বুধবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৫

হালাল রিজিক

 হালাল রিজিক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর
*********************************************

নূর-এ-রহমত নদীর তীরে হেরিনু চাঁদন,
হালাল রিজিক ঝরিছে যেন বরকতের পান।
সে স্রোতে বাজে আয়াত— “কুলু মিন তাইয়্যিবাতি,”
রিজিকে নূর, ঈমানেতে বেহেশতের সওগাতি।

বাতাসে ভাসে তাওহিদের গন্ধে মেশা ধ্বনি,
“হারাম রিজিক সয়ে না আরশের ফরমানি।”
রাসূল (সাঃ) বলিলেন— “তালাবে হালাল ফরজী,”
যে কামায় সেদিকে, পায় নূর-এ-তারাজী।

হারাম কামাই আনে জুলম, ঘুচে যায় তাওফিক,
দো’আ হয় না মঞ্জুর, শুকায় দিলের নিক।
যে খায় পবিত্র খাদ্য, পান করে হালাল,
তার জিকিরে ওঠে সুবহানার হালাহাল।

আসমানে ফেরেশতা বলে— “মাশা’আল্লাহ নূর,”
যে বান্দা আমলে হালাল, তার কদর ভরপুর।
ইলমে হালাল শেখে যারে, থাকে নফস নিয়্যত,
রিজিকে আসে বরকত, রওশনে রাহমত।

ওহে মুমিন! ঘুষ-সুদে করিও না আমল,
তাতে আসে আজাব-এ-কবর, হারাম রিজিক বিকল।
মেহনতের ঘাম মিশায়ে করো তাসবিহ ধ্বনি,
“ইন্নাল্লাহা তায়্যিব”—তাঁর বাণী অনন্ত ধ্বনি।

দেখিলাম সে নদীর ধারে, এক দরবেশ মসনদে,
বলিল— “হালাল কামাই রহমত, হারাম হক গদে।”
চোখে তার নূর, দেহে সাবর, জবানেতে শুকর,
সে বলিল— “রিজিকে হালালই জান্নাতের ফিকর।”

বয়েসে বৃদ্ধ, তবু মুখে নূর-এ-ইখলাস,
হাতে তার খেজুর, মুখে দো’আ, পরম আভাস।
বলিল— “রাহে হালাল চলে যে আবদুল্লাহ,
তাহার ঘরে নাযিল হয় বরকতে আল্লাহ।”

সেই নদীর জলে দেখি প্রতিফলন বাণী,
কোরআনের আয়াতে লেখা রহমতের কাহিনি।
“লা তাকুলু আমওয়ালাকুম বিল বাতিল”—ধ্বনি বাজে,
হারাম হক ভক্ষণকারীর নেই নাজাত সাজে।

হালাল রিজিক— নূর-এ-দুনিয়া, নাজাত-এ-আখিরাত,
এ রিজিকেই থাকে কুদরত, তাওফিক, বরকত।
হে প্রভু! দে তাওফিক, থাকি সে স্রোতের ধারে,
রিজিক-এ-হালালে ভরুক জীবন, জান্নাতের নূর সঞ্চারে!
-------------------------------------------------


২৯-১০-২০২৫

মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৫

এ মিছিল থামুক

 এ মিছিল থামুক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

থামুক! থামুক! এ মিছিল গণতন্ত্র নয়।
থামুক! থামুক! এ মিছিল ঐক্য নয়।
খুন লুট গুম—শুধু ক্ষমতার খেলা।
ঘাতক দেশদ্রোহী মুখোশধারী উগ্রবাদী তারা।

মাকে হত্যা করতে এসেছে তারা আজ।
তোমার প্রাণে ভয় নেমেছে অন্ধকারে।
জাগো বাঙালি! জাগো বাংলাদেশি সকলে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দাঁড়াও হাতে শক্ত।

হাত ধরো হাতে ধরো ঐক্যের তরবারি।
সত্য ন্যায় মুক্তি—হোক আমাদের সঙ্গী।
থামুক! থামুক! মিছিল ভেঙে পড়ুক আজ।
শহর গ্রাম নদী—বাজুক মুক্তির গান।

