বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৯, ২০২৬

ওরা এখনো শোধায়নি

 ওরা এখনো শোধায়নি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************
আমি এখনো শুনি ধ্বংসের আর্তনাদ,
মায়ের চিৎকারে কেঁপে ওঠে রাতের প্রহরাদ।
আমি এখনো দেখি লুট হওয়া ঘর-বাড়ি,
আগুন জ্বলছে মুক্তিকামী জনতার বুকের তাড়ি।

শুকুনের থাবা কেটে গেছে সবুজের বুক,
সারি সারি লাশ ভেসে যায় নদী-খাল-বিলে ধ্বুক।
বুলেট বিদ্ধ মুক্তিযোদ্ধার ক্ষতবিক্ষত দেহ,
বুদ্ধিজীবীর নীরব দেহে বাজে প্রতিশোধের রণধ্বনি।

দেশবিরোধীরা গড়েছিল শত্রুর কুটকথা,
হানাদার বাহিনী ছিল তাদের আঁধারের স্বপ্নপথা।
স্বাধীনতা চাইনি তারা, বাংলার রক্তে মাখা পথ,
ওরা এখনো আছে, ছদ্মবেশী, মুনাফেক, ঘাতক হত্যার তৃষ্ণা।

হে লাল-সবুজ চেতনা! সতর্ক থাকো,
ওরা গুপ্তচর, বিশ্বাসঘাতক, বিদ্রোহের শত্রু অনন্তকাল।
ওদের রক্ত এখনো শোধায়নি,
প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে উঠুক গ্রাম-নগর-প্রান্ত।

প্রাণের প্রতিটা তেজে, রক্তের প্রতিটা ফোঁটায়,
বিপ্লবের সুরে বাজুক মুক্তির গান, অসীম তেজে ভাসা।
ওদের অস্তিত্বের ছায়া মুছে দিন ইতিহাসের পাতায়,
মুক্ত বাংলার চেতনায় উদ্ভাসিত হোক নতুন ভোরের আলো।

স্বাধীনতার পতাকা উড়ুক সর্বত্র, শত্রুর চোখে ভয়,
বিজয়ের কণ্ঠে প্রতিটি শহর, বনে, নদীতে জাগুক জয়।
মুক্তিকামী বাঙালির হৃদয় থাকবে না নিস্তব্ধ,
প্রতিশোধের সুরে বাজুক স্বাধীনতার বন্দুকের ঝলকধ্বনি।
------------------------------------


২৯-০১-২০২৬স

তুমিও কিছু বলতে চাও

 তুমিও কিছু বলতে চাও

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান েমাল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

হে অবুঝ শিশু, বিদীর্ণ ভোরের গান,
পিতার বুকে জমে থাকা আগুন-অভিমান,
মায়ের ছিন্ন জীবনের শেষ জ্বলন্ত দীপ,
জন্মেই তুমি শিখেছো বেদনার গভীর শীপ।

যেদিন তুমি এলে ধরার রক্ত-মাখা তীরে,
সেদিন মমতা হার মানল বিধির তীক্ষ্ণ শিরে,
মায়ের বুকের দুধ রইল অপূর্ণ ঋণ,
শৈশবেই তোমার কপালে আঁকা হলো শোকচিহ্ন।

পৃথিবী! কেন নিলে না কোলে তুলে আজ?
শিশু কি দায়—বল! কোন অপরাধে সাজ?
আর মা—হাসপাতালের সাদা কাঠগড়ায়,
মৃত্যুর সাথে লড়েছে বজ্র-কান্নার ছায়ায়।

একদিকে তুমি—নবজাত আগ্নেয় কুঁড়ি,
অন্যদিকে মা—ঝরে পড়া শেষ বিজড়ি,
বাবা ছুটেছে ছিন্ন-পাখার ঝড়ো প্রাণ,
একবার শিশুরে, একবার মৃত্যুর সমাধান।

শেষে মাও অচল হল—নিভে গেল শরীরের প্রদীপ,
তুমি রইলে বুকে নিয়ে অগ্নি-নীরব শীপ,
বেঁচে থাকা তখন শুধু শ্বাসের দায়,
মায়ের অভাবে প্রতিটি দিন বিদ্রোহ-প্রায়।

দাদীর কাঁপা বুকে পেলি শেষ আশ্রয়,
নানীর আঁচলে জমল অশ্রু-অগ্নিক্ষয়,
প্রকৃতির দুধে বড় হলে আগুন-শিশু তুমি,
তবু মায়ের শূন্যতা পূরণ হয়—বলো, ভূমি?

