বৃহস্পতিবার, মে ০৭, ২০২৬

অন্তহীন আশীর্বাদ

 অন্তহীন আশীর্বাদ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
শুভ লগনে জানাই আজি হৃদয়ের প্রার্থনা,
নাজমুল করিম ও লিপির ভুবনে রহুক না কোনো যাতনা।

স্নেহ-সুধায় ভরিয়া উঠুক তোমাদের গৃহখানি,
সুখ-সম্পদ বহিয়া আনুক প্রভুর আশিস-বাণী।

মশিউর রহমান নাঈম— সে তো প্রাণের নবীন আলো,
নওশীন তাবাছ্ছুম লুনা— স্নিগ্ধ শশধর সম ভালো।

পিতা-মাতার ছায়ার তলে বাড়ুক ওরা দুইজনে,
চিরকাল অম্লান থাকুক প্রেম তোমাদের এই মনে।

সংসারের এই তরীখানি চলুক শান্ত সমীরণে,
বিপদ আসিলে ধৈর্যের বলে থেকো সবে এক সনে।

প্রভুর চরণে এই মিনতি, ভরে দাও তাঁদের ঘর—
শান্তি লহরী বহুক সতত, হউক জীবন সুন্দর।
-------------------------------------------------------------------


২৯-০৪-২০২৬

রক্ত-শপথের মে দিবস

 রক্ত-শপথের মে দিবস

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
জাগো রে মজুর, ভাঙো রে শিকল, প্রলয়-বিষাণ বাজে—
পঞ্জিকার ওই রাঙানো ধোঁকায় ভুলিস নে আর কাজে!
রক্তে তোদের ইতিহাস লেখা, রক্তেই জ্বলে আলো,
শোষকের ওই দম্ভের পুরী এখনই পুড়িয়ে কালো—
কর রে চূর্ণ, কর রে দহন—জাগো সর্বহারা দল!

আট ঘণ্টার স্বপ্ন তোদের ফাইল-চাপা আজ মরে,
মালিকের বিলাস-অট্টালিকা তোদেরই কঙ্কাল গরে!
পেটে খিদের আগুন, চোখেতে শ্রাবণ, হাতুড়ি কি তবে মিছে?
কেন পড়ে আছিস লাঞ্ছিত হয়ে পশুর অধম নিচে?
ওরে ও কুলি, ওরে ও কামার, ধর রে কঠিন মুঠ,
লুটেরা তখত ধূলিসাৎ কর, হোক সব ছারখাট!

চাকা বন্ধ, কারখানা স্তব্ধ, শ্রমের ঘাম যে রক্ত,
রাষ্ট্র-মালিকের সন্ধি ভেঙে আজ হ হরে শক্ত!
বেতন বন্ধ? অন্ন জুটবে না? ঘরে মরে প্রিয়জন?
তবে হোক তবে ফের শিকাগোর মতো রক্ত-প্লাবন রণ!

এই মে দিবসে শপথ নিলাম—মরি কিম্বা বাঁচি,
মালিকের পায়ে দলিত হতে কি আমরা জন্মেছি?
সাম্যের গান, সাম্যের দিন আসুক আজিকার ঝড়ে,
শ্রমিক-রাজ কায়েম হবেই—শপথ বজ্রস্বরে!
জাগো রে মজুর, ভাঙো রে শিকল, প্রলয়-বিষাণ বাজে—
পঞ্জিকার ওই রাঙানো ধোঁকায় ভুলিস নে আর কাজে!
-------------------------------------------------------------------


২৯-০৪-২০২৬

চাকুরী আছে বেতন নেই

 চাকুরী আছে বেতন নেই

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************
মুমূর্ষু ঐ কল-কারখানায় স্তব্ধ আজ রে ভাই,
চাকা ঘোরে না, তৈল ফুরালো— অন্ন যে আর নাই!
রক্ত চোষা ঐ যন্ত্রদানব হাঁপায় ধুঁকিয়া ধুঁকিয়া,
নিভৃত কোণে শ্রমিক-মালিক মরছে রে বুক ফাটিয়া!

হাহাকার ওঠে গগন ভেদিয়া, পেটে জ্বলে ক্ষুধা-আগুন,
রিক্ত হস্তে ঘরে ফিরে যায়— এ কেমন কাল-ফাল্গুন?
চাকুরী আছে, বেতন নাইরে— এ কী বিষম পরিহাস!
উপোস করিয়া কাটে নিশি আজ, দীর্ঘ ওষ্ঠে নিশ্বাস।

জীবন-তরী মাঝ-দরিয়ায়, হাল ভেঙে হলো চুর,
অসহায় আজ সেনাপতি সব, ভাঙলো সুখের সুর!
যৌবন শেষে প্রৌঢ় আজিকে অশ্রু মুছিছে বসি,
ভাগ্যাকাশে কাল-বোশেখীর মেঘ নেমেছে রে খসি!

