মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬

শহীদের রক্ত ভেজা মাটিতে

 শহীদের রক্ত ভেজা মাটিতে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************************
লাল সবুজ ফুল ফোটে স্বাধীনতার বাগানে,
জাগো হে কান্ডারী, রক্ষা কর চিরন্তন প্রাণে।
শহীদ রক্তে ভেজা মাটি আমাদের অমল ধ্বনি,
চিরকাল বাঁচুক দেশ, মুক্তি পাক অমল আঁধনি।

শহীদ রক্তে ভেজা মাটি লাল সবুজে ফোটা,
পিপাসু হানাদারের নৃশংসে মা বোনের রোটা।
মীর জাফরের রক্তধারা ভুলতে চায় শহর গঞ্জ পথ,
বিশ্বাসঘাতকের মহড়া থামে না, শকুন চেপে রাখে শক্ত।

লাল সবুজ ফুলের পাঁপড়ি খসে যায় অন্ধকারে,
দেশবিরোধী কীটপতঙ্গ থাবায় মরে হাহাকারেঃ।
বাগানের প্রহরী বোঝে না স্বাধীনতার মর্মবোধ,
পরাধীনতার ঘনঘটা আজও চিত্তে ঘনিয়ে অসহায় মোড।

স্বৈরতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ, লুটতন্ত্র, ভয়তন্ত্র, মবতন্ত্র,
অরাজকতা, বিচারহীনতা ফেরে আজ আসামীদের পত্র।
মুক্তিযোদ্ধা কারারুদ্ধ, কবির কবিতা নিঃশব্দ,
শিল্পীর গান, সাহিত্য অক্ষরহীন হয়ে যায় অব্যক্ত।

বাঙালি সংস্কৃতি শশ্মানে, উর্দুর গান বাজে মিনারে,
স্বাধীনতার স্তম্ভগুলো ধূলিতে মিশে ধ্বংসের তালে।
দেশদ্রোহীর উন্মাদনায় জ্ঞানী গুনিজন অপদস্ত,
স্বাধীন কাননের লাল সবুজ ফুল আজ অসহায় হস্ত।

লাল সবুজ ফুল ফোটে স্বাধীনতার বাগানে,
জাগো হে কান্ডারী, রক্ষা কর চিরন্তন প্রাণে।
শহীদ রক্তে ভেজা মাটি আমাদের অমল ধ্বনি,
চিরকাল বাঁচুক দেশ, মুক্তি পাক অমল আঁধনি।
-------------------------------------------------


১০-০২-২০২৬

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬

বজ্র কণ্ঠে বলো হে কবি

 বজ্র কণ্ঠে বলো হে কবি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

বজ্র কণ্ঠে বলো হে কবি—এই ভূমি রক্তে আঁকা,
লক্ষ শহীদের বুকের আগুনে স্বাধীনতার শপথ ঝাঁকা।
মা–বোনের লাঞ্ছিত অশ্রুতে ধুয়ে গেছে শত নদীর জল,
পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বহে রক্তিম ইতিহাসের ঢল।

শহীদের রক্তে মাখা বর্ণে জেগেছে বাংলা ভাষা,
গুলির মুখে উচ্চারিত সে অমর অক্ষরের আশা।
সংগ্রামের বজ্রনিনাদে লাল-সবুজ পতাকা উড়ে,
অগণিত যুদ্ধের স্তম্ভে গর্বিত বাংলাদেশ দাঁড়ে।

পথে-ঘাটে, প্রান্তরে বাজে শহীদ গাজীর ডাক,
বধ্যভূমি, স্মৃতিসৌধে জ্বলছে অম্লান রক্তচাক।
এই দেশ অসাম্প্রদায়িক—শুনো হে কুটিল মন,
মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—একই মায়ের সন্তান।

