মঙ্গলবার, মে ০৫, ২০২৬

স্বদেশপ্রেমের অগ্নি-শপথে

 স্বদেশপ্রেমের অগ্নি-শপথে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
-------------------------------------
ওরে ও ভণ্ড রাজনীতির ধ্বজাধারী, শোন রে তোরা মন দিয়ে,
রক্তে কেনা এই স্বাধীনতা রাখব আগলে জান দিয়ে!
যে রাজনীতি মোর বীর শহীদের রক্তে মাখানো স্মৃতি হাসে,
যে রাজনীতি মোর ইতিহাসের মূলে কুঠারাঘাতের জাল ফাঁশে;

সে রাজনীতির মুখে মারি লাথি—সে রাজনীতি আমরা চাই না,
মানুষের রক্ত চুষে খাওয়া ঐ হায়েনাদের আমরা চিনি না!
শোনো রে শোষক, শোনো রে ঘাতক, শোনো রে ভীরুর দল,
গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরে দেখাস যে বাহুবল—

মবতন্ত্রের ভয় দেখিয়ে করিস কণ্ঠ রুদ্ধ যার,
সেদিন দূরে নয়, যেদিন হবে তোর পাপিষ্ঠ গদি ছারখার!
দুর্নীতির ঐ পাহাড় গড়ে, পরিবারতন্ত্রের শিকলে মেতে,
দেশমাতাকে বেচতে চাস যারা ক্ষমতার ঐ পাশা খেলে—

তাদের তরে এই বাংলায় ঠাঁই নাই রে—ঠাঁই নাই,
দেশপ্রেমী সেই নতুন সূর্য, নতুন রাজনীতি আমরা চাই!
দমন-পীড়ন, প্রতিহিংসার বিষ যে রাজনীতি ছড়ায় মনে,
বিরোধী মতের টুঁটি টিপে ধরে অন্ধকার ঐ কোণে;

ন্যায়বিচারের কবর খুঁড়ে যারা হাসে পৈশাচিক হাসি,
তাদের গলে পড়িয়ে দেব আজ গণ-বিদ্রোহের ফাঁসি!
লাল-সবুজের অবমাননা সইবে না আর এই মাটি,
জাতীয় সংগীত বিহীন ও বুক—নহে তো কভু খাঁটি!

রক্ত চাই? নে রক্ত তবে! কিন্তু স্বাধীনতা ছাড়ব না,
স্বদেশপ্রেমের অগ্নি-শপথে একটুও পিছু হটব না।
সাম্য আসুক, মুক্তি আসুক, আসুক মানুষের জয়গান,
বিপ্লবীদের বজ্রকণ্ঠে থরথর আজ কাঁপুক আসমান!

যে রাজনীতি শুধু দেশের তরে—সেই রাজনীতি চাই মোরা,
শোষক মুক্ত, বৈষম্যহীন নতুন এক দেশ গড়ব মোরা!
---------------------------------------------------------------------------------


২২-০৪-২০২৬

নীল দহনের মানচিত্র

 নীল দহনের মানচিত্র

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপু
----------------------------------------------------------------
নিঃশব্দ চরণে ঢুকেছিলে এই পাজরের মন্দিরে,
ঠিক যেন শরতের শিউলি—
ঝরে পড়ার আগেই সুবাসে ব্যাকুল করে দিলে চরাচর।
সেদিন ধূপকাঠি হয়ে জ্বলেছিলাম তোমারই অনুরাগে,
বুঝিনি, পুড়ে ছাই হওয়াই ছিল ললাটের লিখন।

তারপর?
ঝড়ের আগের স্তব্ধতার মতো তুমিও চলে গেলে নিরবে,
ফেলে গেলে না কোনো বিদায়ের সুর, না কোনো পিছুটান।
শুধু আমার হৃৎপিণ্ডের দেয়ালে খোদাই করে গেলে—
এক বিষাক্ত মানচিত্র, এক অমীমাংসিত ক্ষত।

