মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৩, ২০২৬

উগ্রবাদের কালো অধ্যায়

 উগ্রবাদের কালো অধ্যায়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

আমি বিদ্রোহী—আমি আগুন, আমি দাবানলের হাঁক,
অন্যায়ের বুকে বাজাই আজ বজ্রবিদ্রোহের ডাক।
যে প্রজন্ম আঁধার বুনে, আলোকে দেয় শিকল,
আমি তার বিরুদ্ধে জ্বালি শব্দের বারুদ-ফসল।

শোনো—অসভ্যতার মেলায় নাচে তরুণ রক্ত,
অশ্লীল ভাষার বিষে আজ বিবেক হয়েছে ভক্ত।
মুখে মুখে ছোড়া গালি, হাতে হাতে লাঞ্ছনা,
আমি চিৎকার করি—এ কি মানুষের পরিচয়, না জানো না?

আমি দেখি—মবের মত্ত নৃত্য, উগ্রতার উল্লাস,
যুক্তির কণ্ঠ রুদ্ধ, সত্য পড়ে কারাগারবাস।
ধর্মভীরুতা নয়—ধর্মান্ধতার উন্মত্ত দৌড়,
ক্ষমতার নামে হিংসা চলে, আল্লাহর নামে কালো খড়্গ ধরা হয় জোর।

আমি বিদ্রোহী—ধর্ম নয় রক্তপিপাসু অস্ত্র,
বিশ্বাস মানে মমতা, না যে হিংসার মন্ত্র।
দেশপ্রেম আজ তলানীতে—স্লোগান শুধু ছল,
মুক্তিযুদ্ধের মর্মকথা আজ স্মৃতির কবরতল।

ওরে জনতা, শুনিস না কি ইতিহাসের হাহাকার?
এই মাটি চায় ন্যায়, চায় মানুষ, চায় প্রতিবাদের জ্বালাকার।
অপমান-অপদস্তের শৃঙ্খলে বাঁধা জীবনচক্র,
শান্তির বুকে বসে আজ অশান্তির রক্তচক্র।

শিক্ষক, ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবী, পথচারী,
কেউই নিরাপদ নয়—ভয় রাষ্ট্রের নতুন ভারী।
পেশিশক্তি, বাহুবল—এই নাকি শক্তির পরিচয়?
আমি বলি—এই শক্তিই সভ্যতার মহাপরাভয়।

দিকে দিকে ভয়তন্ত্র, মবতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্রের জয়ঢাক,
আমি বিদ্রোহী—এই কবিতা আমার অগ্নিসংকেত, আমার ডাক।
অস্ত্র আর মাদক-নেশায় তরুণ মন বিপথগামী,
জ্ঞানের অন্বেষণ মরেছে, নগ্নতার রাজ্যই এখন গ্রামী।

আমি ধিক্কার দেই—এই নয় আমার বাংলার মানচিত্র,
এই নয় মুক্তির স্বপ্ন, এই নয় শহীদের উত্তরাধিকার।
বাংলার জনতা মুক্তি চেয়েছিল শোষণ-শেকল ভেঙে,
মুক্তি কি পেয়েছে আজ, না কি শেকল হয়েছে আরো শক্ত, আরো বেঙে?

হে রাজ্যের কর্ণধার—আমি বিদ্রোহী প্রশ্ন ছুঁড়ি,
এই উগ্রবাদের কালো অধ্যায়ের দায় কার—বল, লুকাস না, ঘুরি না ঘুরি!
ওরে জনতা—জাগো, ভাবো, প্রশ্ন করো উচ্চস্বরে,
নচেৎ ইতিহাস লিখবে তোমার নীরবতাকে অপরাধ করে।


১৩-০১-২০২৬

সোমবার, জানুয়ারি ১২, ২০২৬

বিদায়ের অশ্রু

 বিদায়ের অশ্রু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
****************************************************


আজ… আজ রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেতন নিস্তব্ধ,
ছাত্র ছাত্রীদের হাসি যেনো স্তব্ধ হয়ে গেছে।
২০১১ সালে, নোয়াপাড়া ময়েজ উদ্দিন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে
আপনি এসেছিলেন—রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেনে,
হালকা পা, গভীর দৃষ্টি, নিঃশব্দ শিক্ষার আলো ছড়িয়ে।

