বুধবার, জানুয়ারি ২১, ২০২৬

যে ভাষা রক্ষায় রক্ত ঝরেছিল

 যে ভাষা রক্ষায় রক্ত ঝরেছিল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি—রক্তে লেখা দিন,
শহীদ দিবসের অগ্নিক্ষণে জেগে ওঠে বাঙালির ঋণ।
যে ভাষা রক্ষায় ঝরেছিল রক্ত, নিভেছিল কত প্রাণ,
সে ভাষাতেই বাঁধি আমি গান, হৃদয়ের গভীর টান।

আমি বাঙালি, বাংলা আমার মুখের প্রথম ডাক,
মায়ের কোলের মধুর ভাষা, জীবনের চিরন্তন হাক।
এই ভাষার চেয়ে মধুরতর নেই জগৎ-সংসারে,
শব্দে শব্দে মমতা ঝরে, সুর বাজে অন্তরধারে।

তবু এই ভাষা কেড়ে নিতে এসেছিল জুলুমের হাত,
অত্যাচারী শাসক চেয়েছিল মুছিয়ে দিতে পরিচয়ের ছাপ।
উর্দুর শেকল চাপিয়ে দিতে উঠেছিল নির্মম ঝড়,
ভাষার বুকে আঘাত হেনে ভেবেছিল থামবে স্বর।

রফিক, সালাম, বরকত, জাব্বার—রক্তে লেখা নাম,
একুশের রাজপথে রেখে গেছে অমর সংগ্রাম।
মাতৃভাষার মর্যাদা রাখতে দিয়েছিল জীবন বলি,
তাদের রক্তে ভিজে উঠেছে বর্ণমালার কলি।

আজ সেই বাংলা ভাষা পেয়েছে বিশ্বজুড়ে মান,
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা—শহীদের অমর দান।
-------------------------------------------------


২১-০১-২০২৬

আমি ভাঙি ভেদাভেদ

 আমি ভাঙি ভেদাভেদ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

আমি ভাঙি ভেদাভেদ, আমি গড়ি মানুষের দেশ,
রক্তে রঙিন মানচিত্রে লিখি সমতার বেশ।
ধর্ম-জাত-দল-মতের প্রাচীর আমি ছিন্ন করি,
মানুষের আগে কিছু নয়—এই সত্যে পথ ধরি।

আমি জন্মেছি যে মাটিতে, সে মাটি সবার ঘর,
এখানে কেউ ছোট নয়, কেউ নয় উচ্চতর।
একই আকাশে স্বপ্ন বুনি, একই রোদে পুড়ি,
দুঃখের নদী পেরিয়ে সুখের তীর খুঁজি।

আমি বিদ্বেষের ভাষা ভাঙি, ঘৃণার বিষ ঢালি,
ভালোবাসার উচ্চারণে মানবতার দীপ জ্বালি।
যেখানে বিভাজন শেখায় ক্ষমতার কুটিল খেলা,
সেখানে আমি ঐক্যের গান গাই—অদম্য বেলা।

আমি ইতিহাসের ভারে নত নই, সচেতন সন্তান,
শহীদের রক্তে শেখা আমার সাম্যের বিধান।
স্বৈরতার কণ্ঠরোধে আমি বজ্রস্বরে বলি,
ন্যায়ের পথে হাঁটতে গিয়ে কখনো নত নই, কলি।

আমি ভাঙি ভেদাভেদ—শ্রেণি, বর্ণ, পরিচয়,
মানুষের মর্যাদাই হোক রাষ্ট্রের প্রথম আশ্রয়।
সমতার মশাল হাতে ভবিষ্যৎ পথে যাই,
মানুষই আমার ধর্ম—এই সত্যে দাঁড়াই।

আমি ভাঙি ভেদাভেদ, আমি গড়ি নতুন কাল,
যেখানে কেউ নয় পরাজিত, কেউ নয় কঙ্কাল।
এই স্বদেশ, এই সমাজ, এই মানবিক বীজ বেই—
আমি সমতার শপথ নিই, আমি সাম্যের গান গাই।
--------------------------------------------------


২১-০১-২০২৬

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২০, ২০২৬

তুমি বলার কে?

