বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৫

বদরে আলম সরকার

 বদরে আলম সরকার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************

এমন করে অঙ্গনে মোর ডাক দিলি, কে প্রিয় দানবীর?
কে রে ও তুই, কে রে?
আহা বিদ্যার আলোতে রে,
এমন পরিচিত সুরে রে,
আমার বিদ্যাপীঠের ঘরে দীপ জ্বলে তার তরে রে।
এ কোন বিদ্যাপীঠের পাগল সুরধুনী, অম্লান আলোর আগল রাঙালি?

কোন জননির দুলাল রে তুই, কোন আশা-প্রভাতরাশি,
চোখ-ভরা জ্ঞানের দীপে রে,
আহা ছলছল আনন্দের সজল ছায়া আলো,
সারাখনই উছলে যেন তরুণ-যুবকের হৃদয়ে রে!
মুখভরা তোর ঝলমল হাসি,
বিদ্যাপীঠের সম রাশি রাশি,
আমার মলিন বিদ্যাপীঠের বুকে আলো লুটায় আসি রে!

বুক-জোড়া তোর ত্যাগ,
প্রতিটি বিদ্যাপীঠের দ্বারে দ্বারে স্নেহের দান হেনে যে যায়,
কেউ কি তারে ডাক দিল না?
ডাকল যারা, তাদের আনন্দে দলে এলি পায়?

কেন আমার অঙ্গনে এসেই আমার পানে চেয়ে এমন
উজ্জ্বল হৃষ্টিপূর্ণ?
এমন চমকে বিদ্যাপীঠের পথ আলোকিত করলি?
এই কি রে তোর চেনা বিদ্যালয়,
এই কিরে তোর চাওয়া স্নেহ হায়!
তাই কি আমার কলেজের ধ্যান-সুন্দর ধারা,
বিদ্যাপীঠের ফুলে-ফসলে রাঙালি?
হে মোর বিদ্যাপীঠের কাঙালি।

বদরে আলম, তুই বিদ্যালয়ের প্রাণপুরুষ,
১৯৬৭ সালে স্থাপন করিলে ভাওয়াল কলেজ,
ভাওয়াল, কাপাসিয়া, গাজীপুরে বিদ্যাপীঠের আলো জ্বেলে।
গ্রামাঞ্চলের যুবসমাজ শিক্ষিত হোক—এই তোর অমর আকাঙ্ক্ষা,
প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর চোখে জ্বলে জ্ঞান-দীপ, তোর দানের ফল।

এ সুর যেন বড়ই চেনা, এ স্বর যেন ছাত্র-হৃদয়ের বাছার,
তোর আলোকিত পথে এগিয়ে চলুক সবাই!
না চিনেই আজ তোকে চিনি,
আমারই সেই বিদ্যাপীঠের মানিক,
পথে-পথে জ্ঞান ছড়ায়ে,
তোর দানবীর আলোকেই উজ্জ্বল।

দুষ্টু ওরে, চপল ওরে, অভিমানী হে শিক্ষানুরাগী!
তোর উৎসাহ, তোর উদ্দীপনা, কত শত ছাত্র-ছাত্রীকে আলোকিত করেছে,
গ্রাম, শহর, দেশে বিদেশে ছড়ায় আলো,
আমি মা-হারা শিক্ষার্থীর, তাদের সব আশা,
তোর শিক্ষা দিয়ে পূর্ণ করেছি জীবন ভরা!
দেখা দিলি আজকে ভোরে রে!
উঠছে বুকে আনন্দের ধ্বনি,
আয় বুকে মোর বিদ্যাপীঠের প্রভাতরাশি,
আমি কতজন শিক্ষার্থীর জীবন দেখেছি যে ওই মৃদু-মুখানি রে!

