বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

সেই ফুল তুমিই শুধু তুমিই

 সেই ফুল তুমিই শুধু তুমিই

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************
এই যে বাগান, অবারিত ঘাস, মুক্তির কলতান,
এখানেই একদিন বপন করেছিলে অজেয় প্রাণ।
তুমিহীন এই সাজানো বাগান আজ বড় ম্লান, মলিন;
তোমার রক্তে কেনা স্বাধীনতা, আমরা কি হতে পারি ঋণহীন?

মালি তুমি ছিলে বলেই, ফুটেছিল সাহসের রাঙা ফুল,
নইলে এ বাগান আজও থাকতো ঝড়ের কবলে আকুল।
আজ চারিদিকে কত জুইঁ-চ্যামিলী, কত চেনা-অচেনা হাসি,
আগাছারা সব জাঁকিয়ে বসেছে, বাজায় মিথ্যে বাঁশি।

মগডাল থেকে হারিয়েছে আজ প্রিয় সেই লাল গোলাপ,
জবাকে নিয়েই মত্ত সবাই, বাড়ছে কেবল বিলাপ।
কীট-পতঙ্গ আর হায়েনার দল ওত পাতে চারিপাশে,
বাগান ধ্বংসের নেশায় তারা বিষাক্ত ফণা হাসে।

ক্ষমা করো হে মহান মালি, পারিনি দিতে সম্মান,
তোমার ত্যাগেই পেয়েছি মোরা এ স্বাধীন পলি-প্রাণ।
তুমিই তো সেই অমর স্থপতি, অজর অবিনাশী,
সবুজ জমিনে রক্তজবা— তোমাকেই ভালোবাসি।

তুমিই এ দেশের ধ্রুবতারা, তুমিই স্বদেশের প্রতীক,
লাল-সবুজের পতাকায় আঁকা মুক্তির ধ্রুব দিক।
ফুল যদি হয় এ স্বাধীনতা, তবে সেই ফুল শুধু তুমিই,
আমাদের অন্তরে বেঁচে থাকা এক চিরঞ্জীব ভূমিই।
---------------------------------------------------------- 

Flora & Fauna


১৩-০৪-২০২৬

অভিশপ্ত হায়েনা

 অভিশপ্ত হায়েনা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
ওরে ও রক্ত-লোলুপ শ্বাপদ! ওরে ও কুটিল কালনাগিনী,
মুক্তির ছদ্মবেশে এসেছিস, চিনেছে তোরে এই ধরণী!
শোনরে পিশাচ, স্বদেশের এই পবিত্র মাটি রাঙাতে
বিষাক্ত নখরে হেনেছিস আঘাত, চেয়েছিস ইতিহাস ভাঙাতে!

মেটিকুলাস এক মরণ-নকশায় রুখিলি বজ্রকণ্ঠ,
তোর ক্ষমতার লোভে আজ লুপ্ত হলো হিতাহিত জ্ঞান-কাণ্ড!
মুছিতে চেয়েছিস শহীদের রক্তে লেখা সেই লাল ইতিহাস?
মা-বোনের ইজ্জত-অশ্রুর করলি রে তুই পরিহাস!

মণিহার ছিঁড়ে দলিয়াছিস তুই— একি তোর দম্ভের খেলা?
সোনার বাংলার ললাটে এঁকেছিস কলঙ্ক-কালিমা মেলা!
লুটতরাজ আর দুর্নীতির তুই অধীশ্বর মদমত্ত,
নিজের তহবিল ভরিতে বেচিলি জাতির সব সত্য!

আগামীর শিরে বিষ ঢেলে আজ বানালি তাদের বেয়াদব,
মবতন্ত্রের হোতা সেজে তুই করলি বিনাশী মহোৎসব!
লাগামহীন সেই অশ্বের মতো ধ্বংসের পথে ছুটিলি,
গুণীজনদের অপমানে আজ কী সুখের হাসি লুটিলি?

আদর্শ হানি, হিংসার বীজ বুনেছিস তুই তলে তলে,
ভয়তন্ত্রের মিনার গড়েছিস নির্দোষ মানুষের রক্ত-জলে!
জীবন্ত মানুষ পুড়ালি শমন! ছাড়িলি না কবরের মৃতদেহ,
তোর পৈশাচিক রোলার তলে রেহাই পায়নি আজ কেহ!

নিজের স্বার্থে ডাকিয়া আনিলি এক ঘোর অন্ধকার যুগ,
তোর লালসার বিষে নীল হলো আজ স্বদেশের অমল মুখ!
ক্ষমা নাহি দিবে এই বীর জাতি, শোনরে ওরে কাল-হায়েনা,
মহাকালের এই রণ-প্রাঙ্গণে তোর রক্ষা আর হবে না!
-----------------------------------------------------------


১৩-০৪-২০২৬

রুখো রে জল্লাদ!

