বৃহস্পতিবার, মে ০৭, ২০২৬

স্বদেশের আত্মাহুতি

 স্বদেশের আত্মাহুতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*******************************************
ওরে ওরে ভীরু কান্ডারী, একি শুনি তব পিঞ্জরে?
স্বাধীন দেশের রক্ত-নিশান কি আজ নিলাম হয় বর্বরে?
যেই মাটিতে শহীদ-গাজীর তপ্ত লহু মেশা,
সেথায় কেন ‘মৌসুমী’ শাসকের আজ গোলামীর এই নেশা?

একি মুক্তি? একি স্বাধীনতা? ওরে ওরে ভণ্ড বীর,
বিকিয়ে দিলি আমার সোনার দেশের আকাশ-মাটি-নীর?
যেই দলিলে ‘মার্কিন সার্টিফিকেশন’ সার্বভৌমত্বে হানে আঘাত,
সে দলিল কি স্বাধীন জাতির? ওরে আত্মঘাতী ম্রিয়মাণ ঘাত!

বোয়িং কেনার আবশ্যিকতায় কেন ঋণের রশি গলায়?
কৃষিপণ্য আর জ্বালানি এখন কেন বিদেশের ইশারায়?
দেশী খামারিরা পথে বসে আজ, কৃষকের চোখে জল,
রাজস্ব হারিয়ে দেশ কি তবে হবে বিদেশের পদতল?

ডেটা আর সাইবার সার্বভৌমত্ব কি আজ পণ্যের হাটে বিক্রি?
প্রতিরক্ষার গোপন কথা কেন পরের কাছে চাস ভিকিরি?
গোয়েন্দা তথ্য পাচার করে কি দেখাস স্বাধীনতার ভেল্কি?
পররাষ্ট্রের স্বাধীনতা কি আজ বিদেশের দাসখতে জিম্মি?

ওষুধের দাম আকাশ ছোঁওয়ালি, সাধারণের হাঁসফাঁস প্রাণ,
তোর কাছে কি এটাই তবে স্বদেশের মুক্তির গান?
কেন সংসদে উঠল না এই আঁধার রাতের চুক্তি?
জনতার রায়হীন এ দলিলে কোথায় দেশের মুক্তি?

কেন সায় দিলি? কেন সইলি? কেন মাথা করলি নত?
যাঁরা চায়নি স্বদেশ, তাদের পায়ে কেন এই আত্মক্ষত?
শোন রে শাসক, ইতিহাস তোকে কক্ষনো ক্ষমা দিবে না,
জনতার এই ক্রোধের আগুন দমে থাকতে জানে না!

আজি ছুঁড়ে ফেলে দাও ঐ মরণ-চুক্তি, ঐ গোলামি শৃঙ্খল,
জাগুক আবার স্বাধীন বাংলার অগ্নিবীণার অতল।
শির নেহারি আমারি নত হয় ঐ বিদেশীর উদ্ধত শির—
তবে তুই কেন আজ হীনন্মন্যতায় নুয়ে পড়িস রে কান্ডারী অধীর?
-----------------------------------------------------------------------

অঘোষিত দহন

 অঘোষিত দহন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************
একই বাগানে ফুটে আছো দুই ফুল, ব্যবধান শুধু টুকু—
অহমিকা আর মৌনতা আজ কামড়ে ধরেছে বুক।
পাশাপাশি থেকেও যোজন যোজন দীর্ঘ এ বনবাস,
একই বাতাসে মিশে আছে তবু গুমোট দীর্ঘশ্বাস।

কেউ বলেনি "বাসি ভালো", কেউ মেলেনি ডানা,
অথচ দুজনেরই হৃদস্পন্দন আজ একে অপরের চেনা।
হাজার ফুলের ভিড়েও আজ বাগানটা খাঁ খাঁ মরু,
বিষণ্ণতায় নুয়ে পড়েছে প্রেমের কচি তরু।

ওগো মোর মানিনী, শোনো—
তুমি ভোরের শিশিরভেজা রক্তিম সেই গোলাপ,
যার স্পর্শে ঘুচে যায় হৃদয়ের সব বিলাপ।
তুমি রজনীগন্ধার মতো স্নিগ্ধ এবং শুচি,
তোমার হাসি দেখলেই আমার সব অভিমান ঘুচি।