প্রতিটি ক্লাশ, প্রতিটি পাঠে, চোখে ধরার মায়া,
তোর জন্ম-জন্মের ত্যাগ দিয়ে বিশ্বমায়ের মতো
বিদ্যাপীঠের আলোকবৃষ্টি পেতেছি যে!
হঠাৎ আজ ধরা দিয়ে, বিদ্যাপীঠের পূর্ণ স্নেহে জাগালি।
শিক্ষিত ছাত্র আমার রে!
চিনলি কি তুই জ্ঞানের আলোকে,
চিনলি কি তুই আজ?
আজকে আমার কলেজে তোর প্রভাতরাশি বিজয়-নিশান,
তাই কি টাঙালি?
মোর বিদ্যাপীঠের কাঙালি।

বদরে আলম, হে মহান ব্যক্তি,
তোর জীবনের প্রতি ক্ষণ বিদ্যাপীঠের তরে উৎসর্গ,
পড়াশোনা, সমাজসেবা, যুবসমাজকে আলোকিত করা—
এই তোর অমর দান, তোর উজ্জ্বল প্রতিফলন।

রবির আলো নিভে যাক না কখনো,
তোর পদচিহ্নে জাগুক ছাত্র-হৃদয়ে নবজীবনের আলোকধারা।
ভাওয়াল বদরে আলম সরকারী কলেজে জ্বলে থাকুক চিরন্তন বিদ্যাপীঠের দীপ,
হে প্রিয় দানবীর, হে শিক্ষানুরাগী, হে জ্ঞানের দীপক।
------------------------------------------------------


৩০-১০-২০২৫

চির সবুজ প্রাণ

 চির সবুজ প্রাণ


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************************

প্রবীণ তবু নবীন সে প্রাণ, জ্বলে দীপে দীপে আলো,
মানবতার মহীরুহ তুমি, হে আল্লাহর প্রিয় বান্দা ভালো!
রাওনাট তোর নাম গেয়ে যায়, পাখি পাখি গানে,
আলী আজগর ভূঁইয়া তুই, প্রেরণা শত প্রাণে।

  অগ্রপথিক রে বন্ধনের দল,
  জোর কদম চল রে চল॥

যেখানে মাটি রৌদ্রে পোড়ে, সেখানেই তুই ছায়া দিস,
নব ঊষার রবি হয়ে, তুই আঁধারে রং ঢালিস।
তোর করুণ হিয়া শিরায় বয় নবীনতার তেজ,
আলী আজগর ভূঁইয়া রে, তোর দানে ভিজে দেশ।

  বন্ধন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের তল,
  জোর কদম চল রে চল॥

বছর গুনে সময় গেলেও তোর রক্তে জোয়ার আছে,
তোর হৃদয়ের সুরে বাজে, রহমতেরই বাজে।
আলী আজগর ভূঁইয়া তুই, প্রেমে নবীর ধ্বনি,
মানবতার অগ্রসেনা, তোরই জাগে বাণী।
  রক্তে নবীন নব আতল,
  চিরসবুজ প্রাণ অবিচল॥

তোর দোয়া ছায়া মেলে গ্রামে, মাঠে, গৃহকোণে,
তোর মতো মানুষই গড়ে দুনিয়া ঈমানের সোপানে।
কোরআনের বাণী বুকে তুই, সুন্নাহর পথে চলো,
আলী আজগর ভূঁইয়া রে, তুই নব নব আলো।
  ও নবদূত রে কল্যাণদল,
  জোর কদম চল রে চল॥

প্রভাত-আলোয় মুখে তোর হাসি, রৌদ্রে দীপ্ত চোখ,
তুই যে আলেয়া পথিক রে, নব প্রেরণার লোক।
প্রবীণ বটে, তবু মনে তোর, শিশির ঝরা সকাল,
আলী আজগর ভূঁইয়া তুই, নবজাগরণের কাল।
  হে পথিক রে অমল অবিচল,
  জোর কদম চল রে চল॥