মা থেকেও না থাকার মতো দাঁড়াল সামনে,
একটি নাম, একটি ছবি—নিস্তব্ধ ফাঁদে,
কোল নেই, আদর নেই, শুধু জ্বলন্ত প্রশ্ন,
“মা” শব্দটি কেন হলো এত নিষ্ঠুর দর্শন?

তবু তুমি বেঁচে আছো—রবের হুকুমে,
পিতার রক্ত-ঘামে, দাদী-নানীর বুকে,
নীরব তুমি, কিন্তু নীরবতা নয় হার,
এ নীরবতা একদিন হবে আগুনের উচ্চারণ-ভার।

তুমি তাকাও অপলক আকাশের পানে,
চোখের প্রশ্ন ঝড় তোলে নীল বিধানে,
পৃথিবীকে কিছু বলতে চাও—বিদ্রোহে,
হয়তো রবকেও—অভিযোগ নয়, শপথে।

অভিমান জমে থাকে চোখের কোণে আগুন,
ঝরে না—কারণ তুমি দুর্বল নও, তুমি সন্তান,
হে অবুঝ শিশু, তুমিও কিছু বলতে চাও,
তোমার নীরবতাই একদিন
সবচেয়ে বজ্রকণ্ঠ আর্তনাদ হয়ে ওঠাও।
------------------------------------------------


২৯-০১-২০২৬

তোমার শুন্যতা অনুভব করি

 তোমার শুন্যতা অনুভব করি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************
জনাব তাজউদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা,
তোমার মৃত্যুতে আজ ভাষা কাঁপে,
শব্দেরা দাঁড়িয়ে থাকে—
কোনটি আগে কাঁদবে বুঝে ওঠে না।

মিষ্টি ভাষার যে মানুষটি
হাসিতে ভরিয়ে দিতো আঙিনা,
আজ সে হাসি থেমে গেছে
নিস্তব্ধ কবরের গভীর নীরবতায়।

পরউপকার ছিল তোমার শিরা-উপশিরায়,
দানবীর হৃদয় ছিল উন্মুক্ত আকাশ,
আজ সেই আকাশে শুধু শূন্যতা—
একটি নক্ষত্র ঝরে পড়েছে অকালে।

মেধাবী মন, উদ্দ্যোক্তা প্রাণ,
শিক্ষানুরাগী দীপ্ত বাতি,
রাওনাট গ্রামের গর্ব তুমি—
আজ গ্রাম জুড়ে শুধু দীর্ঘশ্বাস।

স্বপ্ন দেখাতে তুমি জানাতে,
অন্যের চোখে আলো জ্বালাতে,
কিন্তু নিজের জীবন-স্বপ্ন
অসমাপ্ত রেখেই চলে গেলে হে বড়ভাই।

তুমি ছিলে শীতল ছায়া,
দুপুরের রোদে আশ্রয়ের বৃক্ষ,
আজ সে ছায়া নেই—
সূর্য আরও তীব্র, বুক আরও পোড়া।

তোমার মৃত্যুতে বুঝেছি,
শূন্যতা শুধু অনুপস্থিতি নয়,
শূন্যতা হলো—
প্রতিদিন কাউকে খুঁজে না পাওয়া।

তোমার অবসানে জীবনের পাতায়
একটি অধ্যায় হঠাৎ ছিঁড়ে গেল,
পুরণ হবে না সে শূন্যতা কখনো,
রয়ে যাবে আজীবন অসম্পূর্ণ গল্প।

হে আল্লাহ,
তোমার দরবারে আজ অশ্রুসিক্ত দোয়া,
জনাব তাজউদ্দিন আহম্মেদ মোল্লাকে
মাখফেরাতে মুড়িয়ে দাও, জান্নাত দাও।

তোমার মৃত্যুতে কাঁদে হৃদয়,
কাঁদে স্মৃতি, কাঁদে প্রতিটি স্বপ্ন,
তবু বিশ্বাস রাখি—
তুমি বেঁচে আছো আমাদের ভালোবাসায়।