প্রিয় জনাব আব্দুর রউফ,
আপনার ধৈর্য নদীর মতো ধীরে প্রবাহিত,
আপনার শব্দ মৃদু বাতাসের মতো,
রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেনের প্রাঙ্গণ জুড়ে
ঘুরত কোমল শীতল স্নেহ, শিশুর চোখে জ্বলত দীপ।

অশ্রু ঝরে… স্মৃতির স্রোত ভেসে যায়…
আপনার ভালোবাসা রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেনের আত্মায়।

প্রত্যেকটি পাঠ, প্রতিটি নিদর্শন
রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেনের দেওয়ালে লেগে রইল।
আজ বিদায়ের মূহূর্তে হৃদয় ভারী,
চোখে অশ্রু ঝরে, নিঃশব্দ বেদনা বাতাসে ভেসে যায়।

সকলের প্রার্থনা… সুস্হ থাকুন…
নেক হায়াত কামনা করি… শান্তি, বরকত ভরে থাকুক।

আপনার পদচিহ্ন রয়ে গেছে চিরন্তন,
আপনার শিক্ষা বয়ে যাবে ছায়ার মতো, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
আজ বিদায়… কিন্তু ভালোবাসা চিরন্তন।
প্রত্যেকটি হাসি, প্রতিটি শিক্ষা রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেনের আলো।

আমাদের পথ আলোকিত, আমাদের স্মৃতি চিরন্তন,
আপনার ভালোবাসা, আপনার নিঃশেষ দৃষ্টি আমাদের সঙ্গে।

বিদায়ের অশ্রু ঝরে, প্রাঙ্গণ নীরব,
জনাব আব্দুর রউফ, আপনি রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেনের চিরন্তন শিক্ষক।
প্রতিটি শ্বাস, প্রতিটি নিঃশব্দ মুহূর্ত
আজও বয়ে যায় রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেনে।

বিদায়ের ঘণ্টা বাজছে, হৃদয় জানে,
আপনি রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেনের আত্মা হয়ে থাকবেন চিরকাল।
------------------------------------------------------------


১২-০১-২০২৬

শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান

 শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

শিক্ষকতা জীবনের বড় স্বীকৃতি—নামটি যে দীপ্তিমান,
জনাব মোবারক প্রধান—শিক্ষায় এক অনন্য দিগন্তজ্ঞান।
রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেতনের স্মৃতির পাতায়,
আজও লেখা থাকে তাঁর নীতি, আদর্শ, আলোছায়ায়।

আজ ফুলবাড়ীয় হাই স্কুলে তিনি আলোকিত সূর্য,
অজ্ঞতার অন্ধকার ভেঙে গড়েন জ্ঞানের দুর্গ।
শিক্ষিত ও মার্জিত—চরিত্রে যার শুদ্ধতা,
বাক্যে কর্মে মিল খুঁজে পায় মানবিক সভ্যতা।

তিনি শিক্ষক নন কেবল—তিনি মূল্যবোধের পাঠ,
শাসনে নেই অহংকার, আছে স্নেহের প্রহরী হাত।
ভুলে তিনি তিরস্কার নয়, দেখান সংশোধনের পথ,
মানুষ গড়াই তাঁর সাধনা, সাফল্য তাঁর ব্রত।

ছাত্রদের চোখে তিনি আশ্রয়, স্বপ্নের দৃঢ় ভর,
ঝড়ের দিনে বাতিঘর, নীরবে শক্ত অবলম্বন-ঘর।
সহকর্মীর কাছে তিনি সম্মানের নির্ভর নাম,
সহজতায় বড় মানুষ—এটাই তাঁর পরিমাপ।

প্রশাসনে শৃঙ্খলা তাঁর ন্যায়নীতির সমাহার,
মানবতায় উচ্চতম—সেখানেই তাঁর অধিকার।
প্রতিষ্ঠান নয়, মানুষই তাঁর সাধনার কেন্দ্রবিন্দু,
সেই মানুষ গড়েই তিনি হন সময়ের চিরসিন্ধু।

এই পৃথিবী সাক্ষী থাক, ইতিহাস লেখুক গান,
জনাব মোবারক প্রধান—শিক্ষায় এক জীবন্ত উপমান।
শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান—উপাধি নয়, পরিচয়,
আদর্শ হয়ে থাকুক তিনি—যতদিন শিক্ষা রয়।
-------------------------------------------------------


