বুধবার, মার্চ ০৪, ২০২৬

বিশ্বাসের হাতেই যখন মৃত্যু

 বিশ্বাসের হাতেই যখন মৃত্যু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************
যে হাতটি ধরে শিশু হেঁটেছিল পরম নির্ভর,
সেই হাতেই লেখা ছিল ঘোরতর মরণ-খবর।
মিষ্টি চকোলেট আর বিস্কুটের রঙিন ছলে,
পিশাচ নিয়েছিল তাকে নির্জন উদ্যান-তলে।

ইরা তো জানত না এই চেনা হাত খুনি হয়ে ওঠে,
বিকৃত লালসা শেষে বিষাক্ত নীলবিষ ছোটে।
কণ্ঠনালী কাটা পড়ে স্তব্ধ হয় কচি সেই প্রাণ,
বাতাসে ভাসিয়া যায় বিশ্বাসের শেষ আর্তনাদ।

ছবির সেই চলা দেখে কেঁপে ওঠে মানুষের মন,
দাদার মতন ছায়া সে তো ছিল ঘাতক-যাপন।
রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে রয় নির্দয় ভুবনে,
ইরা আজ চলে গেছে শান্ত সেই নক্ষত্র-কাননে।

জাগুক কঠিন বিচার কাটুক এই অন্ধ আঁধার,
বাবু শেখদের হোক চরম ও চরম ধিক্কার।
নিরাপদ হোক ধরা প্রতিটি ইরার তরে আজ,
নইলে ললাটে রবে সভ্যতার চিরকাল লাজ।
---------------------------------------------------------


০৪-০৩-২০২৬

হে মহাবিপ্লবী খামেনী

 হে মহাবিপ্লবী খামেনী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************
জাগো আজ তবে কাল-ভৈরবী, জাগো রে রুদ্র-রোষে,
বাতিলের তখত কাঁপুক আজিকে—অন্যায়ের প্রতিশোধে!
তুমি তুলেছিলে ইসলামের ধ্বজা, নির্ভীক—একাকী বীর,
জল্লাদ-ভয়ে কভু করোনি তো তিল পরিমাণ নত শির।

৩৬ বছর ধরে লড়েছো তুমি ‘মোকাবেলা’র রণে,
সাম্রাজ্যবাদী হায়েনারা তাই কাঁপে তব তর্জনে!
২৮শে ফেব্রুয়ারি—তেহরান আকাশ রক্তে হলো রে লাল,
মার্কিন-ইসরাঈল হেনেছে আঘাত, ছিঁড়িতে জয়ের জাল।

কাপুরুষের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হেনেছে আঘাত ঘরে,
তুমি তো অমর—শহীদি খুনের লোহিত সাগর-পরে।
কন্যা-জামাতা, নাতি ও নাতনি—রক্তে রাঙালো পথ,
ত্যাগের মহিমায় জয়ী হলো তব বিপ্লবী মনোরথ।

ধিক্ ওরে ওমান, জর্দান, কাতার! ধিক্ রে সৌদি-মিশর,
মুনাফিকির চাদর মুড়ি দিয়ে সেজেছ শত্রুর চর।
মদিনার রূহু বিক্রি করেছ—দিয়েছ শত্রুর ঘাঁটি,
তোদের বিশ্বাসহীনতায় কাঁদে আজ ইসলামের এই মাটি!

আঘাত হেনেছে ওরা পিছন হতে, বিষাক্ত সাপের মতো,
তবু খামেনীর আদর্শ আজ বিশ্বে জাগ্রত।
এ মৃত্যু তো মৃত্যু নয়—এ যে নতুনের মহাপ্রলয়,
মাশহাদের ওই পবিত্র মাটি তব ঠাঁই সুনিশ্চয়।

গাজা থেকে আজ লেবানন অবধি জাগছে কোটি প্রাণ,
খামেনীর রক্তে শপথ নিয়েছে—গাইবে বিজয়ী গান।
হে বিপ্লবী নেতা! বীরের মরণে তুমি হলে অমরত্ব,
তোমার চেতনার আগুনে পুড়বে জালিমের সব দম্ভ!

তুমি নাই—তবু তোমার ‘হেকামত’ গর্জে ওঠে দিকে দিকে,
শোষিতের হুঙ্কারে বিশ্ব-ত্রাস আজ হচ্ছে ক্রমে ফিকে।
হে আলী খামেনী! তুমি অমর, তুমি চির-বিপ্লবের গান,
তোমার রক্তশপথে আজ ভাঙবে জালিমের বিষাণ!