তোমার শুন্যতা অনুভব করি,
প্রতিটি শ্বাসে, প্রতিটি প্রার্থনায়—
কারণ তুমি চলে গেছো,
কিন্তু হৃদয় থেকে যাওনি কখনো।
------------------------------------------


২৯-০১-২০২৬

আমি গাই গণতন্ত্রের গান

 আমি গাই গণতন্ত্রের গান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************
আমি গাই, আমি গাই, গণতন্ত্রের গান,
জনতার হাতে ক্ষমতার চাবি আছে প্রাণ।
ভয় নয়, আশায় বাঁচে মানুষ—
সেই দেশে হয় গণতন্ত্র সত্যিকার মান।

শাসক নয় প্রভু, প্রতিনিধি সে জান,
ভোটের মুঠোয় গড়ে রাজপথের বান।
বাক্‌স্বাধীনতার সুরে ভেসে যায় দিন,
ভিন্নমত শত্রু নয়, আশার আলোর বিন্দু বিন।

আইনের চোখে সবাই সমান—
রাজা-প্রজা একসাথে দাঁড়ান।
ন্যায় ও মানবতা, সত্যের দীপ জ্বালাই,
জবাবদিহিতার আলোয় কলুষ সব তাড়াই।

ব্যালটের জয়, শান্তির উৎসব হয়,
রক্ত নয়, কলমে ক্ষমতা বদলে যায়।
জনতার অংশগ্রহণ, নিত্য উৎসব,
সেখানে গণতন্ত্র চিরদিন সতেজ।

সংখ্যালঘুর অধিকার, ন্যায়েই যেন বজায় থাকে,
দূর হোক অন্যায়, শাসনের পথে আলো ফাকে।
মানব মর্যাদা মাথায় তুলে রাখি আমরা,
ভয় নয়, আশা নিয়েই বাঁচি আমরা।

আমি গাই, আমি গাই, গণতন্ত্রের গান,
জনতার হাতে ক্ষমতার চাবি আছে প্রান।
ভয় নয়, আশায় বাঁচে মানুষ—
সেই দেশে হয় গণতন্ত্র সত্যিকার মান।
-------------------------------------------------


২৯-০১-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন

বুধবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২৬

তোমায় ঘিরে স্বপ্ন বুঁনেছে জনতা

 তোমায় ঘিরে স্বপ্ন বুঁনেছে জনতা

কলমেঃ মোাঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************
ওহে নেতা, শোনো—জাগো, জাগো, জাগো আজ,
জনতার বুকে আগুন জ্বলে, রক্তে লেখা রাজ!
তোমায় ঘিরে স্বপ্ন বুনেছে শোষিত মানুষেরা,
শিকল ভাঙার ডাক উঠেছে গৃহে গৃহে, রাস্তায় সারা।

স্বাধীনতা আজ বন্দিনী, শাসনের কারাগারে,
পিতার রক্তে কেনা মান আজ বিকোয় বাজারে!
লাল-সবুজ পতাকা আজ লজ্জায় নত শির,
দেশ কি তবে দাস হলো? প্রশ্ন জাগে স্থির!

দেশদ্রোহীর দল নেমেছে রাষ্ট্রের সিংহাসনে,
উগ্রতার বিষ ছড়িয়েছে অলি-গলি, জনপদে।
মববাদ চেঁচায়, ফ্যাসিবাদ হাঁটে উল্লাসে,
স্বৈরতার বুটের শব্দ শোনা যায় প্রতিটি শ্বাসে।

দুর্নীতির নখে ক্ষতবিক্ষত ন্যায়বিচার,
ভয়তন্ত্রে স্তব্ধ কণ্ঠ, সত্য আজ নির্বাসিত আর!
অধিকার কাঁদে পথে, আইন পড়ে শিকলে,
জনতা আজ প্রশ্নবিদ্ধ—এই দেশ কার জিম্মায় চলে?

হে তারেক জিয়া—শোনো বজ্রের আহ্বান,
ইতিহাস আজ চায় তোমার অগ্নিশপথ দান।
তুমি কি হবে সেই বিদ্রোহী, অগ্নিমন্ত্রধারী,
যে ভাঙবে শাসনের শিকল, ভয়তন্ত্রের প্রাচীর ভারী?

