখানায় বাজে হতাশার হারা।

সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি, দখলবাজ দাপট,
রক্ত চুষে খায় ক্ষমতার ভোজে মানুষের দ্যাপট।
জেল জুলুম হুলিয়ায় কাঁদে নিরীহ প্রাণ,
জনতার কণ্ঠে জাগে বিদ্রোহের ধ্বনি মহান।
শ্রমিক-গ্রাম-নাগরিক হোক এক অটল শক্তি,
হাত মিলাও, দাঁড়াও, বিপ্লবের ডাক ডাকো শক্তি।

জনতার পিঠে ছুরি ভাঙবে, শৃঙ্খল ছিন্ন হবে,
স্বাধীনতার মাটিতে সত্যের পতাকা উড়ে গর্বে।
তীব্র বিদ্রোহের সুর বাজুক সব গলায়,
কণ্ঠে ন্যায়, হৃদয়ে সাহস—শক্তির ঝড় হোক ছলায়।
অপরাজিত আত্মায় জ্বলে উঠুক দেশপ্রিয় আলো,
প্রহরের মতো দাঁড়াও, আর হবে না অন্যায়ের শ্যালো।
--------------------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

হে জালিম

 হে জালিম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************

হে জালিম! ওঠো না দাপটে, নয়তো ঝড় বইবে,
মাটি-আকাশ চিৎকার করবে, দুঃশাসন তোমায় ছুঁবে।
অন্যায়ের দেউল ভেঙে যাবে, কোরআন শিখায়,
সত্যের আগুনে দম্ভ তোমার চূর্ণ হবে বারবার।

হে জালিম! শোনো বিদ্রোহের ঝাঁঝালো ডাক,
নির্দোষের রক্তে লেখা হবে তোমার কুপ্রতাপ।
ধৈর্য ধরো বলে হাদিস, সত্য জয়ী হবে,
বিপ্লবী হৃদয় দমনে পারবে না দুঃশাসকের তেজ।

হে জালিম! অন্ধকারে দাপট করো না, আলো আছে কোণে,
যে শাসন অন্যায়ে বাঁধা, সে দিনের শেষে ধূলিতে মিলবে।
নির্দোষের কান্না, শোষণের ক্রন্দন চূর্ণ করবে তোমার তলোয়ার,
আল্লাহর ন্যায়ে উঠবে বিপ্লব, ভেঙে যাবে জালিমের বাঁশি।


হে জালিম! মাথা নোও না দম্ভে, প্রলয় অপেক্ষা করছে,
নবীর হুকুম—“সত্যের পাশে থাকো, অন্যায় চিরস্থায়ী নয়।”
তোমার ক্ষমতা কেটে যাবে, আর থাকবে না প্রতারণার ঠাঁই,
বিপ্লবী শব্দে ধ্বনিত হবে, শান্তি ছড়াবে ধরণায়।

হে জালিম! ভয় করো, অনুতাপ জাগাও অন্তরে,
কোরআনের আলো দেখাও, দুঃশাসন হোক না দীর্ঘায়ু।
হিসাবের দিন কাছে, সে দিন হবে চূড়ান্ত,
যে শাসনই করো, আল্লাহর ন্যায়ে ধূলিসাৎ হবে অব্যাহত।

হে জালিম! দেখো তোমার দাপটে কি ভয়াবহ অগ্নি,
নদী-মাটি কাঁপছে, নিপীড়িতের রক্তে চূর্ণ।
তোমার রাজ্য হবে ধূলি, তোরণ ভেঙে পড়বে,
সত্যের আগুনে পুড়ে যাবে দুঃশাসকের দেহ।

হে জালিম! প্রতিশোধের তান্ডব ঘরে ঘরে বাজে,
অন্যায়ের খোঁজে দাঁড়াবে কেউ পারবে না।
তোমার দুঃশাসন হবে ইতিহাসের লজ্জা,
প্রলয়প্রেমী বিচার তোমায় শিখাবে শিক্ষা।

হে জালিম! ভয় করো, অনুতাপ আনো অন্তরে,
কোরআনের আলো দেখো, অন্যায়ের পথ শেষ হয়েছে।
নিশ্চয়ই চূড়ান্ত হিসাবের আগুন তোমাকে পোড়াবে,
অন্যায়ের শক্তি শূন্যে মিলিয়ে যাবে চিরদিনের মতো।

হে জালিম! জেগে উঠেছে অগ্নির নদী,
বিদ্রোহী হৃদয় ঝরছে বজ্রধ্বনি।
তোমার দখল কাঁপবে, অন্ধকার ছিঁড়ে যাবে,
সত্যের পতাকা উড়ে যাবে, ন্যায়ের রথে।

হে জালিম! আর থাকো না দম্ভে, বিদ্রোহ চরমে,
নবীর আদেশ—সত্যের পাশে দাঁড়াও।
প্রলয় আগুনে পুড়ে যাবে দুঃশাসনের দেউল,
বিপ্লবী তরঙ্গ উঠবে, ন্যায়ের জয় চিরস্থায়ী হবে।
----------------------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

মানবিক ডাক্তার

 মানবিক ডাক্তার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

ডাঃ মতিলাল বর্মন হাসি বয়ে আনে প্রভাতে,
রোগীর দুঃখে ছায়া হয়ে দাঁড়ান যে রাতে।
কাপাসিয়া বাজারে চেম্বার আলোয় ভরে,
ঘরে ঘরে পৌঁছে যান, সেবা তার ছড়িয়ে বেড়ে।

রাত্রি নাই, দিন নাই—যে ডাক আসে সাথে,
প্রবীণ শরীরে বয়ে নেন আশা অঙ্গীনে।
অহংকার তুচ্ছ, প্রেমময় সেবাই তার সঙ্গী,
মানবতার দীপ জ্বলে হৃদয়ে চিরন্তন অমল সঙ্গী।

ছোট বড় সকলেই জানে তোর নাম,
নিবেদিত প্রাণে দান করে তুই সেবা অমল ধাম।
হাসি দিয়ে ভয় দূর করে তুই,
দুঃখের বেদনা মুছে যায় তোর স্নেহময় ছোঁয়ায়।

প্রতি পাতা, প্রতি ছায়া শান্তি বাঁধে,
রোগীর কষ্টে ভাগি হয়ে তুই দুঃখ হারিয়ে পড়ে।
সৃষ্টি কর্তা দান করুক দীর্ঘায়ু তোর,
চিরন্তন হোক এই সেবক, মানুষের জন্য আলো সরে।

রোগীর কষ্টে তোর মমতা অমল,
প্রাণের ছোঁয়ায় দূর হয় সব দুঃখকাল।
ডাঃ মতিলাল—নাম নয়, গুণাবলীর প্রতীক,
কাপাসিয়ার মানুষ স্মরণ করবে চিরকাল স্নেহময় দীক্ষা।

হাসি দিয়ে দুঃখ দূর কর, দাও শান্তি প্রভাতে,
নিবেদিত প্রাণের সেই আলো জ্বলে চিরন্তন রাতে।
মানবতার প্রতিমা, সেবার চিরন্তন দীপ,
ডাঃ মতিলাল বর্মন—নাম নয়, গুণাবলীর জীবন্ত মীপ।
-----------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

কাপাসিয়ার সেন্টমার্টিন

 কাপাসিয়ার সেন্টমার্টিন

কলমেঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************************

ধাঁধার চর, শীতলক্ষ্যা-ব্রক্ষপুত্র মোহনায় জন্মেছে প্রাণ,
কাপাসিয়ার মাঠে খেলে নদীর স্রোতের গান।
শিবপুর-মনোহরদী, কালিগঞ্জ পাশে সবুজের আলো,
বাংলার চরে বয়ে যাক আনন্দের ঢেউকালো।

পেয়ারার বাগান দুলে বাতাসে খুশির ছায়া,
আম ও কাঁঠালের ডালে পাখির কিঁচির মায়া।
আলুর ক্ষেতে হাসে উর্বর মাটির মন,
চরের সৌন্দর্যে ভরে গাজীপুর-নরসিংদীর অমলিন ধন।

বর্ষার ঢেউয় ভেসে যায় স্বপ্নের রাত,
চরের প্রতিটি কোণে ঝরে সুখের বাত।
শীতকালে শান্ত নদী, মায়ায় ভরা জল,
বাংলার হৃদয়ে বাজে ধাঁধার সোনার কল।

ভাওয়াল রাজার খাজনায় চাষি পেয়েছিল ধন,
মাতব্বর কলসিটি নদীতে ভাসায় মন।
পর্যটক আসুক, হোক উৎসবের খনি,
চরের সৌন্দর্যে ভরে গগন রূপচন্দ্রা।

মাটি উর্বর, ফলনশীল স্বপ্নের মন,
কাপাসিয়ার সেন্টমার্টিন হোক বাংলার জন।
হে শাসক! রক্ষা করো নদী-মাটির রত্ন,
ভূমি ও জলই আমাদের অমূল্য বিন।

চরের সৌন্দর্যে হোক জাতির গর্ব,
বাংলার গানে ভেসে যাক চিরদিনের শব্দ।
পাখির কিঁচিরমিচিরে ভরে উঠুক আকাশ,
ফুলের সুগন্ধে ভাসুক হৃদয়ের পাথর।

নদীর ঢেউয়ে মিলেছে আকাশের আলো,
পাখির গানে ভরে উঠেছে প্রতিটি পাল।
চরের প্রতিটি কোণে সুখ-স্মৃতির মেলা,
বাংলার হৃদয়ে বাজুক চিরন্তন সঙ্গী-খেলা।
-------------------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

নদী দখল

 নদী দখল

কলমেঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

হে দখলদার! থামো, লজ্জা কোথায় তোমার?
মায়ের বুক ছিঁড়ে গড়ো প্রাচীর—সেটাই কি সংসার?
যে নদী দিত জীবন, আজ সে বন্দি শিকলে,
ক্ষমতার মদে মত্ত তুমি, মানুষ নয়, পিশাচের দলে!

তোমার প্রাসাদ গড়ো নদীর বুকে,
মরুক জনতা, মরুক মাছ, কৃষকের সুখে!
আইন তুমি পায়ের নিচে চাপা দাও হেসে,
সিংহাসনের ছায়ায় বসে লুট করো দেশে।

ওই নদীর কান্না শুনতে পাও না কানে?
বাঁধে-বাঁধে মরছে স্রোত, শুকোয় তীরে গানে।
নৌকা আজ নিঃস্ব, জেলে আজ হাহাকার,
তবুও তুমি চাও আরও জমি, আরও ক্ষমতার ভার!

নদী ছিলো জননী, তুমি করলে ক্রীতদাস,
লোভে পাপের স্রোত বইছে সর্বনাশ!
বৃষ্টির জল থামে, মাঠে ওঠে বিষ,
নদী মরে গেলে বাঁচবে কে—জানো কি নিঃশেষ?

জেগে ওঠো জনতা! ভাঙো এই দখল-শৃঙ্খল,
ফিরাও নদীর বুকে তার স্বাধীন স্রোতধল।
নদী বাঁচাও, জীবন বাঁচাও—এই শপথ হোক আজ,
দখলদার, তোর ক্ষমতার দিন শেষ—এই রাজ!
------------------------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

বন দস্যু

 বন দস্যু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************************

জাগো হে জনতা! জাগো হে বীর!
সবুজ লুটে নেয় দস্যুর দল নির্দয় ধীর।
কাপাসিয়ার বুকে আজ কান্নার হাহাকার,
বন উজাড় করে হাসে তারা—অধিকারধারী শিকার!

ক্ষমতার ছত্রে ভয় নাই কারো,
আইন প্রশাসন তাদের দ্বারে হারো।
বনবিভাগও নীরব, বুঝি লোভে পা দিয়েছে,
জনতার সম্পদ তারা ভাগাভাগি করে নিয়েছে!

যে গাছ দিত প্রাণবায়ু, ছায়া, সুখের গান,
আজ তা পড়ে রক্তে ভেজা কাঠের মান।
করাতের দাঁতে করুণা নাই, মানবতা নাই,
সবুজ আজ বন্দী, দস্যুর রক্তজমা ঠাঁই!

সাংবাদিক গেল সত্য বলিতে—
ফিরে এল সে ক্ষতবিক্ষত বুকে লিখিতে!
বলে তারা—“ক্ষমতা আমাদের, আইন আমাদের হাতে,”
হে আল্লাহ! এই অন্যায় কবে মুছিবে রাতেতে?

দস্যু নয় তারা—ধরার অভিশাপ,
তাদের হাতে বনভূমি আজ বিলাপ।
ফুল ঝরে, পাখি মরে, নদী কাঁদে বেদনায়,
সবুজের বুক আজ রক্তে রঞ্জিত হাহাকারে।

জাগো হে মানুষ! শপথ করো প্রাণে,
বন বাঁচাও, দেশ বাঁচাও, অন্যায়ের টানে!
কাপাসিয়ার বন ফেরাও প্রাণে,
সবুজ হোক মুক্তি—ন্যায়ের তরণীতে গানে!
----------------------------------------


০৫-১১-২০২৫

Tuesday, November 4, 2025

নিখোঁজ সংবাদ

 নিখোঁজ সংবাদ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

কোথায় গেলে হে মতিলাল, তোমায় পায় না কেউ?
সন্ধ্যার ছায়ায় হারালে তুমি, ঝরে নিঃশেষ আলো ঢেউ।
ইস্কাটনের পথে পথে, প্রশ্ন ওঠে ঘরে ঘরে—
“ফিরে এলে না ডাক্তারবাবু, কী আঁধার এলো নগর ঘোরে?”

মীনাক্ষীর দু’চোখে এখন জোয়ারে বেদনার স্রোত,
দরজার পাশে জ্বলছে প্রদীপ, আশায় অনির্বাণ জোট।
গ্রামের পথে কান্নার ধ্বনি— কাপাসিয়া নিঃশব্দ আজ,
চেনা মুখের খোঁজে সবাই, ডাকে প্রভু, করে সাজ সাজ।

মানুষ যার প্রাণে মিশে, চিকিৎসায় দান করেছেন প্রাণ,
সেই আলোর মানুষ হারিয়ে গেলে, নীরব হয়ে যায় গান।
হে মতিলাল, ফিরো ফিরে, জনতার আকুল ডাক—
তোমার চশমা পড়ে আছে, অথচ তুমি কোথায় রাখ?