 তুমি বলার কে?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************

ওহে মূর্খ, চুপ করো, তুমি বলার কে?
আমার ভোট, আমার অধিকার, তুমি বাঁধা দাও কেন?
আমি যাকে চাই তাকে দেবো, তা আমার স্বাধীনতা।
ভয় দেখাও কেন? জোরে ডাকো না মবতন্ত্রের সাড়া।

আমার নেতা, আমার শাসক—আমি বেছে নেবো!
হ্যাঁ কিংবা না—এটা আমার রক্তের প্রশ্ন।
স্বাধীন দেশের স্বাধীন ভোটার আমি,
আমার কণ্ঠ কে বন্ধ করতে পারে, শুনে নাও জনতার ডাক।

আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী,
ঘৃণা করি স্বৈরতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ, জোর-জুলুম।
তোমার লাঠি আমার ভোটে বাধা হবেনা,
নিরপেক্ষ থাকো, হে শাসক, আয়োজন করো সুষ্ঠু ভোটের।

আমি যাকে ইচ্ছে তাকে দেবো,
বাংলাদেশ চেতনায় আস্থা রাখি,
যোগ্য নেতাকে বেছে নেবো,
আমার ভোট, আমার দেশ, আমার অধিকার—সবই আমার!

ওহে মূর্খ, শুনো আবার,
তুমি বলার কে?

--------------------------------------------------------------------------


২০-০১-২০২৬

মিথ্যার অশ্বে বাংলাদেশ

 মিথ্যার অশ্বে বাংলাদেশ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************
আমি দেখি—
মিথ্যার অশ্বে চড়ে দেশ ছুটে যায় উন্মাদ,
প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি, অন্তরে বিষাদের খাদ।
শান্তির দূত বলে যারা, বুকে তাদের হিংস্র ছুরি,
স্বাধীনতার নামে বেঁধে দেয় শিকল, শাসনের দড়ি।

গণতন্ত্র ডাকে মঞ্চে— কণ্ঠ তার রুদ্ধ আজ,
শাসকের মুকুটে নেই ন্যায়, আছে ক্ষমতার সাজ।
নতুন বন্দোবস্ত হাঁকে, পুরোনো শেকলের গান,
নতুন মুখে পুরোনো নখ— ফ্যাসিবাদের দানবীয় টান।

নিরপেক্ষতার নামে চলে পক্ষপাতের খেলা,
বন্ধুত্বের মুখোশে লুকায় মীর জাফরের রক্তেলা।
মুক্তিযোদ্ধা নামে যারা, চেতনা তাদের কোথায়?
মুক্তিযুদ্ধের আগুন নিভে ছাই হয় হৃদয়প্রায়।

শ্লোগানে বাংলাদেশ, আত্মায় তার শূন্যতা,
নেতা-জনতার মাঝে আজ নিখোঁজ দেশপ্রেমতা।
সাধুতার জোব্বায় ঢেকে অসাধুতার দাঁত,
বিচারালয়ে ন্যায় কাঁদে, শোনে না কেউ তার আর্তনাদ।

প্রতিবাদীর কণ্ঠ আজ কেন নিস্তব্ধ পাথর?
কবির কলমে কেন জমে সুবিধাবাদের কাঁকর?
চুরি আর লুটে ভরে পথ, ঘাট, ক্ষমতার সিংহাসন,
মসনদ মানেই আজ রক্তমাখা লেনদেনের ব্যাকরণ।

চরিত্রের কপালে জ্বলে মুনাফিকির তিলক,
লাল-সবুজ পতাকা কাঁপে— ভবিষ্যৎ হয় স্থবির শিলাখণ্ডিক।
শুভ্রতার বুকে নামে কালো রাতের খেলা,
মুক্তিকামী জনতার মাঝেও নেই মুক্তির জ্বালা।

আমি বিদ্রোহী কণ্ঠে বলি— শোন হে অবসন্ন দেশ,
সত্যকে ফেরাও সিংহাসনে, ভাঙো মিথ্যার বেশ।
নইলে ইতিহাস ডাকবে বজ্রকণ্ঠে বারবার—
মিথ্যার অশ্বে চড়া জাতি, পতন তার অনিবার্য আর।
------------------------------------------------


২০-০১-২০২৬

দুর্ভিক্ষের কবলে রান্নার গ্যাস

 দুর্ভিক্ষের কবলে রান্নার গ্যাস

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

হে শাসক, শোনো—শুনেছ কি জনতার হাহাকার?
ঘরে ঘরে নিভে আছে চুলা, নিঃশ্বাসে জমে ক্ষুধার ভার;
নিরীহ এই জনতার দোষ কোথায়—বল, কারে?
প্রশ্নে প্রশ্নে জ্বলে ক্ষোভ, উত্তর চায় জনতা বজ্র স্বরে।

স্বপ্নের মিছিল দেখিয়েছিলে—রঙিন পতাকা আর গান,
আজ দোরগোড়ায় দুর্ভিক্ষ, শূন্য থালা, শুকনো প্রাণ;
সারা বাংলা জুড়ে সিন্ডিকেটের লৌহ-প্রহর,
স্বাধীন দেশে পরাধীনতার ডঙ্কা বাজে দুরন্ত দুর্বার!