যদি তুমি হও অগ্নি—জনতা হবে ঝড়,
যদি তুমি হও শপথ—ভাঙবে স্বৈরতার ঘর।
স্বপ্ন বুনেছে জনতা রক্ত-ঘামে লেখা,
মুক্তির সূর্য উঠবেই—এ শপথ ইতিহাসের একা!
----------------------------------------------------


২৮-০১-২০২৬

গার্মেন্টসের রাজধানী গাজীপুর

 গার্মেন্টসের রাজধানী গাজীপুর

কলমেঃমোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
-------------------------------------------

শুনো হে বিশ্ববাসী, শোনো মন দিয়ে,
গাজীপুর জেগেছে শ্রমের আগুন নিয়ে।
ভোরের আলোয় জ্বলে কারখানার দ্বার,
ঘামে লেখা ইতিহাস, দৃঢ় অঙ্গীকার।

লক্ষ লক্ষ হাত এখানে বাঁধে এক সুর,
নারী-পুরুষ মিলিয়ে গড়ে স্বপ্নের পুর।
সুঁইয়ের ফোঁড়ায় ফোঁড়ায় বোনা হয় দেশ,
অর্থনৈতিক মুক্তি পায় স্পষ্ট আবেশ।

গাজীপুর—স্বাধীন বাংলার স্পন্দিত প্রাণ,
এখান থেকেই বয়ে চলে উন্নতির গান।
লাল-সবুজের রক্তধারা বুকে বহে,
এই মাটির শক্তিতেই দেশ সামনে চড়ে।

শ্রম এখানে লজ্জা নয়, গর্বের নাম,
কর্মই এখানে ইবাদত, কর্মই সম্মান।
যন্ত্রের শব্দে জেগে ওঠে প্রত্যাশা,
ঘামের দামে কেনা হয় আগামীর ভাষা।

বিদেশের বন্দরে যখন নামে যে ঢেউ,
সে ঢেউয়ের উৎস এই মাটির শ্রমেউ।
বৈদেশিক মুদ্রা আসে সম্মানের সাথে,
বাংলার অর্থনীতি দাঁড়ায় শক্ত হাতে।

ইট-লোহা নয় শুধু এই নগরের রূপ,
এ শহর সংগ্রাম, এ শহর দৃঢ় ধূপ।
অন্ধকার ভেঙে উঠে আলোর নিকুঞ্জ,
গাজীপুর মানেই সাহসের সুনির্মল গুঞ্জন।

হে বিশ্ববাসী, ইতিহাসে লেখো আজ,
শ্রমে গড়া গাজীপুর—উন্নতির রাজ।
গার্মেন্টসের রাজধানী, গৌরবের নীলপুর,
বাংলার মেরুদণ্ড—আমাদের গাজীপুর।
------------------------------------------


২৮-০১-২০২৬

অতীতই জাতির ভিত্তি

 অতীতই জাতির ভিত্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

যে জাতি ভুলে যায় তার অতীতের ইতিহাস,
সে জাতি নিজেই ভাঙে নিজের বিশ্বাস।
ভুলে যায় সে রক্তের ঋণ, অশ্রুর মানে,
হারায় পথ, হারায় দিশা সময়ের টানে।

এই স্বাধীন বাংলা কি হঠাৎ করে এলো?
কত মায়ের বুক খালি করে পতাকা উঠলো!
কত তরুণ জীবন দিল নির্ভীক কণ্ঠে,
আজও সে নাম লেখা আছে রক্তের অক্ষরে।

হে জাতি, বলো—আমরা কি তাদের ভুলেছি?
নাকি দিবসের ভিড়ে স্মৃতিকে চাপা দিয়েছি?
মিনারে ফুল দেই, ছবি তুলি উৎসবে,
চেতনায় কি রাখি সেই আগুন তবে?