 রুখো রে জল্লাদ!

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************
ওরে ও রক্ত-পিপাসু জল্লাদ! তোরে কে দিল এই হুকুম?
মানুষের বুকে ছুরি বসিয়ে—কাড়িস যে তার ঘুম!
বিধাতার বাণী—কোরআন মজিদ—করেছে এ হত্যা মানা,
তুই কোন ছার তুচ্ছ পতঙ্গ—মেলিস বিষাক্ত ডানা?

দল-মত-পথ মানুষের গড়া—নিজস্ব সে কালচার,
ভুল যদি করে—আছে তো আদালত, আছে ন্যায়বিচার।
তবে কেন আজ দিকে দিকে জাগে উগ্রবাদের প্রেত?
কার অধিকারে বিষিয়ে দিলি ভাই—মানবতার খেত!

কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে মুসলিম, কেবা খ্রিষ্টান অনুসারী—
ভুল কি শুদ্ধ—প্রভুর নয়নে সব আছে নজরদারি।
তোরও যে রক্ত, তাহারও সে রক্ত—একই বিধাতার দান,
তবে কেন করিস হিংস্র আক্রোশে—ভাইয়েরই রক্তপান?

ওরে ও শাসক! দেখিয়াও কেন অন্ধ সাজিস তুই?
উম্মাদ ওই ভণ্ডরা আজ—রক্তে রাঙালো ভুঁই!
মানবতা আজ খাঁচায় বন্দি—উগ্রতা হাতে নাচে,
এখনি রুখিয়া দে রে শাসক—যতটুকু প্রাণ বাঁচে।

রক্তের এই বঙ্গতলে—থামাও এ হাহাকার,
সাম্যের গান বেজে উঠুক—মোছাও এ অন্ধকার।
তুমিও মানুষ, সেও যে মানুষ—আমারও যে আছে প্রাণ,
একই উঠানে বসবে বিচার—যেদিন ডাকিবে মেহেরবান।

ধর্মের নামে হানাহানি নয়—গাও আজ মানুষের জয়,
সবার উপরে মানুষ সত্য—এই হোক বিশ্ব-পরিচয়!
--------------------------------------------------------


১৩-০৪-২০২৬

মানবতার চোখে অশ্রু

 মানবতার চোখে অশ্রু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************
ভূখণ্ড আজ হয়েছে স্বাধীন? ছিঁড়েছে কি শিকল?
তবে কেন শুনি দিকে দিকে ওই আর্তনাদ কলরোল?
রক্তের নদী সাঁতরে পেলাম যে মাটির অধিকার,
সেথা কেন আজ শকুনির দল চালায় অত্যাচার?
মানবতা আজ কারারুদ্ধ— শৃঙ্খলে হাহাকার!

দ্যাখো চেয়ে দ্যাখো, দিকে দিকে ওই পাষণ্ড দলবল,
চাঁদাবাজ আর সন্ত্রাসীদের দাপটে দেশ টলমল!
বীর দর্পে ওরা সংবদ্ধ, লুণ্ঠিত জনতার ঘাম,
শাসক! তুমি কি পাথর-প্রতিমা? জপো কার জয়নাম?

অপলক চোখে চেয়ে আছো শুধু, নড়ো না তো একচুল,
অশ্রু ঝরছে মানবিক চোখে— এ কি তবে মহভুল?
ক্ষমার অযোগ্য দাপটে ওদের আকাশ হয়েছে কালো,
লুটেরার হাতে বন্দী হয়েছে সত্যের মশাল-আলো!

নির্লোভ যারা, নিঃস্বার্থ যারা, বিলিয়ে দেয় যা আছে,
তারাও আজকে মুক্তি পায় না ওই হায়েনার কাছে।
সেবা করতেও মাশুল গোনে যে অভাগা স্বদেশ আমার,
তার চেয়ে বলো পরাধীনতা আর আছে কিবা ছার?