পাহাড়-সমতল, উঁচু-নীচু—সব ভূমি বাঙালির,
এই মাটিতে জন্ম স্বাধীন, মাথা নত নয় কারওর।
দেশদ্রোহী, স্বাধীনতা-ঘাতী—নেই তাদের ঠাঁই,
বাংলার বুকে বিষবীজ বুনতে দেব না আর তাই।

জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ, সিন্ডিকেটের কালো ছায়া,
বিদ্রোহী জনতার ঝড়ে হবে ধূলিসাৎ মায়া।
আমরা সবাই স্বাধীন বাংলার মুক্ত মানুষের দল,
“আমার সোনার বাংলা” গেয়ে ভাঙি শৃঙ্খল-জাল।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান আমাদের শিরা,
অশুভশক্তি ধ্বংসে আমরা শহীদ গাজীর উত্তরাধিকার।
জাগো হে, জাগো হে বাঙালি—বজ্র হাতে তোলো অস্ত্র,
স্বাধীনতা-বিরোধী অশুভ চক্র করো চূর্ণ-বিধ্বস্ত।

তীব্র হোক বিপ্লবের সুর, ঝংকারে ভাঙুক রাত,
যোদ্ধার আগুনে জ্বলো—বাংলা হোক অপ্রমাদ।
---------------------------------------------------


০৯-০২-২০২৬

আমি চিনতে পারিনি

 আমি চিনতে পারিনি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************
আমি চিনতে পারিনি পৃথিবীর প্রেম-বৈচিত্র্য রূপ,
ভালবাসার হাজার মুখে লুকানো অদৃশ্য কূপ।
চিনতে পারিনি মানবতার শ্রেণীভেদী দেয়াল,
মানুষের মাঝে মানুষে কেন এত ব্যবধান জাল।

চিনতে পারিনি বন্ধুত্বের সত্য-মিথ্যার দাগ,
বন্ধু বলে ডাকলেও অন্তরে জমে থাকা ফাঁক।
চিনতে পারিনি প্রেমিক-প্রেমিকার প্রেমের ভাষা,
কথার আড়ালে কাঁদে যে হৃদয়ের নিঃশব্দ পিয়াসা।

চিনতে পারিনি দেশ-নেতৃত্বের আদর্শ-চিহ্ন,
ক্ষমতার মুকুটে ঢাকা নীতির ভাঙা নীল সিংহাসন।
চিনতে পারিনি দেশপ্রেমিকের নিখাদ প্রেম,
কে আত্মত্যাগী, কে শুধু শ্লোগানে বন্দী নাম-সেম।

চিনতে পারিনি প্রেমিকার হাসির রহস্য-ঢেউ,
হাসির ভেতর কতটা কান্না লুকিয়ে থাকে যে কেহ।
চিনতে পারিনি পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের রং,
মুখে নীতির গল্প, কাজে অন্যায় ভিন্ন ঢং।

কে হক, কে বাতিল—এই প্রশ্নে ভেঙে যায় মন,
সবাই সত্যের দাবিদার, তবু সত্য থাকে গোপন।
কে সত্য, কে মিথ্যা—চেনার নেই যে দিশা,
আলোয় ঢাকা মিথ্যাই যেন সবচেয়ে উজ্জ্বল ভাষা।

মনে হয় কেন জানি ইতিহাসের অভিশাপ,
মীর জাফরের রক্তধারা বহে রন্ধ্রে রন্ধ্রে নিঃশ্বাস-তাপ।
বিশ্বাসঘাতকের ছায়া অবলীলায় করে বাস,
বাঙালির অন্তঃস্রোতে নীরব বিষাক্ত শ্বাস।

আমি চিনতে পারিনি স্বদেশপ্রেমিকের দল,
কে দেশকে ভালোবাসে, কে চায় কেবল ফল।
চিনতে পারিনি ধর্মপ্রচারকের মর্মভেদী গান,
ইবাদতের আড়ালে লুকানো বিভেদের তীর-ধান।

চিনতে পারিনি ধর্মীয় উগ্রতার কালো মুখ,
যেখানে ঈশ্বরের নামে জ্বলে মানুষের দুঃখ।
চিনতে পারিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানে,
সহাবস্থানের সৌন্দর্য যে কত গভীর প্রাণে।

আমি এখনো মূর্খ—এই স্বীকারোক্তি সত্য,
জ্ঞান ভেবে যা আঁকড়ে ধরি, তা-ই সবচেয়ে অপ্রত্যয়।
বুঝতে পারি না কবিতা অর্থ আসলে কী,
শব্দ না কি দায়, নাকি বিবেকের নগ্ন আর্তি?

