বুধবার, মে ১৩, ২০২৬

ওগো মা, তুমি জান্নাতী সুধা

 ওগো মা, তুমি জান্নাতী সুধা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*************************************
মা এক অতুল্য সত্ত্বা, খোদার আরশ হতে আসা নূর,
তব কদম-তলে বিছানো বেহেশত, শান্ত সুশীতল পুর।
ওগো মা, তুমি নও কোনো দিবসের ক্যালেন্ডারে সীমাবদ্ধ,
তুমি অবিনাশী প্রেম-কাব্য, নিখিল বিশ্ব-স্তব্ধ।
ওগো মা, তুমি জান্নাতী সুধা্
মৃত্যুঞ্জয়ী মমতায় মাগো, তুমি মোরে রাখো ঢাকি,
তোমার আঁচল-শুভ্র চাদরে জুড়ায় চাতক-আঁখি।
পৃথিবী কেন যে সাজাতে চায় তোমায় ক্ষণিকের ফ্রেমে?
তুমি তো মিশেছ মোর নিশ্বাসে, অনাদি কালের প্রেমে।
মা বিনা এ ধরা ধু-ধু মরুভূমি, শূন্য সে মহাকাশ,
সাগর-সিন্ধু তোমার দয়ার বিন্দু—ওগো মা, অবিনাশ।
মোর জীবনের প্রতিটি স্পন্দন তোমারি রক্তধারা,
ক্লান্ত পথের তুমিই প্রদীপ, তুমিই ধ্রুবতারা।
যখনই ব্যথায় কাঁদি ওগো মা, তুমি হও ঢাল মোর,
দুনিয়ার সব আলো নিভে গেলেও কাটে না তোমার ভোর।
বিধাতার শ্রেষ্ঠ রহমত তুমি, মর্ত্যের বুকে দান,
তুমিই শেখালে মানব জনম—প্রেমেরই জয়গান।
আল-কুরআন দিচ্ছে ঘোষণা তোমারি উচ্চ মাকাম,
বনী-ইসরাইল আয়াতে মাগো পাঠালো খোদায়ী সালাম।
সেজদায় নুইয়ে কাঁদি বারে বার, ওগো মালিক-ই-রাব্বানা—
কবুল করো এই মিনতি মোর, এই সে আরজ-পানা:
“রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগীরা”
(হে প্রভু! দয়া করো তাঁদের, যেমন স্নেহে আমায় করেছেন বড়,
মায়ের আঁচলে রেখো মোরে শান্ত, হাতখানি তাঁর ধরো।)
মৃত্যুঞ্জয়ী মমতায় মাগো, তুমি মোরে রাখো ঢাকি,
তোমার আঁচল-শুভ্র চাদরে জুড়ায় চাতক-আঁখি।
তুমি অবিনাশী প্রেম-কাব্য, নিখিল বিশ্ব-স্তব্ধ।
ওগো মা, তুমি জান্নাতী সুধা্
---------------------------------------------------------------------
১১-০৫-২০২৬

মা এক অতুল্য সত্ত্বা

 মা এক অতুল্য সত্ত্বা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************
মা এক অতুল্য সত্ত্বা—জান্নাতেরই সুধা,
দূর করে মনের যত তৃষ্ণা ও ক্ষুধা।
ওগো মা,
তুমি নও কোনো দিবসের ফ্রেমে আবদ্ধ মায়া,
তুমি অনাদি কাল হতে আসা খোদার আরশ-ছায়া।
চিরন্তন প্রশান্তির নূর তুমি, মোর জীবনের স্পন্দন,
ছিঁড়তে পারে না কেউ তোমার ওই স্নেহেরই বন্ধন।
বিধাতার রহমত তুমি—
মিশে আছ মোর রক্ত-প্রবাহে, সন্তানের এই দেহে,
কে বলে তোমায় রাখা যায় ধরে একদিনেরই মোহে?
মা এক অতুল্য সত্ত্বা।।
মৃত্যুঞ্জয়ী তুমি মাগো, বিধাতার শ্রেষ্ঠ দান,
শুভ্র চাদরে আমায় আগলে রাখো—মোর মান আর প্রাণ।
মা বিনা এ পৃথিবী—
শূন্যতার এক মহাকাশ, নিথর জলরাশি,
তব দোয়ার মাঝে পাই আমি জান্নাতেরই হাসি।
কুরআনের আয়াত বলে মা তোমারই শান,
সুরা বনী-ইসরাইলে খোদার সেই ফরমান।
ওগো দয়াময়—
রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগীরা,
মায়ের কদমে রেখো মোরে সদা, তুমিই খোদা বশীরা।
মা এক অতুল্য সত্ত্বা।।
--------------------------------------------------

