Saturday, August 23, 2025

ট্যাগের খেলা

 ট্যাগের খেলা

কলমেঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ২৩-০৮-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
************************
স্বাধীন বাংলার যাত্রী পথিক, জাগরে বীর-বরণ,
উচ্চকণ্ঠে বল হে তোরা—‘সাম্যই মহীয়ান’।
চারিদিকে আজ ট্যাগের খেলা তোলে ঝড়-তুফান,
ভাঙে বন্ধন, ভাঙে প্রীতি—মাতৃকার উদ্যান।

দেশদ্রোহী মিলে মিশে খেলে বিভেদের খেলা,
দেখে সকলে, বলে না কেউ—এ যে যুদ্ধ ভেলা।
ভাটির স্রোতে ভাসে যে ভেলা, পাইব কি আর উজান?
ফ্যাসিবাদের ঘূর্ণিঝড়ে মরে জাতির প্রাণ।

দ্বন্দ্ব-বিবাদের নহে তো সময়, আয় তোরা আয়
কিসের ট্যাগ, কিসের বিভেদ স্বাধীন বাংলায়?
আমরা সকল একই মায়ের,চলো ঐক্য ধরে,
রক্তে পাওয়া সোনার-বাংলা গাও মধুর স্বরে।

ট্যাগের খেলা নিষ্ঠুর অধ্যায়, আত্মঘাতী কলি,
আজ নয়, কাল নিভে যাবে জাতির সম্প্রীতিগুলি।
ঐক্য-পথের যাত্রী পথিক, ভাঙো ট্যাগের জাল,
নইলে ধেয়ে আসবেই শত্রু স্বাধীন বাংলার তল।
------------------------------------------------

সত্য নাইরে মাতৃগৃহে

 সত্য নাইরে মাতৃগৃহে

কলমেঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ২২-০৮-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
************************
সত্য নাইরে মাতৃগৃহে— মিথ্যের আস্ফালন,
সত্য বললেই কল্লা ধরে শক্তির মহাজন।
ক্ষমতার হিরো গর্জে উঠে খামাখা ক্ষুব্ধ মন,
ওরে, সত্য নাইরে মাতৃগৃহে— ঝরে অশ্রুবন।

মিথ্যে যত সেরা আজ, সত্য নির্বাসন,
প্রতিবাদীর কণ্ঠ রোধে সরব দুঃসাশন।
গুম-হত্যা আর রক্ত-স্রোতে ভাসছে প্রতিদিন ,
ওরে, সত্য নাইরে মাতৃগৃহে— শাসক সিংহাসন।

সত্য বললেই হুমকি নামে, আসে নির্যাতন,
ওরে স্বৈরতন্ত্র, ফ্যাসিবাদের বিশাল আয়োজন।
তৈলবাজি, চামচামিতে ঢেকে যায় আলোকবন,
ওরে, সত্য বললেই ভেসে আসে মৃত্যু-ঘন কণ।

দেশদ্রোহীর রক্তলোভে রুদ্ধ হলো প্রাণ,
সত্য বলার শক্তি নাইরে— মিথ্যার উদ্ভোধন।
দিকে দিকে কাঁদে সত্য— ওরে বিশ্ব, শুন
মীরজাফর আর মুনাফিক যেন শ্রেষ্ঠজন।

ওরে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ সে যে দৃঢ় পণ!
ওরে মিথ্যে নয় আজ সত্যাগ্রহ বাঙালির মন।
ওরে লিখবো সত্য বলবো সত্য লড়ব রণ-মরণ!
ওরে সত্য বাণী মুক্তির ধারা - মিথ্যের মৃত্য ক্ষণ।
--------------------------------------------------

হে নেতা বন্ধু

 হে নেতা বন্ধু

কলমেঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ২২-০৮-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
************************
---------------------------------------------
হে নেতা বন্ধু! বলো তুমি সত্যের বহ্নিবাণ,
ক্ষুধার্ত বুকে তব নও তুমি দেশদ্রোহী প্রাণ।
এত শক্তি, এত ক্ষমতা করো তুমি আত্মদান,
দেশপ্রেমিক দুরন্ত মহাবাহু মানবতার গান।

