বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৫

পাতি নেতার উৎপাত

 পাতি নেতার উৎপাত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

***************************

পাতি নেতা হাঁটে, রাস্তায় ধুলো উড়ায়,
মানুষ ঘরে লুকায়, ভয়ে পোঁকে ছড়ায়।
কিশোর গ্যাং মাঠে লাফায়, ঘাট দখল ছড়ায়,
চুরি ডাকাতি, রাহাজানি—সবই বড় খেলা।

দোকানদার চেঁচায়, “ওহে! টাকা দিতে হবে!”
নেতার হাসি মধুর, ভিতরে বিষ, ছল, ধূর্ত।
চাঁদাবাজি বাড়ে, বাজারে, ঘাটে, রাস্তায়,
অফিস আদালত চুপ, ন্যায় ফাঁদে পড়ে ফাঁদে।

মেয়েরা কান্নায় ভিজে, ছেলে শিখে হিংসা,
পাথরে, রাস্তায়, খেলার মাঠে—তাণ্ডব অবিরাম।
পাতি নেতার পদধ্বনি—ঝাঁঝালো কৌতুক, মানুষ ভীত,
অপমান, অপদস্তি, গরিবের ঘরে হাসি হয় ব্যঙ্গ।

কিশোররা চুরি ডাকাতি শিখে, নাচে নাচায়,
দখলবাজি, চাঁদাবাজি—নিত্য দিনের চমৎকার খেলা।
আইন ফাঁদে, ন্যায় নিভে যায়, সত্য লুকিয়ে থাকে,
নেতার পা রাখে, কেউ বাঁধা দেয় না, হাস্যকর দৃশ্য।

রাতের ছায়ায় গাঁও ভেসে যায় ধোঁয়ায়,
সব আশা ভাঙে, চোখে অশ্রু জমে।
পাতি নেতার উৎপাত—হাসি, লজ্জা, ছল,
তবু হৃদয়ে লুকায় আশা—সত্যের আলো একদিন জ্বলে।

--------------------------------------------------------

মানবিক সংগঠন গড়ো, হে যুবক!

 

মানবিক সংগঠন গড়ো, হে যুবক!

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

**********************************

হে যুবক!
দেখো, সূর্য হাসছে ভোরে,
পাখিরা চেঁচাচ্ছে জঙ্গলে,
তোমারও হাসি হোক মানুষের জন্য।

হাত বাড়াও, চোখ বড় করো,
শত্রুতা নয়, প্রতিহিংসা নয়,
মানবিকতার রঙ ছড়াও চারদিকে।

গ্রামের গলি, নদীর ধারে,
শিশুর কান্না, বৃদ্ধের দুঃখ—
তুমি পৌঁছাও,
ছড়িয়ে দাও তোমার দয়া।

দেখেছো, কুটনামি, গীবত, চোখ রাঙানি?
তাদের নাম মুছে দাও,
হাসি আর ভালোবাসার লেখা দিয়ে।

হে যুবক!
তুমি একা নও,
দু’জন হাত মেলালে নদী হয়,
একটা উদ্যোগ বয়ে যায় সমুদ্র হয়ে।

তোমার সংগঠন হোক বাতিঘর,
যেখানে অন্ধকার থাকে না,
শুধু আশা, শুধু আলো।

উঠো, দাঁড়াও,
প্রতিটি ছোট কাজ আজই শুরু করো।
শিশু, বৃদ্ধ, অসহায়—
সবার জন্য হাত বাড়াও।

মানবিক সংগঠন গড়ো, হে যুবক!
শত্রুতা নয়, হিংসা নয়,
শুধু ভালোবাসা,
শুধু উদারতা,
শুধু একতার ডাকে সাড়া দাও।

পাখি যেমন গায় সকালে,
তুমি তেমনি গান গাও মানবতার।
ছোট ছোট হাসি, ছোট ছোট দয়া,
একদিন বড় নদী হয়ে বইবে সবার হৃদয়ে।

হে যুবক!
আজই শুরু করো,
কাল হবে তুমি দেখবে—
পুরো সমাজ আলোকিত।

---------------------------------------

অর্থপাচার

 

অর্থপাচার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

রাজনীতিবিদ টুপি পরে, বলে—“দেশ আমার মা!”
রাতে ডলার উড়ে যায়—লন্ডন–দুবাই–জা!
দেশে বলে—“জনসেবা!”, বিদেশে সুটবুট তার,
বিবেক ঘুমায়, ব্যাংক জাগে—অর্থপাচার! অর্থপাচার!!