১২-০১-২০২৬

বন্ধুর চুল সাদা

 বন্ধুর চুল সাদা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

অবুঝ শিশুর খেলে-গেলে দিন,
হাসি ভরা চোখে জীবন ছিল মধুর রিন।
শৈশবের বালুকা মাঠে পাখি গান গায়,
বন্ধু মাহমুদ হাসান আরিফ সেখানে স্বপ্ন বুনে যায়।

কৌশরের বেলা এসেছে হঠাৎ,
মন ভরলো চিন্তা, স্বপ্ন হলো কঠিন।
যুবকের যৌবন উজ্জ্বল, দীপ্তি চোখে জ্বলে,
স্বপ্নের আকাশে হাত বাড়িয়ে সে উড়তে চায়, মুক্তি খোঁজে।

বৃদ্ধ বয়সে ধীরে ধীরে চুল হলো সাদা,
চামড়া কুচকো, শক্তি চলে দূরে কাদা।
যৌবনের উদ্দীপনা আজ অতীতের গান,
দুর্বল হয়ে গেছে দেহ, কিন্তু হৃদয় রয়ে গেছে মান।

জীবন অবসানে সে দাঁড়ায় একা নয়,
প্রভুর স্মরণে হৃদয় ভরে পূর্ণ ত্রয়।
মৃত্যু তো একটি পথ, শিক্ষা হয়ে যায়,
ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবন রঙিন হয় আবার নতুন ঢঙে সাজায়।

আল্লাহ যেন বন্ধুকে দীর্ঘ হায়াৎ দান করেন,
প্রভুর পথে চলা, সকল বন্ধুর মন ভরে আনন্দে।
বন্ধুর চুল সাদা, কিন্তু হৃদয় তরুণ,
জীবনের প্রতিটি ধাপ যেন হোক আলোর দূরন্ত স্রোতগুণ।
----------------------------------------------


১২-০১-২০২৬

মিষ্টির আড়ালে তিতো

 মিষ্টির আড়ালে তিতো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

দিকে দিকে জনতাকে খাওয়ানো হয়
মধুর হাসির মোড়কে লুকোনো তিতো বিষ—
মুখে মিষ্টি বুলি, অন্তরে ছলনার আগুন,
ছদ্মবেশী মোনাফেক, চিনতে পারে না মূর্খ জনতা তখন।

ক্ষমতা পাওয়ার আগে ওরা চিনি মাখা কথা,
ক্ষমতা পেলে বদলায় স্বাদ—হয়ে ওঠে নির্মম তিতা,
প্রতিশ্রুতির ফুল ঝরে পড়ে কাঁটায়,
নিষ্ঠুর অত্যাচারে রেহাই পায় না কেউই আর।

ওরা গণতন্ত্রের শত্রু,
স্বাধীন বাংলাদেশের বিরোধী ছায়া,
স্বাধীনতা ওদের কাছে বোঝা,
তাই ইতিহাস মুছতে চায়—মুক্তিযুদ্ধের দীপ্ত মায়া।

ধর্মকে ওরা বানায় পণ্যের বাজার,
ইমানের দামে কেনাবেচা চলে নির্লজ্জ কারবার,
ধর্মের নামে ছড়ায় উগ্রতার বিষবাষ্প,
ভীরু মুসলিমকে দেয় বিকৃত, ভ্রান্ত বার্তা।

ক্ষমার মুখোশে লোভের দাঁত,
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষকে করে অপমানিত,
লাল-সবুজ পতাকা পায় পদধূলি,
জাতির গৌরব হয় লাঞ্ছিত, ক্ষতবিক্ষত।

স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের মুছে দিতে চায় ইতিহাস থেকে,
ছাত্র-শিক্ষকদের সম্মান করে ধূলিসাৎ এক ঘৃণ্য রেখায়,
জ্ঞান, ত্যাগ, আদর্শ—সবই ওদের চোখে অপরাধ,
কারণ সত্য থাকলে টিকে না ভণ্ডামীর ফাঁদ।