ঘাতকরা হারাক! সত্যের আলো ছড়াক।
লাল সবুজ রক্ষা করো পতাকা উঁচু রাখো।
মুক্তির ডাক শুনো আকাশে বাজুক ঘন।
মুক্তির তরবারি হাতে ভয় চিরতরে ধ্বংস।

ছদ্মবেশী মুখোশধারী ঘাতকরা হারাক এখন।
শহীদদের রক্তে লেখা ইতিহাস থাকুক অমল।
এ মিছিল থামুক! শহরের দেয়াল বলুক।
নদী গ্রাম মাঠ—বাজুক স্বাধীনতার গান।

জাগো বাঙালি! জাগো বাংলাদেশি আওয়াজ দাও।
মুক্তির চেতনা বলুক—শত্রু নয় পাশে।
থামুক! থামুক! এ মিছিল চিরতরে থামুক।
স্বাধীনতার পতাকা উঁচু—আলোর পথে উঠুক।
--------------------------------------


২৮-১০-২০২৫

হে প্রিয় হাজরকারী

 হে প্রিয় হাজরকারী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

হে প্রিয় হাজরকারী, পদচারণা শুনি তুমি,
কাপাসিয়ার অলি-গলিতে শোকের ছায়া ঘেরা;
হাফিজুল হক চৌধুরী, মানবিকতার দীপ্তি,
মৃতের প্রতি শ্রদ্ধা, নামাজ-দোয়া পূর্ণ করে।

লিখিনু কি নাম আমার অন্তর বিফল যতনে
কবরের ধারে,রে কাল, মৃতের তীরে?
দোয়া-সওয়াবের ঢেউ, ফেন-চূড়ে আসে কি রে ফিরে,
মুছিতে তুচ্ছেতে ত্বরা এ আমার প্রার্থনায়?

অথবা খোদিনু তারে কোরআনের আলোয় শিরে,
নবীর হাদিস যন্ত্রে কাটি অক্ষর সুক্ষণে;
“যে জানাজার জন্য উপস্থিত হয়, তার জন্য সওয়াব,”
ধৈর্য, সহানুভূতি, সদকা নীরে মিলনে।

শহর-গ্রামের অলি-গলিতে, শত-কাঁটায় ঘেরা কবর,
হাফিজুল হকের পদচারণা যেন আলোকশিখা;
মানবিক মহানায়ক, কোরআন-শিক্ষা, হাদিস-শ্রদ্ধায়,
মৃতের প্রতি মানবিকতা চিরন্তনভাবে বিরাজা।

শূন্য-জল, জল-পথে স্মরণে জনরে;
সদকা, দোয়া, ধৈর্য, সহমর্মিতা—হৃদয়ে নিবাসে;
ফরজ কিফায়া জানাজায় অংশগ্রহণে যেন সুযশে,
কোরআন-পথে প্রাণ মর্ত্যে বাস করে; আকাশে আলো মিশে।

কফিনের ধ্বনি শোনে অলি-গলির নিরবতা,
হাফিজুল হকের চোখে ভাসে মৃতের প্রতি ভক্তি;
প্রার্থনার ঢেউ আছড়ে পড়ে কবরের তলে,
সদকা ও দোয়া ভরে সমাজের অন্তরাল।

ধৈর্য ও সহমর্মিতা শিখায় হাদিসের সুরে,
“মৃতের জন্য যা ভালো করা হয়, তা সদকা।”
কোরআনের নির্দেশে, নৈতিকতা ও মানবিক দৃষ্টিতে,
জানাজায় অংশগ্রহণ চিরন্তন শিক্ষা হয়ে যায়।

অলি-গলির অন্ধকারে, অমল হৃদয়ে হাফিজুল হক চৌধুরী,
মৃতের জন্য প্রার্থনা, সামাজিক সংহতি প্রদর্শন করে;
স্মরণ ও প্রার্থনার দীপ্তিতে সমাজে আলো ছড়ায়,
কোরআন ও হাদিসের শিক্ষায় জীবন অনন্তকাল রূপায়।