তৌহিদেরই রণভেরী

 তৌহিদেরই রণভেরী

কলমেঃ মোঃআমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************
বাজে তৌহিদের রণ-ভেরী আজি! জাগো রে মুমিন দল!
ছিঁড়ে ফেলো আজ হীন সংশয়, বাহুতে ঈমানি বল!
ভাইয়ে ভাইয়ে এই হানাহানি কেন? কেন রে এ রণ-ছাড়?
তোমাদের এই গৃহ-বিবাদে বাতিলেরা পায় পার!
জাগো রে মুমিন সত্যের তেজে, ওড়াও বিজয়-কেতন,
একই কলেমার একই সে রজ্জু— এক করো সব মন!
নিজের খুশিতে ফতোয়া হাকানো— বন্ধ করো রে আজ,
ভন্ডামিতে কি ইসলাম বাঁচে? মরিয়া যে মরি লাজ!
স্বার্থের লাগি কোরআনে কভু করো না কষাঘাত,
নবীর সুন্নাহ আঁকড়িয়া ধরো— নামুক আসমানি হাত।
ইসলামকে ক্ষুদ্র করো না নিজেরি হীন তরে,
মুক্ত করো এ বিশ্ব-বিবেক মোহের অন্ধ-ঘরে!
পরধর্মে দিয়ো না গালি, করিয়ো না অপমান—
উদারতা হীন ইসলাম কভু গায় না সাম্যের গান!
অমুসলিমেরে ডাকিয়া আনো ইসলামেরই তলে,
ভিতরে যাহার সুন্দর অতি— সে কি কভু মিছে বলে?
ইসলাম শুধু তরবারিতে কি পেয়েছে বিজয়-মান?
না রে না! সে যে সুন্দরে জয় করেছে সগৌরব প্রাণ!
সুন্দরে তুমি দাও হে দাওয়াত, সাম্যের গান গাও—
উদার বক্ষে বিশ্ববাসীর শান্তির ঠাঁই দাও।
ভেদাভেদ ভুলে মোসাফাহা করো, মেলাও প্রাণের হাত,
জুলুমের ঘোর অন্ধকার হোক তৌহিদী সূর্যপাত!
বাজে তৌহিদের রণ-ভেরী আজি! কাঁপুক আকাশ-বোল,
একই আল্লাহ, একই সে নবী— তুলো আজ মহা-রোল!
-----------------------------------------------------
১২-০৫-২০২৬

ঘুভুদিয়ার খাল

 ঘুভুদিয়ার খাল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************
ঘুভুদিয়া খাল জুড়ে বহে ইতিহাসের জল,
সবুজ শিউরে ওঠা একাত্তরের রক্তে ছলোছল।
দুর্গাপুর আর কাপাসিয়া সদরের সীমানায়,
আজও এক রূপকথা প্রকৃতির উপমায়।
মাচছাবিল আর কাইতামারা বিলের মধুর মিতালী,
গঙ্গার বুকে মেশা এ খালের অতীত পলি।
পূর্ব পাড়ে রাওনাট, পশ্চিমে বড়জোনা গ্রাম,
বরুন আর চাকৈল জুড়ে স্মৃতির অনুপম ধাম।
কাঠের ব্রিজের দিনগুলিতে নিঝুম রাতের ছায়া,
বাঁশঝাড় আর বনজঙ্গলে ছিল ভূতুড়ে এক মায়া।
ভয়ে দিনেও কাঁপত মানুষ, হারিয়েছে কত প্রাণ,
আজ হিজল গাছের পাতায় পাতায় প্রকৃতির জয়গান।
বর্ষার দিনে দল বেঁধে সেই হিজল ডালের ডাক,
ঝাঁপ দিয়ে জলে সাতার কাটার স্মৃতিরা বেঁচে থাক।
আনারস আর কাঁঠাল বোঝাই নৌকার সেই সারি,
ছুটে যেত দূর ঢাকায়, ভাঙত নদী পাড়ি।
বক্তারপুর আর আজমতপুর, রামচন্দ্রপুর গাঁয়,
সিমলাবর, ছাইতান, ভাডিরা হতে স্বজন আসত নায়।
সেই ঐতিহ্য সুতোয় বাঁধা এ খালের কলতান,
রূপ-লাবণ্যে ঘেরা আমার চির চেনা এই স্থান।
ভাঙা রেলিংয়ের পাকা ব্রিজটি আজ বিপদের ইশারা,
স্কুল-মাদ্রাসার শিশুরা যেন না হয় দিশাহারা।
সালাউদ্দিন আয়ুবি এমপি মহোদয়ের তরে,
পুনর্নির্মাণের আকুল আর্জি এলাকাবাসীর ঘরে।
ঘুভুদিয়া যেন ফিরে পায় তার চিরসবুজ সেই প্রাণ,
সুরক্ষিত হোক ঐতিহ্য, সার্থক হোক এই গান।
--------------------------------------
See less