জানি হে তুমি ভয়হীন, দুর্বার এক কল্লোল,
বলো তুমি নও ক্ষমতায় বৈষম্যের হিল্লোল।
নেতা হয়ে গাও তুমি সাম্য ও ঐক্যের গীত,
হে নেতা বন্ধু! বজ্র কণ্ঠে গাও মুক্তির সংগীত।

যুদ্ধ এলেও হয়ো না তুমি ক্ষত-বিক্ষত আহত,
তুমি হও জনতার আশা, সুখ-দুঃখে চির সতত।
হে নেতা বন্ধু! তোমাতে চাই দেখি সুদৃশ্য ধরা,
সদ্যফোটা পুষ্পসম সুষমায় মহিমান্বিতা সারা।

ফ্যাসিবাদ, স্বৈরবাদ, চাঁদাবাজের যত গ্লানি,
বলো হে তুমি নও তার কান্ডারি, স্বাধীন তটনি।
হে নেতা বন্ধু! বাঁকা চোখে দেখো না ভিন্ন মত,
দল-মত-ধর্ম-বর্ণভেদে আনো চির ঐক্যের ভ্রত।

হে নেতা বন্ধু! হও তুমি জনতার নিরাপদ আশ্রয়,
তোমার দ্বারা ঘটবে না কভূ মাতৃভূমির ক্ষয়।
হে নেতা বন্ধু! হে বিরাট প্রাণ! হও জনতার জয়,
তোমার নেতৃত্বে চাই দেখি মুক্তির সূর্যোদয়!
---------------------------------------------------------

Friday, August 22, 2025

গুপ্তচর

 গুপ্তচর

কলমেঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ২২-০৮-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
************************
---------------------------------------------
শুনেছো, গুপ্তচর এসেছে—খুলো হে আঁখি!
ছদ্মবেশে আঁকে ওরা দোসরের ছবি।
তুমি নিরব, তবু ওরা শত্রু গোষ্ঠীর সনে,
তোমার পুষ্পে বিষ মিশায় শূলের মত্ত গুণে।

শুনেছো, গুপ্তচর এসেছে দুলাল–দুলালী সেজে,
তুমি ভদ্র, ওরা গোপন উগ্রতার কাজে।
গুপ্তচর হয়ে দিল ওরা দুর্নামের উপহার,
বিশ্বাসে বুঝনি তুমি—ক্ষতি করবে আবার।

হায়! আজ চমকি উঠি—কতটা ছিলে শিশু,
তোমার ঘরেই তোমারে করেছে হত্যা মিশু।
গুপ্তচর হয়ে প্রতিদিন নিষ্ঠুর তপস্যা,
তুমি বোঝোনি—তুমি কতটা ছন্নছাড়া আশা।

বিশ্বাসঘাতক সেই গুপ্তচর কতটা অসহ,
আজও দেশদ্রোহীর তাবুতে ছুটছে অহরহ।
দুয়ারে এসে বাজায় ওরা বিদ্রোহের বাঁশি,
সে কখনো ছিল না তোমার নন্দিত হাসি।

শুনেছো, গুপ্তচর এসেছে—খুলো হে আঁখি!
সাবধান! সাবধান! মুক্তি হবে না ওদের অন্তরে রাখি।
--------------------------------------------------------------

দৃঢ় কণ্ঠে বলি

 দৃঢ় কণ্ঠে বলি

কলমেঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ২২-০৮-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
************************
---------------------------------------------

দৃঢ় কণ্ঠে বলি তোমরা সত্য বল না কিছু,
বলে যাবো উন্নত মম শির মাথা হবে না নীচু।
তোমরা পরাজিত শক্তি দোসরের ভঙ্গিমায়,
আমরা একাত্তরের যাত্রীদল রক্ত ধমনী-বাহায়।

মাতৃকাকে করেছি স্বাধীন শত্রুকে আঘাত হানি,
আমরা ভীত হইনি কখনো -যাওনি সে কথা জানি?
বুকে বেঁধেছি মৃত্যুযজ্ঞ লাল-সবুজের সুখে,
এখনো প্রস্তুত আছি আমরা অগ্নিকুণ্ড বুকে।

