মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৮, ২০২৫

মানসিক সংস্কার

 মানসিক সংস্কার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************

শুনো হে! যদি মানসিক সংস্কার না হয়, মানুষের আলো নিভে যাবে!
মিথ্যার শৃঙ্খল ভাঙো! সত্যকে মুক্তি দাও!
জালিমের রাজ্যে ন্যায় হারালে, পৃথিবী কাঁপবে!
নিরীহ প্রাণ চিৎকার করে, শুনে নাও তার ডাক!

ধর্ম বিক্রি, নীতি ফেলে—এটি আর সহ্য হবে না!
বুদ্ধিহীন মানুষকে জাগ্রত করো, মুক্তির পথে দাও!
মানসিক সংস্কার চাই! নয়তো সভ্যতা ভেঙে যাবে!
অন্যায়ের শৃঙ্খল ছিঁড়ে ফেলো, প্রতিশোধের আগুন জ্বালো!

জাগো হে মানুষ! সত্যের রণক্ষেত্রে লড়াই করো!
ভালোবাসা, ন্যায়, মানবতা—সবই রক্ষা করো!
প্রকৃতির সুরে ন্যায়ের ডাক শুনো, আন্দোলনে উঠো!
মানুষ হোক মুক্ত, অন্যায়ের দমন ভাঙো!

যে জাতি স্বপ্নের দাম জানে, সে গড়ে নতুন ঠিকানা!
মানবতার পথে হেঁটে যাও, আলোর শিখা জ্বালো!
শোনো হে! মানসিক সংস্কার যদি না হয়, সবই হারাবে!
প্রত্যাশার শিখা চিরদিন জ্বলুক, অন্ধকারকে ভেঙে দাও!

বিদ্রোহী চিত্ত জাগুক, অন্যায়ের জাল ছিন্ন হোক!
প্রত্যেক হৃদয় বলুক—“আমি মানুষ, নই দাস বা ফাঁকিবাজ লোক!”
জাগো হে তুমি! সত্যের রণক্ষেত্রে লড়াই করো!
ভুলত্রুটি, অমানবিকতা—সবই ফেলে দাও!

মানসিক সংস্কার চাই! নয়তো সভ্যতা হারাবে!
মানুষের প্রত্যাশা চিরদিন জ্বলে, অন্ধকার ভাঙবে!
শোনো হে! জাগো! লড়ো! মুক্তির আহ্বান শুনো!
মানবতার পতাকা উঁচু করো—বিদ্রোহের আগুন জ্বালো!
--------------------------------------------------


১৮-১১-২০২৫

জাগো হে জাগো মুমিন

জাগো হে জাগো মুমিন
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************

জাগো হে জাগো মুমিন— ইয়া আজলাদুল-মুত্তাকীন,
তোমার হৃদয় হোক মিহরাব-এ-হক, শিরায় শিরায় উঠুক নূরের তামকীন।

ধরে নাও আলমে-সালামত— শান্তির সবুজ লওহায় লিখো তাওহিদের নাম,
“আল্লাহু আকবার”— কাঁপুক দুনিয়া, কাঁদুক বাতিলের যাম।

বলো তুমি—
“হুয়াল আহাদ! হুয়াল কাহ্‌হার!” একক রব,
রব্বুল আলামীন যাঁর জ্যোতি সাগর পাড়ি দেবে সকল শব।

নবীর নামে বলো—
তাজদার-এ-মদিনা, হাবিবুল্লাহ, সিরাজুম মুনির,
আমরা তাঁর উম্মত— আমাদের পথ তাঁর, সিরাতে-নববি ধ্রুবনক্ষত্রের ফির।

কেন আজ উম্মাহ বন্দী জাহেলিয়াতের দালান,
কেন নফসের কাছে আবদ্ধ, করে বাতিলের সোহবত— লোভে-তন্দ্রায় ধ্বান্দা-প্রাণ?

কেন ফিতনার সওদাগর মুকুটে রাজত্ব গড়ে,
মুমিন নেমে যায় গাফলতের খাদে, সন্দেহে অন্ধ অশ্রু ফেলে।

কোথায় তোমার হিম্মত? কোথায় তাওয়াক্কুলের সেতারা?
কেন নফরাত, হাসদ— দাঁড়ায় ঈমানের জল্লাদ-কারা?