স্মৃতির সেই কালশিটেগুলো আজ বড্ড অবাধ্য,
আর্তনাদ করে ওঠে নির্ঘুম রাতের নির্জনতায়।
যতবার চেয়েছি বিস্মৃতির প্রলেপে মুছতে তোমার নাম,
ততবারই সে ক্ষত মুখ মেলেছে বন্য পশুর মতো।
বাঁধনহারা স্রোতের মতো নামে শোণিতের ধারা,
বুকের ভেতর চলে এক নিরন্তর রক্তক্ষরণ—
যেন কোনো অভিশপ্ত জাদুকর বিঁধিয়ে গেছে বিষাক্ত বাণ।

প্রতিটি স্পন্দনে আজ যন্ত্রণার নূপুর বাজে,
প্রতিটি নিশ্বাসে লেগে থাকে তোমার দেওয়া সেই তপ্ত দহন।
তুমি নেই, অথচ তোমার প্রস্থানের ক্ষতটুকু বড্ড জীবন্ত—
আমাকেই তাড়িয়ে বেড়ায় আমারই ছায়ার মতো,
এক জনম থেকে অন্য জনমের ধূসর প্রান্তরে।
-----------------------------------------------------------


২২-০৪-২০২৬

রুধির-স্নাত প্রশ্ন

 রুধির-স্নাত প্রশ্ন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
------------------------------------------------
ওরে দেখ চেয়ে দেখ, কার রক্তে রাঙালি আজ নব দিগন্তের ভোর?
যাদের লাশে গড়া সিঁড়ি বেয়ে এলি, তারা কি পেল আজ তোর?
সাম্যের তরে হলো যে বিপ্লব, সে কি শুধু তোর গদির নেশা?
দুর্নীতির সেই পুরনো জোব্বা, কেন পরলি তবে নতুন বেশা?

কোথায় রে তোর 'নব বন্দোবস্ত'? কোথায় সেই সাম্যবাদ?
জনতার টাকায় বিলাসী শকটে কেন চড়িস তুই আজ অপবাদ?
ভয়তন্ত্রের হাতবদল হলো—ফ্যাসিস্ট ঘুচে কি আইলো মব?
দখলদারী আর চাঁদাবাজির মিছিলে কেন পিশাচের কলরব?

হেলমেট বাহিনী ফিরেছে আবার, হাতে অস্ত্র—রক্তে মাখা,
স্বাধীনতার স্তম্ভে আজ কলঙ্কের কালি দিস তুই মাখা!
খুন, হত্যা আর ধর্ষণের উৎসবে আজ কাঁদে রে মানবতা,
জনতার বুকেও কি হাহাকার শুনবি? এই কি তোর নব বারতা?

একই দম্ভ, একই শোষণ—ঘুরিয়ে শুধু নতুন নাম,
বিপ্লবীদের রক্ত চুষে গড়া কি তোর এই গালভরা দাম?
শত্রুতার বিষবৃক্ষ রোপি, হিংসার করিস চাষাবাদ,
ঐক্যের টুঁটি চিপে ধরে করিস কিসের বিপ্লববাদ?

জাতির মুখে আজ একটিই প্রশ্ন—বজ্রকণ্ঠের হাহাকার,
আমরা কি তবে শেকল বদলালাম? কেন ভাঙলো না অন্ধকার?
নব বন্দোবস্তের নামে কেন তবে অপমানের এই নগ্ন খেলা?
সাবধান ওরে দাম্ভিক শোষক! ফুরিয়ে আসছে তোরও বেলা।

ওরে নতুন বেশে পুরনো শোষক, জবাব দিবি কি আজ?
বিপ্লবী সাজে রক্ত চুষিতে তোর কি লাগে না লাজ?
রক্তের দামে কেনা সে মিনার—কেন সে ধূলিত আজ?
কোথায় সে নব বন্দোবস্ত? কোথায় সাম্যের কাজ?

বিপ্লব কখনো পথ হারায় না, পথ হারায় শুধু লোভী মন,
জনতার অধিকার ফিরিয়ে দে তোরা—নইলে জ্বলবে আবার আগুন!
-----------------------------------------------------------------------------


২২-০৪-২০২৬

আমি অন্ধকারে বসে আছি

 আমি অন্ধকারে বসে আছি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
আমি অন্ধকারে বসে আছি—
তোর রাজপ্রাসাদে বিজলি-বাতির উল্লাস নাচে রাতে,
আমার কুটিরে নিঝঝুম রাতি, শিয়রে আঁধার সাথে!
তোর সভাসদে বিদ্যুত-শিখা জ্বলে ওঠে হীরা-জ্যোতি,
আমার পল্লী-মায়ের ললাটে কলঙ্ক-বিভূতি!