হে বিদ্রোহী বীর! তোমার রক্তে জেগে উঠুক কোটি প্রাণ,
মুনাফিকদের ধ্বংস হোক, হোক ইসলামের জয়গান!
উঠুক গর্জি ‘তকবীর’ ধ্বনি ভাঙুক শৃঙ্খল-জাল,
খামেনীর ঐ বিপ্লবী তেজে রাঙুক আগামী কাল!
********************************************************


০৪-০৩-২০২৬

সোমবার, মার্চ ০২, ২০২৬

একই বোঁটায় দু’টি গোলাপ

 একই বোঁটায় দু’টি গোলাপ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
একই বৃন্তে ফুটেছে আজি রক্ত-গোলাপ জোড়া,
কাপাসিয়ার ধূলায় জাগে নতুন প্রাণের তোড়া!
বহুদিন পরে দেখিনু রে হায় এমন দৃশ্য পট,
থামুক এবার ছলনার খেলা, ভাঙুক মায়ার জট।

এ যেন না হয় মরীচিকা এক অশুভ যাত্রার,
হৃদয় হতে জাগুক বন্ধন সাম্য ও একতার।
মানবতার ডাক দিয়ে যায় ঐক্যের শ্বেত নিশান,
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আজি গাও রে জয়ের গান।

ওরে ও তাপস, ওরে ও যুবক, শোনরে নবীন দল,
ভিন্ন পথের পথিক হলেও লক্ষ্য হোকরে অটল।
রিয়াজুল হান্নান আর সালাউদ্দিন আয়ূবী তোরা—জনতার দুই বীর,
তোদের মাঝেই খুঁজে পাক দিশা কাপাসিয়া রণধীর!

রাত্রির ঘোর অন্ধকার ছিঁড়ে আনরে দিবালোক,
তোদের চরণে সাম্যের পথে ঘুচে যাক সব শোক।
পথ হোক ভিন্ন, প্রাণ হোক এক—সন্ধির জয়রথ,
একই বোঁটায় দুই ফুল হয়ে রাঙা কর রাজপথ।

ছিঁড়ে ফেল আজি স্বৈরাচারের লৌহ-কঠিন কপাট,
ফ্যাসিবাদ আর মবতন্ত্রের ভাঙো শঠতার হাট।
ভয়তন্ত্রের মরণ-নেশা তোরা কররে চুরমার,
অধিকার-হারা মানুষের তরে আনরে সুবিচার।

চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসের ঐ টুটি চিপে ধর আজ,
খুন-গুম-ধর্ষণে রুধিতে পররে রণ-সাজ।
কাপাসিয়া গড়ার অঙ্গিকারে চলরে দুর্জয় বেশে,
গণতন্ত্রের নিশান ওড়াও এই বাংলার দেশে!

জাগো রে জোয়ান, হানো খরশান—বিজয়ের উল্লাসে,
মুক্তির সুখ ফুটে উঠুক ঐ দুঃখীর মৃদু হাসে।
-----------------------------------------------------


০২-০৩-২০২৬

বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

ওপারে ভাল থাকিস হে বন্ধু

 ওপারে ভাল থাকিস হে বন্ধু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************
ওরে বন্ধু,
ভাবিনি তোকে নিয়ে কোনোদিন এভাবে লিখতে হবে—
শব্দগুলো হবে শোকের কাফনে মোড়া,
কলম ভিজবে অশ্রুর নোনাজলে।

সেদিনও তো বলেছিলি—
“অনেক কথা আছে রে, অনেক দুঃখ জমে আছে বুকে,
ফোনে বলা যাবে না।”
তোর কণ্ঠে ছিল ভাঙা স্বপ্নের শব্দ,
ভালবাসার আকাশে জমাট কালো মেঘের ভার।
বলেছিলি— ভালবাসার সূর্যটা নাকি নিভে গেছে,
তুই নাকি এখন এক অন্ধকার পথের পথহারা পথিক।

আর কিছু জানার আগেই
সব কথা থেমে গেল—
নিভে গেল তোর জীবনের প্রদীপ।
হঠাৎ একদিন ফেসবুকের নীল পর্দায় দেখি—
তুই আর নেই!
এই দুটি শব্দ যেন বজ্রাঘাত—
হৃদয়ের গভীরে তীব্র আর্তনাদ।

মনে পড়ে কলেজের সেই প্রাঙ্গণ,
৯৩ ব্যাচের হাসি, উচ্ছ্বাস, স্বপ্নমাখা দিন।
দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানো
আমাদের ছোট ছোট সংগ্রাম।
তুই, আমি, মনির, জালাল, সুমন, সাত্তার, নাসির, সোহেল—
কত প্রাণের জোয়ার ছিল সেই দিনগুলোর বুকে!