তুমি আমায় বঞ্চিত করলে

 তুমি আমায় বঞ্চিত করলে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*********************************************
তুমি আমায় বঞ্চিত করলে তোমার সুবাস হতে,
বঞ্চিত করলে প্রেমের অমিয় মধু আর রূপের স্নিগ্ধ আলো হতে।
আজ চারিদিকে শুধু শূন্যতা, আর না-ফোটা ফুলের হাহাকার।
তুমি যতই নিজেকে লুকিয়ে রাখো এই বাস্তব দৃশ্যের আড়ালে,
জেনে রেখো—আমার হৃদয় হতে তুমি কভু আড়াল হতে পারোনি।
আর কোনোদিন, কোনোদিন তুমি তা পারবেও না।
কারণ, এই অবাধ্য হৃদয় যে শুধু তোমাকেই ভালোবেসেছিল।
তুমি তো চলে গেলে অন্ধকারের ওপারে, নিজেকে বিলীন করে,
আমায় রেখে গেলে এক জীবন্ত লাশের মতো, এই পৃথিবীর আলোয়।
এখন প্রতি বসন্তে যখন চারপাশ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে,
আমার বুকে তখন বিষাদের চিতা জ্বলে, অবিরত, নিশব্দে।
তোমার দেওয়া এই ক্ষত কোনোদিন শুকাবার নয়,
এই একাকীত্ব কোনোদিন ফুরাবার নয়।
প্রকৃতিতে ঋতু বদলায়, নিয়ম মেনে ফুল ফোটে, জোয়ার আসে,
শুধু আমার এই ভাঙা বুকে কোনোদিন আর ভোর হবে না।
তুমিহীন এই নিঝুম অন্ধকারে, আমার অশ্রু আর দীর্ঘশ্বাসই—
হয়ে রইল আমাদের ভালোবাসার চিরন্তন সমাধি।
আমি বেঁচে থাকব এক অন্তহীন চৈত্র নিয়ে,
আর তুমি রয়ে গেলে—আমার বুকের ভেতর এক অসমাপ্ত, রক্তাক্ত বসন্ত।
-----------------------------------------------------------------