আমলা হাসে ফাইল হাতে—“নিয়ম মেনে সব!”
ঘুষের গন্ধে নীতি মরে, টেবিল কাঁপে রব।
হিসেব মেলে গোপন ঘরে, সিন্দুক খোলে দ্বার,
দেশে আলো, মনে কালো—অর্থপাচার! অর্থপাচার!!

ব্যবসায়ী গায়—“দেশের তরে!”—চালে ফাঁকি ঢাকে,
ট্যাক্সের ছিদ্র, স্বার্থ খেলা, শেয়ারবাজারে ফাঁকে।
“দেশপ্রেম আমার মূলধন”—বলে মুখে হুলস্থূল,
তবু টাকায় মাপে দেশ—বিবেক তার কূলহীন কূল!

পেশাজীবি, নেতা, শিক্ষক—সবাই নীতির জার,
বলে—“দেশ বাঁচাও”—নিজে খায় ঘুষের অমৃতধার!
ছাত্র শেখে, “সত্য কঠিন”, কিন্তু দেখে আর—
সত্য বিক্রি যায় বাজারে—অর্থপাচার! অর্থপাচার!!

বিচারকও ন্যায়ের নামে দেয় রায়ের সাজা,
বিচার ঘুমায় ফাইলখানায়, চোখে ঘোরে তাজা!
আইন বলে, ন্যায় বলে—সবই কথার ভার,
দেশের প্রাণে মরে প্রেম—অর্থপাচার! অর্থপাচার!!

মোল্লা বলে—“ধর্ম রক্ষা কর, মিথ্যে বলিস না!”
তবু সোনার চেইনে জপে সে—“লাভটা কত না?”
দেশপ্রেম এখন কৌতুকময়, মুখে বুলি ভার,
হৃদয়হীন প্রার্থনায়ও—অর্থপাচার! অর্থপাচার!!

-------------------------------------------------------

দুর্নীতির অভিশাপ

 

দুর্নীতির অভিশাপ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*******************************

আমরা বলি মুসলমান, করি নাম আজান,
তবু ঘুষে মিশে গেছে জাতির প্রাণ!
হারাম টাকায় ভরেছে পেট,
ইমান গেছে, বিবেক ফেটে মেট!

হালাল কাজের পথে বাঁধা দেয় মন,
শয়তান হাসে— “ঘুষে হয় সখন!”
কুরআনের বাণী পড়ে সবাই,
কিন্তু কাজে রাখে না তাই!

দুর্নীতি যেমন কালো জ্বালা,
নষ্ট করে জাতির আশা, আলো, ছায়া।
আল্লাহর গজব নামে ঘরে ঘরে,
বরকত হারায় সুখের ভরে।

ফসল ফলায়, তবু ফল শুকায়,
কারখানায় কাজ হয় না সুফলায়।
রাস্তায় দুঃখ, মেঘে অন্ধকার,
কারণ হারাম ছুঁয়েছে সংসার।

জন্ম নেয় শিশু, হারাম দুধে বড়,
তার বুকের দুধে নেই রহমতের তর।
বৃদ্ধ কাঁদে— তরুণ ব্যস্ত পাপে,
বিবেক ঘুমায়— লজ্জা হারায় রাপে!

দুর্নীতির পথে চলে জাতি যখন,
আল্লাহ ফিরিয়ে নেন রহমত তখন।
দোয়া ওঠে, ফেরেশতা বলে—
“তাদের অন্তর অন্ধতায় ঢলে!”