তুমি শরতের কাশফুল, শুভ্রতার এক শেষ সীমানা,
আমার মনের গহিন অরণ্যে তোমার অবাধ আনাগোনা।
তুমি নীলপদ্মের মতো দুষ্প্রাপ্য আর মায়াবী অতি,
আমার অন্ধকার জীবনের তুমিই একমাত্র ধ্রুবজ্যোতি।

বৃথা এ যুদ্ধ, বৃথা এই অকারণ দূরে থাকা,
ভালবাসার ক্যানভাস কি যায় এমন শূন্য রাখা?
একবার শুধু চোখের পানে চেয়ে বলো "ভালবাসি",
মুহূর্তেই ঘুচবে আঁধার, ফুটবে বাগানে হাসি।

সব উপমা হার মেনে যায় তোমার রূপের কাছে,
পৃথিবীর সব প্রেম যেন আজ তোমার মাঝেই আছে।
অভিমান ভেঙে দাও আজ, ফেরো সেই চেনা নীড়ে,
দুটি ফুল আজ প্রাণ পাক আবার— ভালোবাসার ভিড়ে।
----------------------------------------------------


৩০-০৪-২০২৬

সেই কম্পন এখনো থামেনি

 সেই কম্পন এখনো থামেনি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************
সেই কম্পন এখনো থামেনি, হয়তো থামবেও না কোনোদিন—
রক্তের গভীরে মিশে আছে এক অশরীরী ঋন।
কেউ কি শুনতে পায়? কেউ কি বোঝে এই স্পন্দনের ভাষা?
যেখানে স্বার্থ ছিল না কোনো, ছিল না কোনো মাংসল লালসা।

তুমি কি কেবলই রূপের মোহ? না, তুমি এক অসীম শূন্যতা,
মরুভূমির তপ্ত বুকে যেমন এক ফোঁটা বৃষ্টির আকুলতা।
যৌবনের আকর্ষণ ছিল না সেথায়, ছিল শুধু হৃদয়ের টান,
অন্ধকারের নির্জনে আজো গেয়ে চলি সেই বিচ্ছেদী গান।

এক হৃদয়ে আরেক হৃদয়ের এই যে অদৃশ্য নীরব ছোঁয়া,
বাতাসে মিলিয়ে যাওয়া যেন একমুঠো নীল ধোঁয়া।
সে কি ভালোবাসা? নাকি তার চেয়েও বড় কোনো সত্য?
আজো জানি না, শুধু বুঝেছি আমি এক নিঃস্বাতীত ভৃত্য।

রাত্রির আঁধারে যখন পৃথিবী ঘুমায় নিঝুম মৌনতায়,
আমার শূন্যতা হাহাকার করে তোমার ফেলে যাওয়া ঠিকানায়।
তুমি জানলে না, জানবেও না কোনোদিন এই ব্যাকুলতা কতদূর,
আমার বুকের বাঁশিতে বাজে শুধু তোমার না-থাকার সুর।

একটি ধ্রুপদী কবিতার মতো আমি তোমাকে পড়ে যাই বারেবার,
চোখের কোণে জল জমে আসে, ভেঙে যায় সব অলীক দুয়ার।
বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে প্রলয়ঙ্কারী কোনো ঝড়ে,
পাগলের মতো খুঁজি তোমায় স্মৃতির প্রতিটি জীর্ণ থরে।

হয়তো এই শূন্যতা নিয়েই পাড়ি দেব মৃত্যুর ওপার,
যেখানে তোমার আমার মাঝে থাকবে না কোনো লৌকিকতার দেয়াল।
সেই কম্পন থামেনি প্রিয়, থামবে না আমৃত্যু এক পলে—
তুমি অমর হয়ে রবে মোর নয়নের প্রতিটি অশ্রুজলে

শিশুরাও লজ্জা পায়

 শিশুরাও লজ্জা পায়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
হে মোর স্বদেশ, একি হেরি আজ তব পুণ্য প্রাঙ্গণে!
যেথা বসিবার কথা ছিল স্থির মহৎ গুণীজনে,
সেথা আজি একি হীন কোলাহল, কুশ্রী সে অভিনয়—
রঙিন পর্দায় ছড়ায় লজ্জা, ঘৃণা জাগে মনে হয়।