তুমিহীন এই নিঝুম অন্ধকারে

 তুমিহীন এই নিঝুম অন্ধকারে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*********************************************
গ্রীষ্ম গেল।
বর্ষার জল ধুয়ে দিল পৃথিবীর সব মলিনতা।
শরৎ, হেমন্ত পেরিয়ে—
শীতের কুয়াশাকে বিদায় জানিয়ে এল বসন্ত।
সবই হলো প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে।
বৃক্ষের জীর্ণ পাতা ঝরে গেল,
সেথা স্থান করে নিল নবীন, কোমল পল্লবেরা।
নদীর বুকে জাগল জোয়ার,
অমাবস্যার বুক চিরে জেগে উঠল পূর্ণিমা।
পূর্ব দিগন্তে সূর্য হাসল,
ফুল বাগানে ফুল ফুটিল।
শুধু তুমি ফুটলে না।
আমার এই ঊষর হৃদয় বাগানে—
ফুটলে না।
কতটা যতন করে,
বুকের পঁজরের নিচে গোপন রেখে,
চোখের জলে অনুভূতির মাটি ভিজিয়ে—
বুনেছিলাম একটি পবিত্র প্রেমের বীজ।
ভেবেছিলাম,
সেখান থেকে জন্ম নেবে আমাদের এক পৃথিবী।
কিন্তু তুমি অভিমানী হলে!
নিজেকে গুটিয়ে রাখলে,
আড়াল করলে চরম অন্ধকারে।
এই পৃথিবীর অপরূপ দৃশ্য তুমি চেয়েও দেখলে না।
অন্ধকারেই রয়ে গেলে,
সেখানেই পচে, গলে, নিজেকে তিল তিল করে শেষ করলে।
অথচ একবারও বাইরে এসে হাতটা ধরলে না।
তুমি আমায় বঞ্চিত করলে।
তোমার সুবাস হতে,
প্রেমের অমিয় মধু আর রূপের স্নিগ্ধ আলো হতে—
আমায় বঞ্চিত করলে।
আজ চারিদিকে শুধু শূন্যতা,
আর না-ফোটা ফুলের হাহাকার।
তুমি যতই নিজেকে লুকিয়ে রাখো দৃশ্যের আড়ালে,
জেনে রেখো—
আমার হৃদয় হতে তুমি কভু আড়াল হতে পারোনি।
আর কোনোদিন,
কোনোদিন তুমি তা পারবেও না।
কারণ, এ হৃদয় যে শুধু তোমাকেই ভালোবেসেছিল।
তুমি তো চলে গেলে অন্ধকারের ওপারে,
নিজেকে বিলীন করে।
আমায় রেখে গেলে এক জীবন্ত লাশের মতো।
এখন প্রতি বসন্তে যখন চারপাশ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে,
আমার বুকে তখন বিষাদের চিতা জ্বলে,
অবিরত, নিশব্দে।
তোমার দেওয়া এই ক্ষত কোনোদিন শুকাবার নয়।
এই একাকীত্ব কোনোদিন ফুরাবার নয়।
প্রকৃতিতে ঋতু বদলায়,
নিয়ম মেনে ফুল ফোটে, জোয়ার আসে।
শুধু আমার এই ভাঙা বুকে—
কোনোদিন আর ভোর হবে না।
তুমিহীন এই নিঝুম অন্ধকারে,
আমার অশ্রু আর দীর্ঘশ্বাসই হয়ে রইল আমাদের ভালোবাসার চিরন্তন সমাধি।
আমি বেঁচে থাকব এক অন্তহীন চৈত্র নিয়ে,
আর তুমি?
তুমি রয়ে গেলে—
আমার বুকের ভেতর এক অসমাপ্ত, রক্তাক্ত বসন্ত।
-----------------------------------------------------------------

মঙ্গলবার, মে ১২, ২০২৬

রক্ষক আজ ভক্ষক

 

রক্ষক আজ ভক্ষক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*******************************************

জাগো রে জাগো!
রক্ত-তৃষাতুর কাল-ভৈরব জাগো!
সেবক সেজেছে শোষক আজ—
মুখে মুখোশ, অন্তরে লাজ।
সোনার বাংলা জ্বলে পুড়ে ছাই,
কোথা বিচার? বিচার যে নাই!
রক্ষক আজ ভক্ষক হয়ে গিলছে দেশটাকে,
নিরীহ জনতা রক্ত দিচ্ছে শোষকের ঐ চাকে।

দুর্নীতি!
সবখানে আজ দুর্নীতিরই প্রীতি।
অফিস-আদালত, পাড়ায় পাড়ায়—
সুদ আর ঘুস আজ প্রতিটি অধ্যায়!
প্রকল্পের নামে লুটপাট চলে,
বাজেট সবই ভুঁয়া—
জনতার চোখে ছিটিয়ে দিচ্ছে স্বার্থের কালো ধোঁয়া।
ভাউচার সব মিথ্যে সাজানো,
বিলের নামে তস্করি—
জনতার পেটে লাথি মেরে আজ বাড়ায় ভুঁড়ির ভুঁড়ি!

বিচারহীনতা—
জাতির অঙ্গে লেগেছে আজ পচনের দীনতা।
ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ শাসক,
সেবক নামে তোমরা আজ পৈশাচিক নাশক!
স্বেচ্ছাচারিতা!
শোষণ-নির্যাতন—
প্রতিবাদ করলেই নামে খড়গ, বাড়ে ভোগান্তি-রণ।
ভোক্তভোগী আজ মৃত্যু প্রহর গুনে,
ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে কি সে মুক্তির বাণী শুনে?

হে শাসক!
জাগো তুমি জাগো—
জনতার অধিকার ফিরিয়ে দিতে মাগো!
ক্ষমতার ঐ সিংহাসন
ভেঙে করো খানখান,
বিপ্লবী সুরে গাও আজ সাম্যের জয়গান।
আর কতকাল সইবে এ জাতি এই শোষণের জ্বালা?
ভেঙে ফেলো আজ দুর্নীতির ঐ লোহার জিঞ্জির-তালা!