বুঝতে পারি না বাঙালি সংস্কৃতি কোন সুর,
লোকগানের মাটি, না কি নকল জৌলুসের নূর।
বুঝতে পারি না মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানে,
রক্তের ঋণ কি শুধু মঞ্চের বক্তৃতার টানে?

কি রহস্যে ঘেরা এই বাঙালি জাতি,
হাসে-কাঁদে একসাথে, তবু ভাঙে প্রতি রাতি।
স্বাধীন হয়েছি বটে, স্বাধীনতা বুঝিনা আজ,
শৃঙ্খল ভাঙার ভাষা ভুলে শিখেছি কেবল সাজ।

শুধু মিথ্যার শ্লোগান দিতে আমরা বড়ই পারদর্শী,
সত্যের ভার বইতে গেলে হয় অস্বস্তি, হয় হিংস্রতা-দর্শী।
তবু এই না-চেনার বেদনা থেকেই প্রশ্ন জাগে,
অজ্ঞানতার অন্ধকারেই কি আলোর জন্ম লাগে?

আমি চিনতে পারিনি—এই স্বীকারে আছে বীজ,
হয়তো একদিন চিনব, ভাঙব মিথ্যার রঙিন ফ্রিজ।
যে দিন প্রশ্ন করতে শিখব, ভয় ছাড়িয়ে মন,
সেই দিনই হয়তো কবিতা হবে মানুষের জীবন।
------------------------------------------------------


০৯-০২-২০২৬

আমি এক গোধূলী সূর্য

 আমি এক গোধূলী সূর্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

আমি এক গোধূলী সূর্য আজ, অস্তের পথে দাঁড়িয়ে,
সামনে অনন্ত সফর ডাকে, হিসাবের মাঠ ছড়িয়ে।
হে পৃথিবীর প্রাণ, শোনো আজ অন্তরের ভাষা,
আমার মতো তুমিও একদিন হবে গোধূলীর আশা।

আমি এক গোধূলী সূর্য আজ, আলো শেষের প্রান্তে,
রূহ কাঁপে আয়াতের ভয়ে—“ফিরে এসো রবের কাছে।”

চুল ঝরে গেছে, দাড়ি সাদা, শক্তি গেছে ক্ষয়,
চামড়ার ভাঁজে লেখা পড়ে—সময় বড় নির্ময়।
আর কেউ ডাকে না যুবক বলে, না ডাকে স্নেহভরে,
নামটা পড়ে ধূলোর নিচে, বিস্মৃতির অন্ধ ঘরে।

নেতৃত্বের ডাক থেমে গেছে, নীরব সমাজ-রাষ্ট্র,
আমি আজ যেন অদৃশ্য মানুষ—চলমান এক শ্মশান-বাস্ত।

গোধূলী রঙে ডুবে যাচ্ছে আকাশ-পাতাল-ধূলি,
মাগরিব ডাকে কানে কানে—সময় ফুরায় কুলি।
সোনালি হয় দিগন্তরেখা, কাঁপে অন্তর-প্রাণ,
তবে কি আজ মালাকুল মউত রাখে আমার নাম?