ইথারে ইথারে রটিছে কেবল পঙ্কিল এক গাথা,
পবিত্র সে বেদীতলে জনতা আজি নোয়ায় আপন মাথা।
যেথা উড়িবার কথা ছিল লাল-সবুজের মান,
যেথা ধ্বনিত হওয়ার কথা ছিল মুক্তির জয়গান—

সেথা চলে আজ হঠকারিতা, কূটবাক্যের রণ,
কে কারে করিবে হীন, কার মাঝে কত আয়োজন!
মুক্তিযুদ্ধ তুচ্ছ করিয়া ফ্যাসিবাদের বন্দনা,
স্বৈরাচারের বীজ বুনে চলে— নিদারুণ এ যন্ত্রণা।

গীবতের গল্পে রুদ্ধ করিছে সত্যের কণ্ঠস্বর,
আপন মহিমা ভুলিয়া আজিকে সবে যেন অতি পর।
অবুঝ শিশুও অবাক নেত্রে চাহিয়া রহে সেথা,
পিতা’রে শুধায় উপহাস ভরে—“পাগলের মেলা একি হেথা?”

যাদের হেরিলে জাগিত শ্রদ্ধা নবীন এ মনে তায়—
আজ হেরি সেই শিশুরাও লজ্জা পায়।
হে বিধাতা, তব ধরণীর বুকে ফিরাও সুস্থ মতি,
নাহলে উত্তরকাল কহিবে তোমায় চির-অপরাধী অতি।
---------------------------------------------------

দীপ্ত সূর্য লুকিয়ে রয়েছে

 দীপ্ত সূর্য লুকিয়ে রয়েছে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************
দীপ্ত সূর্য লুকিয়ে রয়েছে মেঘের ঘন আড়ালে,
বিদ্যুৎ আজ হুঙ্কার দেয় বৈশাখী সব আদলে।
মেঘের ভাঁজে লুপ্ত আলো, আঁধার হেরি ধরণীতে,
রুদ্র আকাশ স্তব্ধ আজি অঝোর ধারার রণিতে।

হে রবি, তুমি কেন গো আজ নিঠুর হলে আঁধারে?
পথিক পথ হারায় একা নিঝুম বনের মাঝারে।
রজনী সম এই যে বেলা, ঘুচাও ভয়ের কালো ছায়া,
অচিন পথের মুসাফিরে দেখাও তোমার আলোক-মায়া।

খুলে দাও তব দ্বারের অর্গল, দাও গো দেখা একবার,
তিমির বিদারী কিরণ মালায় কাটাও সকল অন্ধকার।
জানি হে তপন, অসীম তোমার ক্ষমতা আর শক্তি,
সাধ্য কি মোর ছুঁই তোমায়, আছে শুধু মোর ভক্তি।

অদম্য স্পৃহা, দুর্বার গতি— মহিমায় তুমি জ্যোতির্ময়,
তোমার ছোঁয়ায় বিশ্ব ভুবন পরাজয় ভুলে পায় গো জয়।
রূঢ়তা ছাড়ি স্নিগ্ধ হাসিতে ধরণীর বুকে নামো তবে,
তোমার ওই তেজস্বী রূপে মর্ত্য আবার জাগবে সবে।
------------------------------------------------------------------------------


৩০-০৪-২০২৬

শ্রমিকের মুক্তি চাই

 শ্রমিকের মুক্তি চাই

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

আমি আসিনি শুনতে কোনো মিছে বুলি, বক্তৃতার ওই ফাঁকা বুলি—
আমি দেখতে এসেছি শ্রমের ঘামে, ন্যায্য দাবির দুয়ার খুলি।
ব্যানার-ফেস্টুন, পত্রিকার পাতা— অনেক হয়েছে দেখা,
এবার চাইছি মাটির পৃথিবীতে অধিকারের অমর লেখ্য লেখা।
আমি শ্রমিকের মুক্তি চাই, শৃঙ্খল ভাঙার গান গাই!

কত ঘাম ঝরে কারখানার চাকা ঘোরে রাত-দিন,
তবু কেন শ্রমিকের পাওনা থেকে যায় চিরকাল ঋণ?
মালিকের প্রাসাদে আলোর রোশনাই, শ্রমিকের ঘরে অন্ধকার—
এই শোষণের বিচার করতে এসেছি আমি, বিদ্রোহী এক তলোয়ার।
বেতন-ভাতা, বাসস্থান, আর চাই জীবনের নিরাপত্তা,
শাসক-শোষকের মসনদ কাঁপে— যখন জাগে শ্রমিকের সত্তা!