আল্লাহ তোর জীবন করুক আরও উজ্জ্বল দীপ্ত,
সদকা-এ-জারিয়ার কর্ম তোর হোক অনন্ত নিত্য।
যেন কেয়ামত পর্যন্ত বাজে তোর কাজের ধ্বনি,
হে চিরসবুজ প্রাণ, আলী আজগর ভূঁইয়া, তোরেই গানে গুনি!
  নবজীবন রে বন্ধনদল,
  অগ্রপথিক রে সেবকদল,
  জোর কদম চল রে চল॥
-------------------------------------------


মানব সৃষ্টির রহস্য

 মানব সৃষ্টির রহস্য

কলমে: মোঃ আমিনুল এহছান মেল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************

হেরিনু নীরব নক্ষত্রে, চিররাত্রির কোলে,
যেন ধূলি-কণার ভিতর জ্যোতি নাচে দোলে,
সেই ধূলি—মাটি—কাঁদা—মধুর সুরের তলে,
রচিছে স্রষ্টা গোপনে মানুষ-আকৃতি বলো কে?
বলে ফেরেশতা—“খলিফা হবে এ যে নব জনে!”

আল্লাহ কহিলেন—“আমি জানি, যা জানো না তোমরা,
ধূলিরে দিব প্রাণ, রূহ ফুঁকিবে আমার শ্বাসে ধরা;”
শ্বাসে উঠিল জীবন, কম্পে ধূলি-কণা,
জাগিল আদম, দীপ্ত মুখে নব আলোক-জ্বালা।
সেই ধূলি আজ মানুষ—জ্ঞান-তরঙ্গে ভরা!

পূর্বে ছিল সে নূতফা, বীজবিন্দু ক্ষুদ্র,
তারপর আলাকা, রক্তবিন্দু গাঢ়,
হইল মুদগা, মাংসের মতো চিবানো দেহ,
তারপর হাড়ে মাংস, সৌন্দর্য পেল সে বেহেশ্‌ত।


সেই ধূলি-মাটি হইতে আজ মানব রূপ,
রূহে ভরিয়া দিলেন আল্লাহ—জীবন-স্বরূপ।
বলে উঠিল স্রষ্টা, “সেজদা করো এ প্রাণে!”
সব ফেরেশতা সেজদায় নত হ'ল সম্মানে,
একটি মাত্র ইবলিস ফিরিল অহংকারে ধূপ।

বলিল—“আমি অগ্নির, ও ধূলির গড়া,
কেন করিব সেজদা ঐ কাদামাটির পুতুলে?”
তখন হুকুম এল—“নেমে যা অভিশাপে,
রহিবি চিরকাল বিভ্রান্তির কুলে,
আর আদম হবে আমার প্রতিনিধি ধরা।”

তখন এলো জান্নাতের আহ্বান, হাওয়ার সৃষ্টি হইল,
এক প্রাণ হইতে অন্য প্রাণ উদ্ভাসিত রইল;
একই উৎস, এক রূহ, এক প্রেম-নির্ঝর,
তাই বলে কোরআন—“সব মানুষ এক আত্মার।”


আল্লাহ বলিলেন—“আমি জিন ও মানুষ সৃষ্টি করিনি,
তারা যেন আমার ইবাদত করে, এই আমার গুণিনী।”
তবু মানুষ ভুলে যায়, নফসের তাড়নায়,
ভালো-মন্দের যুদ্ধে হারায় বিবেকের মহিমায়—
এই তার পরীক্ষা, এই তার সৃষ্টির মানিনি।

সৃষ্টি রহস্য তাই—ধূলি, রূহ, ও দায়িত্ব,
খোদার প্রেমে জাগে মানবের অভিষেক;
দেহে মাটি, মনে আলো, রূহে নূরের সিঁড়ি,
জান্নাত-স্বপ্নে জেগে উঠে মানব-জীবনের নীতি;
প্রেমে ও প্রার্থনায় খুঁজে ফেরে আপন ঠিকানার দিক।

