বৃহস্পতিবার, মে ০৭, ২০২৬

জনতার প্রতিক্রিয়া

 জনতার প্রতিক্রিয়া

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************
ওরে ও কান্ডারী! গদিতে বসিয়া একি শোনাও আজব কথা?
জনতারে তুই ভাবিস কি আজও জ্ঞানহীন মূর্খতা?

আজ রাজসুখে যাহারে বলিছ ‘জনতার প্রতিক্রিয়া’,
কাল সেই রোষ তোমারে চূর্ণ করিবেই প্রলয় দিয়া!
মব্-এর থাবায় টুপি-লুঙ্গি-ধুতি ছিঁড়ে হয় খানখান,
তারেও কি আজ ‘জনগণ’ বলে গাহিবে জয়ের গান?

সাহস থাকে তো নাম ধরি ডাকো— বলো ওরে ‘মব’ আজ,
বিবেকের টুঁটি টিপিয়া কেন রে পরিলে মিথ্যার সাজ?
আজ তুষ্ট করিছ যে হঠকারী দল, যারা গড়ে অনাচার,
কাল ধেয়ে এলে তোমারি দুয়ারে— কোথায় লভিবে পার?

যাদের উস্কানি দিয়া আজি তুমি ভাবিছ অমর রবে,
সেই মব্ যদি ফোঁসে একদিন— জবাব কি দিবে তবে?
শোনো রে ও মূঢ়! মসনদ কভু কারো তরে রয় না চির,
জনতার এই রুদ্র রোষেতে লুণ্ঠিত হবে শির।

আদালত আজ সাজাও নিজের খামখেয়ালি ওই তুলিতে,
বিচার আসিবে জনতার ওই মহাপ্রলয়ের ঝুলিতে।
লজ্জিত হবে নিজেরই কর্মে, শোনো ওরে সাবধান!
সাধু সাবধান! আঁধার ঘনিলে খুঁজিবে না পরিত্রাণ।

নির্মূল করো ওই মব্-দানব, হানো আইনের বাণ,
আইনের হাতে সঁপিয়া দাও রে ন্যায়ের বলীয়ান।
বিপ্লব মানে অরাজকতা নয়, নহে ওই অনাচার—
সত্যের জয় হউক ঘুচিয়া এ ঘোর অন্ধকার!

লজ্জিত হবে তোমারই কর্মে, শোনো ওরে সাবধান!
সাধু সাবধান! আঁধার ঘনিলে খুঁজিবে না পরিত্রাণ।
মব-দানবেরে নির্মূল করো, হানো আইনের তলোয়ার,
আইনের শাসন কায়েম করিয়া বাঁচাও এ দেশ আমার

আজ যাহারে বলিছো তোমরা— ‘জনতার প্রতিক্রিয়া’,
কাল ইতিহাস লিখিবে তাহারে ‘হঠকারী রণ-ক্রিয়া’।
----------------------------------------------------------------------------

কৃষকের পাশে কাপাসিয়ার এমপি

 কৃষকের পাশে কাপাসিয়ার এমপি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর
************************************
হে তামাম পৃথিবী শোনো!
আমি কোনো দলের নই, কোনো মতের নই—আমি এক স্বাধীন কবি,
আমি সত্যের তূর্য বাজাই, আমি আঁকি আগামীর ছবি!

আমি দেখেছি সেই বিরল দৃশ্য, সাম্যের মহান গান,
মাটির মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে আজ এক শুদ্ধ প্রাণ।
কাপাসিয়ার জনপদে জেগেছে আজ নতুন এক উপমা,
যেথা আভিজাত্যের মোহ টুটেছে, নেমেছে মেঘের ক্ষমা।

এমপি জনাব সালাহউদ্দিন আইউবী—ওরে ও নামটা শোন,
ধানের ক্ষেতে নেমেছেন তিনি, কাস্তে হাতে করেছেন রণ!
সে কি রাজনীতির খেলা? না রে, সে যে মানবিকতার জয়,
কৃষকের ঘামে ভিজেছে যার গা, তারে কি কোনো ভয়?

ওরে ও স্বার্থপরের দল! ওরে ও মিথ্যা গরিমাধারী,
সেবা দিয়ে দেখাও দেখি, ঘুচাও দুঃখের জঞ্জাল ভারি।
আমি ব্যক্তি নই, আমি স্যালুট করি মহৎ সেই কর্মে,
মানুষের পাশে দাঁড়ানোই শ্রেষ্ঠ—পাবো কোন ধর্মে?