জমিন রুষ্ট হয়, বৃষ্টি হারায়,
ঘরবাড়ি ভাঙে, শান্তি না যায়।
আকাশ চায় না নামাতে দান,
কারণ মাটিতে নেই ইমান!

নেতা হয় লোভী, প্রজা হয় ক্ষুব্ধ,
ন্যায় হারায়, অন্যায় সুখ।
বিচার হয় দামে, দয়া হয় ঠুনকো,
মানবতা মরে— মিথ্যার সিংহাসনে বসে ধূর্ত কো!

ঘুষে গড়া দালান, ঘুষে গড়া সেতু,
প্রতিটি ইটে লেখা— “হারাম রক্তের ঋতু!”
যেখানে মিথ্যা রাজা, সত্য হয় বন্দী,
সেখানে বরকত পায় না কোন সন্ধি!

দুর্নীতি মানে আত্মার ক্ষয়,
দুনিয়া মেলে, আখিরাত ভয়!
কবরের আঁধারে জ্বলে সেই আগুন,
যে খেয়েছিল ঘুষে হারাম মুগ্ধতাসুন!

ফেরেশতা জিজ্ঞেস করবে একদিন—
“হারাম খেয়ে কেমন হলো দিন?”
কেউ বলবে— “ওহে, তখন বুঝিনি”,
কিন্তু আজ আগুনে পোড়াই নিজে!

হে জাতি! ফিরো আজ সত্যের পথে,
তাকওয়ার আলো রাখো অন্তরে!
ঘুষ, চুরি, মিথ্যা ছেড়ে দাও,
আল্লাহর ভয়েই নিজেকে গড়াও!


দুর্নীতির অভিশাপ— জাতির কালো দাগ,
আল্লাহর রহমত ফেরে না ফাঁক!
সততার ফুল ফুটুক নবীন প্রাণে,
বাংলা হোক আল্লাহর বরকতের টানে!

-----------------------------------------------

বুধবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৫

বখাটে ছেলে

 

বখাটে ছেলে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************

চোখে আগুন, ভাঙে সব বাঁধন।
পিতার আদেশকে ভেঙে ফেলে সে।
মায়ের কণ্ঠে বাজে শূন্যর গান।
হঠকারী রাগে ঝরে ক্ষতি, প্রাণ।

দুষ্টুমিতে ভরা প্রতিটি ক্ষণ।
ইগোতে ভরা, অন্যকে দেখেনা সে।
দায়িত্ব এড়ায় চুপচাপ, অলসতা খায়।
মিথ্যা, ছলনা, ব্যবহার—সবই নেশা।

সহানুভূতির ছায়া নেই হৃদয়ে।
সন্ত্রাসীর ধ্বনি, গুন্ডার ছায়া কাঁপে।
চাঁদাবাজি, দখলবাজি, লোভ দমনহীন।
দেশ-চেতনা বিরোধী, আড্ডা বাজে সময়।

নেশা-গ্রস্থ অন্তর, হিংসার অগ্নি জ্বলে।
রাগে, ঘৃণায় ভরা, চিৎকার করে সে।
অন্ধকারে খুঁজে নেয় দুরাচার, লোভ, অধিকার।
অবাধ্য, অশৃঙ্খল, শহর দানবের নূর।

বন্ধু-বান্ধব, পরিবার, সমাজ সব ত্যাগ করে।
নিয়ম-আইন ভেঙে, নিজেই পতিত হয় সে।
নেশা ও দুষ্টুমিতে জীবন ধ্বংস পায়।
সন্ত্রাস, দখল, চাঁদাবাজি—সমাজ কাঁপে তার হাতে।

অন্ধকারে হারায় আত্মার দীপ্তি, জীবন শুন্য।
অবহেলা, শোষণ, ন্যায়ের অভাব তার সঙ্গী।
পিতার আশা ভেঙে যায়, মায়ের স্বপ্ন নষ্ট।
অলসতা ও অবাধ্যতার ফল, পতনের আঁচড় চিহ্নিত।