আকাশে জেগে পূর্ণ চাঁদ, তবু মনটা অন্ধকার,
কোথায় তুমি মানবপ্রেমী, কোথায় তোমার স্নেহের ভার?
হে প্রিয় চিকিৎসক, ফিরো ঘরে, কাপাসিয়া কাঁদে আজ,
প্রার্থনায় ভিজে মাটি-আকাশ, তোমারই নামে বাজ।
-----------------------------------------------------


০৪-১১-২০২৫

আদর্শ শিক্ষক

 আদর্শ শিক্ষক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

হে নাজমুল করিম, আলোর দিশা, জাতির নব জাগরণ,
তোমার বাণী বজ্রকণ্ঠে, জাগায় ঘুমন্ত মন।
তুমি গুরু নও কেবল, তুমি যুগের প্রেরণা,
তোমার ছোঁয়ায় পায় নবজীবন, ছাত্র হৃদয় শুদ্ধ সোনা।

তুমি শিখাও—“সত্যই শক্তি, অন্যায় মানা নয়”,
তোমার চোখে জ্বলে দিগন্ত, তেজে ভয়ও ক্ষয়।
তুমি প্রেমের, ন্যায়ের, শ্রমের দীপ,
তোমার বুকে জ্বলে ঈমানের নীপ।

তুমি বলো—“মানুষ হও, ধর্মে ন্যায়ে স্থির থেকো”,
“দেশপ্রেমে গড়ে তোলো মন, সেবায় জীবন ঢেকো।”
তোমার কণ্ঠে বিপ্লবী সুর, তব বাণী আগুন শিখা,
তুমি গড়ো চরিত্র, ভাঙো মিথ্যা, সত্য করো দীক্ষা।

নাজমুল করিম! তুমি নও নামের শিক্ষক,
তুমি জাতির প্রহরী, পথের আলোকিত দীক্ষক।
তুমি নীরব তবু উচ্চতর, ন্যায়ের মূর্তি প্রাণে,
তোমার শাসন স্নেহে মেশে, ভালোবাসার টানে।

তুমি বলো—“দেশের তরে প্রাণই উৎসর্গ”,
“জ্ঞান ছাড়া জাতি অন্ধ, শিক্ষা হোক অর্ঘ্য।”
তুমি পরিশ্রমে রচনা করো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম,
তোমার আদর্শে বাঁচে আশা, গড়ে নব চেতনা গম্ভীর সম্ম।

নাজমুল করিম, তুমি শিক্ষক নয়—তুমি জাতির মান,
তোমার পদে প্রণাম জানায় কৃতজ্ঞ মানবজ্ঞান।
তোমার মতো গুরু থাকুক যুগে যুগে ধ্রুবতারা,
তোমার আলোয় পথ দেখুক নতুন প্রভাত সারা।
-----------------------------------------------------


০৪-১১-২০২৫

আত্মনির্ভরশীল নারী

 আত্মনির্ভরশীল নারী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************************

জাগো হে নারী! তোরে ডাকে প্রভাতের রবি,
অন্ধকার ভেদি জাগ, তুই যুগ-প্রেরণার নবী।
শাহিনুর তোর নাম, তোরে চিনে বিশ্বপানে,
আলোকিত সে তোর পথ, জ্ঞানের অমল প্রানে।

দোষু নারায়ণপুরে ফুটেছিল তোর কুসুম,
রাহেলা মাতার কোলে জেগেছিল জ্ঞান-ধ্বনি, মধুর রুম।
আব্দুস সামাদের আশীর্বাদে তুই বেড়ে উঠেছিস বল,
সাহসী কন্যা, তুই আজ বিজয়ের প্রতীক, জ্বলজ্বল!

তাজউদ্দিন আদর্শ বিদ্যালয়ে প্রথম তোর পাঠশালা,
কলমে আঁকিস তুই ভাগ্য, নয় কারো দয়া-ভিক্ষা।
কাপাসিয়ার কলেজ মাঠে তুই ছুঁয়েছিলি আকাশ,
জ্ঞান তোর দীপ, মনের শক্তি, দৃঢ়তার ইতিহাস।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তোর প্রজ্ঞার প্রমাণ,
বি.বি.এস, এম.বি.এস – ম্যানেজমেন্টে অনুপম দান।
পদে পদে তোর অধ্যবসায়ে জ্বলে ওঠে দীপ,
তুই আজ শিক্ষক, তোর জ্ঞানে সমাজ হোক চিরস্নিগ্ধ সিক্ত।

নারী তুই কোনো দুর্বল নয়, তুই শক্তির মূর্তি,
তোরে সৃষ্টি করেছিল ঈশ্বর নিজ শক্তি হতে পূর্তি।
জীবনের আঁধারে তুই বাতিঘর, প্রেরণার আলো,
তোর চরণে সমাজ নত, তোর হাতেই ভবিষ্যতের পালো।

যে তোরে ছোট করে, সে জানে না ইতিহাস,
নারীর চোখে লুকানো আছে বিপ্লবের আকাশ।
রক্তে তোর আছে সৃষ্টির দীপ্তি, কর্মের গান,
তুইই তো মানবতার সূর্য, আলোকিত প্রাণ!

বাঁধন তোরে জড়াবে কে, তুই তো মহাকালের ধারা,
তোরই স্পর্শে জাগে বনে পুষ্পিত বিকাশারা।
তোর ত্যাগে ভরে ঘর, তোর শ্রমে বাঁচে দেশ,
আত্মনির্ভর নারী, তুইই সভ্যতার শেষ বিনেশ।

নীরবে তুই বুনিস আশা, বুকে রাখিস আগুন,
শিক্ষার আলোয় তুই করিস অন্যায়ের অনুন।
শাহিনুর তুই প্রতীক আজ, নারীজাগরণের দীপ্তি,
তোর পথে চলবে আগামী প্রজন্ম, সংগ্রামের নীতি।

তোর কণ্ঠে বাজে বিদ্রোহ, তোর চোখে জ্বলে দীপ,
নবযুগের নারী তুই—জ্ঞান, শ্রম, সাহসের প্রতীক।
তুই দেখিয়েছিস জগৎকে, নারী নয় কেবল স্নেহ,
নারী মানে বিদ্যা, বল, বীর্যের উজ্জ্বল গেহ।

তোর হাসিতে আলোকিত ভোর, তোর শিক্ষায় জাগে প্রাণ,
তোর কর্মে জাগে সমাজ, তোর দৃষ্টিতে নব-বাণী গান।
আত্মনির্ভর তুই নারী, যুগের গর্ব, তোরে সালাম,
তুই প্রমাণ – নারী মানেই শক্তি, আলো, অবিচল প্রাণ!
----------------------------------------------------


০৪-১১-২০২৫

Gen Z

 Gen Z

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

Gen Z! Gen Z! ডিজিটাল প্রজন্ম!
নেটের আলোয় জন্ম, স্মার্টফোনে প্রাণ।
  স্বপ্ন ভরা চোখে, উদ্ভাবন-চাহিদা,
  সৃজনশীল চিন্তা, স্বাধীন মন-অভিযান,
তারা পথিক, উদ্যমী, জ্ঞান-বিহারী!
  Gen Z!

তথ্যের স্রোতে ভাসে তরুণ চেতনা,
সোশ্যাল মিডিয়ার আলোয় জাগে প্রেরণা।
  বৈচিত্র্য সমতা, ন্যায়ের প্রতি ধ্রুব,
  পরিবেশ সচেতন, শক্তি ও চেতনা অনন্য,
জীবনকে করে তারা চিরন্তন যাত্রা!
  Gen Z!

উদ্যোক্তা স্বপ্নে, কাজের মাঝে তীব্র আগ্রহ,
মনের শান্তি, মানসিক সুস্থতা হোক পথপ্রদর্শক।
  Boomers Gen X Millennials থেকে আলাদা,
  ডিজিটাল দক্ষতার জগতে নবীন পথিক,
Gen Z নতুন যুগের নেতা, সমাজ গঠক!
  Gen Z!

তথ্যের মহাসাগরে নৌকা ভাসায় তারা,
স্বাধীনতা, সৃজনশীলতা, নতুন দিগন্ত আনে।
  প্রত্যেক মনোজগৎ দীপ্তি জাগায় প্রেরণা,
  ভবিষ্যতের স্বপ্ন, শক্তি, অদম্য সাহসী,
ডিজিটালের সন্তান, উন্মুক্ত নিখুঁত পথপ্রদর্শক!
  Gen Z!
-----------------------------------------------


০৪-১১-২০২৫

নেতা নির্বাচন

 নেতা নির্বাচন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

হে জনতা! ভোরের বাতাসে শোনো!
নেতা নির্বাচন নয় খেলা, নয় ছলকানো!
সত্যিক নেতা হবে ধ্রুব, ধর্মে অটল,
ভয় শুধু আল্লাহর, অদম্য ন্যায়ের পথে চল।

পথ আল্লাহর, নেতা হোক অদ্বিতীয়,
অন্যায়ের আঁধারে নয়, নয় ভয়ঙ্কর ভয়ানক!
ক্ষমতার দায়িত্ব ভারী, হাদিস বলে স্পষ্ট,
অন্যায় করিলে অভিশাপ ঘনীভূত, হবে ভারী।

অহংকার নয়, নয় ধন-লোভ,
জনতার কল্যাণে হোক জীবন-প্রেমের ধ্রুব!
ভোটের দিনে চোখ খোলা রাখো,
নেতা বাছাই করো—সত্যের প্রভাত হোক ধ্রুব!

সত্য, ন্যায়, সততা—হোক তার বুকে,
ধর্মনিষ্ঠা হোক প্রেরণা, আল্লাহর ভয় হোক তার বুকের রাশ্মি!
ভোটের জয় হোক অমলিন,
জনতার কল্যাণ হোক ধ্রুবপদ্মে, অটল, অদম্য, আল্লাহ’র সুরে!

নেতার অঙ্গীকার হোক জনতার প্রিয়,
ধ্বনি হোক বিদ্রোহী, বুকে হোক ধ্রুব সীয!
নির্ভীক হোক সে, অদম্য হোক তার মন,
জনতার কল্যাণ হোক সর্বশেষ, হোক জয় অমলিন!
-------------------------------------------


০৪-১১-২০২৫

বিবাহ-বিচ্ছেদ

 বিবাহ-বিচ্ছেদ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************************

বাঁধা জীবন, প্রেম ও দায়িত্বের সেতু।
কোরআন বলে—তালাক সর্বশেষ পন্থা।
ধৈর্য ধরো, পরামর্শ নাও আগে।
মুহাব্বতের আলো জ্বালো চিরন্তন পথে।

প্রেম নয় শুধু আবেগের ঝড়।
রাসূলের বাণী—শৃঙ্খলা, উদারতা, সদাচার।
দাম্পত্যের দীপ জ্বালো ন্যায়ের আলোতে।
হে নারী, হে পুরুষ, মিলিত হও সত্যে।

প্রথম তালাক দিলে, সময় দাও।
তিন মাস ভাব, সন্তানের কল্যাণে যত্ন।
অর্থ, স্নেহ, সমানভাবে বিতরণ করো।
হাদিস বলে—বিচ্ছেদের সময় ন্যায়ের পথে।

দ্বিতীয় তালাক হলে, পরামর্শ নাও।
তৃতীয় তালাক দিলে, চূড়ান্ত বিচ্ছেদ।
আইন, নিয়ম, ন্যায়—সব মেনে চলো।
বিচ্ছেদ শেষে ক্ষতি নয়, শিক্ষা আসে।

দায়িত্ব থাকুক, সন্তানের অধিকার রক্ষা।
অর্থনৈতিক সহায়তা, স্নেহ—সব নিশ্চিত করো।
ক্ষমা, ন্যায়ের দীপ, সদিচ্ছা জ্বালো।
ভালোবাসা, ধৈর্য, ন্যায়ের আলোয় জীবন সাজাও।

কোরআন নির্দেশ, হাদিস চিরন্তন দিকনির্দেশ।
বিদ্রোহ নয়, শিক্ষা ও দায়িত্ব শিখাও।
হে মানুষ, হে নারী, শৃঙ্খলা মানো নির্ভয়ে।
জীবন সাজাও, ভালোবাসা ও ন্যায় আলোয়।
-------------------------------------------------


০৪-১১-২০২৫

দেনমোহর

 দেনমোহর

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************

দেনমোহর হোক সত্য, হৃদয় জ্বলো উজ্জ্বল।
হৃদয় জাগুক ন্যায়, নারী-পুরুষ সমান সকল।

দাও প্রেম, দাও ন্যায়, দাও সত্যের আলো।
ভালোবাসা জাগুক সকল, হোক আলোর আলো।

বিবাহ নয় খেলনা, নয় ধন-সম্পদের খেলা।
প্রেম হোক মুক্ত, বিশ্বাস হোক নির্ভুল খেলা।

হৃদয়ের আলোয় জ্বলো, সংসারের পথ দীপধারা।
ভালোবাসা জাগাও, দাও দাসের মর্যাদা খারা।

যে স্বচ্ছহৃদয়ে দেবে দেনমোহর, আল্লাহর আলো জ্বলে।
অন্ধকার দূরে হোক, ন্যায়বলে উঠুক জীবন উজলে।

নিশ্চল নয় বন্ধন, নয় হিমশীতল ধারা।
প্রেম, সম্মান, ন্যায়—মিলাও একত্রে, হৃদয় খারা।

দেনমোহর হোক চিরন্তন, হোক আলোর ঝর্ণা।
দাও প্রেম, দাও ন্যায়, দাও সততা, হোক তরানা।

হৃদয় জাগো! সংসার জাগো! আল্লাহর পথে এগোও।
দাও সম্মান, দাও ভালোবাসা, দাও ন্যায়, হোক ভলো।

দেনমোহর হোক পবিত্র, হৃদয়ে হোক সত্যের দীপ।
দেনমোহর হোক চিরন্তন, আল্লাহর দৃষ্টিতে পূর্ণ দীপ।

দাও! দাও! দাও! দাও! দাও! দাও!
হে মানব! হে নবীন! হে যুবক! হে তরুণ!