সাবাস হে জননেতা! সাবাস তোমার এই মানবিক সাজ,
কৃষকের পাশে দাঁড়িয়ে তুমি শিখালে আসল কাজ।
সালাহউদ্দিন আইউবীর এই ছবি রবে বাংলার জমিনে চিরদিন,
যেথা কাস্তে আর হাত এক হয়ে মিটায় সাম্যের ঋণ!

মানুষের তরে জাগো হে পথিক, ঘুচাও সকল ভেদাভেদ,
সেবার মন্ত্রে মুছে ফেলো আজ যত হিংসার বিচ্ছেদ।
এমপির মতো তুমিও নামো ওই মেহনতি মানুষের দলে,
মানবিকতার জয় পতাকা উড়ুক এই ধরিত্রীর তলে!
-----------------------------------------------

অঘোষিত প্রেম

 অঘোষিত প্রেম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************************
সেদিন অবেলায় কাশফুলে মেখেছিল রোদের কাঞ্চন,
অবুঝ বালিকা তুমি, হাসলে যখন ছিঁড়ে হৃদয়ের বন্ধন।
রাঙা ঠোঁটের সেই মায়াবী রেখায় ছিল না কোনো কারসাজি,
অথচ আমার চাতক মনে নামলো এক অদ্ভুত শ্রাবণের বাজি।

তুমি হাসলে নিছক কৌতুহলে, যেমন ফোটে বুনো ফুল,
আমি সেই হাসিতেই ডুবে মরলাম, হারালো নদীর দুই কূল।
নিজের অজান্তেই বুকের নির্জনে আঁকলাম আলপনা সযত্নে,
তুমি ধরা দিলে না কখনো, রয়ে গেলে কোনো এক গভীর রত্নে।

যতই দিন যায়, বুকের পাঁজরে জমে মেঘের ঘনঘটা,
তুমি আড়াল হলেই নামে কালবৈশাখী, হাহাকারের ছটা।
এক জ্বলন্ত দাবানলের সামনে দাঁড়িয়ে করেছি অভিনয়ের ছল,
চিনি না তোমায়— এই মিথ্যে সাজাতে চোখে জমেছে নোনা জল।

হৃদয়ের গহীনে কখন যে হয়েছে রক্তক্ষয়ী এক অলিখিত চুক্তি,
এ এক মায়াবী শৃঙ্খল আমার, যেখানে নেই কোনো মুক্তি।
হয়তো কোনোদিনও জানবে না তুমি এ প্রেমের গভীরতা কতখানি,
কতটা দীর্ঘশ্বাস মিশে আছে আমার প্রতিটি নির্জন চোখের পানি।

যদি শরতের মেঘ হয়ে আমায় পুড়িয়ে দিতে নীল আগুন দাও,
আমি দেব বসন্তের হিমেল হাওয়া, যদি তুমি ফিরে তাকাও।
জানি অবহেলায় শুকিয়ে ঝরে যাবে আমার এই অঘোষিত প্রেম,
তবুও স্মৃতির নীলপদ্মে তুমিই থাকবে চিরদিনের শ্রেষ্ঠ ফ্রেম।

অপুর্ব এক শূন্যতা নিয়ে আমি বয়ে বেড়াবো এই ব্যদনার ভার,
তুমিই ছিলে আমার না পাওয়া জোছনা, আমার অন্ধকার।
-------------------------------------------


০৬-০৫-২০২৬

এক অবুঝ হৃদয়ের চুক্তি

 এক অবুঝ হৃদয়ের চুক্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
**********************************************
সেদিন গোধূলি লগ্নে হঠাৎ, থমকে গিয়েছিল চাওয়া,
অবুঝ বালিকা তুমি দিলে মনে, তপ্ত দখিনা হাওয়া।
রাঙা ঠোঁটে ফুটেছিল এক ফালি চাঁদ, কৌতূহলহীন হাসি,
বুঝিনি তখন আমার আকাশে, মেঘ জমবে রাশি রাশি।