মুমিনে-মুমিনে দ্বন্দ্ব— ইখতিলাফের আগুন,
ভাইচারা আজ গোরস্থানে শুয়ে, নীরব— হারানো স্বপ্নের ধুন।

উঠো!
জাগো!
দাওয়াতুল হক-এর ময়দানে বাজুক নতুন সৌতে-ইস্তিকামাত,
রাওনাট স্কুল মাঠে জমুক মাহফিল-এ-নূর, মাজলিস-এ-খাইর, ইজতেমা-এ-বেরকাত।

এসো হে ইবনে-ইমান, তুমি সিপাহ-এ-হক, তুমি মারদান-এ-গাজী,
তোমার ঈমান হোক শমশের-এ-সিফফিন, অদম্য, ঐক্যের বাজি।

তুমি অন্ধকারের আলো— শামা-এ-তাওহিদ,
তুমি নূর-এ-ইলাহির বাহক, সত্যের কণ্ঠস্বর, ঈমানের মুরীদ।

উঠাও দাওয়াহর ঝড়— বাতিলের দুর্গে কাঁপুনি দাও,
তাওবা-ই-নাসুহায় কাঁদাও রূহ, ভাঙো নফসের ফেরাউনী।

বলো—
“লা গালিবা ইল্লাল্লাহ!” সাহায্য কেবল তাঁর,
তাঁর নূর-এ-হেদায়াহ দেবে পথ, রাতকে পার করবে অগ্নিস্রোতে।

হৃদয়ের দরজায় পড়ুক জওয়ালজোশ— কাঁপুক আসমান-ও-জমিন,
ঈমানের স্রোত বয়ে যাক— মতিওয়ালা, রূহ-পরওয়াজ, আলোর রওশন-নগীন।

মুমিন— তুমি পরাজিত নও!
পরাজয় হলো তোমার নফস, গাফলত, দুনিয়ার মোহ—
তুমি নয়! তুমি গালিব, তুমি ফতেহ, তুমি ফিরবে বিজয়ের দোহ।

পৃথিবী অপেক্ষায়—
তোমার ইত্তেহাদের পতাকা,
তোমার উম্মাহর জাগরণ,
তোমার হকের আওয়াজ,
তোমার শুকর ও সিজদাহর বিপ্লবী বরকতধারা।

জাগো হে জাগো মুমিন—
আল্লাহর নামে জ্বলে ওঠো সাহস-এ-সিদ্দিকি,
আমেনার নূর বুকে, ধরো ফারুকি দৃঢ়তা,
হাসানের কোমলতা, হুসাইনের জুলুম-ভাঙা মহাকাব্য-প্রতাপ—
এসবই তোমার ঐতিহ্য, তোমার মিরাস।

তুমি—
উম্মাহর রাহবর,
সত্যের মুজাহিদ,
হকের সালসাবিলের পথিক।

জাগো!
আজকের রাত শেষ হবে তোমার তাকওয়ার আলোয়,
তোমার দোয়ার কান্নায়,
তোমার তাওহিদের অগ্নিশিঙ্গায়।

জাগো হে জাগো মুমিন—
আল্লাহর নূর নিয়ে উঠে দাঁড়াও,
এই দুনিয়ার আঁধার চিরে
হকের সওর ঢেলে দাও।
-------------------------------------------


১৮-১১-২০২৫


ইসলামী দাওয়াতুল হকের ঘোষণাপত্র

 ইসলামী দাওয়াতুল হকের ঘোষণাপত্র

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************************
জাগো হে জাগো মুমিন!— আলমে-হকের তূরী বাজুক আজ,
ধরো পতাকা-এ-সালাম, ভাঙো বাতিলের কাঁটা-ফাঁজ!

শোনো হে শোন মুমিন
রাওনাট স্কুলের পবিত্র ময়দানে দাওয়াতুল হক মাহফিল,
আজ জ্বালাবে নূরের শামা, উঠবে ঈমানের তাহরিকে-কামিল।

বলো হে বলো মুমিন
আল্লাহু আকবার!— তাঁরি নামেই শুরু আমাদের সমাবেশ,
নূর-এ-মদিনা রাসুলুল্লাহ— তাঁর হৃদয়ে রয়েছে উম্মাহর পরম পরিবেশ।

এসো ইবনে-ইমান, এসো মুজাহিদে-হক,
এই ময়দান আজ ইজতেমা-এ-নূর,
এখানে হৃদয় হবে রূহানি, দুনিয়া হবে মাগফিরাতের সুর।

আজ রাত হবে জিকিরে-আজীম, কান্নার তাওবা-ই-নাসুহা,
দোয়ার ডানায় উঠবে সাঈদা, হৃদয় ধুয়ে যাবে গুনাহর নুছরা-দুছরা।

জাগো হে মুমিন জাগো মুমিন!
কেন থাকো ঘাফলতের ঘোরে?
কেন নেমে গেলে সিরাতুল হকের রোশন পথ ছেড়ে অন্ধকারের চোরে?