হে প্রিয় হাজরকারী, পদচারণা শুনি তুমি,
জীবনের অস্থায়িত্বে দোয়া ও নামাজের দীপ্তি।
মৃতের প্রতি শ্রদ্ধা, মানবিকতা, সহমর্মিতা,
হাফিজুল হকের পথে চিরকাল প্রজ্বলিত হয় সত্যি।
---------------------------------------------------------


২৮-১০-২০২৫

মুত্তাকি

 মুত্তাকি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************************

শুনি গুন গুন ধ্বনি তোর এ করব্যে কাননে,
হৃদয়ে আল্লাহভীতি জাগে, পাপের পথে সরে যানে;
যিনি সতর্ক, দ্বিধাহীন, দুনিয়ার আবেশে নাহি ভ্রান্ত,
মুক্তাকি—অটল, আলোকিত পথ ধরে, চিরদিন অনন্যায় প্রান্ত।

হায় দুনিয়ার মানুষ! বৃথা লোভে হারায় মন-মণি,
সোনা-রুপার মায়া ছাপিয়ে যায় সত্যের অমলস্ফুরণ;
কিন্তু মুক্তাকি রাখে সততা, নির্ভীকতা হৃদয়ে,
ভালো ও খারাপের বিচার করে, আল্লাহর আদেশে শৃঙ্খলিত।


নহি সে বিষময়ী, নয় সে ধূর্ত কৌশলী,
ধৈর্য, সংযম, সতর্কতা—তব অস্ত্র ও শক্তি;
পাপ-চাক্রী বা দুনিয়ার চাপ তাকে কষে না,
মুক্তাকি চির সতর্ক, আলোর পথে অটল, অনন্তে স্থির।


মোমের ভাণ্ডারে গোপন মধুর মতো, ইবাদত তার নীরব,
প্রত্যেক কাজ, প্রত্যেক দান আলোকিত তার অন্তরে;
পরের প্রতি দয়া, অসহায়ের পাশে সহানুভূতি,
পাপ থেকে বিরত, আলোর পথে হাঁটে—হে মুক্তাকি, চিরসুখের দিশারী।

অহংকার-অপব্যয় তুচ্ছ, ধৈর্য ও সংযম সর্বদা সঙ্গী,
ভীত হই আল্লাহর প্রতি, সদাচরণে পূর্ণ অন্তরদৃষ্টি;
গৃহে, পথে, সমাজে—সতর্কতা ও নৈতিকতা সর্বত্র,
মুক্তাকি হোক আলোর পথে, জীবন হোক দীপ্তিমান, চিরন্তন।

সকল ইবাদত ও কর্মে সততা, পরিশ্রম ও ধৈর্য মিলিয়ে,
মুক্তাকি হয়ে ওঠে দুনিয়ায় দীপ্তিমান, সকলের প্রিয় বান্দা;
হৃদয়ের নীরবতা, আত্মার আলো, নৈতিকতার দ্যুতি—অমল অমর,
সৎ পথে চলা, সদাচরণে পূর্ণ—আল্লাহর প্রিয় বান্দা, হে মুক্তাকি।

ফুল-বনে, পাথরে, শহরে, সবখানে সে সতর্ক,
আলো-ছায়ার মাঝে ভাসে আল্লাহর স্নেহময় প্রকাশ;
প্রতিটি ধাপে, প্রতিটি নিঃশ্বাসে, ভয় ও বিশ্বাস জাগে,
মুক্তাকি—সত্যের পথিক, দুনিয়ার আলোয় দীপ্তিমান।

হায় লোভী মানব! তব চাহিদায় মিশে না যায় মুক্তাকির গান,
পাপ-চাক্রী, ধন-লালসা সব তুচ্ছ, তব মনে স্থির ভয়ভূমি;
মুক্তাকি তব জীবন হোক আলোর সাগরে অমল,
সদাচরণে পূর্ণ, ধৈর্য, সংযম ও ইবাদতে নিত্য দীপ্তিময়ী।
*****************************************************