ওরে মজলুম, ওরে নিঃস্ব— আর কতকাল রবে তুই চুপ?
তোর রক্তে কেনা বৈভব চেনে না তোর কঙ্কালসার রূপ।
মিল-কারখানায় বৈষম্যের বিষবাষ্প এবার দাও জ্বালিয়ে,
বিপ্লবী সুরে গর্জে উঠো সব, অধিকার নেব ছিনিয়ে!
রক্ত ঝরা ওই শহীদের ঋণ শোধ হবে আজ রণসাজে,
মুক্তির দামামা আজ তামাম পৃথিবীর বুকে বাজে।

চিকিৎসা চাই, সম্মান চাই, চাই বাঁচার অধিকার—
কলম ধরেছি ভাঙতে ওই জুলুমের যত কারাগার।
আমি কবির কলমে বিদ্রোহ এনেছি, শাসকের গদি কাঁপাতে,
মজলুমের হাতে হাত মিলিয়ে এসেছি শৃঙ্খল ভাঙাতে।
জেগে ওঠো দুনিয়ার মেহনতি মানুষ, ভাঙো শোষণের কালো হাত—
শ্রমিকের মুক্তির সূর্য উঠবেই, কাটবে ঘোর আঁধার রাত!
আমি শ্রমিকের মুক্তি চাই, বিপ্লবে আজ মুক্তি পাই!
-------------------------------------------------------------

শ্রমিকের জয়গান

 শ্রমিকের জয়গান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************
জাগো জাগো রে মজলুম, জাগো সর্বহারা!
রক্তে তোদের জাগুক আজ আগ্নেয়গিরির ধারা!
বাঁধ ভেঙেছে শোষণের ঐ পাষাণ কারার দ্বার,
আসছে ধেয়ে মজুর-কিষাণ— লড়াকু হুঁশিয়ার!

আমি বিদ্রোহী, আমি রুধিতে এসেছি জালিমের ঐ হাত,
আমি আসিনি শুনতে মিছে বুলি, বক্তৃতার কুপাত!
পোষ্টার-ব্যানার-কাগজের পাতা— সবি যে আজ ফাঁকি,
শ্রমিকের ঘামে শোষক কেন রে বিলাসিতায় মাখি?
আমি ভাঙতে এসেছি শোষণের শৃঙ্খল-বেড়ি লোহার,
আমি রণ-তূর্য, আমি মহাকালের প্রচণ্ড হাহাকার!

শহীদ শ্রমিকের রক্তে কেনা কারখানার ঐ চাকা,
মালিকের ঐ তিলক-তাজ— সব যে রক্তে মাখা!
ওরে ভীরু দল! কেন মিছে করিস ক্ষমতার হুংকার?
পাওনা যখন চাইবে শ্রমিক— কাঁদবে তোদের হার!
চাই নে আমি শুকনো আশ্বাস, চাই বাসস্থান ও রুটি,
সম্মান নিয়ে বাঁচবে শ্রমিক, ছিঁড়বে দাসের খুঁটি।

শোন রে তামাম পৃথিবীর যত বঞ্চিত মেহনতি,
তোর হাতুড়ি-শাবল গড়বে এবার ন্যায়ের বসতি!
চিকিৎসা চাই, নিরাপত্তা চাই, চাই কর্মের অঙ্গীকার,
না দিলে কেড়ে নেব আমরা— মোদের এ অধিকার!
মালিকের ঐ মসনদ আজ কাঁপুক বজ্রনাদে,
শোষিত যখন রুখে দাঁড়াবে— শোষক মরবে ফাঁদে।

আমি কবি, আমি বিদ্রোহী— শ্রমিকের তরে গাই,
দুনিয়ার যত মজলুমের তরে আমি যে মুক্তি চাই!
জয় মেহনতি! জয় শ্রমিক! ভাঙো ঐ কালো হাত,
বিপ্লবী সুরে ডাক দিয়ে যায়— অরুণের নবারুণ প্রভাত!
----------------------------------------------------------------