দশ ঘণ্টা—বারো ঘণ্টা—নির্ঘুম কাটে গ্রাম,
তোর বিলাস-ভবনে আমার রক্ত-ঘামের বিকানো দাম!
ওরে ভণ্ড কান্ডারী! তুই ক্ষমতার গদিতে অন্ধ,
চোখ খুলে দেখ জঠর-জ্বালায় কল-কারখানা বন্ধ।

কৃষক কাঁদিছে শুকনা মাঠে, সেচ-যন্ত্র যে স্তব্ধ,
শিশুর ললাটে বিন্দু ঘামেরা জাগায় বিপ্লব-শব্দ।
পড়ার টেবিলে ছাত্রের চোখে আঁধার ঘনায় ত্রাস,
বৃদ্ধের বুকে গরমে হাপর—করুণ দীর্ঘশ্বাস।

তোর রাজপথে উৎসব চলে, এসির শীতল ঘোরে,
আর লক্ষ জনতা দহিছে রে আজ লোডশেডিং-এর জোরে!
চলেতো গেল সেই দস্যু দল? গেল কি ফ্যাসিস্ট-ভয়?
তবে কেন আজও রুদ্ধ দুয়ারে জাতির এ পরাজয়?

দুর্নীতিবাজ বিদায় নিয়েছে, গদি হয়েছে যে খালি,
তবে কেন আজও এই জনপদে তিমির-কালিমা বালি?
মুক্তির নামে তবে কি কেবল কুর্সি বদল হলো?
আঁধার ঘোচাতে তবে কেন আজও রবি না উদয় হলো?

ওরে কান্ডারী! আঁখি খোল আজ, জনতার শিরে আয়,
বিদ্যুৎহীন এই ম্লান দেশে দহিছে রে তপ্ত-পায়।
নাহলে আবার প্রলয় আসবে, চূর্ণ হবে এ ঘর,
আঁধারে যাহারা ধুঁকিছে আজ—তারাই সে ভয়ংকর!

আমি তিমিরে বসিয়া প্রতীক্ষা করি নব এক সূর্যোদয়,
যেদিন মিটিবে সব হাহাকার, হবে বিপ্লবের জয়!
-----------------------------------------------------------------


২২-০৪-২০২৬

ছোটদের না বলতে নেই’

 ছোটদের না বলতে নেই’

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*****************************************
শোনো হে বাঙালি, শোনো এক অদ্ভুত উপাখ্যান,
সেবক সেজে যারা চেয়েছিল মানুষের সম্মান।
ভোটের আগে কথা ছিল— ‘নেব না কোনো শুল্কমুক্ত গাড়ি’,
জনতার তরে বিলিয়ে দেব আমাদের সব ঘরবাড়ি।

বেতন-ভাতা, ঐশ্বর্য? ওসব তো কেবল মোহ,
আমরা আসছি আনতে এক নতুন দিনের বিদ্রোহ।
সেবক হবার শপথ নিয়ে গদিটা যখন পেলো,
অল্প দিনেই ভোল বদলে সুরটা বদলে গেলো!

সেবার নামে এখন শুধুই ভোগের আয়োজন,
জনতার কষ্টের টাকা এখন ওদের অতি প্রয়োজন।
বজ্রকণ্ঠে ডাক দিয়ে কয়— ‘অফিস তো মোরা পেলাম,
কিন্তু দামি গাড়ি ছাড়া কি সয় আমাদের এই সালাম?’

ভাড়ার গাড়িতে সেবক চলে? ছিঃ একি দৃশ্যপট!
ক্ষমতার আগে এক রূপ, পরে আজ অন্য খটখট।
মিথ্যাবাদী বলবো ওদের? বলব কি তবে প্রতারক?
নাকি বলবো এই সমাজের নিপুণ মুখোশধারী ধারক?

দৃশ্যপট যা দেখি চারিপাশে, শুভ নয় তার গতি,
সেবকের বেশে আড়ালে বাড়ছে লালসার দুর্গতি।
ওদের গুরুরা শিখিয়ে দেয়— ‘ছোটদের না বলতে নেই’,
চাহিবার সাথে সাথে যেন সব দুয়ার খুলে দেই!

