রবিবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৫

মৃত্যুর পরের ডাকে

 

মৃত্যুর পরের ডাকে 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর


হে রব্বুল আলামিন, তোরই নূর আমার চক্ষে ভাসে,
তোর রহমতে ঢেকে দে হে, মৃত্যুর কালো ভাসে।
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, এই সুরে প্রাণে আগুন,
তোরই নামে উঠি জেগে, থেমে যাক সব দাগুন!

“ইয়া আল্লাহ, ইয়া রহমান!” — হৃদয়ে বাজে সুর,
মৃত্যু নয় ভয়, এ তো তোর দিদারে নূর!




চাঁদ-সূর্য ম্লান হবে একদিন, দুনিয়া হবে খামোশ,
তোরই হুকুমে ধ্বনিত হবে— “ইরজিই ইলা রব্বিক!” — ঘোষ।
তুই খালিক, তুই রহিম, তুই সাবুর,
তোরি ফয়যে বাঁচি হে, তুইই তো নূর-এ-নূর!

ইয়া আল্লাহ, ইয়া রহিম!” — জ্বলে প্রাণে দা’ওয়াত,
মৃত্যু নয় শেষ, এ তো তোরই লিকায়াত!



কবরের গাহে নিঃশব্দ রজনী, দে নূরের আলো তোর,
রুহে সালাম, দে শান্তি তোরই, উঠুক সুবহে নূর!
গুনাহগার বান্দা আমি, কর মাগফিরাত হে খোদা,
তোর রহমে দে দয়া ভরা, দে জান্নাতের বাগচা!


তুই চিরজীব, কায়েম, কাদির, মালিকুল মুলক,
তোরি জিকিরে মিশে প্রাণ, তোরই প্রেমে ঢুলুক।
জন্ম-মৃত্যু তোরই হুকুমে, তুইই আল্লাহ মহান,
তোর আশিক আমি, তোর ইবাদত — আমার জান!

“লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ!” — দোলে প্রাণে নূর,
ফিরে যাব তোর দরগাহে, হে রহমান, হে গফুর!

------------------------------------------------------------

অশুভ আগুন

 অশুভ আগুন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

****************************

অশুভ আগুন! অশুভ আগুন!
লাল-লাল ধোঁয়া ছড়ায় নীরব আকাশে,
 পাহাড়-উঁচুতে খেলে অগ্নির ঝড়,
 নদীও কাঁপে, মাঠও ভয় পায়—
 প্রাণের ঘরে ঘরে বাজে শোকের ঢেউ!
  অশুভ আগুন!

বিদ্যালয়, পাঠশালা, বই-পত্রের ঘর—
সব ভেঙে ছাই হয়ে মিশে যায় পথের ধারে।
 ছাত্রদের হাসি থেমে যায়, প্রার্থনার ঘর নিঃশব্দ,
 শিখা নাচে খোলা জানালায়, দেয়ালের ভাঁজে,
 জ্বলছে শিক্ষা, জ্বলছে ভবিষ্যত।
  অশুভ আগুন!

মসজিদ, মন্দির, গির্জা—
প্রার্থনার স্থান সব ছাই, ধুলো আর ধোঁয়া।
 বেল, কলস, গম্বুজ ভেঙে পড়ে,
 শব্দ নেই, শুধু শিখার নাচে ভয় ও শোক।
  অশুভ আগুন!

দোকান, বাজার, হাট—
সব কৌচকাই কাঁদছে শিখার স্পর্শে।
 শস্য, জিনিসপত্র, খুচরা ধন—
 আগুনের মাঝে মিলিয়ে যায় একে একে,
 মানুষের জীবন ক্ষণিকের ছায়া।
  অশুভ আগুন!

ফ্যাক্টরি, কলকারখানা, গুদাম—
ইঞ্জিন, কাঠ, কাঁচ—সব কৌচকাই ভস্ম।
 কর্মচারীর নিঃশ্বাস থেমে যায়,
 মেশিনের গর্জন নীরব, ধোঁয়ার স্রোতে ডুবে যায় শহর।
  অশুভ আগুন!