মাটি ও আত্মার এই অমৃত-সম্মিলনে,
মানুষ হলো বিশ্বমাঝে খলিফা অম্লান বনে;
যতদিন নিশ্বাস, ততদিন ইবাদতের পানে—
জীবন রহস্যে বাজে আল্লাহর মহান টানে।
হে মানুষ! চিনে নাও নিজেকে, তব প্রভুর আহ্বানে।
---------------------------------------------------------


৩০-১০-২০২৫

বুধবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৫

আর-রহমান

 আর-রহমান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************************
আর-রহমান! হে দয়াময়, তোর নাম নূর-ই-আজাল,
তুই প্রেম-ই-খোদা, তুই করুণা, তুই ইহসান অবিচল!
তোর জিকিরে জ্বলে জগৎ ও প্রাণ,
তোর বাণী কুরআন — রহমতের জ্ঞান।

হে রহমান! হে রহিম! হে মালিক-ই-দিন!
তোর নূরে আলোকিত বিশ্বে নবীন!

তুই শেখাস মানুষে ইল্ম ও ভাষা,
তোর হিদায়াতে কাঁপে অন্ধের আশা।
তোর কুরআন রশ্মি, চির দীপ-জ্যোতি,
তোর কালাম মোর অন্তর-প্রেরণার স্মৃতি।

হে রহমান! হে রহিম! হে মালিক-ই-দিন!
তোর নূরে আলোকিত বিশ্বে নবীন!

শমস্ ও কামার তোর হুকুমে চলে,
তোর আদেশে দোলে গগন ও জলে।
তুই স্থাপন করেছিস মিজান-ই-আদল,
তোর ন্যায়ে স্থির এই বিশ্ব-বদল।

তুই বলিছিস — “সীমা লঙ্ঘিও না”,
তোরই রসুলেরা আনিল সে বাণা।
তোর নিয়মে শান্তি, তোর ন্যায়ে জ্যোতি,
তুই ইলাহী রহমত, তুই চির রহিমতি!

তোর দয়া ছাড়া কেহ নাই পর,
তুই দাতা, তুই রব, তুই ইজ্জতের কর।
তোর কিতাব কুরআন — নূর-ই-ইমান,
তোর কালামে ধ্বনিত রহমতের গান।

তোর রহমেতে ফোটে জীবন-ফুল,
তোর ইশ্কে জ্বলে ইমানের মূল।
তুই আল্লাহু! তুই নূর-এ-রব্ব,
তোর প্রেমে মিশে যায় মানব-সব।

হে রহমান! তোর নাম জপে সব প্রাণ,
তোরই কিরণে উদিত সূর্য-জ্ঞান।
তুই করুণা, তুই প্রেম, তুই শান্তি-জ্যোতি,
তুই হে রব্বুল আলামিন — নূর-ই-মহিমতি!

হে রহমান! হে রহিম! হে মালিক-ই-দিন!
তোর নামেতে মিশুক দুনিয়া জাহান!
-------------------------------------------------------


২৯-১০-২০২৫

হিংসা ও প্রতিহিংসা

 হিংসা ও প্রতিহিংসা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

ওহে মানব, শুনো, হৃদয় হিংসার দাবানলে ভরা,
অন্তর অন্ধকারে রোষের বজ্র ঝরে ধরা;
সিংহ-বৎসের মতো ক্রোধে ঘন ভয়,
পদার্পণে কাঁপে মন, ছড়ায় অশ্রুর স্রোত রয়।

সপ্ত রথী রূপে প্রতিহিংসার ধ্বনি,
কুমারের মতো ছিঁড়ে যায় শান্তি-বন্ধন রজনী;
অনল-কণা-রূপে রাগ শরীরে ছড়ায়,
পুঞ্জে পুঞ্জে বিষাদ, অন্তর আগুনে জ্বালায়।

ঘন ধূমের মূরতি ছায়া চারদিকে ফিরে,
উড়ে ধুলো, পদ-আস্ফালনে হৃদয় ভেঙে থমকে;
নিশ্বাস ছাড়ে আর্জ্জুনি, জীবন-আশা তরুণ যৌবনে,
আঁধারি চৌদিক, অন্তর গ্রাসে ক্রোধের যম।