এ ইসলামী ্জলসা ডাকছে তোমায়—
ইত্তেহাদ, মাতবিয়্যাত, মুহাব্বতের গান,
নবীর পথে ফিরিয়ে নেবে হারানো উম্মাহর ইমান।

বাতিলের প্রাসাদে দাও কাঁপুনি—
আজ রাতে উঠবে জওয়ালজোশের তরঙ্গ,
রাওনাটের আকাশ কাঁপবে,
দুনিয়া শুনবে ঈমানের তিকরার, সত্যের সুরের ভঙ্গ।

এসো হে এসো মুমিন
হাতে নাও কোরআন-এ-মজীদ, বুকে নাও সুন্নাহর নূর,
তুমি অন্ধকারের আলো— শামা-এ-হক, তুমি ঈমানের গর্জন-নূর।

আজকের এ মাহফিল শুধু সমাবেশ নয়—
এ এক রূহ-পরওয়াজ,
এ এক তাওহিদের ঝড়,
এ এক নব জাগরণ—
যেখানে শিরায় শিরায় বাজবে *“লা গালিবা ইল্লাল্লাহ”*র গর্জন।

তাই বলো— বলো হে মুমিন
জাগো হে জাগো মুমিন!
ইয়া আহলুল ইমান, উঠো নূরের বাহিনী হয়ে,
তোমরাই উম্মাহর শক্তি, তোমরাই নবীর জ্যোতি—
তোমরাই বদলাবে দুনিয়া এই মাহফিলের আলো পেয়ে।
--------------------------------------------------


১৮-১১-২০২৫

মুমিনের গর্জন

 মুমিনের গর্জন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

জাগো হে জাগো মুমিন!
আজ তোর বুকে বাজুক তাওহিদের বজ্র-চাবুক!
পাপের দুর্গ আজ ভেঙে দে—
তুই তো আল্লাহর আরশকাঁপানো শক্‌তি-অভিব্যক্ত!
বাতিলের সিংহাসন আজ
তোর দৃষ্টিতে ধুলার ঢিবি—
গর্জে ওঠো!
লা গালিবা ইল্লাল্লাহ—
এই ধ্বনিতে আসমান-যমীন হোক দুলাধুলি!

নবীর প্রেম তোর রূহে যখন ফেটে পড়ে আগুন হয়ে,
তুই তখন রণতূর্য— তুই হকের ঝড়—
তুই অদম্য, অকুতোভয়, দীপ্ত নূর-অসুর!
জিহ্বায় তোর তওবাহর শিখা,
বুকে তোর তাকওয়ার ঢাল,
বাতিলের মুখোমুখি তুই
দাঁড়াস সিংহের মত—
রক্তে তোর ঈমানের লাল!

আমি মুমিন!
আমি নূরের বিদ্রোহী সন্তান—
আমি অন্ধকারকে করি ক্ষত-বিক্ষত,
আমি আল্লাহর নামে ফাটাই শয়তানের পর্দা-বন্ধন!
আমি তাগূতের তর্জন-গর্জনকে
হাসিমুখে করি চূর্ণ-বিচূর্ণ,
আমি হকের পথে রক্ত দিলেও
হেসে বলি— “এই মৃত্যু আমারই জয়-ধ্বজন!”

দিলে তোর উঠুক গুঞ্জন—
ইস্তিগফার! তওবা! রুহের বিপ্লব!
নফসকে লাথি মেরে
তুই দাঁড়া উম্মাহর উকিল-এ-গাজী রব!
দাওয়াতের ময়দানে তুই আজ
শামসের মত উঠ আলোরোহণ,
তোর কণ্ঠে নেমে আসুক
নূরের শান, তাদবীরের জঞ্জাল-বিজড়ন!