হে বাঙালি, জাগো—আর কত নীরব থাকবে?
মিষ্টির আড়ালে তিতোর এই ছলনা ভাঙতে হবে।
ভণ্ডামীর ঝাণ্ডা গুড়িয়ে দাও ঐক্যের ঝড়ে,
সত্য, স্বাধীনতা আর চেতনাকে রাখো বুকের গভীরে।

এই ডাক—প্রতিবাদের,
এই কাব্য—স্মরণ আর জাগরণের,
যেন আর কখনো
মধুর মুখোশে তিতা শাসন
বাংলার ভাগ্যকে গ্রাস করতে না পারে।
------------------------------------------


১২-০১-২০২৬

মৃতব্যক্তিদের স্মরণে

 মৃতব্যক্তিদের স্মরণে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
আল্লাহু আল্লাহ—ডাকে কবর, জাগো হে ঘুমন্ত প্রাণ,
এক নিঃশ্বাসে নিভে যায় প্রদীপ, থেমে যায় জীবনের গান।
আজ যে বুকে বাতাস বইছে দয়ার রবের দানে,
কাল সে বুকে নীরবতা—তাকদির লেখা জানে।

ওরে নফস, তুই কেন ডুবিস দুনিয়ার মোহে মত্ত?
কাফনের কাপড় বলে দেয়—সব অহংকার মিথ্যা সত্য।
রাজা-ভিখারি এক কাতারে, মাটি সবার ঠিকানা,
আমল ছাড়া সঙ্গে যাবে না ধন-সম্পদ, মান-সম্মানা।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ—এই হোক শেষ সুর,
এই কালেমার আলোতেই কবর পাবে নূর।
মুনকার-নাকির প্রশ্নে যেন না কাঁপে হৃদয় ভয়ে,
রাব্বি আল্লাহ উচ্চারণে নূর ঝরে পড়ে গায়ে।

কাপাসিয়ার পথে পথে আজ কান্নার ধ্বনি ওঠে,
মৃতদের নাম শুনে শুনে বুক ভেঙে যায় ছোটে।
মৈশন সেন্টুমিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ছায়াতলে,
সিজদাভেজা দোয়ায় আকাশ নুয়ে পড়ে ধরণীতলে।

যিনি জানাজার কাতারে দাঁড়িয়ে শেখান শেষ পাঠ,
হাফিজুল হক চৌধুরী (আইয়ূব)—দোয়ার নীরব সাধক।
প্রতিটি লাশে তিনি দেখেন নিজেরই পরিণাম,
এই শিক্ষা বয়ে আনুক নাজাতের পথ-নিশান।

হে রহমান, হে রহিম—করো দয়া অপরিসীম,
গুনাহে ভরা বান্দাদের তুমি ক্ষমা করো রহীম।
কবর করো জান্নাতের বাগান, আগুনের গর্ত নয়,
হাশরের ময়দানে দিও নবীর পতাকার ছায়া রয়।

হে আল্লাহ, তার এই খেদমত কবুল করে নাও,
মৃত্যু অবধি দ্বীনের পথে চলার তাওফিক দাও।
তার আমলনামা ভরাও সদকায়ে জারিয়ার নূরে,
নবীর শাফায়াতে রাখো নিরাপদ কিয়ামতের ভিড়ে।

আল্লাহু আল্লাহ—এই কান্না তুমি বৃথা করো না,
মৃত আর জীবিত সবাইকে নাজাত দিও হে দয়াময় প্রভু।
যেদিন আমাদের নামও উঠবে জানাজার ডাকে,
তোমার রহমতে গ্রহণ করো—আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।
-------------------------------------------------------


১২-০১-২০২৬

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫

মহাকালের বিদায়

 মহাকালের বিদায়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************
এক প্রেমের শূন্যতায় আজ প্রকৃতি কাঁদে গভীরতায়
স্বাধীন বাংলার পথঘাট ভিজে যায় অশ্রুর ধারায়
জনতার বুকে নেমে আসে দীর্ঘ বিষণ্ন ব্যথায়
এই শূন্যতা পূরণ হবার নয়—ইতিহাসে রয়ে যায় ।

গণতন্ত্রের কাননে তুমি ফুটেছিলে দৃঢ় বিশ্বাসে
আপোষহীন তেজে জ্বালালে অন্যায়ের সর্বনাশে
গৃহিণীর ঘর পেরিয়ে এলে রাজপথের দুর্দশায়
জনতার অধিকারের ডাকে জেগে উঠলে প্রত্যাশায়