যথা দাবানল বাড়ে অনল-প্রাচীরে,
সিংহ-বৎসের মতো ভয়ঙ্কর উত্তাপে;
হিংসার আগুনে পুড়ে যায় ভালোবাসা,
প্রতিহিংসায় ভেঙে যায় বন্ধন, কণ্ঠে কেবল বিস্ময়।

কিন্তু শুনো, মানব! হিংসা নয় পন্থা,
ক্ষমা ও সহিষ্ণুতা হোক অন্তরের বন্ধু, শান্তি-সংসার আলো;
হিংসা ত্যাগে হৃদয় পূর্ণ হয় নৈতিক দীপে,
প্রতিহিংসার বদলে সৌভাগ্য লাভে সুখের ধারা।

মেঘ-রূপ ক্রোধ ছাড়াও, হৃদয়ে দয়া ছড়াও,
বজ্র নয়, বরং সদয় আলো সর্বত্র ছড়াও;
ধৈর্য ধারণ করো, প্রতিহিংসা ত্যাগ করো,
নবীর পথে চলো, আলোর পথে চলো।

প্রতিটি পদক্ষেপে শান্তির স্রোত বহাও,
অন্তরের আগুনে প্রেমের আলো জ্বেলাও;
হিংসা নয়, বরং ক্ষমা ও সহমর্মিতা রাখো,
রোষের ছায়া ত্যাগে জীবন হোক পূর্ণ ধারা।

ওহে মানব! দৃষ্টি করো আলোর পথে,
হিংসা-প্রতিহিংসার আঁধার চিরদিন দূরে থাক;
ক্ষমাশীলতা হোক প্রিয় গুণ, ধৈর্য হোক শক্তি,
আল্লাহর পথে চলা হোক অন্তরের চিরন্তন বন্ধন।

মেঘ-রূপ ক্রোধ ছাড়াও, অন্তরে প্রেম ছড়াও,
বজ্র নয়, বরং সদয় আলো সর্বত্র ছড়াও;
হিংসা ত্যাগে পূর্ণ হবে জীবন, সুখের স্রোত,
প্রতিহিংসা নয়, বরং ক্ষমার বাণী হোক প্রিয় স্রোত।
---------------------------------------------------


২৯-১০-২০২৫

সৎ শাসক

 সৎ শাসক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************
ওহে শুনো জনতা! কহ, দেখ আল-শাসককে,
কি হেতু, কহ তা মোরে, ধৈর্যশীল হাসিমুখে?
নিত্য অবগাহি করে ন্যায়ের দীপ জ্বলে,
দেও জানা, সিদক আলো, পথ দেখায় ধীরে।

বহে কলকল রবে ফালাহ প্রবাহিণী,
জন-হিত তলে সে দৃষ্টিতে আদিল ধীরে।
ও হৃদয়ের ভাব কি লো, আইস, ন্যায়িনী,
দুর্নীতি, দখল, স্বৈরাচার—কিছুই হবে না এখানে?—

ফ্যাসিবাদ, বর্ণবাদ, গণতন্ত্রবিরোধী নয় সে,
অর্থপাচার, দেশদ্রোহ, বিশ্বাসঘাতকতা দূরে থাকে।
ভালবাসে এ দাসেরে ন্যায়ের ছলে,
হৃদয় আঁধার, অবিচার দূর করে দূরে।

সত্য যদি, ন্যায় যদি, আলোর নভস্তলে,
জুড়ায়ে সমাজে দীপ দুটি নিত্য নিত্য উড়ে।
জ্ঞানসমৃদ্ধ, হিকমত সহ পথ বেছে নেয় সে,
অজ্ঞতা, অহংকার, স্বার্থপরতা—কিছুই হবে না।