২৮-১০-২০২৫

মানবিক পুলিশ

 মানবিক পুলিশ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************************

দেখিনু জনতার ভিড়ে, নীল জ্যোৎস্নার রাতে,
মানবতার দীপ জ্বলে অন্ধকার প্রাতে।
বুকে পুলিশ-চিহ্ন, তবু নয় ভয়প্রদ,
হৃদয়ে সহানুভূতি, নয় রাগে জড়।

হাতে শৃঙ্খলার দন্ড, তবু মমতায় ভরা,
দুঃখীর ডাকে ছুটে যায় দেরি না ধরা।
বৃদ্ধের কাঁপা হাত ধরে রাস্তা পাড়ি দেয়,
অসহায় শিশুর চোখে মমতার আলো ছড়ায়।

সেবাই যার ধর্ম, দায়িত্ব যার প্রাণ,
অপরের বিপদে ঝাঁপায়, করে না হিসাব-জ্ঞান।
গুলিস্তানের ব্যস্ত নগর, যানবাহনের ঢল,
সেখানে তিনি পাহারাদার, জনতার মঙ্গলতরল।

নলগাঁওয়ের মাটির টান রক্তে বয়ে যায়,
মানবিকতার বাতাসে হৃদয় ভরে যায়।
যে আসবে এলাকাবাসী, দরজায় দাও নক,
সহায়তার হাত বাড়াবে, বলবে— “আল্লাহর হক।”

সুবর্ণ দেউলের মতো উঁচু নৈতিক শির,
যশ নয় লক্ষ্য, মানবসেবাই অধীর।
বলিলেন বিবেক যেন মৃদু হেসে তায়—
“এমন সেবকই মানবতার অলৌকিক মহিমায়।”
-----------------------------------------------------


এ লজ্জা কার?

 এ লজ্জা কার?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাটমকাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************************

কাপাসিয়ার তটে, মৈশন গাঁয়ের পথে,
প্রভাতের শিশির ভেজে ইতিহাসের বুক,
যেথা একদা ধ্বনি তুলেছিলো মাইকের রথে,
তাজউদ্দীনের ভাষণ জ্বালায় আশার শ্লোক।

সেই চারজন বীর— জাহান্দার, হজু, দৌলত, মিয়া,
মাথায় মাইক তুলে ছুটে যেতেন সভামঞ্চে,
চার্জহারা ব্যাটারি কাঁধে নিয়ে প্রিয়া,
রাত কাটাতেন রেলঘরে, মশার দংশনে।

তখনো ছিলো না বিদ্যুৎ, না অর্থ, না খ্যাতি,
ছিলো শুধু মুক্তির ডাক, স্বাধীনতার জ্যোতি,
তবু ওরা দিয়েছিলো প্রাণের আনুগত্য,
সোনালী দিন গিয়াছে— পড়ে আছে স্মৃতি।

আজ প্রিয় বাংলাদেশ কংক্রিটে দাঁড়ায় দৃঢ়,
স্বপ্নে সোনার তরী ভাসে, গগনে নীল ধ্বনি,
তবু সেই বৃদ্ধ মিয়া, লাঠিতে ভর দিয়া,
দাঁড়ায় লজ্জায়, হে মানব! কিসের গৌরবগান ধ্বনি?

তাজউদ্দীনের সাথী— বঙ্গতাজের ছায়া,
দুর্জয় সে মাইকম্যান, ইতিহাসের দোভাষী,
যার কণ্ঠে একদিন জেগেছিলো মহাকাব্য,
আজ কাঁপে ক্ষুধায়, ব্যথায়, প্রণয়ে নিঃশেষী।

সিমিন হোসেন রিমি, মানবিক কন্যা তুমি,
খোঁজ নাও বীরের, যেথা ক্ষয়ে যায় চরণে ধূলি,
তোমারই পিতার পাশে হেঁটে যারা আনিল ভুমি,
তাদেরই বুক আজ খালি, কালের খেলায় ভুলি।

জাহান্দার মিয়া ঘুমায় ১৯৮০ তে,
ফজলুল হক ফজু গেলো ’৯৪-র রাতে,
দৌলত আলী নিঃশব্দে নিশ্বাস গুণে প্রাতে,
মিয়া উদ্দীন বেঁচে, কেবল মৃত্যুর প্রহরে।

হে জাতি! আজ বলো তবে— এ লজ্জা কার?
যে বীর রেখেছিলে তোর স্বাধীনতার দোর,
সে আজ দাঁড়িয়ে ক্ষীণ, অশ্রুতে অপরাধী,
হে বাংলাদেশ! তুই কি ভুলেছিস তার চোর?