হে আল্লাহু নূর—
আজ আমাদের অশ্রু বানাও তাওবার সমুদ্র,
আমাদের বুকেতে দাও এমন ঈমান
যা পাহাড়কে করে গুড়িয়ে ছাইমুড়ি!
যুবকদের করো সিংহ-হিম্মত,
তাদের রূহ দাও আকাশচুম্বী উড্ডয়ন,
শয়তানের ফাঁদে না পড়ে
তারা হোক তাওহিদের তলোয়ার, সত্যের বীরোত্তম।

হে রব্ব—
আমাদের করো সালেহ মুমিন,
করো দীন প্রতিষ্ঠার ঝড়,
তোমার পথে জীবন দিলে
তা হোক আমাদের হাস্যমুখ-শুভ-অন্তিম ঘর।

— আমীন, ইয়া রাব্বুল আল-আমীন!


১৮-১১-২০২৫

সোমবার, নভেম্বর ১৭, ২০২৫

বিচারক যদি নিরপেক্ষ না হয়

 বিচারক যদি নিরপেক্ষ না হয়


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

বিচারকের চোখে যদি পক্ষপাতের অগ্নি-ধোঁয়া,
কোরআন গর্জে— “সত্যে দাঁড়াও! পিছু হঠো না এক চোঁয়া!”
অন্যায়ের সিংহাসন ভেঙে ফেলাই মুমিনের পথ,
সত্যই তলোয়ার—আল্লাহর হুকুম তারই প্রথম রথ।

“সত্যের সাক্ষ্য দাও”— এ আয়াত আগুনের গর্জন,
মিথ্যার রায়ে জ্বলে ঈমান—হয়ে যায় ছাই-ভস্ম-ক্ষণ।
“শত্রুর বিরুদ্ধেও ন্যায়”— আলোর কঠিন আইন,
বিচারকের রক্তে যদি পক্ষপাত—তবে তার অন্তঃকরণ হীন।

দরিদ্রের কান্না ফুঁড়ে দেয় আসমান-জমিন,
বিচারক যদি না শোনে—সে নিজেই করে অপরাধের বিন।
ন্যায় আল্লাহর তরবারি—ধারালো, ঝলসানো আগুন,
অন্যায় রায়ে নিজেই জ্বলে বিচারকের অন্তঃসাধুন।

পক্ষপাতের বিষ ঢুকলে রায়ে মরে মানব-নীতি,
অন্যায় তখন নাচে, ধ্বংস ছড়িয়ে দেয় অগণিত গীতি।
সত্যের রায় বজ্রের গর্জন—আল্লাহর পথে বিজয়,
মিথ্যার রায় মানে অন্ধকার—শয়তানের শেকল-ক্ষয়।

বিচারক, শুনো—তোমার কলমই জাতির বহুদিনের আশা
তুমি বেঁকে গেলে অন্ধকারে ডুবে যাবে ভবিষ্যতের দিশা।
ন্যায় প্রতিষ্ঠা শুধু দায়িত্ব নয়—এ আমানত আল্লাহর,
পক্ষপাতের রায় দিলে জবাবদিহি হাশরে হবে ভয়াবহ আগ্রহর।

আল্লাহর নামে দাঁড়াও সত্যে—যার সামনে আগুনও ঠাণ্ডা হয়,
আর বিচারক যদি নিরপেক্ষ না হয়—ধ্বংসই তার একমাত্র ক্ষয়।
---------------------------------------------


১৭-১১-২০২৫

জাগো জাগো বাঙালি জাগো

 জাগো জাগো বাঙালি জাগো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************************

জাগো জাগো বাঙালি জাগো!
অন্ধকার ভাঙো, চেতনার আগুন জ্বালাও।
দমনের শৃঙ্খল ছিন্ন করো আজই,
মুক্তির দীপ উঁচু করো সর্বত্র বাজাও।

মুক্তিযুদ্ধকে যারা মুছে দিতে চায়,
ষড়যন্ত্র ভাঙো, চিৎকার তুলো তাপে।
রক্তের স্বাক্ষী গর্জাক শোরে,
বাঙালির হৃদয়ে জ্বালো বিদ্রোহের ঢেউ।

মুক্তিযোদ্ধার অপমান সহ্য নয়,
সিংহের মতো দাঁড়াও দৃঢ়ভাবে।
ন্যায়ের তলোয়ার হাতে ধরো,
অপরাধীর মুখে ঢেলে দাও ভয়।

জাতীয় সংগীত চুরি করতে চায় কেউ,
তাদের নীরবতা ভাঙো শোরে।
পতাকা উঁচু করো, গান বাজাও,
স্বাধীনতার রক্তে লেখা সুরে।