“কুল্লু নাফসিন”—এই সত্যে থেমে যায় অহংকার,
জীবন যে ধার করা শ্বাস—ভুলে ছিলাম বারবার।

কোথায় গেল অবুঝ শিশুকাল, মায়ের কোলে ঘুম?
কোথায় কিশোর দুরন্ত দিন, চোখে আগুন-ধূম?
যৌবনের সে উদ্দাম ঢেউ, দম্ভ আর উল্লাস,
আজ সব স্মৃতি কবর নিলো—রইলো শুধু নিঃশ্বাস।

কোথায় সে স্ত্রী, সন্তানের ডাক, “বাবা” বলা মুখ?
কোথায় সে প্রেমিক হৃদয়ের উথাল-পাতাল সুখ?

এই দুনিয়া বড় ক্ষণিক, ছায়ার মতো মায়া,
প্রেম-ভালবাসা, মমতা সব—পরীক্ষারই ছায়া।
যা কিছু ছিল আপন ভেবে, আজ সবই পর,
শুধু আমল সঙ্গী হবে—কবর থেকে হাশর।

হে রব, অস্তের আগে দাও তাওবা করার শক্তি,
ভাঙা প্রাণ জোড়া লাগিয়ে দাও ইমানের ভক্তি।

আমি এক গোধূলী সূর্য আজ, অস্তের পথে দাঁড়িয়ে,
যেন অস্তের মাঝেই জ্বলে উঠি—রহমতের আলো হয়ে।
-----------------------------------------------------


০৯-০২-২০২৬

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬

একুশের কাঠগড়ায় আমরা

 একুশের কাঠগড়ায় আমরা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

যে ভাষার তরে বুক পেতে দিয়েছিলাম,
ঘাতক বুলেটের মুখে দাঁড়িয়ে নির্ভীক,
সে ভাষার ঋণ কি শোধ হলো এত সহজে?
নাকি আমরা হলাম স্মৃতিভ্রষ্ট, অকৃতজ্ঞ, নীরব।

রক্তে লেখা বর্ণমালা, শহীদের স্বাক্ষর,
সালাম–বরকত–রফিকের জ্বলন্ত নাম,
সে নাম কি আজ কেবল পুষ্পস্তবকে?
নাকি হৃদয় থেকে মুছে গেল সম্মান?

এ প্রজন্ম কি জানে ইতিহাসের দাম?
জানে কি একুশ মানে মাথা নত না করা?
নাকি সুবিধার ভিড়ে ভুলে গেছে সব,
ভাষার মর্যাদা বিকিয়েছে সস্তা সুরে?

শহীদ মিনারের পাদদেশে বাজে উর্দু গান,
ভাষার মাসে—এ কোন লজ্জার অধ্যায়?
মাইকের শব্দে কাঁপে শহীদের কবর,
প্রশাসন নীরব—এই নীরবতাই অপরাধ।

বিশ্ব জানে—আমরাই একমাত্র জাতি,
মাতৃভাষার তরে দিয়েছি রক্ত,
সে রক্তে জন্ম নিয়েছে আন্তর্জাতিক দিবস,
আর আমরা আজ সেই দিবসে উদাসীন।

তবে কি আমরা মীর জাফর হয়ে গেছি?
স্বার্থের কাছে বিক্রি করেছি ইতিহাস?
যে জাতি ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিল,
সে জাতিই কি আজ ভাষার পাহারাদার নয়?

ও একুশ, ক্ষমা করো আমাদের ব্যর্থতা,
ক্ষমা করো আমাদের ভুলে যাওয়া,
তোমার রক্তে লেখা শপথ আবার জাগুক,
বাংলা বাঁচুক—এই হোক প্রতিজ্ঞা।

যতদিন বাংলা আছে প্রাণে ও কথায়,
ততদিন একুশ থাকবে অম্লান,
শহীদের ঋণ শোধ হবে না কেবল ফুলে,
শোধ হবে ভাষার মর্যাদা রক্ষায়।
-----------------------------------------------------