হ্যাঁচকা টানে কল্লা ধরি করবো নীচু শির,
উত্তরসূরী মুক্তিযুদ্ধের নির্ভয় রক্ত-শির।
পারবি না তোরা, পারবি না গাইতে ভিন্ন সুরে,
এখনো বিনিদ্র জাতি স্বাধীনতা রক্ষার ঘোরে।

যদি আসে ডাক পারবি না পালাতে কাঁদিয়া,
অপমান সহ্য করবে না জাতি ঝরিবে অশ্রুজল নদিয়া।
দৃঢ় কণ্ঠে বলি তোমরা শত্রুর বংশধর,
বলে যাবো উন্নত মম শির তোমরাই দেশদ্রোহী পর।

আমরা বাঙালি আমরা বাংলাদেশী,
মুক্তিযুদ্ধের উত্তরসূরী স্বাধীন বাংলার দিশী।
উচ্ছ্বাসে গেয়ে ওঠে শহীদের অমর গান,
আমার সোনার বাংলা স্বাধীন বাংলায় প্রাণের প্রাণ।

-----------------------------------------------------

স্বাধীনতার পরেও

 স্বাধীনতার পরেও

কলমেঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ২২-০৮-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
************************
মা তুমি স্বাধীন, তব স্বাধীনতা শুকায় হায়,
পরাজিত শক্তির মতো আজ করুণা গায়।
তরল কণ্ঠে বলি তুমি মুক্ত অমৃতের ফল,
তব স্বাধীন ছায়ায় জাগে স্বৈর-ফ্যাসিবাদের দল।

স্বাধীনতা নাই, অধিকার নাই, নেই প্রেমের গান,
দিকে দিকে ক্ষমতার সাধে ক্ষমতারই মান।
এমন দুঃখে মাতৃকোলে জাগে না যোদ্ধার জয়,
দেশদ্রোহী সাধনায় মাগো স্বাধীনতার ক্ষয়।

বৈষম্যের কুঞ্জে বসে কেমন গাঁথিবি মালা?
মা, তোর কপালে দেখি আজ মীরজাফরের জ্বালা।
মঞ্চে মঞ্চে মিথ্যা সুরে মুনাফেকির গান,
দংশিছে সর্বাঙ্গে মা—বিষবৎ নাগের দাহন।

স্বাধীনতার পরেও ভিক্ষার ঝুলি হাতে ধারি,
সত্য দাও, মুক্তি দাও—ডাকে জাতি ভারি।
মা তুমি স্বাধীন তব শয্যায় দুঃখের আগুন,
দেশদ্রোহী দুর্ণীতিতে ঝড় তুফান গুনগুন।

চাঁদাবাজ উল্লাসে উঠে ক্ষমতার অট্টালিকা,
মা, তব স্বাধীনতায় লেখা মৃত্যু-দণ্ডিকা।
দিকে দিকে ব্যাভিচারীর উলঙ্গ রূপ প্রকাশ,
স্বাধীনতার পরেও হারায় গণতন্ত্রের আশ।
---------------------------------------------

হে দেশপ্রেমিক

 হে দেশপ্রেমিক

কলমেঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ২২-০৮-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
************************
হে দেশপ্রেমিক, তুমিই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান,
তোমার হাতেই রক্ষা পায় স্বাধীনতার সম্মান।
লাল-সবুজের অনুপম শোভা তুমি হে তাপস,
তুমিই নির্লোভ, নির্ভীক প্রাণ, দুরন্ত সাহস।

লক্ষ শহীদের রক্তমাখা দৃষ্টি-বিপ্লবী ধার,
তোমার মাঝে শুনি আজ সোনার বাংলা ঝংকার।
জাতির বিপদে আপদে জাগো দৃঢ় প্রাণ,
স্বাধীনতার তরে রাখো মুক্তিযুদ্ধের গান।

যতবারই শত্রুরা আসে ধেয়ে ভুমি লয়ে,
উঁচু শিরে দাঁড়াও তুমি, আপোষ নাই সয়ে।
তুমি সেই চেতনার উত্তরসূরী নয়ন,
স্যালুট! স্যালুট! তোমার প্রেমে ভাসে জীবন।