আল্লাহভীতি অন্তরে দীপ্তি জ্বলে,
প্রতি সিদ্ধান্তে ইনসাফ, অবিচারে ক্ষতি নেই।
ধৈর্য, সহনশীলতা, নম্রতার ছায়া ঘিরে,
জনগণের আশা-ভরসা তার প্রজ্ঞা রেখায় বিকিরে।

দুর্নীতি-বিরত, সম্পদে লিপ্ত নয় সে,
জনগণের অধিকার রক্ষা করে সর্বত্র স্থলে।
সৎ শাসক আলোর পথে দিগন্তে,
সমাজে শান্তি, কল্যাণ, সুবিচার বয়ে যায় সঞ্জীবনে।

কোরআন-হাদিসের আলোতে শিক্ষা ধরে,
সব সম্প্রদায়ের সুখ, দুঃখ, সবই তার খেয়াল।
----------------------------------------


২৯-১০-২০২৫

নগ্নতার পরিণতি

 নগ্নতার পরিণতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************
কহ মোরে, হে মানব! কহ, ভয় না করি,
কেন ত্যজিছো লজ্জা, নীতি, ঈমান–বাণী?
কে শেখায় মায়ায় পথ, অন্ধ অরণ্যে ভরি,
যেথা নেই হিদায়াত, শুধু বিভ্রম–পাণি?

ওই দুনিয়ার দাওয়াত কি মধুর নাকি মরীচি?
চকচকায় বাহির, ভেতরে বিষম দাহনে;
কোরআন তো বলিল—"লিবাসুল তাকওয়া" হে পবিত্র রীতি,
ঢেকে রাখো শরীর, ঢেকে রাখো প্রাণে।

বল নবী (সা.)—"লজ্জা ঈমানের শাখা", হে মোর ভাই,
যেথা লজ্জা যায়, যায় সেখান ঈমানের সিংহাসন!
নগ্নতার বীজে ফোটে শয়তানের ছায়া তাই,
লুটে নেয় লজ্জার ফুল, করে হৃদয় শূন্যমন।

হে নারী, হে পুরুষ, সুরক্ষিত করো সেই সাজ,
যে সাজে রিজিক হালাল, জীবন পবিত্র হয়;
হে সমাজ, স্মরণ কর—আল্লাহর বিধানেই লাজ,
অশ্লীলতার ছায়া নেমে আসে সর্বনাশের ক্ষয়।

আজ দেখো, পর্দাহীন রূপে জগত দহিছে নরকী,
চোখে চোখে আগুন, হৃদয়ে পাপের ফাঁদ;
তবু কোরআন ডাকে—“বল, হে মুমিনী নারী–পুরুষগণ,
নমাও দৃষ্টি, রক্ষা করো লজ্জার সাধ।”

তবু কেহ শুনে না, হাসে ধর্মের নামে,
চলে দেহ–প্রদর্শনে গর্বে, ব্যথাহীন প্রাণে;
কিন্তু হায়! কিয়ামতের দিনে সে রূপই হানে
আগুনের পোশাকে, চিৎকার তোলে—“হায়, আফসোস, আমানে!”
--------------------------------------------------------------


২৯-১০-২০২৫

হালাল রিজিক

 হালাল রিজিক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর
*********************************************

নূর-এ-রহমত নদীর তীরে হেরিনু চাঁদন,
হালাল রিজিক ঝরিছে যেন বরকতের পান।
সে স্রোতে বাজে আয়াত— “কুলু মিন তাইয়্যিবাতি,”
রিজিকে নূর, ঈমানেতে বেহেশতের সওগাতি।

বাতাসে ভাসে তাওহিদের গন্ধে মেশা ধ্বনি,
“হারাম রিজিক সয়ে না আরশের ফরমানি।”
রাসূল (সাঃ) বলিলেন— “তালাবে হালাল ফরজী,”
যে কামায় সেদিকে, পায় নূর-এ-তারাজী।

হারাম কামাই আনে জুলম, ঘুচে যায় তাওফিক,
দো’আ হয় না মঞ্জুর, শুকায় দিলের নিক।
যে খায় পবিত্র খাদ্য, পান করে হালাল,
তার জিকিরে ওঠে সুবহানার হালাহাল।