বৃষ্টি

 বৃষ্টি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
***************************
ঝরে ঝরো ঝরো বারিধারা,
উদাস পবন দিশাহারা।
কভু হিয়া জাগে পুলক-ঘোরে,
কভু আঁখি ঝরে বিরহ-ভারে,
কভু বা রুদ্ধ পথে মন পথহারা।।

সজল মেঘের ছায়া ঘনায় বনে,
কাকে যেন খুঁজি গোপন মনে।
কদম্বরেণু মাখা পবনে,
শিহরন জাগে ক্ষণে ক্ষণে—
মেঘমল্লারে বাঁধি তপ্ত ধরা।।

ধূসর গগন ছায় আঁধারে,
আঁসু মিশে যায় অলখ ঝারে।
স্মৃতিরা ফেরে পুরানো দ্বারে,
ব্যথা বাজে আজ হাহাকারে—
নিঝুম বেলা মোর অশ্রুভরা।।

অবিরাম এই ঝিরি ঝিরি সুর,
ক্লান্ত লাগে আজ পথ যে দুস্তর।
আঁধার ঘেরিল গৃহের কোণ,
কবে হবে শেষ এ বিজন ক্ষণ—
চাহি আলোক যে তিমির-পারা।।
-----------------------------------


২৯-০৪-২০২৬

রক্তগোলাপের জয়গান

 রক্তগোলাপের জয়গান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************
ও মোর রক্তগোলাপ, মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাণের শিখা তুমি,
তোমার গন্ধে জাগছে আজি আমার সোনার ভূমি।
তুমি নেই তবু আছে তোমার হাতের আলোক-লতা,
দিকে দিকে ছড়িয়ে দিল মুক্তির অমর কথা॥

খন্ড বিখন্ড হলেও তুমি পাথরকুচির পাতা,
নবীন প্রাণের অঙ্কুরণে সাজাও মায়ার লতা।
আঁধার রাতে প্রদীপ হয়ে দিশা দেখাও একা,
শুভ্র কালিতে আঁকা এই তো জাগরণের লেখা॥

তুমি যে মোর স্থপতির উত্তরসূরী বীর,
তোমার নামে উচ্চ করি আজ বাঙালির এই শির।
লক্ষ শহীদের রক্তবিন্দু মিশেছে ওই কায়ায়,
ঘোমটা পরা বনানী হাসে তোমার স্মৃতির ছায়ায়॥

হৃদয়-বাগানে ফুটে থেকো তুমি চিরদিন অম্লান,
তোমার ত্যাগের মহিমা গাবে দিকে দিকে এই গান।
কেউ তোমারে মুছতে নারে বাঙালির এই বুক হতে—
ভাসিয়ে দেব তরী মোরা তোমার শোণিত-স্রোতে॥
---------------------------------------------------

অন্তহীন আশীর্বাদ

 অন্তহীন আশীর্বাদ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
শুভ লগনে জানাই আজি হৃদয়ের প্রার্থনা,
নাজমুল করিম ও লিপির ভুবনে রহুক না কোনো যাতনা।

স্নেহ-সুধায় ভরিয়া উঠুক তোমাদের গৃহখানি,
সুখ-সম্পদ বহিয়া আনুক প্রভুর আশিস-বাণী।

মশিউর রহমান নাঈম— সে তো প্রাণের নবীন আলো,
নওশীন তাবাছ্ছুম লুনা— স্নিগ্ধ শশধর সম ভালো।

পিতা-মাতার ছায়ার তলে বাড়ুক ওরা দুইজনে,
চিরকাল অম্লান থাকুক প্রেম তোমাদের এই মনে।

সংসারের এই তরীখানি চলুক শান্ত সমীরণে,
বিপদ আসিলে ধৈর্যের বলে থেকো সবে এক সনে।

প্রভুর চরণে এই মিনতি, ভরে দাও তাঁদের ঘর—
শান্তি লহরী বহুক সতত, হউক জীবন সুন্দর।
-------------------------------------------------------------------


২৯-০৪-২০২৬

অবুঝের মত (গান)

  অবুঝের মত (গান) কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা স্থানঃ রাওনাট - কাপাসিয়া - গাজীপুর তারিখঃ ২১ - ১১ - ২০২৪ ইং ********************...