হে দেশপ্রেমিক, ব্যথা-ব্যাকুল কামনা জাতির,
লাল-সবুজে জাগো সদা মুক্তিযুদ্ধের ধ্বজাবাহির।
আজও বঙ্গে ষড়যন্ত্রে শত্রু আসে নির্মম,
তুমি তখন হও দুর্গসম বিপ্লবী অম্লান।

তুমি তীব্র তরঙ্গ হয়ে ওঠো ছলছল,
তোমারে পেয়ে ধন্য এই বাঙালি জনতল।
তুমি যদি না জাগো হে দেশপ্রেমিক! তবে হায়—
জাতি ডুবে যাবে ব্যথায়, মৃত্যুর ছায়ায়।
------------------------------------------------

আধুনিক রঙ্গমঞ্চে

 আধুনিক রঙ্গমঞ্চে

কলমেঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ২২-০৮-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
************************
ভেবে দেখি না কোথায় যায়, যুগের ছেলে-মেয়ে,
প্রভাত প্রহরে ডোবে রবি, নেশায় হাসি নিয়ে।
যৌবন ক্ষয়ে যারা খোঁজে আঠারো কোটি স্বপ্নভাস,
চিতার তটে অবেলায় পুড়ে—বাংলা, হায় সর্বনাশ!

মায়ের বুক হতে ছেলেরা হারে, উগ্রবাদে ত্রাস,
ফুল-কলি বেলী পাপড়ি খুঁড়ে—তরুণী কেবল লাশ।
আধুনিক রঙ্গমঞ্চে আজ, তরুণ-তরুণী নাশ,
শত কোটি স্বপ্ন ভেঙে, প্রত্যাশা করে সর্বনাশ।
জাতি বেশী কিছু চায় না, চায় তো শিক্ষা, জ্ঞান,
হে আধুনিক যুবক-যুবতী, ওঠো গর্জে প্রাণ!

মায়ের বুকে জ্বলে আগুন, ছাই মুছে ফেল আজ,
যাও সামনে দৃপ্ত কণ্ঠে, করো দুর্জন লাজ।
দুষ্টদের কাছে হার মানো না, যারা চায় রক্তধারা,
তোমরা বীরের বেশে গেয়ে তুলো আগামীর সারা।

ওরা দেয় অস্ত্র-নেশা, অভিশাপে করে ক্ষয়,
মা কাঁদে, পিতা নিঃশব্দ, যুবক-যুবতী হয় নিস্তব্ধ রয়।
আমি বলি, শুনিস না ওদের, ফিরে আয় আলোর কূলে,
হে আধুনিক যুবক-যুবতী, যোগ্য হয়ে দাঁড়াও দলে দলে।

শিক্ষার আলো, জ্ঞানের দিশা, এই বেলা ধরো তুলে
নেশা-নগ্নতার অন্ধকার ছাড়ো, জাগো প্রভাতকালে।
--------------------------------------------------

পারবে তুমি

 পারবে তুমি

কলমেঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ২২-০৮-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
************************
ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়ো না, বেশী কিছু চাই না,
বলছি শুধু—চেষ্টা করে এগিয়ে যাও না।
পারবে তুমি নবীন আলো, চাই দেখি ভয়হীন,
তোমায় নিয়ে উড়ে যাব, থামাতে না আর কোনদিন!

ভীতুরা কাজ দেখে ভাই, ভয় পায় কতই না,
জানে না সে—জানে না, বীর যোদ্ধা দমে না।
এসো তুমি যুদ্ধে এসো, শোধ করো যত ঋণ,
জয় করে এগিয়ে যাও—অমর হও চিরদিন।

ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়ো না, অন্য কিছু চাই না,
প্রাণের মাঝে শপথ আছে, তাতে তুমি হারবে না।
অভয় দিচ্ছি—শোনো কি? ধরেছ নাকি বইটা?
ধরলে তুমি আঁধার কেটে পাবে তখন আলোটা।

ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়ো না, তুমি সাহসীর লোকে,
আঁধার ভেঙে আলো দেবে—ভুলে যাবে ব্যর্থতাকে।
---------------------------------------------------