বন, পাহাড়, নদী—
প্রকৃতির বুক জ্বলে শিখার আগুনে।
 গাছের ডালে ফোঁটা ঝরে, পাখির ডানায় ভয়,
 নদীর জল ম্লান, পাথরের ধ্বনি নীরব।
  অশুভ আগুন!

হাওয়া নাচে, শিখা ছুঁয়ে যায় গাছ-পাতা,
 মাটির বুক জ্বলে, শহর নিঃশ্বাস থামে।
 তবু এই ছন্দে, এই গানমুখর স্রোতে,
 বাঁচার আশা, পুনর্জীবনের স্বপ্ন আঁকে।
  অশুভ আগুন!

হে কান্ডারী, জাগো হে — কান্ডারী, ওঠ দিশা দেখাও!
 হাতে নাও দণ্ডু, হাতে নাও শক্তি,
 অশুভ শক্তি যদি থাকে—ধ্বংস করো, রক্ষা করো জন-চাক।
  অশুভ আগুন!

বস্তু, মাটি, নদী—সব ছাই হয়ে গেল,
 তবু নতুন সকাল হবে, নব উদয় হবে।
 হৃদয় গড়ে তুলবে পুনর্জীবনের গান,
 মানুষ দাঁড়াবে, হাতে হাত—বাঁচবে প্রাণ,
  অশুভ আগুন!

--------------------------------------------------

শ্রেষ্ঠ সম্পদ

 শ্রেষ্ঠ সম্পদ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া ,গাজীপুর।

**********************************

পৃথিবীর ধন-সোনা, হীরা, রূপা যত,
সবই তুচ্ছ, যদি শিশু না হয় হৃদয় জগত।
আদর্শ সন্তানই পিতা-মাতার শ্রেষ্ঠ সম্পদ,
সেই ছোট মনেই লুকানো থাকে আনন্দের প্রদ।

শিশু যেন বীজ, ফোটে প্রজ্ঞা, ন্যায়ের আলো,
নির্ভুল পথে চালাও, দেখাও নৈতিক শোল।
নৈতিক শিক্ষা দাও, অসৎ সঙ্গ হতে দূরে রাখো,
সন্তান হোক আদর্শ—ভালো, সত্য, সততার আঁখো।

সোনা, হীরা, বাড়ী, গাড়ী—সবই ফিকে,
শিশুর শিক্ষা, ভালোবাসা ছাড়া তুচ্ছই মিথ্যে।
হাসি খেলুক তার কানে, বাজুক শিশুর গান,
শুদ্ধি, প্রেম, সততা ভরে উঠুক তার প্রাণ।

শিশু যদি হয় আদর্শ, গর্ব হোক পিতা-মাতার,
সদাচার, দয়া, জ্ঞান, ন্যায়—ভরা হোক তার কাহার।
অসৎ বন্ধু, ভ্রান্ত পথ থেকে দূরে রাখো তাকে,
সততার আলোয় হোক সে পথিক, সত্যের দ্যুতি মেখে।

এই আদর্শ সন্তানই প্রকৃত ধন, প্রকৃত সম্পদ,
পৃথিবীর সব ধন-মালা মিলেও যে থাকে খালি নদীর স্রোত।
কারণ পিতা-মাতার চাওয়া, জীবনের পরম আশা,
সন্তান হোক ভালো, শিক্ষিত—সেই হবে সত্যিকারের ধনকথা।

----------------------------------------------------

আমরা শোকাহত

আমরা শোকাহত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

******************************

ধূপ-ধোঁয়ার মতো ক্ষণস্থায়ী জীবনে,
হঠাৎ নিভে গেল আলো—খোকন ভাই চলে গেলেন চিরতরে।
পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত, নিঃশব্দে শুয়ে,
যেন থমকে গেছে পৃথিবীর সমস্ত বাতাস, সমস্ত আলো।

পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাদ মাগরিব,
প্রথম জানাজার ধ্বনি যেন হৃদয়ের ছেদ ছাড়ে।
দ্বিতীয় জানাজা চাঁদপুরের চান্দুনে,
হাজারো মানুষের নীরব চোখে ভাসে বেদনার স্রোত।