প্রেম হোক মুক্ত, বিশ্বাস হোক দৃঢ় অটল।
সততার পথে চলো, ন্যায়বলে চলুক জীবন চমৎকাল।

নারী-পুরুষ সমান, সমাজে হোক মর্যাদা সমান।
দেনমোহর হোক প্রতীক, হৃদয়ে হোক সততার মান।

অন্ধকার দূরে হোক, আলোর দীপ জ্বলে চিরন্তন।
ভালোবাসা জাগুক, ন্যায়বলে হোক হৃদয় উজ্জ্বল অনন্ত।

দাও প্রেম! দাও ন্যায়! দাও সততা, দাও সম্মান!
দেনমোহর হোক পবিত্র, হোক আল্লাহর পথে সান্নিধান।
-------------------------------------------


০৪-১১-২০২৫

ভোটের হাওয়া

 ভোটের হাওয়া

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************

এলো এলো এলো হে ভোটের হাওয়া,
পথ ঘাটে ময়দানে জাগে জনতার উৎসাহ।
শ্লোগানে শ্লোগানে উত্তাল বাংলার অলি গলি,
আমার ভাই, তোমার ভাই, ওমুক ভাই, ওমুক ভাই।

কে সত্য, কে মিথ্যে তার কোন বালাই নাই,
দলে দলে বিভক্ত, হার জিত যাই হউক।
আমার নেতা পবিত্র, যারে সাপোর্ট করে তারে নিয়েই মেতে উঠে,
একি বাংলাদেশ! একি গণতন্ত্র! যাচাই বাচাই নাই কোন।

হউক সে চাঁদাবাজ, দুর্ণীতিবাজ, লুটেরাজ,
দখলবাজ, সন্ত্রাসী, স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ,
মববাদ, উগ্রবাদ, দেশদ্রোহী, নর ঘাতক, ভোটচোর—
মার্কা শুধু মার্কায় নাচে, ভোটের হাওয়ায় জনতা।


জনতা কি বুঝে কে যোগ্য, কে অযোগ্য?
চোখ বন্ধ করে নাচে, মানে যায় ভ্রান্তি-ভেলায়।
বাপ-দাদার স্বপ্ন ভাঙে মাটি-ধূলায়,
রাজনৈতিক খেলা হয় শুধু কাগজে-কলমে।

পথ ঘাটে ঝড় ওঠে স্লোগান, নাচে পতাকা,
চোখে নেই বিচার, নেই কোন অন্তর।
হাসে নেতা, হাসে অনুগামী,
ভোটের হাওয়ায়, সবাই ভাসে অন্ধকারে।

চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, লুটেরাজ নাচে,
দখলবাজ, সন্ত্রাসী, স্বৈরাচার উল্লাসে।
মার্কা শুধু মার্কায়, ভোটের হাওয়ায় বিজয়ী,
জনতা হেসে ভোলে সব কিছু, সত্য-মিথ্যে মিলিয়ে।

হে ভোটের হাওয়া! তবই অদম্য উত্তাল,
জাগাও জনতার মনে বিদ্রোহের তান।
হাসি-নাচে লুকিয়ে আছে শাসক-নির্ভরতা,
চোখে পড়ে শুধু রঙিন কাগজের আশা।

এখানেও দেখা যায় বিভাজন, বিদ্বেষ,
দলবাজি, দলবিরোধ, নানান ছদ্মবেশ।
কিন্তু তুমি বল, হে ভোটের হাওয়া,
এই অন্ধকারে কি দেখা যায় কোনো আশা?

এতো দিন গেছে ঝড়-ঝাপটা,
তরঙ্গ-পীড়নে ভেসেছে জনতার মানস।
কিন্তু আজও নাচে তারা অচেনা নেতার পালে,
বিজয় মানে শুধু উল্লাস, বিচার ভুলে যাওয়া।

নিশান্তে সুবর্ণ-কান্তি নক্ষত্র যেমতি,
হে ভোটের হাওয়া, তেমনি দীপ্তি ছড়াও রাস্তায়।
অজ্ঞান জনতার অন্তরে তুমি প্রভা জাগাও,
নব নেতা, নব আদর্শ, নব প্রত্যাশায়।

দলবাজি, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, লুটেরাজ—
তাদের ছদ্মবেশে জনতা মেতে ওঠে।
স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, মববাদ, উগ্রবাদ,
সব কিছুর মধ্যে বাজে তোমার উচ্ছ্বাসী আলো।

হে ভোটের হাওয়া, তুমি কি শুধু উল্লাস,
নাকি সত্যের পথে অবিরাম বিদ্রোহী বাতাস?
জনতার মন জাগাও বিদ্রোহী সুরে,
বিজয় মানে শুধু আনন্দ নয়, ন্যায়ের পূর্ণ আলো।

নব ভোটের হাওয়া, হে জনতার প্রভা,
সততা, ন্যায়, বিদ্রোহ, আনন্দ—সব মিলে।
অন্ধকারে জ্বেলে রাখো নতুন সূর্য,
হাসি ফোটাও জনতার অন্তরে, ভবিষ্যতের আশায়।
---------------------------------------------------


০৪-১১-২০২৫

আত্মনির্ভরশীল হও হে নারী

 আত্মনির্ভরশীল হও হে নারী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************

শুনো, শুনো নারী! আর নয় নতশির!
জাগো, জাগো নারী! দাও তোমার অস্তিত্বের গর্জন, হে নারী!
নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলো, হে কণিকা!
বল নিজেকে—“আমি পারি! আমি পারি!”

বল নিজেকে—“আমি শক্তি! আমি জীবন!”
তুমি নও পরনির্ভরশীল! তুমি নও বন্ধনশীল!
পৃথিবীর অংশ তুমি, কোরআনের কথায়—ধার্মিক হলে সমান প্রতিদান মিলন।
তুমি যোগ্য অংশীদার, তুমি হুকুম দাও!

সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, বিশ্বব্যাপী—সবক্ষেত্রে তুমি যোগ্য।
কেন হবে তুমি নির্যাতিত? চোখে অশ্রু ঝরে?
কেন হবে অসহায়? তালাকের পথে ভয় ধীরে ধীরে?
চোখের জল মুছে ফেলো! গর্জে উঠো মহিমায়!

বল নিজেকে—“আমি পারি! আমি পারি!”
যদি তুমি হেরে যাও, হেরে যাবে পরিবার, সন্তান, নারী!
তুমি নীরব নয়! তুমি অধিকার রক্ষক নারী!
তালাক মানেই তুমি নও নিঃশেষ! তুমি নও অবলা!

জিতলে তুমি—জিতবে নারী, জিতবে সন্তান, জিতবে অধিকার!
নিজেকে শিক্ষিত করো! জ্ঞানকে শক্তি দাও!
নিজেকে সমৃদ্ধ করো! নেতৃত্বের ছাপ ছড়াও!
নিজের অর্থ আয় করো! স্বাধীনতা হোক তোমার সাথী!

নিজের জীবন রচনা করো! সাহসের পথচিহ্ন ছড়াও!
ভয়, সীমা, পুরনো বাঁধন—সব ভেঙে ফেলো!
মহিলার লড়াই, শক্তি, নতুন দিগন্ত জ্বালাবে!
নিজের স্বপ্ন বুনো! নিজের আশা আলিঙ্গন করো!

যদি তুমি জাগো, যদি তুমি দাঁড়াও, নতুন ইতিহাস গড়াবে!
শুনো নারী! আর নয় নতশির!
জাগো, লড়ো, দাও নিজের ভবিষ্যৎ নির্মিশ্র!
তুমি পারো! তুমি জিতবে! আলোর রূপ হইবে তুমি!

আত্মনির্ভরশীল হও, হে নারী! সাহসের গভীর স্রূপ দাও!
নিজের পথ রচনা করো, ভয়কে চিরতরে দূরে ফেলো।
নিষ্ঠা, ধৈর্য, সাহস—নিজের অস্ত্র করো সব জ্ঞানেলো।
উত্তরণ তোমার হাতেই, নিজেকে করো বিজয়ী নারী।

আত্মনির্ভর হও, হে নারী, বিশ্বে ছড়াও তোমার শক্তি!
শুনো, শুনো নারী! আর নয় নতশির!
জাগো, জাগো নারী! দাও তোমার অস্তিত্বের গর্জন, হে নারী!
বল নিজেকে—“আমি পারি! আমি পারি!”
--------------------------------------------------


০৪-১১-২০২৫

প্রাণ ঢালা অভিনন্দন

 প্রাণ ঢালা অভিনন্দন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
প্রাণঢালা অভিনন্দন হে রিয়াজুল হান্নান!
কাপাসিয়ার গৌরব তুমি, বীরের সন্তান!
বিগ্রেডিয়ার হান্নান শাহের রক্ত তোর ধমনী,
ন্যায়ের শপথে জ্বলো—আলোয় ভরো ধরণী!

আজ জনতার মুখে ধ্বনি, ধ্বনি, ধ্বনি—
“ন্যায়ের প্রতীক এসেছেন, এসেছে নববাণী!”
বিএনপি হতে মনোনীত তুমি আজ,
আনন্দে মাতোয়ারা কাপাসিয়ার সাজ!

তুমি হও সাহস, তুমি হও ন্যায়,
অন্যায়ের মূলে আনো ভয়ঙ্কর ক্ষয়!
দুর্নীতির দানব চূর্ণ করো আজ,
চাঁদাবাজ-ঘুষখোর—সবাই হোক লাজ!

লুটতরাজের রাজ্যে জ্বালো আগুন,
তোমার হাতে ফুটুক ন্যায়ের বনধুন।
মিথ্যা মামলা, হয়রানির ছল,
জনতার কণ্ঠে আনো সত্যের বল!

দখলবাজি, দলবাজি—সব করো ছাই,
আশ্রয় প্রশ্রয়ে আর যেন না ঠাঁই!
সুদ-মাদক-ঘুষের শৃঙ্খল ভাঙো,
অন্যায়ের রাত্রিতে বজ্রের মতো ঢাঙো!

তুমি হও শাসক—কিন্তু নিরপেক্ষ বীর,
সত্যের সেনানী, অবিচল ধীর।
আইনসভায় বলো, “আমি জনতার ধ্বনি!”
ধর্ম, মত, বর্ণে আনো সাম্যের বাণী।

তুমি হও সকল ধর্মের, সকল জাতির,
তুমি হও উন্নয়নের রূপকার শির।
যোগ্য পিতার যোগ্য উত্তরাধিকার,
তুমি হও মুক্তির দীপ্ত অধিকার।

ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে ভিজে তব প্রাণ,
ইজ্জতহারা মায়ের অশ্রু তব গান।
তুমি হও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মশাল,
অন্যায়ের প্রাচীরে দাও বজ্রের কণাল!

জনতার স্বপ্নে তুমি দীপ্ত জ্যোতিষ্মান,
তোমার নেতৃত্বে জাগুক গর্বিত গাঁথান।
কাপাসিয়ার মাটি আজ তব নাম ধরে কয়—
“রিয়াজুলই ন্যায়ের পথে জয়!”

আজকের মনোনয়ন এক অঙ্গীকার,
তোমার হাতে জ্বালো আশার অগ্নিদ্বার।
তুমি জিতো ন্যায়ে, তুমি জিতো মান,
তুমি হও গৌরব, হে রিয়াজুল হান্নান!

জনতার ভালোবাসায় উঠুক ধ্বনি তীব্র,
অন্যায়ের দুর্গ হোক ছাই, নিঃশেষ বিভ্র!
তুমি হও আগুন, তুমি হও দিশা,
সত্যের পথেই হোক তোমার নিশা!

প্রাণ ঢালা অভিনন্দন, হে রিয়াজুল হান্নান!
তুমি হও বজ্রের, তুমি হও গান!
ত্রিশ লক্ষ রক্তধারা, মায়ের অশ্রু তোমার প্রাণ—
এই বিজয়ের প্রভাতে তোমায় জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন!
--------------------------------------------

Monday, November 3, 2025

কেমন চাই তোমাকে, হে নেতা

 কেমন চাই তোমাকে, হে নেতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

হে নেতা! লাল-সবুজ চেতনার অদম্য সৈনিক,
মুক্তি যুদ্ধে অগ্রসেনা, অগ্নি বীর বাঙালি!
অন্ধকার ঝড়ে মাথা নত হবে না কখনো,
বজ্র কণ্ঠে বলবে—“আমি বাঙালি, আমি বাংলাদেশী!”

ন্যায়ের শাসক, সত্যের অবিচল কান্ডারী,
দুর্নীতি, দখল, চাঁদাবাজি—দূরে হোক ধ্বংস।
স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, মববাদের পথ হবে শূন্য,
দেশদ্রোহী, বিশ্বাসঘাতক—শাসনে আসবে না কখনো।

জনতার অধিকার ফিরবে তোমার তলে,
বৈষম্য ভেঙে যাবে, সত্যের দীপ জ্বলে।
লাল-সবুজ পতাকা উঁচু, নিরাপদ, গর্বিত, উজ্জ্বল,
দেশপ্রেমে প্রতিটি দিন হবে নতুন, অমলিন, অপ্রতিরোধ্য।

শহরে, গ্রামে, নদী তীরে, মাঠ-ঘাটে,
গর্জে উঠবে স্লোগান—“আমাদের নেতা, সাহসী, সত্যনিষ্ঠ!”
রণাঙ্গনে জাগুক অগ্নি, ভয়কে ভস্ম কর,
শিশু, যুবক, বৃদ্ধ—সবাই হবে তোর পক্ষে।

অপরাজেয় স্বপ্নে লাল সবুজের বিজয় হোক চিরকাল,
শত্রুর ভয়, জনতার আশা—সব একসঙ্গে জ্বলে, জ্বলে চিরকাল।
হে নেতা! গর্জে উঠো, ঝাঁঝালো, বলবান চিত্তে,
সত্য, ন্যায়, স্বাধীনতা—সব তোর তরে হবে অমলিন।
-------------------------------------------


০৩-১১-২০২৫

কেমন চাই তোমাকে, হে নেতা

 কেমন চাই তোমাকে, হে নেতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

হে নেতা! লাল-সবুজ চেতনার অদম্য সৈনিক,
মুক্তি যুদ্ধে অগ্রসেনা, অগ্নি বীর বাঙালি!
অন্ধকার ঝড়ে মাথা নত হবে না কখনো,
বজ্র কণ্ঠে বলবে—“আমি বাঙালি, আমি বাংলাদেশী!”

ন্যায়ের শাসক, সত্যের অবিচল কান্ডারী,
দুর্নীতি, দখল, চাঁদাবাজি—দূরে হোক ধ্বংস।
স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, মববাদের পথ হবে শূন্য,
দেশদ্রোহী, বিশ্বাসঘাতক—শাসনে আসবে না কখনো।

জনতার অধিকার ফিরবে তোমার তলে,
বৈষম্য ভেঙে যাবে, সত্যের দীপ জ্বলে।
লাল-সবুজ পতাকা উঁচু, নিরাপদ, গর্বিত, উজ্জ্বল,
দেশপ্রেমে প্রতিটি দিন হবে নতুন, অমলিন, অপ্রতিরোধ্য।

শহরে, গ্রামে, নদী তীরে, মাঠ-ঘাটে,
গর্জে উঠবে স্লোগান—“আমাদের নেতা, সাহসী, সত্যনিষ্ঠ!”
রণাঙ্গনে জাগুক অগ্নি, ভয়কে ভস্ম কর,
শিশু, যুবক, বৃদ্ধ—সবাই হবে তোর পক্ষে।

অপরাজেয় স্বপ্নে লাল সবুজের বিজয় হোক চিরকাল,
শত্রুর ভয়, জনতার আশা—সব একসঙ্গে জ্বলে, জ্বলে চিরকাল।
হে নেতা! গর্জে উঠো, ঝাঁঝালো, বলবান চিত্তে,
সত্য, ন্যায়, স্বাধীনতা—সব তোর তরে হবে অমলিন।
-------------------------------------------


০৩-১১-২০২৫

কাকে মন দিচ্ছো?

কাকে মন দিচ্ছো?
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************

ওহে যুবক, ওহে যুবতী,
তুমি কাকে মন দিচ্ছো?
কখনো কি থেমে নিজেকে জিজ্ঞেস করেছো—
সে কি তোমার যোগ্য?
না কি কেবল আবেগের ঢেউয়ে ভেসে চলেছো?