আসমানে ফেরেশতা বলে— “মাশা’আল্লাহ নূর,”
যে বান্দা আমলে হালাল, তার কদর ভরপুর।
ইলমে হালাল শেখে যারে, থাকে নফস নিয়্যত,
রিজিকে আসে বরকত, রওশনে রাহমত।

ওহে মুমিন! ঘুষ-সুদে করিও না আমল,
তাতে আসে আজাব-এ-কবর, হারাম রিজিক বিকল।
মেহনতের ঘাম মিশায়ে করো তাসবিহ ধ্বনি,
“ইন্নাল্লাহা তায়্যিব”—তাঁর বাণী অনন্ত ধ্বনি।

দেখিলাম সে নদীর ধারে, এক দরবেশ মসনদে,
বলিল— “হালাল কামাই রহমত, হারাম হক গদে।”
চোখে তার নূর, দেহে সাবর, জবানেতে শুকর,
সে বলিল— “রিজিকে হালালই জান্নাতের ফিকর।”

বয়েসে বৃদ্ধ, তবু মুখে নূর-এ-ইখলাস,
হাতে তার খেজুর, মুখে দো’আ, পরম আভাস।
বলিল— “রাহে হালাল চলে যে আবদুল্লাহ,
তাহার ঘরে নাযিল হয় বরকতে আল্লাহ।”

সেই নদীর জলে দেখি প্রতিফলন বাণী,
কোরআনের আয়াতে লেখা রহমতের কাহিনি।
“লা তাকুলু আমওয়ালাকুম বিল বাতিল”—ধ্বনি বাজে,
হারাম হক ভক্ষণকারীর নেই নাজাত সাজে।

হালাল রিজিক— নূর-এ-দুনিয়া, নাজাত-এ-আখিরাত,
এ রিজিকেই থাকে কুদরত, তাওফিক, বরকত।
হে প্রভু! দে তাওফিক, থাকি সে স্রোতের ধারে,
রিজিক-এ-হালালে ভরুক জীবন, জান্নাতের নূর সঞ্চারে!
-------------------------------------------------


২৯-১০-২০২৫

মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৫

এ মিছিল থামুক

 এ মিছিল থামুক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

থামুক! থামুক! এ মিছিল গণতন্ত্র নয়।
থামুক! থামুক! এ মিছিল ঐক্য নয়।
খুন লুট গুম—শুধু ক্ষমতার খেলা।
ঘাতক দেশদ্রোহী মুখোশধারী উগ্রবাদী তারা।

মাকে হত্যা করতে এসেছে তারা আজ।
তোমার প্রাণে ভয় নেমেছে অন্ধকারে।
জাগো বাঙালি! জাগো বাংলাদেশি সকলে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দাঁড়াও হাতে শক্ত।

হাত ধরো হাতে ধরো ঐক্যের তরবারি।
সত্য ন্যায় মুক্তি—হোক আমাদের সঙ্গী।
থামুক! থামুক! মিছিল ভেঙে পড়ুক আজ।
শহর গ্রাম নদী—বাজুক মুক্তির গান।

ঘাতকরা হারাক! সত্যের আলো ছড়াক।
লাল সবুজ রক্ষা করো পতাকা উঁচু রাখো।
মুক্তির ডাক শুনো আকাশে বাজুক ঘন।
মুক্তির তরবারি হাতে ভয় চিরতরে ধ্বংস।

ছদ্মবেশী মুখোশধারী ঘাতকরা হারাক এখন।
শহীদদের রক্তে লেখা ইতিহাস থাকুক অমল।
এ মিছিল থামুক! শহরের দেয়াল বলুক।
নদী গ্রাম মাঠ—বাজুক স্বাধীনতার গান।