বিচারের নামে প্রহসনের মঞ্চ,
সত্যের শিখা উঁচু করো তাপে।
দমন নয়, বিদ্রোহের ঢেউ জ্বালো,
ঘুম ভাঙাও, জাগো বাঙালির দেশে।

উগ্রবাদের অন্ধকার জোয়ার দমাও,
চেতনার ঢেউ তোলো, আগুন জ্বালো।
দেশদ্রোহীর প্রশ্রয়, নীরবতার ছায়া,
চিৎকার করো—“না! ব্যর্থ হবে ষড়যন্ত্র।”

গণতন্ত্রের কবর খোঁড়া হয়েছে,
তবু পতাকা উঁচু করো দৃঢ়ভাবে।
সত্যের দীপ জ্বালাও অমলচঞ্চল,
অন্ধকার সরাও, মুক্তির পথে দাঁড়াও।

ফ্যাসিবাদের শিরে দাঁড়াও,
বিদ্রোহী হৃদয়ে আগুন জ্বালাও।
লুট ও তরাজের লোভী খেলায়,
চেতনার তলোয়ার হাতে ধরো, জাগো, জাগো!

জাগো! জাগো! বাঙালি জাগো!
আকাশে বাজুক বীরের চিৎকার।
পৃথিবীতে নেমে আসুক লড়াই,
দমন নয়—আজকের দিন হোক জাগ্রত।

নীরবতা ভাঙো, স্বাধীনতার গান,
প্রতিটি শ্বাসে জ্বালো বিদ্রোহের ধ্বনি।
রক্তের পতাকা উঁচু করো,
বাঙালির স্বাধীনতা জাগুক সর্বত্র অনন্ত।
-------------------------------------------


১৭-১১-২০২৫

অত্যাচারী শাসক

 অত্যাচারী শাসক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

হে অত্যাচারী শাসক! শুনো—
আসমানের মালিক দেন হুঁশিয়ারি!
জুলুমের মেঘ যত ঘনাও তুমি,
সত্যের বজ্র আসে অগ্নি-ধারি!

ফিরাউনও বলেছিল— “আমি প্রভু!”
তবু স্রোতে ডুবল অহংকার-পর্বত,
কারো সিংহাসন চিরকাল থাকে না—
আল্লাহর নামে মাটিও থরথর কেঁপে ওঠত!

জালেমের ঘর আল্লাহ রাখেন না,
কোরআন বলে— “জালিমদের পরিণাম কঠিন”;
তুমি যতই গড়ো শিকল বন্দী করে,
মুমিনের হৃদয়ে তবু লুকায় আগুন-প্রবীণ!

হে শাসক! ভাবো— যে ক্ষমতা আজ তোমার,
কাল তা হবে মরিচিকা, ধুলোর মতো হালকা;
তোমার প্রতিটি অত্যাচারের হিসাব
লেখা থাকে লওহে মাহফুজে, অক্ষরে অমলকা!

আমি আজ বিদ্রোহী সত্যের ডাকে,
শাসনের মাটিতে জ্বালি ন্যায়ের শিখা;
জুলুম থাকলে আকাশ জ্বলে ওঠে—
আল্লাহর বিচার আসে ধীরে, কিন্তু খুবই দৃঢ়, দৃশ্যদেখা!

উঠে দাঁড়াবে সত্য— ঝড়ে, রোদে, রাত্রে,
জুলুম ভাঙবে একদিন বজ্রেরই গানে;
“সত্য এসেছে, মিথ্যা মুছে গেল”—
এই আয়াতই গর্জে ওঠে মানবতার প্রাণে!

হে অত্যাচারী শাসক! সতর্ক হও—
তোমার সিংহাসন আগুন-খাওয়া ধোঁকা,
জুলুমের পথ ছেড়ে দাও—
নইলে বিচার দিবসে পরবে শিকল, ছুটবে না কোনো নৌকা!