প্রেম তো ফুল নয়,
প্রেম এক আগুন—
যদি সামলাতে না জানো,
পুড়ে যাবে মন, পুড়ে যাবে জীবন।

একবার যদি হৃদয়ের দরজা খোলো,
ভুল মানুষ এলে আর বন্ধ করা যায় না—
তখন মিষ্টি হাসি হয় বিষের পেয়ালা,
মায়ার আলোয় ঢেকে যায় অন্ধকার পথ।

যে প্রেমে নেই সম্মান, নেই দায়িত্ব,
সে প্রেম ধ্বংস ডাকে নিঃশব্দে—
লেখা-পড়া ফেলে, স্বপ্নগুলো পুড়ে ছাই,
নেশার কুয়াশায় হারিয়ে যায় সকাল।

প্রেম এক শিল্প—
তা জানতে হয়, গড়তে হয়,
অন্ধ আবেগে নয়, সচেতন বিশ্বাসে।
যে প্রেম আত্মাকে বড় করে,
সেই প্রেমই সত্য;
আর যে প্রেম লজ্জায় ডুবায়,
সে প্রেম অভিশপ্ত।

ওহে তরুণ, ওহে তরুণী—
মন দেওয়ার আগে মনটাকে যাচাই করো,
কারণ ভুল হৃদয়ের দাওয়ায়
নরকও জন্ম নিতে পারে ভালোবাসার নামে।
---------------------------------------


০৩-১১-২০২৫


তুমি কি নিরাপদ?

 তুমি কি নিরাপদ?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

তুমি কি নিরাপদ এই স্বাধীন দেশে?
রাস্তায় হেঁটে চল, প্রতিটি মোড়ে ভয় চাপা দমে।
ঘাট, বাগান, শহরের হাওয়ায়—
নজর রাখে অদৃশ্য অজস্র চোখ।

শাসক কি তোমার?
কোনো আদেশ কি তোমার জন্য?
ন্যায়, নিরাপত্তা, অধিকার—
সবই কি থাকে জনগণের হাতে,
নাকি শুধু শাসকের দাসত্বে বন্দি?

স্কুলে, কলেজে, পাঠশালার কোণে,
জ্ঞানচর্চা কি সত্যিই নিরাপদ?
শিক্ষক, বন্ধু, বই—সবকিছু কি
ভয়ের ছায়া ছাপিয়ে উজ্জ্বল?

পরিবারে, ঘরের প্রহরে,
প্রেম, যত্ন, আশ্রয় কি যথেষ্ট?
দরজা বন্ধ, দেয়ালের ভিতরে—
নিঃশব্দ ভয় কি লুকিয়ে থাকে?

কর্মক্ষেত্রে, পেশার মাঠে,
অধিকার, সম্মান—সবকিছু কি নিরাপদ?
তোমার শ্রমের মূল্য কি সম্মান পায়?
না কি অবহেলা ও অনিশ্চয়তার চাপে
স্বপ্ন থমকে যায় নিঃশব্দে?

রাষ্ট্রে, আদালতের আলোয়,
আইন কি সত্যিই তোমায় রক্ষা করে?
অভিযোগ কি বিচার পায়,
না কি অন্ধকারে ডুবে যায় মানবতা?

পথে, বাজারে, ঘাটে, শহরে,
প্রতিটি পদক্ষেপ কি নিরাপদ?
সড়ক, ট্রাফিক, মানুষের ভিড়ে—
ভয় কি তোমার সঙ্গী হয়ে বসে থাকে?

তুমি কি নিরাপদ?
প্রশ্নটি প্রতিটি সেক্টরে ঝরে আসে—
শিক্ষা, পরিবার, পেশা, রাষ্ট্র, রাস্তাঘাট—
সবখানে, অন্তরে, প্রতিটি মুহূর্তে।

তবু আশা আছে,
তবু স্বপ্ন আছে—
যে একদিন রোদ উঠবে,
শাসক সত্যিকারের জনতার হবে,
সবক্ষেত্রেই, সত্যিকারের নিরাপত্তা গড়ে উঠবে।
------------------------------------------


০৩-১১-২০২৫

ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট

 ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************
আঁধার পিঞ্জরে তুই, রে ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট,
রাজনীতি, পদবী, নীতি সব ধ্বংস করিস্ সতর্কে।
নেতার হাসি, ঘুষের খেলা, মানুষের আশা হারায়,
হৃদয়ের কোলাহলে বাজে তোর অদৃশ্য বাঁশি।

বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য—তেল, চাল, ডিমের দাপট,
ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট লুটে চলে জনতার ঘাম।
শিল্পী, কৃষক, শ্রমিক—সকলের স্বপ্নে আঁধার,
কোম্পানির ছায়া যেন, রাতের চাঁদে ধরা।

শিক্ষার মন্দির, পরীক্ষা, ফি, কোটা-ফাঁস,
ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট বাজায় জ্ঞান-ছিনিয়ে নেওয়ার হাসি।
মেধাবী ছাত্রের চোখে অন্ধকার,
শিক্ষক-মন্ত্রীর ছলে নিঃশ্বাস হয় ফাঁকা।

চিকিৎসালয়ে মৃত্যু, ঔষধে লোভের খেলা,
ডাক্তার নয়, কোম্পানি—ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেটের খেলা।
বিমার চিৎকারে মিশে বাণিজ্যের স্রোত,
মানবতার আশা নেমে যায় নিঃশব্দ ছায়ায়।

দাঁজাবাজি, দখলবাজি—গ্রামের জমি, শহরের খাতা,
মন্ত্রনালয় হাসে, নথি-কলমে থাকে তোর ছাপ।
সড়ক, পরিবহন, ব্রিজ ভাঙা, টোল-ঘুষের রাজ্য,
ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট দাপটে, পথচারীর ভয়ে হাস্য।

লোকাল রাজনীতি, স্বার্থের খেলা,
গণতন্ত্র হারে, দালাল পায় জয়।
সাহিত্য, কবিতা, সংস্কৃতির মঞ্চ,
ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেটের ছায়ায় চুপচাপ, স্রষ্টার সুর নিঃশ্বাসে।

আইন-আদালত—ন্যায়ের চেয়ে চালাকি,
ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট লুকায় সত্যের নৃত্য।
বিচার আর ন্যায়—দূরে ঘুরে বায়ু,
শুধু লোভের পাখি উড়ে, অন্ধকারে নিশ্বাসে।

তবু জনতার হৃদয়, নদী-স্রোতের মতো,
ধীরে ধীরে বয়ে ওঠে প্রতিরোধের ছোঁয়া।
একদিন ভাঙবে তোর আঁধার, রে ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট,
ফোটাবে নতুন প্রভাত—মুক্তির আলো, সত্যের ছায়া কাটে।

সকল সেক্টরে—রাজনীতি, ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা,
দাঁজাবাজি, দখলবাজি, সড়ক, সাহিত্য, আইন,
ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেটের ছায়া শেষ হবে একদিন,
মানুষ হাসবে মুক্ত, নতুন প্রভাতে—আলোর দেশে।
--------------------------------------------


০৩-১১-২০২৫

লেখা আছে অশ্রুজলে

 লেখা আছে অশ্রুজলে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

রাত্রি ছিল ঘন, ধরণী যেন স্থির,
আকাশে নিঃশব্দ ক্রন্দন— দীর্ণ গগন-বীণা।
ঢাকা-কারাগার— প্রাচীরবন্দিনী ইতিহাস,
যেথা চার দীপ্ত আত্মা বসে নীরব ধ্যানধারায়।

অন্ধকারে ভাসে মৃদু প্রার্থনা—
“হে পরম প্রভু, তব নামে করি সমর্পণ!”
রুদ্ধ নিঃশ্বাসে চঞ্চল বাতাস,
স্রোতবেগে ছুটে আসে মৃত্যুর রথ।

তাজউদ্দীনের তেজে কম্পে লৌহদ্বার,
স্যার সৈয়দ নজরুলের উচ্চনয়ন প্রভায় ঝলকায় সাহস,
মনসুরের হৃদয় — ধর্মের প্রতীক,
কামারুজ্জামান — ধ্যানমগ্ন তপোবন-বনপ্রাণ।

তবু!
হায়! হঠাৎ গর্জে উঠে কালপ্রহর,
বন্দুকের বজ্রনাদে ছিন্ন হলো প্রাণের মালা।
বেয়নেটের ক্ষুরধার ঝিলিকে— রক্ত-অরুণ দীপ,
ভিজিল ভূমি, কম্পিল আকাশ, নীরব হ’ল প্রহরীও।

সে রাত্রি— যেন প্রলয়ের অরুণোদয়,
দিগন্তে বয়ে যায় রক্তস্রোত-সঙ্গীত।
বাংলার মাটি সে রক্ত পান করে বলল—
“ওরে আমার সন্তান, তোমরা অমর!”

দিগ্‌দিগন্তে প্রতিধ্বনি তোলে শোকধ্বনি—
“জাগো, জাগো বঙ্গজন, রক্তে লেখা তোমার পথ।”
বাতাসে ভাসে মৃত্যুর গন্ধ, অথচ—
জীবন নবতর হয় আত্মোৎসর্গের পূণ্যতেজে।

হে অনন্ত করুণাময়,
যাদের রক্তে তব ভূমি পেল মুক্তি,
যারা নিঃশেষে উৎসর্গ করিল প্রাণ,
তাদের তুমি দান করো চির-শান্তি, চির-আলো।

হে আল্লাহ্‌,
চতুর্মহান বীরকে তুমি রাখো
জান্নাতুল ফেরদৌসের উদ্যান-প্রান্তে,
যেথা কল্যাণের নদী বহে, জ্যোত্স্না ঝরে স্নিগ্ধে।

আমীন —
তব করুণা-ছায়ায় থাকুন তারা চিরজাগ্রত,
বাংলার রক্তে, বাংলার রোদে, বাংলার প্রাতে।
---------------------------------------


০৩-১১-২০২৫

Sunday, November 2, 2025

স্বাধীনতা একবার হারালে

 

স্বাধীনতা একবার হারালে
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

ওহে শুনো! স্বাধীনতা একবার হারালে —
বুকের আগুন নিভে যায় অন্ধকার জ্বালে।
রক্তস্রোত থেমে যায় লজ্জার ভয়ে,
বীরের জাতি ভিক্ষে চায় দাসের নয়নে।

মাটির গন্ধ তখন হয় পরদেশি,
নিজের ঘরে পরের শাসন, যেন বিষম খেসি।
জন্মভূমি কাঁদে তখন সন্তানহারা,
আত্মা জ্বলে, বিবেক মরে, বাঁচে শুধু কারা?

যারা রক্তে গড়েছিল স্বপ্নের দেশ,
তাদের গানে আজ কাঁপে কফিনের রেশ।
স্বার্থলোভে নেতা হয় মীরজাফর নতুন,
মিথ্যা বাণী বেজে উঠে সভার সংগীতন।

পদে পদে বেচে যায় দেশের মান,
চাঁদাবাজে ঢেকে ফেলে বীরের গান।
শিক্ষায় বিষ, ধর্মে কপটতা,
মানুষ মরে মানবতার অপচয়তা।

তবু একদিন ইতিহাস জাগে রণতূর্যে,
রক্তের ঘ্রাণে বাজে মুক্তির সূর্যে।
যে জাতি রক্তে গড়ে নিলো পতাকা,
সে আবার জ্বালাবে ন্যায়ের আগুনে আঁকা।

ওহে মানব! সাবধান এখনি তবে —
স্বাধীনতার মুল্য রক্তে লেখা সবে।
একবার হারালে — ফিরে আসে না সে,
চিরনিদ্রায় শোয় জাতি লজ্জার দেশে।
-----------------------------------------


০২-১১-২০২৫


মুসল্লি শুন্য ওয়াজের মাহফিল

 মুসল্লি শুন্য ওয়াজের মাহফিল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

বাজে মাইকে সুরেলা সুর,
হুজুর কাঁদেন — “ফিরে এসো, ওহে নূরে-হায়াত, ওহে প্রাণের নূর!”
তবু মাঠে নেই কেউ, ফাঁকা চেয়ার সারি,
চাঁদের আলোয় নীরব আজ তাওহীদের বাজারি।

মঞ্চে জ্বলে রঙিন বাতি,
ওয়াজ শুরু হয় — তবু মুসল্লি নাহি।
এক পাশে চায়ের দোকানে মুখর গুঞ্জন,
ধোঁয়ার ছায়ায় হারায় ইমানের রওশন (আলোর ঝলক)।

মাইকে বাজে তাফসিরে কুরআন,
তবু মন পড়ে থাকে মোবাইলের দুনিয়ায় গিরফতমান।
নামী হুজুর, দামি ব্যানার, মহা আয়োজন,
তবু মুসল্লি? — গোনা যায় আঙুলে সেই গণন!

খুশবুতে (সুগন্ধে) ভরে চারিদিক,
মেহমান আসে, খায় — যায় নির্দ্বিধিক।
কেউ বসে না মঞ্চে, শোনে না বাণী,
তবু শেষে প্রশংসা — “মাশাআল্লাহ! ওয়াজটা ছিলো জানি!”

একদল এলে আরেকদল নাই,
ওয়াজেও আজ সিয়াসতের ছায়া পাই।
মঞ্চে মঞ্চে মুখের বাহার,
কে বড় আলেমে-দ্বীন, কে বড় নামধার?

ওয়াজের মাহফিল আজ যেন সাজানো মনজারাহ (দৃশ্য),
বক্তা আছেন, শ্রোতা নাই — এ কেমন বেজার রীতি!
তাওহীদের সুর পড়ে যায় ধুলায়,
আল্লাহর নামে আজ হাসির তুলায়।

হে প্রিয় মুসল্লি, কোথায় তুমি হারাও?
ওয়াজের মাঠে কেন চায়ের কাপে ডুবে যাও?
যে দিন ফিরবে হৃদয়ে ঈমানের তেজ,
সেদিন জেগে উঠবে মাহফিলে ইসলাম, মঞ্চ আর দেশ!
---------------------------------------------------------


০২-১১-২০২৫

Thursday, October 30, 2025

শিক্ষক ও ছাত্রীর অশুভ প্রেম

 শিক্ষক ও ছাত্রীর অশুভ প্রেম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

শুনরে ভাই, আজব কথা, কাহিনী এক বলি,
শিক্ষার রাজ্য আজ, যেন নীতিহীন চলি!
স্কুল কলেজে, ভারি হালিম বিশ্ববিদ্যালয়ে,
আছে প্রেম নামের ছোঁয়া—বিপদ যেন বইয়ে!

গৃহশিক্ষকও কিছু, ভাব ধরে গুরুজনে,
কিন্তু মনের ভেতর খেলে চোরা রঙ্গে।
কেউ দেয় মার্ক বাড়িয়ে, কেউ দেয় পাশ করায়ে,
প্রলোভনের ফাঁদে ছাত্রী পড়ে হায়!

চোখে চোখে চায়নে, অঙ্গভঙ্গি কুটিল,
অশোভন প্রস্তাবে, করে মন চঞ্চল।
কে জানে! হাসির আড়ালে কত ভয় লুকায়,
ছাত্রীটি কাঁদে ভেতরে, মুখে কিছু না চায়।

কেউ কেউ তো বেচারি, লজ্জায় ভয়ে কাঁপে,
মন ভাঙে, আশা ভাঙে, প্রাণ যে শেষে থামে!
আত্মহত্যা করে কত, খবর কেউ রাখে না,
সমাজ তখন চুপচাপ, মুখ লুকায় লজ্জায়!