দীর্ঘদিন সে নেতৃত্ব দিল সত্য ও ন্যায়ের পথে,
অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি কখনো স্পর্শ করতে পারেনি তাকে।
সকলের প্রিয় খোকন ভাই প্রমাণ করলেন,
রাজনীতি হতে পারে শ্রদ্ধার, আদর্শের, মানবতার স্রোত।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুল আলম খান বেনু ভাইয়ের সঙ্গে,
গাজীপুরের আলোচনায় উঠে এল অজানা গল্পের খনি।
তার সাহসিকতা, আদর্শ, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা—
সব যেন আজ বুকে ছুরি বেয়ে ঢুকে যায়।

হে আল্লাহ! জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দাও তাকে,
আমাদের প্রিয় খোকন ভাইকে শান্তির কোলে রাখো চিরকাল।
এই শোক, এই ব্যথা, এই চোখের অশ্রু—
সব যেন প্রমাণ করে, পৃথিবী আজ কিছুটা অন্ধকারে ভাসে।

আমরা মাথা নত করি, হৃদয় ভারাক্রান্ত,
কিন্তু তার স্মৃতি আমাদের পথপ্রদর্শক,
তার আদর্শের আলোয় চলবো অনন্তকাল,
যেন পৃথিবীকে জুড়ে দেয় ন্যায় ও মানবতার দীপ।

--------------------------------------------------

দূর্গাপুর আমার প্রাণ

 দূর্গাপুর আমার প্রাণ 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান  মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

**************************


দূর্গাপুর, আমার প্রাণ,
শীতলক্ষ্যা, খাল-বিল, সবুজের গান।
নদী খাল, ফুলবাড়ীয়া বাগান,
দূর্গাপুর, আমার প্রাণ!


শীতলক্ষ্যা তীরে, বানার সবুজ জলধারা,
ঘাটকুরি, নাজাই, বড়চালার খালের ধারা।
আমার হৃদয় ভরে ওঠে আনন্দ-বেদনায়,
দূর্গাপুর আমার প্রাণ, মিলন-বিরহে গান যায়।


বড়চালা, বাড়ীগাঁও, বেগুনহাটি, বিলজরাইল,
চাকৈল, চাপাত, চাটারবাগ, দলিনগর ঢেউ।
আম, জাম, কাঠাল, আনারস, লিচু, পান, কলা—সব বাগান,
দূর্গাপুরের মাঠে ছড়িয়ে আনন্দের ভরা গান।


বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ জসিম, নরুল ইসলাম,
মজের জেনারেল মঞ্জুর রশিদ খান, মোতাহার হোসেন মোল্লা।
আবু তালেব, খন্দকার নুরুজ্জামান, আজিজুর রহমান,
আজগর রশিদ, হাবিবুর রহমান, মমতাজ উদ্দিন মেহেদী, লতিফ মাষ্টার জহিরুল।
সাংবাদিক সামসুল হুদা লিটন,আমিনুল এহছান মোল্লা—কবি, গানের প্রাণ।


দূর্গাপুর, আমার প্রাণ,
শীতলক্ষ্যা, খাল-বিল, সবুজের গান।
নদী খাল, ফুলবাড়ীয়া বাগান,
দূর্গাপুর, আমার প্রাণ!


মসজিদ শতাধিক, নামাজে ভরে জীবন,
দূর্গাপুর দারুল মিল্লাত, রাওনাট হাছানিয়া আলিম।
ফুলবাড়ীয়া, একডালা, বেগুনহাটি ফাজিল মাদরাসা,
চাঁপাত আকবারিয়া, বাড়ৈগাঁও মহিলা দাখিল।
প্রাথমিক বিদ্যালয়: মাশক উত্তরপাড়া, দূর্গাপুর সরকারি, রাণীগঞ্জ, রাওনাট, বেগুনহাটি, বড়চালা।


নদী আর খালের মাঝে বয়ে চলে সবুজ স্রোত,
জীবন শান্তি খুঁজে, খেলাধুলার মেলবন্ধন খোঁটে।
আমার কৃষক মন গান গেয়ে যায় প্রিয় বাটিকা,
নিজেকে হারিয়ে পাই ফিরে ফিরে এক নীল ঢেউ।