আজ সব আছে—
শুধু তুই নেই।
তোর শূন্যতা যেন এক নিঃশব্দ ঝড়,
আমার ভেতরটা ভেঙে চুরমার করে দেয়।

হে প্রিয় বন্ধু জাহাঙ্গীর আলম সৈকত,
অনন্তের পথে তোর যাত্রা হোক শান্তিময়।
রহমতের ছায়ায় ঢেকে রাখুন মহান রব,
জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন তোকে—আমীন।

ওপারে ভাল থাকিস হে বন্ধু,
এপারে আমরা স্মৃতির প্রদীপ জ্বেলে রাখব—
যতদিন বুকের ভেতর
বন্ধুত্ব নামের এই অমলিন আলো জ্বলে।
----------------------------------------------------


২৫-০২-২০২৬

বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

আমার শ্রদ্ধেয় দাদা

 আমার শ্রদ্ধেয় দাদা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************

ওহে লাল মৌলভী! হে বড় হুজুর!
রাওনাটের সোনালী মুকুট, হে ঈমানের দীপ্তি!
পদচারণে মক্তব জ্বলে, শিশুর চোখে আলো,
শিক্ষার ভাষা, ন্যায়ের পথে—তুমি পথপ্রদর্শক।

পরহেজগার, ন্যায়পরায়ণ, দানবীর হৃদয় বিশাল,
প্রত্যেক মানুষের জন্য খোলা ছিল তোমার দরজা।
হাজার মুখে বাজে আজও তোমার নামের সুর,
‘আলহ্বাজ মৌলভী আহাদ আলী’—চিরন্তন আলো।

রাগী তুমি, শাসনে ইস্পাত কঠিন,
অন্যায়ের সাথে কখনো নয় সহমর্মিতা।
হুজুর, হেকিম, আলেম, পন্ডিত—সবের মিলন,
মানবতার চিত্র তুমি গড়ে, অনন্য নিদর্শন।

সোনালি স্মৃতির জ্যোতি তোমার পদচিহ্নে,
শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই পায় প্রেরণার দিশা।
ভালবাসা, শিক্ষা, ন্যায়—সবই তোমার হাতে,
মানুষের মাঝে জ্বলে সত্যের দীপ্ত বাতি।

আলোর ছোঁয়া, স্নেহের মধুর সুর,
মক্তবের ঘরে বাজে আজও তোমার মধুর গুণ।
দাদার এই স্মৃতি চিরন্তন, অম্লান, জ্বলন্ত,
হে মহান আল্লাহ, জান্নাতুল ফেরদৌসে নসীফ করো।

আমাদের ভালোবাসায় চির অমর হোক তিনি,
আমিন, আমিন, আমিন!
---------------------------------------------


১৮-০২-২০২৬

কবি তবু অপলক চেয়ে

 কবি তবু অপলক চেয়ে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************

পড়ন্ত বিকেলের নরম অন্ধকারে
ঝিলের ধারে এক কবি অপলক চেয়ে থাকে—
শূন্যতার দিকে, যেন শূন্যতারই গভীরে
কারো পায়ের শব্দ হারিয়ে গেছে বহু আগে।

উত্তরের টিলায় হয়তো আজও
গোধূলীর আভা লেগে আছে ধানের শিষে;
সেই আভার ভিতর দিয়ে
কেউ আসার কথা ছিল—
হাতে একটি লাল গোলাপ,
বাতাসে দুলতে থাকা নীরব প্রতিশ্রুতি।

অদূরের যে বাড়িটি সন্ধ্যার কুয়াশায়
আধা দেখা যায়, আধা অদৃশ্য—
হয়তো তার জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে সে,
হয়তো ফুল বাগানে একা পাপড়ি ছুঁয়ে,
হয়তো খেলার মাঠের চারিপাশে
ঘুরে ঘুরে খুঁজছে অনামা কোনো সুর।