মোর অজান্তেই আঁকতে বসিলাম, সেই হাসির আলপনা,
হৃদয় ক্যানভাসে শুরু হলো এক— অবুঝ রক্তক্ষরণা।
তুমি আড়াল হলেই মনে হতো মোর, পৃথিবীটা এক মরু,
বুকের খাঁচায় কাঁপতো কেবল, নাম না জানা এক তরু।

উন্মাতাল কালবৈশাখীর ঝড়ে, ঘর ভেঙে হতো চুর,
শুন্যতা এসে বাজাতো কেবল, করুণ বিষাদ সুর।
তপ্ত অনলে দাঁড়িয়ে সাজালাম, মিথ্যে হাসির মেলা,
নিদারুণ এক অভিনয়ে কাটে, আমার সারাটা বেলা।

জানি না কখন অলক্ষ্যে মোর, ঝরেছে সহস্র প্রহর,
তোমার নামে বিঁধেছে হৃদয়ে, নীলকণ্ঠ এক বিষের নহর।
চেয়েছি বুঝাতে তুমি পরজন, নও কোনো আপনার,
তবু ব্যর্থ এ মন মানে নি বারণ, ভেঙেছে সকল দ্বার।

সাক্ষী রইলো নিঝুম রাত আর— নক্ষত্র পুঞ্জীর মুক্তি,
হৃদয়ের রক্তে সই হলো মোর 'এক অবুঝ হৃদয়ের চুক্তি'।
হয়তো কোনোদিনও বুঝবে না তুমি, এ দহনের নীল আভা,
হয়তো কোনোদিনও দেখবে না তুমি, এ প্রেমের গভীরতা কভু।

যদি কোনোদিন ঘৃণা ভরে মোরে, দাহ করো কোনো আগুনে,
আমি হব হিমেল পরশ তোমার, ঝরবো ফাল্গুনে।
বোবা কান্নায় ভিজে যাক মাটি, পুড়ে হোক সব শেষ—
তোমাকে চাওয়াতেই পূর্ণ হোক মোর, ভালোবাসার অবশেষ।
-----------------------------------------------------------------


০৬-০৫-২০২৬

গোলামী চুক্তি

 গোলামী চুক্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
জাগো রে বাংলার দামাল সন্তান, জাগো রে বীর জনতা,
কে আজি লিখিল স্বদেশের বুকে গোলামী-চুক্তি-কথা?
মুক্ত আকাশ, মুক্ত এ মাটি, স্বাধীন সোনার দেশ—
কার অনুমতিতে শিরে চাপালি পরাধীনতার বেশ?

চুপ কেন ওরে ওগো শাসকদল? চুপ কেন আজ বীর?
অশুভ চুক্তির বিষ-দংশনে লুটায় কি নত শির?
মার্কিন সেথা সর্বেসর্বা, সবটুকুই তার লাভ,
আমাদের ভাগে যাতনা কেবল—বঞ্চনা-আরোপিত চাপ!

সে আসিবে বীরের দাপটে হেথায়, আইন তাহার হাতে,
আমরা মরিব পলে পলে ওরে তিলে তিলে তার সাথে!
এ কেমনতর সাম্য ওরে? এ যে শোষণের কালো ছায়া,
দেশদ্রোহীর ওই কালিতে ম্লান বাংলার মায়া!

সংসদে তোলো এই কালো লিপি, জনতারে করো সাফ,
নইলে জনতা কভু দিবে নাকো এই অপরাধে মাফ!
পদ্মা-মেঘনা-যমুনা আজিকে ডেকে বলে একি ভুল—
স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্ব করিছ কি নির্মূল?

ছিঁড়ে ফেলো ওই অসম চুক্তি, ভেঙে ফেলো ওই জাল,
মুক্তিযোদ্ধার মতো গর্জো বাঙালি—উড়াও বিজয়ী পাল!
কার অনুমতিতে শিরে চাপালি পরাধীনতার বেশ?
চুপ কেন ওরে ওগো শাসকদল? চুপ কেন আজ বীর?

জাগো রে বাংলার দামাল সন্তান, জাগো রে বীর জনতা,
কে আজি লিখিল স্বদেশের বুকে গোলামী-চুক্তি-কথা?