দূর্গাপুর, আমার প্রাণ,
শীতলক্ষ্যা, খাল-বিল, সবুজের গান।
নদী খাল, ফুলবাড়ীয়া বাগান,
আম, জাম, কাঠাল, আনারস, লিচু, পান, কলা—সব মিলন আমাদের প্রাণ!
দূর্গাপুর, আমার প্রাণ…
সবুজের ঢেউ, নীলাকাশের গান…

-+------------------------------------------------------

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৫

অশ্লীল শব্দ

 অশ্লীল শব্দ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

****************************

নেতার মুখে আজ অশ্লীল শব্দ!
সভা-মঞ্চে বাজে কেবল কুখ্যাতি।
শপথ ভাঙা, দেশে হাহাকার,
গলিতে ছড়ায় কুৎসিত গীবতের ধারা।

অফিস কক্ষে চোর হাসে চমকে,
আদালতে শ্লেষের তান বাজে রুখে।
শিক্ষক ক্রন্দন করে, ছাত্র চুপচাপ,
সত্যের দুর্ভিক্ষে লজ্জা কুয়াশার চাপ।

গলির কোণে কুকুর শকুনও হাসে,
নেতার অশ্লীল বাক্য, মানুষ লজ্জায় হাহাসে।
মহল্লায় কুৎসিত নামের খেলা,
দেশ জুড়ে ভেসে যায় লজ্জার ঢেউ।

প্রতিটি পদক্ষেপ, কথার খামখেয়ালি,
অশ্লীল শব্দে ভরা, সত্য হারায় অলসায়।
মানুষ চায় ন্যায়, নেতা দেয় তামাশা,
গীবত-তামাশায় ভেসে যায় সোনার দেশ।

অফিস আদালতে, সভা মঞ্চে,
অশ্লীল শব্দের রাগে ভরা সব দেশ।
চোর, দস্যু, মুখে মায়া দেখায়,
কিন্তু সত্য হারায় কুৎসার অন্ধকারে।   

কিন্তু একদিন ভাঙবে সব বাঁধ,
সত্য উঠবে জোয়ারে মানুষের মুখে।
নেতার অশ্লীল শব্দ আর নয় বাজবে,
সত্যের বাঁশি বাজবে বিদ্রোহী গানে।

------------------------------------------

বিপ্লবী হও

 

বিপ্লবী হও

-কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************

তুমি বিপ্লবী হও!—বলো, জাগো মানব,
জাগো তাতী, জেলে, কামার-কুমার, কৃষক-শ্রমজীবন নব!
উঁচু-নীচু, ধনী-দরিদ্র, এক হও বুকে,
অন্যায়ের মুখে ছড়িয়ে দাও আগুনের রথ!

তুমি বিপ্লবী হও!—জ্বালো আগুনে, জ্বালো রক্তে,
গর্জে উঠো অন্যায়ের হৃষ্টমুখে!
শোষণের প্রাসাদে দাও বজ্রের ঘা,
মানবতার নামে জ্বালো নতুন দিশার দা!

তুমি বিপ্লবী হও!—প্রাণ নয়, তুমি তলোয়ারের ধ্বনি,
দুর্বার ঝড়—বন্দীহীন রণিনী!
রক্তে মিশে আছে নিপীড়িতের হাহাকার,
লেখ বিপ্লব—লেখ মুক্তির অংকার!

অন্ধকার শাসক! শুনো তার বজ্রবাণী,
রাজমুকুটে জ্বলে আগুনের পানি!
গর্জে বলো— “ভয় পাস না মানুষ!”
মানবই শক্তি, মানবই আলো, সত্যের জাহ্নবী, জাগো নিঃশেষে নব রস!

তুমি বিপ্লবী হও!—কৃষকের ঘাম, শ্রমিকের গান,
দুঃখের মাটি থেকে উঠা প্রাণ!
রক্তে ঝড়ে জাগরণের ধ্বনি,
নজরুলের পথে চলা আগুনবাহী রণিনী!

তুমি বিপ্লবী হও!—ভাঙো বঞ্চনা, গড়ো দিগন্ত,
আনো মানবতাতে নতুন প্রভাতের অন্ত!
ভয় জানো না, সত্যের যোদ্ধা হও,
থামো না, এগিয়ে চলো মানুষের পথে!