বিদ্রোহী কণ্ঠে আওয়াজ দাও, প্রতিবাদ করো।
মানবতার পথে ফিরো, মুক্তি আনো সকল।
নিয়ম ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করো সমাজে।
বখাটে ছেলের রাগ, শোষণ, হিংসা—শেষ হোক।

নতুন সকাল আনে আলোর দীপ্তি।
অন্ধকার ছিঁড়ে যায়, সত্যের পতাকা উড়ে।
বিদ্রোহী হৃদয় বলবে, “আর নয় এ কায়দায়।”
মানবতার পথে দাও মুক্তির গান।

-------------------------------------------

রাজনীতির মুনাফিক

 রাজনীতির মুনাফিক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*************************

রাজনীতির মুনাফিক, হাসি মুখোশে বিষ।
দু’মুখী ভঙ্গিতে দেশের চেতনা বিকৃত।
মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে নয়, ইতিহাস বিকৃত।
যোগ্যদের নিপীড়ন, প্রতিভার পথ বন্ধ।

সিন্ডিকেটের আঁধারে খেলে ক্ষমতার লোভ।
প্রচারণা, প্রলোভন দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত।
ভীতি ছড়ায়, মানুষকে দমন করে লুট।
মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে সত্যকে বিকৃত করে।

অর্থ, প্রকল্প, তহবিল — সবই লুট।
প্রক্সি নেটওয়ার্ক, জাল রিপোর্টে ঢেকে।
বিশ্বাসঘাতকতা ছুরি, বন্ধুত্বও ফাঁদ।
বাহিরে ভ্রাতৃত্ব, ভিতরে লোভের আঁধার।

প্রিভিলেজ বিক্রি করে, স্বার্থে ধ্বংস সৃষ্টি।
ভবিষ্যতের দায়বোধ নেই, লোভের তৃষ্ণা।
সত্য-মিথ্যার মিশ্রণে জনমত নিয়ন্ত্রণ করে।
সিন্ডিকেট, ভ্রান্তি, বিশ্বাসঘাতকতা সব মিলিয়ে।

মুক্তিযুদ্ধ চেতনা অমল, দেশপ্রেম জ্বলে।
জনগণ জেগেছে, শোষণ আর হবে না।
মুনাফিকের ছলনা ফেটে যাবে একদিন।
সত্যের আলো অন্ধকারকে বিজয়ী করবে।

--------------------------------------------------

দেশপ্রেমিক নেতার গুণ

 দেশপ্রেমিক নেতার গুণ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

***********************************

দেশের মাটিতে জ্বলে তার নূর,
প্রাণে বাজে মাতৃভূমির তানবীর-সুর।
সত্যের পথে সে কখনো নাহি থমকে,
ন্যায় ও নৈতিকতা তার চিরন্তন দর।

জনগণের কল্যাণে সে ফারজ পালন করে,
অসহায়ের পাশে তার হাত জিরা-ইশর।
দূরদৃষ্টি তার আকিদাহ,
ভবিষ্যতের পথে বুনে দেয় সেতু-ইশর।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমৃদ্ধি—হোক হাদিয়াহ,
জনমুখী নীতি ছড়ায় আল-বারাকাহ।
অহিংসা, ঐক্য—তার আলফা ও বেত,
বৈষম্যের অন্ধকারে জ্বলে তার ন্যায়ের জ্বেত।

সাহস ও দৃঢ়তার প্রতীক সে,
শত্রু যতই হিংস্র, সে অদম্য থাকে।
ক্ষমা ও সহমর্মিতা তার জামাল,
মানবতার পথে তার অনন্ত তাল।

জাতির হৃদয়ে চিরন্তন নক্ষত্র সে,
আলো ছড়ায় দূরে, দুঃখ-অন্ধকারে।
দেশপ্রেমের লালন, ন্যায়ের কবি,
সবার আশা, সবার প্রেরণা—অমর নেতা হকি।

দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা, পরিকল্পনা—তার সাথী,
দেশের স্বার্থে ত্যাগ করতে সে নয় কৌশলী।
শাসন নয় শুধু, বরং সেবা ও ন্যায়ের মন্ত্র,
মানবতার জন্য বাঁধে সে চিরন্তন সেতু।