তবু বলি ভাই, সকলেই দোষী নহে,
আছে অনেক আলোকিত গুরুজনে তাহে।
যে শেখায় নীতির আলো, জ্ঞানের দীপ জ্বালে,
তাদেরেই সম্মান দে, মাথা রাখি তলে।

অশুভ প্রেমের ছোঁয়ায় মলিন হয় যে মন,
শিক্ষার শপথ দে—তুলে দে সে অন্ধকারে ধন।
নইলে এই সমাজ হবে ছাইভস্ম হায়,
ছাত্রী হারাবে জীবন, জাত হারাবে মায়!

এই প্রেম নয় প্রেম, এ অশুভ ফাঁদ,
এতে ডোবে তরুণ-তরুণী, হারায় স্বপ্ন-সাধ।
সততার দীপ জ্বালো, রাখো চোখ খোলা,
শিক্ষক যদি সত্য হয়, ছাত্রী থাকবে ভোলা।

শিক্ষার তরে যারা প্রাণ দেয় অকাতরে,
তাদেরই শ্রদ্ধা দে, রাখ তাদের কাঁধে ঘরে।
প্রেম নয়, নীতি রাখ—আলো জ্বালো প্রাণে,
তবেই শিক্ষা ফুলে ফলে জগৎ জানে মানে!
-----------------------------------------


৩০-১০-২০২৫

তোমারি জ্যোতিতে

 তোমারি জ্যোতিতে

কলমেঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************

অনন্ত-আলোরে জাগে অনন্ত-স্মরণ,
 হে পরম প্রভু, তবই ধ্বনি মন।
সিন্ধু সম জ্ঞান তব, সীমাহীন তব দান,
 আসমান-জমিনে তব অনুগ্রহ-গান।

রাত্রি নিদ্রাহীন তব প্রহর-চোখে,
 জাগে নক্ষত্র যেন তব তেজলোকে।
বজ্রে তব আদেশ, দোয়ায় তব সুর,
 তুমি চিরজাগরূক, নির্ভয় নুর।

কে আছ তব দোয়ারে ক্ষমা ব্যতীত?
 কে পারে তোমার অনুমতি ছীত?
তুমি জানো আগাম, জানো অতীত,
 তুমি যে স্রষ্টা, তুমি মহাভীত।

কুরসি তব ছায়ায় সজীব ধরার প্রাণ,
 তোমারি জ্যোতিতে বাঁচে সব জগ-জ্ঞান।
ঘুম আসে না তব, আসে না ক্লান্তি,
 তুমি হে মহান, তব নেই ভ্রান্তি।

আসমান জমিনে তবই রাজ্য,
 তুমি চিরমুক্ত, তুমি অগণ্য।
তোমারি ইশারায় বিশ্ব চলে নিরন্তর,
 হে আল-আলী, হে আল-আযীম করো দয়া অগাধ কর।
--------------------------------------


৩০-১০-২০২৫

হ্যা বা না

 হ্যা বা না

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

ভুলি নাই পুনঃ তাই আসিয়াছি ফিরে,
হে স্বাধীন বাংলা মোর, তব গর্ব-তীরে!
রক্তে ভেজা সে মাটি, লাল সবুজ ধ্বজা,
আজও বাজে মনে তব মুক্তির সাজা।

দুর্নীতিবাজে ঘেরা ছিল যে প্রান্তর,
তবু জাগে আশার দীপ, অমল অন্তর।
টেম্পু-স্ট্যান্ডে দখল, দুঃশাসনের ছায়া,
তবু গেয়ে উঠি আমি—“না! না!” গায়া!

নারী নির্যাতন, মাদক, চাটুকার দল,
তেলবাজ, টাউট-বাটপার—সবই জল।
যোগ্যতা বিহীন নেতা, স্বৈরতন্ত্র, ভয়—
তবু গাই গণতন্ত্রে, “হ্যা!” আজ জয়!

ধর্মীয় উগ্রতা, ফ্যাসিবাদের রূপ,
মববাদ, দেশবিরোধী ঘৃণার ধূপ,
অর্থ পাচার, ধর্ষণ, তাবেদারি ঢেউ,
সবাই মুছে দে, ওগো, প্রিয় জন্মভূমি ঢেউ!

হলুদ সংবাদে বিষ, পরিবারতন্ত্র,
পাতি নেতার দৈর্য, মাদক সিন্ডিকেট পন্ত্র,
এসবের অন্ধকারে তব জনপদ জ্বলে,
তবু আশার গান বাজে আকাশের তলে।

হ্যা, মুক্তিযুদ্ধ হ্যা, হ্যা লাল সবুজ,
হ্যা, অসাম্প্রদায়িক রূপ, আলোর ভুজ!
ভোটাধিকার হ্যা, হ্যা সু-শাসন জয়,
মতপ্রকাশ হ্যা, হ্যা—জনতার নয়।

জবাবদিহিতা হ্যা, অবাধ ধর্মনীতি হ্যা,
এই দেশ মানবতার, এই তার দ্যা!
তোমার তীরে এসে আমি আজ পুনঃ,
বলি বন্ধু, “হ্যা”—যেখানে আশা চির সুন।

খেলিতে আসিনি হে, এসেছি এবার,
ভাঙিতে অন্যায়, দেখিতে নূতন দ্বার।
যে তীরে পড়েছিল অশ্রু শত,
আজ সেখানে জ্বলে আলোর রথ।

সেবার এসেছিলাম কৌতূহলেতে,
আজ এসেছি জাগাতে মাটি-মাতৃভূমির চেতে।
হারিয়ে গেছে মণি, হারানো বিবেক,
তবু ফিরি আশায়—এই বার হোক এক!

যে কূলের বালুচরে আঁখি ভরে লোনা,
সেই কূল আজ হোক সত্যের বেদনা।
তব স্রোত টানে আজও ন্যায়পথ পানে,
ভাসাই জীবন সেই মহাসমুদ্র গানে।

তুমি কি চিনে নেবে, হে মোর স্বাধীন ধরণী,
এ আসা পুরাতন, তব হৃদয়-ধ্বনি।
ভয় নাই প্রিয়, এসেছি জানিতে নয়,
গড়িতে নব দেশ, নব আশার জয়।

যে চিতা পুড়েছে দুর্নীতির কালে,
সেই ছাই হতে ফুটুক নব ফুল-তালে।
ফিরে আসুক মানুষ, ফিরে আসুক প্রাণ,
লাল সবুজের নিচে হোক সম্মানের গান।

শীতের কুহেলিতে জ্বালো দীপ নূতন,
চলে যাক অন্ধকার, উঠুক জয়গান।
যে ফুল ফোটেনি বরষার ভোরে,
ফুটুক আজ জাগ্রত প্রজন্মের কোরে।

হ্যা, মুক্তির হাওয়া বয়, জাগো জাগো দেশ!
না, দুর্নীতি, না অন্যায়, না অবিশ্বাসের রেশ!
হ্যা, গণতন্ত্র, হ্যা ন্যায়বোধ, হ্যা আলোর গান,
এই আমার শপথ—বাংলার প্রাণ!
--------------------------------------------


৩০-১০-২০২৫

এসো হে এসো হে বন্ধন তলে

 এসো হে এসো হে বন্ধন তলে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************

হে বন্ধু! এসো, এসো হে বন্ধন তলে,
রাওনাট, কাপাসিয়ার পথ ঘেরা ঘরে,
দুঃস্থের হাসি, শিশুর অশ্রু, অসহায়ের আহ্বান—
নিত্য নিত্য ভরে ওঠে হৃদয়ের কণ্ঠে।

হে দুঃস্থ অসহায় বন্ধু, নিঃস্ব বাসিন্দা,
এই ধানের মাঠে, এই নদী-উপনদীতে,
আমরা তব জন্য আঁকি নতুন সকাল,
শিক্ষার আলো, স্বাস্থ্যসেবার দীপ জ্বালি,
যেন হারানো জীবনে ফিরে আসে আশা।

হে দুর্গম গ্রাম, খোলো খোলো দ্বার,
শস্য-শ্যামা বসুমতী, ফুলে-ফলে অঞ্জলি,
আমরা নিয়ে এসেছি মানবিক সেবা,
বাসস্থান নির্মাণ করি, স্বাস্থ্য দেয়ার অর্ঘ্য,
দুঃখের কুয়াশা ছড়িয়ে যাক না আর।

হে পবিত্র! শিশুদের চোখে ফুটুক জ্ঞানতারা,
হাসি ছড়াক বৃদ্ধের ঘরে,
শ্রদ্ধা আর স্নেহের হাত ছুঁয়ে যাক অন্তর,
আমরা ছুঁই তোমার অনন্ত করুণার স্রোত।

হে সুন্দর পৃথিবী! আজও অম্লান,
তব অঙ্গণে আমরা গড়ে তুলি নতুন স্বপ্ন,
নবজীবনের উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে পথ,
কাপাসিয়ার নদী, রাওনাটের মাঠ—
সমাজের অসহায়দের পাশে আমরা অটল।

হে মহান বন্ধু! হে চির সেবক!
তব কল্লোলের মাঝে বাজে আমাদের গান,
দুঃস্থ অসহায় বন্ধন তলে মিলিত হৃদয়,
যে সেবা করে, সে জীবন জাগায়,
শুধু স্বপ্ন নয়—নিখাদ বাস্তবতায় রূপ নেয় মানবতার জয়।
---------------------------------------------------------


৩০-১০-২০২৫

বদরে আলম সরকার

 বদরে আলম সরকার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************

এমন করে অঙ্গনে মোর ডাক দিলি, কে প্রিয় দানবীর?
কে রে ও তুই, কে রে?
আহা বিদ্যার আলোতে রে,
এমন পরিচিত সুরে রে,
আমার বিদ্যাপীঠের ঘরে দীপ জ্বলে তার তরে রে।
এ কোন বিদ্যাপীঠের পাগল সুরধুনী, অম্লান আলোর আগল রাঙালি?

কোন জননির দুলাল রে তুই, কোন আশা-প্রভাতরাশি,
চোখ-ভরা জ্ঞানের দীপে রে,
আহা ছলছল আনন্দের সজল ছায়া আলো,
সারাখনই উছলে যেন তরুণ-যুবকের হৃদয়ে রে!
মুখভরা তোর ঝলমল হাসি,
বিদ্যাপীঠের সম রাশি রাশি,
আমার মলিন বিদ্যাপীঠের বুকে আলো লুটায় আসি রে!

বুক-জোড়া তোর ত্যাগ,
প্রতিটি বিদ্যাপীঠের দ্বারে দ্বারে স্নেহের দান হেনে যে যায়,
কেউ কি তারে ডাক দিল না?
ডাকল যারা, তাদের আনন্দে দলে এলি পায়?

কেন আমার অঙ্গনে এসেই আমার পানে চেয়ে এমন
উজ্জ্বল হৃষ্টিপূর্ণ?
এমন চমকে বিদ্যাপীঠের পথ আলোকিত করলি?
এই কি রে তোর চেনা বিদ্যালয়,
এই কিরে তোর চাওয়া স্নেহ হায়!
তাই কি আমার কলেজের ধ্যান-সুন্দর ধারা,
বিদ্যাপীঠের ফুলে-ফসলে রাঙালি?
হে মোর বিদ্যাপীঠের কাঙালি।

বদরে আলম, তুই বিদ্যালয়ের প্রাণপুরুষ,
১৯৬৭ সালে স্থাপন করিলে ভাওয়াল কলেজ,
ভাওয়াল, কাপাসিয়া, গাজীপুরে বিদ্যাপীঠের আলো জ্বেলে।
গ্রামাঞ্চলের যুবসমাজ শিক্ষিত হোক—এই তোর অমর আকাঙ্ক্ষা,
প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর চোখে জ্বলে জ্ঞান-দীপ, তোর দানের ফল।

এ সুর যেন বড়ই চেনা, এ স্বর যেন ছাত্র-হৃদয়ের বাছার,
তোর আলোকিত পথে এগিয়ে চলুক সবাই!
না চিনেই আজ তোকে চিনি,
আমারই সেই বিদ্যাপীঠের মানিক,
পথে-পথে জ্ঞান ছড়ায়ে,
তোর দানবীর আলোকেই উজ্জ্বল।

দুষ্টু ওরে, চপল ওরে, অভিমানী হে শিক্ষানুরাগী!
তোর উৎসাহ, তোর উদ্দীপনা, কত শত ছাত্র-ছাত্রীকে আলোকিত করেছে,
গ্রাম, শহর, দেশে বিদেশে ছড়ায় আলো,
আমি মা-হারা শিক্ষার্থীর, তাদের সব আশা,
তোর শিক্ষা দিয়ে পূর্ণ করেছি জীবন ভরা!
দেখা দিলি আজকে ভোরে রে!
উঠছে বুকে আনন্দের ধ্বনি,
আয় বুকে মোর বিদ্যাপীঠের প্রভাতরাশি,
আমি কতজন শিক্ষার্থীর জীবন দেখেছি যে ওই মৃদু-মুখানি রে!