ন্যায়ের সৈনিকেরা ঘুমিয়ে থাকে না—
তারা সত্যের মুহূর্তে বজ্র হয়ে জেগে ওঠে;
জুলুমের রাত যতই লম্বা হোক,
আল্লাহর সুবহে সাদিক ঠিকই ভোর হয়ে প্রতি প্রভাতে ফোটে!
--------------------------------------------------------


১৭-১১-২০২৫

পরের হক নষ্ট করা

 পরের হক নষ্ট করা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************

পরের হক নষ্ট করা—
হে মানুষ! এ জুলুমের তলোয়ার,
এ আগুনের লেলিহান জ্বালা,
এ দোযখের পথেরই প্রথম বিজ্ঞাপনে!
কোরআন গর্জে ওঠে—
“অন্যায় পথে সম্পদ গ্রাস করো না,
ওজনে কম দিও না,
আমানত ফিরিয়ে দাও যার প্রাপ্য!”
বজ্রের মতো ধ্বনি তার—
ন্যায়ের বুকে শাণিত তলোয়ারের ঘা।

হে অত্যাচারী!
পরের প্রাপ্য চুরি করে
তুমি ভাবো বুকে লুকানো ধন?
না! সে ধন তো শয়তানের ফাঁদ,
যা তোমার হৃদয়কে করে রক্তাক্ত,
তোমার কপালে লেখে অন্ধকার বিচার!

আমার গানের ঢেউ আজ উঠুক—
বিদ্রোহের ছন্দে, সন্ত্রস্ত বজ্রের মতো—
পরের হক নষ্ট করা মানেই
মানুষের আত্মাকে হত্যা করা,
আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা!
আর সেই যুদ্ধে তুমি কখনোই জিততে পারবে না—
কারণ সত্যের সৈন্যদল অমর,
ন্যায়ের সেনারা অপরাজেয়!

হে মাপ কম দেওয়া ব্যবসায়ী!
হে ঘুষখোর!
হে জালিয়াতির রাতের ডাকাত!
তোমাদের দিকে কোরআন করে অভিশপ্ত ইশারা—
“তোমরা ধ্বংসপ্রাপ্ত!”
কারণ তোমরা শোষণ করো দুঃখীর ঘাম,
দরিদ্রের রক্ত,
অসহায়ের অশ্রু!
তোমাদের কৃতকর্ম আকাশের বুক ছিঁড়ে
চিৎকার করে বলে—
“জুলুম! জুলুম!”

আমি বিদ্রোহী আজ!
বিদ্রোহী হয়ে কোরআনের বাণী নিয়ে
ঘোষণা করি—
যে অন্যের হক নষ্ট করে,
সে আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত,
সে পৃথিবীর পাপীদের অগ্রনায়ক।
তার ঘর অন্ধকার,
তার পথ মরুভূমি,
তার মনে শত কাঁটার ক্রোধ!

হে মানুষ!
নতুন করে জাগো!
হকের উপর দাঁড়াও,
ন্যায়ের সৈনিক হও।
যার যা প্রাপ্য, ফিরিয়ে দাও দৃপ্ত হাতে।
কারো কান্না যেন না ওঠে তোমার কারণে—
কারণ সেই কান্নার এক ফোঁটা
তোমার কবরকে করে অন্ধকার,
তোমার আমলনামায় ফুটোয় আগুনের গর্ত!

নজরুলীয় বজ্রকণ্ঠে তাই বলি—
হক রক্ষা করো, ন্যায়ের শপথ নাও!
জুলুমের বিরুদ্ধে হও আগুন,
সত্যের পথে হও ঝড়!

পরের হক নষ্ট করো না—
এ আদেশ আল্লাহর,
এ ডাক বিদ্রোহীর,
এ পথ মুক্তির,
এ পথ জয়ের!
-------------------------------------------------


১৭-১১-২০২৫

সাহাবী গাছ

 সাহাবী গাছ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

বালুকার শুকনো বুকে দাঁড়ায় এক গাছ—
হেদায়াতের স্মৃতি ধরে যুগে যুগে রাখ।
তার ছায়ায় বসেছিলো নবীর প্রিয়জন,
ধূলিমাখা মরুতে জেগে উঠেছিলো জীবন।

শুকনো ডালে লুকানো আশীর্বাদের ঢেউ,
বদরের বাতাসে শোনা যেতো সাহসের নেউ।
উহুদের ক্ষতবিক্ষত দিনের সাক্ষী সে—
রোদঝরা মরুর বুকে ছায়ার পরশ যে।

সেদিন যে হাত রাখিলে নবীর সাহাবীরা,
আল্লাহর প্রেমে হৃদয় করেছিলো ধীরা;
ইমানের শপথ বুকে ধারণ করে তারা,
মরুর বুকে অটল ছিলো দীপ্ত এক তারা।