জাগো যুবক!—তোমার হাতে রাখো আগুন,
ভালোবাসায় পোড়াও অন্যায়ের ধুন!
ধর্মের নামে নয়, মানবতার নামে দাঁড়াও,
অত্যাচারের শৃঙ্খল আজ ছিঁড়ে ফেলো, বিপ্লবী হও!

গর্জে বলো!— “জাগো বিশ্ব মানবতা!”
দহো!— “ভয়হীন স্বাধীনতা!”
শুধু শব্দ নয়, লেখো ইতিহাসের বাণী,
জ্বালাও পথে পথে রক্তে রাঙা বাণী!

বিপ্লবী হও!—ন্যায়ের পথে চলো,
অন্যায় দেখিলে বজ্রের মতো বলো!
বুকে আগুন, হাতে আলো, কণ্ঠে বজ্রধ্বনি—
তুমিই আগামী, তুমিই বিপ্লবী! 

---------------------------------------------

বিদ্রোহী কলম

 

বিদ্রোহী কলম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************

বিদ্রোহী কলম, তুই আজ রণশিঙা বাজা,
অন্ধকার ভেদ করে আগুনের ভাষা সাজা।
লুটেরার রাজত্বে তুই আগুন ফেল,
অবিচার, দাসত্ব, নিপীড়ন, সব পুড়িয়ে গেল।

তাতী, জেলে, কামার, কুমার, কৃষাণ,
তুই তাদের কণ্ঠে দে বিদ্রোহের গান।
ধনী দরিদ্র, উচু নীচু, এক পথে আন,
ধর্ম বর্ণ ভুলে তুই মানবের বান।

ক্ষমতার লেলিহান ত্রাস ভাঙ তুই,
দুর্বল হৃদয়ে আগুন ঢাল, জ্বাল তুই।
যে কবি নীরব, সে আজ অপরাধী,
নীরবতা আজ অমানবিক সাধী।

অধিকার লুণ্ঠিত, তবু তুই চুপ কেন?
নিপীড়ন দেখেও তোর কলম কেন নীরব?
লাল রক্তে ডুবিয়ে তুই লিখ অগ্নি শপথ,
"শোষকের কফিনে দিব শেষ আঘাত।"

মিথ্যা মুখোশ ছিঁড়ে দে বিদ্রোহী শ্লোগান,
মানবতার নামে জ্বাল সত্যের আগুন।
নিরপরাধের কান্নায় তুই লিখ প্রতিশোধ,
ভয়হীন ছন্দে তুল নব বিদ্রোহ।

শাসকের প্রাসাদে আগুন লাগা শব্দ হোক,
অমানবের বুকে ন্যায়বাণী দগ্ধ হোক।
দুর্বলকে শক্তি দে, দুর্জনকে ভয়,
তোর কলমে জ্বালো ন্যায়বিচারের রায়।

রক্তে লেখা তোর প্রতিটি শব্দ আগুন,
তুই কাঁপাস সভ্যতা, তুই বিদ্রোহের ধ্বনি।
মাতৃকার মুখে তুই বজ্রের হাসি,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে চির অনলবাসী।

----------------------------------------------------

পাতি নেতার উৎপাত

 

পাতি নেতার উৎপাত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************

শহর গঞ্জ গ্রামজুড়ে পাতি নেতার রাজ,

অলি গলি পাড়া-মহল্লা—সবখানেই সাজ!
মাইকে চেঁচায় দিনরাত, “আমি জনতার সেবক!”
পেছনে দেখি দখলদার, চাঁদাবাজ, চোরের দেবক! 

চায়ের কাপে সভা বসে, বক্তৃতি হয় ঠাস,
বলে—“দেশটা আমিই চালাই, বাকি সবাই বাঁশ!”
কিশোর গ্যাং পিছে পিছে, উল্লাসে তারা মাত,
চুরি-ছিনতাই-রাহাজানি—সবই পায় পাঠ!

বাজারে গেলে দোকানদার কাঁপে দোতলায়,
বলে—“নেতা আসছে ভাই, টাকা লুকাও তলায়!”
মসজিদের ইমামও ডরায়, মাথায় দেয় সেলাম,
নেতা বলে—“ছবি তুলো! ইনশাআল্লাহ, আমি ইমাম!”