গ্যাসের এতো দাম কেন—কে দিল এই বিচার?
ক্রয়ের সীমা ছাপিয়ে গেল—ভাঙল ন্যায়ের প্রাচীর-দ্বার;
এ কি নতুন বন্দোবস্ত—মুষ্টিমেয়র রাজ্যকার?
জনতার কাঁধে বোঝা চাপিয়ে হাসে মুনাফার কারবার।

আজ নিরাপত্তা নেই, নেই কাজ, নেই অধিকার,
দিকেদিকে প্রতিবাদী কণ্ঠ—রুদ্ধ হয়ে আসে বারংবার;
শুনেছি তুমি শান্তির দূত—তবে অরাজকতা কেন?
শান্তি কি আসে ক্ষুধার পেটে, নাকি শোষণের সেনা বেন?

মুক্তি চায় জনতা—গ্যাসের দুর্ভিক্ষ হতে,
নিভে থাকা চুলায় আগুন চাই, ন্যায়ের আলো জ্বালাতে;
সিন্ডিকেট ভাঙো, দুঃশাসন ছেঁটো—আজই শপথ নাও,
জাগো হে বাঙালি—প্রচণ্ড বিপ্লবে অন্যায় রুখে দাঁড়াও।
---------------------------------------


২০-০১-২০২৬

সোমবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২৬

শিক্ষাই যুদ্ধজয়ী তলোয়ার

 শিক্ষাই যুদ্ধজয়ী তলোয়ার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************************

শিক্ষা আলো, অন্ধকার চিরে,
মন-মাঝে জাগে শক্তি, জ্ঞানের মিরে।
শব্দের ক্ষুরে, জ্ঞানের তরোয়ালে,
অজ্ঞান অন্ধকার ভেঙে যায় খালে।

কলম হাতে, শিখা জ্বলে,
অজ্ঞানীর প্রাচীরও চূর্ণে ভেঙে ফেলে।
পাঠশালার ধ্বনি শোনায় গান,
শিষ্য হয়ে ওঠে জয়ের প্রমাণ।

বন্দুক নয়, হাতে কলম ছুরি,
সাহস জাগে, ভয় নয়, শুধু দুর্বার দূরী।
শিক্ষাই যুদ্ধজয়ী তলোয়ার,
সত্যের পথে অমর মহার।

জ্ঞান ছড়ায়, অজ্ঞান চলে,
পৃথিবী আলোয় ভরে, শান্তির দেশে।
যার হাতে শিক্ষা, তার জয় নিশ্চিত,
শত্রু হয় দুর্বল, জ্ঞান হয় চির অম্লানিত।
----------------------------------------


১৯-০১-২০২৬

ইসলামের আহ্বান

 ইসলামের আহ্বান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************

জাগো হে মুসলিম! জাগো—ভাঙো কুফরের শৃঙ্খল,
আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে কাঁপুক মিথ্যার মঙ্গল।
রাহমানের নূর ঝরে আয়াতে, বিদীর্ণ আঁধার,
কোরআনের বজ্রকণ্ঠে নীরব হোক জুলুম-অবিচার।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ—এই আমার তলোয়ার,
শির্কের দুর্গ ভাঙে আজ তাওহিদের হুঙ্কার।
মুস্তাফার (সাঃ)পথই পথ, সত্যেরই নিশান,
তিনি দীন এনেছেন—রহমত, আদল আর ইমান।

নামাজ আমার মেরাজ, রোজা আমার ঢাল,
যাকাত আমার বিপ্লব—ভাঙে দারিদ্রের জাল।
হজ আমার মিলন-মিছিল, উম্মাহর ঐক্যগান,
কাবার তলে একাকার আরব-আজম-ইরান।

আমি সেই দীন মানি না—যে দীন কেবল বুলি,
যে দীন জুলুম দেখে চুপ, মুখে মধু, মনে ছুরি।
ইসলাম মানে ইনসাফ, ইসলাম মানে হক,
জালিমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো—এই দীনই তো শক্ত।