হে শাসক! শোনো, ধিক্কারে আজ প্রকম্পিত আসমান,
ব্যর্থতা তব ললাটে এঁকেছে কলঙ্ক-অভিমান!
লাগাম টেনে ধরো ওই পিশাচের, রুখো ঐ চাঁদাবাজ,
নতুবা ধুলোয় মিশে যাবে তব সিংহাসন আর তাজ।

মানবিক মানুষ হেরে গেলে তুমিও রবে না জয়ী,
ইতিহাস লিখবে— তুমিই ছিলে অধর্মের সহযোগী!
জাগো রে শাসক! রুদ্র রোষে হানো ঐ বজ্র-বাণ,
নইলে ডুবিবে তরী, টুটিবে দেশের মান!
------------------------------------------------------------------


১২-০৪-২০২৬

রক্তে লেখা সংবিধান

 রক্তে লেখা সংবিধান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
----------------------------------------------------------------
কারার ওই লৌহ-কপাট ভাঙবি কি আজ তবে?
ত্রিশ লক্ষ শহীদের খুনে আবার কি হোলি হবে?
যাদের হাড়ের কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে তোর এই গদি,
তাদেরই রক্তে লেখা দলিলে হাত দিস তুই যদি—

তবে জেনে রাখ রে অন্ধ শাসক, দিন ঘনিয়ে এসেছে তোর,
তোর মস্তকে আজ বাজছে প্রলয়, ভাঙছে রে নিশিভোর!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র চত্বরে যখন জ্বলে আগুন,
শহীদের রক্তে লেখা সংবিধানে লাগে ঘাতকের ফাগুন—

তখন তোর ধমনীতে কি একাত্তরের চেতনা মরে গেছে?
নাকি পূর্বসূরীর বীরত্বটুকু কেবল ইতিহাসেই আছে?
তোর আইন কি তবে আজ নপুংসক? বিচার কি আজ কানা?
দেশদ্রোহীদের উগ্র থাবায় দেশটা আজ ছটফটানা!

শোন রে ভণ্ড! শোন রে পিশাচ! শোন রে গদিনশীন!
জনতার কাঠগড়ায় তোর বিচার হবেই কোনো একদিন।
শহীদ জননীর চোখের জল আর বোনের হরণ করা ইজ্জত,
সবই কি আজ নিলামে তুললি? এই কি তোর হিম্মত?

উম্মুক্ত বাতাসে যারা ছড়ায় বিষাক্ত নিশ্বাস,
তাদের কেন করিস লালন? ছিঃ! এই কি তোর বিশ্বাস?
আমরা অদম্য প্রহরী, আমরা জাগ্রত বিনিদ্র রাতি,
তোর জুলুমের আঁধারে আমরাই জ্বলন্ত মশাল-বাতি!

নজরুলের তূর্য হাতে আমরা ছিনিয়ে নেব অধিকার,
রক্তে লেখা এই সংবিধান— মুছবে না কোনো পাপিষ্ঠ দুরাচার।
মাথা নত করার দিন শেষ! এবার হবে রণ-হুঙ্কার,
দেশদ্রোহীদের চূর্ণ করতে জেগেছে আজ রুদ্র-অবতার!
------------------------------------------------------------------------------ 

Books & Literature


১২-০৪-২০২৬

সেদিন পালাবি কোথায়?

 সেদিন পালাবি কোথায়?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
কার আছে হেন হিম্মৎ? —কে আমায় রুধিবে আজ?
কারাগার-কারা-প্রাচীর ভাঙিয়া আসিবো করিয়া ব্যাজ!
এই সে স্বদেশ, এই স্বাধীনতা, এই মাটি মোর প্রাণ—
মোর শোণিতে যে রঞ্জিত হলো বিজয়-অভিযান!

এই নদী-নালা, এই বনানী, এই নীলাকাশ মোর,
কে করিবে বন্ধী আমায়? —ঘটাবে প্রলয়-ঘোর?
আমি জনতার, আমি গণতন্ত্রের, আমি লাল-সবুজের সেনা,
সোনার বাংলার গান গাহিবার পথ কি কারো অচেনা?

মুক্তিযোদ্ধার বিজয়-গাথা কণ্ঠে আমার বাজে,
কে আমায় শৃঙ্খল পরাবে মিথ্যে মোহের সাজে?
তোর হিংসার দাবানল আজি তোরেই করিবে গ্রাস,
আমার চেতনা অপরাজেয়— ধ্রুব সত্যের আশ!

ষড়যন্ত্রের ওই কালো থাবা ভেদ করে আসিবো ফিরে,
উড়াবো আবার রক্ত-নিশান আকাশের নীলে ঘিরে!
অন্যায়ের ওই দুর্গ চূর্ণ হইবে রে ধূলিপটে—
আমার স্লোগান জয়ী হবে ফের মুক্তির এই তটে।

সেদিন ওরে ও কাপুরুষ দল! লুকাবি মুখটি হায়—
মোর আগ্নেয়-জিজ্ঞাসা সম— সেদিন পালাবি কোথায়?
-------------------------------------------- 

E-Books


০৯-০৪-২০২৬

হান্নান শাহ স্মরণে

  কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর। *********************************** ওরে ও কাপাসিয়ার মাটি , জাগো রে আজ জ...