ভিত্তি তোদের একাত্তর

 ভিত্তি তোদের একাত্তর

কলমেঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ২২-০৮-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
************************
আজ জেগেছে বীর বাঙালি, বাঁধ ভাঙা কল্লোলে,
কইরে তোরা আয় সবে স্বাধীনতার হিল্লোলে।

হাসরে তোরা দুঃখ ভুলে জাতি গড়ার উল্লাসে,
মুক্তি এলো শত্রু হেনে, রিক্ত বুকে সুখ হাসে।

তবু তোদের জাগতে হবে ধুমকেতু আর উল্কাতে,
দেশদ্রোহীরা ওত পেতে ওই মুক্তিযুদ্ধ উল্টাতে।

চায় না ওরা স্বাধীনতা, দেশদ্রোহী ওই মীরজাফর,
শুনরে জাতি, শুনরে সবে—ভিত্তি তোদের একাত্তর।

এই বিপ্লবে জাগতে হবে লাল-সবুজের উচ্ছ্বাসে,
শহীদ-রক্ত ডাকছে তোদের স্বাধীন মায়ের চারপাশে।

ভয় কি ওরে বীর বাঙালি, মৃত্যুঞ্জয় প্রাণ তোদের!
রুখতে হবে শত্রু তোদের ঊষা, সন্ধ্যা, ভরদুপুর।

আজ জেগেছে বীর বাঙালি ছন্দ-তালের মাতালে,
কইরে তোরা আয় সবাই বীর-যোদ্ধাদের আদলে।

রুখতে হবে, রুখে দে ফ্যাসিবাদ আর স্বৈরাচার,
যুদ্ধে পাওয়া স্বাধীনতা বীর বাঙালির অহঙ্কার।

থাকিস না আর চুপটি বসে দেশদ্রোহীর হুঙ্কার,
ভিত্তি তোদের মুক্তিযুদ্ধ, লক্ষ শহীদের একাত্তর।
-------------------------------------------------


সম্মুখে অগ্নিগর্ভ দিন


কলমেঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ২১-০৮-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
************************
মহান মুক্তিযুদ্ধ করিল আশার ভবিষ্যৎ রচনা,
দিল মায়ের স্বাধীন ভুবন, আকাশ–তরঙ্গের সঞ্চরণা।
দৃঢ় শপথে দুর্গ হতে ঝাঁপাইয়া পড়িল বীর সেনা,
লক্ষ শহীদের রক্তধারা ফুটাইল বিজয়ের রক্তিম বীণা।

সে ফুল কি তবে কলঙ্কিত করিবে হে বাঙালি জাতি?
দিকে দিকে হতাশার ঘোরে নীরব দীপালীর শোভা ভ্রান্তি।
থমকিয়া গেল মৈত্রীর বাণী, দেশদ্রোহী টানিছে ফের,
বজ্রকণ্ঠ উচ্চারিল ভাষা—যুদ্ধের বহ্নিশিখা ঘের।

যদিও সে যুদ্ধ লিখিল সাম্যের চিরন্তন কবিতা,
তথাপি আজ রুদ্ধ নিশ্বাসে নীরব দীর্ঘ মৌনতিতা।
কেহ করে না প্রতিবাদ আর, কেহ উচ্চারে না বাণী,
কবি মাত্র নির্ঘুম জাগে, ব্যথার রচে ছন্দ-গানী।

কি অদ্ভুত দেশ! কি বিচিত্র স্বাধীনতার তিক্ত বাণী!
দেশদ্রোহীর বক্ষে বসি কান্ডারী খোঁজে মুক্তির ধ্বনি।
আজ যন্ত্রণায় রুদ্ধবাক জনতা, শাসনের আঘাত ভীষণ,
মহান মুক্তিযুদ্ধের কবিতা আজ পদাঘাত, অবমানন।

স্বাধীনতা পাইয়াছি আমরা, মর্যাদা দিতে পারি নাই,
অযথা টানাটানিতে মুক্তির ইতিহাস ক্ষয় হয় তাই।
জাতির ভবিষ্যৎ মরণের পথে, সম্মুখে অগ্নিগর্ভ দিন,
সন্দিহানে স্বাধীনতার স্বপ্ন, ক্ষীণ আশায় উচ্চারণহীন।
------------------------------------------------------------