ওরে কান্ডারী! তন্দ্রা কি তবে ভাঙিবে না তব আজো?
জনতার বুকে হাহাকার শোনো, কোন্ সিংহাসনে সাজো?
মালিক আজিকে দেউলিয়া পথে, চাকুরেরা দিশেহারা,
বেতনহীন এই বন্দী জীবনে তিলে তিলে মরে তারা।

শৃঙ্খল ভাঙো, অন্ন জোগাও— জাগো রে ভাগ্যহত,
রক্ত নিঙাড়ি বেতন চাহো রে— হইও না আর নত!
-------------------------------------------------


২৮-০৪-২০২৬

স্ব-ঘোষিত ভিভিআইপি

 স্ব-ঘোষিত ভিভিআইপি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************
ছিঃ ছিঃ হে কান্ডারী, একি তোমার সাজ!
বৈষম্য ঘুচাতে এসে নিজেই আজ ভিভিআইপি?
জনতার কাতারে যে জন ছিল কাল ভোরে,
আজ সে কেন নিরাপত্তার কঠিন খাঁচায় বন্দি?
লজ্জা আজ জাতির তরে, লজ্জা তোমার তরে—
মুক্তির দূত হয়ে আজ কেন পালাও মবের ডরে?

তুমি বলেছিলে মুক্তি আসবে, ঘুচবে সব ভেদাভেদ,
আজ কেন তবে তোমার তরে বিশেষ আইনের খেদ?
SSF-এর ঘেরাটোপে কিসের এত ভয়?
দেশদ্রোহী না চোর তুমি—জাতি আজ প্রশ্ন রয়।
ভাল যদি বেসে থাকো, জনতাই দিত প্রাণ—
তবে কেন জনতার মাঝেই আজ তোমার সম্মানে টান?

মব-তন্ত্রের জনক তুমি, আজ কি তবে মবকেই ডর?
যাদের কাধে চড়ে এলে, আজ তারাই কি তবে পর?
স্বার্থপরের মতো আজ নিজের নিরাপত্তা ভাবো,
জনতা তবে কোথায় যাবে? কোন সে আইনের দ্বারে রবো?
একই দেশে দুই আইন, একি তোমার নতুন বন্দোবস্ত?
বিশ্বাসঘাতকতার এই দহনে, জাতি আজ অতিষ্ঠ।

কান্ডারী তুমি পথ হারালে, হারিয়ে গেলে মোহে,
বিপ্লব আজ কাঁদে তোমার ক্ষমতারই দ্রোহে।
বিলাসী নিরাপত্তার বেষ্টনীতে যে সুখ তুমি পাও—
জেনে রেখো, ইতিহাস কভু ক্ষমা করে না স্বার্থপরের রাও।

নিজেরে আজ বন্দি করলে নিরাপত্তার বলয়ে,
মুক্তির সূর্য ডুবল আবার স্বার্থের এই প্রলয়ে।
বৈষম্যহীন আগামীর স্বপ্ন ছিল আমাদের বিশ্বাসে—
ছিঃ! সেই বিশ্বাস আজ বিলীন তোমার এই স্বঘোষিত পদমর্যাদায় আর দীর্ঘশ্বাসে।

ছিঃ ছিঃ হে কান্ডারী!
লজ্জা তোমার, লজ্জা এ জাতির।
একই দেশে দুই আইন—একই কেন এই বৈষম্য?
----------------------------------------------------------------


২৮-০৪-২০২৬

পথ হারাচ্ছে বাংলাদেশ

 পথ হারাচ্ছে বাংলাদেশ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর
-----------------------------------------------
ছিঁড়ে ফেলো আজ ছদ্মবেশীর মেকি দেশপ্রেমের জাল,
রক্তে রাঙাও আবার তুমি এই বাংলার আকাল।
মীরজাফরের উত্তরসূরি গদিতে আজ বসে,
দেশটা আজ যায় রসাতলে শকুনের ওই গ্রাসে।
জাগো নবীন, ধরো তূর্য, তোলো হুঙ্কার—
পথ হারাবে না বাংলাদেশ, ঘুচাও অন্ধকার!