অতীত মানে শুধু কান্না নয়, গৌরবও বটে,
সে শেখায় মাথা তুলে দাঁড়াতে প্রতিটি ক্ষণে।
যে জাতি অতীতকে বুকে শক্ত করে ধরে,
সে জাতিই আগামীর ইতিহাস গড়ে।

শেকড়হীন বৃক্ষ যেমন দাঁড়াতে না পারে,
ভুলে যাওয়া জাতিও তেমনি ভেঙে পড়ে হারে।
অতীতকে অস্বীকার মানে আত্মঘাত,
সে পথে নেই উন্নতি, নেই সম্মান, নেই প্রভাত।

এসো, স্মৃতির ধুলো ঝেড়ে চোখ মেলে ধরি,
ইতিহাসের আয়নায় নিজেদের দেখি।
অতীতের ভিত্তিতে গড়ি আগামীর স্বপ্ন,
তবেই জাতি হবে দৃঢ়, তবেই হবে সম্পূর্ণ।
-------------------------------------------------------


২৮-০১-২০২৬

স্বাধীন পতাকা কাঁদে আজ

 স্বাধীন পতাকা কাঁদে আজ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
কোন দিকে যাচ্ছি বলো, হে হুজুগের জাতি?
মাতৃভূমি কি কেবল স্লোগান, নাকি রক্তের আরতি?
মুখে দেশপ্রেম—হাতে শেকল, চোখে লোভের নেশা,
স্বাধীন পতাকা কাঁদে আজ, দেখে বিশ্বাসের ভাঙা পেশা।

চারদিকে অন্যায়, জুলুমের জয়ঢাক,
মিথ্যার মুকুট পরে সত্য আজ বন্দি নির্যাতিত ফাঁক।
হুলিয়া আর লুটতরাজে রাজপথ রক্তাক্ত,
ফ্যাসিবাদের নখরে গণমানুষ আজ নিঃস্ব, ক্লান্ত।

ধর্মের নামে অধর্মের কুৎসিত কারুকাজ,
মসজিদ- মন্দির- মানবতা—সবই আজ পরিহাস।
গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্রের হুঙ্কার,
ভোট নয়—লাঠির ভাষায় লেখা হয় ক্ষমতার দরবার।

ইতিহাস বদলায় কলমে কলমে,
সত্যকে পুড়িয়ে মিথ্যা বসে সিংহাসনে।
মবতন্ত্রের মহড়া চলে দিনে-দুপুরে,
বুদ্ধি নয়, সংখ্যা শাসন করে সভ্যতার বুক চিরে।

অপমান-অপদস্তের সংস্কৃতি আজ উৎসব,
উগ্রবাদের আগুনে পুড়ে যায় মানবিক সব।
জনতার অধিকার পড়ে থাকে মৃতপ্রায়,
ন্যায় আজ কবরবাসী—অন্যায় দাঁড়ায় রাজাসায়।

দেশপ্রেমিকেরা চুপ—ভয়ে না সুবিধায়?
নাকি সত্য বলার মূল্য আজ জীবন-জীবিকায়?
সত্য-মিথ্যার ব্যবধান বিস্তর গভীর,
মিথ্যাই আজ বীর—সত্য নির্বাসিত, ক্ষীর।

মুনাফিকে ভরে গেছে মাতৃকার বুক,
মীরজাফরের ছায়া ঘোরে ঘরে ঘরে, মুখে মুখে হুক।
জনে জনে বিশ্বাসঘাতকের দাগ,
হাত মেলায় ক্ষমতার সাথে, বিবেক পড়ে থাকে অনাহার-নাগ।

কারো অবদান অস্বীকারের প্রতিযোগিতা,
ইতিহাস নয়—ইগো লেখে আজ পরিচিতা।
যদি এভাবেই চলি, নির্বাক, নতশির,
একদিন জাতি হিসাবে হবো পরাজিত—নিশ্চিত, স্থির।

তবে শোনো! নজরুলের বজ্রকণ্ঠ আজও ডাকে—
ভাঙো শেকল! জাগো রে জাগো! অন্যায়কে রাখো ফাঁকে।
কলম হোক তরবারি, কণ্ঠ হোক আগুন,
ন্যায়ের ঝাণ্ডা তুলে ধর—ভাঙো মিথ্যার দুর্গ, করুণ।

আমি বিদ্রোহী! আমি মানবতার গান!
আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে অটল পাহাড়-প্রাণ!
যতক্ষণ শোষণ থাকবে, ততক্ষণ লড়াই,
মাতৃভূমি রক্ষায় আজই দাঁড়াও—নইলে ইতিহাস করবে বিদায়।