প্রতিটি ক্লাশ, প্রতিটি পাঠে, চোখে ধরার মায়া,
তোর জন্ম-জন্মের ত্যাগ দিয়ে বিশ্বমায়ের মতো
বিদ্যাপীঠের আলোকবৃষ্টি পেতেছি যে!
হঠাৎ আজ ধরা দিয়ে, বিদ্যাপীঠের পূর্ণ স্নেহে জাগালি।
শিক্ষিত ছাত্র আমার রে!
চিনলি কি তুই জ্ঞানের আলোকে,
চিনলি কি তুই আজ?
আজকে আমার কলেজে তোর প্রভাতরাশি বিজয়-নিশান,
তাই কি টাঙালি?
মোর বিদ্যাপীঠের কাঙালি।

বদরে আলম, হে মহান ব্যক্তি,
তোর জীবনের প্রতি ক্ষণ বিদ্যাপীঠের তরে উৎসর্গ,
পড়াশোনা, সমাজসেবা, যুবসমাজকে আলোকিত করা—
এই তোর অমর দান, তোর উজ্জ্বল প্রতিফলন।

রবির আলো নিভে যাক না কখনো,
তোর পদচিহ্নে জাগুক ছাত্র-হৃদয়ে নবজীবনের আলোকধারা।
ভাওয়াল বদরে আলম সরকারী কলেজে জ্বলে থাকুক চিরন্তন বিদ্যাপীঠের দীপ,
হে প্রিয় দানবীর, হে শিক্ষানুরাগী, হে জ্ঞানের দীপক।
------------------------------------------------------


৩০-১০-২০২৫

চির সবুজ প্রাণ

 চির সবুজ প্রাণ


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************************

প্রবীণ তবু নবীন সে প্রাণ, জ্বলে দীপে দীপে আলো,
মানবতার মহীরুহ তুমি, হে আল্লাহর প্রিয় বান্দা ভালো!
রাওনাট তোর নাম গেয়ে যায়, পাখি পাখি গানে,
আলী আজগর ভূঁইয়া তুই, প্রেরণা শত প্রাণে।

  অগ্রপথিক রে বন্ধনের দল,
  জোর কদম চল রে চল॥

যেখানে মাটি রৌদ্রে পোড়ে, সেখানেই তুই ছায়া দিস,
নব ঊষার রবি হয়ে, তুই আঁধারে রং ঢালিস।
তোর করুণ হিয়া শিরায় বয় নবীনতার তেজ,
আলী আজগর ভূঁইয়া রে, তোর দানে ভিজে দেশ।

  বন্ধন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের তল,
  জোর কদম চল রে চল॥

বছর গুনে সময় গেলেও তোর রক্তে জোয়ার আছে,
তোর হৃদয়ের সুরে বাজে, রহমতেরই বাজে।
আলী আজগর ভূঁইয়া তুই, প্রেমে নবীর ধ্বনি,
মানবতার অগ্রসেনা, তোরই জাগে বাণী।
  রক্তে নবীন নব আতল,
  চিরসবুজ প্রাণ অবিচল॥

তোর দোয়া ছায়া মেলে গ্রামে, মাঠে, গৃহকোণে,
তোর মতো মানুষই গড়ে দুনিয়া ঈমানের সোপানে।
কোরআনের বাণী বুকে তুই, সুন্নাহর পথে চলো,
আলী আজগর ভূঁইয়া রে, তুই নব নব আলো।
  ও নবদূত রে কল্যাণদল,
  জোর কদম চল রে চল॥

প্রভাত-আলোয় মুখে তোর হাসি, রৌদ্রে দীপ্ত চোখ,
তুই যে আলেয়া পথিক রে, নব প্রেরণার লোক।
প্রবীণ বটে, তবু মনে তোর, শিশির ঝরা সকাল,
আলী আজগর ভূঁইয়া তুই, নবজাগরণের কাল।
  হে পথিক রে অমল অবিচল,
  জোর কদম চল রে চল॥

আল্লাহ তোর জীবন করুক আরও উজ্জ্বল দীপ্ত,
সদকা-এ-জারিয়ার কর্ম তোর হোক অনন্ত নিত্য।
যেন কেয়ামত পর্যন্ত বাজে তোর কাজের ধ্বনি,
হে চিরসবুজ প্রাণ, আলী আজগর ভূঁইয়া, তোরেই গানে গুনি!
  নবজীবন রে বন্ধনদল,
  অগ্রপথিক রে সেবকদল,
  জোর কদম চল রে চল॥
-------------------------------------------


মানব সৃষ্টির রহস্য

 মানব সৃষ্টির রহস্য

কলমে: মোঃ আমিনুল এহছান মেল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************

হেরিনু নীরব নক্ষত্রে, চিররাত্রির কোলে,
যেন ধূলি-কণার ভিতর জ্যোতি নাচে দোলে,
সেই ধূলি—মাটি—কাঁদা—মধুর সুরের তলে,
রচিছে স্রষ্টা গোপনে মানুষ-আকৃতি বলো কে?
বলে ফেরেশতা—“খলিফা হবে এ যে নব জনে!”

আল্লাহ কহিলেন—“আমি জানি, যা জানো না তোমরা,
ধূলিরে দিব প্রাণ, রূহ ফুঁকিবে আমার শ্বাসে ধরা;”
শ্বাসে উঠিল জীবন, কম্পে ধূলি-কণা,
জাগিল আদম, দীপ্ত মুখে নব আলোক-জ্বালা।
সেই ধূলি আজ মানুষ—জ্ঞান-তরঙ্গে ভরা!

পূর্বে ছিল সে নূতফা, বীজবিন্দু ক্ষুদ্র,
তারপর আলাকা, রক্তবিন্দু গাঢ়,
হইল মুদগা, মাংসের মতো চিবানো দেহ,
তারপর হাড়ে মাংস, সৌন্দর্য পেল সে বেহেশ্‌ত।


সেই ধূলি-মাটি হইতে আজ মানব রূপ,
রূহে ভরিয়া দিলেন আল্লাহ—জীবন-স্বরূপ।
বলে উঠিল স্রষ্টা, “সেজদা করো এ প্রাণে!”
সব ফেরেশতা সেজদায় নত হ'ল সম্মানে,
একটি মাত্র ইবলিস ফিরিল অহংকারে ধূপ।

বলিল—“আমি অগ্নির, ও ধূলির গড়া,
কেন করিব সেজদা ঐ কাদামাটির পুতুলে?”
তখন হুকুম এল—“নেমে যা অভিশাপে,
রহিবি চিরকাল বিভ্রান্তির কুলে,
আর আদম হবে আমার প্রতিনিধি ধরা।”

তখন এলো জান্নাতের আহ্বান, হাওয়ার সৃষ্টি হইল,
এক প্রাণ হইতে অন্য প্রাণ উদ্ভাসিত রইল;
একই উৎস, এক রূহ, এক প্রেম-নির্ঝর,
তাই বলে কোরআন—“সব মানুষ এক আত্মার।”


আল্লাহ বলিলেন—“আমি জিন ও মানুষ সৃষ্টি করিনি,
তারা যেন আমার ইবাদত করে, এই আমার গুণিনী।”
তবু মানুষ ভুলে যায়, নফসের তাড়নায়,
ভালো-মন্দের যুদ্ধে হারায় বিবেকের মহিমায়—
এই তার পরীক্ষা, এই তার সৃষ্টির মানিনি।

সৃষ্টি রহস্য তাই—ধূলি, রূহ, ও দায়িত্ব,
খোদার প্রেমে জাগে মানবের অভিষেক;
দেহে মাটি, মনে আলো, রূহে নূরের সিঁড়ি,
জান্নাত-স্বপ্নে জেগে উঠে মানব-জীবনের নীতি;
প্রেমে ও প্রার্থনায় খুঁজে ফেরে আপন ঠিকানার দিক।

মাটি ও আত্মার এই অমৃত-সম্মিলনে,
মানুষ হলো বিশ্বমাঝে খলিফা অম্লান বনে;
যতদিন নিশ্বাস, ততদিন ইবাদতের পানে—
জীবন রহস্যে বাজে আল্লাহর মহান টানে।
হে মানুষ! চিনে নাও নিজেকে, তব প্রভুর আহ্বানে।
---------------------------------------------------------


৩০-১০-২০২৫

Wednesday, October 29, 2025

আর-রহমান

 আর-রহমান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************************
আর-রহমান! হে দয়াময়, তোর নাম নূর-ই-আজাল,
তুই প্রেম-ই-খোদা, তুই করুণা, তুই ইহসান অবিচল!
তোর জিকিরে জ্বলে জগৎ ও প্রাণ,
তোর বাণী কুরআন — রহমতের জ্ঞান।

হে রহমান! হে রহিম! হে মালিক-ই-দিন!
তোর নূরে আলোকিত বিশ্বে নবীন!

তুই শেখাস মানুষে ইল্ম ও ভাষা,
তোর হিদায়াতে কাঁপে অন্ধের আশা।
তোর কুরআন রশ্মি, চির দীপ-জ্যোতি,
তোর কালাম মোর অন্তর-প্রেরণার স্মৃতি।

হে রহমান! হে রহিম! হে মালিক-ই-দিন!
তোর নূরে আলোকিত বিশ্বে নবীন!

শমস্ ও কামার তোর হুকুমে চলে,
তোর আদেশে দোলে গগন ও জলে।
তুই স্থাপন করেছিস মিজান-ই-আদল,
তোর ন্যায়ে স্থির এই বিশ্ব-বদল।

তুই বলিছিস — “সীমা লঙ্ঘিও না”,
তোরই রসুলেরা আনিল সে বাণা।
তোর নিয়মে শান্তি, তোর ন্যায়ে জ্যোতি,
তুই ইলাহী রহমত, তুই চির রহিমতি!

তোর দয়া ছাড়া কেহ নাই পর,
তুই দাতা, তুই রব, তুই ইজ্জতের কর।
তোর কিতাব কুরআন — নূর-ই-ইমান,
তোর কালামে ধ্বনিত রহমতের গান।

তোর রহমেতে ফোটে জীবন-ফুল,
তোর ইশ্কে জ্বলে ইমানের মূল।
তুই আল্লাহু! তুই নূর-এ-রব্ব,
তোর প্রেমে মিশে যায় মানব-সব।

হে রহমান! তোর নাম জপে সব প্রাণ,
তোরই কিরণে উদিত সূর্য-জ্ঞান।
তুই করুণা, তুই প্রেম, তুই শান্তি-জ্যোতি,
তুই হে রব্বুল আলামিন — নূর-ই-মহিমতি!

হে রহমান! হে রহিম! হে মালিক-ই-দিন!
তোর নামেতে মিশুক দুনিয়া জাহান!
-------------------------------------------------------


২৯-১০-২০২৫

হিংসা ও প্রতিহিংসা

 হিংসা ও প্রতিহিংসা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

ওহে মানব, শুনো, হৃদয় হিংসার দাবানলে ভরা,
অন্তর অন্ধকারে রোষের বজ্র ঝরে ধরা;
সিংহ-বৎসের মতো ক্রোধে ঘন ভয়,
পদার্পণে কাঁপে মন, ছড়ায় অশ্রুর স্রোত রয়।

সপ্ত রথী রূপে প্রতিহিংসার ধ্বনি,
কুমারের মতো ছিঁড়ে যায় শান্তি-বন্ধন রজনী;
অনল-কণা-রূপে রাগ শরীরে ছড়ায়,
পুঞ্জে পুঞ্জে বিষাদ, অন্তর আগুনে জ্বালায়।

ঘন ধূমের মূরতি ছায়া চারদিকে ফিরে,
উড়ে ধুলো, পদ-আস্ফালনে হৃদয় ভেঙে থমকে;
নিশ্বাস ছাড়ে আর্জ্জুনি, জীবন-আশা তরুণ যৌবনে,
আঁধারি চৌদিক, অন্তর গ্রাসে ক্রোধের যম।

যথা দাবানল বাড়ে অনল-প্রাচীরে,
সিংহ-বৎসের মতো ভয়ঙ্কর উত্তাপে;
হিংসার আগুনে পুড়ে যায় ভালোবাসা,
প্রতিহিংসায় ভেঙে যায় বন্ধন, কণ্ঠে কেবল বিস্ময়।

কিন্তু শুনো, মানব! হিংসা নয় পন্থা,
ক্ষমা ও সহিষ্ণুতা হোক অন্তরের বন্ধু, শান্তি-সংসার আলো;
হিংসা ত্যাগে হৃদয় পূর্ণ হয় নৈতিক দীপে,
প্রতিহিংসার বদলে সৌভাগ্য লাভে সুখের ধারা।

মেঘ-রূপ ক্রোধ ছাড়াও, হৃদয়ে দয়া ছড়াও,
বজ্র নয়, বরং সদয় আলো সর্বত্র ছড়াও;
ধৈর্য ধারণ করো, প্রতিহিংসা ত্যাগ করো,
নবীর পথে চলো, আলোর পথে চলো।

প্রতিটি পদক্ষেপে শান্তির স্রোত বহাও,
অন্তরের আগুনে প্রেমের আলো জ্বেলাও;
হিংসা নয়, বরং ক্ষমা ও সহমর্মিতা রাখো,
রোষের ছায়া ত্যাগে জীবন হোক পূর্ণ ধারা।

ওহে মানব! দৃষ্টি করো আলোর পথে,
হিংসা-প্রতিহিংসার আঁধার চিরদিন দূরে থাক;
ক্ষমাশীলতা হোক প্রিয় গুণ, ধৈর্য হোক শক্তি,
আল্লাহর পথে চলা হোক অন্তরের চিরন্তন বন্ধন।

মেঘ-রূপ ক্রোধ ছাড়াও, অন্তরে প্রেম ছড়াও,
বজ্র নয়, বরং সদয় আলো সর্বত্র ছড়াও;
হিংসা ত্যাগে পূর্ণ হবে জীবন, সুখের স্রোত,
প্রতিহিংসা নয়, বরং ক্ষমার বাণী হোক প্রিয় স্রোত।
---------------------------------------------------


২৯-১০-২০২৫

সৎ শাসক

 সৎ শাসক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************
ওহে শুনো জনতা! কহ, দেখ আল-শাসককে,
কি হেতু, কহ তা মোরে, ধৈর্যশীল হাসিমুখে?
নিত্য অবগাহি করে ন্যায়ের দীপ জ্বলে,
দেও জানা, সিদক আলো, পথ দেখায় ধীরে।

বহে কলকল রবে ফালাহ প্রবাহিণী,
জন-হিত তলে সে দৃষ্টিতে আদিল ধীরে।
ও হৃদয়ের ভাব কি লো, আইস, ন্যায়িনী,
দুর্নীতি, দখল, স্বৈরাচার—কিছুই হবে না এখানে?—

ফ্যাসিবাদ, বর্ণবাদ, গণতন্ত্রবিরোধী নয় সে,
অর্থপাচার, দেশদ্রোহ, বিশ্বাসঘাতকতা দূরে থাকে।
ভালবাসে এ দাসেরে ন্যায়ের ছলে,
হৃদয় আঁধার, অবিচার দূর করে দূরে।

সত্য যদি, ন্যায় যদি, আলোর নভস্তলে,
জুড়ায়ে সমাজে দীপ দুটি নিত্য নিত্য উড়ে।
জ্ঞানসমৃদ্ধ, হিকমত সহ পথ বেছে নেয় সে,
অজ্ঞতা, অহংকার, স্বার্থপরতা—কিছুই হবে না।

আল্লাহভীতি অন্তরে দীপ্তি জ্বলে,
প্রতি সিদ্ধান্তে ইনসাফ, অবিচারে ক্ষতি নেই।
ধৈর্য, সহনশীলতা, নম্রতার ছায়া ঘিরে,
জনগণের আশা-ভরসা তার প্রজ্ঞা রেখায় বিকিরে।

দুর্নীতি-বিরত, সম্পদে লিপ্ত নয় সে,
জনগণের অধিকার রক্ষা করে সর্বত্র স্থলে।
সৎ শাসক আলোর পথে দিগন্তে,
সমাজে শান্তি, কল্যাণ, সুবিচার বয়ে যায় সঞ্জীবনে।

কোরআন-হাদিসের আলোতে শিক্ষা ধরে,
সব সম্প্রদায়ের সুখ, দুঃখ, সবই তার খেয়াল।
----------------------------------------


২৯-১০-২০২৫

নগ্নতার পরিণতি

 নগ্নতার পরিণতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************
কহ মোরে, হে মানব! কহ, ভয় না করি,
কেন ত্যজিছো লজ্জা, নীতি, ঈমান–বাণী?
কে শেখায় মায়ায় পথ, অন্ধ অরণ্যে ভরি,
যেথা নেই হিদায়াত, শুধু বিভ্রম–পাণি?