বিএনপির সভানেত্রী হয়ে ধরলে সংগ্রামের হালেতে
ঝড়ের মুখে দাঁড়িয়ে রইলে অবিচল সংকল্পেতে
জেল, জুলুম, হুলিয়া এলো জীবনের প্রতিটি বাঁকে
তবু মাথা নত করোনি শাসনের কোনো ফাঁদে

অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠ তুললে বজ্র উচ্চারণে
কারাগারের অন্ধকার কাঁপত তোমার দৃপ্ত ভাষণে
নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে হার মানোনি কোনোখানে
অপরাজিত ইতিহাসে উঠলে দীপ্তির শিখরপানে

গণতন্ত্রের অভিভাবক তুমি—জনতার আশ্রয়ে
মুক্তিযুদ্ধের রক্তধারা বইত তোমার অন্তরে
লাল সবুজের পতাকা ছিল নিঃশ্বাসের প্রতীকে
শহীদের অসমাপ্ত স্বপ্ন জ্বলত তোমার চেতনায়

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী—ক্ষমতা ছিল না সাধনায়
রাষ্ট্রের ভার বহন করেও চললে কণ্টক যাত্রায়
জনতার প্রাণ, জনতার মাতা—এই ছিল পরিচয়
নিজের সুখ বিসর্জনে গড়লে জাতির নির্ভয়

আজ মহাকালের ডাকে থামল তোমার মানবধারা
ভোরের বাতাস বয়ে আনল বিচ্ছেদের শীতল ইশারা
এ মৃত্যু মৃত্যু নয়—এ অনন্ত পথে যাত্রা
যেখানে দেহ থামে, নাম জাগে ইতিহাসজুড়া

খালেদা জিয়া—আপোষহীন, মৃত্যুঞ্জয়ী ফুল
তোমার বিদায়ে আকাশ ভারী, মাটি ব্যথাতুর
শোক সহিবার নয় তবু শোক বুকে ধারণ
নেত্রী যায়, আদর্শ থাকে—এ চিরন্তন প্রমাণ

হে মহান আল্লাহ, এই ফরিয়াদ তোমার দরবারে
সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে স্থান দিও জান্নাতে
তাঁর আত্মা হোক শান্ত, নূরের আলোকধারায়
আর জাতির বুকে বেঁচে থাকুক তাঁর সংগ্রামগাথায়
--------------------------------------------------------


৩০-১২-২০২৫

তুমি এক মৃত্যুঞ্জয়ী আপোষহীন ফুল

 তুমি এক মৃত্যুঞ্জয়ী আপোষহীন ফুল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

এক নেত্রীর শূন্যতায় আজ প্রকৃতি কাঁদে,
কাঁদে জনতা—কাঁদে স্বাধীন বাংলার পথঘাট।
ভোরের বাতাসে ভেসে আসে শোকের দীর্ঘশ্বাস,
আজ শূন্য হলো ইতিহাসের এক অমোচনীয় অধ্যায়।

এ শূন্যতা পূরণ হবার নয়—
কারণ তুমি ছিলে না শুধু একজন মানুষ,
তুমি ছিলে একটি সময়,
একটি প্রতিরোধ,
একটি অদম্য বিশ্বাসের নাম।

গণতন্ত্রের কাননে তুমি ফুটেছিলে
আপোষহীন চরিত্রের দীপ্ত ফুল হয়ে।
ঝড়ে–ঝঞ্ঝায় নুয়ে পড়োনি কখনো,
কাঁটায় কাঁটায় রক্ত ঝরিয়ে
তুমি সুবাস ছড়িয়েছ জনতার অধিকারের পথে।

গৃহিণী থেকে সভানেত্রী—
এ ছিল না কেবল পদবির যাত্রা,
এ ছিল স্বৈরাচারির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস।
সংসারের গণ্ডি পেরিয়ে তুমি উঠেছিলে
রাষ্ট্রচিন্তার কঠিন শিখরে।

তুমি ছিলে আপোষহীন জননেত্রী,
অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করা এক নাম।
হুলিয়া, কারাগার, জেল–জুলুম—
সবকিছুকে তুচ্ছ করে তুমি বলেছিলে:
“গণতন্ত্র বন্দি হতে পারে না।”