-----------------------------------------------------------


০৫-০৫-২০২৬

আমি সত্যের রথী

 আমি সত্যের রথী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************
বলো বীর—
বলো, উন্নত মম শির!
আমি মানি না তোদের স্বৈরতন্তের ওই রক্তচক্ষু ক্রুর,
আমি ছিঁড়েছি আজ ভীরু মৌনের ওই মরণ-শীতল সুর!
আমি সত্যের রথী, আমি দুর্মদ, আমি বিদ্রোহী চিরকাল,
তোর জুলুমের ওই মিথ্যে জেলখানা ভাঙবই আজ সকাল।

ওরে ও শাসক!
তুই কি ভেবেছিস—
মুক্তির কথা শিকল দিয়ে করবি রে কারারুদ্ধ?
তোর পা-চাটা ঐ চাটুকাররাই কি আজ দেশপ্রেমের শুদ্ধ?
যারে আজ বলিস ‘দোসর’ তুই, সেই তো মাটির প্রাণ,
তোর মিথ্যে তকমার ভয় পায় না যে কোনো গান।

তুই কি দেখেছিস চারদিকে ঐ উগ্র পিশাচের উল্লাস?
দেশপ্রেমের নাম করে যারা করছে দেশটাকে গ্রাস?
কলম স্তব্ধ? খবরদার! কলম তো বারুদ-জ্বালা,
তোর ক্ষমতার ঐ মঞ্চ কাঁপাতে সে গাঁথবে মরণ-মালা।

ওরে ভণ্ড!
বাকস্বাধীনতা কি তোর চাতুরির বিষাক্ত হাতিয়ার?
নাকি মুক্ত চিন্তা মানে কেবল তোরই আজ্ঞাবহ অবিচার?
তুই কোথায় হে শাসক? সিংহাসনের আড়ালে করিস বাস?
তোর মবতন্ত্রের বিষে বাতাস আজ ঘুণে ধরা লাশ!

আমি আলীর তলোয়ার, আমি সুকান্তের সেই ছাড়পত্র,
আমি নজরুলের বাঁশরী আর ভীম-গদা সর্বত্র!
শোন রে পাপিষ্ঠ—
তোর রাজদণ্ড ভাঙবে যখন সাধারণের ঐ ক্ষোভে,
তখন কোথায় লুকাবি তোরে চাটুকারিতার লোভে?
মুক্ত চিন্তার আকাশ থেকে মুছবই তোদের ছায়া,
বিপ্লব জাগছে মাটির বুকে, আর নেই কোনো মায়া!

বিদ্রোহী আজ রণক্লান্ত হবে না কো শোষক,
যতক্ষণ না ছিঁড়বে তোদের ভণ্ডামির এই পোশাক!
আমি সত্যের রথী, আমি দুর্মদ, আমি বিদ্রোহী চিরকাল,
তোর জুলুমের ওই মিথ্যে জেলখানা ভাঙবই আজ সকাল।

--------------------------------------------------------------------------------

অবুঝ শিশু আজ ধর্ষিতা

 অবুঝ শিশু আজ ধর্ষিতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*****************************************
হে শাসক, তোমার ওই রাজকীয় ক্ষমতার মসনদে
নিদ্রা কি আসে নির্বিঘ্নে?
যখন জানলার ওপাশে বাতাসের কান্নায় ভেসে আসে—
একটি এগারো বছরের অবুঝ শিশুর আর্তনাদ!
সে তো তোমারও সন্তান হতে পারত,
তবে কেন আজ বিচারহীনতার চাঁদরে ঢাকা এই আর্তনাদ?

মানব সভ্যতা আজ মুখ লুকায় পশুর লোকালয়ে,
বন্য জানোয়ারও লজ্জা পায় মানবের এই হীন আচরণে।
যাদের হাতে ছিল খাতা-কলম আর সুরক্ষার ভার,
সেই শিক্ষক, হুজুর কিংবা ক্ষমতার মোহে মত্ত পিশাচ—
সবাই মিলে ছিঁড়ে খাচ্ছে আগামীর নিস্পাপ কুঁড়ি।
হে মানব সভ্যতা, তোমার কি কোনো উত্তর আছে?

হে শাসক, আমরা দেখতে চাই না— কে ধনী, কে গরিব,
কে শিক্ষিতের মুখোশধারী আর কে ক্ষমতাবান।
আমরা শুধু দেখতে চাই সেই পিশাচের দণ্ড,
যে থাবায় রক্তাক্ত হয়েছে ওই নিষ্পাপ শিশুর শৈশব।
তুমিও কি তবে ওই ক্ষমতার মায়াজালে অন্ধ?
নাকি বিচারের বাণী আজ নিভৃতে কাঁদে?