কবি তবু অপলক চেয়ে থাকে।
চেয়ে থাকে—
যেন চোখের ভেতর গোধূলী জমে ওঠে নদীর মতো।
কোথাও সে নেই—
তবু সে আছে প্রত্যাশার মতো
ধানের শীষের নরম দোলায়।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে।
পাখিরা নীরবে ফিরে যায় বাড়ি—
ডানায় লেগে থাকে ক্লান্ত সোনালী আলো।
ধানক্ষেত আরও সোনালী হয়ে ওঠে,
যেন দিনের শেষ রক্তিম স্বপ্ন
মাটির বুকে ঢেলে দিয়েছে কেউ।
ঝিলের জল শান্ত, নিবিড়—
অতল আয়নার মতো নিঃশব্দ।
সারি সারি গাছ দাঁড়িয়ে থাকে
কবির নিঃসঙ্গতার প্রহরী হয়ে।

তবু কবি অপলক চেয়ে—
যদি সে আসে!
যদি গোধূলীর ক্ষণিক আলোয়
একবার চোখে চোখ রাখে—
যদি বলে, “আমি তোমাকে ভালোবাসি”—
এই নাও প্রেমের গোলাপ,
এই নাও প্রতীক্ষার লাল আগুন।

কিন্তু সন্ধ্যা আরও গভীর হয়,
নীল থেকে কালো—
তবু সে এল না।
তবু সে বলল না।

তবু কবি ভালোবাসে—
শূন্যতার দিকে চেয়ে,
ভালোবাসে ধানের সোনালী নিঃশ্বাস,
ঝিলের নিস্তব্ধ জলে ভাসা আকাশ,
গোধূলীর ম্লান আলোয় হারিয়ে যাওয়া
এক অনামা পদচিহ্ন।

সে না এলেও—
অপেক্ষাই যেন তার প্রেম;
শূন্যতার দিকে অপলক চেয়ে থাকাই
তার একমাত্র উচ্চারণ।

এভাবেই কবি দাঁড়িয়ে থাকে—
গোধূলীর পর গোধূলী,
শূন্যতার ভেতর এক গোলাপের স্বপ্ন নিয়ে।
-------------------------------------------


১৮-০২-২০২৬

পিতার আলো

 পিতার আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************

ওহে শোনো—
পিতার আলো যদি পড়ে সন্তানের অন্তরে,
সে সন্তান জ্বলে ওঠে প্রদীপ হয়ে বিশ্বভুবনের ঘরে।
তার চোখে জাগে প্রভাত, কপালে দীপ্তি খেলে,
তার প্রাণে সাহসের গান বাজে অটল অবহেলে।

পিতা যেন আকাশ-সূর্য, সন্তানের জীবনধারা,
তাঁর স্নেহধারা ঝরে পড়ে শিশিরের মতো সারা।
তাঁর কঠোর বাণীও মধুর, শাসন যেন আশীর্বাদ,
তাঁর পথনির্দেশে গড়ে ওঠে জীবনের সাধ।

তিনি শেখান সত্যের পথে দৃপ্ত পায়ে চলা,
অন্যায়ের সাথে রুখে দাঁড়াও— এই তাঁর বলিষ্ঠ বলা।
তিনি দেন পরিশ্রমের মান, সততার অগ্নিশিখা,
তাঁর আদর্শে গড়ে ওঠে দৃঢ় চরিত্র-দীক্ষা।

পিতার কপালের ঘাম সন্তানের গৌরব,
তাঁর ত্যাগে রচিত হয় সন্তানের ভবিষ্যৎ রৌদ্র।
তাঁর নীরব প্রার্থনায় জাগে কল্যাণের ঢেউ,
তাঁর আশীর্বাদে ঝরে পড়ে অশুভ আঁধার ঢেউ।

যার ঘরে পিতার আলো, সে ঘর দীপ্তিমান,
তার জীবন হয় সুপথের দৃঢ় অঙ্গীকারবান।
পিতার স্নেহের ছায়া যতদিন থাকে পাশে,
সন্তান ততদিন অটল থাকে দুর্দিনেরই আশে।

ওহে মানব, রেখো মনে এই চিরন্তন বাণী—
পিতার মর্যাদা রক্ষা করো, এ ইসলামেরই ধ্বনি।
পিতার আলোয় আলোকিত হোক সন্তান-সমাজ,
পিতার মহিমায় উজ্জ্বল হোক বিশ্ব আজ।
--------------------------------------


১৮-০২-২০২৬

তারুণ্যের প্রতি আহবান

 তারুণ্যের প্রতি আহবান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

ওহে শুনো হে তরুণ শক্তি!
তুমি সভ্যতার কুসুম ফুটাবে,
তুমি বাতাসে আলোর ঢেউ ছড়াবে।
যেও না কখনো কালো অন্ধকারের তীরে,
যেও না অনিষ্টের ছায়ায়,
নিশ্বাসে দিও না বিষ, হৃদয়ে রাখো জ্যোতি।