অফিস আদালত নিস্তব্ধ, কাগজ চলে ঘুষে,
যে বলে সত্য, সে পরের দিন যায় কারুশে!
গ্রামে খাস জমি নেই, শহরে দখলখাতা,
পাতি নেতার কৃতিত্বে, আইনও হলো পাতা।

মহল্লার মোড়ে দাদা ভাই, দাড়িয়ে বড় ভঙ্গি,
বলছে—“আমি প্যাডি লিডার, চিনবি না রে, ভঙ্গি!”
বাচ্চারা ভয়ে বলে—“দাদা আসছে, দে রে দৌড়!”
মুরগি হাঁস পর্যন্ত ভাবে—“এই লোকটা বড় ছোঁড়!”

রাতে বাজে পার্টির গান, ফুর্তি চলে ভারি,
ভোটের সময় দরজায় দান, পরে চুরি সাড়ি।
চাঁদাবাজি, দখলবাজি—সবই তার ধর্ম,
মুখে বলে—“মানবসেবা”, ভিতরে ঝড় ঝঞ্ঝা!

শেষে বলে বৃদ্ধ ঠাকুর, পুকুর পাড়ে বসে,
“দেশের নেতা পাতি হলে, জাতটা মরে হেসে!”
তবু আশা একটুখানি—ভালো মানুষ জাগে,
যেদিন সত্য উঠবে জেগে, নেতারা যাবে ভাগে! 

---------------------------------------

কি যুগ এলো ভাই

 কি যুগ এলো ভাই

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

********************************

অপমান–অপদস্ত শহরে, কেউ প্রতিবাদ করে না
শিক্ষক চুপ, শিক্ষিকা ভয়ে মুখ বন্ধ
মুক্তিযোদ্ধা হাঁটে, মাথা নত করে
নেতা হাসে লোভে, নেত্রী চোখে আঁচিল

হুজুর প্রার্থনায়, কেউ প্রতিবাদ করে না
কবি ব্যঙ্গ করে, লেখক চিৎকার করে
ইতিহাস দগ্ধ, ঐতিহ্য নিপতিত পড়ে
ফেসবুকে চিৎকার, কেউ প্রতিবাদ করে না

চাঁদাবাজি, ঘুষ, আদালত বিক্রি চলছে
শিশুর অধিকার নষ্ট, পথের ধুলোয় নিপতিত
গীবত বেড়ে, শত্রুতামি সমাজে ছড়িয়ে
অপমান–অপদস্ত, প্রতিহিংসার খেলা চলছে

শাসকের চোখ বন্ধ, লোভে মগন চিত্ত
মানবতার দীপ নিভে, অশ্রু ঝরে শহরে
শিক্ষক–শিক্ষিকা চুপ, ইতিহাস চুপ থাকে
মুক্তিযোদ্ধা রুখে, নেতা–নেত্রী সাহস রাখে

তবু কেউ উঠে, ব্যঙ্গ করে সমাজে
বল ভাই, কি যুগ এলো, মানুষ ভুলে যায়নি
অপমান–অপদস্ত, কেউ প্রতিবাদ করে না
মানবতার দীপ জ্বলে, সমাজে আশা জাগে

শহরে চুপ, গলি ভয়–শূন্য সাড়া
অপমানের ঢেউ ভাঙে, কেউ নয় সাহসী
হৃদয় দগ্ধ, মুখে নীরবতার আবরণ
তবু সত্যের শিখা জ্বলে, কেউ লজ্জা পায় না

বিদ্রোহী গান বাজে, গলি–শহর ঝাঁকে
মানবতা উঠে, চিৎকার করে, খুঁজে মুক্তি
শাসক তলব, চোখে আঁচিল, বিদ্রোহ জ্বলে
বল ভাই, কি যুগ এলো, বলো, কেউ দাঁড়াও!

---------------------------------------------------------

রাওনাট ফুটবল টিম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা তারিখঃ ০৪ - ০৯ - ২০২৫ ইং স্থানঃ রাওনাট , কাপাসিয়া , গাজীপুর ---------------------------------------...