স্বাধীন পতাকা কাঁদে আজ—মুছাও তার অশ্রু,
মানুষ হও, দেশ হও—এই হোক শেষ উচ্চারণ, শেষ পিছু।
----------------------------------------------------------------


২৮-০১-২০২৬

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬

আজ যা শক্তি ,কাল তা অভিশাপ

 আজ যা শক্তি ,কাল তা অভিশাপ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

কিসের বড়াই, কিসের দম্ভ হে অহঙ্কারী শাসক,
এ দেহ, এ বল—সবই ক্ষণিক, সবই রবের অনুগ্রহক।
আজ যে শক্তি বুকে ধারণ করো অহংকারের তাপে,
রব চাইলে মুহূর্তে নিভে যায় এক ফোঁটা ব্যথার কাঁপে।

একটি রোগে, এক দৈব আঘাতে ভেঙে যায় সিংহাসন,
মাটি ডাকে, অহংকার কাঁদে—শেষ হয় সব আয়োজন।
তবে কেন অবিচার বুনো পৃথিবীর বুক জুড়ে?
কেন ক্ষমতার নেশায় অন্যের অধিকার করো চূর্ণে?

কেন জুলুমে হাসি আঁকো, মজলুমের অশ্রু ঝরে?
কেন অপমানের আগুনে মানবতা পুড়ে মরে?
তুমি তো মালিক নও কিছুই—সবই রবের দান,
যেদিন তিনি ছিনিয়ে নেবেন, থাকবে শুধু শূন্যস্থান।

মজলুমের অভিশাপ কুড়িও না শক্তির মোহে,
সে অভিশাপ আগুন হয়ে জ্বলে ওঠে ইতিহাসের খোঁজে।
মনে রেখো, ক্ষমতার বলই প্রকৃত শক্তি নয়,
আজ যা শক্তি কাল তা অভিশাপ, কাল তা নিশ্চিত পরাজয়।
------------------------------------------------


২৭-০১-২০২৬

দাদা নেই, তবু মৃত্যুঞ্জয়ী

 দাদা নেই, তবু মৃত্যুঞ্জয়ী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
উৎসর্গঃ প্রিয় দাদা মরহুম অলিউল্লাহ সরকার্
*************************************************

হে দয়াময় রব, আজ তোমার দরবারে দাঁড়াই,
শূন্য হাতে, ভেজা চোখে দোয়ার ভাষা খুঁজে পাই।
দাদা নেই—তবু তাঁর স্মৃতি হৃদয় ভরে রাখে,
নশ্বর দেহ ফুরোলেও রূহ যে রহমতে থাকে।

শৈশব থেকে যৌবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে,
তাঁর স্নেহের ছায়া ছিল জীবনের ফাঁকে ফাঁকে।
অল্প কথায় শিখিয়েছেন বড় জীবনবোধ,
নীরবতায় বুঝিয়েছেন ক্ষমা আর সংযমের শোধ।

মেঠো পথে, মসজিদের নীরব প্রাঙ্গণে,
আজও তাঁর কণ্ঠ শুনি অন্তরের গভীরে।
রাগে নয়, দয়ায় গড়া ছিল তাঁর মন,
নিরঙ্কারী মুরুব্বি—সহিষ্ণুতাই ছিল গুণ।

হে গাফফার, নশ্বরের যত ভুল-ত্রুটি আছে,
তুমি ক্ষমা করে দিও তোমার অসীম ভালবাসে।
কবরকে করো নূরে ভরা জান্নাতের বাগান,
ভয় বদলে দিও শান্তি, দুঃখ বদলে দাও মান।

জান্নাতুল ফেরদৌস দিও সর্বোচ্চ মাকাম,
আরশের ছায়ায় রাখো—এ আমার শেষ সালাম।
দাদা নেই—তবু দোয়ায় তিনি অমর হয়ে রয়,
হে করুণাময় রব, তিনিই আমার মৃত্যুঞ্জয়ী আশ্রয়।

আমিন।
--------------------------------------------------


২৭-০১-২০২৬

তোমাকে সংবর্ধনা হে গুণীজন

  কলমেঃ মোহাম্মদ আমিনুল এহছান মোল্লা রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর। ***************************************** তোমাকে সংবর্ধনা হে গুণীজন...