তুমি গণতন্ত্রের অভিভাবক,
ভোটের অধিকার, বাকস্বাধীনতার পাহারাদার।
নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে তুমি প্রমাণ করেছিলে—
জনতার রায়ই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ফরমান।

তুমি ছিলে মুক্তিযুদ্ধের রক্তপ্রবাহ,
যে রক্তে লেখা লাল–সবুজের ইতিহাস।
স্বাধীনতার চেতনাকে বুকে ধারণ করে
রাষ্ট্রের প্রতিটি সংকটে তুমি হয়েছিলে
অটল প্রহরী।

লাল সবুজের ধারক বাহক
পতাকার রঙে রঙিন ছিল তোমার আত্মা।
তিনবারের প্রধানমন্ত্রী—
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও
ভুলে যাওনি জনতার কষ্ট, জনতার কান্না।

তুমি ছিলে জনতার প্রাণ, জনতার মাতা,
শাসকের আসনে বসেও
তুমি ছিলে রাজপথের মানুষ।
দিবারাত্রি লড়াই–সংগ্রামে
জনতার পাশেই ছিল তোমার ঠিকানা।

জেল–জুলুম সহ্য করা নেত্রী—
কারাগারের দেয়ালও জানত,
তোমাকে আটকে রাখা যায়,
কিন্তু দমিয়ে রাখা যায় না।

তুমি কখনো হারোনি—
কারণ পরাজয় তোমার অভিধানে ছিল না।
আজও তুমি হারোনি—
কারণ মৃত্যু তোমাকে নিতে পারেনি,
নিয়েছে শুধু দেহ,
চেতনাকে নয়।

আজ ভোর ছয়টায়—
৩০–১২–২৫ ইং,
মহান প্রভুর ডাকে তুমি ছেড়ে গেলে এই ধরাধাম।
কিন্তু এ বিদায় বিদায় নয়,
এ এক অমরতার যাত্রা।

বেগম খালেদা জিয়া—
তুমি এক মৃত্যুঞ্জয়ী আপোষহীন ফুল।
তোমার শূন্যতায় আজ দেশ নীরব,
আকাশ ভারী, বাতাস স্তব্ধ।

এ বিদায়, এ শোক সহিবার নয়
তবু মাথা নত করে আমরা বলি,
হে মহান আল্লাহ,
তোমার দরবারে এই ফরিয়াদ—
তাঁর সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে
তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করো।

গণতন্ত্রের ইতিহাসে
তোমার নাম লেখা থাকবে
রক্তের অক্ষরে,
আপোষহীনতার প্রতীকে,
চিরকাল—চিরদিন।
----------------------------------------------------------


৩০-১২-২০২৫

সোমবার, ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫

স্বাধীন জাতির কলঙ্ক

 স্বাধীন জাতির কলঙ্ক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************
মুক্তির ফুলগুলি আজ পরজীবী—
লোভের পুঁজে, লালসার উন্মাদ নগ্নতায়!
যে গোলাপ রক্তে ফুটেছিল রণভূমিতে,
আজ সে জবা—রঙ আছে, গন্ধে পচন ধরা যায়।

যে মৌগুলো মাতত স্বাধীনতার সুবাসে,
আজ তারা ফেরে ব্যথাতুর, মলিন অন্তরে—
ধিক্কার ছুড়ে দেয় সেই ফুলের মুখে,
যে ফুল নিজের শিকড়ই বিকিয়ে দেয় বাজারে।

গোলাপ, তুই কি এতটাই লোভী হতে পারিস?
শুনেছিলাম—তুই মুক্তিযোদ্ধা,
শুনেছিলাম—তোর কাঁটায় কাঁপত দেশদ্রোহী,
স্বাধীনতাবিরোধীর বুকে নামত তোর বজ্র-কথা।

কিন্তু আজ?
ক্ষমতার মদের নেশায় তোর চোখ অন্ধ,
অর্থের থালায় আদর্শ চূর্ণ—
তুই নিলাম করিস স্বাধীনতার স্বপ্ন!

যে লাল-সবুজ রক্তে রাঙা হয়েছিল,
তুই তা বিক্রি করিস শত্রুর দরবারে,
যাদের বিরুদ্ধে ছিল তোর শপথের তরবারি,
আজ তাদের হাতেই তোর হাত—লজ্জার বাজারে!