০৮-০২-২০২৬

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬

কল্লু নাফসি যাইকাতুল মাউথ

 কল্লু নাফসি যাইকাতুল মাউথ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

কল্লু নাফসি যাইকাতুল মাউথ—আল্লাহর হাঁক,
আরশ কাঁপে, লওহ কাঁপে, কেঁপে ওঠে পাক।

দুনিয়া ফানী, ক্ষণিক ছায়া, সরাবের ঘোর,
এক আল্লাহ বাকী—বাকি সব মিথ্যার ডোর।

নাফস বলে “ভোগ কর”, কবর বলে “থাম”,
আজ যে সিংহাসন, কাল সে-ই অন্ধকার নাম।

আজান যখন ফজরে ফাটে আসমান-সিনা,
ঘুমে যারা ডুবে থাকে—তারা মৃত বিনা।

দেহ যে মাটি, রূহ যে বন্দী—আজব কারাগার,
মালিক ডাকলে খুলে যাবে কবরে সব দ্বার।

হাশরের মাঠে পা কাঁপাবে সূর্যের আগুন,
মাথার ঘামে ডুববে অহং, শুকাবে না রক্তরুণ।

পিতাও বলবে “নাফসি নাফসি”, সন্তানও ভয়,
সেদিন শুধু আমল হবে তোর একমাত্র সয়।

নামাজ ছিল? চোখের পানি? জিকিরের দাগ?
নাকি নাফসের বাজারে তুই বিকিয়ে দিলি পাক?

মাউথ কি শেষ? না—সে শুরু ভীষণ বিচার,
জান্নাত-জাহান্নাম ডাকে—ভয়ংকর অধিকার।

বিদ্রোহী ইশ্কে কাঁদি এ গজল, সিজদার তলে,
মৃত্যু নয় শেষ—হিসাব শুরু রবের ডাকে।
-------------------------------------------


০৫-০২-২০২৬

ঈমানের ধ্বনি

 ঈমানের ধ্বনি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান েমাল্লা
রাওনাট,াকপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

বল আল্লাহ এক, অনন্য, অদ্বিতীয়
সত্তা গুণ শক্তিতে তিনি এককীয়
সমদ তিনি, সবার চির আশ্রয়স্থল
সৃষ্টির সকল চাহিদা মেটে সফল

তিনি জন্ম দেন না, নেননি জন্মও
সময়-সীমা তাঁকে বাঁধে না কখনো
আদি অন্তহীন তিনি, চির অবিনশ্বর
নূরের সাগর, সত্যে তিনি চির ভাস্বর

কেউ নয় সমকক্ষ তাঁর সত্তার পাশে
রূপে গুণে শক্তিতে তুলনা নাশে
আকাশ জমিন চলে তাঁরই হুকুমে
নিয়ম ভাঙে না কিছু তাঁর শাসনে

এই সূরাই তাওহিদ, ঈমানের ধ্বনি
একত্বে ভাঙে বহুত্ব—শিরক ধ্বংসনী
--------------------------------------------------


০৫-০২-২০২৬

সকল প্রশংসা তাহারই

 সকল প্রশংসা তাহারই

কলমে মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

বিসমিল্লাহ বলি আমি, দয়ার আদিপাঠ,
রহমান তিনি, রহীম তিনি, করুণার প্রভাত।
সকল প্রশংসা তাঁহারই, জগতের রব্ব,
দৃশ্য-অদৃশ্য সব সৃষ্টির একমাত্র প্রভু সব।

তিনি দয়ার আধার যিনি, মমতার আশ্রয়,
ভয়হীন করে হৃদয়, আশায় ভরে ক্ষয়।
বিচার দিনের মালিক তিনি, ন্যায়ের অধিপতি,
সত্যের পাল্লা নড়বে না, মিথ্যা হবে ক্ষতি।

তোমারই ইবাদত করি, তোমারই চাই বল,
দাসত্বেই মুক্তি আমাদের, অহংকার ছল।
দেখাও আমাদের সরল পথ, সত্যের নিশান,
যে পথে চলে অনুগ্রহপ্রাপ্ত মহাজন।