এই গাছ নয় কেবল একটি বৃক্ষ-মূর্তি,
এ যেনো ইতিহাসের পবিত্র স্মৃতিসূর্তি—
যেখানে নবীর কথা মিশে আছে বাতাসে,
আর সাহাবীদের অশ্রু শুকায় নীরব নিশ্বাসে।

বালুর ঢেউয়ের দেশে দাঁড়িয়ে আজও বলে—
“ইমানের আলো ধরে রাখো অন্তরের তলে;
ত্যাগের মহিমা ছাড়া নেই কোনো পথ,
সাহাবীদের জীবন যেন শিক্ষার শপথ।”

হে সাহাবী গাছ! তুমি ইতিহাসের গান,
তোমার ছায়ায় জাগে হৃদয়ে ঈমান;
তুমি সেই আমানত, যা রাখে মনে দাগ—
ইসলামের গৌরবময় অতীতের অটল অনুরাগ।
-----------------------------------------------


১৭-১১-২০২৫

রাজনীতির কৃতদাস

 রাজনীতির কৃতদাস

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************

নিবেদিত কর্মী আজ দল নামে দাস,
নেতার হুকুমে কাঁপে বুকে দম,—জাগে না বিশ্বাস!
মিছিলের ঢেউয়ে ডুবে কোপানো প্রাণ,
তবু চাটুকারীর সুরে বাঁধা থাকে তাদের দান।

তাবেদারির তুর্য বাজে—“হুজুর! হুজুর!” ধ্বনি,
স্বপ্ন ঘুমায় মাটির নিচে—মরে যায় প্রাণের বাণী।
পোস্টার-ব্যানার হাতে তুলে লড়াই করে দিনভর,
ঠোঁট ফাটে, পা কাঁপে—তবু নেতা থাকে অন্তর-সম্রাট ঘর।

চাঁজা-দখল-মাদক সিন্ডিকটে জ্বলে ভয়াল আগুন,
সন্ত্রাসের কুঠার পড়ে গরিবেরই বুকে প্রতিক্ষণ।
বোমার শব্দে আকাশ ভাঙে, ককটেলের অগ্নি-তরঙ্গ,
রাতজাগা শহর কাঁদে—কর্মীর জীবন রক্তরঙ।

জেল-জুলুম-হুলিয়ার বাঁশি বাজে অন্ধকারের পথে,
কর্মীরা সব সহে তবু নেতা হাসে সোনার রথে।
শিক্ষার আলোর পথ তাদের কাছে চিরদিনই বন্ধ,
উচ্চপদে উঠবে তারা?—সে আশা যেন অন্ধ!

নির্বাচনের ময়দানে তাদের নেই অধিকার,
গণতন্ত্রের নাম শুনে হৃদয়ে জমে অশ্রুবার।
যত অপকর্ম—ভারী সব বোঝা কর্মীর কাঁধে,
নেতা শুধু লুটের হরিণ—স্বর্গ বানায় নিজেদের আধে।

নেতার ছেলে-মেয়ে রাজপুত্র—কোথাও নেই সংগ্রামে,
কর্মীর রক্ত ঝরে তবু!—নেতা থাকে রাজার আসনে।
লুটের মদিরা খেয়ে নেতা হাসে, তৃপ্তির হাওয়ায়,
কর্মী শুধু কাঁদে রাত্রি জাগে—চোরাবালির ছায়ায়।

হুকুমই ধর্ম—শিরে বহে তাদের কৃতদাসের শপথ,
মাটি কাঁপে তাদের পদধ্বনিতে—তবু হয় না মুক্ত-রত।
এই কি দেশ? এই কি দল?—এই কি স্বাধীনতার রাগ?
কর্মীরা শুধু কৃতদাস—নেতার হাতে বাঁধা লাগ!

কিন্তু শুনো—বিদ্রোহীর রক্ত এখনো দেহে জাগে,
শেকল ভাঙার সেই ডাকে আগুন জ্বলে বুকে জাগে।
কৃতদাস নয়—মানুষ হবে!–এই হোক নতুন ইতিহাস,
বাংলার মাটি গেয়ে উঠুক—“দাসত্ব ভাঙো! জাগো প্রকাশ!”
------------------------------------------


১৭-১১-২০২৫

অবুঝের মত (গান)

  অবুঝের মত (গান) কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা স্থানঃ রাওনাট - কাপাসিয়া - গাজীপুর তারিখঃ ২১ - ১১ - ২০২৪ ইং ********************...