শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২১

চৌদ্দই ফেব্রুয়ারী

 ----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

********************************

দেখতে পেলাম রাস্তায় গিয়ে

ছেলে মেয়ের নকল বিয়ে!

মেয়েটি ছেলের কোলে কোলে

চৌদ্দই ফেব্রুয়ারী সামনে এলে

 

মন্দ নয় সে জুটি ভালো

বেহাইয়া দিবস ঘরে এলো

বুকের উপর নগ্ন গঠন

অনেকটা ঠিক পশুর মতন

 

বিষয় আশয় কুকুর প্রণয়!

ভালবাসার বেশ্যা প্রলয়!

মানুষ তো নাই মেয়েটি আর

কুকুর চ্যাটা ফেলনা খাবার ।

 

জিনার মোহে তৈরী ছেলে

ঢুকবে ওই গুপ্ত জেলে।

নষ্ট ক্ষতে জীবন ভোগে

চৌদ্দই ফেব্রুয়ারীর পান্ডু রোগে।

 

এমন কি আর মন্দ ছেলে ?

মেয়েটি ছেলের কোলে কোলে

 

;আছে তোদের আলোক ঘর

তোরা তো মায়ের বংশধর ।

চৌদ্দই ফেব্রুয়ারী কি পেলে?

ন্যাংটা কুকুর গুপ্ত  জেলে !!

----১৩-০২-২০২১ ইং রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

দৃষ্টি ভঙ্গি

 ------ কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

********************************

দৃষ্টি ভঙ্গির মাঝে লুকিয়ে থাকে পৃথিবীর সব

আলো কিংবা আঁধার! সৌন্দর্য্য লুকিয়ে তাকে

মানুষের নিজেরই আড়ালে

কিন্তু মানুষ বুঝে না--

 

মানুষেরা ছুটে বেড়ায় দিক থেকে দিগন্তে

অথচ বিজয় নিজের মাঝেই ওঁত পেতে আছে

সু-সংবাদ দিবে বলে

তবু পরাজিত তুমি দৃষ্টি ভঙ্গির দংশনে

 

তুমি দেখ না আকাশ, তুমি দেখ না

প্রকৃতির আয়নায় রূপসীর উদ্যান।

তুমি দেখ শুধু রাত্রির পৃথিবী, ড্রাস্টবিনের

আবর্জনা,

 

অন্ধের কাছে গিয়ে

বারবার হয়েছো কাঙাল

অসম্ভব অভিমানে খুন করেছো আপনার দৃষ্টিকে

এ অস্ত্র তোলেছো নিজেরই বুকের দিকে

ঠিক যেন জন্মান্ধ

দৃষ্টি ভঙ্গির মাঝে লুকিয়ে থাকে পৃথিবীর সব

আলো কিংবা আঁধার!

কিন্তু মানুষ বুঝে না--

---১৩-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

ম্যাজিক

 ------মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

***********************************

অন্তর ও বাহ্যিকের মুখোমুখি দাঁড়ালে

আমি বিস্তর তফাৎ বুঝতে পারি

জিজ্ঞেস করতে খুব ইচ্ছে হয়-সাদা কাপড়ে

এতো কালো দাগ কেন?

অন্তর ভাঁজে তাগুদেরা ডানা ঝাপটায়-আত্নাটা

বড় লোভী—

 

বিশাল দেহের রাঙা জলে ভাসে- দূষিত রক্ত কণিকাগুলো

আত্মারা তমস্বান হয়ে ছুটে যায়

আমি অনুধাবন করতে পারি

শুধু লোভে-শুধু পৃথিবীর লোভে

এতো দোষারোপ, এতো কাঁদা ছুড়াছুড়ি।

 

ভালবাসার পাশে এসে দাঁড়িছে সীমারের হিংস্রতা

হৃদয়ের ভিতরে অপরাহ্নের উদাসীনতা

হিংসে বিদ্বেষের তরঙ্গে ভেসে গেছে পূর্ণিমার হাসি।

আমি বিস্তর তফাৎ বুঝতে পারি ।

সাদা কাপড়ের উপরে কালো দাগ কেন?

 

অন্তর ও বাহ্যিকের মুখোমুখি দাঁড়ালে

আত্মারা ব্যস্ত যাবতীয় পার্থিব ম্যাজিকে ।

যা দেখি সবকিছু ধোঁয়া-যা শুনি সবকিছু অদৃশ্য।

----১৩-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

দীর্ঘশ্বাস

 

----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

***************************************

স্বাধীন পতাকা পেয়ে মনে হয়েছিল

আমি সেইসব দেশ দ্রোহীদের পদতলে রেখেছি

আমি হয়েছি মুক্ত, আমি পেয়েছি ন্যায্য অধিকার

এই আক্ষরিক সত্যের কাছে বাস্তবতা হেরে যায়

লাল সবুজের বুক জুড়ে শুধু ধূসর রাঙা

ধুঁ ধুঁ বালুচর!