জেগে ওঠো হে অধিপতি, ভাঙো তোমার মৌনতা,
শাস্তির খড়্গ নামুক ওই নরাধমের ঘাড়ে।
নইলে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে অমোঘ সত্য—
তোমার রাজ্যেই মানবতা হেরে গিয়েছিল নরপশুর কাছে,
অবুঝ শিশু আজ ধর্ষিতা, আর তুমি ছিলে শুধুই নীরব দর্শক।

এগারো বছরের অবুঝ শিশু আজ গুমরে কাঁদে একা,
পিশাচের লালসায় অকালে যে বিষের পেল দেখা।
শিশুটির দেহে বইছে আজ এক পৈশাচিক ঘৃণা,
সে যে আজ অন্তঃসত্ত্বা, হে শাসক— জবাব দেবে না?
-------------------------------------------------


০৫-০৫-২০২৬

বীরশ্রেষ্ঠের গলায় দড়ি!

 বীরশ্রেষ্ঠের গলায় দড়ি!

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************
ঐ কার হাত উঠল আকাশে? কার হাতে আজ রশি?
বাংলার বুকে একি হাহাকার! একি বিভীষিকা সর্বনাশী!
হে মসনদের কান্ডারী শোনো,
ঘুমিয়ে কি আছ আজো কোনো মোহ-ঘোরে?
দেখো বীরের রক্তে রঞ্জিত মাটি ভিজে যায় চোখের লোরে।

যাদের অস্থি-মজ্জার ভিত্ এ সোনার বাংলাদেশ,
তাদেরই গলায় ফাঁস ঝোলে আজ? একি দুরাশার শেষ?
ওরে ও পাষাণ, ওরে ও নরক-কীট!
শহীদের মান ভাঙিস যদি, তবে চূর্ণ হবে এ পিঠ।

জাগো রে বিদ্রোহী, জাগো রণ-তুর্য বাজে!
শয়তান হাসে স্বাধীনতার ওই পবিত্র সাজে।
রক্তধারা কি শুকিয়ে গিয়েছে? নিভেছে কি বিদ্রোহ-শিখা?
বাংলার ললাটে তবে কেন আজ কলঙ্ক-তিলক লিখা?

যে হাত ছুঁয়েছে বীরের ভাস্কর্য—দেশবিরোধী সেই হাত,
উপড়ে ফেল্ ওই অসুর-পঞ্জি, আনরে বজ্রপাত!
টেনে আনো ওদের রাজপথে আজ, ছিন্ন কররে মুণ্ডু,
জেলে দে আবার দেশপ্রেমের ওই প্রলয়-অগ্নি কুণ্ডু।

লড়াকু সেনানি, তরী বাও তুমি বীরের রক্তস্রোতে,
শকুনের বাসা ভেঙে দাও আজ এ বাংলার মাটি হতে।
বীর শ্রেষ্ঠেরা মরে না কখনো, তারা অবিনাশী জ্যোতি,
অত্যাচারীর বিনাশ না হলে ঘুচবে না এ দুর্গতি।

বীর শ্রেষ্ঠেরা অমর, অক্ষয়, মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাণ,
ইতিহাসের পাতায় তারা চিরকাল মহীয়ান।
জাগো বাংলার তারুণ্য, ধরো ঐ বজ্র-মুষ্ঠি,
নিপাত করো আজ স্বাধীনতা-বিরোধী সকল পুষ্টি।

বীরত্বের অপমানে আকাশ উঠুক কেঁপে,
অন্যায়কে চূর্ণ করো প্রবল বিক্রমে ঝেঁপে!
আবার আসুক সেই একাত্তরের অগ্নি-বিপ্লব,
ঘুচে যাক বাংলার যত পিশাচ আর কলরব।
------------------------------------------


০৫-০৫-২০২৬

জাগো হে শাসক!

 জাগো হে শাসক!

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************
বজ্র বিষাণ বাজাও আজিকে, দুন্দুভি দাও হেনে,
পিতার বক্ষ বিদীর্ণ করি’ কন্যাকে নিল টেনে!
হায় রে দরদী, হায় রে মানব, হায় রে অবোধ দেশ—
অস্ত্রের মুখে আসুরিক উল্লাস, বিচার কি হবে শেষ?