হে ইনসান! ফিরো রবের দিকে, ফিতরাতের ঘরে,
নূরের স্রোত বইছে আজ ইসলামের ঝরে।
দুনিয়া নয় শেষ ঠিকানা, আখিরাতই আসল,
ইসলামের ছায়াতলেই মুক্তির পূর্ণ ফসল।

জাগো! আবার জাগো! এই আমার বিদ্রোহী ডাক,
নবীর (সাঃ) উম্মাহ হও—ভাঙো ভয়, ভাঙো ফাঁক।
ইসলামের আহ্বান আজ আগুনের মত সত্য,
নূরের মশাল হাতে চল—এই দীনই চির-মুক্তি।
------------------------------------------


১৯-০১-২০২৬

নিঃস্বার্থ জনসেবকের বিদায়

 

নিঃস্বার্থ জনসেবকের বিদায়
- মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

নিঃস্বার্থ জনসেবকের বিদায়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************
আজ আকাশ নতজানু, বাতাস ভারী শোক,
সূর্য ঢেকে রাখে মুখ—নিভে যায় আলোর লোক।
দূর্গাপুরের মাঠে মাঠে শিশির নয়, অশ্রু,
জনতার বুকের ভেতর জমে থাকা দীর্ঘ বিষণ্ন স্পর্শ।

এই মাটির বুকে হেঁটেছিলেন যিনি আলো হয়ে,
জনাব গিয়াস উদ্দিন—মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিরবে।
সাবেক চেয়ারম্যান তিনি, দূর্গাপুর ইউনিয়ন,
নামে নামে জড়িয়ে আছে সেবার অমলিন কীর্তিগাথন।

সহজ জীবন, সরল মন, মার্জিত ব্যবহার,
শিক্ষিত হয়েও অহংহীন—এই ছিল তার পরিচয়ভার।
জনতার চোখের ভাষা বুঝতেন নিঃশব্দ চাহনিতে,
দুঃখের ভারে নুয়ে পড়লে পাশে থাকতেন মানবিকতায়।

সৎ ও যোগ্য বিচক্ষণতায় দৃঢ় ছিল তার পথ,
দুর্নীতির ছায়া ছুঁতে পারেনি সেই সততার রথ।
সবাইকে আপন করে নিতেন হাসিমুখে ডেকে,
দলমত ভুলে মানুষ দেখেছেন মানুষ হিসেবেই একে।

নদী আজ থমকে গেছে, পাখি ভুলেছে গান,
গাছেরা নুয়ে পড়ে যেন হারিয়েছে অভিভাবক প্রাণ।
দূর্গাপুরের ধূলিকণায় লেখা তার সাধ,
উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে ছিল তারই হাত।

পরহেজগার, ঈমানদার, ধর্মভীরু অন্তর,
মানবতায় বিশ্বাস ছিল—এটাই ছিল তার মন্ত্র।
অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়া উদার মন,
সব ধর্মের মানুষে দেখেছেন এক অভিন্ন জন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা তিনি, লাল-সবুজের ঋণ,
রক্তে লেখা স্বাধীনতার বহনকারী ঋদ্ধ দিন।
হাস্যোজ্জ্বল মুখখানি আজ স্মৃতির আয়নায়,
আকাশ খোঁজে সেই হাসি—পায় না কোথায়।

বারবার নির্বাচিত—জনতার অবিচল রায়,
ভালোবাসার ভারেই তার নাম ইতিহাসে রয়।
“নিজে খেয়ে মোমবাতি”—এই শ্লোগানে মুখর জনতা,
আজ সেই আলো নিভে গিয়ে কাঁদে পুরো জনপদটা।

তার বিদায়ে শূন্যতা—ভরবার নয় কালে,
এ শূন্যতা লিখে রাখে সময় নিজ হাতে।
দলমত ভুলে সবাই আজ এক কাতারে নত,
কারণ তিনি ছিলেন মানুষ—সেবায় অনড়, অবিচলত।

হে মহান আল্লাহ, দয়া করো অশেষ,
জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দাও—এই প্রার্থনাই শেষ।
নিঃস্বার্থ এই সেবকের স্মৃতি থাকবে অমর,
যতদিন মানুষ বাঁচে—ততদিন গিয়াস উদ্দিন নামের আলো ঝরঝর।
----------------------------------------------