পিতা-মাতার কষ্ট বোঝো,
পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের দায় জানো।
নিজ জীবনের মূল্যবোধ অটল রাখো,
নিজেকে বিক্রি করো না দামী লোভের সপক্ষে।

মোবাইল, মোটরসাইকেল, মাদক—না!
পিতার ঘ্রাণে ভরা প্রেমকে এড়িয়ে যেও না।
লেখাপড়া করো, হয়ে ওঠো আদর্শ মানুষ,
বাজে আড্ডা, বাজে বন্ধু—দূরে থাকো বহু দূরে।

বড়কে শ্রদ্ধা দাও, ছোটকে স্নেহ দাও,
মানবিক শিখা চির অমল রাখো।
দেশপ্রেমিক, বিপ্লবী হও,
চামচা নয়, নিজের পায়ে দাঁড়াও।

হিংসা-বিদ্বেষ তাড়াও,
মানবিক বন্ধুত্বের হাত বাড়াও।
সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখো,
মা-বোনের ইজ্জত রক্ষা করো,
মুক্তির সুরে বাঙালির হৃদয়ে বেজে উঠ।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়
জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করো,
স্বাধীনতা রক্ষা করো, লাল-সবুজের ফুল হয়ে।
ধর্মান্ধ হইও না, উগ্রবাদী হইও না,
ভয়কে জয় করো, সাহসকে আলিঙ্গন করো।

তুমি জাতির প্রাণ, তুমি পিতা-মাতার স্বপ্ন,
তুমি স্বাধীন বাংলার গর্ব,
তুমি ভবিষ্যতের উজ্জ্বল সূর্য।

শুনো হে তরুণ!
তুমি সভ্যতার কুসুম ফুটাবে,
তুমি পৃথিবীকে আলোর নদীতে ভাসাবে—
শুধুই তোমার হাতে, শুধুই তোমার প্রাণে!

চল হে তরুণ, লাল-সবুজের পথে,
চল হে তরুণ, স্বাধীনতার সুরে!—
--------------------------------------------------


১৮-০২-২০২৬

তুমি বলো হে যুবক

 তুমি বলো হে যুবক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
--------------------------------------------

তুমি বলো হে যুবক—
দিগন্ত-দোলানো দুর্বার দামাল!
বজ্রকণ্ঠে খুলে দাও রুদ্ধ দ্বার,
তোমার পানে চেয়ে আছে বিশ্ব-জগৎ,
চেয়ে আছে রক্তে-রাঙা প্রিয় মাতৃভূমি—
অগ্নিশিখা-চূড়ায় জ্বালা যার ইতিহাস,
যার নাম— বাংলাদেশ!

বলো—
তুমি মানব, মানবতার মহাসেনা!
হারতে আসনি তুমি ধরাধামে,
এসেছো রণতূর্য বাজাতে,
অন্যায়ের প্রাচীর ভাঙাতে,
বঞ্চিত-লাঞ্ছিত-নিপীড়িত জনতার
অশ্রুতে লিখতে নতুন প্রভাত!

তুমি বিপ্লবী— বিদ্রোহী শপথে দীপ্ত!
তুমি প্রতিবাদী— অন্যায়-অন্ধকারে অগ্নিশিখা!
ন্যায়ের ধারক, সত্যের বাহক,
তুমি নও ব্যর্থ প্রেমিক—
তুমি প্রেমের পূর্ণ মঞ্জিল,
রাত্রির পূর্ণিমা-চাঁদ,
তুমি মাতৃভূমির কপালে স্বাধীনতার সিঁদুর!

তুমি এসেছো
মুক্তিযুদ্ধের রক্ত-ঋণ সমুন্নত রাখতে,
শহীদের স্বপ্নকে শপথে বাঁচাতে;
বলো— তোমার হাতেই নিরাপদ দেশ,
তোমার মুঠিতেই আগামী দিনের সূর্য!

বলো—
কোন যুবক-যুবতী আর
মাদকের বিষে ডুবে মরবে না;
বলো— এই জাতি হবে সভ্যতার ফুল,
শিক্ষা-শ্রম-সততায় গড়া সোনার সমাহার!