জাগো বাঙালি! জাগো বাংলাদেশি আওয়াজ দাও।
মুক্তির চেতনা বলুক—শত্রু নয় পাশে।
থামুক! থামুক! এ মিছিল চিরতরে থামুক।
স্বাধীনতার পতাকা উঁচু—আলোর পথে উঠুক।
--------------------------------------


২৮-১০-২০২৫

হে প্রিয় হাজরকারী

 হে প্রিয় হাজরকারী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

হে প্রিয় হাজরকারী, পদচারণা শুনি তুমি,
কাপাসিয়ার অলি-গলিতে শোকের ছায়া ঘেরা;
হাফিজুল হক চৌধুরী, মানবিকতার দীপ্তি,
মৃতের প্রতি শ্রদ্ধা, নামাজ-দোয়া পূর্ণ করে।

লিখিনু কি নাম আমার অন্তর বিফল যতনে
কবরের ধারে,রে কাল, মৃতের তীরে?
দোয়া-সওয়াবের ঢেউ, ফেন-চূড়ে আসে কি রে ফিরে,
মুছিতে তুচ্ছেতে ত্বরা এ আমার প্রার্থনায়?

অথবা খোদিনু তারে কোরআনের আলোয় শিরে,
নবীর হাদিস যন্ত্রে কাটি অক্ষর সুক্ষণে;
“যে জানাজার জন্য উপস্থিত হয়, তার জন্য সওয়াব,”
ধৈর্য, সহানুভূতি, সদকা নীরে মিলনে।

শহর-গ্রামের অলি-গলিতে, শত-কাঁটায় ঘেরা কবর,
হাফিজুল হকের পদচারণা যেন আলোকশিখা;
মানবিক মহানায়ক, কোরআন-শিক্ষা, হাদিস-শ্রদ্ধায়,
মৃতের প্রতি মানবিকতা চিরন্তনভাবে বিরাজা।

শূন্য-জল, জল-পথে স্মরণে জনরে;
সদকা, দোয়া, ধৈর্য, সহমর্মিতা—হৃদয়ে নিবাসে;
ফরজ কিফায়া জানাজায় অংশগ্রহণে যেন সুযশে,
কোরআন-পথে প্রাণ মর্ত্যে বাস করে; আকাশে আলো মিশে।

কফিনের ধ্বনি শোনে অলি-গলির নিরবতা,
হাফিজুল হকের চোখে ভাসে মৃতের প্রতি ভক্তি;
প্রার্থনার ঢেউ আছড়ে পড়ে কবরের তলে,
সদকা ও দোয়া ভরে সমাজের অন্তরাল।

ধৈর্য ও সহমর্মিতা শিখায় হাদিসের সুরে,
“মৃতের জন্য যা ভালো করা হয়, তা সদকা।”
কোরআনের নির্দেশে, নৈতিকতা ও মানবিক দৃষ্টিতে,
জানাজায় অংশগ্রহণ চিরন্তন শিক্ষা হয়ে যায়।

অলি-গলির অন্ধকারে, অমল হৃদয়ে হাফিজুল হক চৌধুরী,
মৃতের জন্য প্রার্থনা, সামাজিক সংহতি প্রদর্শন করে;
স্মরণ ও প্রার্থনার দীপ্তিতে সমাজে আলো ছড়ায়,
কোরআন ও হাদিসের শিক্ষায় জীবন অনন্তকাল রূপায়।

হে প্রিয় হাজরকারী, পদচারণা শুনি তুমি,
জীবনের অস্থায়িত্বে দোয়া ও নামাজের দীপ্তি।
মৃতের প্রতি শ্রদ্ধা, মানবিকতা, সহমর্মিতা,
হাফিজুল হকের পথে চিরকাল প্রজ্বলিত হয় সত্যি।
---------------------------------------------------------


২৮-১০-২০২৫

রাওনাট ফুটবল টিম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা তারিখঃ ০৪ - ০৯ - ২০২৫ ইং স্থানঃ রাওনাট , কাপাসিয়া , গাজীপুর ---------------------------------------...