এর চেয়ে বড় লজ্জা কি আছে জাতির জন্য?
মুক্তিযোদ্ধা আজ পণ্যে পরিণত!
স্বাধীন জাতির কপালে কালো দাগ,
তুই ইতিহাসের পাতায় এক বিকৃত শব্দমাত্র!

মুক্তিযোদ্ধা বলতেও আজ ঘৃণা লাগে—
কারণ তুই পথভ্রষ্ট, তুই ভণ্ড!
তোর বুকের মেডেল ঝনঝন করে না,
ওগুলো বাজে—মুদ্রার শব্দে, লোভের ছন্দে।

শোন, হে নব্য শত্রু!
তুই বাইরের নয়—ভেতরের পচন,
তুই জাতির শিরায় ঢোকা বিষ,
তোর নামেই কলঙ্ক—স্বাধীনতার অপমান।

নজরুলের রণডঙ্কা বাজে আজও আকাশে—
বজ্রকণ্ঠে প্রশ্ন ওঠে: “কে তুই?”
যে আদর্শ বেচে দেয়, সে যোদ্ধা নয়,
সে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো এক বিশ্বাসঘাতক ছায়া।

স্বাধীন জাতি আজ আঙুল তুলে বলে—
দূর হ!
তুই মুক্তির ফুল নস,
তুই লোভের আগাছা—
স্বাধীন জাতির কলঙ্ক।
----------------------------------------------


২৯-১২-২০২৫

জাতির স্যালুট

 জাতির স্যালুট

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************************

যারা লোভের কাছে নত হয়নি কখনো,
যারা আদর্শকে বুকে বেঁধে রেখেছে আগ্নেয় শপথে—
তোমাদেরই নামে আজ আমার কবিতা,
তোমাদেরই পায়ে জাতি রাখে মাথা শ্রদ্ধায়, নীরবতায়।

তোমরা গোলাপ—
রক্তে ফুটে ওঠা আগুন-রঙা গোলাপ,
যাদের কাঁটায় বিদ্ধ হয়েছিল শত্রুর বুক,
যাদের সুবাসে জেগেছিল স্বাধীনতার সকাল।

যুদ্ধের রাতে ক্ষুধা ছিল, ভয় ছিল,
তবু পিছু হটোনি একচুলও—
মায়ের মুখ, মাটির ডাক,
লাল–সবুজের মান—এই ছিল তোমাদের সম্বল।

তোমরা বন্দুক ধরেছিলে ক্ষমতার জন্য নয়,
মুকুটের লোভে নয়, মুদ্রার লালসায় নয়—
তোমরা লড়েছিলে মানুষের অধিকারের জন্য,
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মুক্ত নিশ্বাসের জন্য।

গুলির সামনে বুক পেতেছিলে,
পেছনে ছিল না কোনো সিংহাসন—
শুধু ছিল দেশ,
শুধু ছিল জাতি,
শুধু ছিল স্বাধীনতার অবিনাশী স্বপ্ন।

আজও তোমরা আছো নীরবে,
প্রচারের আলোয় নয়—
কিন্তু ইতিহাস জানে,
এই দেশ দাঁড়িয়ে আছে তোমাদের রক্তের ওপরই।

নজরুলের বজ্রকণ্ঠে আজ উচ্চারণ হোক—
তোমরাই সত্যিকারের বীর!
তোমরাই মুক্তিযোদ্ধা!
তোমরাই জাতির অহংকার!

এসো, জাতি দাঁড়িয়ে স্যালুট জানাক—
তোমাদের ত্যাগকে,
তোমাদের সততাকে,
তোমাদের অটল দেশপ্রেমকে।

যতদিন লাল–সবুজ উড়বে আকাশে,
যতদিন বাংলা বেঁচে থাকবে—
ততদিন তোমাদের নাম
লিখিত থাকবে গৌরবের অক্ষরে।

দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা—
জাতি তোমাদের স্যালুট করে।


২৯-১২-২০২৫

অবুঝের মত (গান)

  অবুঝের মত (গান) কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা স্থানঃ রাওনাট - কাপাসিয়া - গাজীপুর তারিখঃ ২১ - ১১ - ২০২৪ ইং ********************...