দেশপ্রেমিক নেতা, জাতির হাকিমতি,
অদম্য সাহস, মানবিকতা—তার অনন্ত নূরশীতি।

----------------------------------------------------

মুসলিম দেশ তবু নৈরাজ্য

 

মুসলিম দেশ তবু নৈরাজ্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************

মসজিদের মিনার ছায়া, কোরআনের আলো—
কিন্তু রাস্তায় চুরি-ডাকাতির আগুন জ্বলছে।
সুদ-ঘুষে বিক্রি হচ্ছে ন্যায়,
ক্ষমতার খেলা ভেঙে দিচ্ছে উম্মাহর আশা।

সন্ত্রাসীর চোখ, গুন্ডামির হাত,
ফ্যাসিবাদের আগুনে রক্তে ভিজছে শহর।
স্বৈরতন্ত্রে দংশিত মানবতা,
মুনাফিকির মুখে দোয়া, অন্তরে বিষ।

বিশ্বাসঘাতকরা হাসে, শপথ ভেঙে,
অধিকার লুণ্ঠিত, স্বাধীনতা চুরির মঞ্চে।
হাসি চুরি, কান্না চুরি, স্বপ্ন ভেঙে যায়,
মুসলিম দেশ তবু নৈরাজ্য, এই চিৎকারে নিস্তেজ।

শাসকের চোখ বন্ধ, তলোয়ার হাতে সৈন্য,
অবিচার ছড়ায়, মানুষের অন্তর কেঁপে ওঠে।
চিৎকারে ভরা শহর, শিশুর কান্না নীরব নয়,
মুসলিম দেশ তবু নৈরাজ্য, সত্যের আলোকে ছাপিয়ে।

দরিদ্র্য আর দুর্নীতি, লোভের আগুন,
শোষণের হাতের তাণ্ডব, মানুষের আশা ছিন্ন।
চুরি-ডাকাতি, সুদ-ঘুষে বিক্রি ন্যায়,
মুসলিম দেশ তবু নৈরাজ্য, কোথায় মুক্তি খোঁজ।

বিদ্রোহী হৃদয় জেগেছে, চিৎকার করে,
সত্যের আলো ছুঁড়ে দেবে মানুষ।
চুরি, দখল, স্বৈরতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ ধ্বংস হবে,
উম্মাহ জেগে উঠবে, ন্যায়ের পতাকা উড়াবে।

মুসলিম দেশ তবু নৈরাজ্য, আমরা আর নীরব নই,
বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে মুক্তির গান গাই।
অন্ধকারে জ্বলবে সত্যের জ্যোতি,
বিদ্রোহী কণ্ঠে মিলবে মুক্তির গান, উম্মাহর নবজাগরণ।

----------------------------------------------

একই শরীরে দুই পৃথিবী

 একই শরীরে দুই পৃথিবী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

**********************************

একই শরীরে রোদ ঝরে, অন্ধকার গর্জে,
হাসি মুখে মধুরতা, অন্তরে লোভের ঝঞ্ঝা বাজে।

প্রেম বলে সে, স্বার্থে পুড়ে অন্তর,
উদারতার পর্দা চোখে, কুৎসার অগ্নি গহর।

মায়ার খেলা ভোরের রোদে ভেসে যায়,
হিংসার ছায়া রাতের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকে।

রক্ত লাল, প্রাণ জ্বলে অগ্নির মতো,
অন্তর কালো, ভয় আর অহংকারে ডুবে।

হাসি মুখে মায়া, কণ্ঠে সঙ্গীত বাজে,
কিন্তু অন্তরে প্রতারণার তীব্র ছায়া থাকে।

দুজনের মাঝে ভালোবাসা, একার মাঝে লোভ,
মানুষ—একই শরীরে দুই পৃথিবীর দাস।

বিদ্রোহী সঙ্গীত বাজে, ক্ষোভ আর আশার মাঝে,
একই বুকে রোদ আর অন্ধকারের দ্বন্দ্বের মাঝে।