Thursday, August 21, 2025

পরাজয় বলতে কিছু নেই


কলমেঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ২১-০৮-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
************************
পরাজয় বলতে কিছু নেই এ বাঙালির প্রাণে,
জাগবে সে সত্যনিষ্ঠা—অগ্নিশপথের টানে।
শত্রুরা যতই আসুক শক্ত হাতে কল্লা ধ’রে,
নতশির হবে না কভু, মুক্তি-মন্ত্র উচ্চরে।

যদি ভীতু হই শত্রুনিধনে—লজ্জা, হে অপমান!
জাগো, জাগো, বীর বাঙালি—জাগো পালোয়ান।
সাবধান! সাবধান! শত্রুরা জেগেছে পুনরায়,
শহীদের উত্তরসূরী—ঝেড়ে ফেলো হীন দায়।

দেখতে চাই না কাপুরুষের লজ্জিত মুখখানি,
তোরই হাতে বিজয়লাভ—গৌরব আজও টানি।
কেমন করে পুড়ে যাবে ইতিহাস-ঐতিহ্য ভান্ডার?
তুই কি তবে থেমে যাবি জাতির আঁধার অন্ধকার?

বিশ্ব জানে—পরাজয় বলতে কিছু নেই,বাংলায়
তোর পশ্চাতে জয় দাঁড়ায় রাজসাজে মহিমায়।
ওরে বাঙালি, সিংহপুরুষ, জাগো, জাগো রে—
ওরে নির্ভীক বীর, ওঠো নব যুদ্ধের সমরে!

এ যে চেতনার যুদ্ধ, শুনো—দিকবিদিক ক্রন্দন বাজে,
পুরানো শত্রু এসেছে আবার—লজ্জা কি তবে সাজে?
চেতনার সুর বাজাও, ওরে, চেতনার সুর বাজাও—
পরাজয় বলতে কিছু নেই—বিজয়ের পথে তাকাও!
-------------------------------------------------------------

তুই সাধু থেকেও

 তুই সাধু থেকেও

কলমেঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ১৬-০৮-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
************************
মসনদের চতুর্দিকে তৈলবাজে ঘেরা দারুণ ভীড়,
কেন দিলি, ওদের হাতে তোর রাজ–নদীর নৌকা–খেইড়?

বুদ্ধি ভেসে গেল প্রলয়ে, তুই আজ হলে শূন্য–হারা,
চেয়ে দেখ, বিপদে কেহ নেই, ঝরায় না অশ্রুধারা।
পল্টি খেয়ে ভেঙে দিল ওরা, তোর সাজানো সুখের ঘর,
জাত নেই, ধর্ম নেই, স্বার্থ–পরের মত তারা হল পর।

তৈলবাজদের নেশা–পেশা, অতি বাড়াবাড়ি উতরোল,
তোর সুনামের পথে বাধা, মাতৃভূমির বুকে গোন্ডেগোল।
তোর ধ্বংসে উল্লাস করে, হাসে আজ উন্মত্ত বেশে,
যে মাঝি ছিলো নিশিদিন, সে-ই আজ ছুরি মারে হেসে।

ওরে শাসক! আযোগ্যকে করেছিস নিত্য সাথী,
ক্ষমার অযোগ্য অপরাধে দিয়েছিস মিথ্যে মুক্তি রাতি।
আজ তৈলবাজই তোর শত্রু—কি দৃশ্য ভয়াবহ হায়!
তোর বুক ভাসে অশ্রু–স্রোতে, নেই কারো উত্তর দায়।

ক্ষমতার প্রলয়ঘূর্ণি ঝড়ে তুই পথভ্রষ্ট হে শাসক!
চাটুকারের মিথ্যা শুনে হারালি শুভ উজ্জ্বল ডাক।
আবাদে লাল পালনে বেছে নিলি চাঁদাবাজ–দেশদ্রোহী,
তুই সাধু থেকেও রইলি ইতিহাসে স্বৈরাচার- বিদ্রোহী।
---------------------------------------------------

মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে জিজ্ঞাসা

মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে জিজ্ঞাসা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

তারিখঃ ২১-০৮-২০২৫ ইং

স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

*************************

হে মুক্তিযোদ্ধা কত দূরে তুমি সত্য নিশান নিয়ে?