“ইতিহাসের সোনালী পাতা আজ কেবল ঝরা,
তবু সেই পাতা থেকেই উঠে আসে প্রশ্ন —
এ লজ্জা কার?”
------------------------------------


২৮-১০-২০২৫

স্পেশাল পিপি

 স্পেশাল পিপি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************

সতত, হে স্মৃতি তুমি জাগো মোর মনে,
সতত উচ্চারিত নাম ফজলুল কাদের।
সতত যেমন ভোরে সূর্য ওঠে গগনে,
জ্বালাও তেমনি আলো প্রজার অন্তরে,
তোমারে ভাবি হে বন্ধু নিরব প্রহরে।

ডুমদিয়ার মাটি আজও কাঁদে তব তরে,
টোক ইউনিয়নের গর্ব তুমি ছিলে ঘরে ঘরে।
কাপাসিয়ার মাঠে বাজত তব ন্যায়ের বাণী,
কমিউনিস্ট নেতা হয়েও জনতার প্রাণে,
বয়ে আনিলে সেবার নব সুরবাণী।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি তুমি,
সত্যের পথিক, দেশভক্তের দামী।
গাজীপুর জর্জ কোর্টে দৃপ্ত দৃঢ়বাণী,
নারী ও শিশুর পাশে দাঁড়ালে প্রাণে।
স্পেশাল পিপি তুমি, ন্যায়ের আলোকধারা,
বিচারের পথে ছিলে প্রজার আশা সারা।

আজ দুপুরে হঠাৎ থেমে গেলে হে প্রাণ,
স্ট্রোকের ছোঁয়ায় নিভে গেল তব দীপের টান।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন—
এই শোকভরা ধ্বনি বাজে গাজীপুরের গগনে,
কাঁদে কাপাসিয়া, কাঁদে জনতা মিলনে।

তুমি গেলে তবু রইলে বিশ্বাসের বুকে,
প্রজার হৃদয়ে জ্বালো আলোর শিখা সুখে।
তোমার কর্মগাঁথা বাংলার ইতিহাসে,
জীবন্ত থাকবে চিরকাল প্রেরণার আশে।

আল্লাহ তোমাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন — আমীন,
এই প্রার্থনা বাজে প্রতিটি হৃদয় বীণ।
তোমার নাম অমল, তোমার কাজ অনন্ত,
ফজলুল কাদের ভাই, তুমি চির প্রভান্ত।
----------------------------------------


গালাগালির মঞ্চ

 গালাগালির মঞ্চ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

আশার ছলনে ভুলি কী ফল লভিলি, হায়,
গালাগালির মঞ্চে সভ্যতার ক্ষয় তাই ভাবী মনে?
রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, হিংসা-প্রতিহিংসার ধোঁয়া চলেছে,
ক্ষমতার লড়াইয়ে দেশপ্রেমের শূন্যতা বহে নিরন্তরে;—

স্বৈর্য আর ফ্যাসিবাদের ছায়া মুখে হাসি—হাতে লাঠি,
মঞ্চে বাজে বিদ্রোহের শঙ্কর, নাগরিক নীরব,
মন ভাঙে, হৃদয় কাঁদে, তবু আশা জ্বলে কি?
মনোনীত বর—তুমি কি সত্যের মশাল ধরিবে হাতে?