বলো—
তুমি নও দুর্নীতির দালাল,
নও ফ্যাসিবাদের অন্ধ প্রহরী,
নও মবের উন্মত্ত হুঙ্কার,
নও ভয়-ব্যবসায়ী, নও দেশদ্রোহী,
নও স্বাধীনতার শত্রু ছদ্মবেশী!

বলো—
তুমি নও ধর্মান্ধতার অন্ধকার,
নও উগ্রতার বিষদাঁত,
নও ধর্ম-ব্যবসার পাপ-বাজার,
নও জঙ্গিবাদের কালো নিশান!

তুমি সাম্যের, তুমি ঐক্যের,
তুমি নির্ভীক আশ্রয় শত দুঃখীর;
তুমি দেশপ্রেমিক— অতুল অগ্নি,
তুমি আগামী দিনের বজ্র-উচ্চারণ!

তাই বলো হে যুবক—
বুকের ভেতর বজ্র বাজাও,
রক্তে জাগাও রণ-তরঙ্গ;
মানুষ হবার মহাশপথে
নিজেকে জ্বালাও প্রদীপ-প্রতিজ্ঞায়—

যেন যুগে যুগে ধ্বনিত হয়—
“এসেছিল এক যুবক—
মানুষের তরে, মানবতার তরে,
স্বাধীনতার দীপ্ত পতাকা উড়িয়ে!”
------------------------------------------------


১৮-০২-২০২৬

এসেছে রমজান

 এসেছে রমজান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************
জাগো ইয়া মুমিন! এসেছে রমজান—
শাহ্‌রে রহমত, নূর-এ-সুবহান!
আসমানে বাজে তকবীরের সুর,
লাব্বাইক ধ্বনি তোলে আরশ-মঞ্জুর।

ওঠো শবের শেষ সেহরীর ওয়াক্তে,
নাজিল হয় বরকত রহমতের রাহমাতে।
তাসবিহ্‌-তাহলিল জপো ইশ্‌কের তানে,
“ইয়া রব! ইয়া রব!” কাঁদো গোপন প্রাণে।

ফরজ সাওম—হুকুমে রহমান,
সবরের মাদরাসা, তাকওয়ার ইমান।
নফসের জিহাদ, শয়তানের শিকল,
রুহের সফর মাকামে-কামিল।

ক্ষুধা নয় শুধু, এ ইবাদত-এ-খাস,
হিকমতে ভরা রবের নিদর্শন বিশেষ।
চোখে হায়া, জিহ্বায় জিকর,
কুলুবেতে জাগে নূর-এ-ফিকর।

শাহ্‌রে মাগফিরাত—ঝরে আফও-ও-করাম,
গুনাহগার পায় ক্ষমার ইনআম।
দরিয়ায়ে রহমত ঢেউ তোলে আজ,
তওবার নাও ভাসাও নির্ভয় সাজ।

এ মাসে নাজিল কিতাবুল-হুদা,
আল-কুরআন—নূর-এ-খোদা।
লাইলাতুল কদর—শব-এ-নূর,
হাজার মাস হতে আফজাল সুর।

যাকাত-সদকা, খাইরাত দাও,
ফকির-মিসকিনে ইহসান ছড়াও।
উম্মাহর বুকে উখুয়াতের গান,
ভাঙে তাফরিকা, জাগে ইত্তেহাদ।

ইফতারের দোয়া—কবুলের ক্ষণ,
আরশ হতে নামে রহমতের বন।
“যাহাবাজ-জামা”—তৃষ্ণার অবসান,
শুকরিয়া আদায় করো রহমান।

রমজান! রমজান! শাহ্‌রে-সিয়াম—
তোমার বরকতে জাগে ইসলাম।
দিলের মসজিদে আজান ওঠে,
ইশ্‌কের আগুন জ্বলে অন্তর-রথে।

হে আল্লাহ! দাও নাজাতের দিশা,
হাশরের ময়দানে করো না নিরাশা।
কবুল করো এ সাওম-ও-সালাত,
দাও জান্নাতে নূরের হায়াত।

জাগো ইয়া মুমিন! এসেছে রমজান—
শাহ্‌রে রহমত, নূর-এ-সুবহান!
সংযমে গড়ি দিলের ইমান,
ইয়া রহমান! ইয়া রহমান!
-----------------------------------------------


১৮-০২-২০২৬

তোমাকে সংবর্ধনা হে গুণীজন

  কলমেঃ মোহাম্মদ আমিনুল এহছান মোল্লা রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর। ***************************************** তোমাকে সংবর্ধনা হে গুণীজন...