 

এখনো বৈষম্যের রক্ত ছিটানো গ্রাম বাংলার সবুজ চাঁদরে

জেগে ওঠেছে বিদ্বেষের পর্ব্ত!

এখনো সুরাহা হয়নি লক্ষ শহীদের রক্ত প্রবাহে পাওয়া

দূর্গের সেনাপতি।

সবুজের বুকে পাইনা কোন কস্তুরীর ঘ্রাণ

স্বাধীনতার পতাকা উড়ে গিয়ে পড়ে বিদ্রোহীদের সভা মঞ্চে-

নিঃশব্দে কেঁদে যায় দেশপ্রেমিক আর বঞ্চিত মানুষেরা।

 

এই  মুহূর্তে, এই যে চুপ থাকা–এ‌র কোনো অর্থ নেই

ওই কীটেরা দাবী করছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব।

দেশ প্রেমের তরঙ্গে ভেসে দাও জালিমের সম্রাট!

বিদ্রোহীদের  ঢুকে  দাও পাতাল গর্ভে ।

দেশ প্রেমে জাগিয়ে দাও নিরপেক্ষতা-

আমি স্বাধীন,আমি পরাজিত বাঙ্গালী নই-আমি গর্বিত

লাল-সবুজের প্রতিনিধি।

তবু কেন আমার নাভিমূল থেকে উঠে আসে বিষণ্ন, ক্লান্ত দীর্ঘশ্বাস ?

---১৩-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

ল্ক্ষ শহীদের অভিশাপ

 ---কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

***************************************

শহীদের রাঙা জলে আমি মুক্তি দেখেছিলাম

ওরা বুঝেনি, ওরা টের পায়নি

প্রবল লিপ্সলায় ক্ষমতার সিংহাসনে কেউ কেউ

কলঙ্কিত করেছে শহীদের রাঙা জল

 

তবু ওদের লজ্জা হয় না, এতদিন পরও আমি শুনতে পাই

ল্ক্ষ শহীদের অভিশাপ।

লাল সবুজ রঙ দিয়ে লক্ষ শহীদেরা এঁকেছিল

স্বাধীন বাংলার পতাকা-

 

ওরা বুঝেনি, ওরা টের পায়নি

এমনকি সেইসব যোদ্ধাদেরও দেখিনা দেশ প্রেমের মঞ্চে

খেতাবের মোহে কিংবা ক্ষমতার মোহে ডেকে আনে

বিভেদের তপ্ত বৃষ্টি

 

ওদের লজ্জা হয় না, এতোদিন পরও আমি শুনতে পাই

ইজ্জত হারা মা বোনের অভিশাপ

স্বাধীনতা কি স্বাধীনতার বুকে পদাঘাত?

লাল সবুজের বুকে অধিকার বঞ্চিত করা কি দেশপ্রেম?

কি আজিব তামাশা!

 

যুদ্ধে পাওয়া খেতাব আলিঙ্গন করা কি পাপ?

এ বৈষম্যের সারমর্ম্ বুঝিনা-

কিন্তু আমি স্পষ্ট শুনতে পাই

লক্ষ শহীদের অভিশাপ---

------১৩-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজপুর।

 

এই খেলা বন্ধ হবে কবে?

 -----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

**********************************

নেতা তো নয় জড়িয়ে ধরে যখন যেথায় পায়!

কেমন আছেন?চলছে ভাল-বেজায় শুনতে চায়

 

সকাল বিকাল অলি গলি আতর মেখে গায়

হরেক সাজে জননেতা নিত্য আসে যায়—

যখন যেথায় পায়-

একই গান গায়- আসছে দিন শুভ দিন

আমায় ভোট দিন—আমায় ভোট দিন।

 

নিজের কথা নিজে ভুলে ভোটের পরের দিন

এখন শুভদিন, আমার শুভদিন

জনতার দুঃখের দিন--

 

জনতা নেই আর জ্বলে-- জননেতার প্রাণে –

আমানিশার গোঢ় আঁধার এখন পূর্ণি গগণে!

বার বার আসে ,বার বার ভুলে যায় দিনের পর দিন

তবু সরল জনতা বিশ্বাস করে অফুরান

জনতার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা চলে বিরামহীন--

 

এই খেলা বন্ধ হবে কবে?

সেই কথা কি আজিকার নেতারা জানে?

------১৩-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

 

সাদা কালো এক হয়ে

 ----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

**********************************

অন্তর বাহ্যিক মিল নেই ভাব ও কর্মে

সাদা কালো এক হয়ে শুনায় গান ধর্মে ।

 

বজ্র কণ্ঠের অভাব নেই হক বাতিলে পক্ষে;

দেনা পাওনা মিটে গেলে আর নেই লক্ষে।

 

ক্ষমতার গন্ধ পেলে মীরজাফর তৈরী-

নেতা আর জনতা তো হালকালে বৈরী।

 

জননেতা  আর বিদ্রোহী এক হয় কোনদিন সে ?