অমুকে পেয়েছে তমুকে পেয়েছে, আমাদের কেন নেই?
জনসেবার বুলি কি তবে হারিয়ে গেল ওখানেই?
পঞ্চান্ন বছরের এই স্বাধিন দেশে এমন তো কেউ দেখেনি,
দাবি আদায়ে নীতি বিসর্জন, আগে তো কেউ শেখেনি।

বৈষম্য দূর করবে যারা, তারাই আজ বৈষম্যের কারিগর,
লজ্জা নামে শব্দটা কি হয়েছে ওদের ভীষণ পর?
কথা আর কাজে মিল নেই যাদের, জনসেবক তবে তারা কই?
ছিঃ! ধিক্কার জানাই তাদের, যারা ক্ষমতার নেশায় মত্ত বই।
------------------------------------------------------ 



২২-০৪-২০২৬

হে অভাগা নারী শিল্পী

 হে অভাগা নারী শিল্পী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
হাতে হাতকড়া, কোমরেতে বেল্ট—একি দেখি স্বাধীনতা?
সিজারের ক্ষত শুকায়নি আজো, এ কেমন বর্বরতা!
দেড় মাস আগে যে শিশুটি পেল জননীর ওম গায়ে,
সে কেন আজকে রক্ত দেখবে শোষকের রাঙা পায়ে?

পৃথিবী অবাক! তাকিয়ে দেখছে মা-মেয়ের এই দশা,
আইনের নামে এ কোন দানব মেলিয়াছে তার থাবা?
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, সে কথা তো জানা আছে,
কিন্তু মাতৃত্ব কেন আজ বলি হবে—অমানবিকতার কাছে?

রাষ্ট্রের কাণ্ডারী! জবাব কি আছে? কেন ওই শিশু জেলে?
নিষ্পাপ মুখটা মলিন হলো যে প্রতিহিংসার রোষানলে।
শিল্পী যদি বা হয় অপরাধী, বিচার তো হবে তবে—
কিন্তু মায়ের কোল থেকে টেনে এ কেমন সাজা হবে?

যে রাজনীতি আজ বিষ ঢেলে দেয় শিশুর দুগ্ধ-পানে,
সে রাজনীতির কবর খুঁড়িতে আমরা যে আজো জানি।
মানবিকতা আজ ডুকরে কাঁদছে লোহার ওই গরাদে,
মানুষের বিচার কেন হবে আজ দানোদের অপরাধে?

হে বিশ্ব! দেখো, স্বাধীন বাংলায় মাতৃত্ব আজ বন্দী,
ক্ষমতার লোভে শাসকেরা করে কত শত কূট-সন্ধি।
তবু জেনো এই শিশুর অশ্রু ঝঞ্ঝা হয়ে নামবে—
অবিচারীদের মসনদ কোনোদিন স্বস্তিতে কি থামবে?

এই নিষ্পাপ শিশুর চোখের জলে ধুয়ে যাক সব দম্ভ,
মাতৃত্ব আজ রক্তে ভিজেছে—লজ্জিত আজ স্তম্ভ!
হে রাষ্ট্রের কাণ্ডারী! বলো—নিষ্পাপ শিশুর কি অপরাধ?
মায়ের সাথে কেন তাকে আজ কারাদণ্ড নির্বাদ?

হে অভাগা নারী শিল্পী! তব অশ্রুসজল নয়ন-নীরে
ভিজেছে মাটি, কেঁদেছে আকাশ স্বাধীন বাংলার তীরে।
তামাম দুনিয়া স্তম্ভিত আজি হেরিয়া এ পাষাণ দৃশ্য,
মমতাময়ী মায়ের বিচারে লজ্জিত আজ বিশ্ব!