ওই দুনিয়ার দাওয়াত কি মধুর নাকি মরীচি?
চকচকায় বাহির, ভেতরে বিষম দাহনে;
কোরআন তো বলিল—"লিবাসুল তাকওয়া" হে পবিত্র রীতি,
ঢেকে রাখো শরীর, ঢেকে রাখো প্রাণে।

বল নবী (সা.)—"লজ্জা ঈমানের শাখা", হে মোর ভাই,
যেথা লজ্জা যায়, যায় সেখান ঈমানের সিংহাসন!
নগ্নতার বীজে ফোটে শয়তানের ছায়া তাই,
লুটে নেয় লজ্জার ফুল, করে হৃদয় শূন্যমন।

হে নারী, হে পুরুষ, সুরক্ষিত করো সেই সাজ,
যে সাজে রিজিক হালাল, জীবন পবিত্র হয়;
হে সমাজ, স্মরণ কর—আল্লাহর বিধানেই লাজ,
অশ্লীলতার ছায়া নেমে আসে সর্বনাশের ক্ষয়।

আজ দেখো, পর্দাহীন রূপে জগত দহিছে নরকী,
চোখে চোখে আগুন, হৃদয়ে পাপের ফাঁদ;
তবু কোরআন ডাকে—“বল, হে মুমিনী নারী–পুরুষগণ,
নমাও দৃষ্টি, রক্ষা করো লজ্জার সাধ।”

তবু কেহ শুনে না, হাসে ধর্মের নামে,
চলে দেহ–প্রদর্শনে গর্বে, ব্যথাহীন প্রাণে;
কিন্তু হায়! কিয়ামতের দিনে সে রূপই হানে
আগুনের পোশাকে, চিৎকার তোলে—“হায়, আফসোস, আমানে!”
--------------------------------------------------------------


২৯-১০-২০২৫

হালাল রিজিক

 হালাল রিজিক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর
*********************************************

নূর-এ-রহমত নদীর তীরে হেরিনু চাঁদন,
হালাল রিজিক ঝরিছে যেন বরকতের পান।
সে স্রোতে বাজে আয়াত— “কুলু মিন তাইয়্যিবাতি,”
রিজিকে নূর, ঈমানেতে বেহেশতের সওগাতি।

বাতাসে ভাসে তাওহিদের গন্ধে মেশা ধ্বনি,
“হারাম রিজিক সয়ে না আরশের ফরমানি।”
রাসূল (সাঃ) বলিলেন— “তালাবে হালাল ফরজী,”
যে কামায় সেদিকে, পায় নূর-এ-তারাজী।

হারাম কামাই আনে জুলম, ঘুচে যায় তাওফিক,
দো’আ হয় না মঞ্জুর, শুকায় দিলের নিক।
যে খায় পবিত্র খাদ্য, পান করে হালাল,
তার জিকিরে ওঠে সুবহানার হালাহাল।

আসমানে ফেরেশতা বলে— “মাশা’আল্লাহ নূর,”
যে বান্দা আমলে হালাল, তার কদর ভরপুর।
ইলমে হালাল শেখে যারে, থাকে নফস নিয়্যত,
রিজিকে আসে বরকত, রওশনে রাহমত।

ওহে মুমিন! ঘুষ-সুদে করিও না আমল,
তাতে আসে আজাব-এ-কবর, হারাম রিজিক বিকল।
মেহনতের ঘাম মিশায়ে করো তাসবিহ ধ্বনি,
“ইন্নাল্লাহা তায়্যিব”—তাঁর বাণী অনন্ত ধ্বনি।

দেখিলাম সে নদীর ধারে, এক দরবেশ মসনদে,
বলিল— “হালাল কামাই রহমত, হারাম হক গদে।”
চোখে তার নূর, দেহে সাবর, জবানেতে শুকর,
সে বলিল— “রিজিকে হালালই জান্নাতের ফিকর।”

বয়েসে বৃদ্ধ, তবু মুখে নূর-এ-ইখলাস,
হাতে তার খেজুর, মুখে দো’আ, পরম আভাস।
বলিল— “রাহে হালাল চলে যে আবদুল্লাহ,
তাহার ঘরে নাযিল হয় বরকতে আল্লাহ।”

সেই নদীর জলে দেখি প্রতিফলন বাণী,
কোরআনের আয়াতে লেখা রহমতের কাহিনি।
“লা তাকুলু আমওয়ালাকুম বিল বাতিল”—ধ্বনি বাজে,
হারাম হক ভক্ষণকারীর নেই নাজাত সাজে।

হালাল রিজিক— নূর-এ-দুনিয়া, নাজাত-এ-আখিরাত,
এ রিজিকেই থাকে কুদরত, তাওফিক, বরকত।
হে প্রভু! দে তাওফিক, থাকি সে স্রোতের ধারে,
রিজিক-এ-হালালে ভরুক জীবন, জান্নাতের নূর সঞ্চারে!
-------------------------------------------------


২৯-১০-২০২৫

Tuesday, October 28, 2025

এ মিছিল থামুক

 এ মিছিল থামুক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

থামুক! থামুক! এ মিছিল গণতন্ত্র নয়।
থামুক! থামুক! এ মিছিল ঐক্য নয়।
খুন লুট গুম—শুধু ক্ষমতার খেলা।
ঘাতক দেশদ্রোহী মুখোশধারী উগ্রবাদী তারা।

মাকে হত্যা করতে এসেছে তারা আজ।
তোমার প্রাণে ভয় নেমেছে অন্ধকারে।
জাগো বাঙালি! জাগো বাংলাদেশি সকলে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দাঁড়াও হাতে শক্ত।

হাত ধরো হাতে ধরো ঐক্যের তরবারি।
সত্য ন্যায় মুক্তি—হোক আমাদের সঙ্গী।
থামুক! থামুক! মিছিল ভেঙে পড়ুক আজ।
শহর গ্রাম নদী—বাজুক মুক্তির গান।

ঘাতকরা হারাক! সত্যের আলো ছড়াক।
লাল সবুজ রক্ষা করো পতাকা উঁচু রাখো।
মুক্তির ডাক শুনো আকাশে বাজুক ঘন।
মুক্তির তরবারি হাতে ভয় চিরতরে ধ্বংস।

ছদ্মবেশী মুখোশধারী ঘাতকরা হারাক এখন।
শহীদদের রক্তে লেখা ইতিহাস থাকুক অমল।
এ মিছিল থামুক! শহরের দেয়াল বলুক।
নদী গ্রাম মাঠ—বাজুক স্বাধীনতার গান।

জাগো বাঙালি! জাগো বাংলাদেশি আওয়াজ দাও।
মুক্তির চেতনা বলুক—শত্রু নয় পাশে।
থামুক! থামুক! এ মিছিল চিরতরে থামুক।
স্বাধীনতার পতাকা উঁচু—আলোর পথে উঠুক।
--------------------------------------


২৮-১০-২০২৫

হে প্রিয় হাজরকারী

 হে প্রিয় হাজরকারী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

হে প্রিয় হাজরকারী, পদচারণা শুনি তুমি,
কাপাসিয়ার অলি-গলিতে শোকের ছায়া ঘেরা;
হাফিজুল হক চৌধুরী, মানবিকতার দীপ্তি,
মৃতের প্রতি শ্রদ্ধা, নামাজ-দোয়া পূর্ণ করে।

লিখিনু কি নাম আমার অন্তর বিফল যতনে
কবরের ধারে,রে কাল, মৃতের তীরে?
দোয়া-সওয়াবের ঢেউ, ফেন-চূড়ে আসে কি রে ফিরে,
মুছিতে তুচ্ছেতে ত্বরা এ আমার প্রার্থনায়?

অথবা খোদিনু তারে কোরআনের আলোয় শিরে,
নবীর হাদিস যন্ত্রে কাটি অক্ষর সুক্ষণে;
“যে জানাজার জন্য উপস্থিত হয়, তার জন্য সওয়াব,”
ধৈর্য, সহানুভূতি, সদকা নীরে মিলনে।

শহর-গ্রামের অলি-গলিতে, শত-কাঁটায় ঘেরা কবর,
হাফিজুল হকের পদচারণা যেন আলোকশিখা;
মানবিক মহানায়ক, কোরআন-শিক্ষা, হাদিস-শ্রদ্ধায়,
মৃতের প্রতি মানবিকতা চিরন্তনভাবে বিরাজা।

শূন্য-জল, জল-পথে স্মরণে জনরে;
সদকা, দোয়া, ধৈর্য, সহমর্মিতা—হৃদয়ে নিবাসে;
ফরজ কিফায়া জানাজায় অংশগ্রহণে যেন সুযশে,
কোরআন-পথে প্রাণ মর্ত্যে বাস করে; আকাশে আলো মিশে।

কফিনের ধ্বনি শোনে অলি-গলির নিরবতা,
হাফিজুল হকের চোখে ভাসে মৃতের প্রতি ভক্তি;
প্রার্থনার ঢেউ আছড়ে পড়ে কবরের তলে,
সদকা ও দোয়া ভরে সমাজের অন্তরাল।

ধৈর্য ও সহমর্মিতা শিখায় হাদিসের সুরে,
“মৃতের জন্য যা ভালো করা হয়, তা সদকা।”
কোরআনের নির্দেশে, নৈতিকতা ও মানবিক দৃষ্টিতে,
জানাজায় অংশগ্রহণ চিরন্তন শিক্ষা হয়ে যায়।

অলি-গলির অন্ধকারে, অমল হৃদয়ে হাফিজুল হক চৌধুরী,
মৃতের জন্য প্রার্থনা, সামাজিক সংহতি প্রদর্শন করে;
স্মরণ ও প্রার্থনার দীপ্তিতে সমাজে আলো ছড়ায়,
কোরআন ও হাদিসের শিক্ষায় জীবন অনন্তকাল রূপায়।

হে প্রিয় হাজরকারী, পদচারণা শুনি তুমি,
জীবনের অস্থায়িত্বে দোয়া ও নামাজের দীপ্তি।
মৃতের প্রতি শ্রদ্ধা, মানবিকতা, সহমর্মিতা,
হাফিজুল হকের পথে চিরকাল প্রজ্বলিত হয় সত্যি।
---------------------------------------------------------


২৮-১০-২০২৫

মুত্তাকি

 মুত্তাকি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************************

শুনি গুন গুন ধ্বনি তোর এ করব্যে কাননে,
হৃদয়ে আল্লাহভীতি জাগে, পাপের পথে সরে যানে;
যিনি সতর্ক, দ্বিধাহীন, দুনিয়ার আবেশে নাহি ভ্রান্ত,
মুক্তাকি—অটল, আলোকিত পথ ধরে, চিরদিন অনন্যায় প্রান্ত।

হায় দুনিয়ার মানুষ! বৃথা লোভে হারায় মন-মণি,
সোনা-রুপার মায়া ছাপিয়ে যায় সত্যের অমলস্ফুরণ;
কিন্তু মুক্তাকি রাখে সততা, নির্ভীকতা হৃদয়ে,
ভালো ও খারাপের বিচার করে, আল্লাহর আদেশে শৃঙ্খলিত।


নহি সে বিষময়ী, নয় সে ধূর্ত কৌশলী,
ধৈর্য, সংযম, সতর্কতা—তব অস্ত্র ও শক্তি;
পাপ-চাক্রী বা দুনিয়ার চাপ তাকে কষে না,
মুক্তাকি চির সতর্ক, আলোর পথে অটল, অনন্তে স্থির।


মোমের ভাণ্ডারে গোপন মধুর মতো, ইবাদত তার নীরব,
প্রত্যেক কাজ, প্রত্যেক দান আলোকিত তার অন্তরে;
পরের প্রতি দয়া, অসহায়ের পাশে সহানুভূতি,
পাপ থেকে বিরত, আলোর পথে হাঁটে—হে মুক্তাকি, চিরসুখের দিশারী।

অহংকার-অপব্যয় তুচ্ছ, ধৈর্য ও সংযম সর্বদা সঙ্গী,
ভীত হই আল্লাহর প্রতি, সদাচরণে পূর্ণ অন্তরদৃষ্টি;
গৃহে, পথে, সমাজে—সতর্কতা ও নৈতিকতা সর্বত্র,
মুক্তাকি হোক আলোর পথে, জীবন হোক দীপ্তিমান, চিরন্তন।

সকল ইবাদত ও কর্মে সততা, পরিশ্রম ও ধৈর্য মিলিয়ে,
মুক্তাকি হয়ে ওঠে দুনিয়ায় দীপ্তিমান, সকলের প্রিয় বান্দা;
হৃদয়ের নীরবতা, আত্মার আলো, নৈতিকতার দ্যুতি—অমল অমর,
সৎ পথে চলা, সদাচরণে পূর্ণ—আল্লাহর প্রিয় বান্দা, হে মুক্তাকি।

ফুল-বনে, পাথরে, শহরে, সবখানে সে সতর্ক,
আলো-ছায়ার মাঝে ভাসে আল্লাহর স্নেহময় প্রকাশ;
প্রতিটি ধাপে, প্রতিটি নিঃশ্বাসে, ভয় ও বিশ্বাস জাগে,
মুক্তাকি—সত্যের পথিক, দুনিয়ার আলোয় দীপ্তিমান।

হায় লোভী মানব! তব চাহিদায় মিশে না যায় মুক্তাকির গান,
পাপ-চাক্রী, ধন-লালসা সব তুচ্ছ, তব মনে স্থির ভয়ভূমি;
মুক্তাকি তব জীবন হোক আলোর সাগরে অমল,
সদাচরণে পূর্ণ, ধৈর্য, সংযম ও ইবাদতে নিত্য দীপ্তিময়ী।
*****************************************************


২৮-১০-২০২৫

মানবিক পুলিশ

 মানবিক পুলিশ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************************

দেখিনু জনতার ভিড়ে, নীল জ্যোৎস্নার রাতে,
মানবতার দীপ জ্বলে অন্ধকার প্রাতে।
বুকে পুলিশ-চিহ্ন, তবু নয় ভয়প্রদ,
হৃদয়ে সহানুভূতি, নয় রাগে জড়।

হাতে শৃঙ্খলার দন্ড, তবু মমতায় ভরা,
দুঃখীর ডাকে ছুটে যায় দেরি না ধরা।
বৃদ্ধের কাঁপা হাত ধরে রাস্তা পাড়ি দেয়,
অসহায় শিশুর চোখে মমতার আলো ছড়ায়।

সেবাই যার ধর্ম, দায়িত্ব যার প্রাণ,
অপরের বিপদে ঝাঁপায়, করে না হিসাব-জ্ঞান।
গুলিস্তানের ব্যস্ত নগর, যানবাহনের ঢল,
সেখানে তিনি পাহারাদার, জনতার মঙ্গলতরল।

নলগাঁওয়ের মাটির টান রক্তে বয়ে যায়,
মানবিকতার বাতাসে হৃদয় ভরে যায়।
যে আসবে এলাকাবাসী, দরজায় দাও নক,
সহায়তার হাত বাড়াবে, বলবে— “আল্লাহর হক।”

সুবর্ণ দেউলের মতো উঁচু নৈতিক শির,
যশ নয় লক্ষ্য, মানবসেবাই অধীর।
বলিলেন বিবেক যেন মৃদু হেসে তায়—
“এমন সেবকই মানবতার অলৌকিক মহিমায়।”
-----------------------------------------------------


এ লজ্জা কার?

