সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

জয় বীর বঙ্গতাজ

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

**********************************

জয় বীর বঙ্গতাজ! জয় স্বাধীন ইতিহাস!


জাগো জাগো বাঙালি, জাগো রে আজ!
বুকে জ্বালো আগুন, হাতে নাও আজ!
চল চল রে চল, রণপাগল দল!
বঙ্গতাজের নামে আজ কাপাসিয়া টলমল!

জয় বঙ্গতাজ! জয় বঙ্গতাজ!
জয় স্বাধীন ইতিহাস!
জয় বঙ্গতাজ! জয় বঙ্গতাজ!
জয় স্বাধীন ইতিহাস!


মেধার দীপ্ত শিখা জ্বেলে ছাত্রজীবনেই বীর,
অন্যায়ের কাছে কোনোদিন নোয়াননি শির।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে বজ্রকণ্ঠে গান,
বাংলা ভাষার অধিকার ছিল তাঁর প্রাণের প্রাণ।


ছয় দফার প্রাথমিক খসড়ায় রেখেছিলেন অবদান,
শেখ মুজিবের ঘনিষ্ঠ সাথী, বাংলার প্রাণের প্রাণ।
মেধা, সাহস, দেশপ্রেম নিয়ে এগিয়ে গেলেন দূর,
তাঁর কণ্ঠে জেগে উঠত স্বাধীনতার সুর!


ওই যে দেখো বঙ্গতাজ!
ওই যে জাগে বাংলার আজ!
শৃঙ্খল ভাঙার বজ্র আওয়াজ!
জয় বঙ্গতাজ! জয় বঙ্গতাজ!


জয়! জয়! জয়!
বঙ্গতাজের জয়!
জয়! জয়! জয়!
স্বাধীন বাংলার জয়!


একাত্তরের অগ্নিদিনে উঠল বজ্রবাণী,
মুজিবনগর সরকার গড়ে হলেন কাণ্ডারি।
প্রথম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন বীর,
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠনে ছিলেন অটল ধীর।


রক্ত দিয়ে লিখল জাতি স্বাধীনতার নাম,
বীরের নেতৃত্বে জ্বলল মুক্তির অগ্নিশিখার ধাম।
ষোলোই ডিসেম্বর বিজয় এলো রক্তসাগর পেরিয়ে,
বাংলার লাল সবুজ পতাকা উঠল আকাশ ছুঁয়ে।


স্বাধীনতার রণধ্বনি বাজে,
বাংলার মাটির প্রতিটি মাঝে!
যে স্বপ্ন ছিল মুক্তির তরে,
আজও সে স্বপ্ন হৃদয়ে জ্বলে!


চল চল রে চল!
রণপাগল দল!
ভাঙ ভাঙ সব শৃঙ্খল!
জাগো জাগো বাংলার বল!


স্বাধীন দেশে অর্থ ও পরিকল্পনার দায়িত্ব নিলেন পরে,
দেশ গড়ার কঠিন পথে চললেন মাথা উঁচু করে।
স্বনির্ভরতার স্বপ্ন বুকে, দেশ ছিল তাঁর ধ্যান,
জনগণের কল্যাণ ছিল জীবনেরই গান।


হাসিমুখে নির্ভীক বীর, সত্য ছিল যার বল,
দেশের তরে জীবন দিলেন, ছিল না কোনো ছল।
অন্যায়ের কাছে আপস করেননি জীবনের শেষ প্রহর,
বঙ্গতাজের নামটি তাই আজও অমর অক্ষর!


পঁচাত্তরের কালো দিনে নেমে এলো রাত,
কারাগারে বন্দী হলেন চার জাতীয় নেতা একসাথ।
তিন নভেম্বর ইতিহাসে রক্তাক্ত হলো রাত,
বঙ্গতাজসহ চার বীরের নিভল জীবনপ্রভাত।


মৃত্যু তাঁকে হারায়নি!
ইতিহাস তাঁকে হারায়নি!
বাংলার মানুষের হৃদয় থেকে
কেউ তাঁকে মুছতে পারিনি!


জাগো জাগো বাঙালি!
স্মরণ করো বীর!
বঙ্গতাজের ত্যাগে আজ
উঁচু হোক শির!

জয়! জয়! জয়!
বঙ্গতাজের জয়!
জয়! জয়! জয়!
স্বাধীন বাংলার জয়!


হে পরওয়ারদিগার, দাও মাগফিরাত তাঁর প্রাণে,
জান্নাতুল ফেরদৌসে রাখো তাঁকে পরম মানে।
যে বীর দিল জীবন দিয়ে স্বাধীনতার আলো,
তাঁর স্মৃতি জাগুক চিরকাল, মুছে যাক সব কালো।


জাগো রে বাঙালি, জাগো রে আজ,
বুকে ধারণ করো বঙ্গতাজ!
রক্তে লেখা স্বাধীন ইতিহাস,
অমর হোক তাঁর ত্যাগের প্রকাশ!

[দ্রুত বিপ্লবী কোরাস]
চল চল রে চল!
রণপাগল দল!
চল চল রে চল!
অন্যায়ের বিরুদ্ধে বল!

জয় বঙ্গতাজ!
জয় বঙ্গতাজ!
জয় স্বাধীন ইতিহাস!
জয় বঙ্গতাজ!
জয় বঙ্গতাজ!
জয় স্বাধীন ইতিহাস!

জয়! জয়! জয়!
বঙ্গতাজের জয়!
জয়! জয়! জয়!
স্বাধীন বাংলার জয়!