জাগো হে জনতা, জাগো হে আদালত, জাগো হে রাষ্ট্রনায়ক,
হিংসার অনলে পুড়ো না আর—হইয়ো না মানবতার ঘাতক।
------------------------------------------------------------------- 



২২-০৪-২০২৬

শুধু তোমার জন্যই

 শুধু তোমার জন্যই

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************
শুধু তোমার জন্যই হৃদয়ের এই অবারিত দ্বার,
আগল দিইনি কোনোদিন, সরাইনি পাহার।
শত বসন্ত এল-গেল, কত ফাগুন ঝরল পথে—
আমি ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম তোমার ফেরার রথে।

সবাই তো বাঁধে ঘর, খোঁজে নতুন কোনো মুখ,
আমার শুধু তোমার স্মৃতিতেই অশেষ সুখ।
জানো? অন্য কারও চোখে আমি হারাইনি পথ,
অন্য কোনো ঠোঁটে খুঁজিনি প্রেমের শপথ।

যেন এক নিঃসঙ্গ মন্দিরে আমি একনিষ্ঠ পূজারি,
তোমার নামে জপি মালা, আমি চির-অহংকারী।
তুমি আকাশ হয়েছ বিশাল, হয়েছ দূরের মেঘ,
আমি আজও মাটি হয়ে সইছি তোমারি আবেগ।

তুমি বুঝলে না এই হৃদয়ের বোবা আর্তনাদ,
আমার বিরহ-নীল আকাশে তুমি একাই পূর্ণ চাঁদ।
দর্শন বলে— প্রেম নাকি মুক্তি, সে তো মায়া নয়,
কিন্তু আমার কাছে তোমায় ভালোবাসাই শ্রেষ্ঠ জয়।

হয়তো কোনোদিন নোনা জলের প্রতিটি ফোঁটা—
বলবে তোমায়, কেন মোর প্রেমে ছিল না কোনো খুঁত বা ফোঁকর।
এখনো খোলা আছে দ্বার, এখনো সেই একই গান,
শুধু তোমার জন্যই তোলা আছে আমার সকল অভিমান।
-----------------------------------------------------


২১-০৪-২০২৬

শুধু ভালবেসেছি বলেই

 শুধু ভালবেসেছি বলেই

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************
শুধু ভালবেসেছি বলেই—
তুমি অবহেলার তলোয়ারে আমায় ক্ষতবিক্ষত করো,
জানতে চাও না, এই রক্তক্ষরণ কতটা নীল;
অথচ আমি তোমার বিষাক্ত নিঃশ্বাসকেও
চন্দনের ঘ্রাণ ভেবে আজীবন আগলে রেখেছি।

শুধু ভালবেসেছি বলেই—
আমার আত্মসম্মান আজ তোমার পায়ের কাছে ধুলোয় লুটায়,
তুমি হাসিমুখে মাড়িয়ে যাও আমার বিশ্বাসের মানচিত্র।
রাতের আকাশ জানে, কতটা নোনা জল জমলে
একটা মানুষ আস্ত একটা সমুদ্র হয়ে যায়—
তবুও তুমি আমায় মরুভূমি ভেবে তৃষ্ণার্ত রেখেছো।

অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছি বলেই কি
আজ চোখের মণির বদলে অন্ধকার উপহার দিলে?
মৌনতার দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে আজ,
হয়তো কোনো এক ঝরা বকুল হয়ে ঝরে যাবো—
তোমার পথের কাঁটা হওয়ার কোনো অধিকার আমার নেই।

শুধু ভালবেসেছি বলেই—
অঝোর শ্রাবণে আজ একাকী ভিজছি আমি,
আর তুমি অন্য কারো রোদে সুখের স্বপ্ন বুনছো।
আমার বিসর্জন হোক তোমার জন্য অর্ঘ্য,
শুধু মনে রেখো—পৃথিবীতে ঘৃণা করা সহজ,
কিন্তু অপমানের বোঝা সয়ে ভালোবাসা অনেক কঠিন।
----------------------------------------------------------


২১-০৪-২০২৬

শেষ চিঠির আর্তনাদ

 শেষ চিঠির আর্তনাদ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************
শুধু ভালোবেসেছি বলেই—
তুমি আমার আকাশের নক্ষত্রগুলো নিভিয়ে দিলে,
জানতে চাইলে না, অন্ধকারের সাথে আমার কতকাল আড়ি;
অথচ আমি তোমার অন্ধকার ঘরে
মোমবাতি হয়ে নিজেকে পুড়িয়েই আলো দিয়েছিলাম।