কিশোর নয় সে— বিষধর কাল-ভুজঙ্গ চারিধারে,
পিতার নয়ন-সমুখে তনয়া লুণ্ঠিত হাহাকারে!
নির্বাক পিতা, নিথর হস্ত, নেত্র অশ্রু-হারা,
স্বাধীন দেশের ললাটে একি রে কলঙ্ক-রক্তধারা?

কোথা সে দণ্ড? কোথা সে শাসন? তখত কি আজ অন্ধ?
দিকে দিকে শুধু হাহাকার ধ্বনি, শ্বাপদ-হিংসে-দ্বন্দ্ব!
শহীদের রক্তে রঞ্জিত ভূমি সিক্ত যে আজ লাজে,
পিশাচের দল কেন উল্লাসে রাজপথ হেনে সাজে?

জাগো হে শাসক! প্রলয়-হুঙ্কারে ভাঙো এ মৌন ঘোর,
নইলে তোমার ললাটে আজিকে আঁধার তিমির ঘন ঘোর।
জবাব দাও হে— কেন শৃঙ্খলে মানবিকতার প্রাণ?
পিতার বক্ষে কেন বিঁধে আজ কন্যার অপমাণ?

এই কি স্বাধীন সোনার বাংলা? এই কি মুক্তিযুদ্ধের-দেশ?
যেথা অবলার আর্দ্র-নাদেও হয় না অনর্থ শেষ?
উত্থিত করো শাণিত খড়্গ, রুখো এ দানব-খেল,
নতুবা ধিক এ রাজ্যপাট— ধিক এ জতুগৃহের জেল!
-------------------------------------------------------------


০৪-০৫-২০২৬

যেমন পিতা তেমন পুত্র

 যেমন পিতা তেমন পুত্র

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
***************************************
পিতার রক্তে বহিছে যে ধারা, পুত্রে দিয়াছে টান,
আজিকে বিশ্ব হেরিল তাহার কদর্য আখ্যান।
জ্ঞানের মন্দিরে বিজ্ঞানের পাঠে কুটিল তর্কের ছলে,
ছাত্র ছুড়িল বিষাক্ত শর— অবিবেচকের মতো চলে।

শিষ্য হিল গুরুর গাত্রে, অতিশয় হীন কাজ,
সে বর্বরতা দেখিয়া আজিকে প্রকৃতি পেয়েছে লাজ।
যেই করজোড়ে প্রণাম সাজিত গুরুর চরণ-তলে,
সেই হাতে আজ পশুত্বের ছাপ— দম্ভের হলাহলে।

হে বিচারক! তব ধমনীতে মদমত্তের ধারা,
ন্যায়ের দণ্ড তুলিয়া নিয়েছ হিতাহিত জ্ঞানহারা।
আপনার গৃহে ডাকিলে গুরুরে দর্পের তর্জনীতে,
বিনা অপরাধে চাহিয়াছ তারে নিগ্রহে জড়াইতে।

পুত্রের পাপে লজ্জিত হতে আছিল তোমার দায়,
উল্টো তুমিই দলিলে গুরুরে ক্ষমতার নখরায়।
ছেলের চরণে নত করি শির, গুরুর মানিয়া হার—
রচিয়াছ তুমি এ কলিযুগের অমোঘ অন্ধকার।

পিতা যদি হয় অহমিকা-অন্ধ, তবে পুত্র কি মানুষ হয়?
বিচারের নামে করিয়াছ তুমি অবিচারের জয়।
ওগো শাসক! আঁখি মেলো দেখি ঘুণে খাওয়া সমাজরে—
জ্ঞানের প্রদীপ নিবালে যেথায় দম্ভের আঁধারে।

ধিক্ ওহে পিতা, ধিক্ তব পুত্র, ধিক্ তব অবিচার!
শিক্ষক কভু হারেনি কোনোদিন, হারিলে তুমিই আর—
তোমার বুকের পাষাণ-পুত্র, যে তব রক্তের দান,
সেই আজি তব মুকুটে লেপিল চরম অপমান।
--------------------------------------------------------


০৪-০৫-২০২৬

অবুঝের মত (গান)

  অবুঝের মত (গান) কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা স্থানঃ রাওনাট - কাপাসিয়া - গাজীপুর তারিখঃ ২১ - ১১ - ২০২৪ ইং ********************...