চেয়ে দেখ বাংলা আজ এলোমেলো ইতিহাস লয়ে।

এ জাতি মেনেছে শ্রেষ্ঠ সন্তান তোমাদের- স্বদেশে,

তবে এত বিভক্তি কেন ইতিহাসের সত্য প্রকাশে?

 

ওরে কোন হীনমন্যতা অন্তরে বাঁধিয়াছে বাসা,

আজিকার প্রজন্ম জানতে চায় মুক্তিযুদ্ধের ভাষা।

কি করে জানবো বীরত্ব গাঁথা ইতিহাসের পাতা?

এ প্রজন্ম তো দেখেনি তোমাদের উঁচু শির মাথা।

 

তোমাদের দ্বন্দ্বে তোমরা যদি মুছে যাও কোনদিন,

এ প্রজন্ম দায়ী হবে না- হে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ।

যুদ্ধ এক, পতাকা এক তবু কেন বিভক্তি দরশনে?

বীরত্বে স্বাধীনতা দিয়েছো মুক্তি দিতে পারনি বন্ধনে।

 

মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এ প্রজন্মের জিজ্ঞাসা?

প্রকৃত ইতিহাস জানতে কে আমাদের ভরসা?

গল্পের আদি নাই অন্ত নাই আলোক দীপ্তি নাই,

ছন্নছাড়া পাগলের গল্প দিকে দিকে শুনতে পাই।

 

ক্ষমতার নেশা, বড়ত্বের নেশা দিয়েছে হ্যাচকা টান,

প্রজন্মের পরে প্রজন্ম ভুলে যাবে যোদ্ধাদের অভিযান।

তোমরা যদি জাতিকে জানাতে না পারো সেই কল্লোল,

ইতিহাস হতে মুছে যাবে একদিন প্রতিহিংসার হিল্লোল।

 

আজ সেই মুক্তিযোদ্ধারা কেন বন্ধি দ্বন্দ্বের কুঠিরে?

তোমাদের এই হীনমন্যতায় প্রজন্মের বুক নাহি ভরে!

হে বীর আর কত দূরে থাকবে তুমি যোদ্ধা পরিচয়ে?

প্রজন্মকে সত্যটা বলো যদি মুছতে না চাও ধরালয়ে।

----------------------------------------------

   

   


জনতার মনে প্রশ্ন জাগে

 জনতার মনে প্রশ্ন জাগে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
তারিখঃ ২১-০৮-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর
---------------------------------------------------
হিসাব দাও, হিসাব দাও, জনতা যাক জানি,
তুমি নও চোর ডাকাত, লুণ্ঠনকারী এই ধরণী।
বলো তুমি স্বচ্ছ দেশপ্রেমিক চেয়ারে বসে,
জবাব দিতে আছো রাজি, স্বদেশ ভালোবেসে?

তুমি এমপি, মন্ত্রী কিংবা মসনদের কর্ণধার,
সে কথা ভুলে হিসাব দাও তুমি সম্পদের ভার।
জনতার রক্ত ঘামে ঝরা, তোমার যে উপার্জ্ন
তার কতটুকু সত্যে ঘেরা, বলো তার হিসাব যেন।

যদি স্বচ্ছ ও সত্যবাদী হও ক্ষমতার তপ্ত রেখা,
তুমি রবে মৃত্যুঞ্জয়ী, প্রাণ ইতিহাসে লেখা।
জনতার মনে প্রশ্ন আজ, তুমি দুর্নীতিমুক্ত নাকি!
চেয়ারে বসেই হয়েগেছো দুর্নীতিবাজ তাই কি?

বুকের যদি পাটা থাকে, বলো তুমি স্বচ্ছ সূর্য- তারা,
বলো তুমি দুর্নীতিমুক্ত দেশপ্রেমিক স্বাধীন বসুন্ধরা।
হিসাব দাও, হিসাব দাও, ক্ষমতার আগে ও পরে,
জনতার মনে প্রশ্ন জাগে, এতো সম্পদ হয় কি করে?