লাল-সবুজের বুকে আজ বিষাক্ত দংশন,
ভণ্ড নেতার চাটুকারিতায় চলছে যে লুণ্ঠন।
সোনার বাংলা কাঁদছে নিভৃতে, তুমি কি তা শোনো না?
দেশপ্রেম কি আজ শুধু রাজনীতির ছলনা?
অর্থ-লোভী কান্ডারী আজ বিক্রি করে দেশ—
রুখে দাঁড়াও এবার তুমি, করো সব নিঃশেষ!

গিরগিটির ওই রঙ বদলানো আমরা চিনি সব,
জনতা কি আজ ভুললো তাদের দ্রোহের কলরব?
হুজুগে মাতে উগ্রবাদে অন্ধ মোহের ভিড়ে,
অধিকার আজ লুট হয়ে যায়, তবুও আছ কি নীড়ে?

বিদ্রোহ হোক রন্ধ্রে রন্ধ্রে, স্পন্দনে হোক জয়,
মিথ্যার ওই কেল্লা আজ করবো মোরা ক্ষয়।
বিশ্বাঘাতক বিভীষণদের চিনে নাও আজ আগে,
দেশের আকাশ জ্বলবে আবার তোমার অনুরাগে।
তুমি না জাগলে বাংলাদেশটা হারাবে তার পথ—
শপথ নাও আজ ভেঙে চুরমার করবে দম্ভের রথ!

মারো তালি দাও গালি ওই হায়েনাদের মুখে,
দেশের মায়া ধরো তুমি অকম্পিত বুকে।
রক্ত দিয়েই লিখেছি নাম, রক্ত দিয়েই রাখবো,
বাংলাদেশকে কোনো দালালের হাতে না সঁপিবো।
তুমিই বিপ্লব, তুমিই আগুন, তুমিই শেষ আশা—
জাগো বীর, দেখাও এবার তোমার ভালোবাসার ভাষা!
-----------------------------------------------------------


২৮-০৪-২০২৬

কাপাসিয়ায় রেলপথ চাই

 কাপাসিয়ায় রেলপথ চাই

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
-------------------------------------------------
কাপাসিয়ায় রেলপথ চাই, এই আমাদের দাবি,
উন্নয়নের তোরণ খুলতে এ এক অনন্য চাবি।
বঙ্গতাজ তাজউদ্দীনের এই পুণ্য জন্মভূমি,
স্বাধীনতার ইতিহাসে যাঁর উচ্চ মস্তক চুমি।

ফকির মঞ্জু শাহ আর ফকির সাহাবউদ্দিনের ত্যাগ,
এই মাটির প্রতি পরতে মিশে আছে অনুরাগের দাগ।
ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ’র সাহসী সেই বীরত্বগাথা,
কাপাসিয়ার মানচিত্রে যা লিখেছে গৌরবময় কথা।

অসংখ্য সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা, যাঁদের রক্তে কেনা দেশ,
তাঁদের স্মৃতিধন্য জনপদে কেন যাতায়াতের ক্লেশ?
শীতলক্ষ্যার পাড়ে পাড়ে আজ আর্তনাদ শোনা যায়,
উন্নয়নের রেলগাড়িটি কেন অন্য পথে ধায়?

কৃষক-শ্রমিক-ব্যবসায়ী আজ পথ চেয়ে রয় বসে,
অর্থনীতির চাকা ঘুরবে রেলের চাকার ঘর্ষে।
সাশ্রয় হবে সময়-অর্থ, ঘুচবে পথের দুখ,
রেলের বাঁশিতে হাসবে আবার কাপাসিয়াবাসীর মুখ।

শোনো ওরে শাসনকর্তা, শোনো ওরে রাষ্ট্রের পিতা—
কাপাসিয়ার এই বীর জনতা নোয়ায় না কভু মাথা!
রক্ত দিয়ে দেশ গড়েছি, দাবি কি পাব না তবে?
কাপাসিয়ায় রেলপথ এবার দিতেই—দিতেই হবে!

হে কর্তৃপক্ষ, পূর্ণ করো এই গণমানুষের আশ,
রেলপথে যুক্ত হোক আমাদের বীর কাপাসিয়া বাস।
------------------------------------------------------------------------------------


২৮-০৪-২০২৬

হে সংবিধান, তুমি কার?

 হে সংবিধান, তুমি কার?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************
ওরে ও রক্ত-পিপাসু দল!
তোরা ছিঁড়েছিস যেথা পাতার পরে পাতা—
সেথা জনম জনম গুমরে কাঁদিছে শোষিতের ভাগ্যদাতা!
আমি সুধাই তোমারে হে সংবিধান— তুমি কি গলার মালা?
নাকি শক্তের পায়ে নুয়ে পড়া এক লাঞ্ছিত পাঠশালা?