১৯-০১-২০২৬

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৩, ২০২৬

রোগী দেখা

 রোগী দেখা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

রোগীর ঘরে পা রাখিলে নরম করো মন,
নবীজি বলেন—এ সেবা ইমানেরই ধন।
দু’চোখ ভরা মমতা নিয়ে বসো তার পাশে,
আল্লাহ তখন ফেরেশতা পাঠান তার আশে।

“লা বাসা তাহূরুন”—এই দোয়া মুখে আনি,
ব্যথার মাঝে আশার আলো জ্বলে ওঠে প্রাণে।
এক পা এগোলেই সওয়াব ঝরে অনবরত,
হাদিসে বলে—হাঁটলে ঝরে গুনাহ শত।

রোগীর অশ্রু মোছানোই বড় ইবাদত,
দয়ার হাতে ধরা থাকে রহমতের সনদ।
আহাজারির ফাঁকে বলো সবরের কথা,
কোরআন বলে—সবরেই লুকায় মুক্তি-পথা।

রোগী দেখে ফিরো যখন নীরব কদমে,
হৃদয় ভরে থাকে দোয়া আল্লাহর নামে।
এ সেবা নয় শুধু কাজ, নয় কেবল দেখা—
রোগী দেখা মানেই যেন জান্নাতের লেখা।
-----------------------------------------------------


১৩-০১-২০২৬

শান্তির কাছে প্রশ্ন

 শান্তির কাছে প্রশ্ন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************

হে শান্তি! তুই কোথায় লুকালি—
মরুভূমির বুকে নাকি রক্তজলে ভাসালি?
স্বাধীন রাজ্যে কেন ভাঙনের হাহাকার,
এক পতাকার তলে কেন শত শত অন্ধকার?

আমি নিরীহ জনতা—কেন নিরাপত্তা ভিখারি?
কেন আমার অধিকার আজ লুণ্ঠনের বাজারি?
কেন আমার বাক্‌স্বাধীনতা শিকলবন্দী কণ্ঠে,
সত্য বললেই কেন বজ্র নামে রাষ্ট্রের মুষ্টিতে?

মাতৃকার বুকে কেন মবতন্ত্রের ফসল,
মানুষের হাতে মানুষ খুন—আইন আজ অচল!
শান্তির খামে কেন রক্তাক্ত ফরমান,
কার লালসায় শূন্য হলো রাজ্যের ভাণ্ডারখান?

কেন বেকারত্বের অভিশাপে যুবা নিঃস্ব,
কেন ধর্মান্ধের উন্মাদনায় বিবেক আজ নিঃশেষ?
কেন মুক্তিযোদ্ধার গলায় অপমানের জুতা,
যাদের রক্তে জন্ম দেশ—আজ তারাই কেন লাঞ্ছিতা?

গণতন্ত্র কেন কারাগারে শিকলবন্দী,
কার ভয়েতে কাঁপে ভোট, কাঁপে জনমত বন্দী?
আমার কবিতা কেন মুছে দিলে কালির আগে,
ভয় পাও নাকি সত্যকে—বিদ্রোহী শব্দের আগুনে?

কেন মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধেই তোমার নীরবতা,
কেন ইতিহাস বদলায় ক্ষমতার সুবিধামতা?
ন্যায়বিচার কেন থমকে যায় দরজার প্রান্তে,
কার আদেশে চোখ বুজে থাকে আদালতের কণ্ঠে?

বলো, শান্তির গভীরে এতো অশান্তির ঢেউ কেন?
শান্তির ভিতরেই কেন ভয়তন্ত্রের দহন?
দিকে দিকে বৈষম্য—মানুষ কেন খণ্ডিত,
এক দেশের সন্তান হয়েও কেন এত ভিন্নচিত্ত?

আমি তো চেয়েছিলাম মুক্তির অগ্নিস্নান,
চেয়েছিলাম শান্তি—ভয়ের নয়, ন্যায়ের বিধান।
হে শান্তি! যদি তুই শুধু শাসকের অলংকার,
তবে বিদ্রোহই আমার ধর্ম—বিদ্রোহই আমার উচ্চারণ আর!
----------------------------------------------------------


১৩-০১-২০২৬

অবুঝের মত (গান)

  অবুঝের মত (গান) কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা স্থানঃ রাওনাট - কাপাসিয়া - গাজীপুর তারিখঃ ২১ - ১১ - ২০২৪ ইং ********************...