নবী, সিদ্দিক, শহীদ, সালেহিন যাঁরা,
যাদের প্রতি দয়া বর্ষে—তাঁদেরই ধারা।
নয় ক্রোধভাজন পথ যেন, নয় ভ্রান্তির গতি,
ফাতেহার আলোয় রাখো আমাদের স্থিতি।

এই সূরাই প্রার্থনা, এই সূরাই বিধান,
বান্দা ও প্রভুর মাঝে চিরন্তন আহ্বান।
-----------------------------------------------------

আমি আশ্রয় খুঁজি

 আমি আশ্রয় খুঁজি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************

বল আমি আশ্রয় খুঁজি মানুষের রব্বে,
যিনি হৃদয় গড়েন, ভাঙেন নিয়তির ছকে।
মানুষের অধিপতি, মানুষের বাদশাহ,
তাঁরই ছায়ায় নিরাপদ জীবন ও দাহ।

মানুষের ইলাহ তিনি—একমাত্র উপাস্য,
তাঁর নামেই শান্তি নামে, ভাঙে সকল গ্রাস্য।
আমি আশ্রয় চাই তাঁর কাছে বারংবার,
অদৃশ্য অশুভ শক্তির ফিসফিস আঘাত-ভার।

যে কুমন্ত্রণা ঢালে মনে নিঃশব্দে চুপে,
হৃদয়ে বিষ ঢালে এসে অচেনা রূপে।
সে জ্বিনের দল হোক আর মানুষের ছদ্মবেশ,
সব কুমন্ত্রণা থেকে দাও নিরাপদ দেশ।

হে রব্বুন নাস, হে মালিক, হে ইলাহ মহান,
তোমার আশ্রয়েই রক্ষা, তোমাতেই পরিত্রাণ।
-----------------------------------------


০৫-০২-২০২৬

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬

জাতির বিবেক যখন বিক্রিয় হয়

 জাতির বিবেক যখন বিক্রিয় হয়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

ওহে শোনো—বিবেক যখন বাজারে তোলে,
তখন প্রতিবাদের পথ রুদ্ধ হয় দলে দলে।
সত্যের কণ্ঠ রুদ্ধ, ন্যায় পড়ে শিকল-তলে,
মিথ্যার সিংহাসনে শাসক বসে জোর-বলে।

জালেমের পাশে দাঁড়ায় স্বৈরাচারের দল,
ফ্যাসিবাদের ছায়ায় হাসে লেজুরভিত্তি-ছল।
চাটুকার তাবেদার মাপে ক্ষমতার ওজন,
ধর্ম বেচে পুণ্যের নামে গড়ে পাপের ভজন।

লুটেরার থলেতে ভরে ঘাম-রক্তের ধন,
অর্থপাচারে দেশ হয় শূন্য, ক্ষয়মান।
দেশবিরোধী হাত ধরে রাষ্ট্রের কফিন,
হিংসা-প্রতিহিংসায় পোড়ে মানবিক দিন।

দলে দলে ভাঙে জাতি—বৈষম্যের দেয়াল,
মুনাফেকের হাসিতে ঝরে বিশ্বাসের জাল।
বিশ্বাসঘাতক সাজে দেশপ্রেমের পোশাকে,
উগ্রবাদী আগুন জ্বালে ইতিহাসের কপাকে।

এখানে নিরপেক্ষতা পাগলেরই প্রলাপ,
জ্বলন্ত ঘরে বসে থাকা—অপরাধের সাপ।
নজরুলের বজ্রকণ্ঠে তাই ডাক ওঠে আজ—
“ভাঙো শিকল! জাগো মানুষ! ন্যায় হোক সমাজ!”


০৩-০২-২০২৬

তোমাকে সংবর্ধনা হে গুণীজন

  কলমেঃ মোহাম্মদ আমিনুল এহছান মোল্লা রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর। ***************************************** তোমাকে সংবর্ধনা হে গুণীজন...