তুমি কার তরে? তুমি জনতার নাকি ওই গদি-পাগলের দলে?
কেন নিরপেক্ষ তোমার কলম শাসকের পদতলে?
যেথা রক্তে ভেজা অক্ষরের ছিল সাম্যের জয়গান,
সেথা ক্ষমতার অতি-লোভী কাঁচি হানিছে চরম বাণ!

তুমি কেন আজ ব্যবহৃত হও দাবার ঘুঁটির মতো?
কেন শাসকের অনুকূল ছাড়া বাক্য তোমার ক্ষত?
ওরে, স্বাধীনতা মানে তো নয় শুধু এক মায়াবী কুহক-জাল,
লাল-সবুজের বুকে কেন আজ শৃঙ্খল মহাকাল?

তোমার কাব্যে গোলাপ ফুটেছে, জুঁই-চামেলী আর জবা,
তবু চর্চায় কেন শাসকের বেশে শকুনিদেরই সভা?
তুমি জাতির আলো, তুমি গাইডলাইন, মুক্তির ধ্রুবতারা—
তবে ভিন্নমতের তরে কেন আজ তুমি অন্ধ ও দিশাহারা?

কোথায় স্থপতি? ঘোষক কোথায়? প্রণেতার দল কই?
কেন শাসকের রক্ত-চক্ষু মুছে দেয় নাম সই?
ওরে ও ভন্ড ওরে পাষাণ!
সংবিধান কি দাসের লেখন? শাসকের ফরমান?

তুমি নিরপেক্ষ তলোয়ার হও— ছেঁটে দাও অনাচার,
ক্ষমতার নয়, জনতার হোক শেষ হাসিটুকু আর।
জেগে ওঠো আজ হে সংবিধান, তুমি অগ্নি-গিরির দাহ—
শাসক ভুলুক দম্ভ তাহার, থামুক রক্ত-প্রবাহ!
------------------------------------------------


২৭-০৪-২০২৬

রক্ত-চণ্ডাল

 রক্ত-চণ্ডাল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর
**************************************
জাগো রে নবীন! জাগো রে তরুণ! রক্তে বাজাও ডঙ্কা,
শুনো ঐ শোনো পিশাচের হাসি, জাগে রে মনেতে শঙ্কা!
ওরা কি মানুষ? ওরা যে কবন্ধ, নরকের কীট-ছায়া,
পূর্বসূরীর বিষ-রক্তে গড়া ওই কুৎসিত কায়া।

যুগান্তরের বিশ্বাসঘাতক—রুধিরে ওদের বিষ,
লাল-সবুজের প্রান্তরে হানে কালনাগিনীর শিস!
ওরা শকুনের জাত, ওরা আজো এই বাংলার মাটি চায় না,
রবীন্দ্রনাথের সেই অমর রাগিণী হৃদয়ে তো ওদের পায় না!

'সোনার বাংলা' গাইতে যাদের ওষ্ঠেতে ফোটে ফেনা,
ওরা যে আদিম মীরজাফরের উত্তরসূরী চেনা।
স্বাধীনতার টুটি চেপে ধরে ঘাতক-প্রেতাত্মার দল,
ওরা মুনাফেক, ওরা ছদ্মবেশী, অন্তরে হলাহল!

দুধ-কলা দিয়ে বিষাক্ত সাপে কেন যে পুষিছে জাতি?
ওরা যে নিভাতে চায় আমাদের ওই মুক্তির দিনরাতি।
সাবধান জাতি! সাবধান ওহে একাত্তরের সেনা,
শত্রুর ওই রক্ত-তিলক আজও কি তোমার চেনা?

মুক্তিযুদ্ধ মানে না যারা, মানচিত্রকে যারা ঘৃণে—
নবীণ প্রজন্ম, তোলো আজ তূর্য, চিনে রাখো আজ দিনে!
ওরা বিষধরী, ওরা অবিশ্বাসী, ওরা পঙ্কিল সাপ,
ওদের ক্ষমা করা মানেই হলো— ইতিহাসের অভিশাপ।

বজ্রকণ্ঠে গর্জে ওঠো— হে বাংলার নব প্রাণ,
ধুয়ে দাও এই পবিত্র ভূমি, হোক কলঙ্ক-অবসান!
------------------------------------------------------


২৭-০৪-২০২৬

আবার হয়েছে সময় হে জনতা

 আবার হয়েছে সময় হে জনতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************
আবার হয়েছে সময় জনতা— জাগো!
বুকের ভেতরে দ্রোহের আগুন মাগো।
বজ্রকণ্ঠে বলো রে সবারে আজ,
এদেশ তোদের, নেই কোনোখানে লাজ।