 এ লজ্জা কার?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাটমকাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************************

কাপাসিয়ার তটে, মৈশন গাঁয়ের পথে,
প্রভাতের শিশির ভেজে ইতিহাসের বুক,
যেথা একদা ধ্বনি তুলেছিলো মাইকের রথে,
তাজউদ্দীনের ভাষণ জ্বালায় আশার শ্লোক।

সেই চারজন বীর— জাহান্দার, হজু, দৌলত, মিয়া,
মাথায় মাইক তুলে ছুটে যেতেন সভামঞ্চে,
চার্জহারা ব্যাটারি কাঁধে নিয়ে প্রিয়া,
রাত কাটাতেন রেলঘরে, মশার দংশনে।

তখনো ছিলো না বিদ্যুৎ, না অর্থ, না খ্যাতি,
ছিলো শুধু মুক্তির ডাক, স্বাধীনতার জ্যোতি,
তবু ওরা দিয়েছিলো প্রাণের আনুগত্য,
সোনালী দিন গিয়াছে— পড়ে আছে স্মৃতি।

আজ প্রিয় বাংলাদেশ কংক্রিটে দাঁড়ায় দৃঢ়,
স্বপ্নে সোনার তরী ভাসে, গগনে নীল ধ্বনি,
তবু সেই বৃদ্ধ মিয়া, লাঠিতে ভর দিয়া,
দাঁড়ায় লজ্জায়, হে মানব! কিসের গৌরবগান ধ্বনি?

তাজউদ্দীনের সাথী— বঙ্গতাজের ছায়া,
দুর্জয় সে মাইকম্যান, ইতিহাসের দোভাষী,
যার কণ্ঠে একদিন জেগেছিলো মহাকাব্য,
আজ কাঁপে ক্ষুধায়, ব্যথায়, প্রণয়ে নিঃশেষী।

সিমিন হোসেন রিমি, মানবিক কন্যা তুমি,
খোঁজ নাও বীরের, যেথা ক্ষয়ে যায় চরণে ধূলি,
তোমারই পিতার পাশে হেঁটে যারা আনিল ভুমি,
তাদেরই বুক আজ খালি, কালের খেলায় ভুলি।

জাহান্দার মিয়া ঘুমায় ১৯৮০ তে,
ফজলুল হক ফজু গেলো ’৯৪-র রাতে,
দৌলত আলী নিঃশব্দে নিশ্বাস গুণে প্রাতে,
মিয়া উদ্দীন বেঁচে, কেবল মৃত্যুর প্রহরে।

হে জাতি! আজ বলো তবে— এ লজ্জা কার?
যে বীর রেখেছিলে তোর স্বাধীনতার দোর,
সে আজ দাঁড়িয়ে ক্ষীণ, অশ্রুতে অপরাধী,
হে বাংলাদেশ! তুই কি ভুলেছিস তার চোর?

“ইতিহাসের সোনালী পাতা আজ কেবল ঝরা,
তবু সেই পাতা থেকেই উঠে আসে প্রশ্ন —
এ লজ্জা কার?”
------------------------------------


২৮-১০-২০২৫

স্পেশাল পিপি

 স্পেশাল পিপি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************

সতত, হে স্মৃতি তুমি জাগো মোর মনে,
সতত উচ্চারিত নাম ফজলুল কাদের।
সতত যেমন ভোরে সূর্য ওঠে গগনে,
জ্বালাও তেমনি আলো প্রজার অন্তরে,
তোমারে ভাবি হে বন্ধু নিরব প্রহরে।

ডুমদিয়ার মাটি আজও কাঁদে তব তরে,
টোক ইউনিয়নের গর্ব তুমি ছিলে ঘরে ঘরে।
কাপাসিয়ার মাঠে বাজত তব ন্যায়ের বাণী,
কমিউনিস্ট নেতা হয়েও জনতার প্রাণে,
বয়ে আনিলে সেবার নব সুরবাণী।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি তুমি,
সত্যের পথিক, দেশভক্তের দামী।
গাজীপুর জর্জ কোর্টে দৃপ্ত দৃঢ়বাণী,
নারী ও শিশুর পাশে দাঁড়ালে প্রাণে।
স্পেশাল পিপি তুমি, ন্যায়ের আলোকধারা,
বিচারের পথে ছিলে প্রজার আশা সারা।

আজ দুপুরে হঠাৎ থেমে গেলে হে প্রাণ,
স্ট্রোকের ছোঁয়ায় নিভে গেল তব দীপের টান।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন—
এই শোকভরা ধ্বনি বাজে গাজীপুরের গগনে,
কাঁদে কাপাসিয়া, কাঁদে জনতা মিলনে।

তুমি গেলে তবু রইলে বিশ্বাসের বুকে,
প্রজার হৃদয়ে জ্বালো আলোর শিখা সুখে।
তোমার কর্মগাঁথা বাংলার ইতিহাসে,
জীবন্ত থাকবে চিরকাল প্রেরণার আশে।

আল্লাহ তোমাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন — আমীন,
এই প্রার্থনা বাজে প্রতিটি হৃদয় বীণ।
তোমার নাম অমল, তোমার কাজ অনন্ত,
ফজলুল কাদের ভাই, তুমি চির প্রভান্ত।
----------------------------------------


গালাগালির মঞ্চ

 গালাগালির মঞ্চ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

আশার ছলনে ভুলি কী ফল লভিলি, হায়,
গালাগালির মঞ্চে সভ্যতার ক্ষয় তাই ভাবী মনে?
রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, হিংসা-প্রতিহিংসার ধোঁয়া চলেছে,
ক্ষমতার লড়াইয়ে দেশপ্রেমের শূন্যতা বহে নিরন্তরে;—

স্বৈর্য আর ফ্যাসিবাদের ছায়া মুখে হাসি—হাতে লাঠি,
মঞ্চে বাজে বিদ্রোহের শঙ্কর, নাগরিক নীরব,
মন ভাঙে, হৃদয় কাঁদে, তবু আশা জ্বলে কি?
মনোনীত বর—তুমি কি সত্যের মশাল ধরিবে হাতে?

হীনতা, প্রতিহিংসা, বিদ্বেষ—সবই ছড়ায় চারপাশ,
মঞ্চের ধ্বনি কেটে যায়, সভ্যতার রাত্রি দীর্ঘ।
গালাগালির ক্ষুদ্র মণি, দীপের আলো যেন নিভে না,
স্বমন্দিরে প্রদর্শনিল বাণীর চরণে আশা।

হিংসা, স্বৈর্য, ফ্যাসিবাদ—চিরবিদায় হবে কি?
ক্ষমতার লোভে লুটে যায় প্রাণের রস, দেশপ্রেম নিঃস্ব।
নাগরিক কণ্ঠে বাজুক বিদ্রোহের সুর—হায়,
মঞ্চ থেকে জ্বলে উঠুক সত্য, ন্যায় ও মানবতার আলো।

বেশ কতো দিন এই হীন লড়াই, দুঃখের কুয়াশা,
শুধু হানাহানি, বিদ্বেষ, অন্ধকারে জলের মতো ছলনা।
মনোনীত বর—যদি সত্যের মশাল ধরিলে হাতে,
বিকৃত ভাষার বিষ ধুয়ে যাবে, মঞ্চে ছড়াবে মুক্তির দীপ।

হৃদয়ে শক্তি জাগাও, ভবিষ্যতের পথ আলোকিত কর,
হিংসা, প্রতিহিংসা, স্বৈর্য—সবই কাটাও, বিদ্রোহী বাণী দিয়ে।
গালাগালির মঞ্চ হোক শিক্ষা, সত্যের দীপশিখা—
অবিচল, অদম্য, চিরন্তর, সভ্যতার পুনর্জাগরণে।
-----------------------------------------------


২৮-১০-২০২৫

শিক্ষক ও সাংবাদিক

 শিক্ষক ও সাংবাদিক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
জীবন বৃত্তান্ত
---------------------------

নাম: মোহাম্মদ মনজুরুল হক গাজী
পিতা: মরহুম মিয়া হোসেন
মাতা: মরহুমা জুবেদা খাতুন
গ্রাম: ডুমদিয়া (উত্তর পাড়া)
ডাকঘর: ডুমদিয়া
ইউনিয়ন: টোক
উপজেলা: কাপাসিয়া
জেলা: গাজীপুর, ঢাকা

শিক্ষা জীবনের ধারা:
-------------------------------

প্রাথমিক: উজলী দিঘীরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

মাধ্যমিক: টোক রণেন্দ্র বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৮২-১৯৮৫)

উচ্চ মাধ্যমিক: সালনা নাসির উদ্দীন মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, গাজীপুর সদর (১৯৮৬-৮৭)

এসএসসি: ১৯৮৮

কলেজ: শরীফ মোমতাজ উদ্দীন আহমেদ ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া (এইচএসসি - ১৯৯০)

বিশ্ববিদ্যালয়:

বিএসএস (সম্মান/অনার্স), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৯৩

এমএসএস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৯৪

বিষয়: অর্থনীতি

পেশা:
----------------------------

শিক্ষকতা: সিনিয়র প্রভাষক (সহকারী অধ্যাপক আবেদিত), শামসুল হক মহিলা ফাযিল (ডিগ্রি) মাদরাসা, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ

সাংবাদিকতা:
----------------------------

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক আজকের বিজনেস বাংলাদেশ

রিপোর্টার ও জেলা প্রতিনিধি, মাসিক ম্যাগাজিন শিক্ষাতথ্য ও shiksha totthow.com

পারিবারিক জীবন:
--------------------------------

৭ ভাই, ১ বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ

১ ভাই পরপারে, ৬ ভাইয়ের মধ্যে ৫ জন গ্র্যাজুয়েট

স্ত্রী: গ্রাজুয়েশন শেষ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক

সন্তান: ৩ জন (বড় মেয়ে: ষষ্ঠ শ্রেণি, মেজো ছেলে: চতুর্থ শ্রেণি, ছোট ছেলে: প্রথম শ্রেণি)

ঠিকানা:

অফিস: ডুমদিয়া মিয়া হোসেন বাড়ি, জামে মসজিদ কমপ্লেক্স, টোক, কাপাসিয়া, গাজীপুর

হাউজ: ১০৮/এ, হাবিবুল্লাহ সরণি, গাজীপুর সিটি করপোরেশন রোড, জয়দেবপুর, গাজীপুর -১৭০০

যোগাযোগ:

মোবাইল: ০১৭১৮৫৭৩২২২

ইমেইল: mmhgazi1972@gmail.com

রক্তের গ্রুপ: B+

মন্তব্য:
শিক্ষার মৌলিক তিনটি উদ্দেশ্য:

চিন্তা-চেতনার বিকাশ ঘটানো

********************************************************************

শিক্ষক ও সাংবাদিক
-----------------------------------------

কে তিনি— শ্রেণিকক্ষে বসে মননে দীপ জ্বালান,
কবে মোরে কলমে জ্ঞান-বীণার আলো ছড়ান?
শিক্ষার জগতের অন্ধকারে আলো ছড়িয়ে দেন,
ছোটদের চোখে জাগান আশা, মননে সত্যের প্রেরণা।

সেই তিনি— কলম হাতে, সংবাদপত্রে সত্য প্রকাশ করেন,
অন্যায়ের দানব ভেঙে, নিপীড়িতের কণ্ঠ শোনান।
শব্দে শব্দে যেন বাজে মুক্তির ধ্বনি,
সত্যের দীপ জ্বলে, অন্ধকার দূর হয় ধীরে ধীরে।

শিশুর কৌতূহল যেন চন্দ্রবদনের দীপ,
অর্থনীতি, ইতিহাস, জীবন-মূল্য সব শেখান তিনি।
মনঃ-কমলেতে বসান জ্ঞান-বীজ,
ভাবের অরণ্যে ফোটায় আশা, সততার কুসুম।

তিনি বলেন— “জ্ঞান শুধু পড়ার নয়, মননে রাখতে হয়,
সত্য, ন্যায়, মানবতা—এই পথে চলতে হবে।”
শিশুরা শুনে, বোঝে, চিত্তে বাজে সুর,
জ্ঞান ও সততার দীপ জ্বলে, জীবন হয়ে যায় পূর্ণ।

শিক্ষক ও সাংবাদিক, দুটি পরিচয় তাঁর মহিমা,
কলমে ঝরে আলোর ধারা, পাঠ্যপুস্তকে জ্বলে প্রজ্ঞা।
শব্দে শব্দে যেন বাজে নন্দনের সুর,
নন্দন-কানন থেকে আসে মানুষের মন জাগানো রূপ।

পত্রিকার পাতায় তিনি তুলে ধরেন দুঃখ-সুখের কথা,
অন্যায়, শোষণ, দাসত্ব সব ভেঙে দেন সত্যের তরঙ্গে।
মানুষের হৃদয়ে বাজে আশা, ভর করে শক্তি,
সত্য ও ন্যায়ের দীপ জ্বলে, অমলিন, চিরন্তন।

শ্রেণিকক্ষে তাঁর পদচারণা বজ্রঝড়ের সদৃশ,
শিশুরা দেখেন, শিখেন, বোঝেন প্রজ্ঞার আলো।
কলমের শাখায় ঝরে সততা, খাতার পাতায় জ্বলে ন্যায়,
জীবনের অরণ্যে উজ্জ্বল হয় শিক্ষার দীপ।

তিনি চলেন দিনে-রাতে, ক্লাসে বা প্রতিবেদনে,
সত্যের দীপ জ্বালান, অন্ধকার ভেঙে আলো ছড়ান।
শিক্ষার্থীর চোখে উজ্জ্বল হয় প্রজ্ঞা,
জনগণের হৃদয়ে জ্বলে ন্যায় ও মানবতার দীপ চিরকাল।

তিনি হাসিমুখে বলেন— “সত্যই জীবনের অমলিন পথ,
মননে আস্থা, চিত্তে ন্যায়, হৃদয়ে মানবতা রাখতে হবে।”
শিশুরা শুনে, বোঝে, পথ চলা শিখে,
জ্ঞান ও সততার দীপ জ্বলে, জীবনের আলো হয়ে যায়।

শিক্ষক ও সাংবাদিক, জীবনের দুই মহিমা পরিচয়,
কলম, খাতা, সংবাদ, পাঠ্যপুস্তক— সব দিয়ে দীপ জ্বালান।
তিনি পথ দেখান, আশা জাগান, মানুষের মন উজ্জ্বল করেন,
মানবতার দীপ জ্বলে, জ্ঞান ও ন্যায়ের পথে চিরন্তন।
------------------------------------------------


২৮-১০-২০২৫