দুপুরের আলো ছুঁয়ে যায় রক্তে,
রাত্রির অন্ধকার ভর করে অন্তরের অমাবস্যায়।

প্রেম আর লোভ, আশা আর ভয়,
একই বুকে বিদ্রোহী দ্বন্দ্বের খেলা হয়।

মানুষ—সেই দ্বৈত চরিত্রের রাজা,
রক্ত লাল, অন্তর কালো, জীবন আর অন্ধকারে বেঁচে থাকে।

বিদ্রোহী চিৎকারে ফুঁড়ে ওঠে হৃদয়,
একই শরীরে দুই পৃথিবীর লড়াই, মানুষের গান।

------------------------------------------

“শাসকের চোখ বদ্ধ”

 “শাসকের চোখ বদ্ধ”

কলমে ঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর

****************************************

শাসকের চোখ বদ্ধ, দুনিয়া নিঃশব্দ,

রাষ্ট্রযন্ত্র সব বিকল, ন্যায় আজ চুপচাপ নিগৃহীত।
অফিস আদালত নিস্তব্ধ, ঘুষ ও দুর্নীতির খেলা,
আমি গর্জি—“ইনকিলাব!” বাজুক ন্যায়ের শপথে তুমুল তালে।

হে শাসক! দেখো, মানুষ জেগেছে ঘুমের আড়ালে,
তোমার অন্ধচোখে হবে দয়া, কিন্তু নয় আমাদের ভালে।
নফসের জাল, মিথ্যার সিংহাসন ভেঙে যাবে,
হক–ন্যায় জাগবে, সত্যের দীপ প্রজ্জ্বলিত হবে।


মানবতা আজ হরণ, অধিকার নিস্পেষিত,

স্বাধীনতা লুণ্ঠিত—হয়ত মানবতা আজ নীরব।
পাচার-লুটতরাজ, ঘুষের দৈরাত্ব, পেশীশক্তির ত্রাস,
জালিমেরা হাসে, মুনাফিকি গর্জে, শাসক চোখ বদ্ধ অন্ধকারে।

হে মজলুম! ওঠো, তলোয়ার হাতে চিৎকার করো,
হক–ন্যায়ের দাবানলে আগুন জ্বালাও, দুঃশাসকের বাঁধা ভাঙো।
সত্য ফিরুক, ন্যায়ের বিজয় হোক,
মানবতার রক্তমাখা পতাকা উড়ুক স্বাধীন আকাশে।


মবতন্ত্রের মাতাম, লুটের রাজ্যে মানুষ শ্বাসরুদ্ধ।

গণতন্ত্র ধূলিসাৎ, দেশবিক্রি বিক্রি হয় নগরে,
পরিবারতন্ত্রে মানুষ শৃঙ্খলে, মুক্তি আজ নেই কেউরে।

আমি বিদ্রোহী—তলোয়ার হাতে, আগুন জ্বালিয়ে,
ঘুষ, সুদ, দুর্নীতি, ন্যায্য অধিকার লুটের খেলা পোড়াই।
হক ফিরুক, দেশ হোক মুক্ত —
মানবতার কণ্ঠে বাজুক সত্যের সোনালী ঝঙ্কার।


ঘুষ, সুদ, পেশীশক্তি, দুর্নীতি — সবই জঙ্গলে লুট,

মানুষের জীবন বিক্রি হয়, সত্য দিচ্ছে ঝুক।
মুনাফিকি মাথা উঁচু করে, জালিমের হাসি বজ্রঝঙ্কার,
আমি বিদ্রোহ করি — অন্ধকার ছিন্ন করি, সত্যের দীপ জ্বালাই উদার।

হে শাসক! তোর রাত শেষ, আগুনের দিন শুরু,
হক জাগুক, অধিকার ফিরে আসুক, মানুষের হৃদয়ে নূর ঝরে।
ইনকিলাব! ইনকিলাব!
তোর সিংহাসন ভেঙে দাও, ন্যায়ের প্রভাত জাগাও।