জয় বঙ্গতাজ!
জয় স্বাধীন ইতিহাস!
জয় বঙ্গতাজ!
জয় স্বাধীন ইতিহাস!

--------------------------------------------------------------

হান্নান শাহ স্মরণে

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

***********************************

ওরে ও কাপাসিয়ার মাটি, জাগো রে আজ জাগো,
শীতলক্ষ্যার ঢেউয়ের তালে স্মৃতির তূর্য বাজাও!
যে নাম গেছে মৃত্যুর পারে, মুছে কি তার চিহ্ন?
হান্নান শাহ স্মৃতির মাঝে—জ্বলুক অমর শিখা!

জাগো! জাগো! জাগো রে আজ—
বাজাও স্মৃতির ঢাক!
কাপাসিয়ার মাটির বুকে
রাখো তাঁরই আঁচ!

জাগো! জাগো! জাগো রে আজ—
উঠুক তূর্য-তান!
হান্নান শাহ স্মরণে আজ
গাও রে স্মরণ-গান!

ঘাগুটিয়ার মাটির কোলে জন্ম নিল যে প্রাণ,
কাপাসিয়ার পথ-প্রান্তরে গড়ল আপন স্থান।
সেনাবাহিনীর কর্মজীবন পেরিয়ে এলেন পরে,
জনজীবনের ব্যস্ত স্রোতে নামটি উঠল ঘরে।

বাষট্টিতে সেনাজীবন, একাত্তরের দেশ,
একাত্তরের স্বাধীন দেশে বদলাল জীবনের বেশ।
একাত্তর নয়—সময় গড়িয়ে একাশি এলো শেষে,
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হয়ে অবসর নিলেন দেশে।

ধ্বনি তোলো, ঢাক বাজাও, তূর্য বাজুক আজ,
কাপাসিয়ার বুকের মাঝে উঠুক স্মৃতির সাজ।
নদীর ঢেউ আর মাঠের হাওয়া বলুক বারংবার—
হান্নান শাহ নামটি রবে স্মৃতিতে অম্লান!

একানব্বইয়ে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব এল তাঁর,
গাজীপুরের চার নম্বর আসনে উঠল জনতার ভার।
সংসদে তিনি নির্বাচিত হন দুবারেরই পথে,
রাজনীতির দীর্ঘ অধ্যায় রয়ে গেল তাঁর সাথে।

দলীয় জীবনের ইতিহাসে ছিল তাঁরই স্থান,
সংগ্রামের বহু অধ্যায়ে উচ্চারিত তাঁর নাম।
কাপাসিয়ার মানুষের মাঝে রেখে গেলেন স্মৃতি,
সময় যত দূরে যাক না, স্মরণ থাকবে ততই।

আজ নেই তিনি—তবু কেন
বাজে সেই ডাক?
শূন্য ঘরে স্মৃতির প্রদীপ
জ্বলে অগণিত পাক।

আজ নেই তিনি—তবু কেন
নদী গায় গান?
কাপাসিয়ার মাটির বুকে
রয়ে গেছে তাঁর নাম।

ওরে ও শীতলক্ষ্যা, তুই
বয়ে যা নিরবধি,
তোরই ঢেউয়ে বহুক স্মৃতি,
বহুক দিনের ছবি।

ওরে ও কাপাসিয়ার মাটি,
রাখিস তাঁকে মনে,
ঘাগুটিয়ার সেই সন্তান
থাকুক তোরই সনে!

সাতাশে সেপ্টেম্বর এলো বিষণ্ন কালো রাত,
সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে থামল জীবনের বাত।
শেষে এলেন আপন মাটির আপন কবরঘরে,
পিতার পাশে ঘুমিয়ে আছেন কাপাসিয়ারই তরে।

ঘুমাও তুমি আপন মাটির শান্ত সবুজ ছায়ায়,
স্মৃতি তোমার জেগে থাকুক মানুষেরই মায়ায়।
নদী থাকুক, মাঠ থাকুক, থাকুক এই প্রাণ—
কাপাসিয়ার বুকের মাঝে থাকুক তোমার নাম!

হে আল্লাহ, তুমি দাও তাঁর কবরেতে শান্তি,
রহমতেরই নূর দিয়ে ভরাও চারিধারটি।
ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দাও, দাও জান্নাতের স্থান,
তাঁর স্বজনের হৃদয় ভরো ধৈর্যেরই দান।

জাগো রে স্মৃতি!
বাজো রে ঢাক!
তূর্য বাজাও
থামিও না আজ!

কাপাসিয়ার মাটি বলে—
রবে তাঁরই নাম!
শীতলক্ষ্যার ঢেউ বলে—
রবে তাঁরই নাম!

ঘাগুটিয়ার বাতাস বলে—
রবে তাঁরই নাম!
মানুষ যখন স্মরণ করবে—
জাগবে সেই নাম!

ওরে ও কাপাসিয়ার মাটি, জাগো রে আজ জাগো,
শীতলক্ষ্যার ঢেউয়ের তালে স্মৃতির তূর্য বাজাও!
জীবন থামে, স্মৃতি থামে না—এই হোক শেষ বাণী,
কাপাসিয়ার স্মৃতির পাতায় থাকুন হান্নান শাহ স্মরণীয়!

------------------------------------------------------------------------

রাওনাট ফুটবল টিম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা তারিখঃ ০৪ - ০৯ - ২০২৫ ইং স্থানঃ রাওনাট , কাপাসিয়া , গাজীপুর ---------------------------------------...