ক্ষমতার  সিংহাসন দেখে বিদ্রোহী জ্বলে হিংসে।

 

লক্ষ শহীদের রক্তের দাগটা দেখেনি কখনো

দোসরেরা পরাজয়ের রাগ দেখায় এখনো।

 

স্বৈরতন্ত্রের ভেতরে গণতন্ত্রের কবিতা লেখে-

ক্ষমতার সাহিত্য পড়ে বিদ্রোহীদের ডেকে ডেকে।

 

তার চেয়ে বেশী আমি আর কি পারি বলতে

যা দেখেছি তা ছিল না মুক্তিযুদ্ধের সংগীতে।

 

অন্তর বাহ্যিক মিল নেই ভাব ও কর্মে

সাদা কালো এক হয়ে শুনায় গান ধর্মে ।

--১৩-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২১

বিরহ ব্যদনার পরে

 -----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

***********************************

অনেক বিরহ ব্যদনার পরে হয় সুখের দেখা

তবে কিসের ভয় হে দুর্বার --যে পথ আঁকা বাঁকা?

যুদ্ধের তুলিতে বীর তো এঁকে যায়

সেই স্বপ্নের পতাকা বিপুল দৃঢ়তায়।

 

হৃদয়ের পাশে রক্ত তরঙ্গে বিজয়ের কেরামতি

তুমি কি শুনতে পাও সেই গর্জনের প্রতিধ্বনি?

যে  ফুলে ফুলে রঙিন ডানা মেলে প্রজাপতি।

তবে কেন থমকে দিয়েছো যুদ্ধের গতি?

 

দূর্গের যোদ্ধা দেখনি- লক্ষ শহীদের রক্তে লেখা

আমাদের বিজয়!

নেই নেই- নেই কোন ভয়!

অনেক বিরহ ব্যদনার পরে হয় সুখের দেখা ।

 

তুমুল ঘুর্ণি ঝড়ে অদম্য সাধনা যায় তারে ডেকে

হে বীর তুমি গর্জে ওঠো যুদ্ধের দূর্গে আপনার ভয় ঢেকে।

দিন শেষে বিজয়ী পাখিরা করবে কোলাকুলি

হে দুর্বার, তুমি যাবে দুঃখ-ব্যদনা চিরতরে ভুলি।

 

---১২-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

মুখ চিনে চিনে

 

----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

*********************************

চেয়ার পেয়ে ক্ষমতা পেয়ে ধমক দিয়ে যায়

সকাল সাঁঝে গর্জে বস আপন ভঙ্গিমায়।

সুযোগ বুঝে কোঁপ মারে রক্ত চুক্ষে চায়

ক্ষমতা ওই আমার হাতে নিত্য গান গায়।

 

নিত্য বস ফাঁকি দেয় এদিক-সেদিক ঘুরে

সবে জানে বস ওই অফিস কাজে দৌড়ে।

বলতে গেলে শাস্তি আসে আরো নতুন করে

বছর শেষে শূন্য হাতে ফিরি আমি ঘরে ।

 

মালিকে নাই আমার ছবি আপন আলোয় জ্বলে

বস তো সেথায় বলে না কিছু আমার খাতা খুলে

আপন স্বার্থে ব্যস্ত বেশী

কর্মী অমি বেজায় দোষী।

 

রক্তে আঁকা আমার স্বপ্নে রাতের কালি ঢেলে

প্রাণের প্রদীপ নিভিয়ে দেয় চোখের অশ্রু জ্বলে।

চেয়ার পেয়ে ক্ষমতা পেয়ে দিনের পর দিন

বসেরা ওই কমীর সাথে খেলে বিরামহীন।

 

মুখ চিনে চিনে বসেরা করে নদী পার!

কেউ কি জানে কর্মীর সাথে এমন খেলা তার?

------১২-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

 

পথ চলে অজানায়

 


--কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

*********************************

তারুণ্যের শরীরে উষা জাগলো

নব যৌবনে প্রেমের আলো

হৃদয় মেলে চায়।

 

চললে বলনে ঝলক জ্বলে

আবেগের খেয়াগুলো খেলার ছলে

পথ চলে অজানায় ।

 

স্বপ্নের পৃথিবীর, রঙিন আলো

হৃদয়ে জাগায় দৃষ্টের কালো

আয়রে প্রেমিক আয়।

 

প্রেমিক যায় আঁধার তরে

প্রেমিকার গুপ্ত ধৌত করে

কামনার ঝর্ণায়।

 

হে তারুণ্য, ঘুম ভাঙ্গাও বিবেকের কলোতানে

জাগিয়ে তুল হে শরীরের ঊষা সতিত্ত্বের আবেদনে।

যৌবনের মহোনায়-

 

তাগুদের হৃদয় কোণে

ধর্ষণ নেমে আসে আঁধার গগণে।

আালোর পথে আয়, আলোর পথে আয়।

---১২-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

আমিতো ভুলে যেতে চাই

কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর। *********************************** আমিতো ভুলে যেতে চাই, তোমার অবহেলা ছাড়ে না কিছু মানু...