লক্ষ শহীদের রক্তবিন্দু দিয়ে—
এ মাটি কিনেছি নিজের জীবন নিয়ে!
লাল-সবুজের চাদর বিছানো গাঁয়,
শকুনের নখ লেগে আছে আজও তায়।

মায়ের আঁচলে নরপিশাচের দাগ—
দেখে কি রে তোর জ্বলে না বুকের আগ?
পদ্মা, মেঘনা, যমুনার নীল জল—
অশ্রু ভাসায়, করে যায় টলোমল।

দেশের টুঁটি যে চেপে ধরে আছে শক্ত,
শত্রুর চারা— চোষে আমাদের রক্ত!
স্বাধীনতা-বিরোধী ওরে সেই দেশদ্রোহী,
তোদের বিনাশে আমরা যে বিদ্রোহী।

রক্ষা কর তোরা জননী জন্মভূমিকে,
মুছে দে কালিমা ললাটের ওই সিথিকে।
দূর কর যত ফ্যাসিষ্ট, স্বৈরাচার,
ইতিহাস নিয়ে যারা করে কাবার।

দুর্নীতিবাজ, ছদ্মবেশী ওই বীর—
লাথি মেরে আজ ভেঙে দে তাদের শির!
অধিকার তোর, বুঝে নে রে আজ তবে,
ভিক্ষায় নয়, ছিনিয়ে নিতেই হবে।

আবার হয়েছে সময় হে জনতা,
নিজের হাতেই লেখো আগামীর কথা।
তোর স্বাধীনতা— তোকে রাখতেই হবে,
বিপ্লব হোক ঘরে ঘরে, উৎসবে।
--------------------------------------------


২৭-০৪-২০২৬

আমার আশঙ্কা

 আমার আশঙ্কা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************
শুনো হে জাতি, শুনো হে স্বদেশ! সত্যের এই দুর্দিনে,
জ্ঞানী-গুণী আজ অপমানিত লুণ্ঠিত এই অঙ্গনে।

যদি সম্মানী পায় লাঞ্ছনা আর বিদ্বান পায় ভয়,
তবে নিশ্চিত জেনো হে জাতি— পথের দিশা হারাবে নিশ্চয়!
বসবে না আর যোগ্য কেইবা রাষ্ট্রের এই মসনদে,
চাইবে না কেউ কান্ডারী হতে সমাজের এই মহাবিপদে।

দিকে দিকে আজ চলছে একি এ অপদস্তের মহোৎসব?
বিবেক আজ নিথর-নিথর, ক্ষমতা কেন নীরব?
রাষ্ট্রের রন্ধ্রে জেগেছে আজ কোন ভয়ঙ্কর বিষধর?
প্রতিদিন বলি হচ্ছে জ্ঞানীরা, হচ্ছে শিক্ষক সকাতর।

হিংসা আর প্রতিহিংসার চলছে বিষাক্ত প্রতিযোগিতা,
কে কাকে দেবে কত গ্লানি, কে ছিঁড়বে কার মানচিত্রের পাতা!
অশুভ শক্তির কালো ছায়ায় নাগরিক অধিকার আজ ধূলিসাৎ,
মানবিকতা আজ ডুকরে কাঁদে, নেই যে কারো বজ্রাঘাত!

ন্যায়বিচার যে রুদ্ধ দ্বারে, কবির কলম আজ স্তব্ধ,
মুক্তচিন্তা আজ শৃঙ্খলিত, স্বাধীনতা আজ এক শব্দ!
জনতার মনে বিভীষিকা আর দিকে দিকে মব-বাদ,
স্বৈরাচারী স্টিমরোলার দিচ্ছে যে কেবলই বিষাদ।

পতাকাটা শুধু রয়ে গেছে আজ লাল আর সবুজে আঁকা,
পরাধীন হয়ে গুমরে মরছে জননী আর স্বত্বা ঢাকা।
এই যদি হয় তন্ত্র-মন্ত্র, এই যদি হয় শেষ—
তবে অন্ধকারে পথ হারিয়ে হারাবে বাংলাদেশ।

আমার মনে বড় ভয় জাগে, জাগে দারুণ এক আশঙ্কা,
যোগ্যবিহীন এ জাতি বুঝিবা— হারাবে তার সব লঙ্কা!
----------------------------------------------------------

বাবা দিবসের প্রার্থনা (গান)

  কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর **************************************** তোমাকে নিয়ে কবিতা লিখতে বসলে কলম...