শুধু ভালোবেসেছি বলেই—
আমার আর্তনাদ আজ তোমার কাছে নিছক অভিনয়,
আমার কান্নার শব্দ আজ তোমার কানে শ্রুতিকটু সুর;
অথচ এই বুক চিড়ে দীর্ঘশ্বাস হয়ে
শুধু তোমার নামটাই বের হয়ে আসে বারবার।

তুমি তো সেই নাবিক, যে তরী ডুবিয়ে হাসো,
আর আমি সেই সাগর, যে ডুবন্ত তরীকে বুকে টানি।
অগাধ প্রশ্রয় দিয়েছি বলেই কি—
আজ অপমানের বিষে আমার কণ্ঠ নীল হয়ে আছে?

যাও, তবে মনে রেখো—
সবাইকে তুচ্ছ করা যায়, কিন্তু সবার ভালোবাসা পাওয়া যায় না।
একদিন আয়নার সামনে দাঁড়ালে দেখবে,
আমার অপমানের দাগ তোমার চিবুকে কলঙ্ক হয়ে লেপ্টে আছে।
--------------------------------------------------------------


২১-০৪-২০২৬

বিপ্লবী যখন পথ হারায়

 বিপ্লবী যখন পথ হারায়

ওরে দিশাহারা বিপ্লবী!
তোর বজ্র-নিশান কেন আজ লুটে ধুলার হীনমন্যতায়?
আদর্শহীন সে বিপ্লব আজ তামাদি—ম্লান মরা জোছনায়!
যে শির ছুঁয়েছিল আকাশ, সে কেন আজ নুয়ে পড়ে অপমানে?
কলঙ্ক-কালিমা লেপন করিস কেন রে নিজেরই রক্ত-গানে?
গৌরব-হীন ইতিহাস তোর—নাই নাই কোনো মহিমা,
প্রতারণার তিলক ললাটে, পাপের যে নাই সীমা!
ওরে ও ছদ্মবেশী!
জনতার বিশ্বাস পুড়িয়ে জ্বালিস নিজের স্বার্থের ধূপ,
তোর অন্তরে হলাহল বিষ, বাইরে যে সাধুর রূপ!
আস্থা হারিয়ে তুই আজ রিক্ত, তুই আজ দেশদ্রোহী,
মরণ-ফাঁসির মঞ্চ তোরে ডাকছে রে পরম মনোযোগী!
ঘৃণার পাত্র হয়ে তুই রচলি যে কালো অধ্যায়,
ইতিহাস তোরে ছুঁড়ে ফেলে দেবে বিস্মৃতির তপ্ত কড়ায়!
ওরে ফ্যাসিস্ট জুলুমবাজ!
ক্ষমার লোভে তুই বিকিয়ে দিলি স্বদেশের পবিত্র ধূলি,
হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে আজ মত্ত হীন স্বার্থের পথ তুলি!
মববাদী ওই দম্ভে তোর দাউদাউ জ্বলে চিতার অনল,
বেয়াদবি তোর ভূষণ আজ—ওরে ও ছলনাময়ী খল!
জুলুমের ওই তলোয়ারে কেন কাটিস মায়ের বুক?
জনতা আজ জাগছে দেখ—শুকাবে তোর ওই শয়তানী মুখ!
জাগো হে জনতা!
রুখে দাঁড়াও আজ আগ্নেয়গিরির রুদ্র-ভয়ঙ্কর তেজে,
ঐ গুপ্তঘাতকের বিনাশ গান দাও রে এবার বেজে!
থুথু দাও ওই বিশ্বাসঘাতকের বিদীর্ণ কুৎসিত মুখে,
ইতিহাসের কালো পাতায় ওরাই রবে কলঙ্ক হয়ে ধুঁকে।
বিপ্লব হবে তখনই সূচি, যখন পুড়বে ঐ আবর্জনা,
আবার জাগবে নতুন সূর্য—ঘুচবে সকল এ লাঞ্ছনা!
-------------------------------------------------


২১-০৪-২০২৬

জাগো হে রাওনাট স্কুল(গান)

  জাগো হে রাওনাট স্কুল(গান) কলমেঃ মোঃ আমিুনল এহছান মোল্লা রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর ******************************************** এই য...