ওগো চেয়ারের কর্ণধার, ওগো দেশমাতৃকার প্রিয়,
সম্পদের স্বচ্ছ হিসাব দিয়ে, জনতার ভালোবাসা নিও।
হে ক্ষমতা, শুনেছো কি তুমি? জনতা বলেছে চিৎকারে,
তুমি দুর্নীতিমুক্ত নও, ধ্বনি উঠেছে স্বদেশের ভিতরে।
----------------------------------------------------

লাইনচ্যুত মুক্তির ট্রেন

লাইনচ্যুত মুক্তির ট্রেন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

তারিখঃ ২১-০৮-২০২৫ ইং

স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

*************************

আজ যেন সত্যগ্রহের বিদায়- হে দীপালি,

এক শুন্যতার সম্মুখে স্বাধীন সত্ত্বার বাঙালি!

 

নম্র ভদ্র জ্ঞানী গুনি ধূসর পাতা-ঝরা গান,

আজ যেন কেউ ডাকে না ওদের দৃঢ় সম্মান।

অতন্দ্র নয়নে দিকে দিকে অসাধুদের শতদল,

তবু ওরা রাজ্যের কান্ডারী উগ্র শক্তি বাহুবল!

 

জাহেলী যুগের মন্ত্র ভেদিয়া ঝাঁপটে ধরেছে গর্দান,

এতো অশ্রুজল! এতো ব্যাথা তবু যেন নিশ্চুপ প্রাণ!

এক শুন্যতার সম্মুখে তিমির রাত্রি বিরহ-অথির,

এই স্বাধীন আকাশে পূর্ণিমার আলো নেই শুভ্রতর।

 

সেচ্ছায় জাতির দিপালীরা গুম হয়েগেছে অশ্রু-ভাঙা,

এ শুন্যতার বুকে এখন জাহেলী প্রজন্মের চক্ষু রাঙা।

মুক্তি এল না বুঝি স্বাধীনতার বুকে আর কোন দিন,

অসাধু শক্তিরা ঘিরে ধরেছে স্বাধীন বাংলার সিংহাসন।

 

স্বদেশ আজ নেতৃত্বের শুন্যতায় পথ চলেছে উদাসী!

দেশপ্রেমিক জ্ঞানী গুনিরা সুর তুলছে না আর বাঁশী।

ঝরে গেছে চেতনার ফুলগুলি লাল-সবুজের কানন,

নেতৃত্ত্বে আজ ঢুকেগেছে দেশদ্রোহীদের অগ্রাসী বুঁনন!

 

এক শুন্যতার সম্মুখে জাতি আজ ছুটেছে আগ্নেয়গিরি,

লাইনচ্যুত মুক্তির ট্রেন!কে আসবে এগিয়ে হাল ধরি?

---------------------------------------------

 

 


বিপ্লবী মন

 

বিপ্লবী মন 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
**************************

উচ্চ কণ্ঠে বল তোরা —
সত্যই মহিয়ান!
মিথ্যা ভাঙে, সত্য গড়ে,
বিপ্লবের উদ্যান!

সত্যপ্রাণ, বিপ্লবী মন,
চালাও অভিযান—
কল্লা ধরে ভাঙো শত্রু,
ভেঙে দাও গর্দান!

রক্তধারা উজান বেয়ে
ভাসাও মুক্তি-গান,
তুলে তোরা শ্লোগান এবার,
স্বাধীনতার প্রাণ!

চারিদিকে ষড়যন্ত্র,
দেশদ্রোহীর জাল—
চুপটি করে থাকবি নাকি
এ জাতির বিপদকাল?

আয়রে আয়, বুক উঁচিয়ে,
একাত্তরের গান,
তুলে তোরা ঝড়ের হাওয়া,
তীব্র, বেগবান!

ওরে বাঙালি, ওরে বীর,
আজকে হোক সম্বল—
লাল-সবুজের তলে দাঁড়া,
আগে চল, আগে চল!

--------------------------