হীনতা, প্রতিহিংসা, বিদ্বেষ—সবই ছড়ায় চারপাশ,
মঞ্চের ধ্বনি কেটে যায়, সভ্যতার রাত্রি দীর্ঘ।
গালাগালির ক্ষুদ্র মণি, দীপের আলো যেন নিভে না,
স্বমন্দিরে প্রদর্শনিল বাণীর চরণে আশা।

হিংসা, স্বৈর্য, ফ্যাসিবাদ—চিরবিদায় হবে কি?
ক্ষমতার লোভে লুটে যায় প্রাণের রস, দেশপ্রেম নিঃস্ব।
নাগরিক কণ্ঠে বাজুক বিদ্রোহের সুর—হায়,
মঞ্চ থেকে জ্বলে উঠুক সত্য, ন্যায় ও মানবতার আলো।

বেশ কতো দিন এই হীন লড়াই, দুঃখের কুয়াশা,
শুধু হানাহানি, বিদ্বেষ, অন্ধকারে জলের মতো ছলনা।
মনোনীত বর—যদি সত্যের মশাল ধরিলে হাতে,
বিকৃত ভাষার বিষ ধুয়ে যাবে, মঞ্চে ছড়াবে মুক্তির দীপ।

হৃদয়ে শক্তি জাগাও, ভবিষ্যতের পথ আলোকিত কর,
হিংসা, প্রতিহিংসা, স্বৈর্য—সবই কাটাও, বিদ্রোহী বাণী দিয়ে।
গালাগালির মঞ্চ হোক শিক্ষা, সত্যের দীপশিখা—
অবিচল, অদম্য, চিরন্তর, সভ্যতার পুনর্জাগরণে।
-----------------------------------------------


২৮-১০-২০২৫

শিক্ষক ও সাংবাদিক

 শিক্ষক ও সাংবাদিক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
জীবন বৃত্তান্ত
---------------------------

নাম: মোহাম্মদ মনজুরুল হক গাজী
পিতা: মরহুম মিয়া হোসেন
মাতা: মরহুমা জুবেদা খাতুন
গ্রাম: ডুমদিয়া (উত্তর পাড়া)
ডাকঘর: ডুমদিয়া
ইউনিয়ন: টোক
উপজেলা: কাপাসিয়া
জেলা: গাজীপুর, ঢাকা

শিক্ষা জীবনের ধারা:
-------------------------------

প্রাথমিক: উজলী দিঘীরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

মাধ্যমিক: টোক রণেন্দ্র বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৮২-১৯৮৫)

উচ্চ মাধ্যমিক: সালনা নাসির উদ্দীন মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, গাজীপুর সদর (১৯৮৬-৮৭)

এসএসসি: ১৯৮৮

কলেজ: শরীফ মোমতাজ উদ্দীন আহমেদ ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া (এইচএসসি - ১৯৯০)

বিশ্ববিদ্যালয়:

বিএসএস (সম্মান/অনার্স), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৯৩

এমএসএস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৯৪

বিষয়: অর্থনীতি

পেশা:
----------------------------

শিক্ষকতা: সিনিয়র প্রভাষক (সহকারী অধ্যাপক আবেদিত), শামসুল হক মহিলা ফাযিল (ডিগ্রি) মাদরাসা, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ

সাংবাদিকতা:
----------------------------

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক আজকের বিজনেস বাংলাদেশ

রিপোর্টার ও জেলা প্রতিনিধি, মাসিক ম্যাগাজিন শিক্ষাতথ্য ও shiksha totthow.com

পারিবারিক জীবন:
--------------------------------

৭ ভাই, ১ বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ

১ ভাই পরপারে, ৬ ভাইয়ের মধ্যে ৫ জন গ্র্যাজুয়েট

স্ত্রী: গ্রাজুয়েশন শেষ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক

সন্তান: ৩ জন (বড় মেয়ে: ষষ্ঠ শ্রেণি, মেজো ছেলে: চতুর্থ শ্রেণি, ছোট ছেলে: প্রথম শ্রেণি)

ঠিকানা:

অফিস: ডুমদিয়া মিয়া হোসেন বাড়ি, জামে মসজিদ কমপ্লেক্স, টোক, কাপাসিয়া, গাজীপুর

হাউজ: ১০৮/এ, হাবিবুল্লাহ সরণি, গাজীপুর সিটি করপোরেশন রোড, জয়দেবপুর, গাজীপুর -১৭০০