মুক্তিযোদ্ধার রক্তে লেখা পতাকা আজ অপমানিত,

যে লড়েছিল স্বাধীনতার জন্য, সেই বীরের নাম কলঙ্কিত।
হে জাতি! চিৎকার করো, তোরই অধিকার বাঁচাও,
দেশবিক্রির বিপদে তলোয়ার হাতে সত্যকে জাগাও।

শাসক চোখ বদ্ধ রাখুক, তবু নয় মানুষের চেতনা,
ইনকিলাবের আগুন জ্বলে, সত্য ফিরুক জন্মভূমিতে।
হক–ন্যায় পূর্ণ হোক মাটি, মর্যাদা ফিরে পাক,
হে মানুষ! একসাথে লড়, দুর্নীতি ও জুলুমে আঘাত পাক।


আইন আজ জালিমের খেলা, বিচারপতি নিঃশব্দ,

নির্যাতিত মানুষের হক হারায়, সত্যের পেছনে দুঃখ ঝড়।
আমি বিদ্রোহী, তলোয়ার হাতে সত্যের ধার,
জুলুমের মুখে দিই আগুন, ন্যায়ের শিখা জ্বালাই বারবার।

ঘুষ, পেশীশক্তি, নফসের কু-রাজ — সবই ভেঙে দিই,
ইনকিলাবের দাবিতে মানুষকে স্বপ্ন দেখাই।
হক জাগুক, ন্যায়ের বিজয় হোক,
দেশ হোক মুক্ত, মানবতার গান গায় সবত্র।


অজ্ঞানতা আজ দুনিয়ার দাস, জ্ঞান নীরব,

ইলমের দীপ জ্বালে মানুষকে করি স্বতন্ত্র।
হে ছাত্র, হে যুবক! পড়ো, জাগো, লড়ো,
অন্ধকারের শাসককে দেখাও, সত্যকে শক্তি দাও।

ইনকিলাব হবে জ্ঞানের মাধ্যমে,
হক–ন্যায়ের বিজয় হবে শিক্ষার আলোতে।
আমি বিদ্রোহী, তলোয়ার হাতে দাওয়া জ্ঞান,
জুলুমের সিংহাসন ভেঙে দাও, মানুষ হোক স্বাধীন মহান।


দেশবিক্রি, লুট, পাচার — মাটি আজ দাস,

সম্পদ চুরি হয়, মানুষ বঞ্চিত, রাজা হাসে।
আমি বিদ্রোহী, তলোয়ার হাতে বাজি ধরি,
সত্যের আগুনে সব দুর্নীতি, লুটের খেলা ভাঙি।

হক ফিরুক, মানুষের অধিকার হোক নিরাপদ,
দেশ হোক মুক্ত, জাতি হোক স্বাধীন ও অভিজাত।
ইনকিলাব! ইনকিলাব!
এই স্বপ্ন বাস্তব, মানুষকে দাও জাগরণ।



আমি সেই জাতি, যারা ভয় পাই না মৃত্যুর সামনে,
যারা ভালোবাসে সত্যকে, ইমানের রক্তকে।
শাসকের চোখ বদ্ধ হোক, কিন্তু নয় মানুষের চেতনা,
কারণ হক সর্বদা জাগে — আল্লাহর ন্যায়ের শপথে।

উঠো হে যুবক, জাগো হে নারী,
হক ফিরুক, ন্যায় ফিরুক, দেশ হোক মুক্তির খানি।
শাসকের দাসত্ব ভেঙে দাও, জুলুমের খাঁচা ভাঙো,
আল্লাহু আকবার! বলে ন্যায়কে জাগাও।



আমি বিদ্রোহী! আমি ইনকিলাবের দূত!
আমি বলি — হক বাঁচুক, জুলুম মরুক,
এই দেশ ফিরুক আল্লাহর হুকুমে,
মুক্তির জয়ধ্বনি উঠুক — মানবতার নামে!

-----------------------------------------------------



রাওনাট ফুটবল টিম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা তারিখঃ ০৪ - ০৯ - ২০২৫ ইং স্থানঃ রাওনাট , কাপাসিয়া , গাজীপুর ---------------------------------------...