-----------------------------------------------

 

বৃহস্পতিবার, মে ০৭, ২০২৬

আমি জনতার কবি

 আমি জনতার কবি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
-----------------------------------------
আমি জনতার কবি, কণ্ঠে আমার বজ্রের হুঙ্কার,
দুঃশাসনের তখত কাঁপাতে সঁপেছি এ জীবনবার।
অন্যায়ের সাথে আপোষহীন আমি এক বিদ্রোহী সত্তা,
শোষিতের তরে গর্জে উঠি, ছিঁড়ি শৃঙ্খল ও অবজ্ঞা।

আমি পিশাচের বিভীষিকা, আমি শোষকের যমদূত,
আমার কলমে বারুদ জ্বলে, আমি বিপ্লবের দূত।
মৌনতা ভেঙে রুখে দাঁড়াই যখন মানবতা কাঁদে,
শৃঙ্খল ভাঙার গান গাই আমি মুক্ত আকাশ ফাঁদে।

মিথ্যাচারের কালো আঁধারে আমি ধ্রুবতারা একাকী,
অত্যাচারের দুর্গ ভাঙতে আমিই ঝঞ্ঝা ও বৈশাখী।
হকের কথা বলতে আমায় কাঁপাতে পারবে না কেউ,
আমি উত্তাল সাগরের সেই অবাধ্য বিদ্রোহী ঢেউ।

জনতার চোখে স্বপ্ন বুনি, মিছিলে হই সেনানী,
মস্তক অবনত করি না কোনো শাসনের কাছে জানি।
যেখানে আঁধার, যেখানে অন্যায়, সেখানে আমার বাস—
বিদ্রোহী কবির বজ্রশপথে হোক সব গ্লানির বিনাশ।
-------------------------------------------------------

বিদীর্ণ মানবতা

 বিদীর্ণ মানবতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
স্তব্ধ আকাশ, নির্বাক আজ ধরিত্রীমাতার কোল,
মানুষের বেশে রক্তপিপাসু পশুদের কলরোল!
আশরাফুল মাখলুকাত? ছিঃ! এ যে নরকের কীট,
লজ্জায় নত মস্তক আজ, ভেঙেছে সম্মানের ভিত।

গর্ভবতী সেই জননী, যার পেটে আগামীর ভ্রূণ,
তার দেহ ছিঁড়ে উল্লাসে মাতে কামার্ত শকুন!
যে নারীর আঁচল ছায়া দেয়, যে নারী গর্ভধারিণী,
সেই শরীরের রক্তে ভিজলো হিংস্র দানব-কাহিনী।

একটি নয়, দুটি প্রাণ নিল নরপশুদের থাবা,
পৈশাচিকতায় পুড়ে ছাই হলো মায়া ও মমত্বা-আভা।
গর্ভের শিশু টেনে বের করে নিভিয়ে দিল তার শ্বাস,
ওরা কি পুরুষ? না কি জীবন্ত বিষাক্ত এক লাশ?

চারপাশে ভিড়, হাতে মোবাইল, সেলফি তোলার ধুম,
মানুষের বিবেক মরেছে কবে, চোখে নেই কারো ঘুম।
অর্ধনগ্ন লাশের পাশে চলে ভিডিও করার খেলা,
মানবতা আজ ডাস্টবিনে মরে, এ যে ঘোর অবহেলা!

হে বিচারক, হে শাসকদল, আর কতকাল রবে মৌন?
ধর্ষক যখন দাপিয়ে বেড়ায়, বিচার কি তবে গৌণ?
কলম ধরো, গর্জে ওঠো, রুখে দাঁড়াও আজ সবে—
ফাঁসির দড়িতে ওই জানোয়ারের শেষটা দেখতে হবে।

হে প্রভু! তুমি ওই মা ও শিশুর পরপারে দিও ঠাঁই,
আর এ জমিনে পিশাচমুক্ত কঠোর বিচার চাই।
একটিই দাবি, একটিই সুর, স্তব্ধ হোক সব গ্লানি—
পিশাচের তরে শুধুই মৃত্যু, ফাঁসি, ফাঁসি আর ফাঁসি!
--------------------------------------------------


২৭-০৪-২০২৬

অবুঝের মত (গান)

  অবুঝের মত (গান) কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা স্থানঃ রাওনাট - কাপাসিয়া - গাজীপুর তারিখঃ ২১ - ১১ - ২০২৪ ইং ********************...