যোগাযোগ:

মোবাইল: ০১৭১৮৫৭৩২২২

ইমেইল: mmhgazi1972@gmail.com

রক্তের গ্রুপ: B+

মন্তব্য:
শিক্ষার মৌলিক তিনটি উদ্দেশ্য:

চিন্তা-চেতনার বিকাশ ঘটানো

********************************************************************

শিক্ষক ও সাংবাদিক
-----------------------------------------

কে তিনি— শ্রেণিকক্ষে বসে মননে দীপ জ্বালান,
কবে মোরে কলমে জ্ঞান-বীণার আলো ছড়ান?
শিক্ষার জগতের অন্ধকারে আলো ছড়িয়ে দেন,
ছোটদের চোখে জাগান আশা, মননে সত্যের প্রেরণা।

সেই তিনি— কলম হাতে, সংবাদপত্রে সত্য প্রকাশ করেন,
অন্যায়ের দানব ভেঙে, নিপীড়িতের কণ্ঠ শোনান।
শব্দে শব্দে যেন বাজে মুক্তির ধ্বনি,
সত্যের দীপ জ্বলে, অন্ধকার দূর হয় ধীরে ধীরে।

শিশুর কৌতূহল যেন চন্দ্রবদনের দীপ,
অর্থনীতি, ইতিহাস, জীবন-মূল্য সব শেখান তিনি।
মনঃ-কমলেতে বসান জ্ঞান-বীজ,
ভাবের অরণ্যে ফোটায় আশা, সততার কুসুম।

তিনি বলেন— “জ্ঞান শুধু পড়ার নয়, মননে রাখতে হয়,
সত্য, ন্যায়, মানবতা—এই পথে চলতে হবে।”
শিশুরা শুনে, বোঝে, চিত্তে বাজে সুর,
জ্ঞান ও সততার দীপ জ্বলে, জীবন হয়ে যায় পূর্ণ।

শিক্ষক ও সাংবাদিক, দুটি পরিচয় তাঁর মহিমা,
কলমে ঝরে আলোর ধারা, পাঠ্যপুস্তকে জ্বলে প্রজ্ঞা।
শব্দে শব্দে যেন বাজে নন্দনের সুর,
নন্দন-কানন থেকে আসে মানুষের মন জাগানো রূপ।

পত্রিকার পাতায় তিনি তুলে ধরেন দুঃখ-সুখের কথা,
অন্যায়, শোষণ, দাসত্ব সব ভেঙে দেন সত্যের তরঙ্গে।
মানুষের হৃদয়ে বাজে আশা, ভর করে শক্তি,
সত্য ও ন্যায়ের দীপ জ্বলে, অমলিন, চিরন্তন।

শ্রেণিকক্ষে তাঁর পদচারণা বজ্রঝড়ের সদৃশ,
শিশুরা দেখেন, শিখেন, বোঝেন প্রজ্ঞার আলো।
কলমের শাখায় ঝরে সততা, খাতার পাতায় জ্বলে ন্যায়,
জীবনের অরণ্যে উজ্জ্বল হয় শিক্ষার দীপ।

তিনি চলেন দিনে-রাতে, ক্লাসে বা প্রতিবেদনে,
সত্যের দীপ জ্বালান, অন্ধকার ভেঙে আলো ছড়ান।
শিক্ষার্থীর চোখে উজ্জ্বল হয় প্রজ্ঞা,
জনগণের হৃদয়ে জ্বলে ন্যায় ও মানবতার দীপ চিরকাল।

তিনি হাসিমুখে বলেন— “সত্যই জীবনের অমলিন পথ,
মননে আস্থা, চিত্তে ন্যায়, হৃদয়ে মানবতা রাখতে হবে।”
শিশুরা শুনে, বোঝে, পথ চলা শিখে,
জ্ঞান ও সততার দীপ জ্বলে, জীবনের আলো হয়ে যায়।

শিক্ষক ও সাংবাদিক, জীবনের দুই মহিমা পরিচয়,
কলম, খাতা, সংবাদ, পাঠ্যপুস্তক— সব দিয়ে দীপ জ্বালান।
তিনি পথ দেখান, আশা জাগান, মানুষের মন উজ্জ্বল করেন,
মানবতার দীপ জ্বলে, জ্ঞান ও ন্যায়ের পথে চিরন্তন।
------------------------------------------------


২৮-১০-২০২৫

বেহেস্তের বাগান

 বেহেস্তের বাগান

কলমঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর
---উৎসর্গঃ মাসুম মার্কেটে ওয়াজের আয়োজকদের
**********************************************************

এসো হে এসো হে, মুমিন! বেহেস্তের বাগান,
ওই ডাকিছে শুনো হে—তৌহিদী প্রাণ-মুসমান।
নূরের আলোয় জাগিছে মাসুম মার্কেটের ময়দান,
শোনো হে শোনো! হুজুরের ওয়াজ—ইমানের গান।

ঘোষণা দাও হে! এই মাহফিল আলোয় ভরা ভূমি,
শোনো হে মুমিন, শোনো হে মুসলমানের ধূমি।
আত্মাকে করো তাজকিয়া, দাও আলোর বাণী,
বেহেস্তের বাগান—মুক্তির পথ এই ওয়াজের জানি।

আল্লাহু আকবার! উফ! হৃদয় জ্বলো,
ইমানের দীপ জ্বলো, আলোর পথে চলো।
আল্লাহু আকবার! উফ! দাও আলোর বাণী,
বেহেস্তের বাগান হোক অন্তরে অনন্তি।

অযথা ঘুরো না, এদিক সেদিক পথ ঘাটে দোকানে,
শোনো হে শোনো! হুজুরের ওয়াজ—তৌহিদের স্লোগানে।
বলো হে তুমি, আল্লাহ’র গোলাম, দাসত্বে মহিয়ান,
ওহে বলো, জীবনের পাথেয়—কোরআনুল করিম।

এসো হে এসো মুমিন, মাসুম মার্কেট ময়দানে সবে,
বল হে একই সুরে, বেহেস্তের বাগান দিয়েছে রবে।
এসো হে এসো মুমিন, দান করো হে মসজিদ নির্মাণে,
বলো হে তুমি নহে কৃপণ, দুঃস্থ, অসহায় এতিমের বন্ধনে।

আল্লাহু আকবার! উফ! হৃদয় জ্বলো,
ইমানের দীপ জ্বলো, আলোর পথে চলো।
আল্লাহু আকবার! উফ! দাও আলোর বাণী,
বেহেস্তের বাগান হোক অন্তরে অনন্তি।

তুলো হে শ্লোগান, আল্লাহ’র বড়ত্বে একক মহিমা,
বলো হে, তাঁর জমিনে বিধান—চিরজাগ্রত অখিমা।
চলো হে মুমিন! তাগুতের শৃঙ্খল ছিঁড়ো ধ্রুবিমা,
এসো হে কোরআনের আলোয়, মুক্তি হোক অন্তরপ্রীমা।

যদিও জীবন ক্ষণিক, মৃত্যু চিরন্তন সত্য—অভিমান,
পরকালের শাস্তি কঠোর, আল্লাহর পথে হোক সম্বান।
সুর, তিলাওয়াত, ওয়াজের তাপে হৃদয় জ্বলো,
মুক্তির পথ আল্লাহর নিয়মে চলো, চলো, চলো!

এসো হে এসো, মুমিন, বেহেস্তের বাগান,
ডাকিছে শুনো হে, তৌহিদী প্রাণ-মুসমান।
নূরের আলোয় জাগো, হুজুরের ওয়াজের গান,
আল্লাহর পথে চলো, হোক অন্তরে অমল প্রাণ।
------------------------------------------------


২৮-১০-২০২৫

জাগো হে রাওনাট স্কুল(গান)

  জাগো হে রাওনাট স্কুল(গান) কলমেঃ মোঃ আমিুনল এহছান মোল্লা রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর ******************************************** এই য...